Home Blog Page 88

একান্ন পীঠ – রত্নাবলী

আজকের একান্ন পীঠ পর্বে শক্তি পীঠ হুগলির খানাকুলে অবস্থিত রত্নাবলী নিয়ে আলোচনা করবো। জানাবো এই পীঠের ইতিহাস গুরুত্ব।
পুরান অনুসারে রত্নাবলীতে শ্বেত পলাশ গাছের নিচে দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধ অর্থাৎ ডান দিকের কাঁধ পড়েছিল।পরবর্তীতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে মন্দির বানান সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী।
এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ইতিহাস অনুসারে এক সময়ে খানাকুলের উপর দিয়ে রত্নাকর নদী বয়ে যেত। সেই নদী আজ আর নেই। নদীর চিহ্ন হিসেবে পড়ে রয়েছে মাজা এক খাল।
নদীর শুকিয়ে যাওয়া নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। শোনা যায় একসময় এই নদী ছিল বিশাল চওড়া। একবার প্রসিদ্ধ সাধক অভিরাম গোস্বামী এই নদীতটে স্নান করছিলেন। হঠাৎই নদীর জল ফুলে ফেঁপে জোয়ার আসে। সেই জোয়ারের জলে অভিরামের কৌপিন ভেসে চলে যায়। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সাধক তখন নদীকে শাপ দেন। বলেন, এই মুহূর্তে তুই অন্ধ হয়ে যা। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই তুই অন্তর্বর্তী শিলা হয়ে মাটির তলা দিয়ে বইবি। ওপরে ব্যাপ্তি আর থাকবে না। তারপর থেকেই নদীর জল শুকোতে থাকে। নদী শুকিয়ে হয়ে যায় খাল যাকে এলাকায় কানা দ্বারকেশ্বর খাল বলেই ডাকা হয় ।
আদিকালের সেই রত্নাকর নদী তথা বর্তমানের কানা দ্বারকেশ্বর খালের ধারেই রত্নাবলী কালীমন্দিরটি অবস্থিত । এখানে আগে থেকেই ছিলো ঘন্টেশ্বর শিবমন্দির। পরবর্তীতে মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী। তখন থেকেই দেবীর পূজা হয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠার সময় এই মন্দিরটি ছিল একটি তালপাতার কুঁড়েঘর। বহু বছর পর বর্ধমানের মহারাজা এই মন্দিরটি পাকা করেন। সেই কাঠামোই এখনও রয়েছে।স্বপ্নাদেশ পাওয়া স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী প্রস্তুরীভূত দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধটি মঙ্গলঘটের নীচে রেখে পুজো শুরু করেন।রত্নাকর নদীর তীরে মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল বলেই এখানে মায়ের নাম রত্নাবলী।
সাধক স্বরূপানন্দ মহারাজ পঞ্চমুণ্ডির আসনে ঘটে পুজো শুরু করেন। তার বহু কাল পরে মায়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়।এখানে মায়ের চার হাত।
যথারীতি এই মন্দিরের প্রথম পূজারী স্বরূপানন্দ মহারাজের দেখানো পথেই আজও পুজো অনুষ্ঠিত হয়। সেই মতোই সব রীতি নীতি পালন হয় । আজও এখানে নিত্য পুজোর পাশাপাশি অমাবস্যায় হোম যজ্ঞ সহ বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।বহু ভক্ত আসেন।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। একান্ন পীঠের পরবর্তী শক্তি পীঠ নিয়ে। পড়তে থাকুন ।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – বর্গভীমা

আজ একান্ন পীঠ পর্বে আরো একটি সতী পীঠ নিয়ে বলবো যা বর্গভীমা নামে খ্যাত।
পুরাণে কথিত একান্ন সতীপীঠের একপীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা।
কথিত আছে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের খন্ডিত দেবী সতীর বাম পায়ের গোড়ালি এখানে পড়েছিল। পুরান মতে দেবী বর্গভীমা এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। এছাড়াও দেবীর মন্দির নির্মাণ নিয়ে আরো কয়েকটি মিথ প্রচলিত আছে।
দেবী বর্গভীমা মায়ের মন্দির নির্মাণের সাথে একটি অলৌকিক ঘটনা জড়িত আছে এবং এই ঘটনাটি চন্ডীমঙ্গল কাব্যের নায়ক ধনপতি সওদাগরকে নিয়ে। ধনপতি সওদাগর তাম্রলিপ্ত বন্দর হয়ে বাণিজ্যতরী নিয়ে সিংহল বা আজকের শ্রী লঙ্কায় যাত্রাকালে দেখতে পান এক জন সোনার কলসি নিয়ে যাচ্ছে। ধনপতি সওদাগর কৌতূহলবশত ওই লোককে জিজ্ঞেস করেন এই সোনার কলসি কোথায় পেয়েছে, উত্তরে তিনি বলেন জঙ্গলের মধ্যে একটি পবিত্র কুণ্ড আছে যেখানে পেতলের পাত্র ডোবালে সোনার পাত্র হয়ে যায়। এরপর ধনপতি সওদাগর অনেক পেতলের পাত্র পবিত্র কুন্ডের জলে ডুবিয়ে সোনায় রূপান্তরিত করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাণিজ্যে প্রভূত লাভ হয়। ফিরে আসার সময় তাম্রলিপ্ত বন্দরে নোঙ্গর করে ঐ পবিত্র কুণ্ড ঘিরে দেবী মায়ের মূর্তি ও মন্দির নির্মাণ করেন।সেই মন্দিরই আজকের বর্গভীমা মন্দির।
আরো একটি কিংবদন্তী অনুসারে তাম্রলিপ্ত নগরীর রাজা তাম্রধ্বজ দেবীবরণ মায়ের মন্দির নির্মাণ করে। রাজা তাম্রধ্বজের নিয়োজিত এক জেলেপরিবার প্রত্যহ রাজপরিবারে মাছ সরবরাহ করত। রাজ পরিবারে প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ জেলে বউয়ের প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ রাজ পরিবারের জন্য জোগাড় করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এরকম একদিনে ওই জেলে বউ মরা মাছ নিয়ে জঙ্গলের সম্পুর্ন পথ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে রাজপরিবারের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রাস্তায় অপরিচিতা নারীর দেখা পান। ঐ জেলে বউ তার সমস্যার কথা সবিস্তারে সেই নারীকে বলেন। তখন সেই অপরিচিতা নারী জেলে বউকে বলেন তার মরা মাছ জীবিত করা সম্ভব। জঙ্গলের মধ্যে এক কুন্ড আছে সেই কুন্ডের জল মাছের উপর ছড়ালেই মরা মাছ জ্যান্ত হয়ে যাবে। এই কথা বলার পর ওই অপরিচিতা নারীর দেখা আর পাননি ঐ জেলে বউ। অপরিচিতা নারীর বর্ণিত পবিত্র কুন্ডু খুঁজে পান জেলে বউ এবং কোন সেই কুণ্ডের জল মরা মাছের ওপর ছড়াতেই মাছ জ্যান্ত হয়ে যায়। এরপর জেলে বউ প্রতিদিনই কুন্ডে জল ছিটিয়ে মরা মাছ জ্যান্ত করে রাজপরিবারের জন্য নিয়ে যায়। প্রতিদিন জ্যান্ত মাছ সরবারহ দেখে তাম্রলিপ্ত রাজার সন্দেহ। জেলে বউকে জিজ্ঞেস করতেই সে সব সত্যি কথা বলে দেয়। রাজা তাম্রধ্বজ সপারিষদ সেই কুণ্ড দেখতে এলে দেখতে পান একটি বেদী ও বেদীর উপর অধিষ্ঠিত দেবী মূর্তি। রাজা তাম্রধ্বজ জঙ্গল পরিষ্কার করে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণ করেন। অনেকের মতে এটি দেবী বর্গভীমা মন্দির রূপে বর্তমানে পুজিত হয়
বর্তমানে মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরে তৈরি বর্গভীমা মায়ের মূর্তি বিরাজ করছে দেবী উগ্রতারা রূপে।পুরান মতে দেবী ধর্ম-অর্থ-কাম ও মোক্ষ এই চারটি বর্গ দান করেন বলেই মায়ের নাম দেবী বর্গভীমা।
নীল তন্ত্র মতে মায়ের আরাধনা করা হয় এখানে। কালীপুজোর দিন রাজবেশে মাকে সাজিয়ে মহা ধুমধামে পুজো হয়। বছরের অন্য দিনগুলিতে মাকে ভোর চারটেয় স্নান করিয়ে স্বর্নালঙ্কারে সাজানো হয়। অন্নভোগে নানা ব্যঞ্জনের পাশাপাশি এখনও রোজ মাকে নিবেদন করা হয় শোল মাছের ঝোল। আজও তমলুকের কোন কালীপুজো শুরু হয় না দেবী বর্গভীমা মায়ের পুজো না দিয়ে।
চলবে একান্ন পীঠ ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো শক্তি পীঠ নিয়ে। পড়তে থাকুন|
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – ভ্ৰমরী

জলপাইগুড়ির জল্পেশ ধামেই রয়েছে একটি জাগ্রত সতী পীঠ এবং জল্পেশ্বর মহাদেব এই
শক্তি পীঠের ভৈরব। একান্ন পীঠের অন্যতম এই শক্তিপীঠের নাম ভ্রামরী।আজকের পর্বে
এই শক্তিপীঠ সম্পর্কে জানবো।
পুরাণ অনুসারে অরুণাসুর নামে এক অসুর ব্রহ্মার থেকে বরদান পেয়েছিল যে কোনো দ্বিপদী বা চতুষ্পদী প্রাণী তাকে হত্যা করতে পারবে না। এই বরের অহংকারে মত্ব হয়ে সে কৈলাস আক্রমণ করেছিল তখন দেবী পার্বতী ভ্রামরী রূপ ধরে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং সাথে নেন শতসহস্র ভ্রমরকে। তারা অরুণাসুরকে দংশন করে এবং শেষে বধ করে। দেবীর এই ভ্ৰমরী রূপেরই পুজো হয় জলপাইগুড়ির এই শক্তি পীঠে।
বর্তমানে এই এই সতীপীঠ উত্তর বঙ্গের ত্রিস্রোতা বা তিস্তা নদীর ধারে অবস্থিত চার পাশে বৈকুণ্ঠ পুরের জঙ্গল।পীঠনির্ণয়তন্ত্র মতে এখানে দেবীর বাম চরণ পড়েছিল। বর্তমান মন্দিরটির নির্মাণ নিয়েও একটি জনশ্রুতি আছে।কয়েক দশক আগে লাল শালু পরা এক সাধক এসেছিলেন। তাঁর জটা পা পর্যন্ত ঠেকত। তিনি দীর্ঘদিন এই মন্দিরে পূজা ও যজ্ঞ করতেন। ওই সাধকই তিনটি মোটা গাছের গুঁড়ির নীচে দেবীর পাথররূপী বাম পায়ের সন্ধান পান।
তারপরই সতী পীঠ হিসেবে এই মন্দিরের জনপ্রিয়তা গোটা উত্তর বঙ্গ জুড়ে দাবা নলের মতো ছড়িয়ে পরে।নতুন করে মন্দির সংস্কার হয়।ভক্ত সমাগম বাড়তে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত। যাঁর কৃপায় বহু বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।তা সে আইনি বিবাদই হোক বা রোগ ব্যাধি ।
শোনা যায় দেবীর মন্দিরে জানানো সব গুলি মনোস্কামনা আজ অবধি পূর্ণ হয়েছে।
ভ্রামরী দেবীর মন্দিরে দুর্গাপুজো এবং মাঘি পূর্ণিমায় বিশেষ পুজোপাঠ হয়। এই সময় দূর-দূরান্ত থেকে এখানে বহু ভক্ত আসেন।
ফিরে আসবো একান্ন পীঠের নতুন পর্ব নিয়ে। আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – ত্রিপুরেশ্বরী

পশ্চিমবঙ্গর প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায়
মাতাবাড়ি গ্রামে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির অবস্থিত।
সতীর একান্ন শক্তিপীঠের মধ্যে এটি অন্যতম।
আজকের একান্ন পীঠ পর্বে ত্রিপুরা সুন্দরী বা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির নিয়ে লিখবো ।
শাস্ত্র মতে দেবী সতীর ডান পা এই স্থানে পতিত হয়েছিল। দেবী সতীকে এই মন্দিরে ত্রিপুরা সুন্দরী বা ত্রিপুরেশ্বরী হিসাবে পুজো করা হয়।
মধ্যযুগে মহারাজা ধন্য মানিক্য দেবীর স্বপ্নাদেশের পর চট্টগ্রাম থেকে দেবী বিগ্রহ নিয়ে এসে মাতাবাড়ির একটি ছোট পাহাড়ের উপর স্থাপন করেন।
এই মন্দিরের গর্ভগৃহে দুটি দেবীমূর্তি রয়েছে।
পাঁচ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মূর্তিটি ত্রিপুরাসুন্দরী নামে পরিচিত এবং দু ফুট লম্বা ছোট মূর্তিটিকে ছোটমা বা চন্ডীমাতা বলা হয় ।ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে দেবী মূর্তির পাশাপাশি নারায়ণ শিলা রয়েছে।
ভারতের স্বাধীনতার পর ত্রিপুরা রাজ্যর ভারতে অন্তর্ভুক্তির সময় ত্রিপুরার তৎকালীন রানী কাঞ্চন প্রভাদেবীর অন্যতম শর্ত ছিল ত্রিপুরাসুন্দরী দেবীর মন্দিরের পরিচালনার ভার সরকারকে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার শর্তে রাজি হয়। এরপরই রাজ্য সরকার ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।বিশেষ বিশেষ তিথিতে পুজোর সময়
রাজ পরিবারের সদস্যদের অর্ঘ্য আহুতি দিতে হয়।
ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির চত্বরে থাকা কল্যাণ সাগর এই শক্তি পীঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই দিঘিতে আছে প্রচুর পরিমাণে কচ্ছপ।এই দীঘিকে খুবই পবিত্র মনে করা হয় এবং ভক্তরা বিশ্বাস করেন এই দীঘির কচ্ছপদের খেতে দিলে তাদের মনোস্কামনা পূর্ণ হবে।
শক্তি পীঠ ত্রিপুরাসুন্দরীকে ‘কূর্ম পীঠ’ ও বলা হয়। অনেকে মনে করেন এই কল্যাণ সাগরের কচ্ছপদের উপস্থিতির জন্যই এইরুপ নাম আবার অনেকে বিশ্বাস করেন যেখানে মন্দির অবস্থিত সেই পাহাড়ের আকৃতি ঠিক কচ্ছপের মত ছিল বলে এই শক্তিপীঠের নামকরণ করা হয় কুর্ম পীঠ।
এখনো অনেকগুলি শক্তিপীঠ নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – নন্দীকেশ্বরী

বীরভূমের পাঁচটি সতীপীঠের অন্যতম সাঁইথিয়ার দেবী নন্দিকেশ্বরী।তন্ত্রচূড়ামণিতে নন্দিকেশ্বরীকে মূল পীঠ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।আজকের একান্ন পীঠ পর্বে এই শক্তি পীঠ নিয়ে লিখবো।
শোনা যায় দাতারাম ঘোষ নামে দক্ষিণেশ্বরের অধিবাসী অধিবাসী। ভাগ্য অন্বেষণে বীরভূমে আসেন এক ব্রিটিশ দের সাথে ব্যবসা করে বহু অর্থ রোজগার করেন পরে দেওয়ান হন এবং শেষে জমিদার হয়েছিলেন।শোনা যায়, দেবী নিজেই স্বপ্ন দিয়ে তাঁর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন জনৈক দাতারাম ঘোষকে।তিনি মন্দির তৈরী করে পুজোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
বিশাল এক বটবৃক্ষ ছাতার মতো ঘিরে রেখেছে নন্দীকেশ্বর মন্দির অঙ্গনটি। এই বটবৃক্ষের নীচেই দেবী নন্দিকেশ্বরীর অবস্থান। ভৈরব এখানে নন্দিকেশ্বর। পুরান অনুসারে এখানে দেবী সতীর কণ্ঠহাড় পতিত হয়েছিলো।
বহু বছর আগে সাঁইথিয়া ছিলো নন্দীপুর। অর্থাৎ দেবী নন্দীকেশ্বরীর নামেই এলাকার নাম ছিলো।
যদিও এখন সাঁইথিয়া নামই ব্যবহার হয়।
শক্তি পীঠ হলেও রথ যাত্রা এখানে অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। স্থানীয় ব্যবসায়ী দের উদ্যোগে মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হয় রথযাত্রা উৎসব। পুরী থেকে জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরামের দারুমূর্তি আনা হয়। সেই মূর্তি অভিষেক পর্বের মাধ্যমে নন্দিকেশ্বরী মন্দিরের প্রবেশপথের পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। তৈরি করা হয় বিশালাকৃতি রথ এবং জগন্নাথদেবের মন্দির।অমাবস্যা তিথি গুলি ছাড়াও রথের সময় এখান ব্যাপক জন
সমাগম হয়।
নন্দীকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গনে মহাসরস্বতী, মহালক্ষ্মী, বিষ্ণুলক্ষ্মী, হনুমান মন্দির, জগন্নাথদেবের মন্দির, কালীয়দমন মন্দির আছে। এগুলির মধ্যে কালীয়দমন মন্দিরটি প্রাচীন।সব মিলিয়ে নন্দীকেশ্বরী শক্তি পীঠ বীরভূমের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে একান্ন পীঠের
পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – যশোরেশ্বরী

আজ একান্ন পীঠ পর্বে যে শক্তিপীঠের কথা লিখবো তা বাংলা দেশে অবস্থিত এবং যশোরেশ্বরী নামে জগৎ বিখ্যাত।
দেহত্যাগের পর দেবী সতীর শরীর যে একান্ন খন্ডে বিভক্ত হয় তার পাঁচটি খন্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এর মধ্যে এর মধ্যে সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুর গ্রামে সতীর করকমল বা পাণিপদ্ম পতিত হয়। পরবর্তীতে এই পবিত্র স্থানেই গড়ে ওঠে
যশোরেশ্বরী মন্দির।
তন্ত্রচূড়ামণিতে বলা হয়েছে—
‘যশোরে পানিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বর /চণ্ডশ্চ ভৈরব যত্র তত্র সিদ্ধ ন সংশয়।’
অর্থাৎ যশোরে সতীর পাণিপদ্ম বা করকমল পড়েছে। দেবীর নাম যশোরেশ্বরী, ভৈরব হলেন চণ্ড। এই সতীপীঠে কায়মনোবাক্যে পুজো করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে সর্বসাধারণের বিশ্বাস।
মনেকরা হয় বহু প্রাচীনকাল থেকেই এখানে এক অজ্ঞাত ব্রাহ্মণ কতৃক নির্মিত যশোরেশ্বরী মন্দির অবস্থিত ছিলো পরবর্তীকালে বাংলার শাসক লক্ষ্মণ সেন তৈরী করেন মন্দির। তার আরো পরে রাজা প্রতাপাদিত্য কর্তৃক মন্দিরের সংস্কার এবং নবরূপ প্রদান করা হয়।
মন্দির নিয়ে একটি অলৌকিক এবং
ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখও পাওয়াযায়।
জনশ্রুতি আছে যে মহারাজা প্রতাপাদিত্যর আমলে তার সেনাপতি এখানকার জঙ্গল থেকে একটি আলৌকিক আলোর রেখা বের হয়ে মানুষের হাতেরর তালুর আকারের একটি পাথরখণ্ডের উপর পড়তে দেখেন।পরবর্তীতে তিনি ওই স্থানে কালীর পূজা করতে আরম্ভ করেন এবং যে স্থানে সেই পাথরটি ছিলো সেই স্থানেই একটি সুন্দর কালী মন্দিরটি নির্মাণ করেন যা আজ যশোরেশ্বরী কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|এই মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন মোঘল সেনাপতি মানসিংহ|
বর্তমানে মন্দির-বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির শুধু মুখমণ্ডলই দৃষ্টিগোচর হয়|মায়ের মাথার ওপর টকটকে লাল রঙের চাঁদোয়া। কণ্ঠে রক্তজবার মালা ও নানা অলংকার। মাথায় সোনার মুকুট। লোলজিহ্বা দেবীর ভীষণা মূর্তি তবে মুখ মন্ডলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতা|
শ্রীযশোরেশ্বরীর পুজো তন্ত্রমতে হয় এবং প্রতিবছর মন্দিরে খুব ধুমধাম করে শ্যামাপুজো হয় যা দর্শন করতে আসেন অসংখ্য মানুষ ও নিজেরদের মনোস্কামনা জানান দেবীর কাছে|
আজ এখানেই শেষ করছি একান্ন পীঠ পর্ব
ফিরে আসবো পরের পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – কালী ঘাট

বাংলার শক্তি পীঠ গুলির অন্যতম কালীঘাট নানা দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ন আজকের পর্বে লিখবো
এই মহা তীর্থ কালীঘাট নিয়ে।
কলকাতার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা ব্যক্তি দের একটি বড়ো অংশ মনে করেন এই কলকাতা নাম টির উৎপত্তি হয়েছে কালী ক্ষেত্র থেকে আর এই কালী কালী ঘাটের কালী|অর্থাৎ কলকতার নামের পেছনেও আছে এই বিশেষ পীঠ টির অবদান|
জনশ্রুতি আছে বহু প্রাচীন কালে যখন এই
অঞ্চল ছিলো ঘন অরণ্যে ঢাকা তখন এই গঙ্গা তীরবর্তী দুর্গম অঞ্চলে কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তি গড়ে তাতে প্রান প্রতিষ্ঠা করেন ব্রহ্মনন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারি নামে দুই সন্ন্যাসী|বর্তমানে আমরা যে কালীঘাট মন্দির টি দেখতে পাই তা নির্মাণ করেন বিখ্যাত সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের শিবদাস চৌধুরী 1809 সালে ও পরবর্তীতে মন্দির টি সংস্কার করেন এই পরিবারের অন্য আরেক জমিদার সন্তোষ চৌধুরী|
বর্তমান মন্দির টি তৈরী হয়েছে এক বিঘের কিছু বেশি পরিমান জমিতে এবং আনুমানিক খরচ হয়েছিলো 300000 টাকা |মন্দির টির উচ্চতা নব্বই ফুট|পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আদি গঙ্গা ও অদূরে কেওড়া তলা মহা শ্মশান|চার পাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরো অনেক গুলি রাধা কৃষ্ণ ও শিবের মন্দির|সব মিলিয়ে সর্বদা এক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে এই বিশেষ শক্তি পীঠ কে কেন্দ্র করে যা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায়না অনুভব করতে হয়, শ্রদ্ধা ও ভক্তি দিয়ে|
পীঠ মালা তন্ত্র মতে সতীর ডান পায়ের চারটি আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো এই পবিত্র স্থানে|যদিও অন্য একটি মত অনুসারে সতীর একটি মাত্র আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো কালীঘাট এর পবিত্র স্থানে|দেবীর ভৈরব রূপে এখানে বিরাজমান নকুলেশ্বর|দেবী এখানে দক্ষিনা কালী রূপে বিরাজ করছেন।
এখানে দক্ষিনা কালী সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলে রাখা ভালো| দক্ষিণাকালী করালবদনা,মুক্তকেশী, চতুর্ভূজা এবং মুণ্ডমালাবিভূষিতা। তার বামকরযুগলে সদ্যছিন্ন নরমুণ্ড ও খড়্গ দক্ষিণকরযুগলে বর ও অভয় মুদ্রা।দক্ষিণা কালীর ডান পা শিবের বুকে। তিনি কালীর অন্যান্য রূপ থেকে কিছুটা ভিন্ন এবং তাকে সাধারণত মন্দিরে পূজা করা হয়। তার গাত্রবর্ণ গভীর নীল,তিনি দিগম্বরী। তার গলায় মুণ্ডমালার হার শোভা পায় |এই রূপ ও এক রহস্য নানা ভাবে যার ব্যাখ্যা করা হয়|দেবীর এই রূপের পুজোই হয় কালীঘাটে।
কালী ঘাট মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবী মূর্তি কষ্ঠি পাথরে নির্মিত|দেবীর জিভ, দাঁত মুকুট, এমনকি মুন্ড মালাটিও সবই স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত |মন্দিরের মধ্যে একটি বিশেষ কক্ষে একটি সুরক্ষিত সিন্দুকে দেবীর প্রস্তরীভূত অঙ্গ টিও স্বজত্নে রক্ষিত আছে যা কখনো জন সমক্ষে আনা হয় না|
এমনিতে প্রায় প্রতিদিনি ভক্ত দের ভিড় উপচে পড়ে কালীঘাটে তবে কিছু বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পূজাঅর্চনা অনুষ্ঠিত হয় |প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ, দুর্গাপূজা ও দীপান্বিতা কালীপূজার দিন মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে|
আজ কালী ঘাট নিয়ে আলোচনা এখানেই
থামাচ্ছি ফিরে আসবো আগামী দিনে পরবর্তী শক্তিপীঠ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – কঙ্কালী তলা

বাংলায় অবস্থিত শক্তি পীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ হল বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমায় অবস্থিত বিখ্যাত কঙ্কালীতলা মন্দির ।আজকের পর্বে এই
প্রাচীন কঙ্কালী তলার ইতিহাস এবং
তার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম নিয়ে লিখবো।
তন্ত্রচূড়ামতির মতে, এটি ২৮ নং সতীপীঠ।
প্রাচীনকালে এই জায়গাটি কাঞ্চি নামে প্রসিদ্ধ ছিল।পুরান মতে মতে দেবী সতীর কাঁখাল অর্থাৎ কোমর পড়েছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের কোপাই নদীর তীরে । মতান্তরে দেবী সতীর কঙ্কাল পড়েছিল এই স্থানে।তাই পরবর্তীকালে কঙ্কালীতলা নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করে।ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে লেখা রয়েছে, এখানে সতীর কটিদেশ বা কোমরের অংশটি পরেছিল।এখানে দেবীর নাম দেবগর্ভা ও দেবীর রক্ষক ভৈরবের নাম রুরু ।
জনশ্রুতি আছে যে আজ থেকে কয়েকশো
বছর আগে এক সাধু স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠের অস্তিত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তার পরে অন্য এক মাতৃসাধক দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠে পুজোর শুরু করেন।
এই শক্তি পীঠে রয়েছে একটি রহস্যময় জলাশয় বা কুন্ড শোনা যায় কঙ্কালীতলার কুন্ডের সঙ্গে কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সরাসরি সংযোগ আছে । এই জলাশয়েই আছে দেবী সতীর প্রস্তুরীভূত দেহেরঅংশ যা কুড়ি বছর অন্তর কুন্ড থেকে তোলা হয় পুজার্চনার জন্য। পুজোর পরে আবার কুন্ডের জলে ডুবিয়ে রাখা হয়।
দেবীর কোনও মূর্তি নেই কঙ্কালী তলায় তার বদলে এখানে রয়েছে শ্মশানকালীর বড় বাঁধানো ছবি। যাকে দেবী রূপে পুজো করা হয়।
নিত্য পুজো ও ভোগ বিতরণ হয় এই কালী ক্ষেত্রে এই কঙ্কালীতলা গুপ্ত তন্ত্রসাধনার জন্য খুবই বিখ্যাত।তন্ত্র সাধকদের পাশাপাশি এখানে প্রায় সারা বছর সাধারণ পর্যটকদের ভিড় লেগে
থাকে এই শক্তি পীঠে।
ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো শক্তি পীঠ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – বক্রেশ্বর

আজ শক্তিপীঠ বক্রেশ্বর নিয়ে লিখবো।
পীঠমালা, কালিকাপুরাণ ও তন্ত্রচূড়ামণি গ্রন্থে বক্রেশ্বরের উল্লেখ আছে।
আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে বক্রেশ্বর ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা নির্জন ভূমি। চৈতন্য ভাগবতে তার প্রমাণ মেলে। কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণের পর মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য বলেছিলেন, ‘বক্রেশ্বর আছেন যে বনে, তথায় যাইনু মুঁঞ্চি থাকিমু নির্জনে।’ সেই সময়টায় তান্ত্রিক, ভৈরবী, অঘোরপন্থীদের দাপট ছিল বক্রেশ্বরে।
বক্রেশ্বরের সঙ্গে জড়িয়ে ঋষি অষ্টাবক্রের কাহিনি। কথিত আছে, অষ্টাবক্র মুনি প্রথমে কাশীতে উপাসনার সংকল্প নেন। কিন্তু কাশীর বিশ্বনাথ স্বয়ং তাঁকে গৌড়দেশের গুপ্তকাশী বক্রেশ্বরে গিয়ে সাধনা করতে বলেন
সতীর ভ্রুসন্ধি বা মনঃস্থান পড়েছিল বলে, ভারতবর্ষের একান্ন পীঠের মধ্যে বক্রেশ্বরকে মহাপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়। তন্ত্রের ভাষায় ওই মনঃস্থানকে আজ্ঞাচক্র বলে।
পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে আজকের বক্রনাথের মন্দির সাতশো বছরের বেশি পুরনো। নির্মাণ করিয়েছিলেন রাজা নরসিংহ দেব। বাংলায় সুলতানি শাসনে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজা দর্পনারায়ণ সতেরোশো একষট্টি খ্রিস্টাব্দে তা সংস্কার করেন।
মহাপীঠ বক্রেশ্বরকে বেষ্টন করে রয়েছে সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ এবং একটি শীতল জলের কুণ্ড। মাটির নিচ থেকে জলের নিরন্তর বিচ্ছুরণ হয়ে চলেছে অলৌকিক ভাবে।
বক্রনাথের মন্দিরে ভগবানের চেয়েও উচ্চাসনে রয়েছেন তাঁর ভক্ত। গর্ভৃগৃহে পিতলের ধাতু মণ্ডিত উঁচু যে শিলা রয়েছে তা অষ্টাবক্র মুনির। এর ঠিক পাশেই কিছুটা নিচে বক্রেশ্বর মহাদেবের ছোট শিলা।
দেবীমন্দিরে বেদীর ওপরে ভ্রুসন্ধির প্রস্তুরীভূত রূপটি রক্ষিত আছে। জনশ্রুতি আছে যে খাকি খাকিবাবা নামে খ্যাত এক সিদ্ধ সন্ন্যাসী শাস্ত্র মতে বহু যুগ আগে বেদীতে এটির প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রায় প্রত্যেক অমাবস্যায় এই বক্রেশ্বর পীঠে অসংখ্য দর্শণার্থী আসেন। তন্ত্র মতে পুজো এবং হোম যজ্ঞ হয়।
আজকের একান্ন পীঠ পর্ব এখানেই শেষ করছি পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

একান্ন পীঠ – প্রভাস

একান্ন পীঠের অন্যতম শক্তি পীঠ গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের সোমনাথ জেলায় অবস্থিত।এই শক্তি পিঠের নাম প্রভাস।সতীর পাকস্থলী অথবা উদারভাগ এই স্থানে পতিত হয়েছিল।
প্রভাস শক্তিপীঠে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন চন্দ্রভাগা এবং ভৈরব হলেন বক্রতুণ্ড।
প্রভাস শক্তি পীঠের সাথে জড়িত রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনী পৌরাণিক কাহিনীএই স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে সত্য যুগে চন্দ্র প্রজাপতি দক্ষ রাজার ২৭ জন কন্যাকে বিবাহ করলেও শুধুমাত্র রোহিনীর প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন বেশি তার বাকি ২৬ জন স্ত্রী অবহেলিত ও অপমানিত বোধ করে তাদের বাবা দক্ষকে নালিশ করেন।
এই কথা শুনে দক্ষ রাজা, চন্দ্রকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাবেন। তখন চন্দ্র শাপমোচনের জন্য এই প্রভাস নামক স্থানে এসে শিবের আরাধনা করতে শুরু করেন। শিবের কৃপায় তার শাপ মোচন হয় এবং পরবর্তীতে প্রভাস তীর্থের কাছেই স্বয়ং চন্দ্র দেব সোমনাথ মন্দির তৈরি করেছিলেন।
বর্তমানে সোমনাথ মন্দির থেকে কিছুটা দূরে প্রভাস শক্তি পীঠ বা চন্দ্রভাগা দেবীর এই মন্দিরটি অবস্থিত। সেই পৌরাণিক কালের ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরটির রুপই এখনও বর্তমান।
পাথরের তৈরি এই মন্দিরের গায়ে বিভিন্ন দেবতার মূর্তি খোদাই করা আছে। সঠিক কোন সময়ে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছিল তার কোন ঐতিহাসিক তথ্য আজও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
তবে ঐতিহাসিক তথ্য মতে চন্দ্রভাগা দশভুজা সিংহ বাহনা রূপে রানী অহল্যা বাইকে স্বপ্নে আদেশ দিয়ে বলেন যে, ভূগর্ভে চাপা পড়া সতীর অঙ্গ উদ্ধার করে মন্দির সংস্কার করে পুজো শুরু করতে ।এরপরই দেবীর স্বপ্নের আদেশ মতো অহল্যা বাই সেই অঙ্গশিলা উদ্ধার করে দেবীর মন্দির সংস্কার করে নিত্যদিনের পুজোর আয়োজন করেন।সেই সময় থেকেই প্রভাস শক্তিপীঠের জনপ্রিয়তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।দেবী চন্দ্র ভাগা কে দেবী উমা নামেও ডাকেন তার ভক্তরা।
শিবরাত্রি এবং কার্তিক পূর্ণিমার সময় সোমনাথ মন্দিরে ভিড় হওয়ার দরুন এখানেও ভিড় হয়। তবে নবরাত্রির সময় এখানে প্রচুর পরিমাণে ভক্তদের সমাগম দেখা যায়। তাছাড়া প্রায় সারা বছর ধরে এখানে পূজা অর্চনা চলতে থাকে। আর তাই সারা বছর সমগ্র দেশ থেকে এবং দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্ন মানুষ এখানে আসেন পূজা দিতে।
আপাতত প্রভাস শক্তি পীঠ নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।