দেবী মাহাত্ম – গন্ধেশ্বরী মাতা

131

যে শহরের নামের সাথে তার ইতিহাসের সাথে মিশে আছে দেবী কালীর অস্তিত্ব সেই শহরে যে অসংখ্য প্রাচীন দেবী মন্দির থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে কলকাতার কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে অনেক গুলি বলেছি। আজ আপনাদের দেবী আদ্যা শক্তির একটি ব্যাতিক্রমী রূপ তার মন্দিরের কথা বলবো।কলকাতায় বিখ্যাত ঠনঠনিয়া সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের কাছেই রয়েছে মা গন্ধেশ্বরীর মন্দির।রাজেন্দ্র দেব লেনের ছোট্ট এই মন্দিরটি পশ্চিমমুখী। মন্দিরের সামনে নাটমন্দির।গর্ভগৃহে রয়েছে দেবী গন্ধেশ্বরীর অষ্টধাতুর মূর্তি।বাংলার প্রাচীন গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের আরাধ্যা দেবী হলেন গন্ধেশ্বরী মনে করা হয় দেবীর নাম থেকেই এই সম্প্রদায়ের নাম গন্ধেশ্বরী আবার অনেকে মনে করেন উল্টোটা মানে গন্ধ বণিক দের দ্বারা স্থাপিত হয়েছিলো তাই দেবী গন্ধেস্বরী নামে খ্যাত।নাম যাই হোক দেবী আসলে দেবী দুর্গারই একটি রূপ এবং পুরান মতে গন্ধেশ্বরী রূপে মহামায়া গন্ধাসুর নামক এক দুর্দান্ত অসুরকে বধ করেছিলেন।প্রাচীন বাংলায় সাজাগোজার জিনিসপত্র, ধূপ, চন্দন কাঠ, সিঁদুর, নানারকম মশলা- এই সব দ্রব্য সুদূর দেশ থেকে আমদানি রপ্তানি করতো এই গন্ধবণিক সম্প্রদায়। গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের ধারণা দেবীর কৃপায় তাঁদের ব্যবসায়ের উন্নতি ঘটে এবং দেবী গন্ধেশ্বরীই তাঁদের ব্যবসাকে রক্ষা করেন।বর্তমানে যে মন্দির টি কলকাতায় দেখা যায়।সেই মন্দির তৈরি হয়েছিল ১৩৪৬ বঙ্গাব্দের ১৭ বৈশাখ। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গন্ধবণিক মহাসভার তৎকালীন সভাপতি। নাম তারিখ সবই মন্দিরের ফলকে আজও দেখা যায়।দেবী সিংহবাহিনী এবং চতুর্ভুজা। তাঁর চারটি হাতে যথাক্রমে শঙ্খ, চক্র এবং ধনুর্বাণ। দেবী গন্ধেশ্বরী অনেকটা দেবী জগদ্ধাত্রীর মতই দেখতে। প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় দেবীর বিশেষ পুজো হয়।গন্ধবণিকরা এদিন ব্যবসার খাতা এবং ওজন পরিমাপের যন্ত্র সাজিয়ে রাখেন দেবীর সামনে।ইতিহাস প্রসিদ্ধ চাঁদ সওদাগর এবং ধনপতি সওদাগর প্রমুখরা গন্ধবণিক সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।এবং তারা নিষ্ঠা সহকারে দেবী গন্ধেশ্বরীর পুজো করতেন বলেও মনে করা হয়।দেবীআদ্যা শক্তির আশীর্বাদে শুধু ব্যবসা নয় জীবনের যেকোনো সমস্যা দূর হতে বাধ্য। আমাদের শুধু সঠিক শাস্ত্রীয় নিয়ম ও তিথি অনুসরণ করতে হবে। সামনের ফল হারিণী অমাবস্যা তিথি এমনই এক তিথি।গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র ক্রিয়ার জন্য আদর্শ এই তিথিকে চাইলে আপনারাও কাজে লাগাতে পারেন।ফিরে আসবো আগামী পর্বে দেবী দেবী মাহাত্ম বা মন্দির রহস্যর নতুন পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।