আজ থেকে শুরু করে এই সপ্তাহে প্রতিটি পর্বে বাংলার ডাকাত কালী মন্দির গুলি নিয়ে লিখবো ডাকাত কালী মন্দির গুলি বাংলার ইতিহাস এবং সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িত প্রতিটি মন্দির ঘিরে আছে বহু রহস্য ও কিংবদন্তীশুরু করবো উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে যা সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত|এককালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরের অন্যতম জেলা ছিলো রংপুর, এই রংপুরের অধীনে ছিলো বর্তমানের জলপাইগুড়ি এবং এই অঞ্চল দিয়ে তখনো বয়ে যেতো তিস্তা নদী যাকে সেকালে বলা হতো ত্রিশ্রোতা নদী |কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর সেই ঐতিহাসিক কালী মন্দির|বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাyervউপন্যাস বলছে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি ছিলেন একজন মাতৃ সাধক যিনি নানা বিধ তন্ত্র সাধনাও করেছেন|সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন ভবানী পাঠক|ব্রিটিশ আমলে ভবানী সর্দার অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেনআগেই বলেছি বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক নিজের সাধনার জন্য তিনি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এই কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এবং সর্বোপরি মানুষের বিশ্বাস এই যে এই কালী মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, স্থানীয় এক সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|যাকে বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের ইতিহাস লেখা যায়না|ভবানী পাঠকের মন্দিরে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় আষাঢ় মাস ও কার্ত্তিক অমাবস্যায় এবং মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে, বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।সামনেই মৌনী অমাবস্যা|মৌনী অমাবস্যাতেও প্রতিবছর এই মন্দিরে বড়ো করে পুজো হয়|মূলত তন্ত্র মতেই হয় পুজো|যদিও বর্তমানে বলী প্রথা আর পালিত হয়না তবে নিয়ম নিষ্ঠা সেই আগের মতোই আছে|পরের পর্বে অন্য কোনো ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস ও রোমাঞ্চকর সব গল্প নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শুভ মকর সংক্রান্তি
আজ মকর সংক্রান্তি এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। হালে পিঠে থেকে পায়েস সবই সহজলভ্য নির্দিষ্ট দোকানে। তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন।বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়, পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের মকর রাশিতে গমন হয় এই তিথিতে|পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন।মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রা
কালীকা পুরান – শরভ অবতারের দেহত্যাগ
কালীকা পুরানে শিবের বিবাহর যেমন উল্লেখ আছে তেমনই দেবাদিদেব কে নিয়ে আরো অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে আজ বলবো শরভ অবতার নিয়ে|নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন।শেষে মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।এই শরভের রূপের বর্ণনা আছে পুরানে|শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি|শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|কালীকা পুরান অনুসারে বিষ্ণু অবতার নৃসিংহদেব স্বয়ং তার এই পরিণতি বেছে নিয়েছিলেন কারন তার ইচ্ছা ছাড়া জগৎ সংসারে কিছুই সম্ভব নয় শরভের কাছে পরাজয়ের পরে, বিষ্ণু তাঁর স্বাভাবিক রূপ গ্রহণ করেছিলেন এবং শিবের যথাযথ প্রশংসা করেছিলেন ও নিজেকে শিব ভক্ত রূপে ঘোষণা করেছিলেন ।নিজের কাজ শেষ করার পর শরভ ও দেহত্যাগ করেন স্বেচ্ছায়|শিবের এই রূপ “শরবেশমূর্তি” বা “সিংহমনামূর্তি” নামেও পরিচিত আবার শরভেশ্বর নামে তার পূজাও হয়|আগামী পর্বে অন্য কোনো পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের শোনাবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীকা পুরান – অর্ধনারীশ্বর রূপ
বিভিন্ন পুরাণ ও প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থে অর্ধনারীশ্বর রূপ নিয়ে রয়েছে মতভেদ এবং নানা রকম ব্যাখ্যা আজকের পর্বে লিখবো অর্ধনারীশ্বর রূপ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে|শিবের বাহন ভৃঙ্গীর একবার ইচ্ছে হয়েছিল তার আরাধ্য শিবকে প্রদক্ষীণ করার। কিন্তু তাতে বাধ সাধলেন পার্বতী। তিনি তাঁর স্বামীর কোলে বসে থাকায় শিবকে প্রদক্ষীণ করতে পারলেন না ভৃঙ্গী কারন তিনি শুধু শিবকে প্রদক্ষিণ করবেন|উপায় না দেখে ভৃঙ্গী মাছির রূপ নিয়ে শিবকে প্রদক্ষীণ করার চেষ্টা করলেন। তখন পার্বতী তাঁর এবং শিবের মধ্যে সব ব্যবধান ঘুচিয়ে মিলে গেলেন মহেশ্বরের শরীরের সঙ্গে।সৃষ্টি হলো অর্ধনারীশ্বর রূপ|নারী শক্তির কাছে সেবার মাথা নত করতে হয়েছিলো শিবভক্ত ভৃঙ্গীকে|সেই রুপই অর্ধনারীশ্বর রূপ|বৈদিক একটি ব্যাখ্যাও আছে এই বিষয়ে|সৃষ্টির সূচনা লগ্নে ব্রহ্মার খেয়াল হয় যে জগত তো সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু প্রান চাই, আরো সৃষ্টি চাই ভাবতে ভাবতে আচমকাই তাঁর চোখের সামনে ভেসে মহেশ্বরের আকার, যাঁর এক অংশ পুরুষের এবং বাকি অর্ধেক অংশ নারীর। এই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রহ্মা নিজেকে দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেললে তার ডান দিকের অংশ থেকে জন্ম নিল পুরুষ লিঙ্গের সব প্রাণী এবং বাঁ দিক থেকে জন্ম নিল সব প্রাণীর নারী লিঙ্গ।অর্থাৎ সৃষ্টিকে পথ দেখিয়েছিলো অর্ধ নারীশ্বর রূপ|ভিন্ন একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে,শোনা যায় একবার শিবের জটায় গঙ্গাকে অবস্থান করতে দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পার্বতী। তাঁকে শান্ত করার জন্যে পার্বতীর শরীরের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেন মহেশ্বর। একাংশে বর্তমান থাকে শিবের উপস্থিতি, অন্য অংশে বিরাজ করেন নারী শক্তি পার্বতী।শিব বুঝিয়ে দেন শিব ও পার্বতী এক এবং অভিন্ন|তারা আলাদা নন|সনাতন ধর্মে স্ত্রী সব সময়ে স্বামীর বাঁ-দিকে অধিষ্ঠান করেন। এই সব মেনেই অর্ধনারীশ্বরের নারী শক্তির স্থান বাঁদিকে। শুধু মহেশ্বরই নন, বিষ্ণুও যখন অর্ধনারীশ্বর অবতারে আবির্ভূত হন, তখন তাঁর বাঁদিকেই জায়গা হয় দেবী লক্ষী বা শ্রীরাধিকার, এটাই রীতি|বিজ্ঞান অনুসারে হৃদয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে শরীরের বা দিকের এবং মস্তিস্ক ডান দিকের সাথে যুক্ত|বুদ্ধি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয় যথাক্রমে মস্তিস্ক ও হৃদয় দিয়ে|সহজ ভাষায় বলা যায় শিবের অস্তিত্ব নির্ভর করে আদ্যাশক্তির উপর ।আদ্যা শক্তি মহামায়া আছেন বলেই শিব আছেন। তিনি তাঁরই ভাবনা এবং চিন্তার নারী রূপ।দেবী আছেন বলেই জ্ঞান, সম্পত্তি এবং পরাক্রম আছে। শক্তি সর্বদাই রূপান্তরিত হতে থাকেন, তিনি মায়া এবং তাঁকে সর্বদা মান দিয়ে আসেন মহেশ্বর। তাঁরা এক এবং অভিন্ন।পরবর্তী পর্বগুলিতে থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীকা পুরান – নরকাসুরের কথা
নরকাসুরের কিংবদন্তি কামরূপ রাজ্যের ইতিহাসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারন কামরূপ শাসন করা কয়েকটি রাজবংশ নরকাসুর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বলে মানা হয়। গুয়াহাটীর দক্ষিণে তার নামে একটি পাহাড়ও আছে। দেবী কামাখ্যা এবং তন্ত্র সাধনার পীঠ স্থান কামাখ্যার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত নরকাসুর যার সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে আসাম রাজ্যে রচিত কালীকা পুরানে|আজ আপনাদের জন্য লিখবো নরকাসুর নিয়ে|রামায়ণ এবং মহাভারতেও নরকাসুরের সৃষ্টি প্রাগজ্যোতিষ রাজ্যের উল্লেখ আছে। তার পুত্র ভগদত্ত মহাভারতের যুদ্ধে কৌরবদের হয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন|নরকের মাতা ভূমি দেবী বিষ্ণুর কাছে বর চেয়েছিলেন যেন তার পুত্র দীর্ঘ জীবন লাভ করে এবং সে শক্তিশালী হয়। বিষ্ণু এই বর পূরণ করেন। সঙ্গে বিষ্ণু নরকাসুরকে কামাখ্যা দেবীর পূজা করতে শেখান। প্রথম অবস্থায় ভাল ভাবে শাসন করা নরকাসুর পরে অত্যাচারী হয়ে ওঠে।নরকাসুর কামাখ্যা দেবীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। দেবীকে বলাতে দেবী শর্ত রাখেন যে একরাতে যদি নরকাসুর নীলাচল পাহাড়ের তলা থেকে মন্দির পর্যন্ত সিঁড়ি নির্মাণ করতে পারেন তবে তিনি বিয়ে করতে রাজী হবেন। নরকাসুর সেইমত সিড়ি নির্মাণ করে রাত পেরোনোর আগে শেষ করার উপক্রম করলেন। কামাখ্যা দেবী তখন একটি মোরগকে আদেশ দিলে সে ডাক দেয়। নরকও রাত পেরোলো এই ভেবে কাজঅসম্পূর্ণ রাখলেন এবং ফল স্বরূপ দেবী তাকে স্বামী রূপে প্রত্যাখ্যান করলেন|পুরানে আরো একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে বশিষ্ঠ মুনিকে কামাখ্যা মন্দিরে উপাসনা বাঁধা পেয়ে তিনি নরকাসুর এবং দেবীকে অভিশাপ দেন যে এই মন্দিরে পূজা করা কারো মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না।পরবর্তীতে শিবের হস্তক্ষেপে এই অভিশাপ সেই বছর পর্যন্ত সীমিত হয়। অন্যদিকে নরকাসুর বিষ্ণু এবং কামাখ্যার অপ্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন।পৃথিবীর সকল রাজ্য জয় করার পর নরকাসুর স্বর্গ আক্রমণ করেন এবং ইন্দ্র পালাতে বাধ্য হন। স্বর্গর অপ্সরাদের অপহরণ করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে কৃষ্ণর ভার্যা সত্যভামাকে অদিতি নরকাসুরের কুকীর্তি বলে। সত্যভামা কৃষ্ণকে নরকাসুরের বিপক্ষে যুদ্ধের জন্য রাজি করান। কৃষ্ণ এবং সত্যভামা গরুড়ে উঠে নরকাসুরের রাজ্য আক্রমণ করেন। প্রথমে কৃষ্ণ নরকাসুরের সেনাপতি মুর কে বধ এবং অবশেষে সুদর্শন চক্র দ্বারা কৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করেন|নরকাসুর ও কৃষ্ণর এই যুদ্ধ এবং আরো অনেকপৌরাণিক তথ্য লিপিবদ্ধ আছে কালীকা পুরানে|পরবর্তী পর্বগুলিতে থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালিকা পুরান – মহিষাসুর বধ
দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধ সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি কিন্তু কালিকা পুরানে দেবী কোন কোন রূপে কোন সময়ে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ আছে|আসুন আজ জেনে নিই কালীকা পুরান অনুসারে মহিষাসুর বধ পর্ব|কালীকা পুরানে দেবীর সৃষ্টি, তার রূপস্বজ্জা, অস্ত্র প্রাপ্তি, রনক্ষেত্রের বিবরণ, যুদ্ধের সময়কাল সব বিস্তারিত ভাবে লিপিবদ্ধ আছে|পুরান অনুসারে একশতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের পর দেবতাদের পরাস্ত করে মহিষাসুর দেবতাদের তাড়িয়ে দিলেন স্বর্গ থেকে। অধিকার করলেন স্বর্গলোক। মুনি ঋষিরাও রেহাই পেলেন না তার অত্যাচার থেকে।নিজেই অধিকার করে বসলেন ত্রিভুবন|ত্রিলোকের কোনও পুরুষই তাকে পরাভূত করতে পারবে না এই ছিলো ব্রম্হার বর|বিতাড়িত দেবতারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হলেন এবং তাদের মুখে মহিষাসুরের ভয়াবহ অত্যাচারের কাহিনি শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর ক্রোধান্বিত হলেন। ত্রিদেবের ক্রোধাগ্নির প্রচণ্ড তেজ ও দেবতাদের পুঞ্জীভূত রোষ সম্মিলিত হয়ে হিমালয়ের শীর্ষে মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে আবির্ভূতা হলেন দেবী কাত্যায়নী|ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে দশভূজার সৃষ্টিকার্য হয়েছিল বলে দেবী দুর্গার আর এক নাম ‘কাত্যায়নী’।কালীকা পুরাণ অনুসারে, শিবের তেজ থেকে দেবীর মুখ, যমের তেজে চুল, বিষ্ণুর তেজে বাহু, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল, অগ্নির তেজে ত্রিনয়ন ও অন্যান্য দেবতার তেজে দুর্গার সৃষ্টি হয়। দেবী দুর্গা প্রবল পরাক্রমে এবং কৌশলে পরাজিত হল মহিষাসুরের বাহিনীকে। এরপর শুরু হল মহিষাসুর এবং দেবী দুর্গার দ্বন্দ্ব যুদ্ধ। প্রবল যুদ্ধে কম্পিত হয়ে উঠল ত্রিভূবন। অবশেষে যুদ্ধে পরাজিত মহিষাসুরের গলায় পা রেখে ত্রিশুল দিয়ে তার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাকে বধ করেন দেবী মহিষাসুরমর্দিনী|কালিকা পুরাণ অনুসারে দেবী তিনবার মহিষাসুরকে বধ করেন। আদি সৃষ্টি কল্পে অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। দ্বিতীয় সৃষ্টি কল্পে ষোড়শভুজা ভদ্রকালী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। আবার তৃতীয় সৃষ্টি কল্পে দশভূজা দেবী দুর্গা রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। মহিষাসুর তৃতীয়বার বধ হওয়ার পর দেবীর আশীর্বাদে তিনি চিরতরে দেবীর পদতলে স্থান পান।ফিরে আসবো পরের পর্বে|কালীকা পুরান নিয়ে|থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীকা পুরান – ভৃঙ্গী ও মহাকাল
কালীকা পুরানে দেবী কালীকা শুধু নয় শিব ও শিবের অনুচর সংক্রান্ত বহু তথ্য রয়েছে, রয়েছে বহু পৌরাণিক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা|আজ লিখবো শিবের অনুচর ভৃঙ্গী ও মহাকালের কথা| কালীকা পুরান অনুসারে ভৃঙ্গী ও মহাকাল দুজনেই শিবের অনুচর। একবার শিব পাৰ্বতীর সঙ্গে কৈলাশে ভ্রমন করছিলেন সেই সময় ভূঙ্গী ও মহাকাল দ্বাররক্ষক রূপে নিযুক্ত ছিল। গোপনে তারা শিব ও পার্বতীর অনুশাসন ভেঙে শিব ও পার্বতীকে একত্রে দেখে ফেলে এবং তাতে পার্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে এদের মনুষ্যযোনিতে জন্ম হবে বলে অভিশাপ দেন|পরবর্তীতে ভৃঙ্গী ও মহাকাল শিবানীর কাছে প্রার্থনা করে যে শিব ও শিবানীও যেন মনুষ্যরূপে জন্মগ্রহণ করেন কারন তারা শিবানীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে চায় । শিব দক্ষের পৌত্র পৌষ্যের পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করে। তখন তাঁর নাম হল চন্দ্ৰশেখর। ওদিকে শিবানী ইক্ষাকুবংশীয় এক রাজকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন । তখন, তার নাম হল তারাবতী । চন্দ্ৰশেখরের সঙ্গে তারাবতীর বিবাহ হয় । তঁদের দুটি বানর পুত্র জন্মগ্রহণ করে । তারাই হচ্ছে বেতাল ও ভৈরব অর্থাৎ ভৃঙ্গী ও মহাকালের মনুষ্য যোনি| মহাদেবের আরও অনুচর ছিল যাদের উল্লেখ আছে কালীকা পুরানে যথা কুবের, নন্দী, ভূঙ্গী, মহাকাল,বেতাল, যোগিনী, ভৈরবী, যক্ষ, রাক্ষস ইত্যাদি।এদের সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে ব্ৰহ্মা প্ৰথম জল সৃষ্টি করেন । তারপর সেই জল রক্ষার জন্য যে প্ৰাণীদের সৃষ্টি করেন তার হল রাক্ষস । যক্ষদের রাজা হলেন কুবের । কৈলাসের অলকাপুরীতে তার বাসস্থান । কুবের মহাদেবের ধনরক্ষক । তিনি মানুষকে ধনপ্রদান করেন । আবার যোগিনীরা শিবানীর সহচরী। তারা বিভিন্ন সময়ে শিবানীকে সাহায্য করে ও তাঁর আদেশ অনুসারে কাজ করে । যোগিনীরা সংখ্যায় চৌষট্টি জন । তাদের মধ্যে প্ৰধান হচ্ছে ভৈরবী । তিনি দশমহাবিদ্যার অন্যতমা|এই সব তথ্য আমরা পাই কালীকা পুরান সহ একাধিক গ্রন্থে| আগামী পর্বগুলিতে কালীকা পুরান অনুসারে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালীকা পুরান – শিবের বিবাহ
সনাতন ধর্মে যে আঠেরোটি উপপুরান আছে তারমধ্যে অন্যতম কালীকা পুরান|এই পুরানে একাধিক শাস্ত্রীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে|যার মধ্যে বেশ কয়েকটি নিয়ে আগামী কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো|প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহা শিবরাত্রি পালিত হয়। কালীকা পুরান মতে এই তিথিতেই হয়েছিল শিব ও পার্বতীর বিবাহ|পাশাপাশি বিবাহের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে|শুরু করবো শিবের বিবাহ দিয়ে|পার্বতীর কাছ থেকে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে দেবতারা কন্দর্প নামক তাদের এক দূতকে শিবের কাছে পাঠান।শিব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ও তৃতীয় নেত্র দিয়ে কন্দর্পকে ভস্ম করে দেন। কিন্তু দীর্ঘ কাল কঠোর তপস্যা করে শিবকে মনে মনে নিজের স্বামীরূপে মেনে নিয়েছিলেন পার্বতী।পার্বতীর দীর্ঘশ্বাস ও মনের ব্যাথ্যায় সমস্ত স্থানে হাহাকার শুরু হয়েছিল। বড় বড় পর্বতের ভিতও নড়ে গিয়েছিল। তখন শিব নিজের ধ্যান থেকে উঠেছিলেন এবং পার্বতীকে বলেছিলেন যে তিনি যেন তাকে বিবাহের ইচ্ছা ত্যাগ করেন ও কোনও যুবরাজের সঙ্গে বিয়ে করে নেন কারণ শিবের সঙ্গে বসবাস করা সহজ নয়।কিন্তু হিমালয় কন্যা পার্বতী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি শিব ছাড়া কাউকে বিবাহ করবেন না। পার্বতীর ভালোবাসা দেখে মহাদেব তাঁকে বিবাহ করতে প্রস্তুত হন|কিন্তু তাদের বিবাহ সম্পন্ন হওয়াও বেশ নাটকীয় ছিলো|শিব যখন পার্বতীর সঙ্গে বিবাহ করতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে ডাকিনি, ভূত-প্রেত, পেত্নী ছিল। ডাকিনি ও পেত্নীরা শিবকে ভস্ম দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলেন ও নরমুন্ডের মালা পরিয়েছিলেন কণ্ঠে ছিলো বাসুকি নাগ|শিবের এই আশ্চর্যজনক বরযাত্রী পার্বতীর গৃহে পৌঁছালে সমস্ত গিরিরাজ ও মেনকা সহ সব দেবতা চমকে গেছিলো ও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। এই বিচিত্র রূপে শিবকে মেনে নিতে পারেননি পার্বতীর মা। তখন তিনি শিবের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিবাহ দিতে অসম্মত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি খারাপ দিকে এগোতে দেখে পার্বতী শিবকে বিবাহের জন্য নিয়মনীতি অনুযায়ী তৈরি হয়ে আসতে প্রার্থনা করেছিলেন। শিব তাঁর প্রার্থনা স্বীকার করেছিলেন। সমস্ত দেবী-দেবতাকে সুন্দর ভাবে বরবেশে সাজিয়ে দিয়েছিলেন। ঐশ্বরিক জল দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানো হয়, রেশমের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। শিবের এই দিব্য রূপ দেখে পার্বতীর পিতা মাতা সহ উপস্থিত সকলে বিবাহে রাজি হয়েছিল|স্বয়ং ব্রহ্মার উপস্থিতিতে ও পৌরোহিত্বে শিব পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী পর্বে কালীকা পুরান অনুসারে এমনই কোনো পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শুভ কল্পতরু দিবস ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা
আজকের দিনে 1886 সালে কাশিপুর উদ্যান বাটিতে ঠাকুরের স্পর্শে তার উপস্থিত গৃহি ভক্তরা ঐশ্বরিক শক্তি অনুভব করেন নিজেদের মধ্যে এর পর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণও অকাতরে ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে লাগলেন।সেখানে উপস্থিত ভক্ত রামচন্দ্র দত্ত শ্রীরামকৃষ্ণের ওই দৈব্য রূপ ও অকাতর ‘দান’ দেখে, পুরাণের ‘কল্পতরু-বৃক্ষ’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।সেই থেকে চলে আসছে এই কল্পতরু দিবস পালনের রীতি|

আজ ইংরেজি নব বর্ষের সূচনাও বটে আশা করবো সবার সব স্বপ্ন পূরণ হোক এই বছরে,আর আগামী দিনে যেনো কোনো নতুন বিপদে আমাদের না পড়তে হয়, মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার কৃপায় দূর হোক সব বাঁধা বিপত্তি, সব দিয়ে সার্থক ও সুম্দর হোক নতুন বছরের সূচনা|নতুন বছরে ফিরে আসবো নতুন লেখা, নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে অবশ্যই থাকবে কিছু নতুন চমক যা নিয়ে যথা সময়ে বলবো|আমার সব শুভাকাঙ্খী ও সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা, জানাই হ্যাপি নিউ ইয়ার|সুস্থ্য থাকুন ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নেপাল ভ্রমণ – চিতয়ান জাতীয় উদ্যান
নেপাল মানেই শুধু হিমালয়, মন্দির আর বৌদ্ধ স্তুপ নয়|নেপালের অন্যতম আকর্ষণ তার সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান যার পোশাকি নাম চিতয়ান বা চিতবন জাতীয় উদ্যান|আজ গেছিলাম এই সংরক্ষিত অরণ্যে জঙ্গল সাফারির উদ্দেশ্যে|খোলা মেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে এখানকার জীব বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়েছি|নেপালের তরাই অঞ্চলে রয়েছে এই ‘চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান’। আসলে উপনিবেসিকতার যুগে ভারতের ন্যায় নেপালের বন ও বন্যা প্রাণীও নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়|একটি ঘটনার কথা বলি এই প্রসঙ্গে, ১৯১১-য় নেপালের রাজার আমন্ত্রণে আসেন ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ ও পুত্র অষ্টম এডওয়ার্ড।আসল উদ্দেশ্য শিকার, শোনা যায় সেই সময় প্রায় ৪০টি বাঘ ও ১৮টি একশৃঙ্গ গণ্ডার বন্দুকের গুলির শিকার হয়।বহু বার এমন হয়েছে নেপাল ভুটান সহ কোচ রাজাদের ছিলো শিকারের শখ, সত্যজিৎ রায়ের রয়েল বেঙ্গল রহস্য আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, সেখানেও এরম শিকারের উল্লেখ পাওয়া যায়, যাই হোক ধীরে ধীরে বাঘের ও অন্য প্রাণী দের সংখ্যা সংখ্যা কমতে শুরু করে। তারপর স্বাধীনতার পর শিকার নিষিদ্ধ হয়।বন্যাপ্রাণ সংরক্ষণ ও পর্যটন কে উৎসাহ দিতে তৈরি হয় এই জাতীয় উদ্যান|১৯৮৪ সালে ইউনেসকো চিতওয়ানকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মর্যাদা দেয়। প্রায় ৯৩২ বর্গ কিলোমিটার অরণ্যের আয়তন এখানে যার মধ্যে সৌরাহার বাঘমারা অংশেই ঘুরতে পারেন পর্যটকরা বাকিটা জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত নয়|চিতবন রাষ্ট্রীয় অরণ্যে প্রায় ৭০০ প্রজাতির অধিক বন্যপ্রাণ ও গাছপালা দিয়ে সাজানো হয়েছে|রয়েছে প্রজাপতি, মথ এবং পোকার অসংখ্য প্রজাতি|দেখা যায় শঙ্খচূড় এবং শিলা পাইথন সহ সাপের অন্যান্য ১৭ প্রজাতি, রয়েছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ এবং গুই সাপ|এখানে প্রতি বছর ঘড়িয়ালের ডিম সংগ্রহ করা হয় নদী থেকে, ঘড়িয়াল সংরক্ষণ প্রকল্পে ছানাগুলোকে ৬-৯ বছরের বড় করা হয়। প্রতিবছর তরুণ ঘড়িয়ালগুলোকে নারায়ণী-রাপ্তি নদী প্রক্রিয়ার মধ্যে পুনর্বাসন করা হয়|বর্তমানে গন্ডার, বাঘ, ভাল্লুক হরিণ সহ অসংখ্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ ভূমি এই চিতয়ান জাতীয় উদ্যান|যা আপনি দেখতে পাবেন জিপে চড়ে|সঙ্গে একটি দূরবীন থাকলে বহু দূরে থাকা জীব বৈচিত্র আপনার চোখে ধরা দেবে যা আনন্দকে নিঃসন্দেহে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়|সব দেখে শুনে আমি এতটাই মুগ্ধ যে অরণ্য ছেড়ে ফেরার ইচ্ছে নেই বললেই চলে|তবু বেরোতে হবে সময় নির্ধারিত|আবার পরের গন্তব্য নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|