পৌরানিক অসুর কথা – ভষ্মাসুর

929

আমাদের পুরান তথা অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থে বর্ণিত সর্বাধিক আলোচিত, জনপ্রিয় এবং রোমাঞ্চকর বিষয় হলো দেবাসুর দ্বন্দ|একদিকে যেমন আছেন প্রবল পরাক্রমী দেবতারা অন্যদিকে তেমন আছেন একাধিক শক্তিশালী অসুর|দেবতাদের কথা আমি বহু ভাবে লিখি, আলোচনা হয়, আপনারাও আপনাদের মতামত জানিয়ে সমৃদ্ধ করেন আমাকে|কিন্ত এবার দেবতাদের পাশাপাশি লিখবো অসুরদের নিয়ে, সম্পূর্ণ নতুন এই ধারাবাহিক লেখনীতে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে থাকবেন কিছু বলশালী অসুর যাদের কথা হয়তো আমরা আগে শুনেছি কিন্তু অন্য আঙ্গিকে|আজকের পর্ব শুরু করার আগে অসুর সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|

আসলে যেকোনো ধর্মে বা সংস্কৃতিতে শুভ ও অশুভ শক্তির এক চীরপরিচিত দ্বন্দ আমরা দেখতে পাই|সহজ করে বললেন দিন থাকলে রাত থাকবেই আবার আলো থাকলে অন্ধকার থাকবেই তেমনই সনাতন ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে রয়েছেন দেবতারা তেমনই অশুভ শক্তি বা ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতীক রূপে রয়েছেন অসুররা|এটাই সৃষ্টির নিয়ম|এভাবেই চলে আসছে বিশ্ব ব্রম্হান্ড আদি অনন্ত কাল ধরে|তবে গোড়া থেকেই অসুর মানেই অশুভ বা ক্ষতিকারক শক্তি ছিলোনা|বেদের প্রথম খন্ডে অসুর শব্দ প্রশংসা সূচক ছিল|অসুর শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো বীর যোদ্ধা|সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে দেবাসুর মৈত্রীর কোথাও জানা যায় বহু প্রাচীন শাস্ত্র থেকে|পরবর্তীতে ক্ষমতা বিস্তারের উদ্দেশ্যে শুরু হয় দেবাসুর সংগ্রাম এবং এই সময় থেকে ধীরে ধীরে অসুররা পরিনত হয় অন্ধকারের প্রতীকে|অন্য দিকে বেদ শাস্ত্র এবং যজ্ঞ কে অবলম্বন করে দেবতারা হয়ে ওঠেন সর্বশ্রেষ্ঠ|

এই ধারাবাহিক লেখার একেকটি পর্বে আমি আলোচনা করবো এক এক জন অসুরকে নিয়ে, জানবো তার সাথে জড়িয়ে থাকা পৌরানিক ঘটনাবলী ও তার ব্যাখ্যা|আজ প্রথম পর্বে জানবো ভস্মাসুরের কথা|

দেবাদিদেব মহাদেবে শুধু দেবতাদের আরাধ্য দেবতা নন তিনি ভূত প্রেত অসুর দৈত্য দেরও আরাধ্য দেবতা|এই দেবাদিদেব মহাদেবকে তপস্যায় তুষ্ট করে অমরত্বের বর চেয়ে বসলেন এক অসুর তার নাম ভস্মাসুর|কিন্তু অমরত্ব প্রদান করা সম্ভব নয় তাই মহাদেব অন্য বর চাইতে বললেন|ভষ্মাসুর চাইলেন যার মাথায় সে হাত রাখবে সেই যেনো ভষ্ম হয়ে যায়|হাসি মুখে বরদান করলেন মহাদেব|বর পেয়ে তার প্রথম শিকার হিসেবে ভস্মাসুর স্বয়ং মহাদেবের মাথায় হাত রাখতে চাইলেন|কোনো ক্রমে সেই স্থান ত্যাগ করলেন মহাদেবে কিন্তু তার পিছু নিলেন ভষ্মাসুর|অবশেষে বিষ্ণুর স্মরণ নিলেন মহাদেব|

বিষ্ণু মোহিনী অবতারে ভষ্মাসুরের সম্মুখে অবতীর্ন হলেন মোহিনীর রূপে মুগ্ধ হয়ে ভষ্মাসুর তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন|শর্ত হিসেবে নারী রুপী বিষ্ণু ভষ্মাসুরকে তার সাথে নৃত্যে অংশ নিতে বাধ্য করলেন|নৃত্যরত ভষ্মাসুর সবকিছু ভুলে হটাৎ নিজের মাথায় হাত রেখে বসলো|ব্যাস ফলে গেলো মহাদেবের বর|ভষ্ম হলেন ভষ্মাসুর এবং সে যাত্রায় রক্ষা পেলেন মহাদেব|

আরকেটি পৌরানিক ব্যাখ্যা অনুসারে বিষ্ণুর মোহিনী অবতার ভষ্মাসুর কে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নদীতে স্নান করে পবিত্র হয়ে আসতে বলেন|স্নান কালে ভুল বসত মাথায় হাত দিয়ে নিজেকে নিজে ভষ্ম করে ফেলে ভষ্মাসুর|প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় এই মোহিনী অবতার ও শিবের একটি বরপুত্র আছেন যার নাম আয়াপ্পা|দক্ষিণ ভারতে ইনি খুবই জনপ্রিয় এবং কার্তিক রূপে পূজিত হন|

আমাদের পুরানে অসংখ্য বার এমন দেবাসুর দ্বন্দ্ব বেঁধেছে এবং অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছে শুভ শক্তি|রক্ষা পেয়েছে স্বর্গ মর্ত সহ গোটা সৃষ্টি|সেই সব গল্প এক এক করে আপনাদের সামনে আনবো আগামী পর্বগুলিতে|পড়তে থাকুন আমার লেখা গুলি এবং জোতিষ সংক্রান্ত পরামর্শ বা প্রতিকারের জন্য সরাসরি উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে কথা বলতে পারেন আমার সাথে|জয় মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার জয়|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|