ভারতের সাধক – মহাবতার বাবাজি

312

ভারত আধ্যাত্মিকতার দেশ, সনাতন সংস্কৃতির দেশ আর এই দেশের মহান আধ্যাত্মিক পরম্পরাকে যুগ যুগ ধরে বহন করে নিয়ে চলেছে ভারতের অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন সাধু সন্ত বা যোগী পুরুষরা|হাজার হাজার বছরের শাস্ত্র সম্মত জ্ঞান কে সম্বল করে তারা এক আধ্যাত্মিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন যা আজও পাশ্চাত্য জগতের কাছে এক বিস্ময়| হিমালয়ের বরফাবৃত গুহা থেকে শুরু করে বেনারসের গঙ্গার ঘাট, সর্বত্র চোখে পড়ে সাধু সন্ন্যাসী,তবে কেউ কেউ আছেন যাদের জীবন ও সাধনা আজ গবেষণা ও চর্চার বিষয়,সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে তাদের অনুগামী, ভক্ত, শিষ্য|কিন্তু দুর্ভাগ্যর বিষয় দেশের মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের খবর রাখেন না সেই ভাবে,বর্তমান প্রজন্ম তাদের নামের সাথে পরিচিত হলেও তাদের সঠিক মূল্যায়ন হয়ে ওঠেনি এখনো|এই বিশেষ ধারাবাহিক লেখনীর একেকটা পর্বে আমি বলবো এক এক জন মহান সাধকের কথা,তুলে আনবো তাদের জীবনের নানা অজানা কথা|আজ প্রথম পর্বে ভারতের অন্যতম রহস্যময় ও মহানতম যোগী পুরুষ ” মহাবতার বাবাজি “

সাধনার জোরে অমরত্ত্ব লাভ করেছেন এমন নজির খুব কমই আছে জগতে, মহাবতার বাবাজি এমনই একজন সিদ্ধ যোগী|তাকে বলা হয় গুরুদের গুরু বা জগৎ গুরু|ক্রিয়া যোগের তিনি প্রান পুরুষ|ধ্যান, আধ্যাত্মিকতা ও আসন কে তিনি এক সূত্রে গেথেছেন কয়েক হাজার বছর আগে|পরবর্তীতে তার পথ অনুসরণ করে আধ্যাত্মিক পথে এগিয়েছেন তার সুযোগ্য শিষ্যরা যার মধ্যে শ্যামাচরণ লাহিড়ী, যুক্তেশ্বর গিরি, পরমহংস যোগানন্দ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য|

মহাবতার বাবাজি কে নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য গল্প, কিংবদন্তি ও রহস্য|কেউ কেউ মনে করেন ক্রিয়া যোগের মাধ্যমে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন|কঠোর সাধনার মাধ্যমে তিনি সময় কে জয় করে জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেছেন এবং আশ্চর্য জনক ভাবে হাজার হাজার বছর ধরে স্বশরীরে বিরাজ করছেন এই পৃথিবীতে| একাধিক বার তার সাক্ষাৎ লাভ করে ধন্য হয়েছেন একাধিক সাধক|শোনা যায় হিমালয়ের এক দুর্গম স্থানে শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয় কে দীক্ষা দিয়েছিলেন স্বয়ং মহাবতার বাবাজি|পরমহংস যোগানন্দ তার ” অটো বায়োগ্রাফি অফ এ যোগী ” বইয়ে তার মহাবতার বাবাজির দর্শনের কথা বলেছেন|একাধিক বার সামনে এসেছে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে তার রহস্যময় উপস্থিতির কথা|

বাবাজির জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না তবে মনে করা হয় তামিলনাড়ুর কোনো গ্রামে তার জন্ম হয়েছিলো, তার সঠিক বয়স নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে|কারুর মতে 5000 তো কারুর মতে 2000 বছরের কিছু বেশি তার বয়স|যোগ বলে তিনি তারুণ্য কে ধরে রেখেছেন তাই দেখলে মনে হয় এক যুবক|বাবাজির ইচ্ছে না থাকলে তাকে দর্শন করা যায়না|তিনি ঝড়ের গতিতে প্রকট হন আবার মহাশূন্যে মিলিয়ে যান|একটি প্রচলিত বিশ্বাস মতে হিমালয়ের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে রয়েছে জ্ঞানগঞ্জ নামে এক রহস্যময় মঠ, যেখানে সিদ্ধ পুরুষ ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেনা, বাবাজির সেই মঠেই থাকেন, শুধু তাই নয় তিনি জ্ঞান গঞ্জের আচার্য|সুক্ষ দেহে তিনি সর্বত্র বিচরণ করেন আবার প্রয়োজন হলে নিজ দেহ ধারন করে প্রকট হন, তবে তার দর্শন করে অতি দুর্লভ ঘটনা, এবং সৌভাগ্যর হাতে গোনা কয়েকজন আজ অবধি তার দর্শন করতে পেরেছেন|

কিছু রহস্য হয়তো আজীবন রহস্যই থাকবে|তবে আমিও চেষ্টা চালিয়ে যাবো এরকম রহস্যময় সাধক দের এক এক করে আপনাদের সামনে আনতে, দেখা হবে পরের পর্বে অন্য কোনো সাধককে নিয়ে আলোচনা হবে|মনে রাখবেন আমরা এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি, সামনেই ঝুলন ও রাখি পূর্নিমা, এই সময় কোনো প্রকার জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ বা গ্রহ দোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে জীবনে, তাই আর দেরি করবেন না|প্রয়োজন মনে কোরলে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে আর সরাসরি কথা বলবেন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ