দেবী মাহাত্ম- সুন্দরবনের ত্রিপুরেশ্বরী দেবী

173

সাধারণত ত্রিপুরেস্বরী মন্দির বা দেবীত্রিপুরেস্বরীর কথা উঠলেই আমরা ত্রিপুরার বিখ্যাত ত্রিপুরেস্বরী মায়ের মন্দিরের কথা স্মরণ করে থাকি। কিন্তু ওই বাংলার বাঘ ও কুমিরের রাজ্য অর্থাৎ সুন্দরবনেও আছে এক ত্রিপুরেস্বরী মায়ের মন্দির। আজকের পর্বে সুন্দর বনের ত্রিপুরেস্বরী দেবীর মাহাত্ম নিয়ে লিখবো।দক্ষিণ বঙ্গের এই ত্রিপুরেস্বরী দেবীর মন্দিরের ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।ত্রিপুরা রাজ‍্যের প্রাচীন তম ঐতিহাসিক গ্রন্থ রাজমালাতে এই মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।আবার একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে রাজা যজাতির পুত্র দুহ‍্য শাপভ্রষ্ট হওয়ার পর শাপমুক্তির লক্ষ্যে গঙ্গা সাগরের কাছে অর্থাৎ এই সুন্দরবন অঞ্চলে কপিলমুনির আশ্রমে এসেছিলেন। তাঁরই এক বংশধর যার নাম পতদ্রুন কিরাত এই এলাকায় ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তীতে তাঁর বংশধররা ত্রিপুরায় চলে যান।এবং সেখানে দেবী ত্রিপুরেশ্বরীর মন্দির নির্মাণ করেন।প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ কুব্জিকা তন্ত্র অনুযায়ী এই ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরটি একটি শক্তিপিঠ।এবং মনে করা হয় এখানে সতীর ছাতি বা ছত্র পড়েছিল সেজন‍্য এই এলাকার নাম ছত্রভোগ।সুন্দরবনের প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ‍্যে অন‍্যতম এই ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির যা কৃষ্ণচন্দ্রপুরের ছত্রভোগ নামক স্থানে অবস্থিত। এই ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির প্রায় হাজার বছরের পুরানো এবং মনে করা হয় এও মন্দির গুপ্তযুগের সমসাময়িক।এই মন্দির সম্পর্কে এই ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া গেছে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময়ে পাওয়া প্রাচীন বিভিন্ন নিদর্শন থেকে।রহস্য দিয়ে মোড়াসুন্দরবনের বহু রহস্য ও উত্থান পতনের সাক্ষী এই ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দির।কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান।এই মন্দির আগে ত্রিপুরার রীতি মেনে পুজো হত। এই মন্দিরের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল এই মন্দিরে ত্রিপুরাসুন্দরী কালীর সঙ্গে শিব নেই। শিব থাকেন অন্যত্র, ভিন্ন একটি স্থানে।দেবীর থেকে আলাদা হয়ে তিনি এখানে বিরাজমান।আগামী দিনে ফিরে আসবো অন্য এক দেবীর মাহাত্ম নিয়ে। থাকবে অলৌকিক ঘটনায় সমৃদ্ধ নতুন এক পর্ব।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।