মহিষাসুর মর্দিনী দেবী দূর্গা

647

মহালয়া মানে পুজোর আর দেরি নেই, মহালয়া মানে মা আসছে কৈলাস ছেড়ে, সপরিবারে|এই মহালয়া হলো পিতৃ পক্ষের শেষ ও দেবী পক্ষের শুরু|মহালয়ার ঠিক আগেই মহিষাসুর কে নিয়ে লিখেছি, লিখেছি শুম্ভ নিশুম্ভ, চন্ডমুন্ড ও রক্ত বীজের কথা|জেনেছি দেবী কিভাবে একাধিক রূপে আবির্ভুত হয়ে এই ভয়ঙ্কর অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন ও তাদের বধ করলেন|মহিষাসুর বধের পূর্বে দেবীর সকল রূপ একত্রিত হয়ে মিলিত হয়েছিলো মহিষাসুরমর্দিনী রূপে|দেবীর এই দশ ভুজা রূপই আমরা বাঙালিরা পূজা করি এই দুর্গা পূজায়|আজ জানবো এই রূপের মাহাত্ত্য ও তার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|

ব্যাকরণগত ও উৎপত্তিগত ভাবে বিশ্লেষণ করলে দূর্গা শব্দের অর্থ হয় যা দুর্গতি নাশ করে বা যা বিঘ্ন নাশ করে|আবার শাস্ত্র মতে দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা”। অর্থাৎ, যিনি দুর্গ নামে অসুরকে বধ করেছিলেন, তিনি দূর্গা|একাধিক পুরানে এই অসুর দুর্গম ও দেবী দুর্গার যুদ্ধের কথা উল্লেখিত আছে|আবার শ্রী শ্রী চণ্ডী অনুসারে শ্রীশ্রীচণ্ডী অনুসারে সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি দুর্গা|

দূর্গা শব্দের তাৎপর্য ব্যাখ্যার পর দেবী দুর্গার স্বরূপ সম্পর্কে বলা যায় একাধিক পুরান ও দেবীমাহাত্ম গ্রন্থ থেকে তার একাধিক রূপ ও বৈশিষ্ট লখ্য করা যায়|দুর্গা মূলত শক্তি দেব আবার তিনি জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, বনদুর্গা, চণ্ডী, নারায়ণী প্রভৃতি নামে ও রূপে পূজিতা হন|মৎস্যপুরাণ, মার্কণ্ডেয় পুরাণ, দেবীপুরাণ, কালিকাপুরাণ ও দেবী ভাগবত পুরানে দুর্গার রূপ ও ধর্মীয় তাৎপর্য বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে|দেবী দূর্গা একাধারে শাক্তদের প্রধান আরাধ্য দেবী, পাশাপাশি তিনিই বৈষ্ণবদের আরাধ্য শ্রী বিষ্ণুর অনন্ত মায়া, আবার দেবী দূর্গাই শৈবদের আরাধ্য শিবের অর্ধাঙ্গিনী পার্বতী|

দেবীর দশ ভুজা মহিষাসুর মর্দিনী রূপটিও বিশেষ তাৎপর্য পুর্ন|দেবীর দশ টি হাত ক্ষমতার বিস্তারকে নির্দেশ করে|দেবীর বাহন সিংহ তেজ ও পরাক্রমের প্রতিক|দেবীর সাথে পরাজিত মহিষাসুর আসলে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়লাভের প্রতীক রূপে ব্যবহিত হয়|দেবী শুধু একা নন আরো অনেক দেবদেবী সহ সপরিবারে পূজিত হন এর ফলে এক সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ হয় দেবী দুর্গার পুজোর মাধ্যমে|দুর্গাপূজা এই ভাবে একটি মহাশক্তির পূজায় পরিণত হয়|

প্রাচীন বাংলায় শুরু হয় দুর্গাপূজা মূলত বনেদি জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ীর পূজা হলেও পরবর্তীতে তা বারোয়ারি পূজার রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পরে গোটা বাংলায়|আজ থিম পুজোর জৌলুসে সেই সাবেকি পূজার গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা কিছুটা ম্লান হলেও শাস্ত্রমতে নিষ্ঠা সহকারে এখনো বহু গৃহে দুর্গাআরাধনা হয়ে আসছে|

আগামী দিনে দূর্গাপূজা কে কেন্দ্র করে আরো কয়েকটি পর্ব হয়তো লিখতে হবে, বলতে হবে আরো কয়েকটি তাৎপর্যপুর্ন ধর্মীয় বিষয় নিয়ে|তবে এই বিশেষ পর্বে আজ এতটাই|যারা আগামী দিনে হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সাথে যুক্ত হতে চান, বা কেনো রকম জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|এই উৎসবের দিন গুলিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কাজে লাগান|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|