বাংলার ডাকাত কালী – ভবানী পাঠকের কালী মন্দির

37

আজ থেকে শুরু করে এই সপ্তাহে প্রতিটি পর্বে বাংলার ডাকাত কালী মন্দির গুলি নিয়ে লিখবো ডাকাত কালী মন্দির গুলি বাংলার ইতিহাস এবং সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িত প্রতিটি মন্দির ঘিরে আছে বহু রহস্য ও কিংবদন্তীশুরু করবো উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে যা সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত|এককালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরের অন্যতম জেলা ছিলো রংপুর, এই রংপুরের অধীনে ছিলো বর্তমানের জলপাইগুড়ি এবং এই অঞ্চল দিয়ে তখনো বয়ে যেতো তিস্তা নদী যাকে সেকালে বলা হতো ত্রিশ্রোতা নদী |কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর সেই ঐতিহাসিক কালী মন্দির|বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাyervউপন্যাস বলছে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি ছিলেন একজন মাতৃ সাধক যিনি নানা বিধ তন্ত্র সাধনাও করেছেন|সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন ভবানী পাঠক|ব্রিটিশ আমলে ভবানী সর্দার অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেনআগেই বলেছি বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক নিজের সাধনার জন্য তিনি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এই কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এবং সর্বোপরি মানুষের বিশ্বাস এই যে এই কালী মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, স্থানীয় এক সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|যাকে বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের ইতিহাস লেখা যায়না|ভবানী পাঠকের মন্দিরে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় আষাঢ় মাস ও কার্ত্তিক অমাবস্যায় এবং মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে, বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।সামনেই মৌনী অমাবস্যা|মৌনী অমাবস্যাতেও প্রতিবছর এই মন্দিরে বড়ো করে পুজো হয়|মূলত তন্ত্র মতেই হয় পুজো|যদিও বর্তমানে বলী প্রথা আর পালিত হয়না তবে নিয়ম নিষ্ঠা সেই আগের মতোই আছে|পরের পর্বে অন্য কোনো ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস ও রোমাঞ্চকর সব গল্প নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|