Home Blog Page 5

শক্তি পীঠ – বরাহী দেবী

শক্তি পীঠ – বরাহী দেবী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ শক্তি পীঠ বারাহী বা বরাহী নিয়ে লিখবো। পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে এটি চৌত্রিশ

তম সতী পীঠ।দেবীর ভৈরব হলেন মহারুদ্র।

 

পুরান অনুসারে দেবী সতীর নিচের পাটির দাঁত

সমুহ পরে ছিলো হরিদ্বার এর কাছে

পঞ্চসাগরে এই সতী পীঠে।

 

সনাতন ধর্মে যে সাত আট জন মাতৃ দেবীর কল্পনা করা হয়, তার মধ্যে দেবী বরাহী হলেন অন্যতম। দেবীর রূপ শূকরের মত। তার এক হাতে রয়েছে চক্র এবং অন্য আরেক হাতে রয়েছে তলোয়ার।

 

পুরান , মহাভারত সহ একাধিক শাস্ত্রে এই পীঠের উল্লেখ আছে।পুরান মতে নিশাচর নামে এক দৈত্যকে হত্যার জন্য স্বয়ং বিষ্ণু বরাহী কে সৃষ্টি করেছিলেন।বরাহী হলেন বিষ্ণুর নারী শক্তি।

 

এই পীঠ বহুকাল অজ্ঞাত ছিলো তারপর মহাভারতের যুগে পান্ডবরা যখন বনবাসে দিন কাটাচ্ছিলেন তখন গভীর এবং দুর্গম স্থানে এই দেবীর পীঠ স্থান সন্ধান করেছিলেন কুন্তী পুত্র ভীম। তিনি সেই গভীর জঙ্গলে মা বরাহীর তপস্যা করলেন, মা বরাহী ভীমকে দর্শন দিলেন এবং তাকে রক্ষা করার আশীর্বাদ দিলেন।

 

তারপর মহাভারত পরবর্তী সময়ে আবার এই সতী পীঠ লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুকাল পরে সালে জনৈক প্রভুচন্দ্র নামের একজন মাতৃ সাধক মায়ের এই পীঠ স্থান আবিষ্কার ও সংস্কার করেন।আবার এই সতী পীঠ সবার কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বহু তীর্থ যাত্রী আসতে শুরু করেন।

 

অনেকে আবার মনে করেন বৌদ্ধ দেবতা বজ্র বারাহি ও মরিচির মিশ্রনে এই বরাহী দেবী

সৃষ্টি হয়েছেন। দেবী বরাহীকে অনেক জায়গায় মহিষবাহনা হিসেবেও দেখানো হয়

আবার রক্ত বীজের কাহিনীতে দেখা যায় যে, একটি মৃতদেহের উপর বসে শূকরের বেশ ধরে দাঁত দিয়ে বরাহী দেবী শত্রু নিধন করছেন।

 

সনাতন এবং বৌদ্ধ ধর্মে বহু জটিল রহস্য

জড়িয়ে আছে দেবী বরাহীর সাথে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি

শক্তি পীঠ এবং তার ইতিহাস নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – বক্রেশ্বর

শক্তি পীঠ – বক্রেশ্বর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ শক্তিপীঠ বক্রেশ্বর নিয়ে লিখবো।

পীঠমালা, কালিকাপুরাণ ও তন্ত্রচূড়ামণি গ্রন্থে বক্রেশ্বরের উল্লেখ আছে।

 

এই শক্তিপীঠে সতীর ভ্রুসন্ধি বা মনঃস্থান পড়েছিল বলে, ভারতবর্ষের একান্ন পীঠের মধ্যে বক্রেশ্বরকে মহাপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়। তন্ত্রের ভাষায় ওই মনঃস্থানকে আজ্ঞাচক্র বলে।বক্রেশ্বরে দেবীর ভৈরব হলেন বক্রনাথ এবং দেবী এখানে মহিষ মর্দিনী রূপে পূজিতা হন।

 

বক্রেশ্বরের সঙ্গে জড়িয়ে ঋষি অষ্টাবক্রের কাহিনি। কথিত আছে, অষ্টাবক্র মুনি প্রথমে কাশীতে উপাসনার সংকল্প নেন। কিন্তু কাশীর বিশ্বনাথ স্বয়ং তাঁকে গৌড়দেশের গুপ্তকাশী বক্রেশ্বরে গিয়ে সাধনা করতে বলেন।

 

আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে বক্রেশ্বর ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা নির্জন ভূমি। চৈতন্য ভাগবতে তার প্রমাণ মেলে। কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণের পর মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য বলেছিলেন, ‘বক্রেশ্বর আছেন যে বনে, তথায় যাইনু মুঁঞ্চি থাকিমু নির্জনে।’ সেই সময়টায় তান্ত্রিক, ভৈরবী, অঘোরপন্থীদের দাপট ছিল বক্রেশ্বরে।

 

পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে আজকের বক্রনাথের মন্দির সাতশো বছরের বেশি পুরনো। নির্মাণ করিয়েছিলেন রাজা নরসিংহ দেব। বাংলায় সুলতানি শাসনে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজা দর্পনারায়ণ সতেরোশো একষট্টি খ্রিস্টাব্দে তা সংস্কার করেন।

 

মহাপীঠ বক্রেশ্বরকে বেষ্টন করে রয়েছে সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ এবং একটি শীতল জলের কুণ্ড। মাটির নিচ থেকে জলের নিরন্তর বিচ্ছুরণ হয়ে চলেছে অলৌকিক ভাবে যা এখানে আসা পর্যটক এবং তীর্থ যাত্রীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

 

বক্রনাথের মন্দিরে ভগবানের চেয়েও উচ্চাসনে রয়েছেন তাঁর ভক্ত। গর্ভৃগৃহে পিতলের ধাতু মণ্ডিত উঁচু যে শিলা রয়েছে তা অষ্টাবক্র মুনির। এর ঠিক পাশেই কিছুটা নিচে বক্রেশ্বর মহাদেবের ছোট শিলা।

 

দেবীমন্দিরে বেদীর ওপরে ভ্রুসন্ধির প্রস্তুরীভূত রূপটি রক্ষিত আছে। জনশ্রুতি আছে যে খাকি খাকিবাবা নামে খ্যাত এক সিদ্ধ সন্ন্যাসী শাস্ত্র মতে বহু যুগ আগে বেদীতে এটির প্রতিষ্ঠা করেন।

 

প্রায় প্রত্যেক অমাবস্যায় এই বক্রেশ্বর পীঠে অসংখ্য দর্শণার্থী আসেন। তন্ত্র মতে পুজো এবং হোম যজ্ঞ হয়।

 

পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – শোনদেশ

শক্তিপীঠ – শোনদেশ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের পর্বে লিখবো একান্নপীঠ শোনদেশ নিয়ে।পুরান অনুসারে এখানে দেবী সতীর ডান নিতম্ব পড়েছিল। এই শক্তি পীঠে নর্মদা রূপে বিরাজ করছেন। দেবীর ভৈরব হলেন ভদ্রসেন।
দেবীর মন্দিরটি মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টকে অবস্থিত।

মহাভারতের বনপর্বে এই পীঠের উল্লেখ আছে।
ঋষি পুলস্থ রাজা যুধিষ্টিরকে বলেছিলেন এই পবিত্র স্থানে নর্মদা নদীতে স্নান করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।আজও বিশ্বাস করা হয় যে অমরকন্টক এই জায়গাটিতে দেবতাদের বাসস্থান তাই এখানে যার মৃত্যু হবে সে সরাসরি বৈকুণ্ঠ যাত্রা করবে।

পুরানে মতে মহাদেব যখন ত্রিপুর অর্থাৎ তিনটি প্রাচীন নগরীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ভষ্মিভূত করেছিলেন সেই সময় কিছু ভস্ম অথবা ছাই পড়েছিল কৈলাসে। কিছুটা পড়েছিল অমর কণ্ঠকে আর কিছুটা ছাই মহাদেব নিজে স্বর্গে সঞ্চিত রেখেছিলেন। এছাড়াও মনে করা হয় যে, যে ভস্ম অর্থাৎ ছাই অমর কন্ঠকে পড়েছিল তা থেকে পরে কোটি কোটি শিবলিঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে।তাই এই পীঠটি একাধারে শক্তি পীঠ আবার শৈব্য তীর্থ।

শোন্দেশ শক্তি পীঠ তথা নর্মদা মন্দিরটি আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ছয় হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। মন্দিরের ভিতরের বেদীতে দেবী বিরাজ করছেন। সুন্দর এই বেদীটি রূপা দিয়ে তৈরি।

প্রাচীন কালে তৈরী এই মন্দিরের কারুকার্য এবং ভাস্কর্য আজও বিস্ময় জাগায়।মন্দিরের চারপাশে ছোট ছোট আরও অনেকগুলি পুষ্করিণী অথবা পুকুর আছে।মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নর্মদা নদী এবং কাছেই বিন্ধ্য পর্বত আর সাতপুরা পর্বত একসাথে মিশেছে।সব মিলিয়ে ওই শক্তি পীঠ সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ অতি মনোরম।

এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে মাঈ কি বাগিয়া অর্থাৎ দেবী মায়ের বাগান। জনশ্রুতি আছে যে এই বাগানে নাকি দেবী নর্মদা নিত্য লীলা করেন এবং নিয়মিত ফুল তুলতে আসেন।

শোনদেশ শক্তি পীঠে সারা বছরই পূজা হয়
এবং প্রতিদিন ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে।
তাছাড়া এই শক্তিপীঠ মহাশিবরাত্রি পালনের জন্য খুবই বিখ্যাত।

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো অন্য একটি শক্তি পীঠের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – উজানী

শক্তি পীঠ – উজানী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলায় অবস্থিত একান্ন পীঠের অন্যতম সতীপীঠ উজানি প্রসঙ্গে আজকের একান্ন পীঠ পর্ব।পীঠনির্ণয় তন্ত্র মতে উজানী হলো ত্রয়োদশ সতীপীঠট।পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কোগ্রামে এই শক্তি পীঠ অবস্থিত।

 

দেবী উজানী বা মঙ্গল চন্ডী এই অঞ্চলে অত্যান্ত জাগ্রত এবং দয়াময়ী। তার কৃপা পেতে বহু দূর থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন। দেবীর মন্দিরে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবার বিশেষ পুজো হয়।কোগ্রামের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব হচ্ছে উজানির মেলা।এছাড়াও সারাবছরই এখানে দুর্গাপূজা , কালীপুজো সবই হয়।তবে কোনো আলাদা মূর্তি হয় না ।সারাবছর দেবীর অন্ন, ভাজা,

ডাল, পায়েস , মাছ ইত্যাদি সহকারে নিরামিষ ভোগ হয়।শুধু মাত্র দুর্গাষ্টমীর দিন দেবীকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়।

 

শাস্ত্র অনুসারে উজানীতে সতীর বাঁ হাতের কনুই পড়েছিল। এখানে দেবী মঙ্গলচন্ডী রূপে পূজিতা হন এবং দেবীর ভৈরব হলেন কপিলেশ্বর।

 

অন্নদা মঙ্গল গ্রন্থ অনুসারে ধনপতি সওদাগর ছিলেন শিবভক্ত তিনি মঙ্গলচন্ডীর পূজা করতে অস্বীকার করেন।একবার বাণিজ্যে বেরোবার আগে তিনি মায়ের ঘটে লাথি মেরে বাণিজ্যে গিয়েছিলেন। দেবীর আক্রোশে তিনি আর উজানি নগরে ফিরে আসেননি।সওদাগরের স্ত্রী খুল্লনা মা মঙ্গলচন্ডীকে পুজোয় সন্তুষ্ট করে তার স্বামীর ফিরে আসবার জন্য প্রার্থনা করতেন।সবাই যখন সওদাগরের ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে মা মঙ্গল চন্ডীর কৃপায় অলৌকিক ভাবে সওদাগর একদিন ফিরে আসেন। সেই থেকে মর্তে মঙ্গলচণ্ডীর পুজোর প্রচলন হয় ।

 

অজয় নদের পাড়ে অবস্থিত মূল মন্দিরটিতে প্রথমে একটি বারান্দা আছে। তার ভিতরে আয়তাকার গর্ভগৃহ। এই গর্ভগৃহের মধ্যে মা মঙ্গলচণ্ডীর ছোটো কালো কষ্টি পাথরের দশভূজা মূর্তি রয়েছে। দেবী মঙ্গল চন্ডীর মূল মন্দিরের সামনে একটি ছোট নাটমন্দির রয়েছে ।

দেবীর ভৈরব কপিলাম্বর শিব লিঙ্গ আছে মন্দির চত্বরে শিবলিঙ্গের সামনে নন্দীর কালো পাথরের একটি ছোট মূর্তিও আছে।

 

আবার আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য একটি শক্তি পীঠের ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – কুরুক্ষেত্র

শক্তি পীঠ – কুরুক্ষেত্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের শক্তি পীঠ কুরুক্ষেত্র।শক্তি পীঠ কুরুক্ষেত্রকে সাবিত্রীপীঠ ও বলা হয় কারন দেবী এখানে স্বাবিত্রী রূপে বিরাজ করছেন।

দেবীর ভৈরবের নাম থানেশ্বর।পুরান মতে দেবীর ডান পায়ের গোড়ালি এখানে পড়েছিল।

 

পীঠ নির্ণয় গ্রন্থ মতে এটি একান্ন পীঠের পঞ্চাশ

তম শক্তিপীঠটি অন্নদা মঙ্গল এবং শিব চরিতেও এই সতী পীঠের উল্লেখ আছে।হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র জেলায় দ্বৈপায়ন হ্রদের মনোরম এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশে মা স্বাবিত্রীর

এই মন্দির অবস্থিত।

 

একাধিক পৌরাণিক ঘটনার পটভূমি এই শক্তি পীঠ ক্ষেত্র।পুরান মতে পরশুরাম ধরিত্রীকে ক্ষত্রিয় শুন্য করার পরে এই হ্রদের জলে পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পন করেছিলেন।

 

এই কুরুক্ষেত্র ময়দানে মহাভারতের পান্ডব এবং কৌরব দের যুদ্ধ হয়েছিলো এবং কথিত আছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরুর আগে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে পঞ্চপাণ্ডব এখানে এসেই দেবীর আরাধনা করেছিলেন। স্মারক হিসেবে নিজেদের ঘোড়াগুলিও দান করেন। আর সেই থেকেই এখানে কোনও কিছু মানত করার আগে ধাতব ঘোড়া দান করার রীতি শুরু হয় যা আজও চলছে।

 

 

শাস্ত্র মতে দেবী সাবিত্রী সূর্য্য কন্যা এবং তিনিই গায়েত্রী মন্ত্রের অধীস্টাত্রী দেবী। তার আশীর্বাদে বৈকুণ্ঠ লাভ হয় বলেও বিশ্বাস।

এখানে মায়ের ‘কঠোর রূপ’ বা উগ্র রূপ দেখা যায়।দেশের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে এটি একটি। মন্দিরে ঢোকার আগে শ্বেতপাথরের পা এর একটি অবয়বও রাখা আছে।

 

ভক্তরা আগে সেখানে পুজো করে তারপর মন্দিরে প্রবেশ করেন।সারা বছরই এখানে নিত্যপুজোর ব্যবস্থা থাকলেও কালীপুজোর তিথি ধরে এখানে হয় দেবীশক্তির আরাধনা। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, পবিত্র মনে কালিকাদেবী মায়ের কাছে যা চাওয়া হয় মা সেই মনস্কামনাই পূরণ করেন।

 

আজ এই শক্তি পীঠ নিয়ে এইটুকুই।ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি শক্তি পীঠ নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – কামাখ্যা

শক্তি পীঠ – কামাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের শক্তি পীঠ পর্বে লিখবো

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি পীঠ কামরুপ

কামাখ্যা নিয়ে।

 

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে সিদ্ধ পীঠ কামরূপে মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল কামাখ্যাকে বলা হয় তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান।

 

মহাভারতের যুগে এই স্থনের নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ। পাল রাজারা এককালে শাসন করতো এই প্রদেশ|এই আসামেরই কামরুপ জেলার নীলকন্ঠ পাহাড়ের চূড়ায় প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত।

 

কামরুপ কামাখ্যা তন্ত্রের জন্য জগৎ বিখ্যাত। এখনো জাদুবিদ্যা সাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। এমনকি এক কালে বৈদেশিক শত্রুরা বিশ্বাস করতো কামরূপ-কামাখ্যার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মায়াবী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখতো|তাই অনেকেই এই পথ মাড়াতে চাইতো না সহজে।

 

যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ।কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন, সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে সতীর অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়ার শ্রী অঙ্গের ভার সহ্য করতে না পেরে কেঁপে উঠলো এবং ক্রমশঃ পাতালে প্রবেশ করতে লাগলো। তখন দেবতাদের অনুকম্পায় এই পর্বত পাতালে প্রবেশ থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু মতৃ যোনি পতিত হওয়ার ফলে পর্বতের রং নীল বর্ণ ধারণ করেছিল তাই পর্বতের নাম হলো নীলকণ্ঠ বা নীলচল পর্বত।

 

এই স্থানে নরকাসুর এবং দেবী কামাখ্যাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন বশিষ্ট দেব। এই স্থানেই শিবের অভিশাপে নিজ রূপ হারিয়ে পুনরায় নিজের স্বরূপ ফিরে পেয়েছিলেন কামদেব।

 

এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান।

দেবীর ভৈরব একজন নয় নয়জন।তাই মনে করা হয় সুদূর অতীতে কোনো এক সময়ে হয়তো এখানে নয়টি শক্তিপীঠ ছিলো। যদিও এখন একটি শক্তিপীঠ ই জনসমক্ষে অবস্থিত।

 

মনেকরা হয় মূল কামাখ্যার মন্দিরটি নাগারা স্থাপত্যশৈলীর মন্দির ছিল। বর্তমান কামাখ্যা মন্দিরে গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ সম্বলিত চারটি কক্ষ রয়েছে যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন এবং নাটমন্দির। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।বর্তমান মন্দিরটি সংস্কার করেছিলেন কোচ বিহারের রাজা নরনারায়ণ।

 

অম্বুবাচি কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান উৎসব। অম্বু বাচির সময়ে দেশ বিদেশথেকে মাতৃ সাধক এবং তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো একটি শক্তিপীঠ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – কঙ্কালী তলা

শক্তি পীঠ – কঙ্কালী তলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শক্তি পীঠ সংক্রান্ত আলোচনায় দেশ বিদেশ পরিভ্রমণ আজ আবার বাংলায় ফিরে এলাম।

বাংলায় অবস্থিত শক্তি পীঠের অন্যতম

শক্তিপীঠ হল বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমায় অবস্থিত বিখ্যাত কঙ্কালীতলা মন্দির।

 

জনশ্রুতি আছে যে আজ থেকে কয়েকশো

বছর আগে এক সাধু স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠের অস্তিত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তার পরে অন্য এক মাতৃসাধক দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠে পুজোর শুরু করেন।

 

তন্ত্রচূড়ামতির মতে কঙ্কালী তলা আঠাশ তম সতীপীঠ। প্রাচীনকালে এই জায়গাটি কাঞ্চি নামে প্রসিদ্ধ ছিল।পুরান মতে মতে দেবী সতীর কাঁখাল অর্থাৎ কোমর পড়েছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের কোপাই নদীর তীরে । মতান্তরে দেবী সতীর কঙ্কাল পড়েছিল এই স্থানে।তাই পরবর্তীকালে কঙ্কালীতলা নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করে।ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে লেখা রয়েছে, এখানে সতীর কটিদেশ বা কোমরের অংশটি পরেছিল।এখানে দেবীর নাম দেবগর্ভা। দেবীর রক্ষক ভৈরবের নাম রুরু ।

 

এই শক্তি পীঠে রয়েছে একটি রহস্যময় জলাশয় বা কুন্ড।শোনা যায় কঙ্কালীতলার কুন্ডের সঙ্গে কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সরাসরি সংযোগ আছে । এই জলাশয়েই আছে দেবী সতীর প্রস্তুরীভূত দেহের অংশ যা কুড়ি বছর অন্তর কুন্ড থেকে তোলা হয় পুজার্চনার জন্য। পুজোর পরে আবার কুন্ডের জলে ডুবিয়ে রাখা হয়।

 

দেবীর কোনও মূর্তি নেই কঙ্কালী তলায় তার বদলে এখানে রয়েছে শ্মশান কালী মায়ের বড় বাঁধানো ছবি। যাকে দেবী রূপে পুজো করা হয়।

 

নিত্য পুজো ও ভোগ বিতরণ হয় এই কালী ক্ষেত্রে। এই কঙ্কালীতলা গুপ্ত তন্ত্রসাধনার জন্য খুবই বিখ্যাত।তন্ত্র সাধকদের পাশাপাশি এখানে প্রায় সারা বছর সাধারণ পর্যটকদের ভিড় লেগে

থাকে এই শক্তি পীঠে।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য একটি শক্তি পীঠ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – জয়ন্তী

শক্তিপীঠ – জয়ন্তী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বেশ কয়েকটি শক্তি পীঠের সঠিক অবস্থান নিয়ে কিঞ্চিৎ বিতর্ক আছে।যেমন শক্তি পীঠ জয়ন্তী।আজকের পর্বে এই শক্তি পীঠ জয়ন্তী

নিয়ে লিখবো ।

 

বেশিভাগ শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মনে করেন বাংলা দেশের শ্রীহট্টর জয়ন্তী অঞ্চলে এই শক্তি পীঠ অবস্থিত বলেই বেশি ভাগ শাস্ত্রজ্ঞ মনে করেন এবং এখানেই আছে দেবীর মন্দির।জ্ঞানার্ণব তন্ত্র ও বিশ্বসার তন্ত্রে এই স্থানের উল্লেখ আছে ।

 

পুরান মতে এই স্থানে সতীর ‘বামজঙ্ঘা’ পতিত হয়ে ছিলো । দেবী জয়ন্তীর ভৈরব ক্রমদীশ্বর শ্রীহট্ট জেলার অন্তর্গত জয়ন্তিয়া নামক পার্বত্য অঞ্চলে

রয়েছে দেবীর মন্দির। দুর্গম পাহারে চারকোণা অগভীর গর্তের মধ্যে একটি চৌকো পাথরের মধ্যে দেবীর অবস্থান ।

 

বহু কাল পূর্বে এই পাহাড়ে জয়ন্তীর রাজা দেবীর পুজো করতেন । পাহাড় কেটেই এক কালে তৈরী হয়েছিলো মন্দির যা আদতে গুহারই অংশ বলে মনে করা হয়।মন্দির তৈরীর সাথে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা।স্থানীয় আদিবাসী গ্রামের এক আদিবাসী সর্দার স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে দেবীর পুজো শুরু করেন সেই সময়ে আদিবাসী মেয়েরা খড় বাঁশের মন্দির নির্মাণ করে দেবী আদ্যা শক্তি ও শিবের পূজা করতেন। পড়ে স্থানীয় রাজা মন্দির নির্মাণ এবং পুজোর দায়িত্ব নিজের হাতে নেন। সেই থেকে এই দেবী রাজ পরিবারের পৃষ্ঠেপোষকতায় পূজিতা হন।

 

মন্দিরের অনতিদূরে আর একটি কুণ্ড আছে। স্বচ্ছ জলের এই কুন্ডের জলে দেবীর পূজো হয় । মন্দিরের থেকে অল্প দূরে আর একটি শিবলিঙ্গ দেখা যায়।পাহাড়ে তিনটি গুহা । খুব সরু এবং দুর্গম প্রবেশ পথ । তিনটি প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি প্রাচীন গুহা আছে । একটি হল মহাকাল ভৈরবের গুহা। একটি জয়ন্তী রূপী মহাকালী মায়ের গুহা। অপর একটি গুহাতে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ দেখা যায়।এখানে শিবলিঙ্গ ও শয়ম্ভু।

 

শোনা যায় এক সময়ে শ্রীহট্টের এই মন্দিরে জয়ন্তীর রাজা দুর্গাপূজার নবমীর দিন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বলী দিতেন।পুজো হতো তন্ত্র মতে।পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে রাজ তন্ত্রর অবসান ঘটলে বলী প্রথা বন্ধ হয়।

 

আজও এই শক্তি পীঠ অসংখ্য তন্ত্র সাধক ও মাতৃ সাধকদের আস্তানা। বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখানে আগত ভক্তরা আজও পদে পদে অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি অনুভব করেন

 

ফিরে আসবো অন্য এক শক্তি পীঠের কথা নিয়ে আগামী পর্বে। যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – দাক্ষায়নী

শক্তিপীঠ – দাক্ষায়নী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

তিব্বত ঘিরে সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে রয়েছে অসংখ্য রহস্য। একাধারে বৌদ্ধ এবং হিন্দু ধর্মে এটি একটি পবিত্র স্থান।একান্ন পীঠ এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সতীপীঠ হল মানস সতীপীঠ অথবা মানস শক্তিপীঠ যা তিব্বতের মানস সরোবরের কাছে অবস্থিত

 

শাস্ত্র মতে এখানে সতীর ডান হাত পতিত হয়েছিল।

মানস সতী পীঠে অধিষ্ঠিত দেবী হলেন দাক্ষায়নী এবং হর হলেন ভৈরব।

 

মানস সতী পীঠের মাহাত্ম্যের সবচেয়ে বড় একটি কারন পার্শ্ববর্তী মানস সরোবর। এই হ্রদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী।অল্প দূরেই কৈলাশ পর্বত তিব্বতে অবস্থিত এই কৈলাস এবং মানস সরোবরকে কেন্দ্র করেই এই মানস শক্তি পীঠটি গড়ে উঠেছে।মানস সরবরের পবিত্র কুণ্ডকেই সতী পীঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

দাক্ষায়নী দেবী সাক্ষাৎ এখানে বিরাজ করছেন বলে মনে করা হয়।অনেকে রাত্রে কৈলাস পর্বতের উপরে দুটি আলোকছটা দেখতে পান। যাকে দৈব আলোক জ্যোতিও বলা হয়। সেই আলোক ছটা পরস্পরের অনুগামী। মানুষের বিশ্বাস অনুসারে এই আলোক ছটাই আসলে শিব এবং পার্বতীর প্রতিরূপ বা দেবী দাক্ষায়নী এবং তার ভৈরব এই অঞ্চলে নিত্য লীলা করে চলেছেন।

 

প্রচলিত বিশ্বাস মতে স্বর্গের দেবতা, দেবী, গন্ধর্ব, অপ্সরা সকলেই আসেন এই শক্তি পীঠে পাশাপাশি

সারা বছরজুড়ে প্রায় সব সময় এই শক্তি পীঠে ভক্তদের আনাগোনা চলতেই থাকে।

 

পবিত্র কৈলাস পর্বতের অপার সৌন্দর্য আর মানস সরোবরের প্রশান্তি এই সতী পীঠের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলাই যায়। এখানে আলাদা করে কোনরকম মন্দির নির্মাণ করা হয়নি। নেই কোনো আলাদা মূর্তি। দেবী মহামায়া এখানে পরম প্রকৃতির রূপে ধরা দেন ভক্তদের কাছে।

 

ফিরে আসবো আগামী শক্তিপীঠ পর্ব নিয়ে

পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – রত্নাবলী

শক্তি পীঠ – রত্নাবলী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের শক্তি পীঠ পর্বে হুগলির খানাকুলে অবস্থিত রত্নাবলী নিয়ে আলোচনা করবো। জানাবো এই পীঠের ইতিহাস গুরুত্ব।

 

পুরান অনুসারে রত্নাবলীতে শ্বেত পলাশ গাছের নিচে দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধ অর্থাৎ ডান দিকের কাঁধ পড়েছিল।পরবর্তীতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে মন্দির বানান সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী।

 

এই অঞ্চলের ভৌগোলিক ইতিহাস অনুসারে এক সময়ে খানাকুলের উপর দিয়ে রত্নাকর নদী বয়ে যেত। সেই নদী আজ আর নেই। নদীর চিহ্ন হিসেবে পড়ে রয়েছে মজা এক খাল।

নদীর শুকিয়ে যাওয়া নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। শোনা যায় একসময় এই নদী ছিল বিশাল চওড়া। একবার প্রসিদ্ধ সাধক অভিরাম গোস্বামী এই নদীতটে স্নান করছিলেন। হঠাৎই নদীর জল ফুলে ফেঁপে জোয়ার আসে। সেই জোয়ারের জলে অভিরামের কৌপিন ভেসে চলে যায়। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সাধক তখন নদীকে শাপ দেন। বলেন, এই মুহূর্তে তুই অন্ধ হয়ে যা। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই তুই অন্তর্বর্তী শিলা হয়ে মাটির তলা দিয়ে বইবি। ওপরে ব্যাপ্তি আর থাকবে না। তারপর থেকেই নদীর জল শুকোতে থাকে। নদী শুকিয়ে হয়ে যায় খাল যাকে এলাকায় কানা দ্বারকেশ্বর খাল বলেই ডাকা হয় ।

আদিকালের সেই রত্নাকর নদী তথা বর্তমানের কানা দ্বারকেশ্বর খালের ধারেই রত্নাবলী কালীমন্দিরটি অবস্থিত । এখানে আগে থেকেই ছিলো ঘন্টেশ্বর শিবমন্দির। পরবর্তীতে মা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন সাধক স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী। তখন থেকেই দেবীর পূজা হয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠার সময় এই মন্দিরটি ছিল একটি তালপাতার কুঁড়েঘর।

 

বহু বছর পর বর্ধমানের মহারাজা এই মন্দিরটি পাকা করেন। সেই কাঠামোই এখনও রয়েছে।স্বপ্নাদেশ পাওয়া স্বরূপানন্দ ব্রহ্মচারী প্রস্তুরীভূত দেবীর দক্ষিণ স্কন্ধটি মঙ্গলঘটের নীচে রেখে পুজো শুরু করেন।রত্নাকর নদীর তীরে মন্দিরটি গড়ে উঠেছিল বলেই এখানে মায়ের নাম রত্নাবলী।

সাধক স্বরূপানন্দ মহারাজ পঞ্চমুণ্ডির আসনে ঘটে পুজো শুরু করেন। তার বহু কাল পরে মায়ের মূর্তি স্থাপন করা হয়।এখানে মায়ের চার হাত।

যথারীতি এই মন্দিরের প্রথম পূজারী স্বরূপানন্দ মহারাজের দেখানো পথেই আজও পুজো অনুষ্ঠিত হয়। সেই মতোই সব রীতি নীতি পালন হয় । আজও এখানে নিত্য পুজোর পাশাপাশি অমাবস্যায় হোম যজ্ঞ সহ বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়।বহু ভক্ত আসেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শক্তি

পীঠের পরবর্তী পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন ।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।