Home Blog Page 140

পুরান কথা – গ্রহরাজ শনিদেব

আজ পুরান কথায় গ্রহরাজ শনিদেবকে কেন্দ্র করে ঘটা এক পৌরাণিক ঘটনার কথা বলবো যেখানে রয়েছেন লংকাঅধিপতি রাবন এবং রুদ্রঅবতার হুনুমান|রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রন্থন করেন তখন আকাশে শনিদেবের খুব প্রভাব চলছিল|রাবন চেয়েছিলেন মেঘনাথের জন্মের সময় সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন এবং একটি নিদ্দিষ্ট ভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করলেন কিন্তু চতুর শনিদেব চক্রান্ত করলেন এবং নিজের পা ব্যবহার করে তার নিদ্দিষ্ট ভাবের সীমানা অতিক্রম করে অন্য রাশিতে নিজের সঞ্চার ঘটালেন|ফলে মেঘনাথের জন্ম কালে হিসেব উল্টো পাল্টা হয়ে গেলো এবং শনিগ্রহের এই প্রভাবে মেঘনাথর আর অমরত্ব পাওয়া হয়নি|এই ঘটনায় রাবন খুব রেগে যান এবং শনিদেব কে আঘাত করে বসলেন| রাবন ছিলেন অনেক বড় যোগী। যোগ বলে তিনি শনিদেবকে আটক করে রেখেছিলেন লঙ্কাতে|পরবর্তীতে হনুমানজী যখন রামজীর দেওয়া আংটি সীতা মাতাকে পৌঁছে দিতে লঙ্কা পৌছন তখন দেখেন শনিদেব আটক রয়েছেন। উনি সব কথা শোনেন এবং শনিদেবকে সেখানে থেকে মুক্ত করেন। কৃতজ্ঞতা বসত শনিদেব কথা দেন তিনি রামচন্দ্র ও হনুমানজীর ভক্তদের বিশেষ আশীর্বাদ অর্পন করবেন|তবে এর পরেও একাধিক বার শনিদেব ও হনুমান মুখোমুখি হয়েছেন|সে নিয়েও আছে রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী|সেই সব ঘটনা বলবো যথা সময়ে|চলতে থাকবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|যারা অনলাইন বা চেম্বারে জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরানকথা – শুক্রচার্য

আমাদের শাস্ত্রে এবং পুরানে যে শুধু দেব দেবী বা অসুরের উল্লেখ রয়েছে তা নয় তার পাশাপাশি বহু ঋষি মুনির জীবন বৃত্তান্ত আছে যাদের মধ্যে অন্যতম শুক্রচার্য|আজ পুরান কথায় শুক্রচার্যর জীবন ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো|শুক্রচার্য ছিলেন মহর্ষি ভৃগুর ও কাব্যর পুত্র এবং তিনি ছিলেন অসুরদের পুরোহিত। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে অবিরাম যুদ্ধ চলত এবং এই একটানা যুদ্ধে অসুরদের একটি বিশেষ সুবিধা এই ছিল যে তাদের সঙ্গে শুক্রাচার্য ছিলেন। তাঁর ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। এবং তাঁর কাছে সঞ্জীবনী শক্তি ছিল। সঞ্জীবনী মন্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধে মৃতদের তিনি পুনরুজ্জীবিত করতে পারতেন।প্রত্যেক দিনের শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে যতজন অসুর মারা যেতেন তারা আবার বেঁচে উঠতেন এবং পরদিন সকালে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতেন।কিন্তু কেনো শুক্রচার্জ অসুরদের পক্ষ নিলেন তার উত্তর রয়েছে পুরানে|একবার দেবতা ও অসুরদের যুদ্ধে অসুরদের আধিপত্য থাকায় দেবতারা বিষ্ণুদেবের কাছে সাহায্য চান। বিষ্ণুদেব অসুর বধে উদ্যত হলে দেখেন ভৃগুপত্নীর আশ্রয়ে অসুররা সুরক্ষিত। তখন বিষ্ণু কাব্য মাতাকে অনুরোধ করে অসুরদের ছেড়ে দিতে বললে কাব্য মাতা আশ্রয় গ্রহণকারীকে ঈশ্বরের রূপ ভেবে যেতে দেননি। কিন্তু বিষ্ণু কখনোই নারীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চান না শেষে উপায়ান্তর না পেয়ে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে কাব্য মাতার প্রাণ হরণ করে নেন পরে এই ঘটনা জেনে জেনে ঋষি ভৃগু নারায়ণকে অভিশাপ দেন এবং অসুরগুরু শুক্রাচার্য বিষ্ণুকে পরমশত্রু ভাবেন ও আজীবন অসুর দের পক্ষ নিয়ে দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান|আরো এমন পুরান কথা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – দেবী লক্ষীর বাহন

আজ বৃহস্পতিবার মানে দেবী লক্ষীর দিন|আমরা জানি দেবী লক্ষীর বাহন প্যাঁচা|কিন্তু কেনো তার বাহন প্যাঁচা তার অনেক গুলি কারন ও ব্যাখ্যা আছে|আজ সেই নিয়ে আলোচনা করবো|বলা হয় ধান বাঙালির কাছে লক্ষী কিন্তু এই ধান ইঁদুরে খেয়ে ফেলে ধানের গোলায় ইঁদুর ঢুকে নষ্ট করে খাদ্যশস্য তাই ধানের শত্রু ইঁদুর। আর ইঁদুরকে খায় পেঁচা অর্থাৎ ধানকে রক্ষা করে ইঁদুরের হাত থেকে। তাই লক্ষ্মী দেবীর বাহন এই রাত জাগা পাখি।তবে লক্ষ্মীদেবীর বাহন হিসেবে পন্ডিতদের যে মতটি সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য তা হলো যিনি লক্ষ্মী গুন অর্থাৎ সত্য প্রেম পবিত্রতা তপস্যা তিতিক্ষা পেতে চান তাকে পেচক ধর্ম পালন করতে হবে অর্থাৎ জাগতিক বস্তু থেকে একটু দূরে থেকে নির্জনে যোগৈশ্বর্য ও সাধন সম্পদ রক্ষা করতে হয় পেঁচা যদি দিনের বেলায় বের হয় অন্যান্য পাখিরা তাকে তাড়া করে অতি গোপনে পেচা বাস করে। সেরকমই পূর্ণতা লাভ না করা পর্যন্ত জাগতিক বিষয় ব্যক্তি দৈব সম্পদ নষ্ট করে।এসব কারনে পেচাকে লক্ষীর বাহন হিসেবে রেখে দিয়েছেন কারন পেঁচা নিঃশব্দে, অন্ধকারে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে যায়|ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, পেঁচা আসলে যমের দূত। যম অর্থ সংযম, যম মানে ধর্ম। ধনোপার্জনের ক্ষেত্রেও সংযমবুদ্ধি ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত রাখার প্রতীক পেঁচা। যমদূত পেচক তাঁর নিজের বৃত্তি ও প্রভুর ধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে মৃত্যুচিন্তা ও আত্মচিন্তা জাগ্রত করে মানুষের মনে তাই সে লক্ষীর বাহন হিসেবেও স্থান পেয়েছে|আবার কোজাগরীর রাতে মা লক্ষ্মী খোঁজ নেন কে জাগ্রত রয়েছে। জেগে থাকা ব্যক্তিকেই তিনি ধনের সন্ধান দেন। পেঁচা প্রতি রাতেই জেগে থাকে। দিনে ঘুমায় তাই প্যাঁচাকে দেবী নির্বাচন করেছেন তার বাহন রূপে|চলবে পুরান কথা|হবে আরো অনেক পুরান কথা|জানতে পারবেন বহু পৌরাণিক ঘটনা ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|সঙ্গে থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – মিনাক্ষী মন্দির

আমার দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের আজকের গন্তব্য বিখ্যাত মিনাক্ষী মন্দির|বিশ্বের অন্যতম সুন্দর মন্দির মাদুরাইয়ের মিনাক্ষী মন্দির যা শিল্প ও আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত মেল বন্ধন|মিনাক্ষী মন্দিরের ইতিহাস বহু প্রাচীন|অনেকে মনে করেনঅনেকে মনে করেন, দেবরাজ ইন্দ্র শিবলিঙ্গ প্রাপ্তির পরই এই মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল।সবার আগে জানা দরকার কে এই দেবী মিনাক্ষী|দক্ষিণ ভারতের রাজা মলয়দাজা এবং রানী কাঞ্চণমালি অনেকদিন ধরে সন্তানের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন। ঈশ্বর তাদের এই আকুল প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে সন্তান দান করেন। ঈশ্বরের কৃপায় যজ্ঞের আগুন থেকে এক পরম সুন্দরী কন্যা শিশুর জন্ম হয়। যার নাম রাখা হয় মীনাক্ষী।এই মীনাক্ষীর বিয়ে হয় দেবতা শিবের সঙ্গে। মিনাক্ষী মন্দিরের ইতিহাসের সাথে জড়িত আছে আরেক ঘটনা আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দক্ষিণ ভারতের মন্দির গুলি যখন আক্রমন করে সেসময় সে এই মন্দিরটি লুট করে এর মূল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় । এরপর ১৬ সালের দিকে শাসক বিশ্বনাথ নায়াক এই মন্দিরটি আবার পুনঃসংস্কার করে ভক্তদের প্রার্থনার জন্য পুনরায় খুলে দেন।মিনাক্ষী মন্দিরটির স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।

মোট ১৫ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি সূক্ষ্ম কারুকার্য ও চোখধাঁধানো ভাস্কর্য মুগ্ধ করে দেশে বিদেশের পর্যটক ও তীর্থ যাত্রীদের|শোনা যায় এককালে মাদুরাই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মন্দিরের চূড়া দেখা যেত। এই মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল আস্থা শক্তি মন্ডপ। এই মন্ডপটি থিরুমালাই নায়াকারের স্ত্রীর নির্দেশে নির্মান করা হয়েছিল।

মন্দিরের প্রবেশ পথেই রয়েছে এই মণ্ডপ|মিনাক্ষী মন্দিরের গায়ে খোদাই করা আছে বহু দেব দেবী ও পৌরাণিক ঘটনা|যদিও এই মন্দির অতুলনীয় তবে কিছুটা মিল রয়েছে কৈলাশে অবস্থিত শিব মন্দিরের সাথে|মিনাক্ষী মন্দিরের বিশালত্ত্ব ও তার সৌন্দর্য ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায়না|উপলব্ধি করতে হয় এই মন্দিরের আধ্যাত্বিক পরিবেশ ও প্রাচীনত্ব|আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো এই অদ্ভুত ও অপার্থিব সৌন্দর্যকে কাছ থেকে দেখার|আপনারাও সময় সুযোগ হলে অবশ্যই দর্শন করুন তীর্থ ক্ষেত্রটি|আবার অন্য কোনো তীর্থস্থান ও তার সাথে জড়িত পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরানকথা – হনুমানের বিয়ে

আজ পুরান কথায় শাস্ত্র থেকে হনুমানজির জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|অনেকেই মনে করেন বজরংবলী ব্রহ্মচারী, অবিবাহিত| একথা আংশিক সত্য,পুরান অনুসারে হনুমান বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে|আবার তিনি ব্রহ্মচারী এবং সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীও বটে! কিকরে সম্ভব?সূর্যদেব ছিলেন হুনুমানের শিক্ষক, তিনি নয়টি ব্যাকরণ সূত্রের নবনিধীর শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নবম সূত্রটি কেবল মাত্র বিবাহিত দের জন্যে তাই বিবাহ করা বাধ্যতামূলক ছিলো|এই কারনে শিবের আশীর্বাদে শুভ্রলা নামে একটি কন্যা সৃষ্টি হয় এবং হনুমানের সাথে তার বিবাহ হয় ও বিবাহের পরের মুহূর্তেই শুভ্ৰলা অদৃশ্য হয়|এই ভাবে বিবাহিত হয়েও ব্রহ্মচারী রয়ে গেলেন হনুমান|অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে হনুমান তার স্ত্রী শুভ্ৰলার সাথে একত্রে পূজিত হন|এবার আসি হনুমানের পুত্রের বিষয়ে, হ্যাঁ তার একটি পুত্র ছিলো যার জন্ম হয়ে ছিলো অদ্ভুত ভাবে, লঙ্কা অভিযানের সময়ে হনুমানের শরীরের এক ফোঁটা ঘাম পড়েছিলো সমুদ্রে এই ঘামের বিন্দু থেকে জন্মান হনুমান পুত্র মকরধজ|এমন আরো অনেক পৌরাণিক জানা অজানা তথ্য নিয়ে আমি আসবো আপনাদের সামনে আগামী দিনে|চলতে থাকবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

পুরান কথা – শিবের জন্ম

জগতে শিব সদাশিব রূপে অবস্থান করেন। কখনও কখনও শিবকে বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষকও বলা হয়।আবার তিনি দেবাদিদেব অর্থাৎ দেবতাদের আরাধ্য দেবতা|তিনি তম গুনের অধিকারী তাই সংহার কর্তা|লৌকিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি আপাদমস্তক সংসারী আবার তিনিই আদি অঘোরী|বৈচিত্রপূর্ণ এই একাধিক গুণাবলীর অধিকারী শিবের জন্মের উল্লেখ আছে শাস্ত্রে আছে তার পিতৃ পরিচয়|আদি শিব লিঙ্গ প্রকট হয়েছিলো আদি অন্ত হীন রূপে তবে জন্মসূত্রে শিবের পিতা হলেন ব্রহ্মা। ব্রহ্মার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁর প্রথম মানস পুত্র চতুষ্কুমারগণ প্রজা সৃষ্টিতে লিপ্ত হতে অস্বীকার করলে ব্রহ্মারঅন্তরে দুর্বিসহ ক্রোধ উৎপন্ন হয়েছিল। যা তিনি সংবরণ করার চেষ্টা করলেও তা তাঁর ভ্রূর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং নীললোহিত বর্ণের একটি শিশু উৎপন্ন হয়েছিল। জন্মের পরেই শিশু ক্রন্দন বা রোদন করতে শুরু করে। ব্রহ্মা তখন বলেছিলেন “হে সুরশ্রেষ্ট। যেহেতু তুমি উৎকন্ঠিত হয়ে রোদন বা ক্রন্দন করেছ তাই প্রজাসমূহ তোমাকে ‘রুদ্র’ নামে অভিহিত করবে।” এই হোলো সংক্ষেপে শিবের জন্ম বৃত্তান্ত ও তার রূদ্র নামের ব্যাখ্যা|শিবের নিত্যধাম-মহেশধাম জড়জগৎ ও বৈকুণ্ঠ লোকের মধ্যবর্তী। এ প্রসঙ্গে ব্রহ্মসংহিতাতে বলা হয়েছে “গোলোকনাম্নি নিজ ধান্মি তলে চ তস্য দেবী-মহেশ-হরি ধামসু তেষু তেষু” এখানে দেবীধাম অর্থে জড় জগৎ এবং হরিনাম অর্থে বৈকুন্ঠ লোক এবং মহেশ ধাম তার মধ্যবর্তী। সেই সদাশিবই জড় জগতে রুদ্র রূপে নিজেকে প্রকাশ করেন|পুরানের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ জানা অজানা বিষয় নিয়ে চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দক্ষিন ভারতে পন্ডিতজি – মহাবলীপুরম

দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ অবশ্যই মহাবলীপুরম|মহাবলীপুরমে দেখার জায়গা তো অনেক আছে কারণ এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানের মূল আকর্ষণ সপ্তরথ মন্দির ও সমুদ্রতীরের শিব মন্দির। 

মহাবলীপুরমের আরেকটি আকর্ষণ হলো একটি অদ্ভুত হেলানো পাথর। এই পাথর খুবই বিপজ্জনক ভাবে একটি বিন্দুতে আটকে রয়েছে। স্বয়ং সুনামিও এটিকে নড়াতে পারেনি। হয়তো এর পেছনে আছে কোনো জ্যামিতিক খেলা যা আজও রহস্য|

সে সব নিয়ে বলবো তবে আগে বলে রাখি কেনো এই মন্দির গুলি এতো গুরুত্বপূর্ণ|আসলে শুধু ধর্মীয় কারন নয় এগুলি ভারতের হাজার বছরের শিল্প কলা ও ভাস্কর্যকে বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে|শ্রেষ্ঠ শিল্প কর্ম গুলি মন্দিরের গায়েই ফুটিয়ে তলা হতো সেকালে|এগুলি আমায় বরাবর টানে|

এখানকার মন্দির গুলি সাতের দশকের স্থাপত্য যা পল্লব রাজাদের সময়কাল। পাথর কেটে রথের আকারে বানানো মন্দিরের গায়ে মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা খোদাই করা আছে। সপ্তরথ যথাক্রমে নকুল,সহদেব, ভীম, অর্জুন, দ্রৌপদী, ধর্মরাজ ও গণেশ নামে নামাঙ্কিত। 

আলাদা করে বলা যায় সৈকত সংলগ্ন শিব মন্দিরের কথা|শিব মন্দিরের ভেতরটাও খুব সুন্দর ও সেখান থেকে সমুদ্রর দৃশ্যও অসাধারণ। এই মন্দিরও পাথর কেটে বানানো।

সমুদ্রসৈকতের সাতটি মন্দিরের জন্য মহাবলিপুরমকে বলা হত ‘সাত প্যাগোডার দেশ’। ছ’টি সমুদ্রগর্ভে। অক্ষত রয়েছে মাত্র একটি|

অপুর ওই সব শিল্প নিদর্শন দেখে সমুদ্রের তীর ধরে হেঁটে গেলে এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়ে|মনে হয়ে কত কত ইতিহাস কত ঘটনার সাক্ষী এই সমুদ্র|আর মনে হয়ে সেই সব অখ্যাত শিল্পীদের কথা যারা নাম যশ খ্যাতি কিছুই হয়তো পায়নি তবে তাদের সৃষ্টি গুলো রয়ে গেছে যা পৃথিবীর সব আধুনিক শিল্পীর ঈর্ষার কারন হতে পারে|

আবার লিখবো,এখনো অনেক পথ বাকি অনেক অভিজ্ঞতা ও ভাগ করে নেয়ার আছে |ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – দেবী কালী

পুরান মতে আদ্যা শক্তি মা মহামায়া যখন দেবতা বনাম অসুর দের যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তিনি দেবতাদের বরাভয় প্রদান করেন এবং অসুর নিধনে তার রুদ্র রূপ ধারণ করেন। দেবতারা তখন এক প্রকার খুশি হন। কিন্তু অসুরেরা সম্মিলিত ভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। আর অসুরদের এরকম সম্মিলিত লড়াইয়ে মাতা মহামায়া অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং তার তৃতীয় নেত্র থেকে জন্ম নেয় এক অত্যন্ত রুদ্রমূর্তি এবং এই ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি হলো মা কালিকা বা মা কালী কেন মা চতুর্ভুজা তার ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আছে আজ পুরান কথায় সেই বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা করবো|শ্রীশ্রী কালী চতুর্ভুজা। সকাম ও নিষ্কাম, সাধক সাধারণত এই দুই প্রকার। সকাম সাধন সংসারে সাফল্য চান আর নিষ্কাম সাধক চান মুক্তি। মায়ের দক্ষিণ হাতে সকাম সাধককে অভয় ও বর দিচ্ছেন আর বাম হাতে খড়গ দ্বারা নিষ্কাম সাধককে মোহপাশ ছিন্ন করতে বলছেন। কালো কেশ আকর্ষণ করে মা তমোগুণকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলছেন। যেহেতু রক্ত রাজসিক গুণের প্রতীক তাই মা মস্তিষ্ক থেকে অসারিত রুধির ধারা শোষিত করে সত্ত্বগুণে উন্নীত হতে শিক্ষা দিচ্ছেন।এবারে বলি কি করে এই কালী মূর্তি পুজোর প্রচলন হলো বঙ্গ সমাজে|কথিত আছে, রামপ্রসাদ সেনের গুরু কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ স্বপ্নে আদেশ পান কালীর প্রসন্ন ভাবমূর্তি রচনা করার। স্বপ্নে দেবী তাকে জানান পরবর্তী ভোরে যে নারীকে তিনি সর্বপ্রথম দেখবেন তার রূপ অনুযায়ী কালীর এক প্রসন্ন প্রতিমূর্তি তৈরী করতে। পরবর্তী ভোরে যে নারীকে প্রথম সে দেখেন তিনি কৃষ্ণবর্ণা, তার ডান পা সামনে, উন্মুক্ত কালো কেশ এবং বাম হাত উত্তোলনের দ্বারা দেয়ালে গোবর স্থাপন করছেন। আকস্মিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে সামনে দেখে সেই মহিলা খুব লজ্জা পেলেন এবং তার জিহ্বা বার করে দাঁত দিয়ে চাপলেন। সেই নারীর রূপ অনুসরণ করে আগমবাগীশ মহাশয় কালীর মূর্তিতত্ত্ব অনুযায়ী দক্ষিণা কালীর মূর্তি রচনা করেছিলেন। এর আগে কালী যন্ত্রে কালীপূজা হতো।চলবে পুরান কথা|থাকবে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরানকথা – ব্রহ্মার পুজো

পুরান মতে জগৎ সংসারের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা কিন্তু এখানে প্রশ্ন ওঠে ব্রহ্মার সৃষ্টি তবে কিভাবে হলো আসলে প্রাণ ও জগতের সৃজনের জন্য ব্রহ্মার সৃষ্টি হয়েছে বিষ্ণুর ইচ্ছায়|বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি বা জন্ম। একদিন ব্রহ্মা অহংকার বশতঃ মনে করলেন ‘আমিই সবকিছু করেছি। আমিই সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। আমিই ব্রহ্মান্ডের মালিক।’তারপর কিভাবে তার ভুল ভাঙলো সেই নিয়েও পুরানে ব্যাখ্যা আছে|শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে দ্বারকাতে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীব্রহ্মাকে আহ্বান করলেন। ব্রহ্মা এসে পৌছালে কৃষ্ণের দ্বারপালগণ জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কোন ব্রহ্মা।’ ব্রহ্মা তখন বিস্মিত হয়ে বললেন, চতুর্মুখ ব্রহ্মা। তারপর সভাকক্ষে প্রবেশ করে দেখলেন বহু বহু ব্রহ্মান্ড থেকে আগত অসংখ্য ব্রহ্মা সেখানে নতজানু হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করছেন। ব্রহ্মার অহংকার চলে যায়|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার পূজা পৃথিবীতে সেভাবে প্রচলন নেই বললেই চলে।তাই ব্রহ্মার মন্দিরের সংখ্যাও খুবই সীমিত।কিন্তু এইসব মন্দিরের মধ্যে একটি হল রাজস্থানের পুষ্কর হ্রদের পাশেই অবস্থিত।কিন্তু প্রজাপতি ব্রহ্মার এই মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনও পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ | পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী বলা হয় যে দেবী সরস্বতী দ্বারা অভিশপ্ত এই মন্দিরে কোনো বিবাহিত পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।বলা হয় যে এখানে পৌরাণিক কালে পুষ্কর জলাশয়ের তীরে যজ্ঞ করছিলেন আয়োজন করেছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।এই যজ্ঞ সময় ব্রহ্মাদেবের অর্ধাঙ্গিনী দেবী সরস্বতী সময় মতো উপস্থিত না হতে পারায় ব্রহ্মা দেবী গায়ত্রীকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করে যজ্ঞে বসে যজ্ঞ সম্পূর্ণ করেন। এটি দেখে দেবী সরস্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে যান এবং তখন দেবী সরস্বতী শাপ দেন যে মন্দিরে কোনো বিবাহিত পুরুষ প্রবেশ করলে, তার বিবাহিত জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।আর এই থেকেই এই মন্দিরে পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ|চলতে থাকবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – দেবী লক্ষী

সনাতন ধর্মে ভগবান একজনই তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ|তবে দেব দেবী আছেন অসংখ্য|তাদের নিয়ে পুরানে নানা ঘটনা ও ব্যাখ্যা আছে সেই সব জানা অজানা পৌরাণিক ঘটনার নিয়ে হবে পুরান কথা|আজ শুরু করবো দেবী লক্ষীকে দিয়ে|আপনারা অনেকেই গৃহে শ্রী যন্ত্র ব্যাবহার করেন আসলে লক্ষ্মী দেবীর আর এক নাম শ্রী|পরাশর-সংহিতায় যে তিনটি শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম শ্রী|আবার শ্রী শব্দের অর্থ সৌন্দর্য। অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে যার দ্বারা সকলে আশ্রিত হয় তিনিই শ্রী|আবার শ্রী অর্থে ধন ও হয়|তাই যথার্থ অর্থে দেবী লক্ষী ধন, সম্পদ, শান্তি ও সৌন্দর্যর দেবী|দেবী লক্ষীর উৎপত্তি নিয়েও পুরানে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ আছে, বিষ্ণু পুরাণ ও ভাগবত অনুসারে লক্ষ্মী দেবীর উৎপত্তি হয়েছে সমুদ্র থেকে| দুর্বাসা মুনির শাপে স্বর্গ একদা শ্রীহীন বা লক্ষ্মী-ছাড়া হয়ে যায়। তখন বিষ্ণুর পরামর্শে স্বর্গের ঐশ্বর্য ফিরে পাবার জন্য দেবগণ অসুরদের সাথে নিয়ে সমুদ্র-মন্থন শুরু করেন সমুদ্র-মন্থনের ফলে উঠে আসলেন দেবী লক্ষ্মী এবং আবির্ভাবের পর লক্ষ্মী দেবীর স্থান হয় বিষ্ণুর বক্ষে|লক্ষী ও বিষ্ণুর বিবাহ নিয়ে পুরানে উল্লেখ আছে যে একবার দেবী লক্ষী বিষ্ণুকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে বহুকাল কঠোর তপস্যায় নিমগ্ন হলেন এবং লক্ষ্মীর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে একদিন বিষ্ণু নিজে লক্ষ্মীর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর ইচ্ছায় বিশ্বরূপ দেখালেন তারপর বিষ্ণু ও লক্ষী দেবীর বিবাহ সম্পন্ন হলো|বীরভূমে রয়েছে এক প্রাচীন লক্ষী মন্দির এবার সেই মন্দির নিয়ে এক অলৌকিক ঘটনার কথা আপনাদের বলি|প্রায় পাঁচশো বছর আগে বীরভূমে এই গ্রামে আসেন পূর্ববঙ্গের এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী কামদেব ব্রহ্মচারী। এই গ্রামের একটি নিমগাছের তলায় সাধনস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিনে পর এক গ্রামবাসী দীঘির ধারে জমিতে চাষ করছিলেন সে হটাৎ দেখতে পায়,দীঘির জলে একটি পদ্মফুল ভেসে যাচ্ছে।পদ্মফুল তুলতে নেমে পড়েন দীঘিতে ফুটে থাকা পদ্মফুল দেখতে পেলেও নাগাল পান না কিছুতেই।সেই রাতে মা লক্ষ্মীর স্বপ্নাদেশ পান ওই গ্রামবাসী, ওই দীঘির জলেই নিরাকার রূপে দেবী লক্ষী অবস্থান করছেন। পর দিনই দীঘিতে নিম কাঠ ভাসতে দেখেন তুমি । সেই কাঠ তুলে এনে দেবীর নির্দেশ মতো গ্রামের নিম গাছতলায় আসন পাতা কামদেব ব্রহ্মচারীর কাছে নিয়ে যান এবং সাধক ওই নিম কাঠ থেকে লক্ষ্মীমূর্তি গড়ে তোলেন। সেই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় গ্রামেই।আজও ওই মূর্তি পূজিত হয় এখানে|চলতে থাকবে পুরান কথা|আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|