Home Blog Page 10

গুরু কথা – শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ

গুরু কথা – শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সংস্কৃতে লেখা এই প্রাচীন বৈদিক শ্লোক

আমরা অনেকেই হয়তো আগে শুনেছি

‘গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বর

গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ’

যার অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে জীবনে গুরুই হলেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। তিনিই আমাদের সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের জ্ঞান বা পরম ব্রহ্মজ্ঞান দান করেন। সেই গুরুর উদ্দেশে প্রণাম জানাই|

এই গুরু শিষ্য পরম্পরাকে উদযাপন করা হয় গুরু পূর্ণিমা তিথিতে।আর কিছুদিন পরেই গুরু পূর্ণিমা।

সেই উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমাদের হাজার হাজার বছরের এই গুরু শিষ্য ঐতিহ্যর নানা দিক থাকবে জগৎ বিখ্যাত কিছু গুরুর কথা।

শুরু করছি এক পরম শ্রদ্ধেয় ও মহাজ্ঞানী

গুরু ঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথকে দিয়ে।

 

আজ এই মহান গুরুর জীবন নিয়ে কিছু কথা বলবো, 1891 সালে হুগলীর ডুমুর দহে প্রান হরি চট্টোপাধ্যায় ও মালতি দেবীর গৃহে জন্মায় এক শিশু নাম রাখা হয় প্রবোধ চন্দ্র|শৈশব থেকেই কিছুটা ভাবুক প্রকৃতির ছিলেন প্রবোধ চন্দ্র, ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন |পরবর্তীতে শিক্ষাগুরু এবং সাধক দাশরথি মুখোপাধ্যায়ের কাছে দীক্ষা নিলেন|শিক্ষাগুরু হলেন দীক্ষাগুরু। প্রবোধচন্দ্রের নাম হলো ‘সীতারাম’|গঙ্গা যমুনা সঙ্গম এ রাম নাম মন্ত্রে তার দীক্ষা হয়েছিলো|আত্মীয় স্বজন রা তাকে গৃহী দেখতে চেয়েছিলো তাই ঠাকুরচরণ ভট্টাচার্য্যের কন্যা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ দিলেন|কিন্তু ক্রমে আধ্যাত্মিক ভক্তির সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকেন সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথ এবং দুই সন্তান এর জন্মের পর ঘর ছেড়ে সন্যাসী হয়ে বেড়িয়ে পড়লেন তিনি|সর্বত্র রাম নাম প্রচার করতেন তিনি|

 

ক্রমেই এক দিব্য ও অলৌকিক শক্তি উৎপন্ন হয় তার মধ্যে|সারা ভারত পরিক্রমা করে ১৯৩৬ সালের পৌষ মাসে সীতারাম ফিরে এলেন তাঁর দীক্ষালাভের স্থান ত্রিবেণীতে এবং স্থাপন করলেন একটি মঙ্গলঘট|এরপর বস্ত্র ত্যাগ করে কৌপিন পরিহিত সন্ন্যাসী রূপে পদার্পন করেন নিজের জন্ম স্থানে|ততো দিনে তিনি এক আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন মহাপুরুষ|রাম নামের প্রচারে সপেঁ দিয়েছেন জীবন|অসংখ্য ভক্ত শিষ্য তার অনুগামী|লিখেছেন ১৫০ টি গ্রন্থ ও প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ভাষার ১৩ টি পত্রপত্রিকা|

 

তিনি ছিলেন এক প্রকৃত সাধক ও আদর্শ গুরু যিনি তার ভক্ত ও শিষ্য দের আধ্যাত্মিক পথে চলতে শিখিয়েছেন,ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করতে ও দেশকে ভালো বাসতে শিখিয়েছেন|১৯৮২ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন|দেশ ও সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার অগণিত ভক্ত শিষ্য আজও তার আদৰ্শ কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে|গুরু পূর্ণিমার এই বিশেষ সময়ে এই মহান গুরুর প্রতি আমার অন্তরের শ্রদ্ধা রইলো।প্রনাম জানাই এই মহান সাধককে।

 

আশা করি এই বিশেষ পর্ব

গুলি আপনাদের ভালো লাগবে। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।অন্য এক গুরুকে নিয়ে লিখবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মাসির বাড়ি থেকে ফিরে জগন্নাথদেবকে কেন লক্ষ্মীদেবীর অভিমান ভাঙাতে হয়? এই ঘটনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য কী?

জগন্নাথদেবের উল্টো রথের তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে রয়েছে, “রথস্থ বাম নং দৃষ্টাপুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”৷ অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তাঁর পুনর্জন্ম হয় না৷ তাই রথের দড়ি টানাকেও পুণ্যের কাজ হিসাবে গণ্য করেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা|বছরে দুবার এই সুযোগ আসে রথের দিন এবং তারপর উল্টো রথের দিন।

আজ উল্টো রথ। অর্থাৎ জগন্নাথের পুরী মন্দিরে প্রত্যাবর্তন এর দিন।

 

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।রথযাত্রার দিন বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চড়ে অর্থাৎ মাসির বাড়ি যান জগতের নাথ জগন্নাথ মাসির বাড়ি মানে সমুদ্রোপকূলবর্তী জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে|যাত্রার এক সপ্তাহ পরে তিনি ফেরেন নিজ স্থানে।জগন্নাথ দেবের সপরিবারের রথে চড়ে এই ফিরে আসাই উল্টোরথ নামে খ্যাত।

 

জনশ্রুতি আছে এই দিন মন্দিরে ঢুকতে গেলেই লক্ষ্মী দেবী সটান মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন কারণ তিন ভাইবোন মাসির বাড়ি থেকে আনন্দ করে এসেছেন অথচ তাঁকে নিয়ে যাননি। অভিমানী লক্ষ্মী দেবী এই কয়দিন একা একা শ্রীমন্দিরে ছিলেন। সেই থেকে তিন দিন এরকম ভাবেই বাইরে থাকে রথ সহ বিগ্রহ। এই তিন দিন পালিত হয় কিছু অনুষ্ঠান তারপর মহালক্ষীর মান ভঞ্জন হলে পুনরায় মন্দিরের রত্ন বেদিতে স্থান পান জগন্নাথ শুভদ্রা এবং বলরাম।

 

একাধিক শাস্ত্রীয় উপাচার আছে এই উল্টো রথ নিয়ে।সাধারণত উল্টো রথে যখন জগন্নাথ ফিরে আসেন এই যাত্রাকে বহুদা যাত্রা বলা হয়। এরপর আছে অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজয়। অধরপানায় জগন্নাথকে বিশেষ পানীয় পান করানো হয়। সেটাকে ঘিরেও উৎসব হয় । এর পরদিন নীলাদ্রি বিজয় উৎসব হয়। এক হিসেবে এই দিনেই রথযাত্রা শেষ হয়।

 

উল্টো রথ উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথ

সহ সুভদ্রা-বলরাম ও সেজে ওঠেন নানা সোনার

গয়নার সাজে।এই বেশ কে সোনা বেশ বলা হয়।

মন্দিরে ফিরলে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে

নিবেদন করা হয় কয়েকশ হাড়ি রসগোল্লা নানা রকম মিষ্টান্ন সর্বশেষে নীলাদ্রিবিজয় উৎসবের

মাধ্যমে শেষ হয় এই সমস্ত রীতি -রেওয়াজ এবং তার পর জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম কে মন্দিরের

মূল রত্নবেদি-তে তোলা হয়।

 

আপনাদের সবাইকে উল্টোরথের শুভেচ্ছা জানাই ফিরে আসবো আগামী পর্বে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ ধারাবাহিক লেখা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রভু জগন্নাথ এবং মহামারী

প্রভু জগন্নাথ এবং মহামারী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথের লীলার শেষ নেই।

রথ যাত্রা উপলক্ষে তাঁর অনেক গুলি লীলা নিয়ে ইতিমধ্যে লিখেছি আজ আরো একটি

অলৌকিক ঘটনা নিয়ে লিখবো।

 

একবার বাংলার নদীয়া জেলার কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল। অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন, অনেকের প্রাণও চলে যাচ্ছিল। চারদিকে আতঙ্ক আর অসহায়তার পরিবেশ।ঠিক সেই সময়ে এক রাতে মায়াপুরের কাছে এক জগন্নাথ মন্দিরের পূজারী স্বপ্নে মহাপ্রভু জগন্নাথের দর্শন পান। স্বপ্নে প্রভু তাঁকে এমন এক বিশেষ ভেষজ ওষুধের কথা জানান, যা এই মহামারী থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

 

পরদিন সকালে পূজারী গ্রামের মানুষদের নিয়ে সেই ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব ভেষজ সংগ্রহ করতে বেরিয়ে পড়েন।

সকল উপাদান সংগ্রহ করা গেলেও একটি বিশেষ গাছের ডাল কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ সেই গাছ ওই অঞ্চলে জন্মাতই না। ফলে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন।

এই একটি উপাদান ছাড়া ওষুধ সম্পূর্ণ হবে না।

কিন্তু মহাপ্রভুর ইচ্ছা যে ভিন্ন ছিল!

সেদিন বিকেলে এক ছোট্ট বালক মন্দিরে এসে পূজারীর স্ত্রীর হাতে ঠিক সেই গাছের ডালটি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে পূজারী ফিরে এসে ডালটি দেখে আনন্দে বলে ওঠেন, “এটাই তো সেই শেষ উপাদান, যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম!”তিনি জানতে চান, কে এই ডাল এনে দিয়েছে? পূজারীর স্ত্রী জানান, এক অত্যন্ত সুন্দর ও অচেনা ছোট ছেলে এটি দিয়ে গেছে। গ্রামের কেউ তাকে আগে কখনও দেখেনি।পূজারী প্রভু জগন্নাথকে প্রনাম করে তার নাম স্মরণ করে ওষুধ তৈরীর কাজে লেগে পড়েন।

 

যথা সময়ে সেই দিব্য ভেষজ ওষুধ তৈরি করে রোগীদের দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে মহামারীর প্রকোপ কমে আসে এবং অসংখ্য মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আসল সত্য জানার পর সবাই বিশ্বাস করেন, সেই অচেনা বালক আর কেউ নন স্বয়ং মহাপ্রভু জগন্নাথই ভক্তদের রক্ষা করতে বালকের রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

 

জগন্নাথদেব তাঁর ভক্তদের সকল বিপদ

থেকে রক্ষা করে এই ঘটনা থেকে আরো একবার প্রমাণিত হয়। ফিরে আসবো

আগামী পর্বে উল্টো সংক্রান্ত শাস্ত্রীয়

লেখা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের কাঁঠাল প্রীতি

জগন্নাথ দেবের কাঁঠাল প্রীতি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রী জগন্নাথের অত্যন্ত প্রিয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠাল নিয়ে জগন্নাথের অনেক লীলা আছে। তার মধ্যে ইতিমধ্যে কিছু আপনাদের জানিয়েছি । আজ আরো একটি আপনাদের জানাবো।

এক সময় পুরীর এক দরিদ্র ভক্তের বাগানে একটি সুস্বাদু কাঁঠাল ধরেছিল। ভক্তের মনে একটাই ইচ্ছা ছিল যে এই প্রথম পাকা কাঁঠালটি তিনি প্রভু জগন্নাথকে নিবেদন করবেন। কিন্তু সংসারের নানা ব্যস্ততায় তিনি সময়মতো মন্দিরে কাঁঠালটি নিয়ে যেতে পারেননি।

জনশ্রুতি আছে সেই রাতেই প্রভু জগন্নাথ এক বালকের রূপে এসে গাছ থেকে কাঁঠালটি নিয়ে যান। পরদিন দেখা যায়, কাঁঠালটি আর গাছে নেই। একই সময়ে মন্দিরে প্রভুর ভোগের কাছে কাঁঠালের সুগন্ধ ও তার চিহ্ন দেখে সকলেই বিস্মিত হন। তখন ভক্ত বুঝতে পারেন—যে কাঁঠাল তিনি ভালোবাসা দিয়ে প্রভুকে নিবেদন করতে চেয়েছিলেন, প্রভু নিজেই এসে তা গ্রহণ করেছেন।

এই লীলার মূল শিক্ষা হলো ভগবান বাহ্যিক আড়ম্বর বা দামী উপহার চান না; তিনি চান ভক্তের আন্তরিক প্রেম, নিষ্ঠা ও সমর্পণ। সত্যিকারের ভক্তি থাকলে প্রভু নিজেই ভক্তের কাছে আসেন এবং তাঁর নিবেদন গ্রহণ করেন।

রথ যাত্রার সময়ই কাঁঠালের মরশুম এবং এই সময়ে উড়িষ্যয় অত্যন্ত উন্নত মানের মিষ্টি কাঁঠাল পাওয়া যায় এবং আজও প্রায় প্রতিদিন জগন্নাথ মন্দিরে কাঁঠাল ভোগ দেয়ার রীতি প্রচলিত আছে।

আবার ফিরে আসবো অন্য একটি
জগন্নাথ লীলা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য 

বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বিপদতারিনী পুজো। বিপদতারিণী দেবী সঙ্কটনাশিনীর একটি রূপ যিনি দুর্গা তিনিই বিপদতারিনী।বিপদতারিনী পুজো করে ভক্তরা সুখ ও শান্তি লাভ করেন।আজ বিপদতারিণী পূজো উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জানাবো এই পুজোর তাৎপর্য ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।

 

সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা কখনও অসুরনাশিনী, আবার কখনও বা মাতৃ রূপিণী। মা বিপত্তারিণী দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের একটি রূপ।

 

গ্রামাঞ্চলে বিপদতারিনী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর “আরাধনা” করা হয়।  তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়।পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ধাগা পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপত্তারিণী ব্রত পালনের আগের দিন হবিষ্য করার নিয়ম। না হলে নিরামিষ আহার করতে হয়।

১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩টি পান, ১৩টি সুপারি এবং ১৩ গাছা লাল সুতোতে ১৩ গাছা দূর্বা সহযোগে ১৩টি গিঁট বেঁধে ডুরি তৈরি করতে হয়। আম্রপল্লব-সহ ঘট স্থাপন করে ব্রাহ্মণ দ্বারা নাম গোত্র সহযোগে পূজা দিতে হয়। পূজার পরে বিপত্তারিণী দেবীর ব্রতকথা শোনা পুজারই অঙ্গ।

পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ডুরি পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপদতারিনী পুজোর সময় নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। গৃহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।এইদিনে পরিবারের কোনও সদস্যর নেশা করা উচিৎ নয়। তাছাড়া এই পূজোর দিন কাউকে কটু কথা বলা নিষেধ,অর্থ ঋণ দেয়া নিষেধ এবং কাউকে চিনি দেয়া উচিৎ নয়।

 

বিপত্তারিণী ব্রত সাধারাণত মহিলাদের ব্রত। এই ব্রত কমপক্ষে ৩ বছর পালন করা নিয়ম।বিপত্তারিণী ব্রত পালনে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সাংসারিক বিপদ থেকে রক্ষা করে জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি দান করেন মা বিপত্তারিণী।

 

শাস্ত্র মেনে মা বিপদতারিনী পুজো করা ভক্তরা সুখ এবং শান্তি লাভ করে। শাস্ত্রে যেমন মা লক্ষ্মী মাকে ধন সম্পদের দেবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তেমনি এটা বিশ্বাস করা হয় যে মা বিপদতারিনী উপাসনা করলে তিনি সকলের উপর আশির্বাদ বজায় রাখেন। একই সঙ্গে সমস্ত ঝামেলা, অর্থ সঙ্কট থেকে মুক্তি দেন। গৃহে সুখ এবং

সমৃদ্ধি লাভ হয়।

 

সবাইকে জানাই বিপদতারিণী পূজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো রথ যাত্রা উপলক্ষে

ধারাবাহিক লেখা নিয়ে আগামী দিনে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের সঙ্গে জগন্নাদেবের লীলা 

ভক্তের সঙ্গে জগন্নাদেবের লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একসময় পুরীধামে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের একজন মহান ভক্ত ছিল।তার নাম ছিলো রঘু দাস।

এই ভক্ত রঘু দাসকে বিশেষ স্নেহ করতেন জগন্নাথদেব। ইতিমধ্যে রঘুর সঙ্গে জগন্নাথের একটি লীলা নিয়ে লিখেছি আজকের পর্বে

ভক্ত রঘু দাসের জীবনের আরো একটি

অলৌকিক ঘটনা আপনাদের জানাবো।

 

একবার ভক্ত রঘুদাস পুরীর মন্দিরের বিগ্রহবেদীতে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতাদেবীর দর্শন পান এবং উপলব্ধি করেন যে শ্রীজগন্নাথ এবং শ্রীরামচন্দ্র এক এবং অভিন্ন।তারপর থেকে সে জগন্নাথকে শ্রী রাম জ্ঞানেই পুজো করতো।

একবার রঘু শ্রীজগন্নাথের জন্য একটি সুন্দর মালা গেঁথে জগন্নাথকে দেয়ার জন্য পূজারীকে দেয়।কিন্তু পূজারী সেটি ভগবানকে দিতে চাইলেন না কারন মালাটি ছিলো অতি সাধারণ এবং সস্তা।

তাঁর মালাটি জগন্নাথকে দেয়া হল না দেখে রঘু অত্যন্ত দুঃখিত, বিমর্ষ হয়ে মন্দির ত্যাগ করে।

 

সেই রাতে ভগবান শয়নে যাওয়ার পূর্বে জগন্নাথের বড়-শৃঙ্গার বেশের সময় ভগবান কোনও ফুলই গ্রহণ করলেন না। পূজারীরা বুঝলেন যে তারা নিশ্চয়ই কোন গর্হিত অপরাধ করেছেন।

সেই রাত্রেই জগন্নাথ প্রধান পূজারীর নিকট স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “আমার ভক্ত রঘু দাস আমার জন্য একটি ফুলের মালা এনেছিল। সে কত ভক্তি ও প্রীতি সহকারে সেটি গেঁথেছিল! তুমি কেবল বাইরে থেকে সূতোটি দেখে তাঁকে ফিরিয়েছ,আমাকে মালা অর্পণ করার অনুমোদন দেওনি। আমার ভক্তের ইচ্ছাপূরণ হয়নি তাই আমিও বড় শৃঙ্গার ত্যাগ করেছি।

 

তৎক্ষণাৎ পূজারীরা ভক্ত রঘুদাসের কাছে গিয়ে তাদের অপরাধ স্বীকার করলেন এবং শ্রীজগন্নাথদেবকে তাঁর মালা অর্পণ করতে বললেন। রঘু দাস অত্যন্ত খুশি হল এই শুনে যে, ভগবান এতই করুণাময় যে, তিনি স্বয়ং তাঁর মালা গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং তার ইচ্ছে আজ পূরণ করবেন।

 

প্রভু জগন্নাথ পরম করুনাময়। শুধু ভাব এবং

ভক্তি দিয়েই তাকে সন্তুষ্ট করা যায়। চলতে থাকবে এই শাস্ত্রীয় ধারাবাহিক উপস্থাপনা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

১২ বছর পর বিরল গুরু আদিত্য (জীবাত্মা) যোগ — ৩ আগস্ট পর্যন্ত ভাগ্যের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে এই ৬ রাশির!

১২ বছর পর বিরল গুরু আদিত্য (জীবাত্মা) যোগ — ৩ আগস্ট পর্যন্ত ভাগ্যের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে এই ৬ রাশির!

 

বর্তমানে কর্কট রাশির পুষ্যা নক্ষত্রে রবি ও বৃহস্পতি একসঙ্গে অবস্থান করছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই বিরল সংযোগকে গুরু আদিত্য যোগ বা জীবাত্মা যোগ বলা হয়। আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত এই শুভ যোগ কার্যকর থাকবে।

 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীর্ঘ ১২ বছর পর কর্কট রাশিতে নক্ষত্রের রাজা পুষ্যা নক্ষত্রে এই মহাশুভ যোগ গঠিত হয়েছে। তাই জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

জন্মছকে গুরু আদিত্য যোগ থাকলে কী ফল পাওয়া যায়?

 

যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে গুরু আদিত্য যোগ থাকে, তাঁদের জীবনে সাধারণত উচ্চশিক্ষা, জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, প্রশাসনিক কাজ, নেতৃত্ব এবং সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের প্রবল সম্ভাবনা দেখা যায়।

 

বৃহস্পতি হলেন জ্ঞান, ধর্ম, ভাগ্য, অর্থ ও কর্মের কারক গ্রহ। অন্যদিকে রবি আত্মবিশ্বাস, সম্মান, নেতৃত্ব, রাজকীয় ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। তাই এই দুই শুভ গ্রহের মিলন একজন ব্যক্তির জীবনে অসাধারণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশেষ করে ধনু, মীন, মেষ ও কর্কট রাশিতে জন্মছকে রবি-বৃহস্পতির এই সংযোগ থাকলে তার শুভ ফল আরও শক্তিশালীভাবে অনুভূত হয়।

 

গোচরে কোন কোন রাশি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে?

 

আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত গঠিত এই গুরু আদিত্য যোগের ইতিবাচক প্রভাব বিশেষভাবে অনুভব করতে পারেন—

 

♍ কন্যা রাশি

 

♎ তুলা রাশি

 

♏ বৃশ্চিক রাশি

 

♑ মকর রাশি

 

♓ মীন রাশি

 

♊ মিথুন রাশি

 

এই সময়ে কর্মজীবনে উন্নতি, ব্যবসায় নতুন সুযোগ, আর্থিক লাভ, শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য, সম্মান বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে শুভ ফল পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

 

তবে মনে রাখবেন, গোচরের ফল প্রত্যেকের জন্মছকের অবস্থান, দশা-অন্তর্দশা এবং অন্যান্য গ্রহের প্রভাবের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

 

✨ আগামী কয়েকটি দিন তাই নিজের লক্ষ্য পূরণে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আপনার জীবনে নতুন সাফল্যের দরজা খুলে দিতে পারে।

জগন্নাথদেব এবং কর্মা বাই 

জগন্নাথদেব এবং কর্মা বাই

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে শ্রী জগন্নাথ দেবের একটি বিশেষ লীলা এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

পুরীতে এক সময়ে কর্মাবাই নামে একজন বৃদ্ধা বাস করতেন। তিনি জগন্নাথকে নিজের পুত্র রূপে দেখতেন এবং তাঁকে বালক রূপে সেবা করতেন।

মনে করা হয় ভগবানকে ভক্ত যে রূপে পুজো করবে ভগবান সেই রূপেই ধরা দেবে।জগন্নাথও কর্মা বাইকে পুত্র রূপে ধরা দিয়েছিলেন।

 

কর্মা বাইয়ের মনে হত সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জগন্নাথ দেবের খিদে পেয়ে যায়। তাই তিনিও খুব সকালে ঘুম থেক উঠে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করতে বসতেন।প্রতিদিন ভোরে বালক রূপ ধরে জগন্নাথদেব কর্মাবাইয়ের খিচুড়ি খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতেন। এই খিচুড়ির স্বাদ ছিল জগন্নাথদেবের বড়ই প্রিয়।

 

খুব ভোরে বৃদ্ধা কর্মা বাইয়ের পক্ষে প্রতিদিন স্নান করা সম্ভব হতোনা।একদিন মন্দিরের এক পূজারী কর্মাবাইকে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করতে দেখেন। তিনি কর্মাবাইকে নিষেধ করে বলেন যে প্রভুর ভোগ রান্না এবং নিবেদনের আগে দেহে এবং মনে বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি।স্নান না করে ভোগ রান্না শাস্ত্র বিরুদ্ধ।পরদিন সাধুর কথামতো কর্মাবাই স্নান সেরে নিয়ম মেনে যখন জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি ভোগ দেন।তাতে দেরি হয়ে যায় অনেকটা। সকাল থেকে ক্ষুদার্থ জগন্নাথ দেব বেলার দিকে

কর্মা বাইয়ের বানানো গরম খিচুড়ি খেয়ে

সেদিন দুপুরে আর ভোগ গ্রহণ করলেন না।

 

পরে সেবাইতএ অনুসন্ধান করে দেখেন যে

প্রভুর মুখে খিচুড়ি লেগে আছে।পরবর্তীতে জগন্নাথদেব স্বয়ং তার বিশেষ এবং ঘনিষ্ট কয়েকজন সেবককে স্বপ্নে কর্মাবাইয়ের বৃত্তান্ত শোনান এবং তাদের আদেশ করেন তিনি যেন আগের মতোই খুব ভোরে স্নানের আগেই জগন্নাথের জন্য খিচুড়ি রান্না করে ভোগ নিবেদন করেন।সেবকরা কর্মাবাই এর কাছে ছুটে গিয়ে ক্ষমা চান এবং প্রভুর আদেশ শোনান।

 

তারপর থেকে শুরু হয় খুব সকালে বাল্য ভোগে জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি দেওয়ার নিয়ম।যতদিন কর্মা বাই জীবিত ছিলেন তিনি নিজেই খিচুড়ি বানাতেন।শোনা যায় কর্মাবাইয়ের মৃত্যুতে জগন্নাথদেব কেঁদে ছিলেন।

কর্মা বাইয়ের অনুপস্থিতিতে পুরীর রাজার নির্দেশে পুরী মন্দিরের বাল্যভোগে ” কর্মাবাই খিচুড়ি ” রান্না চালু হয়।আজও জগতের নাথের দিন শুরু এই

বিশেষ ভোগ দিয়ে।

 

ভক্তের ভক্তি যদি নিখুঁত হয় ভগবান তাকে বুকে টেনে নেন এবং ভক্তের দুঃখে ভগবানের চোখেও জল আসে। এই ঘটনা তা আরো একবার প্রমান করে।

 

শ্রী জগন্নাথ দেব সংক্রান্ত লেখা

নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা

সময়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেব এবং কোহিনুর

জগন্নাথ দেব এবং কোহিনুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগের একটি পর্বে জগন্নাথদেবের ধন দৌলত নিয়ে আলোচনা করেছিলাম সেখানে কোহিনুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিলো তবে কোহিনুর এবং জগন্নাথদেবের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং বেশ তাৎপর্য পূর্ণ। তাই আজ বিস্তারিত ভাবে জানাবো।

 

সকলেই জানেন যে কোহিনুরের যাত্রা গোলকুণ্ডায় শুরু হয়েছিল এবং মুঘল দিল্লি, পারস্য এবং আফগানিস্তানে পৌঁছেছিল তারপর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শিখ সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনুর অধিকার করেন তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার রাজা দিলীপ সিংহর হাত থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইংল্যান্ডের রানী কোহিনুর উপহার হিসেবে পান।

 

মহারাজা রঞ্জিত সিং 1839 সালে তাঁর মৃত্যুর আগে হীরাটি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মহারাজার অধীনে থেকেও পাঞ্জাবের তৎকালীন কিছু ক্ষমতাবান আমলা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

কিছু ইতিহাস বইয়ে মহারাজা রঞ্জিত সিং কর্তৃক পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কাছে কোহিনূর বন্ধক হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

 

মহারাজ রঞ্জিত সিংহ তার ইচ্ছে প্রকাশ করে কোহিনুরকে জগন্নাথ মন্দিরে দান করার জন্য একটি উইল ও লেখেন যাকে ভিত্তি করে আজও পুরীর মন্দির কতৃপক্ষ কোহিনুর তাদের বলে দাবী করে আসছেন এবং সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি লড়াই লড়তেও তারা প্রস্তুত।

রুঞ্জিত নিজেই মারা যান তার এই শেষ ইচ্ছে অপূর্ন রেখে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তার নাবালক উত্তরাধিকারের হাত থেকে কোহিনুর এক প্রকার ছিনিয়ে নেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা।

 

এখন প্রশ্ন জাগে মহারাজা রঞ্জিত সিং মূল্যবান কোহিনুর দেওয়ার জন্য জগন্নাথ মন্দির বেছে নেওয়ার কারণ কী? আসলে বাঙালিদের মতো শিখ দের সাথে জগন্নাথ দেবের রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক।উড়িষ্যার সাথে শিখদের এই নিবিড় সংযোগ প্রথমে গুরু নানকের সময়ে শুরু হয়।

শোনা যায় গুরু নানক একবার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন এবং অন্য ধর্মের হওয়ায় তিনি প্রবেশেধিকার পাননি। পরে পুরীর সমুদ্র সৈকতে তারা যখন অভুক্ত অবস্থায় ছিলেন তখন প্রভু জগন্নাথ তাদের নিজের ভোগ পাঠিয়ে তাদের সেবা করেন। তারপরে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের সময়েও শিখ ধর্মের মানুষ রা জগন্নাথের বিশেষ কৃপার পাত্র ছিলেন। আজও সেই পরম্পরা চলছে। তাই মহারাজা রঞ্জিত সিং তার দখলে থাকা সবচেয়ে দামি রত্ন কোহিনূরকে পুরী জগন্নাথ মন্দিরে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

 

এই রথ যাত্রা উপলক্ষে আবার এক বিশেষ

পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রী জগন্নাথের রথযাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

শ্রী জগন্নাথের রথযাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।রথযাত্রার দিন বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চড়ে অর্থাৎ মাসির বাড়ি যান জগতের নাথ। শ্রী জগন্নাথের মাসির বাড়ি মানে শ্রী ধাম জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে গুণ্ডিচা মন্দির। আজ সেই রথ যাত্রার পুন্য তিথি।

 

রথ যাত্রার এক সপ্তাহ পরে তিনি ফেরেন নিজ স্থানে।জগন্নাথ দেবের সপরিবারের রথে চড়ে এই ফিরে আসাই উল্টোরথ নামে খ্যাত

রথ যাত্রার পর দিন থেকে জগন্নাথদেব বিরাজ করবেন গুন্ডিচা মন্দিরে। আর কয়েকদিন পরেই উল্টো রথের মাধ্যমে তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

 

শাস্ত্রে রথ যাত্রা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, “রথস্থ বাম নং দৃষ্টাপুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”৷ অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তাঁর পুনর্জন্ম হয় না৷ তাই রথের দড়ি টানাকেও পুণ্যের কাজ হিসাবে গণ্য করেন ধর্মপ্রাণ সনাতনীড়া ।

 

শুধু তাই নয় শাস্ত্র মতে যেকোনো শুভ কাজে যেমন গৃহ প্রবেশ, ব্যাবসার শুরু সবই করা যায় এই শুভ সময়ে।জগন্নাথ দেব স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। তিনিই জগতের নাথ। শাস্ত্র মতে তিনি বামন অবতার রূপে পুরীতে বিরাজমান।এই সমগ্র সময় জুড়ে জগন্নাথ মাহাত্ম শ্রবণ করা এবং প্রভু জগন্নাথ

দেবের আরাধনা করা শাস্ত্র মতে মহা পুন্যর কাজ।

 

পুরীর মন্দিরে প্রবেশের অনেক নিষেধাজ্ঞা। বিদেশীরা প্রবেশ করতে পারেন না। বিধর্মীরা প্রবেশ করতে পারেননা। কিন্ত ভগবান স্বয়ং ভক্তদের মধ্যে কোনো রূপ ভেদাভেদ করেন না। তাই বছরের এই নিদ্দিষ্ট কয়েকটি দিন নিজের গৃহ মন্দির ছেড়ে নেমে আসেন পথে জাতি,ধর্ম যে বর্ন নির্বিশেষে মিলিত হন তাঁর অগণিত ভক্তদের সাথে।

 

শাস্ত্র মেনে রথ যাত্রা পালন করুন।

ফিরে আসবো রথ যাত্রা এবং জগন্নাথেদেব সংক্রান্ত আরো তথ্য এবং পৌরাণি বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।