Home Blog Page 88

কালীকথা – মহিষখাগী কালীর পুজো

শান্তিপুর তথা নদিয়ার প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মহিষখাগীর পুজো।দেবীর এই অদ্ভুত নামের কারন এক অলৌকিক ঘটনা।আজকের কালীকথায় জানাবো এই মহিষ খাগী নামক কালী পূজোর অলৌকিক বৃত্তান্ত।সময়টা আনুমানিক সাড়ে পাঁচশো বছর আগের কোনও এক সময়।বাংলায় তখন নবাবী আমল চলছে। নদীয়া রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তখন সিংহাসনে।শান্তি পুরে এক তান্ত্রিক পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে সাধনা করতে করতে মায়ের দর্শন পান।স্বপ্নে দেবী সেই তান্ত্রিককে মহিষের রক্ত দিয়ে তাঁকে পুজো করতে নির্দেশ দেন। অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় সেই নির্দেশ।সেই থেকেই দেবীর নাম এখানে ‘মহিষখাগী’।দেবীর কাছে করা সব মনোস্কামনা সত্যি হয় এই কথা শুনে এক বার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র আটটি মহিষ বলি দিতে এসেছিলেন মায়ের কাছে। সেই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যায়। তাই পুজোকে দুই পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছিল। বলির আগে পর্যন্ত পুজোর প্রথম পর্ব। আর বলির পরবর্তী সময়ে পুজোর দ্বিতীয় পর্ব।তবে মহিষবলী দিয়ে পুজো সম্পন্ন করে ফিরে যান মহারাজ।এই মহিষখাগীর পুজোয় একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে।এখানে বিয়ের রীতি মেনে মহিষখাগীর পুজো হয়। প্রথম পাটে ওঠানোর দিনে থাকে বিভিন্ন নিয়মরীতি। পাটে ওঠানোর পর মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে সেই দিনই ভোররাতেই বিবাহের ন্যায় দধিমঙ্গল হয়। অমাবস্যা শুরু হলে বিয়ের রীতি মেনে পুজো হয়। আবার পরের দিন বাসি বিয়ের রীতিতে পুজো হয়।সকালে পান্তাভাত এবং খয়রা মাছের রান্না দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়।পুজো শেষে কাঁধে করে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা।এই রীতিই এখানে পাঁচশো বছর ধরে চলে আসছে।স্বপ্নাদেশ পাওয়া ওই তান্ত্রিকের মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি ব্রাহ্মণ পরিবার এই পুজোর ভার নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুজোর দায়িত্ব নেয় এবং তারাই বর্তমানে মহিষখাগী মায়ের পুজো সুন্দর ভাবে পরিচালনা করছে।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।এমনই কালী কথা নিয়ে।থাকবে এমন সব অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – রামানন্দ গোস্বামীর পুজো

বাংলা জুড়ে যে সব কালীক্ষেত্র গুলি অবস্থান করছে তাদের মধ্যে বেশ কিছু মন্দিরে সাথে জড়িত আছে প্ৰখ্যাত সব সব তন্ত্র সাধকদের নামযেমন তারাপীঠে বামা ক্ষেপা, দক্ষিনেশ্বরের ঠাকুর রামকৃষ্ণে।তেমনই বর্ধমামানের মানকরের শতাব্দী প্রাচীন কালী পূজোর সাথে জড়িয়ে আছেএক সময়ের প্রসিদ্ধ তন্ত্র সাধক রামানন্দগোস্বামীর নাম।প্রায় সাতশো বছর আগে কালী পূজা শুরু করেন রামানন্দ গোস্বামী ।তাঁর সাধনার স্থান ছিল কাশ আর বেতবনে ঘেরা শ্মশান।তিনি ছোটবেলা থেকে কালী মায়ের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন । যদিও রামানন্দ গোস্বামীর পিতা কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার জন্য পুত্রের কালী-মা ভক্তি মোটেই পছন্দ করতেন না ।দীর্ঘ সময় কঠোর সাধনা করে মায়ের দর্শন পেয়ে ছিলেন রামানন্দ গোস্বামী । মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন ঠাকুর রামানন্দ।সেই শ্মশানের মধ্যে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে মায়ের মন্দির তৈরী করেছিল। সেই পুজোই আজ বিখ্যাত এই কালী পূজোর আকার নিয়েছে।তার শৈশবের সময় থেকেই বহু অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়। একবার সাধক রামানন্দ যখন সেই শ্মশানে ধ্যানে মগ্ন তখন পাড়ার কেউ তাঁর বাবাকে এই  খবর দিয়েছেন । তাঁর কৃষ্ণভক্ত বাবা সাথে সাথে শ্মশানে আসেন কিন্তু শুধু কৃষ্ণ ছাড়া তিনি আর কিছুই দেখতে পাননি । একটি শাঁখারী পরিবারের বংশধরেরা এখানে নিয়মিত মায়ের পুজোয় শাঁখা দিয়ে যায়। তারও একটি বিশেষ কারন আছে।শোনা যায় একদিন এক শাঁখারী মায়ের পুকুর পাড় দিয়ে যাচ্ছেন । এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চায় । শাঁখারী দু-হাতে শাঁখা পরিয়ে টাকা চায় । মেয়েটি তখন উত্তরে জানায়,’ মন্দিরের কুলুঙ্গিতে বেলপাতা ঢাকা দু-টাকা রাখা আছে বাবাকে দিতে বলবি ‘ শাঁখারী তাঁর কথা মতো পুরোহিতের কাছে সমস্ত কথা বলেন । পুরোহিত অবাক হয় এবং পরে সেখানে দুটি টাকা পাওয়া যায়। তিনি দু-টাকা সেখান থেকে নিয়ে শাঁখারীকে দিয়ে বলেন যে তার তো কোনো মেয়ে নেই । দুজনে সেই স্থানে ফিরে গেলেও মেয়েটিকে আর দেখতে পাওয়া যায়নি । তখন ঠাকুর বুঝতে পেরে পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েই মাকে শাঁখা দেখানোর অনুরোধ করেন । সন্তানের অনুরোধে মা কালী স্বয়ং পুকুরের মাঝে তার হাত তুলে শাঁখা দেখায় ।কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এখানে রাত্রে মায়ের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিষিদ্ধ ।কথিত আছেবহু বছর আগে একবার এক প্রতিমাশিল্পী  রাত্রে মায়ের চক্ষুদান করছেন ।  ওই সময় এক অদৃশ্য হাত শক্তি তাকে মন্দিরে বাইরে বের করে দিয়েছিলো। পরের দিন সকালে তাকে আহত অবস্থায় মন্দিরের বাইরে উদ্ধার করা হয় ।অন্যদিকে মায়ের মুর্তিতে ছিন্নভিন্ন রক্তের দাগ দেখতে পায় । তখন থেকে আজও মায়ের প্রতিমা দিনেই তৈরী করা হয় ।প্রতি অমাবস্যায় এখানে তন্ত্র মতে বিশেষ পুজো অর্চনা হয়। বহু মানুষ আসেন পুজো দেখতে।প্রতি বারের ন্যায় আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় রীতি মেনে মায়ের পুজো হবে।ভুলবেন নে এই কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্র মতে যেকোনো গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। যা আপনারাও চাইলে কাজে লাগাতে পারেন।ফিরে আসবো আগামী পর্বেএমনই কালী কথা নিয়ে।থাকবে এমন সব অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ক্ষেপী কালী মায়ের পুজো

আজথেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে কাটোয়ায় ছিলো ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে ছিলো মালো জাতির বাস। পেশায় তারা ছিলো জেলে। এই জেলেদের সর্দার নরেন ক্ষেপা ছিলো কালী সাধক। তিনি স্বপ্নে দেখে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেন এক কালী মূর্তি। সেই মূর্তি স্থাপিত হয় জঙ্গলে। নরেন ক্ষেপার সেই কালী মা পরবর্তীতে ক্ষেপী কালী নামেই প্রসিদ্ধ হয়।কাটোয়ার ক্ষেপী মায়ের মন্দির যে স্থানে আছে সেই স্থান গঙ্গার  ঘাট থেকে পাঁচশো মিটার দূরে অবস্থিত।স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম কারন এই স্থানেই কেশবভারতীর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন চৈতন্য দেব। সেই সময়ে এই স্থানে বৈষ্ণব প্রাধান্য ছিলো লক্ষ্যনীয়। তবুও নরেন ক্ষেপার কালী পুজো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।দেবীর ক্ষেপীমা নামের দুটি ব্যাখ্যা আছে। প্রথমত নরেন ক্ষেপা এলাকায় ক্ষেপা নামেই পরিচিত ছিলো অনেকে মনে করেন ক্ষেপা ছেলের মা মা হিসাবে দেবীর ক্ষেপী মা নাম হয়। আবার অনেকে বলেন। কোনো এক সময়ে এক তন্ত্র সাধিকা এখানে মায়ের সাধনা করতেন। তিনি ক্ষেপী নামে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার নাম থেকেই দেবীকে ক্ষেপী নামে ডাকার সূচনা হয়।এখানে পূজোর একটি প্রাচীন এবং অদ্ভুত রীতি আছে।এখানে মালোদের স্পর্শ ছাড়া পুজো পক্রিয়া শুরু হয়না। প্রতি পূজোর আগে মালো জাতির লোকেরা এসে দেবীকে বেদিতে স্থাপন করেন। এবং কিছু শাস্ত্রীয় উপাচারের পর শুরু হয় পুজো।শোনা যায় ক্ষেপিমার কাছে কিছু চাইলে খালি হতে ফেরত যেতে হয়না।ভক্তদের এমনই বিশ্বাস ক্ষেপী মায়ের প্রতি । মায়ের অগণিত ভক্তরা মাকে সাজিয়েছে সাড়ে তিন কেজির বেশি  সোনার গয়নায়। কৌশিকী অমাবস্যায় ভোর চারটে থেকে  শুরু হয় পুজো। মঙ্গল আরতি দিয়ে ক্ষেপি মাকে আহ্বান করে।  ক্ষেপি মা-র দর্শনে দিনরাত ভক্তদের সমাগম হয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো এমনই কোনো ঐতিহাসিক পুজোর কথা নিয়ে।থাকবে বহু অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – ঋষিপুরের বড়মার পুজো

আজকের কালী কথা পর্বে আপনাদের স্বাগত জানাই।নৈহাটির বড়মাড় কথা আপনারা জানেন। আজ আপনাদের অন্য এক বড়মাড় কথা জানাবো। মুর্শিদাবাদের ঋষিপুর গ্রামে হয় এই বড়মার পুজো।প্রায় পাঁচশো বছর আগে মুর্শিদাবাদের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছিলো ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জঙ্গলে ছিলো এক কালী মন্দির এবং মন্দিরের সামনে ছিলো বিশাল বিল। বিলের জলে জেলেরা মাছ ধরতে নামার আগে দেবী কালিকাকে তুষ্ট করে তবে নামত জলে।রাতের বেলায় ডাকাত রা এসে এখানে কালী পুজো করে ডাকাতি করতে যেতো।সেই সময় থেকেই এই খানে পুজোয় এক অদ্ভুত রীতি অনুসরণ করা হয়। এক রাতের মধ্যে মূর্তি তৈরি করে রাতেই বিসর্জন দেওয়া হতো বিলের জলে। সকালে গ্রামবাসীরা প্রাচীন বট গাছের নীচে ফুল, বেলপাতা, সিঁদুর পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিন্তু, মুর্তি কেউ দেখতে পাননি।এই দেবী বর্তমানে ঋষি পুরের বড়মা নামে প্রসিদ্ধ। সেই জেলেরাও নেই সেই ডাকাতরাও নেই। এখন পূজোর ভার গ্রামবাসি দের উপর। তারাই পরম ভক্তিতে সব রীতি মেনে বড়মার পুজো করে।বড়মা রূপে দেবী কালীই পূজিত হন।কৌশিকী অমাবস্যা সহ প্রতি অমাবস্যায় বড়মার বিশেষ পূজোর আয়োজন করা হয় । কোনও আড়ম্বর শোভাযাত্রা ছাড়া গভীর রাতে বিলের জলে বিসর্জন দেওয়া হয় ঋষিপুরের বড়মাকে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবীর গায়ের গয়না-সহই বিসর্জন হয়।এখানে কারুর মনোস্কামনা পূরণ হলে তিনি কালী মূর্তি প্রদান করেন তাই বহু কালী মূর্তি একসাথে জমা হয় এবং ঋষিপুরে কালীপুজোর রাতে এক সঙ্গে পুজো হয় একাধিক মূর্তির। যদিও মূল মূর্তি বড়মা।বাকি মূর্তিগুলি তারসাথেই তার পুজো হয়।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতী এই পূজোর অন্যতম বৈশিষ্ট জনশ্রুতি অনুযায়ী এক মুসলিম গুড় বিক্রেতা একবার এইখানে বটগাছ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সে সময় স্বপ্নাদেশ পান বড়মা গুড় খেতে চেয়েছেন। তিনি গুড় অর্পণ করেন দেবীর উদ্দেশ্যে তারপর থেকে আজও সেই মুসলিম পরিবার আখের গুড় পাঠায় পুজোর সময়। উভয় সম্প্রদায় পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।বড়মা সম্পর্কে আরো একটি অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়, এক বছর বিসর্জনের সময় দেবী মূর্তির গা থেকে গয়না খুলে নিতে গিয়েছিলেন পুরহিত। সে সময় কালী মূর্তিতে আগুন ধরে যায়। তারপর থেকে আর অলংকার খোলা হয়না সোনার অলংকার সহ বিসর্জন হয় আবার অলংকার তৈরী করা হয় নতুন করে। বহু বছর ধরে এই রীতি চলছে বড়মার পুজোয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। এই কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ

কালী কথা – বাহাদুরপুরের খ্যাপামা

আজ বর্ধমানের এমন এক প্রাচীন কালী পুজো নিয়ে লিখবো যেখানে আজও পঞ্চমুণ্ডির আসনে পূজিত হন দেবী কালী। বর্ধমানের গ্ বাহাদুরপুর গ্রামের এই কালী খ্যাপামা নামেই বেশি জনপ্রিয়।প্রায় তিনশো বছর আগে এই অঞ্চলে ঘন জঙ্গলের ভিতরে শ্মশানে বাস করতেন এক সাধক। তিনিই জঙ্গলের ভিতর খ্যাপামার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পঞ্চমুণ্ডির আসনে রেখে দেবীর পুজো হত। তার অবর্তমানে তার নির্দেশেই এক শিষ্য পুজোর দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে সেই সাধক খ্যাপামাকে বাহাদুরপুর গ্রামে এনে তার পুজো শুরু করেছিলেন।যার মাধ্যমে দেবীর বাহাদুর পুরে আগমন সেই সাধকের পরিবারের এক সদস্য খ্যাপামার পুজোর জন্য নয় বিঘা জমি দান করেছিলেন।জন্ম সূত্রে সেই সাধকের পরিবার হল এই পুজোর বর্তমান সেবাইত।ইতিহাস অনুসারে বাহাদুরপুরে আনার পর একটি গাছের তলায় প্রথমে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার পর মাটির মন্দির তৈরি করে সেখানে দেবীর পুজো শুরু হয় । পরবর্তীতে অন্যত্র মন্দির স্থানান্তরিত হয় তবে যে জায়গায় দেবীকে প্রথম এনে রাখা হয়েছিল সেখানে এখনও ঘট এনে প্রথম পুজো করা হয়। তার পর মূল মন্দিরে পুজো শুরু হয়।প্রাচীন রীতি মেনে আজও পঞ্চমুণ্ডির আসনে পুজো হয় বাহাদুরপুরের খ্যাপামার।দেবীর কাছে অনেকে অনেকে মানত করেন এবং দেবী খুবই জাগ্রতা। তিনি ভক্তদের সব মনোস্কামনা পূর্ণ করেন বলে বিশ্বাস।কৌশিকী অমাবস্যা সহ প্রতি অমাবস্যায় গভীর রাতে দেবীর পুজো হয়।এখানে বলী প্রথা আছে।পুজোয় যে ছাগ প্রথমে বলি দেওয়া হয় সেই ছাগের মাংসের কিছুটা অংশ রান্না করে দেবীকে ভোগ দেওয়া হয়। এই প্রথা এখনও চলে আসছে।খ্যাপামার পুজোয় এক কুইন্টাল পাঁচ কেজি আতপ চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাঁচ কেজি চালের ভাত, বিভিন্ন পদের রান্না দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। সঙ্গে ৫ কেজি আটার লুচি দিয়ে ভোগে দেওয়া হয়। পুজোয় লাগে বেসনের ফুলুরি, মুড়কি, নাড়ু ইত্যদি।পুজোর দিন তিন হাজার মানুষকে পদ্ম পাতায় ভোগ খাওয়ানোর রেওয়াজ এখনও রয়েছে।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।মনে রাখবেনএই কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। ফিরে আসবো আগামী দিনে।নতুন পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – চাঁচলের ঐতিহাসিক কালী দৌড়

কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে চলছে কালী কথা। আজ অবধি এই কালী কথা অনুষ্ঠানে বহু ঐতিহাসিক কালী মন্দির এবং অলৌকিক ঘটনার কথা বলেছি। আজ এমন এক কালী পুজোর কথা লিখবো যা বিখ্যাত একটি অদ্ভুত রীতির জন্য যাকে লোকে বলে কালী দৌড়।সে প্রায় তিনশো বছর আগেকার কথা।মালদার চাঁচল রাজার উদ্যোগে মালতীপুরে শুরু হয় কালীদৌড়। আগে এখানে কালীপুজো হত দুটি। একটি পুজো হত স্থানীয় জমিদারের উদ্যোগে। অন্যটি মিলিতভাবে করতেন গোটা এলাকার বাসিন্দারা। একসময় রাজার খেয়াল হল ওই দুই কালীপুজোর উদ্যোক্তাদের কাঁধে দেবী প্রতিমাকে নিয়ে দৌড়তে হবে। আর রাজা বসে সেই দৌড় দেখবেন। দেবী প্রতিমাকে নিয়ে দৌড়ে যারা জয়ী হবেন তাদের পুরস্কৃত করবেন স্বয়ং রাজা। সেই থেকে শুরু।আজও চলছে কালীদৌড় প্রথা।তবে অনেকের মতে এই রীতির পিছনে লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন ইতিহাস। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে মালদার চাঁচলের তৎকালীন রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী চালু করেছিলেন এই কালী দৌড় প্রতিযোগিতা কারন সেই সময় মালদার মালতীপুর এলাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল একটিমাত্র।সেই পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হত একাধিক কালী প্রতিমাকে।কার প্রতিমা আগে বিসর্জন হবে সেই নিয়ে বিতর্ক লেগেই থাকতোতাই রাজা শরৎচন্দ্র রায় বাহাদুর সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া করার জন্য শুরু করেছিলেন এই প্রতিযোগিতা।এক দীপান্বিতা অমাবস্যার পরের দিন সন্ধ্যার সময় মালতিপুর বাজারে একটি কালী দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। এই প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল এই কালী দৌড়ে যার কালী প্রতিমা অক্ষুন্ন থাকবে সেই প্রতিমাকেই প্রথম বিসর্জন দেওয়া হবে কালী দিঘিতে। সেই দৌড়ের রীতি চলে আসছে আজও।বর্তমানে এই এলাকায় ছোটো বড়ো মিলিয়ে মোট আটটি কালী পুজো হয়। পুজো কমিটি এবং এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে ছোটেন ঘাটের দিকে।নিদ্দিষ্ট সময়ে পূর্ব নির্ধারিত মালতিপুর কালীবাড়ি লাগোয়াপ্রাচীন কালী দীঘিতে বিসর্জন হয় ।এই প্রতিযোগিতার আবহ উপভোগ করতে ভিড় বহু দর্শণার্থী।নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রমী এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন এই প্রতিযোগিতা এই কালী পুজোয় অন্যএক মাত্রা যোগ করে এবং অদ্ভুত এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।মনে রাখবেনএই কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। ফিরে আসবো আগামী দিনে।নতুন পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – গগন ডাকাতের কালী পুজো

বাংলার প্রাচীন কালী পুজো গুলির মধ্যে
বেশ কিছু পূজোর সাথে জড়িয়ে আছে এক কালের দুর্ধর্ষ ডাকাতদের নাম। এমনই এক ঐতিহাসিক পুজো হুগলীর গগন ডাকাতের পুজো।
আজকের পর্বে এই গগন ডাকাতের পুজো
নিয়ে।

সময় টা স্বাধীনতার অনেক আগের তখন ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল হুগলী জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সেই জঙ্গল দাপিয়ে বেড়াতো ডাকাত আর বন্যা হিংস্র জন্তু। এই জঙ্গলে ডাকাতরা ঘট প্রতিস্থাপন করে মা কালী পুজো করতেন। তখনো দেবী কালীর পুজো সেই ভাবে মধ্য বিত্ত গৃহস্ত বাঙালি বাড়িতে সেই জনপ্রিয়তা পায়নি।দেবী কালীর পুজোর করতো তন্ত্র সাধকরা এবং দুস্যু দল।
ডাকাত গগনের ছিলো বিরাট দল। সে ছিলো বেজায় কালী ভক্ত। প্রতিটি ডাকাতির আগে সে ভক্তিভরে কালী পুজো করতো।

স্বাধীনতা পরবর্তীতে ডাকাত দলের দাপট কমে এবং ডাকাত দের কালী পুজোও কমে আসে। শোনা যায় কিছুকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর দেবী একই সাথে প্রায় একই সময়ে স্বপ্নাদেশ দেন স্থানীয় দুজনকে একজনকে বলেন মূর্তি তৈরি করতে ও অন্যজনকে বলেন মন্দির তৈরি করতে। মন্দির তৈরি করতে বলেন বর্ধমানের মহারাজা কে আর মূর্তি করতে বলেন এক প্রভাবশালী মোড়লকে।স্বপ্নাদেশ অনুসারে মন্দির তৈরী করে দেবী মূর্তি স্থাপন করে আবার ধুমধাম করে শুরু হয় কালী পুজো।

শোনা যায় গগন ডাকাতের সময়ে এখানে স্বয়ং মা সারদার পদধূলি পড়েছিলো। ডাকাত দল সারদাদেবীকে চাল কলাই ভাজা খেতে দেয়। পরিবর্তিতে সারদার মধ্যে তারা মা কালীকেও দর্শন করেন এবং তাকে প্রণাম করে তার আশীর্বাদে পায় এবং নিজেরা গিয়ে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

গগন ডাকাতের কালী পুজোয় চার প্রহরে চারবার পুজো হয় ।রয়েছে পশু বলি প্রথা। মায়ের ঘটে জল বছরে একবারই পাল্টানো হয়। বাগদীদের দেওয়া জল মায়ের ঘটে দেওয়া হয়। ঘট পাল্টানোর সময় কোন মহিলা মন্দিরের ভেতর থাকে না শুধুমাত্র পুরুষেরাই থাকেন।

প্রত্যেক অমাবস্যায় বিশেষ হোম যজ্ঞ এবং বিশেষ
পুজোর ব্যাবস্থা হয়। যার মধ্যে কৌশিকী অমাবস্যা অন্যতম। কৌশিকী অমাবস্যার আর বেশি দেরি নেই। নতুন সাজে সেজে উঠবে বাংলার এই
প্রাচীন কালী ক্ষেত্রে।

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো এমনই কোনো ঐতিহাসিক পুজোর কথা নিয়ে।
থাকবে কিছু অলৌকিক ঘটনা।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – গুপ্ত সতিপীঠ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক বাংলায় শক্তিপীঠের সংখ্যা নেহাত কম না। তারমধ্যে বেশিভাগ শক্তি পীঠ রয়েছে বীরভূমে যেগুলি নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছি।আবার বহু শক্তি পীঠ আছে যেগুলির সঠিক অস্তিত্বর খোঁজ পাওয়া যায়না। সেগুলিকে বলা হয়গুপ্ত শক্তি পীঠ। এমনই এক গুপ্ত শক্তিপীঠ আছেদক্ষিণ দিনাজপুরে। আজকের পর্ব এই কালী ক্ষেত্র নিয়ে।দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বুড়া মা বা বুড়ি মা কালী মন্দির খুবই জাগ্রত ।শোনাযায় কোনো এক তন্ত্র সাধক আত্রেয়ী নদীর জলে প্রথম দেখা পান এক বিগ্রহের। তিনি সেটিকে স্থাপন করেন আত্রেয়ী নদীর ধারেই। তবে সেই ইতিহাস কবেকার তা কেউ ঠিক মনে করতে পারেন না।তবে আনুমানিক কয়েকশো বছর ধরে এখানে বুড়ি মা পূজিতা হয়ে আসছেন।আবার মন্দির সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা। কথিত আছে, বহু বছর আগে জনৈক এক বাসিন্দার গাভী হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পরেও সেটিকে পাওয়া যায় না। পরে বৃদ্ধারূপী মা কালী তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নির্দেশ দেন আত্রেয়ী নদী পাড়ের জঙ্গলে গিয়ে খুঁজতে। তাঁর দেখানো দিক-নির্দেশ অনুযায়ী সেই ব্য়ক্তি যান। গিয়ে দেখেন, জঙ্গলের ভিতর বালির মধ্যে পড়ে থাকা একটি পাথরের খণ্ডকে গরুটি নিজে থেকে দুধ ঝরিয়ে স্নান করিয়ে দিচ্ছে। এর পরেই তিনি পাথরটি স্বযত্নে এনে আত্রেয়ীর পাড়েই সেটিকে প্রতিষ্ঠা করে মা বুড়িমা কালীর পুজো শুরু করেন।যা দিনে দিনে জনপ্রিতা লাভ করে এবং আজও সেই পরম্পরা চলছে।ভক্তদের বিশ্বাস এই কালী মন্দির আসলে সতীর একান্ন পীঠের কোনও গুপ্তপীঠ। দেবী এখানে স্বয়ম্ভূ। কালো পাথরের খণ্ডকেই এখানে দেবী রূপে পুজো করা হয়।তবে পুজোর দিন সেই শিলা খন্ডকে পড়ানো হয় সোনার মুখাবয়ব। সঙ্গে বিগ্রহ সাজানো হয় সোনা-রূপোর বিভিন্ন অলঙ্কারে। মনে করা হয়, দেবী ডাকড়া চন্ডী,বয়রা কালী এবং বুড়িমা তিন বোন এবং প্রতি বছর ডাকড়া চন্ডী আত্রেয়ীতে বিসর্জন পূর্বে দেখা করে যান তাঁর দুই বোনের সঙ্গে। এই রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।গোটা জেলা তথা উত্তর বঙ্গের মানুষের কাছেতাদের বুড়িমা কালী পরম আস্থার স্থান।দেবী কালিকার ভয়াল রূপের অন্তরালে যে ব্রহ্মময়ী মাতৃরূপ তাতেই আস্থা রেখে বুড়িমা ঈশ্বর এবং ভেদাভেদ কাটিয়ে যেন হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর আপন মা। সারা বছর সকাল-সন্ধ্যে পুজো হয়। আর, শ্যামাপূজার দিন বিশেষ পুজো হয়। লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় ওই দিন। কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতেও দেবীর বিশেষ পূজোর আয়োজন হয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো আগামী দিনে।নতুন পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কোচবিহারের রক্ত বর্ণা দেবীর পুজো

আজকের কালী কথায় কোচবিহারের বড়ো দেবীর পুজোর কথা বলবো যে পূজোর বয়স প্রায় পাঁচশো বছর। এই ‘বড় দেবী’ দেবী কে রক্ত বর্ণা দেবীও বলা হয়।কেনো এই নাম তার কারন পরে জানাবো আগে এই পূজোর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে জানাই।শতাধিক বছর আগে কোচবিহার রাজ বংশের অন্যতম রাজা মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নে ওই এই দেবীকে দেখেছিলেন সেই রূপেই আজও এখানে পূজিত হন দেবী।প্রথাগত প্রতিমার থেকে এই প্রতিমা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দেবী রক্তবর্ণা এবং উগ্ররূপে তিনি বিরাজ করছেন । সঙ্গে থাকেন দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। দেবীর বাহন বাঘ এবং সিংহ উভয়।তবে একদম শুরুতে দেবীর এই রূপ ছিলোনা।প্রায় পাঁচশো বছর আগে এই রাজ বংশের বিশ্ব সিংহ এবং তাঁর ভাই শীষ্য সিংহ খেলার ছলে দেবীর আরাধনা শুরু করেন। ময়নার ডালকেই দেবীরূপ দিয়ে পুজো করেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেই কাঠ ‘বড় দেবী’র মন্দিরে এনে, তাকে কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে তার উপর শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ।জনশ্রুতি আছে ‘বড় দেবী’র পুজোয় একফোঁটা হলেও প্রাণীর রক্তর প্রয়োজন হয় এবং আজও নাকি তাজা রক্ত সংগ্রহ করে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।এই অদ্ভুত রীতি নিয়ে একটি কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। শোনা যায় একবার মহারাজা বিশ্ব সিংহ খেলার ছলে এক সাথীকে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই বালকের মাথা আলাদা হয়ে যায় ধড় থেকে। সেই মাথা দেবীকে নিবেদন করেন বিশ্ব সিংহ।  সেই থেকেই এই রীতির প্রচলন।বর্তমানে বর্তমানে পুজোর আয়োজন করে রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনস্থ কোচবিহার দেবত্র ট্রাস্ট। আজও পুজোতে পশুবলি হয়। অষ্টমীতে মহিষ, দশমীতে শূকর বলির প্রথা চালু রয়েছে এখনও।এখানে দূর্গা পুজোয় ধুম ধাম করে দেবী আরাধনা হয় এবং বিসর্জনের সময় যমুনা দীঘিতে নিয়ে যাওয়া হয় মৃন্ময়ী প্রতিমা যা খণ্ডিত করে বিসর্জন দেওয়া হয়। বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালীপুজো এবং অলৌকিক ঘটনানিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।থাকবে গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – মহাপ্রভুর মামার বাড়ির পুজো

সনাতন ধর্মের দুটি শাখা বৈষ্ণব এবং শাক্ত।এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্য কিঞ্চিৎ বিরোধ এবং সাধন পক্রিয়া নিয়ে মত পার্থক্য বহু পুরোনো কাল থেকে চলে আসছে। বৈষ্ণবরা মনে করেন একমাত্র বিষ্ণুর উপাসনাই জাগতিক মোহ মায়া থেকে মুক্ত করে ভগবত লাভ করাতে পারে। আবার শাক্ত দের ধারণা আদ্যা শক্তি মহামায়া সব শক্তির আধার তারই রূপ দেবী কালী বা দেবী চন্ডী যার পুজো করলে সব অসম্ভব সম্ভব।বৈষ্ণব দের পরম আরাধ্য মহাপ্রভুর শ্রী চৈতন্যদেবের পূর্ব পুরুষ দের মধ্যেও কালী পূজোর চল ছিলো এবং মামার বাড়ি অর্থাৎ নদিয়ার বেলপুকুরের বাচস্পতিপাড়ায় ধুম ধাম করে আজও কালী পুজো হয়।শোনা যায় এককালে বৈষ্ণব ধর্মের প্রসারকে রুখতে তাঁর মামার বাড়ির গ্রামে এই পুজোশুরু হয়। ইতিহাস বলছে, শ্রীচৈতন্যের মা শচীদেবী নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার বেলপুকুরের বাচস্পতি পাড়াতেই জন্ম নেন। সে সূত্রেই ছোট থেকে মামার বাড়িতে যাতায়াতও ছিল নিমাইয়ের।একসময় বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারের মুখ হয়ে ওঠেন মহাপ্রভু।সেই সময়ে বৈষ্ণব ধর্মের বাড়বাড়ন্ত ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি নদিয়ার নদিয়ার তৎকালীন রাজা রুদ্র রায়। কীভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রসার রোখা যায় সেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তিনি।ঠিক নদিয়ার বেলপুকুর গ্রামে আসেন ঢাকার বিক্রমপুরের কালীসাধক রামচন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি পঞ্চমুন্ডের আসনে বসে মাতৃ সাধনা করতেন। তার আগমন শুনে রাজা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে কালীমন্দির তৈরি করতে জমি দান করেন। বৈষ্ণব ধর্মের বাড়বাড়ন্তর সময়ে তাঁর হাত ধরেই গ্রামে কালীপুজো শুরু হয়।অমাবস্যার রাতে বিশেষ তন্ত্র ক্রিয়ায় মাধ্যমে তৈরী দেবীর মহাশঙ্খের মালা এবং নর মুন্ডমালা আজও এখানে রয়েছে । সারা বছর তা গোপন রাখা হয় এবং কালী পূজোর সময়ে প্রকাশ্যে আনা হয়।এই পুজো হয় তান্ত্রিকমতে তাই পশু বলির প্রচলন আজও রয়েছে। ভোগে শোল মাছের চাটনি, ইলিশ, মাংস দেওয়া হয়। অমাবস্যা তিথিতেএই মায়ের আরাধনায় এলাহি আয়োজনে গ্রামবাসীরা সামিল হন।কথিত আছে দেবীশুন্য হাতে কাউকে ফেরাননা। সবার সব আশাপূর্ণ হয়।বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালীপুজো এবং অলৌকিক ঘটনানিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।থাকবে গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।