পুরান রহস্য – মহাভারতে বজরংবলী

303

আর কিছুদিন পরই হনুমান জয়ন্তী,আমাদের সনাতন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় চরিত্রগুলির মধ্যে তিনি অন্যতম|রামায়ণ, পুরান এবং অন্যবহু ধর্মশাস্ত্রে তার মহিমা বর্ণিত হয়েছে|জ্যোতিষ শাস্ত্রেও তার তাৎপর্য রয়েছে,মনে করা হয় হনুমানের স্মরন নিলে গ্রহরাজ শনির প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়|তবে হনুমানের কথা উঠলেই আমরা রামায়নের কথা ভাবি, রামের কথা স্মরণ করি| কিন্তু শুধু রামায়ণ নয়, মহাভারতেও হনুমানের উপস্থিতি রয়েছে|কোথায় এবং কি ভাবে সেটাই এখন লিখতে চলেছি|

প্রথমত, বলবান ভীম তাঁর চার ভাই ও স্ত্রী দ্রৌপদীর সঙ্গে জঙ্গলে নারায়নাশ্রমে যখন ইন্দ্রের অস্ত্রের খোঁজে গিয়েছিলেন তখনও হনুমানের দেখা পেয়েছিলেন৷একদিন দ্রৌপদী ভীমকে তাঁর জন্য ফুল আনতে বলেছিলেন৷ স্ত্রীর কথা মতো ফুলের সন্ধানে বেড়িয়েছিল ভীম? কিন্তু পথ আটকায় হনুমান৷ হনুমানের লেজ ধরে তাঁকে সরানোর চেষ্টা করলেও হনুমানকে এক চুলও সড়াতে পারেননি ভীম|মহাবীর ভীমের বীরত্ব নিয়ে সব অহংকার নিমেষে দূর হয়ে গেছিলো বৃদ্ধ হনুমানের সম্মুখীন হয়ে|হনুমানের পরিচয় পেয়ে ভীম তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন, আশীর্বাদ চেয়েছিলেন|ভীম কে ক্ষমা করে নিজের লেজ স্বেচ্ছায় সরিয়ে ভীমকে পথ করে দিয়েছিলেন হনুমান|

দ্বিতীয়ত, মহাভারতে হনুমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায় কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ময়দানে অর্জুনের রথের উপরে থাকা পতাকায়৷কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে অর্জুনের রথের মাথায় থাকা পতাকা ছিলো আসলে হনুমান, তিনি অর্জুনকে অতিরিক্ত শক্তি জুগিয়ে রক্ষা করতেন|কিন্তু প্রভু কৃষ্ণের নির্দেশে নিজে সরাসরি পান্ডবদের হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি|

এছাড়া শোনা যায় তীর্থযাত্রায় বেড়িয়ে অর্জুন যখন রামেশ্বরমে গিয়েছিলেন তখনো তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল হনুমানের৷ এমনকি হনুমানের কথা শুনে তীর দিয়ে সেতু নির্মাণেরও চেষ্টা করেছিলেন অর্জুন|মহাভারতের কালে একবার হনুমানের অনুরোধে কৃষ্ণ তাকে শ্রী রাম রূপে দর্শনও দিয়েছিলেন|

হনুমান রামের আশীর্বাদে অমর ও অপরাজেয়, তিনি যুগে যুগে থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক|রূদ্র অবতার হনুমানকে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের পর্ব|জানিয়ে রাখি আপাতত এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে চেম্বারের তুলনায় অনলাইনে জ্যোতিষ পরামর্শ ও ভাগ্যগণনায় আবার জোর দিতে হয়েছে|তাতে মানুষের সুবিধা হচ্ছে বেশি|আপনাদেরও যদি প্রয়োজন বোধ হয় যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|