Home Blog Page 97

দেবী মাহাত্ম – বালুরঘাটের বুড়া কালীমাতা

ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত দেবী মাহাত্মা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দিয়েছি। কারনদেবী মাহাত্ম শোনার ও বলার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।যারা শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডন করিয়ে প্রতিকার চান তাদের জন্যও এই তিথি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।আজ আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি আলোচনাআজকের পর্বে বালুরঘাটের বুড়া কালী মাতা।দক্ষিণ দিনাজপুরের শতাব্দী প্রাচীন কালী ক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম হল বালুরঘাটের এই বুড়া কালীর পুজো।শোনা যায় কয়েকশো বছর আগে বর্তমান বালুরঘাট বুড়া কালী মাতার মন্দিরের পাশ দিয়ে নাকি আত্রেয়ী নদী বইত। মন্দির ও বাজারের জায়গায় ছিল ঘন জঙ্গল। সেই সময়ে দস্যু ও বন্যা প্রাণীরা শাসন করতো এই এলাকা শতাব্দী প্রাচীন পুজো হলেও এর সঠিক বয়স কত তা কেউ বলতে পারে না।জনশ্রুতি আছে এই কালী ক্ষেত্রর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রেয়ী নদীর ধারে নিজে থেকেই নাকি ভেসে ওঠে বুড়া কালী মাতার বিগ্রহ যা মূলত একটি শিলা খন্ড। স্থানীয় এক ত্রান্তিক সেই সময় ওই বিগ্রহকে তুলে নিয়ে এসে পুজো শুরু করেন । তারপর থেকেই শুরু হয় বুড়া কালী পুজো।প্রথমে টিনের ঘেরা দিয়ে বুড়া কালী মাতার পুজো শুরু হলেও বর্তমানে বিশাল আকার মন্দিরের পুজিত হন বুড়া কালী মাতাশোনা যায় কলকাতার রানি রাসমণি এই মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। বজরায় করে এসে তিনি আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে এসে মায়ের পুজো দিয়ে আবার ফিরে যেতেন কলকাতায়। যদিও তার কোনো প্রামান্য তথ্য প্রমান নেই। সবটাই জনশ্রুতি।বহু অলৌকিক অভিজ্ঞতাও নাকি হতো এখানেসন্ধ্যের পর নাকি অপরূপ ফুলের সুগন্ধি পাওয়া যেত এই এলাকা থেকে। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কোনও জঙ্গল বা গাছপালা ছিল না। শোনা যেত নুপুরের আওয়াজ।সব মিলিয়ে এই স্থান বেশমায়াবী এবং পরিবেশ বেশ রহস্য ময়।পুজোতে এখন শোল মাছ বলি হয়। জনশ্রুতি আছে আগে নাকি ২০ কিলো ওজনের শোল মাছ বলি দেওয়া হত। প্রতি অমাবস্যায় বড়ো করে পুজোর আয়োজন করা হয়।পুজোর দিন মায়ের মূর্তিতে সারা গায়ে সোনা থেকে রুপোর অলঙ্কারে সুসজ্জিত থাকে। পুজোকে ঘিরে পুজোর দিন কয়েক হাজার ভক্তগনের সমাগম হয় পুজো প্রাঙ্গনে।সমগ্র জেলার মানুষের কাছে বুড়া কালী মাতা খুব শ্রদ্ধার এবং জাগ্রত দেবী। তার কাছে মনোস্কামনা নিয়ে আসেন অসংখ্য মানুষ। দেবী বুড়া কালী কাউকে খালি হাতে ফেরাননা বলে কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি মন্দির রহস্যর নতুন পর্ব নিয়েও ফিরে আসবো শিগ্রই। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পারিবারিক কালী পুজো

বাংলার ইতিহাসের নানা ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে এক রাজার নাম তিনি নদীয়া তথা কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র। বাঙালির দূর্গা পূজা বা জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা লগ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। আবার মহারাজার পরিবারের উত্তরসূরিরা বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন। আজকের পর্বে লিখবো মহা রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারের কালী পুজো নিয়ে।কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর খুব কাছে আনন্দময়ীতলা নামে একটি স্থান রয়েছে। পাশের রাস্তাটির নামও আনন্দময়ী রোড। সবই আসলে রাজ পরিবারের পূজিতা কালী দেবী আনন্দময়ীর নামে।দেবীর পুজো শুরু করেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র মহারাজা গিরিশচন্দ্র। তথ্য অনুসারে ১৮০৪ সালে মা আনন্দময়ীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।শোনা যায় গিরিশ চন্দ্র রায় তন্ত্রসাধক ছিলেন। তন্ত্র মতে তিনি এখানে পুজো করতেন। এবং নানা রকম তন্ত্র সাধনা করতেন। তার অবর্তমানে রাজ পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সেই পরম্পরা আজও সমান ভাবে চলছে।কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে আনন্দময়ী মায়ের পুজোর রয়েছে কিছু বিশেষত্ব যেমন এখানে আনন্দময়ী মাকে মাছের আঁশ হলেও দিতে হয় ভোগে।শুধু আঁশ নয় মা আনন্দময়ীকে ভোগে রোজ মাছ দেওয়া আবশ্যক।শোনা যায় আনন্দময়ীর রূপ স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজা গিরিশচন্দ্র রায়।সেই রূপেই স্থাপিত হয় আনন্দময়ী মা।দক্ষিণমুখী এই মন্দিরে গর্ভগৃহে হাঁটু মুড়ে যোগাসনের শুয়ে আছেন মহাদেব। মহাদেবের বুকের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন মা আনন্দময়ী। মহাদেবের বিগ্রহটি শ্বেত পাথরে নির্মিত এবং দেবী আনন্দময়ীর বিগ্রহটি কষ্টিপাথরে নির্মিত। প্রায় সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি উঁচু এই দেবীর মূর্তি চতুর্ভূজা।এছাড়াও মন্দিরে রয়েছে ছোট কালী মূর্তিদেবী শীতলা ও অন্যান্য দেবদেবী বিগ্রহ। জন শ্রুতি আছে যে বর্তমানে যেখানে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেখানে আগে ছিল প্রকাণ্ড একটি কষ্টিপাথর এবং সেই পাথরের নির্মিত হয়েছে মহারাজের স্বপ্নে দেখা আনন্দ ময়ী মায়ের মূর্তি । বর্তমানে শুধু রাজ পরিবার নয় সমগ্র জেলা তথা বাংলা থেকে মায়ের ভক্তরা আসেন।সবার বিশ্বাস মা আনন্দময়ীর কাছেযদি কোনও ভক্ত অন্তর থেকে কিছু প্রার্থনা করেন তাঁর মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়ই।আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যায় আপনাদের সব আশা পূর্ণ হবে।শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করান এবং সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে উঠুন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম এবং আপনাদের প্ৰিয় মন্দির রহস্য পর্ব। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ফল হারিণী অমাবস্যা ও তন্ত্রশাস্ত্র

জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও দুর্লভ তিথি ফল হারিণী অমাবস্যা তিথি।হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে এই বছরে ফলহারিণী কালী পুজোর দিন পড়েছে আগামী ১৮ তারিখ। তবে পরদিন অর্থাৎ ১৯ মে পর্যন্ত থাকবে অমাবস্যা তিথি।আজকের পর্বে জানাবো কেনো তন্ত্র জগতে এই তিথি এতো গুরুত্বপূর্ণ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী মাতারূপে দেবী কালী পূজিতা হন।অনেকেই ভাবেন ধরিত্রীজাত ফলের সঙ্গে এই মাতৃপুজোর সম্পর্ক আছে কিন্তু আসলে এই ফল সেই ফল নয় এই ফল মানবজাতির কর্মফলের কথা স্মরণ করায়।

জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী মাতারূপে দেবী কালী পূজিতা হন।এই দিন আমরা যদি মা কালীর পুজো করি, এবং তাঁর সঙ্গে বিশেষ কিছু কাজ করি, তা হলে আমাদের সৌভাগ্য ও সুখ সমৃদ্ধি ফিরে আসতে পারে। এই বিশেষ তিথিতে যদি আমরা মা কালীকে সন্তুষ্ট করতে পারি, তা হলে তাঁর আশীর্বাদ সর্বদা আমাদের ওপর থাকবে।

দক্ষিনেশ্বরে থাকা কালীন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব ফলহারিণী কালী পুজোর দিনই স্ত্রী সারদা দেবীকে মাতৃ রূপে পুজো করেছিলেন। সেই ফল হারিণী অমাবস্যা তিথিতে শ্রীমা সারদাকে ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন বলে আজও রামকৃষ্ণমঠ ও আশ্রমে এই পুজো ‘ষোড়শী’ পুজো নামে পরিচিত|

ফল হারিণী অমাবস্যা তিথিতে মাতৃ শক্তির আরাধনা করলে সন্তানের কুকর্মের জন্য উদ্ভূত অশুভ ফলের প্রভাব থেকে আদ্যা শক্তি মহামায়া তার সন্তানদের মুক্ত করেন এবং তাদের জীবনের সব জাগতিক বাঁধা বিপত্তি দূর হয়।

জ্যোতিষ ও বিশেষ করে তন্ত্রের জগতে এই দিনের অন্য মাহাত্ম রয়েছে, যেকোনো তন্ত্র ক্রিয়া যেমন বশীকরণ, বিদ্বেষন এই দিনে করলে তা অনেক বেশি প্রভাবশালী হয় আবার শাস্ত্র মতে যেকোনো অশুভ গ্রহদোষ খণ্ডন বা কোনো বিশেষ প্রতিকার গ্রহণের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়|

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে কেনো এই তিথি এতো গুরুত্বপূর্ণ। তার কারন হলো তন্ত্রে স্থান কাল এবং পাত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তাই তন্ত্র কার্য সম্পাদন করার জন্য যুগে যুগে সাধকরা তারাপীঠ বা কামাখ্যার মতো পবিত্র ও সিদ্ধ স্থান বেছে নেন। আবার কাল অর্থাৎ সময় হিসাবে ফল হারিণী অমাবস্যা তিথি তন্ত্র মন্ত্রের জন্য সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর পাত্র অর্থাৎ সাধকের পবিত্রতা তার শাস্ত্র সম্মত জীবন যাত্রা এবং নিষ্ঠা ও ভক্তির উপর নির্ভর করে সাফল্যর পরিমান।

তাই প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ও তারাপীঠ এবং আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ হোম যজ্ঞ পুজো ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের সব ব্যাবস্থা থাকবে।আমি নিজে উপস্থিত থাকছি তারাপীঠে।

দুর্লভ এই তিথি আপনাদের জীবনের সব গ্রহ গত সমস্যা দূর করে জীবনের চলার পথ সুন্দর ও সুগম করবেই

ফিরে আসবো পরের পর্বে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক কথা বলার আছে। পাশাপাশি সারা সপ্তাহ জুড়েই থাকবে দেবী মাহাত্ম ও মন্দির রহস্য নিয়ে অনুষ্ঠান। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – ট্যাবা কালীর কথা

দেবী কালীকে অনেক রূপেই পুজো করা হয়যার মধ্যে কিছু রূপ শাস্ত্র সম্মত ও পুরানে উল্লেখিত। আবার কিছু রূপ বা নাম লৌকিক ও হয় যার সাথে জড়িয়ে থাকে কিছু অলৌকিক ঘটনা বা জনশ্রুতি।আজ এমনই এক অদ্ভুত কালী মূর্তির কথা হবে। অবশ্য মূর্তি নয় মূর্তি গুলি বলা উচিৎ কারন।মন্দির একটিমাত্র কিন্তু ভিতরে মূর্তি তিনটি।দেবীকে ট্যাবা কালী বলেই জানে সবাই ।বীরভূমের ঐতিহ্যপূর্ণ কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম লাভপুরের এই দোনাইপুরের ট্যাবা কালী। পুজোর বয়স প্রায় ২৫০ বছর।সবচেয়ে উঁচু দেবী মূর্তিটির উচ্চতা ২৬ ফুট। শোনা যায় এক কালে শিশুদের ট্যাবা নামক এক রোগ হতো এবং এই অঞ্চলে সেই রোগের প্রকোপ , ছিলো বেশি তার নিরাময়ে এই মন্দির থেকে কবচ সংগ্রহ করে পরিয়ে দেয়া হতো এবং তাতেই রোগ নিরাময় হতো বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের।সেই থেকে নাম ট্যাবা কালী।স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় প্রায় আড়াইশোবছর আগে লাভপুরের জমিদার বংশ এইগ্রামে মা কালীর পুজো শুরু করেন।পরবর্তী কালে দোনাইপুরের পাঠকদের হাতে ওঠে। পূজোর ভার।পাঠক বংশের আদি পুরুষরা ছিলেন তান্ত্রিক। কথিত রয়েছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দিরে ‘ট্যাবা কালী’ মূর্তির প্রতিষ্ঠা করা হয়।তিনটি মূর্তির মধ্যিখানে থাকেন বড়মা, তাঁর উচ্চতাই ২৬ ফুট। বাঁ দিকে থাকেন ট্যাবা কালী। ডান দিকে রয়েছেন মা বিশ্বেশরী।এই দুইমূর্তির উচ্চতা ১২ ফুট করে।জন শ্রুতি আছে যে প্রথম যিনি পুজো প্রথম শুরু করেন,তিনি চোখে দেখতে পেতেন না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কালীপুজোর দিন তিনি সমস্ত কিছু স্পষ্ট ভাবেই দেখতে পেতেন।প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে তিনজন তান্ত্রিক এবং তিনজন পুরোহিত পুজো করেন। বিসর্জনের দিন পুজো চলাকালীন মায়ের কাছে দেওয়া আলতা ও সিঁদুর নিয়ে গ্রামের সকলে মাখেন। তার পর মন্দির লাগোয়া পুকুরে এক সময়ে তিনটি মূর্তি বিসর্জন করা হয়।সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা।দেবী মাহাত্মবর্ণনা করার বা তার মহিমা প্রচার করার এইতো শ্রেষ্ঠ সময়।আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম ও মন্দির রহস্য নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – দুর্লভ ঠাকুরের মন্দিরের রহস্য

বাংলার প্রায় প্রতিটি কালী মন্দিরেই ফল হারিণী অমাবস্যায় বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।দুই বাংলা জুড়েই আছে এমন অদ্ভুত সব মন্দির যেখানে প্রায় প্রত্যেক বিশেষ বিশেষ তিথিতে ধুম ধাম করে পুজো হয় তাদের মধ্যে কিছু আছে জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ আবার কিছু মন্দির রয়ে গেছে প্রচারের আড়ালে। দুর্লভ ঠাকুরের মন্দির এমনই এক রহস্য ময় ঐতিহাসিক মন্দির যা নিয়ে খুব একটা লেখা লেখি বা আলোচনা হয়না।আজকের পর্বে তাই এই মন্দিরের কিছু অজানাঐতিহাসিক তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।সে প্রায় তিনশো বছর আগের কথা অবিভক্ত বাংলায় জন্মে ছিলেন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন আধ্যাত্মিক ব্যাক্তিত্ব দুর্লভ ঠাকুর।অধুনা বাংলা দেশের নবীগঞ্জ উপজেলার আলমপুর গ্রামের চুড়ামনি সুত্রধরের গৃহে জন্মগ্রহন করেন তিনি।শৈশবে তাঁর নাম ছিল দেবাই রাম।বাল্য কালে শেরপুরের বনগাঁও এলাকায় দুর্লভ ঠাকুর গরু চড়াতেন এবং এই স্থানেই রাত্রী যাপন করতেন। শোনা যায় খুব কম বয়সে তার মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতার বিকাশ ঘটে যার সাক্ষী থাকে স্থানীয় মানুষ এবং এক বিশাল বঠবৃক্ষ পরবর্তীতে ওই বট বৃক্ষর কাছেই তৈরী হয় দুর্লভ ঠাকুরের মন্দির।নিজের মন্দিরে সাধনা করতেন দুর্ল ঠাকুর। শোনা যায় তার অভিশাপে একবার এক প্রভাবশালী জমিদারের সাত পুত্রের মৃত্যু হওয়াতে জমিদার হাসান ঠাকুরের সন্ধানে বের হন এবং ঠাকুরের এই মন্দিরে এসে উপস্থিত হন। জমিদারের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্লভ ঠাকুর মন্দিরের সামনের খালের জলে ঝাপ দেন ও অদৃশ্য হয়ে যান । সেই থেকে দুর্লভ ঠাকুরের আার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নিবহুকাল লোক চক্ষুর অন্তরালে থাকার পর দুর্লভ ঠাকুরের মন্দিরে পুনরায় উদ্ধার হয় একটি স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে।স্বপ্নে নির্দেশ পেয়ে স্থানীয় এক পূজারী ঠাকুরের অলৌকিক মন্দিরের অস্তিত্ব খুজে বের করেন। নতুন করে মন্দির সংস্কার হয় এবং পুজো শুরু হয়।বর্তমানে সেই মন্দির ও বটবৃক্ষ সনাতন ধর্মের ধর্মালম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অদ্যাবদি মনে করা হয় মন্দিরে এসে কায়মনচিত্তে ভক্তরা যা চায় তা পূর্ন হয়। দূর্লভ ঠাকুরের পূণ্য লীলা ভূমির অলৌকিক বটবৃক্ষ ও মন্দিরকে ঘিরে প্রতি বছর অনুষ্টিত মহাউৎসবে প্রায় পঞ্চাশ হাজারেও অধিক মানুষের জনসমাগম হয়।পরবর্তী পর্বে ফিরে আসবো দেবী মাহাত্ম নিয়ে। আলোচনা চলতে থাকবে ধারাবাহিক ভাবেমন্দির রহস্য নিয়েও। আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে এখনই যোগাযোগ করুন।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – বর্গেশ্বরী দেবী

আজ দেবী মাহাত্ম পর্বে যে দেবীর কথা বলবো তার সাথে বাংলার ইতিহাসের একটি অধ্যায় জড়িত আছে।তার নাম টিও ভারী অদ্ভুত।
কি সেই ইতিহাস আর আর কেনো এমন অদ্ভুত নাম জানবো। আজকের পর্বে দেবী
বর্গেশ্বরী মহিমা এবং ইতিহাস।

বাংলায় তখন নবাবী যুগ চলছে। অবিভক্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী মুর্শিদাবাদ। মসনদে বৃদ্ধ নবাব আলিবর্দি খান। দৌহিত্র সিরাজুদ্দউল তখন কিশোর। সেই সময়ে রাতের আঁধারে একদল লোক ঘোড়া টগবগিয়ে হানা দিতে থাকল বাংলায়। তারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে থাকল, লোকজনকে মেরে-ধরে সবকিছু কেড়ে নিতে থাকল। দোকানপাট বাজার সব তাদের অত্যাচারে বন্ধ হয়ে গেল। সবাই তাদের ভয়ে ঘর থেকে বেরুনো বন্ধ করে দিল। শান্ত বাংলা যেন হঠাৎ করেই আতঙ্কের বাংলা হয়ে উঠল।

এই দুবৃ‌র্ত্তরাই কিন্তু ছিলো ছড়াগানের সেই বর্গি। এই বর্গি শব্দটা এসেছে ফারসি ‘বারগিস’ থেকে, যেটার অর্থ ‘প্রাচীন মারাঠা যোদ্ধা’। তারা ছিলো বেজায় কট্টর হিন্দু। মাতৃ শক্তির আরাধনা করতো
তারা।মুঘলরা ছিলো তাদের প্রধান শত্রু।

ইতিহাস বলছে ১৭৪০ খিস্টাব্দে মারাঠা অশ্বারোহী বর্গিরা কংসাবতী নদী অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের বরগোদা গ্রামে অস্থায়ী সৈন্য শিবির স্থাপন করে। তাদের আগ্রহেই তখন প্রতিষ্ঠিত হয় দেবী বর্গশ্বেরী মন্দির। আর তখন থেকেই মায়ের আরাধনা শুরু হয়।যেহেতু বর্গীরা দেবীর প্রতিষ্ঠা করে ছিলো তাই নাম হয়
বর্গেশ্বরী।

সব জাতি ও সম্প্রদায় মিলেমিশে পালন করে আসছে এই দেবীর পুজো।কাছেই তমলুকে রয়েছে বর্গভীমার মন্দির। কথিত, বর্গভীমার বোন হন দেবী বর্গশ্বেরী। প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে সমস্ত ধর্মের মানুষ একাত্ম। একসঙ্গে আরাধনা করে পুজোর কটা দিন।

বিশেষ বিশেষ তিথিতে ধুম ধাম করে দেবী বর্গেশ্বরীর পুজোর আয়োজন করা হয়। দূর্গা পুজোর সময় এখানে পুজো উপলক্ষে বিরাট উৎসব হয় পুজোতে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় গুড়পিঠে। এই প্রসাদ পাওয়ার জন্য ভিড়ও হয় খুব।

সামনের ফল হারিণী অমাবস্যাও একটি বিশেষ তিথি যে তিথি শক্তি সাধনার পাশাপাশি গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য আদৰ্শ। ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্য নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা এমনই চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – দেবী আনন্দময়ী

তন্ত্র এবং জ্যোতিষ জগতে যতগুলি গুরুত্বপূর্ণ তিথি আছে তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ তিথি হলো ফল হারিণী অমাবস্যা তিথি এবং বাংলার প্রায় সব গুলি কালী মন্দিরেই এই তিথিতে বিশেষ পুজো ও হোম যজ্ঞর আয়োজন করা হয় এমনই এক কালী মন্দির রয়েছে হুগলি জেলার সোমড়া অঞ্চল।
এখানে প্রতিষ্ঠিত কালী মা আনন্দময় নামে খ্যাত দেবীর বিশেষত্ব হলো এই যে তিনি এখানে
পূজিতা হন ভৈরবী হিসেবে।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে মা আনন্দময়ীরা তিন বোন বাকি দুজন নিস্তারিণী এবং হরসুন্দরী পার্শবর্তী জায়গার তাদের মন্দির রয়েছে । তবে আনন্দময়ী মায়ের প্রতিষ্ঠাতা জমিদার শ্রী বীরেস্বর মিত্র মুস্তাফি। স্বপ্নাদেশ পেয়েই কষ্ঠি পাথরের এই মূর্তি গঙ্গার ধারেই সম্পূর্ণ আড়ম্বরে স্থাপন করেন তিনি। তবে আনন্দময়ীর মূর্তিতে রয়েছে বিশেষত্ব, তিনি ভৈরবী এবং পঞ্চমুণ্ডের আসনে মহাদেবের উপর অধিষ্ঠিতা। সম্পূর্ণ টেরাকোটার মন্দিরে মায়ের আদল একেবারেই জগৎজননী স্বরূপ। 
সচরাচর মহাদেবের উপর আসনে অধিষ্ঠিত দেবীর দেখা মেলে না।সেদিক দিয়েও ব্যাতিক্রমী এই মা আনন্দ ময়ীর রূপ।

শোনা যায় কাশী যাত্রার সময়
নাকি রানি রাসমণি গঙ্গাবক্ষে এই স্থান দিয়েই
যাত্রা করছিলেন। একঝলকেই এই মন্দির মনে ধরেতার তাই হয়তো এই মন্দিরের সঙ্গে অদ্ভুত ভাবে মিল রয়েছে দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দিরের। আদল থেকে মন্দিরের গঠন বেশ কিছুটা এক।

শুরুতেই পঞ্চরত্নের মন্দির আছে এবং দুই দিকে মহাকাল পাহারায় ঘিরে রেখেছেন মা আনন্দময়ীকে। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে এমন সুনিপুণ টেরাকোটার মন্দির খুবই কম আছে বিশেষত্ব রয়েছে মন্দিরের চুড়ায় পঁচিশটি চূড়া বেষ্টিত এই মন্দির বাংলার প্রাচীন টেরাকোটা শিল্পের উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।

এই মন্দিরের পাশের পুকুরেই আছে সোনার নোলক পড়া মাছ এবং সেই মাছ হলো সুখ এবং সমৃদ্ধির মূর্ত প্রতীক যা বহু প্রাচীন কাল থেকে ওই
পুকুরে বিরাজ করছে।

আনন্দ ময়ী মায়ের কাছে মনোবাঞ্ছা নিয়ে এলে কোনওভাবে খালি হাতে ফিরে যাবেন না কেউই। তাঁর অপার করুণা থেকে কেউ বঞ্চিত হন না
শাস্ত্র মতে প্রথা মেনে নিত্যসেবা হয় সকাল এবং সন্ধেয় আরতি হয় দীপান্বিতা প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে দেবী আনন্দময়ীর পুজো উপলক্ষে বহু মানুষ আসেন এখানে।

আগামী ১৮ তারিখ ফল হারিণী অমাবস্যা। শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য আদৰ্শ তিথি এই অমাবস্যা। তাই যারা নিয়মিত দেবী মহাত্ম বা মন্দির রহস্য দেখেন তারা এই তিথির গুরুত্ব নিশ্চই জানেন।চাইলে কাজে লাগান এই তিথিকে নিজের গ্রহের প্রতিকারের জন্য।ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবী মাহাত্ম বা মন্দির রহস্যর নতুন পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – বাগনানের দক্ষিনা কালী মাতা

বাংলার জাগ্রত কালী মন্দির গুলি নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করেছি। তাদের অজানা ইতিহাস এবং বহু অলৌকিক গল্প যথা সাধ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আজ বাগনানের এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে লিখবো ।
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় বাগনানের বৃন্দাবনতলার মাঠের মন্দিরে বিরাজমান দেবী বাগেশ্বরী এবং তার নামানুযায়ী স্থানটির নাম আজ বাগনান।

প্রাচীন এই মন্দিরে দেবী দক্ষিনা কালী পূজিতা হন বাগেশ্বরী রূপে। স্থানীয় দের বিশ্বাস দেবী বাগনানের অভিভাবিকা তাই তাঁর অনুমতি ছাড়া বাগনানে কোনও শুভকাজ হয় না। বাগনান ও আশেপাশের অঞ্চলে কোনও শুভকাজ হলে, আগে মায়ের পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নেওয়াটা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। এমনকি খালোড় কালী মাকে পুজো দিয়ে নির্বাচনের প্রচার শুরু করেন রাজ্যের অনেক নেতা। মাকে সাক্ষী রেখে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসারজীবনে প্রবেশ করেন অসংখ্য দম্পতি।মুঘল যুগে এই স্থান খালোর নামে পরিচিত ছিলো এবং দেবীকে খালোরের দক্ষিনা কালী বলা হতো।

জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ।
একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়
এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে।শোনা যায় তৎকালীন মহারাজা কালীভক্ত মহারাজা কন্দর্পনারায়ণ এক রাতে দক্ষিণা কালীকে স্বপ্নে দেখেছিলেন এবং স্বপ্নে মা দক্ষিণা কালী স্বয়ং মহারাজাকে দামোদরের তীরে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং নিমকাঠের মূর্তি তৈরী করার নির্দেশ দেন শুধু তাই নয় দেবী এও বলেন মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নিমকাঠ নিজে থেকেই ভেসে আসবে দামোদর নদীতে

তারপর মহারাজের রাজত্বে তিনশ পঁয়ষট্টি বিঘা জমিতে তৈরী হয় মন্দির। মন্দির তৈরী হয়ার পর সত্যিই একদিন জলের স্রোতে ভেসে এসেছিল নিমগাছের প্রকাণ্ড এক গুঁড়ি। সেই গুঁড়ির কাঠ দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছিল বিশাল আকৃতির দক্ষিণা কালী এবং দেবীর পদতলে থাকা মহাদেব।

শাস্ত্র মতে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয়েছিলো পুজো এবং দ্রুত খালোড়ের মা কালীর নাম ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। তাঁর করুণা লাভ করার জন্য তাঁর দরবারে আসতে শুরু করেছিলেন দেশ বিদেশের ভক্তের দল।সেই জনপ্রিয়তা এবং শ্রদ্ধা ভক্তি আজও অটুট আছে।

পরবর্তীতে দু বার মন্দিরের সংস্কার হয় এবং আশ্চর্য জনক ভাবে প্রতিবারই দেবীর মূর্তির জন্য প্রয়োজনীয় নীম কাঠ ভেসে এসেছিলো দামোদর নদীর স্রোতে।

আজও প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে মহা সমারোহে দেবীর পুজোর আয়োজন করা হয়। দূর দূর থেকে দেবীর পুজো অংশ নিতে আসেন মানুষ। কথিত আছে বাগনানের দক্ষিনা কালী কাউকে খালি হাতে ফেরান না।

আপনারাও চাইলে আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যায় দেবী কৃপা লাভ করতে পারেন। যাদের জন্ম ছকে অশুভ গ্রহের প্রভাব আছে তারা শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে পারেন। ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো দেবী মাহাত্ম বা মন্দির রহস্য নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে বিশেষ পর্ব – রবীন্দ্রনাথের সাজ পোশাক

প্রতি বছর ২৫ এ বৈশাখ এলেই কবি গুরুকে নিয়ে কিছু না কিছু বলে থাকি। শুধু তাই নয় তার গানে তার কবিতায় তাকে স্মরণ করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে। এ অনেকটা গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজো বলা যায়।বিগত বছর গুলিতে রবীন্দ্রনাথের রসবোধ নিয়ে লিখেছি। তার রসনা তৃপ্তি এমনকি তার পরলোক চর্চা নিয়েও আলোচনা করেছি। আজ তার পোশাক নিয়ে ভাবনা বা সাজ সজ্জা নিয়ে দুচার কথা বলি।রবীন্দ্রনাথ তার যথেষ্ট স্টাইলিশ বা ফ্যাসন সচেতন ছিলেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি শেষের কবিতায় এক জায়গায় লিখছেন ফ্যাসন হলো মুখোশ আর স্টাইল হলো মুখ।অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন স্টাইল বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো ব্যাক্তিত্ব যা সহজাত এবং সতস্ফূর্ত আর ফ্যাশন হলো আসল ব্যাক্তিত্বকে আড়াল করার প্রচেষ্টা যা পরিবর্তনশীল এবং ক্ষণস্থায়ী।তবে শুধু রবীন্দ্রনাথ নন তার পূর্ব পুরুষরাও তাদের পোশাক নিয়ে আলোচনায় থাকতেন।ঠাকুর বাড়ির সাজ পোশাকের ইতিহাস নিয়ে অনেক কথাই শোনা যায়।অবনীন্দ্র নাথ ঠাকুর শোভা বাজার রাজ বাড়ির এক জলসা প্রসঙ্গে লিখে ছিলেন ” জলসার দিন দেবেন্দ্রনাথ পরলেন— ‘সাদা আচকান জোড়া…মাথার পাগড়িটি অবধি সাদা। কোথাও জরি কিংখাবের নামগন্ধ নেই…পায়ে কেবল সেই মুক্তো বসানো মখমলের জুতো জোড়াটি।’ এ সাজ দেখে রাজবাড়ির কর্তা, সভার ছোটদের দেখিয়ে বলেছিলেন—‘দেখ, একেই বলে বড়লোক। আমরা যা গলার মাথায় ঝুলিয়েছি, ইনি তা পায়ে রেখেছেন!’ঠাকুর পরিবারের মহিলারাও পিছিয়ে ছিলেন না সেকালে বেনারসি জোড়, গলায় মুক্তোর মালা, হিরের কণ্ঠা, হাতে বালা, আঙুলে জড়োয়া আংটি’ পরে বিয়ে বাড়িতে যেতেন ঠাকুর পরিবারের গৃহিনীরা যা দেখে চোখ ধাধিয়ে যেত বনেদি বাড়ির অভিজাত অতিথিদের।সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে রবীন্দ্রনাথ যখন বড়ো হচ্ছেন তখন ঠাকুর পরিবারের আর্থিক প্রতিপত্তি তখন ওস্তাচলে যার প্রভাব পড়েছিল সেই পোশাক আশাকের আভিজাত্যতে রবীন্দ্রনাথ নিজেই নিজের জীবন স্মৃতিতে লিখেছেন— ‘বয়স দশের কোটা পার হইবার পূর্বে কোনওদিন কোনও কারণেই মোজা পরি নাই। শীতের দিনে একটা সাদা জামার উপরে আর একটা সাদা জামাই যথেষ্ট ছিল।’ এ তথ্য জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ কৌতুক করে বলেছেন আমাদের চটি-জুতা একজোড়া থাকিত। কিন্তু পা দুটা যেখানে থাকিত সেখানে নয়।’ তবে কৈশোরের প্রথমেই দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে হিমালয় যাত্রার সময়, পরিবারের উপযুক্ত সাজ তৈরি হয়েছিল তাঁর জন্য। ‘আমার বয়সে এই প্রথম আমার জন্য পোশাক তৈরি হইয়াছে। কী রঙের কী রূপ কাপড় হইবে—পিতা স্বয়ং আদেশ করিয়া দিয়াছেন। মাথার জন্য একটা জরির কাজ করা গোল মখমলের টুপি হইয়াছিল।’কৈশোরে বিলিতি শুট বা জুতো পড়লেও তাতে নানা রকম বৈচিত্র চোখে পড়তো। তার কুর্তা বা পাঞ্জাবীতেও ঠাকুর বাড়ির কিছু বৈশিষ্ট লক্ষ করা যেত।যৌবনে অবশ্য পোশাক নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা তিনি করেছেন তা তার নানা বয়সের ছবি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। বিদেশ ভ্রমণ কালে নানা দেশের পোশাক ও তিনি পড়েছেন এবং দিব্যি মানিয়েছে তাকে।আর মানাবে না কেনো আসল রহস্য তো লুকিয়ে তার রূপে তার ব্যাক্তিত্বে। তার রূপ সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী লিখেছেন, ‘আমি এর পূর্বে রবীন্দ্রনাথের মতো সুপুরুষ কখনো দেখিনি। তাঁর বর্ণ ছিল গৌর, আকৃতি দীর্ঘ, কেশ আপৃষ্ঠ-লম্বিত ও কৃষ্ণবর্ণ, দেহ বলিষ্ঠ, চরম মসৃণ ও চিক্কণ, চোখ-নাক অতি সুন্দর।তবে পরিণত বয়সে রবীন্দ্র নাথ গরদের ধুতি পাঞ্জাবি পরে, গলায় চাদর ঝুলিয়েশান্তিনিকেতনে বাকি জীবন টা কাটিয়ে ছিলেন।তখন তিনি শান্ত সমুদ্রের নেয় ধীর স্থির তার জীবন তখন আধ্যাত্মিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ।রবীন্দ্র নাথ কে নিয়ে আলোচনা হোক বা লেখা লেখি।অল্প কথায় তাকে ধরা মুশকিল। তাই আবার কখনো সময় সুযোগ হলে চেষ্টা করবো তার জীবনের অন্য কোনো আঙ্গিক ছুঁয়ে দেখার।সবাইকে পঁচিশে বৈশাখের শুভেচ্ছা।ভালো থাকুন রবীন্দ্র নাথ কে নিয়ে থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – গন্ধেশ্বরী মাতা

যে শহরের নামের সাথে তার ইতিহাসের সাথে মিশে আছে দেবী কালীর অস্তিত্ব সেই শহরে যে অসংখ্য প্রাচীন দেবী মন্দির থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে কলকাতার কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে অনেক গুলি বলেছি। আজ আপনাদের দেবী আদ্যা শক্তির একটি ব্যাতিক্রমী রূপ তার মন্দিরের কথা বলবো।কলকাতায় বিখ্যাত ঠনঠনিয়া সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের কাছেই রয়েছে মা গন্ধেশ্বরীর মন্দির।রাজেন্দ্র দেব লেনের ছোট্ট এই মন্দিরটি পশ্চিমমুখী। মন্দিরের সামনে নাটমন্দির।গর্ভগৃহে রয়েছে দেবী গন্ধেশ্বরীর অষ্টধাতুর মূর্তি।বাংলার প্রাচীন গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের আরাধ্যা দেবী হলেন গন্ধেশ্বরী মনে করা হয় দেবীর নাম থেকেই এই সম্প্রদায়ের নাম গন্ধেশ্বরী আবার অনেকে মনে করেন উল্টোটা মানে গন্ধ বণিক দের দ্বারা স্থাপিত হয়েছিলো তাই দেবী গন্ধেস্বরী নামে খ্যাত।নাম যাই হোক দেবী আসলে দেবী দুর্গারই একটি রূপ এবং পুরান মতে গন্ধেশ্বরী রূপে মহামায়া গন্ধাসুর নামক এক দুর্দান্ত অসুরকে বধ করেছিলেন।প্রাচীন বাংলায় সাজাগোজার জিনিসপত্র, ধূপ, চন্দন কাঠ, সিঁদুর, নানারকম মশলা- এই সব দ্রব্য সুদূর দেশ থেকে আমদানি রপ্তানি করতো এই গন্ধবণিক সম্প্রদায়। গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের ধারণা দেবীর কৃপায় তাঁদের ব্যবসায়ের উন্নতি ঘটে এবং দেবী গন্ধেশ্বরীই তাঁদের ব্যবসাকে রক্ষা করেন।বর্তমানে যে মন্দির টি কলকাতায় দেখা যায়।সেই মন্দির তৈরি হয়েছিল ১৩৪৬ বঙ্গাব্দের ১৭ বৈশাখ। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গন্ধবণিক মহাসভার তৎকালীন সভাপতি। নাম তারিখ সবই মন্দিরের ফলকে আজও দেখা যায়।দেবী সিংহবাহিনী এবং চতুর্ভুজা। তাঁর চারটি হাতে যথাক্রমে শঙ্খ, চক্র এবং ধনুর্বাণ। দেবী গন্ধেশ্বরী অনেকটা দেবী জগদ্ধাত্রীর মতই দেখতে। প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় দেবীর বিশেষ পুজো হয়।গন্ধবণিকরা এদিন ব্যবসার খাতা এবং ওজন পরিমাপের যন্ত্র সাজিয়ে রাখেন দেবীর সামনে।ইতিহাস প্রসিদ্ধ চাঁদ সওদাগর এবং ধনপতি সওদাগর প্রমুখরা গন্ধবণিক সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।এবং তারা নিষ্ঠা সহকারে দেবী গন্ধেশ্বরীর পুজো করতেন বলেও মনে করা হয়।দেবীআদ্যা শক্তির আশীর্বাদে শুধু ব্যবসা নয় জীবনের যেকোনো সমস্যা দূর হতে বাধ্য। আমাদের শুধু সঠিক শাস্ত্রীয় নিয়ম ও তিথি অনুসরণ করতে হবে। সামনের ফল হারিণী অমাবস্যা তিথি এমনই এক তিথি।গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র ক্রিয়ার জন্য আদর্শ এই তিথিকে চাইলে আপনারাও কাজে লাগাতে পারেন।ফিরে আসবো আগামী পর্বে দেবী দেবী মাহাত্ম বা মন্দির রহস্যর নতুন পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।