নেপাল ভ্রমণ – চিতয়ান জাতীয় উদ্যান

59

নেপাল মানেই শুধু হিমালয়, মন্দির আর বৌদ্ধ স্তুপ নয়|নেপালের অন্যতম আকর্ষণ তার সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান যার পোশাকি নাম চিতয়ান বা চিতবন জাতীয় উদ্যান|আজ গেছিলাম এই সংরক্ষিত অরণ্যে জঙ্গল সাফারির উদ্দেশ্যে|খোলা মেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে এখানকার জীব বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়েছি|নেপালের তরাই অঞ্চলে রয়েছে এই ‘চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান’। আসলে উপনিবেসিকতার যুগে ভারতের ন্যায় নেপালের বন ও বন্যা প্রাণীও নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়|একটি ঘটনার কথা বলি এই প্রসঙ্গে, ১৯১১-য় নেপালের রাজার আমন্ত্রণে আসেন ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ ও পুত্র অষ্টম এডওয়ার্ড।আসল উদ্দেশ্য শিকার, শোনা যায় সেই সময় প্রায় ৪০টি বাঘ ও ১৮টি একশৃঙ্গ গণ্ডার বন্দুকের গুলির শিকার হয়।বহু বার এমন হয়েছে নেপাল ভুটান সহ কোচ রাজাদের ছিলো শিকারের শখ, সত্যজিৎ রায়ের রয়েল বেঙ্গল রহস্য আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, সেখানেও এরম শিকারের উল্লেখ পাওয়া যায়, যাই হোক ধীরে ধীরে বাঘের ও অন্য প্রাণী দের সংখ্যা সংখ্যা কমতে শুরু করে। তারপর স্বাধীনতার পর শিকার নিষিদ্ধ হয়।বন্যাপ্রাণ সংরক্ষণ ও পর্যটন কে উৎসাহ দিতে তৈরি হয় এই জাতীয় উদ্যান|১৯৮৪ সালে ইউনেসকো চিতওয়ানকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মর্যাদা দেয়। প্রায় ৯৩২ বর্গ কিলোমিটার অরণ্যের আয়তন এখানে যার মধ্যে সৌরাহার বাঘমারা অংশেই ঘুরতে পারেন পর্যটকরা বাকিটা জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত নয়|চিতবন রাষ্ট্রীয় অরণ্যে প্রায় ৭০০ প্রজাতির অধিক বন্যপ্রাণ ও গাছপালা দিয়ে সাজানো হয়েছে|রয়েছে প্রজাপতি, মথ এবং পোকার অসংখ্য প্রজাতি|দেখা যায় শঙ্খচূড় এবং শিলা পাইথন সহ সাপের অন্যান্য ১৭ প্রজাতি, রয়েছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ এবং গুই সাপ|এখানে প্রতি বছর ঘড়িয়ালের ডিম সংগ্রহ করা হয় নদী থেকে, ঘড়িয়াল সংরক্ষণ প্রকল্পে ছানাগুলোকে ৬-৯ বছরের বড় করা হয়। প্রতিবছর তরুণ ঘড়িয়ালগুলোকে নারায়ণী-রাপ্তি নদী প্রক্রিয়ার মধ্যে পুনর্বাসন করা হয়|বর্তমানে গন্ডার, বাঘ, ভাল্লুক হরিণ সহ অসংখ্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ ভূমি এই চিতয়ান জাতীয় উদ্যান|যা আপনি দেখতে পাবেন জিপে চড়ে|সঙ্গে একটি দূরবীন থাকলে বহু দূরে থাকা জীব বৈচিত্র আপনার চোখে ধরা দেবে যা আনন্দকে নিঃসন্দেহে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়|সব দেখে শুনে আমি এতটাই মুগ্ধ যে অরণ্য ছেড়ে ফেরার ইচ্ছে নেই বললেই চলে|তবু বেরোতে হবে সময় নির্ধারিত|আবার পরের গন্তব্য নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|