বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো : সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো

165

আজ এই পর্বে যে বাড়ির পুজোর কথা বলবো বাংলা তথা কলকাতার ইতিহাসে তার গুরুত্ব অপরিসীম|আজকের পর্বে সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো|

বাংলার ইতিহাসের বারো ভূঁইয়া দের অন্যতম ছিলেন লক্ষীকান্ত রায় চৌধুরী যিনি আকবরের রাজ প্রতিনিধি মান সিংহের থেকে মোট আটটি পরগনার স্বত্ব ও রায়চৌধুরী উপাধি লাভ করেন|যদিও তার আগেই এই পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী ও বিত্তবান ছিলো|এই পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়েই লেখা হয়েছিল বিখ্যাত উপন্যাস বৌ ঠাকুরানীর হাট|রায় চৌধুরী উপাধি পাওয়ার পড় লক্ষীকান্ত রায় চৌধুরী বিরাট আকারে দুর্গাপূজা শুরু করেন|
প্রথমে হালি শহরে শুরু হলেও পরবর্তীতে পুজো অনুষ্ঠিত হয় বড়িশায়|বর্তমানে এই পরিবার বেশ কয়েকটি আলাদা পরিবারের বিভক্ত এবং মোট এখন মোট আটটি দূর্গা পুজো হয় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারে তবে প্রধান পুজো বলতে বরিশার দুর্গাপূজাকেই বোঝায়|

শাক্ত, শৈব এবং বৈষ্ণব— এই তিন মত মিলে যায় পুজোতে|এবাড়ির পুজোতে ছিন্নমস্তা, বগলা, কমলাকামিনী, মাতঙ্গী, অর্থাৎ দশমহাবিদ্যা যেমন পূজিতা হন আবার সেই সঙ্গে রয়েছেন রাধাকৃষ্ণ|
বৈচিত্র পূর্ণ এই পারিবারিক পুজোতে কোথাও বৈষ্ণব মতে পুজো হয় আবার কোথাও তন্ত্র মতে|
ভোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে এই বৈচিত্র কোনো বাড়ির পুজোতে যেমন অন্ন ভোগ হয় কোথাও আবার ফল ও মিষ্টি তবে সাবর্ণদের বাকি বাড়িগুলিতে আমিষ ভোগ হলেও নিমতার বাড়িতে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ হয়|আগে পশু বলী প্রথা থাকলেও এখন তা বন্ধ তবে কুমড়ো বা শশা বলী হয়|

আগে ঠাকুর টলিনালায় বিসর্জন হত। বর্তমানে অন্য ঠাকুরের মতোই বাবুঘাটে বিসর্জন হয়|দশমীর দিন সকালে ঘট বিসর্জনের পরে ঠাকুরের সামনেই শুরু হয় বিজয়া পর্ব|চণ্ডীমণ্ডপে প্রণামের রীতি এই পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট|

আজ বিদায় নিচ্ছি|দেখা হবে পরের পর্বে|যারা নবরাত্রি তে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে পারলেন না এবং আগামী দীপাবলি উপলক্ষে যারা বিশেষ প্রতিকার বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্য কথা বলতে চান ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|যারা হৃদয়েশ্বরী মা সর্ব মঙ্গলার মন্দির বা আমার গৃহ মন্দিরের সাথে যুক্ত হতে চান, অনলাইন পুজো দেখতে চান বা অঞ্জলি দিতে চান তাদের বলবো আমার ফেসবুক প্রোফাইলে সব তথ্য পেয়ে যাবেন|আর ওয়েবসাইটও রয়েছে চাইলে একবার ঘুরে আসতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|