নব দুর্গা – শৈলপুত্র

146

আজ থেকে শুরু করছি এক নতুন ধারাবাহিক লেখনী|বাংলার দূর্গা পূজার পাশাপাশি একই সময়ে সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় নব রাত্রি উৎসব|মূলত দেবী দুর্গার নয় টি ভিন্ন রূপের পূজা হয় নয় দিন ধরে| বাংলার অনেক দূর্গা পূজা তেও নব দুর্গার আরাধনা হয়|এই রূপ গুলির আছে নিজস্ব শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|আজ লিখবো প্রথম রূপ শৈল পুত্রী নিয়ে|একবার প্রজাপতি দক্ষ বিরাট যজ্ঞ করেন । এই যজ্ঞে সতী কে নিমন্ত্রণ করা হয় নি । সতী পিতৃ গৃহে যাবার জন্য অস্থির হল কিন্তু ভগবান শঙ্কর সাবধান করলেন যে কোন কারনে তিনি উমার উপর রেগে আছেন । কিন্তু সতীর মন মানল না তখন শঙ্কর জী অনুমতি দিলেন যাবার জন্য । কিন্তু পিতৃ গৃহে গিয়ে পৌঁছে দেখলেন কেউ তাকে সেরকম স্নেহ ভরে কাছে ডাকছে না । একমাত্র মা জড়িয়ে ধরলেন । স্বয়ং দক্ষ তাকে নানা খারাপ কথা বললেন । তখন রাগে দুঃখে যজ্ঞাগ্নি র সাহায্যে নিজে কে ভস্মীভূত করলেন ।এই সংবাদ শুনে শিব ও তার অনুগামীরা দক্ষের যজ্ঞ ধ্বংস করলেন|পর জন্মে তিনিই শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা রুপে জন্ম নিলেন । এই জন্মে তিনি শিবের অর্ধাঙ্গিনী রুপে ছিলেন|নব দূর্গার প্রথম রূপটি হল শৌলপুত্রী।নবরাত্রি উত্সবের প্রথমদিনের পুজো হয় দেবী শৈলপুত্রীর। দেবী শৈলপুত্রী আসলে প্রকৃতির দেবী। শৈলপুত্রীর বাহন বৃষ । এঁনার দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল আর বাম হস্তে কমল আছে তাই দেবীর অপর নাম শুলধারিনি|দেবী পার্বতী রূপে জন্ম নেন ও শিব কে বিবাহ করেন|হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী ব্রহ্মার শক্তির প্রতীক হলেন দেবী শৈলপুত্রী।শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা হবার জন্য দেবীর এক নাম হয় শৈলপুত্রী|শাস্ত্র মতেএই রূপের আরাধনায় বৃদ্ধি পায় মনোবল|মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদ মুক্তি হয় দেবী শৈল পুত্রীর আরাধনায়|আগামী পর্বে দেবীর পরবর্তী নিয়ে আলোচনা করবো |পড়তে থাকুন|