Home Blog Page 133

বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো – কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি

কলকাতার পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্য সম্পন্ন জমিদার বাড়ির পুজোর অভাব নেই|আজ এই পর্বে লিখবো বাংলার একটি ঐতিহাসিক ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ পরিবারের দূর্গাপূজা নিয়ে|আজ কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো|

এই বাংলায় দূর্গা পুজোর শুরু কবে হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিক দের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট|তবে প্রথম দূর্গা পুজো হয়েছিল কোনো রাজ পরিবারে এবং অনেক পরে বারোয়ারি পুজোর সূচনা হয়|সে ক্ষেত্রে একদম প্রথম পারিবারিক পুজোগুলির অন্যতম কৃষ্ণনগর রাজ বাড়ির পুজো|কৃষ্ণচন্দ্র মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরকে সাহায্য করেন প্রতাপাদিত্যকে হারাতে। তারপরে কৃষ্ণচন্দ্রকে কৃষ্ণনগরের রাজা করেন জাহাঙ্গীর|রাজত্ব লাভ করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জাঁকজমক সহকারে দূর্গা পুজো শুরু করেন যা আজও চলে আসছে বংশ পরম্পরায় আগে এই পরিবারে অন্নপূর্ণার পুজো হতো|

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পরিচিত রাজরাজেশ্বরী হিসেবে|দেবীর এখানে যুদ্ধবেশ পরনে টকটকে লাল শাড়ি|গায়ে বর্ম ও হাতে অস্ত্র। যেহেতু বৈষ্ণব মতে পুজো হয় তাই দেবী ঘোটকাকৃতি সিংহের ওপর আসীন|একচালা প্রতিমার পিছনে থাকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছটা ও তাতে আঁকা থাকে দশমহাবিদ্যা|

রীতি অনুসারে কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে মহালয়ার পর দিন থেকেই শুরু হয় পুজো এবং রাজরাজেশ্বরী পাটে আসীন হন বোধনের সময়ে। প্রাচীন প্রথা অনুসারে তাকে বেহারাদের কাঁধে চড়িয়ে আনা হয়|এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল সন্ধিপুজো ও দশমীর দিন সিদুর খেলা|আজও সন্ধিপুজোর সময়ে ধোয়ায় ঢেকে যায় দেবীর মুখ এবং প্রচলিত বিশ্বাস, সেই সময়ে মা আসেন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে, বিজয়া উপলক্ষেআশেপাশের বহু মহিলা রাজবাড়ির সিদুর খেলাতে অংশগ্রহণ করেন|পুজোতে পশু বলি বা দশমীতে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়তো আজ আর নেই তবুও আবেগ ও ভক্তি রয়েছে একই রকম|

আজ বিদায় নিলাম আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|যারা নবরাত্রি তে জ্যোতিষ প্রতিকার করাতে চানা যোগাযোগ করবেন |আগামী দীপাবলিতেও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে|যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

গান্ধী জন্ম জয়ন্তী

মহাত্মা গান্ধী এমন একজন মানুষ জিনি ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও তিনি বর্তমান সময়েও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন।ইতিহাসে এরকম ঘটনা কখনও দেখা যায়নি যখন একজন ব্যক্তি, যার সঙ্গে প্রশাসনের দূরদুরান্ত পর্যন্ত কোন সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু বিশ্বাস ও অহিংসার ওপর নির্ভর করে তিনি শতাব্দী প্রাচীন সাম্রাজ্যবাদের কেবল ভিতই নাড়িয়ে দেননি, বরং দেশপ্রেমীদের মধ্যে স্বাধীনতাবোধের মানসিকতার বীজ ভরে দিতে পেরেছিলেন।যাঁদের সঙ্গে মহাত্মার কখনও দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি, তাঁদেরকেও তিনি প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন। যেমন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রই,নেলসন ম্যান্ডেল এঁদের আদর্শের মূল ভিত্তিই ছিল মহাত্মা গান্ধী। মহাত্মা গান্ধী একথা প্রায়শই বলতেন যে, তাঁর জীবনকর্মই তাঁর বার্তা। গান্ধীজি কখনই তাঁর জীবনকর্মের মধ্য দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি। কিন্তু পক্ষান্তরে তাঁর জীবনকর্মই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। আজ আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন আমাদের উদ্দেশ্যই হল কিভাবে অন্যকে প্রভাবিত করা যায়। কিন্তু গান্ধীজির আদর্শ ছিল কিভাবে অন্যকে অনুপ্রাণিত করা যায়। আজ জন্মদিনে মহাত্মাকে জানাই প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজা : শোভা বাজার রাজবাড়ির পুজো

বাংলার দুর্গাপূজার নিজস্ব এক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য আছে যা কয়েকশো বছরের পুরোনো|পলাশীর যুদ্ধ থেকে, স্বদেশী আন্দোলন, দেশ ভাগ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সবই এই ইতিহাসের অঙ্গ|দূর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে শাস্ত্র এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের পাশাপাশি এই ইতিহাসের ও এক আলাদা তাৎপর্য আছে|এই বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে লিখতে বসে সেই ইতিহাস সেই ঐতিহ্য কেই কিছুটা নতুন করে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|আপাতত কলকাতার বনেদি বা জমিদার বাড়ির পুজোর কথা লিখলেও আগামী দিনে জেলা গুলির ঐতিহ্য সম্পন্ন পুজোর কথাও লিখবো|জানবো অনেক গল্প অনেক ইতিহাস|আজকের পর্বে শোভাবাজার রাজ বাড়ির পুজো|

বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো ঐতিহাসিক পুজোর মধ্যে শোভাবাজার রাজবাড়ীর পুজো থাকবে একদম প্রথম শাড়িতে|সেকালে বলা হতো দেবী মর্তে থাকাকালীন তার মনোরঞ্জনের জন্য এই বাড়িতেই আসতেন|এমন ভাবনার পেছনে অনেক কারন আছে|তবে আগে এই বাড়ি ও তার ইতিহাস সংক্ষেপে জেনে নেয়া দরকার|যদিও এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিজয় হরি দেব তবে এই পরিবারের স্বর্ণযুগ বলা হয় রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সময় কে এবং তার আমলেই শুরু হয় এই দূর্গা পূজা|নব কৃষ্ণদেব ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন সাধারণ কর্মচারী যিনি নিজের দক্ষতায় ও পরিশ্রমে কোম্পানির মুন্সী হয়ে ছিলেন|পলাশীর যুদ্ধে তিনি নানা ভাবে ক্লাইভ কে সাহায্য করেন ও পুরুস্কার স্বরূপ প্রচুর অর্থ লাভ করেন|

মূলত পলাশীর যুদ্ধ জয় কে স্মরণীয় করে রাখতেই নবকৃষ্ণ দেবে দূর্গা পুজো শুরু করেছিলেন তাছাড়াও তার উদেশ্য ছিলো ক্লাইভ কে খুশি করে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা|এই উদ্দেশ্যে তিনি সফল হয়েছিলেন|তার দূর্গা পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ|আজও অনেক জায়গায় এই পুজো কে গোরা দের পুজো বা কোম্পানির পুজো বলা হয়|

উদেশ্য যাই থাকুক নিষ্ঠা সহকারে পুজো করতেন নবকৃষ্ণ দেব|প্রচুর অর্থ ব্যায় হতো এই পরিবারের দূর্গা পুজোয়|বসতো গান বাজনার আসর, নাচ, কবি গানের ও ব্যবস্থা থাকতো|দূর্গা পুজো উপলক্ষে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, ভোলা ময়রার মতো কবিয়ালরা এখানে এসেছেন কবির লড়াই করতে আবার গহরজান, মালকাজান, নুর বক্স প্রমুখ নামী নর্তকী এই বাড়িতে এসেছেন নাচ করতে|
সব মিলিয়ে এলাহী আয়োজন হতো শোভাবাজার রাজ বাড়ির দূর্গা পুজোয় আর এই কারণেই মনে করা হতো যে এটা মর্তে দেবী দুর্গার মনোরঞ্জনের স্থান|

পরবর্তীতে দুই শরিকের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় সম্পত্তি তবে প্রথা মেনে নিষ্ঠা সহকারে আজও শোভাবাজর রাজবাড়ি তে দূর্গা পূজা হয়|উল্টো রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় দেবীমূর্তি তৈরির কাজ|শোভাবাজার রাজবাড়ির মাতৃমূর্তির বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়া, এখানকার পুজোর উপাচারও বেশ চমকপ্রদ। সন্ধিপুজোতে কামানের গোলার শব্দে শুরু হত পুজো এবং শেষও হত একই ভাবে|মা দুর্গা এই বাড়িতে বৈষ্ণবী হিসেবে পূজিতা হন। তাই শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয় অন্নভোগ থাকে না। গোটা ফল, গোটা আনাজ, শুকনো চাল, কচুরি, খাজা, গজা, মতিচুর-সহ নানা ধরনের মিষ্টি দেবীকে উত্সর্গ করা হয়|বর্তমানে এখানে বলী প্রথা নেই|এবাড়ির পুজোয়|প্রতিমার সামনে একটা বড় হাড়িতে জল রাখা হয়। সেই জলে দেবীর পায়ের প্রতিবম্বের ছবি দেখে সবাই প্রণাম করে। একে দর্পণ বিসর্জন বলা হয়|তারপর প্রথা মেনে দশমীর দিনই হয় বিসর্জন|আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি থাকলেও সরকারি নিয়মে তা এখন বন্ধ|

আজকের পর্বে এইটুকুই|ফিরবো পরের পর্বে|উৎসব পালন করুন তবে স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ মেনে|আর যারা মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজোর সাথে যুক্ত হতে চান|যারা আসন্ন মহালয়া অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান অথবা জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার চান উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো : লাহা বাড়ির পুজো

ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই|আইনি জটিলতা থাকবে, থাকবে স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ ও থাকবে এবং সবের মাঝেই অনুষ্ঠিত হবে বাঙালির প্রধান উৎসব|অবশ্যই সব নিয়ম কানুন
মেনে|আপনারা হয়তো জানেন আমার গৃহ মন্দিরে মা হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলার পাশাপাশি প্রতি বছরই দেবী দুর্গাও পূজিতা হন নিষ্ঠা সহকারে|এবছরও হবে|পুজোর ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে|পুজোর তোড়জোড় ও পুজো পক্রিয়া পুরোটাই আপনারা দেখতে পাবেন যথা সময়ে|পাশাপাশি প্রতিদিন জ্যোতিষ পরামর্শ ও চলছে অনলাইনে|এতো কিছুর মাঝেই আমি একটি নতুন বনেদি বাড়ির পুজোর কথা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির|আজ লাহা বাড়ির পুজো|

কলকাতার বড়ো পারিবারিক পুজো গুলির মধ্যে এই পুজো অন্যতম|মনে করা হয় বর্ধমানের বড়শূলে প্রথম পুজো শুরু করেন বনমালী লাহা|পরবর্তীতে কলকাতায় এই পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা|এ বাড়ির পুজোর এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা আর বেশ অদ্ভুত এবং আর কথাও চোখে পড়েনা|লাহা বাড়ির কুল দেবতা সিংহ বাহিনী এবং দূর্গা পুজোর সময়ের দেবী দূর্গা সিংহ বাহিনী একই সাথে পূজিতা হন|সিংহ বাহিনী কি করে এবাড়ির কুলদেবী হলো সে নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনা আছে|

শোনা যায় কোনো এক সময় নাকি দেবীর এই মূর্তি কোন এক গভীর জঙ্গলে ডাকাতদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে অনাদরে অযত্নে পড়ে ছিল এই বাড়িরই এক সদস্য দেবীর কাছে স্বপ্নাদেশ মেয়ে মূর্তি উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন, দেবী বড় বিপন্ন। তিনি যত্নে দেবীকে তুলে নিয়ে এসে কুলদেবী রূপে পুজো করতে শুরু করেন|সেই থেকেই অষ্ট ধাতুর সেই মূর্তি কুল দেবী রূপে এবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত|

মনে করা হয় ওই ঘটনার পর থেকে লাহাদের ব্যাপক উন্নত হয়|পরবর্তীতে শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়|এই বাড়ির পুজো হয়ে ওঠে কলকাতার বনেদি বাড়ির বড়ো পুজোগুলোর একটা|

এ বাড়িতে দেবী দুর্গার রূপ অন্য|তিনি এখানে হরপার্বতী রূপের পূজিতা হন|লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা|মহিষাসুর থাকেনা, দেবীর হাতে কোনো অস্ত্রও থাকেনা|লাহাবাড়ির পুজোর রীতিও একটু আলাদা লাহাবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর দুই তিন পড়ে এবং দেবীপক্ষের শুরুতে বোধন হয়|প্রথা মেনে এখানে অন্ন ভোগ হয় না এখানে ভোগের বিশেষত্ব নানা ধরণের মিষ্টি|এখনো বলী প্রথা পুরো পুরি লুপ্ত হয়নি তবে প্রাণী হত্যা হয়না|বলী হয় কুমড়ো বা শসা|বিসর্জন ঘিরেও এবাড়িতে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রথা বিসর্জন দিয়ে ফিরে বাড়ির পুরুষরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘মা আছেন ঘরে’ ? তখন বাড়ির কোনও মহিলা ভিতর থেকে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ মা আছেন।‘ বাইরে থেকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মা আছেন ঘরে ?’ একই উত্তর দেওয়া হয় ভিতর থেকে। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করার পর সবাই ভেতরে প্রবেশ করে|

আজ এখানেই শেষ করছি|জ্যোতিষ পরামর্শ বা মন্দির সংক্রান্ত তথ্য পেতে ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দুর্গা পুজো – রানী রাসমণির বাড়ির পুজো

কলকাতার বনেদি বা জমি দার বাড়ির পুজো গুলির কথা লিখতে গেলে সাধারণত দূর্গা পুজোর জাঁকজমক বা জৌলুস এবং আড়ম্বরের কথাই বেশি লিখতে হয়|কারন সেকালের এই পরিবার গুলোর মধ্যে দূর্গা পুজোকে ঘিরে এক ধরণের রেষারেষি বা প্রতিযোগিতা চলতো, যদিও ভক্তি বা নিষ্ঠার অভাব ছিলো না|তবে এই রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ির পূজা গুলির মধ্যে একটি পরিবার ছিলো যারা বাহ্যিক জাঁকজমক থেকে নিষ্ঠা, সারল্য ও শাস্ত্রীয় আচরণকে বেশি গুরুত্ব দিতো|এই পুজো হতো কলকাতার জান বাজারের রানী রাশমনির পরিবারে|এই পুজোর সাথে জড়িত আছে ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের নাম, রয়েছে অনেক গল্প|আজকের পর্বে রানী রাসমণির পরিবারের পুজো|এই বাড়িতে দূর্গা পুজোর সূচনা করেন এই বংশের প্রাণপুরুষ ও রানী রাসমণির শশুর মশাই শ্রী প্রীতরাম দাস|তার পর পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন পুত্র রাজেন্দ্র দাস এবং স্বামীর অবর্তমানে এই পরিবারের জমিদারি, ব্যবসা এবং দুর্গাপূজার দায়িত্বে আসেন রানী রাসমণি ও তার আমলে পুজোর শ্রী আরও বাড়ল|মনে করা হয় সেই সময়েই পুজোয় খরচ হত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা|একবার বাবুঘাটে কলা বৌ স্নান করাতে যাওয়ার সময় রানী রাসমণির সাথে বিবাদ বাধে এক ইংরেজ সাহেবের|জল অনেক দূর গড়ায় এবং রানীকে পঞ্চাশ টাকা জরিমানাও করা হয়|কিন্তু দমবার পাত্রী ছিলেন না রানী রাসমণি|ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাদের উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলে তিনি এবং আরো বড়ো করে দূর্গা পুজোর আয়োজন করেছিলেন|বেগতিক দেখে পিছু হট তে বাধ্য হয়ে ছিলো ইংরেজরা|আরো একটি মজার ঘটনা ঘটেছিলো একবার এই বাড়ির পুজোয়|সেবার দূর্গা পুজো করতে এসেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ তবে ভিড় এড়াতে তিনি এক নারীর ছদ্মবেশ ধারন করেছিলেন|সখি বেশে চামর দুলিয়ে দূর্গাপুজো করেছিলেন রামকৃষ্ণদেব এবং জগদ্ধাত্রী পুজো অবধি তিনি এই বাড়িতেই ছিলেন|পুজো উপলক্ষে রানী রাসমণির পরিবারে কখনো বাই নাচ বা খানা পিনার আসর বসেনি সেই ভাবে তবে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে মাতৃ শক্তির আরাধনার জন্য এই বাড়ির সুনাম ছিলো|পরবর্তীতে রানী রাসমণির জামাতা মথুর বাবু এই পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন|বংশ পরম্পরায় সেই ঐতিহ্য আজও চলে আসছে|আজও এখানে সমান ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হয়|বাড়ির লোকেরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে সারা বছরই বিরাজ করেন|শোনা যায় এক কালে নাকি মধ্য রাত্রে, বাড়ির ঠাকুর দালানে দেবীর পায়ের নুপুরের শব্দও শোনা যেত|রাসমণি বাড়িতে কাঠামো পুজো হয় রথের দিন|প্রতিপদথেকে ঘরে পুজো শুরু হয়। ষষ্ঠীর দিন হয় বোধন এবং বেলবরণ। ওইদিনই দেবীর হাতে অস্ত্র দিয়ে গয়না পরানো হয়|সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী এই তিনদিনই কুমারী পুজো হয়|এক কালে বলী প্রথা থাকলেও বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকবছর|প্রথা মেনে এ বাড়িতে ভোগে দেবীকে লুচি ও পাঁচরকম ভাজা অর্পণ করা হয় আর থাকে নানা রকম মিষ্টি|থাকবে বনেদি বাড়ির পুজো, থাকবে থিম পুজো আর তার পাশাপাশি মহালয়া অমাবস্যা তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো ও দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা থাকবে|নজর রাখুন মন্দিরের ওয়েবসাইট এ আর আমার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট গুলির দিকে|জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজা : দাঁ পরিবারের পুজো

দুর্গোৎসব এর এই পুন্য সময়ে আমি চেষ্টা করছি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে আমাদের বাংলার তথা কলকাতার এক হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস যে ইতিহাসের সাথে যুক্ত রয়েছে অসংখ্য গল্প ও ঘটনা|শুরু করলাম কলকাতা দিয়ে পরবর্তীতে জেলার ঐতিহাসিক ও বনেদি পুজোর কথাও লিখবো আজ বনেদি বাড়ির পুজোতে বলবো দাঁ পরিবারের পুজোর কথা|

সেকালের কলকাতায় দূর্গা পুজো কে ঘিরে একটি প্রবাদ প্রচলিত ছিলো যে দেবী মর্ত লোকে পা রেখে প্রথমে সাজতে আসেন দাঁ বাড়িতে তার পর এখান থেকে অন্য কোথাও যান|কেনো এই প্রবাদ সৃষ্টি হলো তার পেছনেও একটি কারন আছে|সে বিষয়ে পড়ে আসছি আগে আগে এই এই পরিবার দুর্গাপূজার প্রচলন নিয়ে কয়েকটা কথা জানিয়ে রাখি|

কালী প্রসন্ন সিংহ তার বিখ্যাত হুতোম পেঁচার নকশা গ্রন্থে এই পরিবার সম্পর্কে অনেক তথ্যই দিয়েছেন|এই বংশের প্রতিষ্ঠা ও দূর্গা পুজোর প্রচলন করেন এই বংশের গোকুলচন্দ্র দাঁ সময় টা খুব সম্ভবত 1840 সাল| তিনি পরবর্তীতে শিবকৃষ্ণ দাঁ কে দত্তক নেন|এই শিব কৃষ্ণ দাঁ এর আমলে এই পরিবারের ও তাদের দূর্গা পুজোর নাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র|পারিবারিক লোহা, কয়লা আর হার্ডওয়ারের ব্যবসায় প্রভূত লাভ করেন তিনি এবং লাভের একটা বড়ো অংশ ব্যয় করেন নিজের সৌখিনতা ও পরিবারের দূর্গা পুজোয়|শোনা যায় শিবকৃষ্ণ দাঁ সাজগোজ করতে বড় ভালবাসতেন এবং দূর্গা পুজোয় দেবীর রূপ সজ্জায় তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন|

তার আমলে তিনি ফ্রান্স এবং জার্মানি থেকে বিশেষ কাজ করা অলঙ্কার ও পোশাক আনালেন ঠাকুরকে পরানোর জন্য|সোনা রুপো ও মূল্যবান রত্ন দিয়ে তৈরী পোশাকs ও গয়নায় দেবীকে সাজানো হতো|

আর একটি মজার ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়|শোনা যায় জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির সঙ্গে ছিলো এই দাঁ পরিবারের খুব রেষারেষি তাই তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ঠাকুরবাড়ির সামনে দেবীকে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তারপর গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হতো বিসর্জনের জন্য|

সেই রাজা আর নেই, রাজত্বও নেই|সবই ধূসর অতীত|তবু দাঁ বাড়িতে পুজো হয়|দেবীর সেই বিখ্যাত সাজ আজও হয়|এখানে রথের দিন গড়ানকাঠ পুজোর মধ্য দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় এবং জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামোতে দেবীর মস্তক স্থাপন করা হয়|এ বাড়ির রীতি অনুসারে
দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় তেরোটি শাড়ি ও তেরোটি কাঁসার পাত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও একশো আটটি পেতলের প্রদীপ সাজানো হয়|এখানে বলী প্রথা নেই কারন পুজো হয় বৈষ্ণব মতে|কুমারী পুজোও এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট|

আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|
ফিরবো আগামী পর্বে|মহালয়া অমাবস্যা এবং আগামী দিনের বিশেষ তিথি গুলিতে বিশেষ পুজোর ও গ্রহদোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকবে|সবাইকে আসন্ন দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজার : ছাতু বাবু লাটু বাবুর দূর্গা পুজো

আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি তারপর শুরু হয়ে যাবে দুর্গোৎসব, যে উৎসবের জন্য সারাটা বছর অপেক্ষা করে বসে থাকেন প্রতিটা বাঙালি|এবছর দূর্গা পুজোয় নিশ্চই কিছু স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ থাকবে কিন্তু তবু পুজো কে ঘিরে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েনি|যদিও আজ কাল থিম পুজোর ভিড়ে দূর্গা পুজোর আসল অন্তর্নিহিত অর্থ বা শাস্ত্রীয় আচার অনেকটাই ম্লান তবুও ব্যতিক্রম আছে|আজও বাংলার বহু জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ি সহ একাধিক বনেদি বাড়িতে নিষ্ঠা সহকারে, শাস্ত্রীয় মতে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়|এই সব পুজোর রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং এক গৌরবময় ইতিহাস|আজ থেকে এক নতুন ধারাবাহিক লেখনী শুরু করছি যেখানে পর্বে পর্বে এই সব বনেদি বাড়ির পুজোর কথা লিখবো|আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে এই পর্ব গুলি|আজ প্রথম পর্বে কলকাতার ছাতু বাবু লাটু বাবুর বাড়ির পুজো|আজকের বিডন স্ট্রিটে রয়েছে একটি প্রাচীন ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা যার পোশাকি নাম রামদুলাল নিবাস|এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা রাম দুলাল দে ছিলেন|পুরোনো কলকাতার বাবু সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র|শোনা যায় তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম লাখপতি|তিন ব্রিটিশ আমলে আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করে এই অগাধ সম্পত্তি করেছিলেন|তিনিই প্রথম এই বাড়িতে দূর্গা পূজা শুরু করেছিলেন|তার অবর্তমানে তার দুই পুত্র আশুতোষ দেব ওরফে ছাতুবাবু এবং প্রমথনাথ দেব ওরফে লাটুবাবুর সময়েই এই পুজো বিখ্যাত হয়|প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যায় করে ও ব্যাপক ধুম ধাম করে দূর্গা পুজো হতো এই বাড়িতে|দূর্গা পূজা উপলক্ষে প্রায় গোটা কলকাতার নিমন্ত্রণ থাকতো এই বাড়িতে|পুজোর সময় যাত্রা হত এমন কি বাঈ নাচের আসর ও বসতো|সেই পুরোনো জৌলুস আর নেই তবু নিষ্ঠা সহকারে সকল প্রথা মেনে দূর্গা পুজো হয়|রথের দিন কাঠামো পুজোর পর প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো|এখানে শুরুর দিন থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত গৃহদেবতা শালগ্রাম শিলার পুজো করা হয় এবং তৃতীয়াতে দেবীকে আসনে বসানো হয়|এই বাড়িতে শাক্ত শৈব এবং বৈষ্ণব তিনটি মতেই পুজো হয়|উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই বাড়ির পুজোয় দেবীর পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী থাকেন না এবং পদ্মের উপর থাকেন মা দুর্গার দুই সখী জয়া আর বিজয়া|শোনা যায় এককালে এখানে পশু বলীও দেয়া হতো কিন্তু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলী প্রথা বন্ধ হয়ে যায় বহু কাল আগে|বলা হয় একবার বলি দেওয়ার সময় পাঁঠাটি ছুটে চলে আসে সামনে দাঁড়ানো রামদুলাল দের কাছে। সেই থেকে এই পুজোয় পাঁঠাবলি বন্ধ হয়ে তার বদলে এখন আঁখ, চালকুমড়ো, শসা বলি হয় পুজোর তিন দিন|এছাড়া এখানে কুমারী পুজোও হয় নিষ্ঠা সহকারে|আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে পরের পর্বে অন্য কোনো জমিদার বাড়ি বিক্রি রাজবাড়ির পূজার কথা নিয়ে ফিরে আসবো|কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন আর যারা আসন্ন মহালয়া অমাবস্যা বা নবরাত্রির পবিত্র সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ এবং গ্রহ দোষ খণ্ডনের কথা ভাবছেন অবশ্যই যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র – পরশুরামের কুঠার

দেবতাদের নানাবিধ অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আগেও লিখেছি আজ পরশুরাম ও তার কুঠারের কথা বলবো|হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী শান্তি আনতে ধরিত্রিকে ২১ বার ক্ষত্রিয়শূন্য করেছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম মাতৃ হত্যার জন্যও তিনি আলোচিত|তার কর্ম কাণ্ডের সাথে জড়িত তার বিখ্যাত কুঠার|জমদগ্নির ঔরসে রেণুকার গর্ভে পাঁচ পুত্রের মধ্যে পরশুরাম ছিলেন কনিষ্ঠ।জমদগ্নি একবার নিজ স্ত্রীর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে পুত্রকে মাতৃ হত্যার আদেশ দিলেন|পরশুরাম পিতৃ আজ্ঞা পালন করেন ও কুঠার দিয়ে মাতৃহত্যা করলেন এই পাপে তার কুঠার তার হাতে সংযুক্ত হয়ে যায়|পরবর্তীতেপুত্রের কাজে জমদগ্নি খুশি হয়ে তাকে বর প্রার্থনা করতে বলেন এবং অন্য সন্তানদের অভিশাপ দেন। পরশুরাম মায়ের পুনর্জন্ম, মাতৃহত্যাজনিত পাপ ও মাতৃহত্যা স্মৃতি বিস্মৃত হওয়া, ভাইদের জড়ত্বমুক্তি, নিজের দীর্ঘায়ু ও অজেয়ত্বের বর প্রার্থনা করেন। জমদগ্নি তাঁকে সবগুলো বরই প্রদান করেন এবংব্রহ্মকুণ্ডে স্নান করার পর হাত থেকে কুঠার বিচ্ছিন্ন হয়েছিল পরশুরামের|ক্ষত্রিয়দের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে একুশবার পৃথিবী নিঃক্ষত্রিয় করেছিলেন। ক্ষত্রিয়দের রক্ত দিয়ে সমস্তপঞ্চক প্রদেশের পাঁচটি হ্রদ পূর্ণ করেন তিনি।তার সব কর্মকান্ড সম্পাদিত হয়েছিলো তার অস্ত্র কুঠারের মাধ্যমে|পরশুরাম ও তার কুঠার যেনো বীরত্বের প্রতিশব্দ|সনাতন ধর্ম শাস্ত্র গুলিতে অন্যতম আলোচিত ও শক্তিশালী অস্ত্র পরশুরামের কুঠার|আগামী পর্বে নতুন কোনো অস্ত্র নিয়ে আলোচনা করবো|পড়তে থাকুন যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত নিয়ে আসতে পারেন চেম্বারে অথবা অনলাইনে |যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য : কলকাতার বৌদ্ধ মন্দির

কলকাতায় কালী মন্দির, শিব মন্দির, দূর্গা মন্দির রয়েছে অসংখ্য যার কয়েকটির কথা আপনাদের ইতিমধ্যে বলেছি|আজ একটি বৌদ্ধ মন্দিরের কথা বলবো যা স্বাধীনতার আগে থেকেই রয়েছে এই কলকাতায়, অসংখ্য বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের আস্থার স্থান এই মন্দির রয়েছে দক্ষিণ কলকাতায়|নিপ্পনজান মায়োহোজি নামের জাপানি বুদ্ধ মন্দিরটি দক্ষিণ কলকাতার লেক রোডে অবস্থিত| এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩১ সালে। এটি স্থাপিত হয়েছে বৌদ্ধধর্মের নিপ্পনজান মায়োহোজি বা নিপ্পনজান-মায়োহাজি-ডাইসাঙ্গা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুসরণে। বৌদ্ধধর্মের এই ভাগটি চালু হয় ১৯১৭ সালে।মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনেকটা এই রকম ১৯৩১ সালে নিচিদাৎসু নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী কলকাতায় আসেন নিপ্পনজান-মায়োহাজি-ডাইসাঙ্গা ভাবধারা প্রচার করতে শুরু করেন। মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৩৫ সালে।মন্দিরে ঢুকলেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করা যায়, ফুলের বাগান, ঘন্টা ধ্বনি, বৌদ্ধ মন্ত্র, প্রার্থনা কক্ষের বিশাল বেদীতে বিরাজমান শ্বেত পাথরের বুদ্ধ,সব মিলিয়ে মনে হবে যেনো কোনো সুদূরে বৌদ্ধ গুম্ফায় এসে পড়েছেন|পূর্ণিমার রাতে মন্দিরের সৌন্দর্য যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে|ঠাকুর বলতেন যত মত ততো পথ, এই সত্য উপলব্ধি করতে ও বুদ্ধের স্মরণে যেতে একবার ঘুরে আসতেই পারেন এই বৌদ্ধ মন্দিরে|ভালো থাকুন পড়তে থাকুন|প্রয়োজন পোস্টে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করুন|ধন্যবাদ|

পুরান রহস্য – শ্রী কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী

আজ আবার পুরান রহস্যর একটি নতুন পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনের উপস্থিতি|আজ শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরী নিয়ে লিখবো|যদিও বিষয়টি নিয়ে ইউটিউবে একটি অনুষ্ঠান করেছি আজ ফেসবুকের পাঠকদের জন্যে আরো একবার এই উপস্থাপনা|

শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের ঘটনা আমরা অনেকেই জানি|কংস মৃত্যুর পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। কিন্তু ১৭ বার মথুরা আক্রমণের পরও জরাসন্ধ মথুরা জয় করতে ব্যর্থ হন। তবে এই ১৭ বার আক্রমণে মথুরার অধিবাসী যাদবরা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষ্ণ যখন বুঝতে পারেন জরাসন্ধ আর একবার আক্রমণ করলে তারা আর তা প্রতিরোধ করতে পারবেন না, তখন তিনি তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী|

দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় তার তার আশ্রিত ও পরিবার নিয়ে বাস করতে শুরু করেন|

পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো। গোটা নগরীটি ছিল জলবেষ্টিত। এটি ছিল মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।

কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এ দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শেষের দিকে তিনি ভাল্কা তীর্থের এক বনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত এক শিকারীর তীর বিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|মহাভারতে উল্লেখ আছে, কৃষ্ণের মৃত্যুর ৩৬ বছর আগে নাকি সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছিল দ্বারকা।

যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে এক সূত্রে|দ্বারকা নগরী নিয়ে রহস্যর শেষ নেই, শেষ নেই পুরান রহস্যর|আবার আগামী পর্বে নতুন রহস্য নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন|প্রয়োজনে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|