Home Blog Page 6

কালী কথা – দশমহা বিদ্যা রূপে দেবী তারা

কালী কথা – দশমহা বিদ্যা রূপে দেবী তারা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দশ মহাবিদ্যা,তন্ত্র বা কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু করলে দেবী তারা ও তারাপীঠ প্রসঙ্গ আসবেই কারন কৌশিকী অমাবস্যা হলো তারা নিশি যা দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব তিথি রূপে পালিত হয়, দেবী কৌশিকীর একটি বিশেষ রূপ দেবী তারা,আবার দেবী তারা দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী।তাই কৌশিকী অমাবস্যার ঠিক আগে আজ দশ মহা বিদ্যা রূপে দেবী তারার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে লিখবো।

 

দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় রূপ হল তারা। ভীষণ দর্শনা দেবী কালীর ভয়ে মহাদেব ভীত হলে সতী দ্বিতীয় বার আবির্ভূত হন তারা রূপে। তাঁর গায়ের রং নীল, নব যৌবনা, পরিধানে ব্যাঘ্র চর্ম। দেবীর চারটি হাত। দেবীর অবস্থান প্রজ্জলিত চিতার মধ্যে। তাঁর বাম পা শিবের বুকে অবস্থিত। তন্ত্রশাস্ত্রে ইনি মহানীল সরস্বতী।

 

শাস্ত্র মতে সমুদ্রমন্থনের পর স্বয়ং মহাকাল তার আরাধনা করে ছিলেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হয়ে মা তারা তাঁকে পুত্ররূপে গ্রহণ করেন|হিন্দু ধর্ম ছাড়াও বৌদ্ধ ধর্মে দেবী তারার উল্লেখ রয়েছে

 

বাংলার তারাপীঠে অধিষ্টান করছেন দেবী তারা|জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে প্রসিদ্ধ এই তারাপীঠ এবং তারাপীঠ মহা শ্মশান যা তন্ত্র সাধনার এক উৎকৃষ্ট স্থান কারন এটি কোনো সাধারণ শ্মশান নয় এটি মহা শ্মশান এই মহাশ্মশানেই জীবন আর মৃত্যুর পটভূমি নিত্য রচনা করে চলেন দেবী তারা|প্রচলিত বিশ্বাস বলে তারাপীঠের মহাশ্মশানেও জ্যোতিরূপে বাস করেন দেবী।

 

কিংবদন্তী অনুসারে দ্বারকা নদী মহাশক্তির উৎস। এই নদীজলে স্নান করলেই সিদ্ধিলাভের যোগ্যতা অর্জন করেন মানুষ। দূর হয় সব পাপ|আশ্চর্যজনক ভাবে এই নদী উত্তর মুখী|তারাপীঠের পঞ্চমুন্ডীর আসন ও জগৎ প্রসিদ্ধ এই পঞ্চমুণ্ডের আসন আলাদা। এখানে পাঁচটি মুণ্ড সাপের, ব্যাঙের, খরগোশের, শিয়ালের এবং মানুষের। এই আসনে বসেই বহু যুগ পূর্বে দেবীকে তুষ্ট করে তারাপীঠকে সিদ্ধপীঠে পরিণত করেছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ, পরবর্তীতে বামা ক্ষেপা|মাতারার মুল প্রস্তর নির্মিত মূর্তি টি রয়েছে একটি ধাতব মূর্তির অভ্যন্তরে|এই মূর্তিটি ভীষণা চতুর্ভূজা, মুণ্ডমালাধারিণী এবং লোলজিহ্বা মূর্তি। এলোকেশী দেবীর মস্তকে রয়েছে একটি রৌপ্যমুকুট |বহির্মূর্তিটি সাধারণট শাড়ি-জড়ানো অবস্থায় গাঁদা ফুলের মালায় ঢাকা অবস্থায় থাকে। মূর্তির মাথার উপরে থাক একটি রূপোর ছাতা।

 

তারাপীঠ সিদ্ধ পীঠ না কেবল মাত্র একটি জাগ্রত শক্তি পীঠ বা উপপীঠ এ নিয়ে বিতর্ক ও মতান্তর বহু যুগ ধরে চলে আসছে|কথিত আছে বশিষ্ট দেব সাধনা করতেন কামাখ্যায় কিন্তু কোনো কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কামাখ্যা ত্যাগ করেন ও বাংলার বীরভূমের এই বিশেষ স্থানে এসে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে দেবী উগ্রতারার সাধনা শুরু করেন ও দুর্লভ কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতে তিনি সিদ্ধি লাভ করেন|পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই স্থান মাহাত্ম লোক মুখে প্রচারিত হয় এবং জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারাপীঠ।

 

ফিরে আসবো কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে আরো একটি বিশেষ পর্ব নিয়ে

আগামী কাল।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – পুঁটে কালী

কালী কথা – পুঁটে কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার সাথে দেবী কালীর সম্পর্ক অতি প্রাচীন এবং গভীর।বাংলার প্রায় সব জেলায় রয়েছে কিছু প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দির।তাদের নিয়ে রয়েছে অনেক কিংবদন্তী। এমনই সব মন্দিরের কথা বলছি কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে এই কালী কালী কথায়।আজ কালী কথায় জানাবো পুঁটে কালীর কথা।

 

কলকাতার বড়ো বাজার অঞ্চলে কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটে অবস্থিত বিখ্যাত পুঁটে কালী মন্দির। ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন।তখন ভারত শাসন করছেন সম্রাট আকবর। কলকাতা তখন ও শহর হয়ে ওঠেনি । উত্তর কলকাতার আজকের কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রীট তখন ছিলো গঙ্গা তিরবর্তী এক জনপদ।চারিপাশ ছিল জঙ্গলে ভর্তি।

ডাকাতরা নরবলী দিয়ে ডাকাতি করতে যেতো।সেই সময় থেকে হয়ে আসছে পুটে কালীর পুজো।

 

বর্তমান মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তান্ত্রিক মানিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।শোনা যায় তান্ত্রিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজার দুরারোগ্য ব্যাধি সারিয়ে দিলে মহারাজা তাঁকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং লক্ষ ব্রাহ্মণ ভোজন করান। দেবীর বর্তমান সেবাইতরা রাজা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌহিত্র বংশ।

 

প্রথম পাকা মন্দির স্থাপিত হয়েছিল ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে|যদিও প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে এই দেবী মূর্তি এখানে আরো আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো।১৯৩০ সালে মন্দিরের সংস্কার করা হয় মন্দিরটি চারচালা ও তিনটি চূড়াবিশিষ্ট। চূড়াগুলির উপর চক্র, ত্রিশূল ও পতাকার চিহ্ন আছে। মন্দিরটির তলায় একটি পাতালকক্ষ আছে|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটি ছয় ইঞ্চি লম্বা|

 

মন্দির এবং দেবী মূর্তির এই অদ্ভুত নামকরণ প্রসঙ্গে দুরকম ব্যাখ্যা রয়েছে|কেউ কেউ মনে করেন পুঁটি” অর্থে ছোটো মেয়ে বোঝায়|এই মন্দিরের কালীমূর্তিটির উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি এত ছোটো মূর্তি বোঝাতেই তাই “পুঁটিকালী” বা নামটির প্রচলন হয় এবং পরবর্তীতে লোক মুখে তা বিকৃত হয়ে “পুঁটেকালী” হয়ে যায়।

 

নামের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুসারে একবার মন্দিরে হোম চলা কালীন গঙ্গার খাদ থেকে একটি পুঁটিমাছ লাফিয়ে হোমকুণ্ডের মধ্যে পড়ে যায়|পড়ে অর্ধদগ্ধ মাছটিকে তুলে জলে ফেলে দিতেই সেটি আবার জীবন্ত হয়ে হয়ে ওঠে এবং অলৌকিক ঘটনার জন্য দেবীর নাম হয় “পুঁটিকালী” বা “পুঁটেকালী”|

 

পুঁটে কালীর মন্দিরে পূজা হয় তন্ত্রমতে। দীপান্বিতা কালীপূজার রাতে প্রতিমার স্বর্ণবেশ হয় এবং ভৈরবী পূজাও অনুষ্টিত হয়|এখানে আজও কালী পূজা উপলক্ষে কুমারী পূজা হয়|এছাড়াও কৌশিকী অমাবস্যা সহ বিশেষ বিশেষ তিথিতে ছাগ বলীর ও ব্যবস্থা করা হয়|দেবীর উদেশ্যে আমিষ ও নিরামিষ দু রকম ভোগ ই নিবেদিত হয়|লক্ষণীয় বিষয় এই মন্দিরে দেবী কালীর পাশে দেবী শীতলার ও পূজা করা হয় নিষ্ঠা সহকারে|

 

আজকের কালী কথা পর্ব এখানেই

শেষ করছি।আবার ফিরে আসবো

যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৌশিকী অমাবস্যা এবং তন্ত্র শাস্ত্র 

কৌশিকী অমাবস্যা এবং তন্ত্র শাস্ত্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে তন্ত্র মন্ত্র এবং যন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সবের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক স্থান এবং তিথির উপরে। সেদিক দিয়ে কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্র শক্তি প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ তিথি।

 

শুধু হিন্দু মতে নয়, বৌদ্ধ মতেও তন্ত্র সাধনার জন্য এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ|সহজ ব্যাখ্যার কৌশিকী অমাবস্যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করার একটি ধর্মীয় উৎসব যা মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে দেশের শক্তি উপাসকদের দ্বারা যুগ যুগ ধরে|

 

তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা তিথি তারানিশি রূপে পালিত হয়|আজ আপনাদের কৌশিকী অমাবস্যা ও তারাপীঠ এবং তন্ত্র শাস্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বলবো|

 

তারা পীঠ ও দেবী তারার সাথে এই কৌশিকী অমাবস্যা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তার কারন দশ মহাবিদ্যার অন্যতম মা তারা এই তিথি তে মর্ত ধামে আবির্ভূত হন|তারাপীঠ শ্মশানে জ্যোতিরূপে বাস করেন মা তারা|কৌশিকী অমাবস্যায় এই স্থানেই সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন বশিষ্ঠ দেব এবং বাবা ক্ষেপা|প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে এই উপলক্ষে বিশাল উত্‍সব হয়|দেশ বিদেশ থেকে তান্ত্রিকরা আসেন এই পবিত্র তিথিতে তন্ত্র ক্রিয়া সম্পন্ন করে নিযেদের কার্য সিদ্ধি করতে।

 

তন্ত্রে কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি।তন্ত্র মতে অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই অমাবস্যায় করলে আশাতীত ফল মেলে|তন্ত্র শাস্ত্র মতে সাধনার মাধ্যমে সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকার লাভ করে।

তন্ত্র মতে এই তিথিতে এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি গ্রহন করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন|।

 

জ্যোতিষ জগতেও এই তিথির আলাদা গুরুত্ব আছে তন্ত্র মতে বা পূজা ও হোম যজ্ঞর মাধ্যমে গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটাতে এই এই কৌশিকী অমাবস্যা সব থেকে কার্যকর সময় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|মনে করা হয় এই দিন তারাপীঠে পুজো দিলে সকল মনোস্কামনা পুর্ন হয় এবং পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়|

 

আগামী পর্ব গুলিতে কালী কথায় কৌশিকী অমাবস্যা, তন্ত্র এবং জ্যোতিষ জগতের আরো অনেক তথ্য এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী কৌশিকীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

কালী কথা – দেবী কৌশিকীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার প্রাক্কালে আজকের এই বিশেষ পর্বে আসুন জেনে নিই কে এই দেবী কৌশিকী এবং শাস্ত্রে তার সম্পর্কে কি কি তথ্য আছে।

 

শাস্ত্রে আছে পূর্ব জন্মে দেবী পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষ যজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দেন তখন দেবীর গাত্র বর্ণ হয় কালো মেঘের মতো। তাই ভোলানাথ তাঁকে কালিকা ডাকতেন। একদিন অসুর দের দ্বারা পীড়িত ক্লান্ত দেবতারা যখন কৈলাশে আশ্রয় নিলেন, শিব সব দেবতাদের সামনেই পার্বতীকে বললেন, “কালিকা তুমি ওদের উদ্ধার করো।” সবার সামনে ‘কালী’ বলে ডাকায় পার্বতী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, অপমানিত ও ক্রোধিত মনে মানস সরোবরের ধারে কঠিন তপস্যা করলেন।

 

তপস্যান্তে শীতল মানস সরোবরের জলে স্নান করে নিজের দেহের সব কালো রঙ পরিত্যাগ করলেন ও পূর্ণিমার চাঁদের মতো গাত্র বর্ণ ধারণ করলেন।দেবীর দেহ হতে নির্গত ওই কালো কোশিকাগুলি থেকে এক অপূর্ব সুন্দর কৃষ্ণবর্ণ দেবীর সৃষ্টি হয়। ইনি দেবী কৌশিকী| এই কৌশিকী অমাবস্যার তিথিতেই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা।

 

শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত মহা সরস্বতী দেবীর কাহিনীতে বলা আছে পুরাকালে একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করলে চতুরানন তাঁদের বর দেন যে কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ এমন এক নারী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেননি, তাঁর হাতেই এই দুই অসুর ভাই-এর মৃত্যু হবে। এই বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আবির্ভাব হয় দেবী কৌশিকীর।

 

মৎস পূরাণ এবং মার্কন্ডেয় পূরাণে বলা হয়,অত্যাচারি অসুর দ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী পার্বতী সাধনা শুরু করেন। তপস্যার পর, নিজের শ্বেতশুভ্র গায়ের রঙ পরিত্যাগ করে ,উজ্জ্বল কালো বর্ণে ভয়াল রূপ ধারণ করেন দেবী। সেই রূপে দেবী পার্বতী হয়ে ওঠেন ‘কৌশিকী’। আর এই কৌশিকীই অমাবস্যার এক বিশেষ কালক্ষণে দেবী বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামের দুই অসুরকে। সেই কালক্ষণকে স্মরণ করেই অনুষ্ঠিত হয় কৌশিকী অমাবস্যার পূজা।

 

সহজ ব্যাখ্যায় কৌশিকী অমাবস্যা অশুভ

শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করার একটি ধর্মীয় উৎসব যা মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে দেশের শক্তি উপাসকদের দ্বারা যুগ যুগ ধরে|

 

শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে এই অমাবস্যা অন্যান্য সব অমাবস্যার থেকে অনেকটাই এগিয়ে।

কারন কৌশিকী অমাবস্যার একটি বিশেষ মুহূর্তে সাধকের করা তন্ত্র সাধনা সব দিক দিয়ে সফল হয় এবং দেবী কৌশিকীর আশীর্বাদে সব

অন্ধকার দুর হয়।

 

আবার পরের পর্বে কৌশিকী অমাবস্যা সংক্রান্ত কিছু শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে।

থাকবে জ্যোতিষ এবং তন্ত্র জগৎ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শুভ শিক্ষক দিবস

শুভ শিক্ষক দিবস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভারতের প্রাচীন গুরু শিষ্য পরম্পরার হাত

ধরে আমরা জাানি, একজন মানুষের সফতার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবলমাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, তিনি ছাত্রকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন। তিনি তাকে শুধুমাত্র জীবনে সফল হওয়া নয়, কিভাবে একজন ভাল মানুষ হতে হয় শেখাবেন।

 

সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে একজন মানুষের জীবনে তার পিতা মাতার পরই শিক্ষকের স্থান।

 

সমাজে শিক্ষকদের ভূমিকায় সম্পর্কে আরেক মহান শিক্ষক ড. এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন, ‘যদি একটি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত এবং সুন্দর মনের মানুষের জাতি হতে হয়, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এ ক্ষেত্রে তিনজন সামাজিক সদস্য পার্থক্য এনে দিতে পারে। তারা হলেন বাবা, মা এবং শিক্ষক।’

 

শিক্ষাবিদ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার গুণমুগ্ধ ছাত্র ও বন্ধুরা তাঁর জন্মদিন পালন করতে চাইলে তিনি বলেন ‘জন্মদিনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর যদি শিক্ষক দিবস রূপে উদযাপিত হয় তবে আমি বিশেষরূপে অনুগ্রহ লাভ করবো।তাই সেই এই থেকে ৫ ই সেপ্টেম্বর পালন হয় শিক্ষক দিবস।

 

আজ জাতীয় শিক্ষক দিবস এবং আদর্শ শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন উপলক্ষ্যে সকল শিক্ষককে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

শুভ শিক্ষক দিবস।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব – কৃষ্ণ কালী

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

 

  • কৃষ্ণ কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগামী ১০ ই সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা

আর আজ জন্মাষ্টমী। কালী সাধনার মহান তিথির ঠিক আগেই উদযাপিত বৈষ্ণবদের সর্ব শ্রেষ্ঠ তিথি। তাই আজ দুই ভাবধারা মিলিয়ে উপস্থাপন করবো

কৃষ্ণ কালীর ব্যাখ্যার মাধ্যমে।আজজন্মাষ্টমী উপলক্ষে শ্রী কৃষ্ণের এমন এক লীলার কথা আপনাদের জানাবো যেখানে শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং দেবী কালীর রূপ ধরে ছিলেন।

 

শোনা যায় বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে কৃষ্ণের বাঁশি শুনে ঘর ছেড়ে রোজ বেরিয়ে যেতেন রাধা। নীরবে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন কৃষ্ণের সঙ্গে।কেউ কিছু জিগেস করলে বলতেন তিনি কালিন্দী নদীর ধরে শ্যামা মায়ের পুজো করতে যান। প্রসঙ্গত বলে রাখি এই শ্যামা মা অর্থাৎ দেবী কালী রাধার স্বামী আয়ানের পরিবারের ইষ্ট দেবী। তাই তারাও বিষয়টি সহজ ভাবে মেনে নেন।

 

কিন্তু একদিন রাধার দুই সহচরি জটিলা কুটিলা

আসল কথাটা তুলে দিল রাধার স্বামী আয়ানের কানে। ক্রুদ্ধ আয়ান রাধাকে হাতেনাতে ধরতে চাইলেন। তিনি তক্কে তক্কে থাকলেন সেদিন রাধা বেরোলেই তিনি তাঁর পিছু নেবেন। হলো ও তাই।

 

কিন্তু ভগবান কৃষ্ণ সর্ব জ্ঞানী। তার কাছে আয়ানের এই আগমন বার্তা গোপন রইল না। তিনি সেদিন রাধা আসতেই তাঁকে বললেন, যা বলছি করো, তুমি দ্রুত আমাকে লতাপাতা ফুল-ফল দিয়ে সাজিয়ে দাও। আর আমার পায়ের কাছে ভক্তের মতো বিনীত ভাবে বসে থাকো।

 

আশ্চর্য হলেও রাধা প্রশ্ন না করে কৃষ্ণর কথা মতো দ্রুত সবটা করলেন।তারপর চোখের পলকে শ্যাম পরিবর্তিত হলেন শ্যামায়।তার নিজের দ্বিভুজ দেহ একেবারে চতুর্ভুজ রূপ হয়ে গেল। তার উন্মুক্ত কেশ রাশি দুলতে আরম্ভ করলো । তাঁর গলায় থাকা পদ্মের মালা খানি নৃমুণ্ড মালার রূপ নিলো।বাঁশি হল অসি এবং কপালের তিলক চন্দ্র রূপে শোভা পাচ্ছিলো।তিনি কৃষ্ণ থেকে কালীতে সম্পূর্ণ ভাবে রূপান্তরিত হয়েছেন।

 

আয়ান এসে দেখলেন ঘন বনের মধ্যে এসে তাঁর বউ রাধা তাঁরই ইষ্টের আরাধনা করছেন! তাঁর মনটা আনন্দে ভরে গেল। তিনি রাধার আচরণে খুশিই হলেন এবং নিজের ইষ্ট দেবী শ্যামাকে দর্শন

করে ধন্য হলেন।

 

এই বিশেষ কালী রূপ কৃষ্ণ কালী রূপে বহু স্থানে পূজিত হয়। বৈষ্ণব এবং শাক্ত দর্শনের অপূর্ব সমম্মিলিত রূপ হলেন কৃষ্ণ কালী যা ভগবানের অদ্ভুত এক লীলার প্রকাশ।সংক্ষেপে এই কৃষ্ণ কালী রূপ প্রমান করে দেয় যিনি কৃষ্ণ কালী তিনিই কালী সব ভেদাভেদ এবং তর্ক বিতর্ক অর্থহীন।

শ্রী কৃষ্ণর অভন্তরীণ মহাশক্তিই হলেন কালী।

কৃষ্ণ এবং কালী একই তত্ত্বর দুই ভিন্ন প্রকাশ।

বাংলার বহু স্থানে আছে কৃষ্ণ কালী মন্দির।

যার মধ্যে বর্ধমানের কৃষ্ণকালী মন্দির বেশ জনপ্রিয়।

 

সবাইকে জানাই জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি। আবার ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে।

যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বেতশ্রী কালী মন্দির

কালী কথা – বেতশ্রী কালী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এক প্রত্যন্ত গ্রাম কুমারপুকুর।সেই গ্রামে আছে এক প্রাচীন জাগ্রত কালী মন্দির যা লোক মুখে বেতশ্রী কালী নামে খ্যাত।

আজ কালী কথায় এই মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

ঠিক কবে এই মন্দির স্থাপিত হয়েছিল এবং কে করেছিলো সে তথ্য হারিয়ে গিয়েছে কবেই। কেউ বলেন ৩০০ বছরের পুরাতন আবার কেউ বলেন ৪০০ বছরের পুরাতন।

 

কথিত আছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে জালে পেয়েছিলেন কালী মূর্তি তারপর মূর্তি স্থাপন করে পূজো শুরু হয়। গড়ে ওঠে মন্দির আবার কেউ কেউ বলেন সপ্নাদেশ পেয়ে জঙ্গলে এক ব্যাক্তি কালি মাতাকে খুঁজে পান এবং দেবীর আদেশ অনুসারে পূজো শুরু করেন।

 

সেই সময়ে কালী মন্দিরের পিছনে একটি বেত বাগানে প্রথম পূজার্চনা শুরু হয়। তাই হয়তো নাম বেতশ্রী।পরবর্তীতে এক স্থানীয় ব্রাহ্মণ পরিবার পুজোর দায়িত্ব নেন।

 

কালি পূজা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর বিশেষ পূজো।

ভক্ত সমাগম এবং মেলার আয়োজন করা হয় এখানে।

 

ফিরে আসবো জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কালী কথায়।বিশেষ পর্ব নিয়ে।আগামী দিনে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – জহুরা কালী 

কালী কথা – জহুরা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির জহুরা কালীর মন্দির মালদায় অবস্থিত এই কালী মন্দিরে অধিষ্টান করছেন মা জহুরা।আজকের কালী কথায় এই প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

আজও কিছু ইতিহাস বিদ মনে করেন এই দেবীর পুজোর সূচনা হয়েছিলো সেন বংশের রাজা বল্লাল সেনের আমলে আবার মন্দিরের গায়ে যে পাথরের ফলক আছে তা থেকে অনুমান করা যায়,আজ থেকে তিনশো বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কোনো এক মাতৃ সাধক স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে দেবী জহরা চণ্ডীর বেদি স্থাপন করেছিলেন|

 

বর্তমানে মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে রয়েছে জহুরা কালী মন্দির।শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য|ডাকাতরাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়।যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে জওহর বা জহরত এবং এই দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত।

 

কথিত আছে এক কালে এখানে দেবীর পূর্ণ অবয়ব মূর্তি ছিলো তবে বিদেশী শত্রুর আক্রমণের ভয়ে তা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন পুরোহিতরা|

বর্তমানে মন্দিরের অভ্যন্তরে লাল রঙের ঢিবির ওপর রয়েছে এক মুখোশ এবং ঢিবির দু’পাশে আরও দু’টি মুখোশ দেখা যায়। এছাড়া গর্ভগৃহে আছে শিব আর গণেশের মূর্তি|

 

দেবী জহুরা চন্ডিরই রূপ তিনি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ তার পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন এই মন্দির প্রাঙ্গনে|

 

এরকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো অন্যান্য কালীমন্দিরের মতো এখানে রাত্রিবেলা কোনো পুজো এখানে হয় না পুজো হয় দিনে|

 

আজ কালী কথা এখনেই শেষ করলাম। আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে

এই কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কালী 

কালী কথা – রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নদীয়া রাজ কৃষ্ণ চন্দ্র বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শুধু রাজনীতি নয় ধর্ম কর্মর জন্য তিনি বিশেষ ভাবে সমাদৃত। বাংলার বহু প্রাচীন পূজো এবং মন্দিরের সাথে জড়িত আছে মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের নাম। এমনই এক কালী পূজো বসিরহাটের সংগ্রামপুরের কালী মন্দির।

 

শোনা যায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির নির্মাণের জন্য জায়গা দান করেন। এরপর কৃষ্ণচন্দ্র দে এবং গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এই কালী মন্দির স্থাপিত হয়।শুরুতে ছিল একটা খড়ের চাল দেওয়া মন্দির। তারপর ভক্তদের দানে ও মন্দিরের উন্নয়ন কমিটির সৌজন্যে সুন্দর পাকা মন্দির নির্মাণ হয়।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং স্বপ্নাদেশ নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

একবার ইছামতীর বুকে নৌ বিহারের সময়ে রাজা কৃষ্ণ চন্দ্র রাতে স্বপ্ন দেখেন যে ইছামতীর উত্তর দিকের জঙ্গলের মধ্যে আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে এক নারী বলছেন সেখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে।সেই কথা মেনে রাজা মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব নেন।

 

দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি এই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের মেয়ে। জনশ্রুতি আছে মন্দিরের পিছনে যে পুকুরটি আছে, সেই পুকুরে গভীর রাতে একটা ছোট্ট মেয়ে লাল শাড়ি পড়ে পুকুরে নেমে স্নান করে। গ্রামবাসীরা মনে করেন ওই ছোট্ট মেয়েটি আর কেউ নন, তিনি স্বয়ং মা কালী। আর তাই গ্রামবাসীদের ধারণা, মা তাঁদের মধ্যেই থাকেন। এবং তাঁদের সব ইচ্ছেই পূরণ করেন।

 

কালী মা এখানে দক্ষিণা কালী রূপে বিরাজমান। মন্দিরে নিত্য পুজো হয় এবং ভোগও থাকে মায়ের জন্য প্রতিদিন। দেবীকে একেক দিন একেক রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। যেমন লুচি, চিঁড়ে, ফল, খিচুড়ি,পায়েস ইত্যাদি। এমনকী আমিষ ভোগও দেওয়া হয় কোনও কোনও দিন।

 

পুজো হয় তন্ত্র মতে। ভাদ্র মাসে হয় ভদ্রা কালি পুজো,শ্যামা পুজোর রাতে হয় শ্যামা কালি পুজো।

শ্যামা পুজোর রাতেই ভিড় হয় সব থেকে বেশি। এই সময়ে প্রতিমার নতুন করে রঙ হয়। ছয়শো বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।মায়ের এই নব রুপ দেখতে বিরাট সংখ্যায় ভক্তরা জড়ো হন।

 

ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা। এখনো অনেক দেবী মন্দির নিয়ে লেখা

বাকি আছে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বিদ্যা সুন্দর কালী

কালী কথা – বিদ্যা সুন্দর কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় আজ লিখবো
বর্ধমানের প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে।

বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালীপুজোকে কেন্দ্র
করে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া
যায় প্রচলিত জনশ্রুতি রূপে।

তখন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমল। রাজার এক কন্যা ছিল।তার নাম বিদ্যা ৷ আর রাজবাড়ির পুজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। সুন্দরের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না । রাজকুমারী বিদ্যা মালা গেঁথে পাঠাতেন পূজোর জন্য। সেই সূত্রেই বিদ্যার সঙ্গে পূজারী সুন্দরের যোগাযোগ স্থাপন হয় এবং পরবর্তীকালে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও রটে যায়। এমনকী তারা নাকি মন্দিরের পাশ থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত একটা সুড়ঙ্গ বানিয়ে তার ভিতর দিয়ে একে-অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে যেত বলে অনেকে মনে করেন।

একদিন এক গুপ্ত চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রণয়ের ব্যাপারে জেনে ফেলেন । খবরটা কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড রেগে যান । তিনি বিদ্যা এবং সুন্দরকে দেবী কালীর সামনে বলি দেওয়ার আদেশ দেন ৷সেই সময়ে দামোদর তীরবর্তী গভীর জঙ্গলে ছিলো এক কালী মন্দির। ওই কালী মন্দিরে কেউ সচরাচর যেতেন না। জনশ্রুতি আছে যারা অন্যায় অত্যাচার করত, তাদের এই মন্দিরে দেবীর সামনে হাঁড়িকাঠে নরবলি দেওয়া হত । তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ মশান কালী নামে পরিচিত ছিল ।রাজার হুকুম মতো তাদেরকে বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই মন্দিরে|বলি দেওয়ার আগের মুহূর্তে বিদ্যা ও সুন্দর সেই মন্দিরের কাপালিকের কাছে অনুরোধ জানায়, মৃত্যুর আগে তারা দেবীকে প্রণাম করে আসতে চায় । কাপালিক সেই অনুমতি দেন । প্রণাম করতে যাওয়ার সময় কাপালিক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যান । তারপরেই বিদ্যা ও সুন্দর নাকি কোথায় যেন মিলিয়ে যায় । এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি । সেই সময় থেকেই মন্দিরের নামকরণ হয় বিদ্যাসুন্দর কালী মন্দির । তার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় নরবলি প্রথা।

বর্তমানে এখানে দেবীর মন্দির ছাড়াও দুটো শিব মন্দির আছে যা ভৈরব এবং পঞ্চানন্দ নামে পরিচিত। নরবলি বন্ধের পরে মন্দিরে মেষ
বলি এবং পরে ভেড়া বলি দেওয়া হত ।
এখনও কিছু ক্ষেত্রে পশু বলি দেওয়া হয়।
কালী পুজো ছাড়াও প্রতিটি বিশেষ তিথিতে তন্ত্র মতে বিশেষপুজোর আয়োজন হয়।

এমন বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় বাংলার একাধিক প্রাচীন কালী মন্দিরকে নিয়ে। সেই সব ইতিহাস নিয়ে চলতে থাকবে
ধারাবাহিক কালী কথা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।