Home Blog Page 5

বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য 

বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বিপদতারিনী পুজো। বিপদতারিণী দেবী সঙ্কটনাশিনীর একটি রূপ যিনি দুর্গা তিনিই বিপদতারিনী।বিপদতারিনী পুজো করে ভক্তরা সুখ ও শান্তি লাভ করেন।আজ বিপদতারিণী পূজো উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জানাবো এই পুজোর তাৎপর্য ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।

 

সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা কখনও অসুরনাশিনী, আবার কখনও বা মাতৃ রূপিণী। মা বিপত্তারিণী দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের একটি রূপ।

 

গ্রামাঞ্চলে বিপদতারিনী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর “আরাধনা” করা হয়।  তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়।পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ধাগা পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপত্তারিণী ব্রত পালনের আগের দিন হবিষ্য করার নিয়ম। না হলে নিরামিষ আহার করতে হয়।

১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩টি পান, ১৩টি সুপারি এবং ১৩ গাছা লাল সুতোতে ১৩ গাছা দূর্বা সহযোগে ১৩টি গিঁট বেঁধে ডুরি তৈরি করতে হয়। আম্রপল্লব-সহ ঘট স্থাপন করে ব্রাহ্মণ দ্বারা নাম গোত্র সহযোগে পূজা দিতে হয়। পূজার পরে বিপত্তারিণী দেবীর ব্রতকথা শোনা পুজারই অঙ্গ।

পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ডুরি পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপদতারিনী পুজোর সময় নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। গৃহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।এইদিনে পরিবারের কোনও সদস্যর নেশা করা উচিৎ নয়। তাছাড়া এই পূজোর দিন কাউকে কটু কথা বলা নিষেধ,অর্থ ঋণ দেয়া নিষেধ এবং কাউকে চিনি দেয়া উচিৎ নয়।

 

বিপত্তারিণী ব্রত সাধারাণত মহিলাদের ব্রত। এই ব্রত কমপক্ষে ৩ বছর পালন করা নিয়ম।বিপত্তারিণী ব্রত পালনে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সাংসারিক বিপদ থেকে রক্ষা করে জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি দান করেন মা বিপত্তারিণী।

 

শাস্ত্র মেনে মা বিপদতারিনী পুজো করা ভক্তরা সুখ এবং শান্তি লাভ করে। শাস্ত্রে যেমন মা লক্ষ্মী মাকে ধন সম্পদের দেবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তেমনি এটা বিশ্বাস করা হয় যে মা বিপদতারিনী উপাসনা করলে তিনি সকলের উপর আশির্বাদ বজায় রাখেন। একই সঙ্গে সমস্ত ঝামেলা, অর্থ সঙ্কট থেকে মুক্তি দেন। গৃহে সুখ এবং

সমৃদ্ধি লাভ হয়।

 

সবাইকে জানাই বিপদতারিণী পূজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো রথ যাত্রা উপলক্ষে

ধারাবাহিক লেখা নিয়ে আগামী দিনে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের সঙ্গে জগন্নাদেবের লীলা 

ভক্তের সঙ্গে জগন্নাদেবের লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একসময় পুরীধামে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের একজন মহান ভক্ত ছিল।তার নাম ছিলো রঘু দাস।

এই ভক্ত রঘু দাসকে বিশেষ স্নেহ করতেন জগন্নাথদেব। ইতিমধ্যে রঘুর সঙ্গে জগন্নাথের একটি লীলা নিয়ে লিখেছি আজকের পর্বে

ভক্ত রঘু দাসের জীবনের আরো একটি

অলৌকিক ঘটনা আপনাদের জানাবো।

 

একবার ভক্ত রঘুদাস পুরীর মন্দিরের বিগ্রহবেদীতে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতাদেবীর দর্শন পান এবং উপলব্ধি করেন যে শ্রীজগন্নাথ এবং শ্রীরামচন্দ্র এক এবং অভিন্ন।তারপর থেকে সে জগন্নাথকে শ্রী রাম জ্ঞানেই পুজো করতো।

একবার রঘু শ্রীজগন্নাথের জন্য একটি সুন্দর মালা গেঁথে জগন্নাথকে দেয়ার জন্য পূজারীকে দেয়।কিন্তু পূজারী সেটি ভগবানকে দিতে চাইলেন না কারন মালাটি ছিলো অতি সাধারণ এবং সস্তা।

তাঁর মালাটি জগন্নাথকে দেয়া হল না দেখে রঘু অত্যন্ত দুঃখিত, বিমর্ষ হয়ে মন্দির ত্যাগ করে।

 

সেই রাতে ভগবান শয়নে যাওয়ার পূর্বে জগন্নাথের বড়-শৃঙ্গার বেশের সময় ভগবান কোনও ফুলই গ্রহণ করলেন না। পূজারীরা বুঝলেন যে তারা নিশ্চয়ই কোন গর্হিত অপরাধ করেছেন।

সেই রাত্রেই জগন্নাথ প্রধান পূজারীর নিকট স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “আমার ভক্ত রঘু দাস আমার জন্য একটি ফুলের মালা এনেছিল। সে কত ভক্তি ও প্রীতি সহকারে সেটি গেঁথেছিল! তুমি কেবল বাইরে থেকে সূতোটি দেখে তাঁকে ফিরিয়েছ,আমাকে মালা অর্পণ করার অনুমোদন দেওনি। আমার ভক্তের ইচ্ছাপূরণ হয়নি তাই আমিও বড় শৃঙ্গার ত্যাগ করেছি।

 

তৎক্ষণাৎ পূজারীরা ভক্ত রঘুদাসের কাছে গিয়ে তাদের অপরাধ স্বীকার করলেন এবং শ্রীজগন্নাথদেবকে তাঁর মালা অর্পণ করতে বললেন। রঘু দাস অত্যন্ত খুশি হল এই শুনে যে, ভগবান এতই করুণাময় যে, তিনি স্বয়ং তাঁর মালা গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং তার ইচ্ছে আজ পূরণ করবেন।

 

প্রভু জগন্নাথ পরম করুনাময়। শুধু ভাব এবং

ভক্তি দিয়েই তাকে সন্তুষ্ট করা যায়। চলতে থাকবে এই শাস্ত্রীয় ধারাবাহিক উপস্থাপনা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

১২ বছর পর বিরল গুরু আদিত্য (জীবাত্মা) যোগ — ৩ আগস্ট পর্যন্ত ভাগ্যের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে এই ৬ রাশির!

১২ বছর পর বিরল গুরু আদিত্য (জীবাত্মা) যোগ — ৩ আগস্ট পর্যন্ত ভাগ্যের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে এই ৬ রাশির!

 

বর্তমানে কর্কট রাশির পুষ্যা নক্ষত্রে রবি ও বৃহস্পতি একসঙ্গে অবস্থান করছে। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই বিরল সংযোগকে গুরু আদিত্য যোগ বা জীবাত্মা যোগ বলা হয়। আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত এই শুভ যোগ কার্যকর থাকবে।

 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীর্ঘ ১২ বছর পর কর্কট রাশিতে নক্ষত্রের রাজা পুষ্যা নক্ষত্রে এই মহাশুভ যোগ গঠিত হয়েছে। তাই জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

জন্মছকে গুরু আদিত্য যোগ থাকলে কী ফল পাওয়া যায়?

 

যাঁদের জন্মকুণ্ডলীতে গুরু আদিত্য যোগ থাকে, তাঁদের জীবনে সাধারণত উচ্চশিক্ষা, জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, প্রশাসনিক কাজ, নেতৃত্ব এবং সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের প্রবল সম্ভাবনা দেখা যায়।

 

বৃহস্পতি হলেন জ্ঞান, ধর্ম, ভাগ্য, অর্থ ও কর্মের কারক গ্রহ। অন্যদিকে রবি আত্মবিশ্বাস, সম্মান, নেতৃত্ব, রাজকীয় ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। তাই এই দুই শুভ গ্রহের মিলন একজন ব্যক্তির জীবনে অসাধারণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বিশেষ করে ধনু, মীন, মেষ ও কর্কট রাশিতে জন্মছকে রবি-বৃহস্পতির এই সংযোগ থাকলে তার শুভ ফল আরও শক্তিশালীভাবে অনুভূত হয়।

 

গোচরে কোন কোন রাশি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে?

 

আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত গঠিত এই গুরু আদিত্য যোগের ইতিবাচক প্রভাব বিশেষভাবে অনুভব করতে পারেন—

 

♍ কন্যা রাশি

 

♎ তুলা রাশি

 

♏ বৃশ্চিক রাশি

 

♑ মকর রাশি

 

♓ মীন রাশি

 

♊ মিথুন রাশি

 

এই সময়ে কর্মজীবনে উন্নতি, ব্যবসায় নতুন সুযোগ, আর্থিক লাভ, শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য, সম্মান বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে শুভ ফল পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

 

তবে মনে রাখবেন, গোচরের ফল প্রত্যেকের জন্মছকের অবস্থান, দশা-অন্তর্দশা এবং অন্যান্য গ্রহের প্রভাবের উপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।

 

✨ আগামী কয়েকটি দিন তাই নিজের লক্ষ্য পূরণে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত আপনার জীবনে নতুন সাফল্যের দরজা খুলে দিতে পারে।

জগন্নাথদেব এবং কর্মা বাই 

জগন্নাথদেব এবং কর্মা বাই

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে শ্রী জগন্নাথ দেবের একটি বিশেষ লীলা এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

পুরীতে এক সময়ে কর্মাবাই নামে একজন বৃদ্ধা বাস করতেন। তিনি জগন্নাথকে নিজের পুত্র রূপে দেখতেন এবং তাঁকে বালক রূপে সেবা করতেন।

মনে করা হয় ভগবানকে ভক্ত যে রূপে পুজো করবে ভগবান সেই রূপেই ধরা দেবে।জগন্নাথও কর্মা বাইকে পুত্র রূপে ধরা দিয়েছিলেন।

 

কর্মা বাইয়ের মনে হত সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জগন্নাথ দেবের খিদে পেয়ে যায়। তাই তিনিও খুব সকালে ঘুম থেক উঠে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করতে বসতেন।প্রতিদিন ভোরে বালক রূপ ধরে জগন্নাথদেব কর্মাবাইয়ের খিচুড়ি খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতেন। এই খিচুড়ির স্বাদ ছিল জগন্নাথদেবের বড়ই প্রিয়।

 

খুব ভোরে বৃদ্ধা কর্মা বাইয়ের পক্ষে প্রতিদিন স্নান করা সম্ভব হতোনা।একদিন মন্দিরের এক পূজারী কর্মাবাইকে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করতে দেখেন। তিনি কর্মাবাইকে নিষেধ করে বলেন যে প্রভুর ভোগ রান্না এবং নিবেদনের আগে দেহে এবং মনে বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি।স্নান না করে ভোগ রান্না শাস্ত্র বিরুদ্ধ।পরদিন সাধুর কথামতো কর্মাবাই স্নান সেরে নিয়ম মেনে যখন জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি ভোগ দেন।তাতে দেরি হয়ে যায় অনেকটা। সকাল থেকে ক্ষুদার্থ জগন্নাথ দেব বেলার দিকে

কর্মা বাইয়ের বানানো গরম খিচুড়ি খেয়ে

সেদিন দুপুরে আর ভোগ গ্রহণ করলেন না।

 

পরে সেবাইতএ অনুসন্ধান করে দেখেন যে

প্রভুর মুখে খিচুড়ি লেগে আছে।পরবর্তীতে জগন্নাথদেব স্বয়ং তার বিশেষ এবং ঘনিষ্ট কয়েকজন সেবককে স্বপ্নে কর্মাবাইয়ের বৃত্তান্ত শোনান এবং তাদের আদেশ করেন তিনি যেন আগের মতোই খুব ভোরে স্নানের আগেই জগন্নাথের জন্য খিচুড়ি রান্না করে ভোগ নিবেদন করেন।সেবকরা কর্মাবাই এর কাছে ছুটে গিয়ে ক্ষমা চান এবং প্রভুর আদেশ শোনান।

 

তারপর থেকে শুরু হয় খুব সকালে বাল্য ভোগে জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি দেওয়ার নিয়ম।যতদিন কর্মা বাই জীবিত ছিলেন তিনি নিজেই খিচুড়ি বানাতেন।শোনা যায় কর্মাবাইয়ের মৃত্যুতে জগন্নাথদেব কেঁদে ছিলেন।

কর্মা বাইয়ের অনুপস্থিতিতে পুরীর রাজার নির্দেশে পুরী মন্দিরের বাল্যভোগে ” কর্মাবাই খিচুড়ি ” রান্না চালু হয়।আজও জগতের নাথের দিন শুরু এই

বিশেষ ভোগ দিয়ে।

 

ভক্তের ভক্তি যদি নিখুঁত হয় ভগবান তাকে বুকে টেনে নেন এবং ভক্তের দুঃখে ভগবানের চোখেও জল আসে। এই ঘটনা তা আরো একবার প্রমান করে।

 

শ্রী জগন্নাথ দেব সংক্রান্ত লেখা

নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা

সময়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেব এবং কোহিনুর

জগন্নাথ দেব এবং কোহিনুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগের একটি পর্বে জগন্নাথদেবের ধন দৌলত নিয়ে আলোচনা করেছিলাম সেখানে কোহিনুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিলো তবে কোহিনুর এবং জগন্নাথদেবের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং বেশ তাৎপর্য পূর্ণ। তাই আজ বিস্তারিত ভাবে জানাবো।

 

সকলেই জানেন যে কোহিনুরের যাত্রা গোলকুণ্ডায় শুরু হয়েছিল এবং মুঘল দিল্লি, পারস্য এবং আফগানিস্তানে পৌঁছেছিল তারপর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শিখ সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনুর অধিকার করেন তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার রাজা দিলীপ সিংহর হাত থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইংল্যান্ডের রানী কোহিনুর উপহার হিসেবে পান।

 

মহারাজা রঞ্জিত সিং 1839 সালে তাঁর মৃত্যুর আগে হীরাটি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মহারাজার অধীনে থেকেও পাঞ্জাবের তৎকালীন কিছু ক্ষমতাবান আমলা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

কিছু ইতিহাস বইয়ে মহারাজা রঞ্জিত সিং কর্তৃক পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কাছে কোহিনূর বন্ধক হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

 

মহারাজ রঞ্জিত সিংহ তার ইচ্ছে প্রকাশ করে কোহিনুরকে জগন্নাথ মন্দিরে দান করার জন্য একটি উইল ও লেখেন যাকে ভিত্তি করে আজও পুরীর মন্দির কতৃপক্ষ কোহিনুর তাদের বলে দাবী করে আসছেন এবং সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি লড়াই লড়তেও তারা প্রস্তুত।

রুঞ্জিত নিজেই মারা যান তার এই শেষ ইচ্ছে অপূর্ন রেখে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তার নাবালক উত্তরাধিকারের হাত থেকে কোহিনুর এক প্রকার ছিনিয়ে নেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা।

 

এখন প্রশ্ন জাগে মহারাজা রঞ্জিত সিং মূল্যবান কোহিনুর দেওয়ার জন্য জগন্নাথ মন্দির বেছে নেওয়ার কারণ কী? আসলে বাঙালিদের মতো শিখ দের সাথে জগন্নাথ দেবের রয়েছে বিশেষ সম্পর্ক।উড়িষ্যার সাথে শিখদের এই নিবিড় সংযোগ প্রথমে গুরু নানকের সময়ে শুরু হয়।

শোনা যায় গুরু নানক একবার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন এবং অন্য ধর্মের হওয়ায় তিনি প্রবেশেধিকার পাননি। পরে পুরীর সমুদ্র সৈকতে তারা যখন অভুক্ত অবস্থায় ছিলেন তখন প্রভু জগন্নাথ তাদের নিজের ভোগ পাঠিয়ে তাদের সেবা করেন। তারপরে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের সময়েও শিখ ধর্মের মানুষ রা জগন্নাথের বিশেষ কৃপার পাত্র ছিলেন। আজও সেই পরম্পরা চলছে। তাই মহারাজা রঞ্জিত সিং তার দখলে থাকা সবচেয়ে দামি রত্ন কোহিনূরকে পুরী জগন্নাথ মন্দিরে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

 

এই রথ যাত্রা উপলক্ষে আবার এক বিশেষ

পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রী জগন্নাথের রথযাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

শ্রী জগন্নাথের রথযাত্রার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।রথযাত্রার দিন বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চড়ে অর্থাৎ মাসির বাড়ি যান জগতের নাথ। শ্রী জগন্নাথের মাসির বাড়ি মানে শ্রী ধাম জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে গুণ্ডিচা মন্দির। আজ সেই রথ যাত্রার পুন্য তিথি।

 

রথ যাত্রার এক সপ্তাহ পরে তিনি ফেরেন নিজ স্থানে।জগন্নাথ দেবের সপরিবারের রথে চড়ে এই ফিরে আসাই উল্টোরথ নামে খ্যাত

রথ যাত্রার পর দিন থেকে জগন্নাথদেব বিরাজ করবেন গুন্ডিচা মন্দিরে। আর কয়েকদিন পরেই উল্টো রথের মাধ্যমে তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

 

শাস্ত্রে রথ যাত্রা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, “রথস্থ বাম নং দৃষ্টাপুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”৷ অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তাঁর পুনর্জন্ম হয় না৷ তাই রথের দড়ি টানাকেও পুণ্যের কাজ হিসাবে গণ্য করেন ধর্মপ্রাণ সনাতনীড়া ।

 

শুধু তাই নয় শাস্ত্র মতে যেকোনো শুভ কাজে যেমন গৃহ প্রবেশ, ব্যাবসার শুরু সবই করা যায় এই শুভ সময়ে।জগন্নাথ দেব স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। তিনিই জগতের নাথ। শাস্ত্র মতে তিনি বামন অবতার রূপে পুরীতে বিরাজমান।এই সমগ্র সময় জুড়ে জগন্নাথ মাহাত্ম শ্রবণ করা এবং প্রভু জগন্নাথ

দেবের আরাধনা করা শাস্ত্র মতে মহা পুন্যর কাজ।

 

পুরীর মন্দিরে প্রবেশের অনেক নিষেধাজ্ঞা। বিদেশীরা প্রবেশ করতে পারেন না। বিধর্মীরা প্রবেশ করতে পারেননা। কিন্ত ভগবান স্বয়ং ভক্তদের মধ্যে কোনো রূপ ভেদাভেদ করেন না। তাই বছরের এই নিদ্দিষ্ট কয়েকটি দিন নিজের গৃহ মন্দির ছেড়ে নেমে আসেন পথে জাতি,ধর্ম যে বর্ন নির্বিশেষে মিলিত হন তাঁর অগণিত ভক্তদের সাথে।

 

শাস্ত্র মেনে রথ যাত্রা পালন করুন।

ফিরে আসবো রথ যাত্রা এবং জগন্নাথেদেব সংক্রান্ত আরো তথ্য এবং পৌরাণি বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রী জগন্নাথদেবের বিভিন্ন বেশ

শ্রী জগন্নাথদেবের বিভিন্ন বেশ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে মহাপ্রভু জগন্নাথকে সারা বছর বিভিন্ন তিথি, উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষে নানা রূপে সজ্জিত করা হয়। এই বিশেষ অলঙ্করণকে বলা হয় “বেশ”। মন্দির-পরম্পরায় প্রচলিত আছে যে, মহাপ্রভু বছরে মোট ৩২টি বিশেষ বেশ ধারণ করেন। প্রতিটি বেশের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভগবানের এক একটি লীলা, তত্ত্ব ও ভক্তদের জন্য গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা।
আগে আপনাদের গজ বেশ বা হাতি বেশ নিয়ে বলেছি আজ আরো কয়েকটি বেশ নিয়ে লিখবো।

পদ্মবেশ

অসংখ্য পদ্মফুল দিয়ে মহাপ্রভুকে সাজানো হয়। এটি ভক্তির পবিত্রতা ও নির্মলতার প্রতীক।

সোনাবেশ – রথযাত্রার পর বহুড়া যাত্রার পরদিন স্বর্ণালঙ্কারে মহাপ্রভু সজ্জিত হন। এটি ঐশ্বর্য ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ করে।

রাজাধিরাজ বেশ-
রাজবেশে সজ্জিত হয়ে মহাপ্রভু জানান, তিনিই সমগ্র বিশ্বের অধিপতি।

রাধা-দামোদর বেশ – শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমলীলা স্মরণে এই বেশ ধারণ করা হয়।

লক্ষ্মী-নারায়ণ বেশ-
মহালক্ষ্মী ও নারায়ণের ঐশ্বর্যময় রূপের প্রতীক এই বেশ।

কালীয়দমন বেশ-
যমুনার কালীয় নাগকে দমন করার শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্মরণে এই সাজ।

গজউদ্ধারণ বেশ- ভক্ত গজেন্দ্রকে রক্ষা করার সময়ে বিষ্ণুর করুণাময় রূপের প্রকাশ এই বেশ।

বনভোজি বেশ-
বৃন্দাবনের গোপবালকদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বনভোজন লীলার স্মৃতি বহন করে এই বেশ।

নাগার্জুন বেশ-
বিরল এই বেশ বিশেষ তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং মহাপ্রভুর বীর রূপ প্রকাশ করে।

গণেশ বেশ-
ভক্তদের মঙ্গল ও বিঘ্ননাশের প্রতীক হিসেবে এই বেশ পালিত হয়।

চাচেরী বেশ-
চন্দন, ফুল ও অলঙ্কারে সজ্জিত এই বেশ গ্রীষ্মকালের একটি বিশেষ আকর্ষণ।

প্রভু জগন্নাথের বিভিন্ন বেশ দর্শনের জন্য প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন। মহাপ্রভুর প্রতিটি রূপ ভক্তের হৃদয়ে নতুন ভক্তি, আনন্দ ও ঈশ্বরপ্রেমের সঞ্চার করে।

আগামী সময়ে এই ধারাবাহিক উপস্থাপনায়
শ্রী জগন্নাথের আরো কিছু বেশ এবং
তাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে
ফিরে আসবো।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রভু জগন্নাথের মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য

প্রভু জগন্নাথের মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ কেবল একটি খাদ্য নয়, এটি ভগবানের কৃপা, আশীর্বাদ ও ভক্তির প্রতীক। যুগে যুগে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য প্রকাশ পেয়েছে।

আজকে তেমনই একটি ঘটনা জানাবো।

 

একবার মায়া পুরের এক জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রার সময় এক রিকশাচালক শ্রীজগন্নাথ মন্দির থেকে খিচুড়ি মহাপ্রসাদ গ্রহণ করেন। তিনি নিজের জন্য যেমন প্রসাদ নেন, তেমনি তাঁর একবন্ধুর জন্যও কিছু মহাপ্রসাদ নিয়ে যান। কিন্তু সেই বন্ধু প্রসাদের মাহাত্ম্য না বুঝে অবজ্ঞাভরে তা মাটিতে ফেলে দিয়ে বলেন তিন প্রসাদ গ্রহন করতে চান না।

 

সেই রাতেই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। স্বপ্নে তিনি দেখেন, শ্রীবলরাম অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁকে শাস্তি দিচ্ছেন। বলরাম বলেন, “আমার ভাই শ্রীজগন্নাথের মহাপ্রসাদকে তুমি অপমান করার সাহস পেলে? মহাপ্রসাদকে মাটিতে ফেলে দিলে কেন?” স্বপ্নে তিনি ভয়ে কাঁপতে থাকেন। সেখানে দেবী সুভদ্রাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঘটনাটি দেখে হাসছিলেন, আর শ্রীজগন্নাথদেবও উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি করুণাময় কণ্ঠে বললেন, “না, তাকে হত্যা করো না।”

 

পরদিন সকালে সেই ব্যক্তি গভীর অনুতাপ নিয়ে মন্দিরে এসে শ্রীজগন্নাথদেবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং মহাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও প্রসাদ গ্রহন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তবে প্রসাদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁর সেই ইচ্ছে সেদিন পূর্ণ হয়নি।

 

কিন্তু প্রভু তাঁর আন্তরিক অনুশোচনা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ওপর কৃপাদৃষ্টি

বর্ষণ করেন।

 

এমন আরো অনেক ঘটনা দিয়ে সাজানো

থাকবে আগামী দিনের পর্ব গুলি।

ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রভু জগন্নাথের ক্রোধ

প্রভু জগন্নাথের ক্রোধ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথ শুধু দয়ালু এবং কোমল হৃদয় নয়। প্রয়োজনে তিনি কঠোর হতেও জানেন। আজ আপনাদের মায়া পুরের কাছের একটি জগন্নাথ মন্দিরের একটি অলৌকিক ঘটনা জানাবো যা থেকে এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।

 

অনেক বছর আগে মায়া পুরের কাছে একটি জগন্নাথ মন্দির ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল, তখন গ্রামের এক কিশোর গরু চরাতে চরাতে মন্দিরের পাশ দিয়ে যেত। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মন্দিরের ভাঙা ইট। একদিন খেলার ছলে সে একটি ইট লাঠি দিয়ে ভেঙে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিষয়টিকে সে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

কিন্তু সেই রাতেই ঘটল আশ্চর্য ঘটনা। সারারাত সে ঘুমোতে পারল না। বারবার যেন একটি করুণ অথচ গম্ভীর কণ্ঠস্বর তার কানে ভেসে আসতে লাগল—

“আমার মন্দিরের ইট তুমি কেন বাইরে ফেলে দিলে?”

এই অলৌকিক আহ্বান তার হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিল। পরদিন সকালে সে ছুটে গিয়ে সেই ইটটি খুঁজে বের করল এবং যেখানে ছিল, সেখানে আবার যথাস্থানে রেখে দিল। তারপরই তার মনের অশান্তি দূর হল এবং সে শান্তি অনুভব করল।

 

প্রভু জগন্নাথের কৃপা ও মহিমা এমনই যে, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বস্তুই তুচ্ছ নয়। এমনকি তাঁর মন্দিরের একটি ইটও তাঁর সম্পত্তি—যার প্রতি অসম্মান ভক্তের জীবনে অশান্তির কারণ হতে পারে।

 

এই ঘটনা আমাদের শেখায় শেখায় যে ভগবানের মন্দির, বিগ্রহ, প্রসাদ, তুলসী, ধ্বজা কিংবা মন্দিরের একটি ইট—সবই পবিত্র। ভক্তের কর্তব্য হলো সেগুলিকে শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে সম্মান করা। আমরা যাকে তুচ্ছ বলে ভাবি, ভগবানের কাছে

সেটিও মূল্যবান এবং যে ভক্ত ভগবানের প্রতিটি সম্পদকে সম্মান করে, তার জীবনেই নেমে আসে প্রকৃত শান্তি ও ঈশ্বরের কৃপা।

 

ফিরে আসবো আগমনী পর্বে জগন্নাথে সংক্রান্ত অন্য একটি অলৌকিক ঘটনা এবং ব্যাখ্যা

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেব এবং গণেশ ভট্ট

জগন্নাথ দেব এবং গণেশ ভট্ট

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথের বিখ্যাত গজ বেশের নেপথ্য একটি একটি বিশেষ ঘটনা আছে যে ঘটনার প্রধান চরিত্র ভক্ত গণেশ ভট্ট বা গণপতি ভট্ট।আজকের পর্বে

সেই অলৌকিক ঘটনা বা লীলা নিয়ে লিখবো।

 

পন্ডিত গণেশ ভট্ট ছিলেন পুরান এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ। তিনি ছিলেন গণপতির উপাষক

তিনি শাস্ত্র পড়ে জানতে পেরে ছিলেনযে পুরীতে ভগবানের বামন অবতার বিরাজমান এবং রথে সেই বামন অবতারকে দর্শন করলে ব্রহ্মজ্ঞান হয়। আত্মার মুক্তি হয়। তিনি পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।

 

যথা সময়ে গণেশ ভট্ট পুরীতে পৌঁছলেন কিন্তু জগন্নাথদেব দর্শন করে তিনি সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি মনে মনে তার আরাধ্য গণেশের রূপ কল্পনা করেছিলেন। কিন্তু জগন্নাথ দেবের রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার মনের কথা বুঝতে পেরে প্রভু জগন্নাথ পুরীর রাজাকে আদেশ দেন যে তিনি যেনো আরো একবার গণেশ ভট্টকে নিয়ে আসেন।

 

তারপর পুরীর রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। রাজার অনুরোধে স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট আবিষ্কার করেন জগন্নাথ গণেশ রূপেই তাকে দেখা দিয়েছেন।মুগ্ধ হলেন গণেশ ভট্ট। নিজের আরাধ্য শ্রী গণেশকে তিনি খুঁজে পেলেন প্রভু জগন্নাথের মধ্যে।

 

এই ঘটনা থেকেও প্রমাণিত হয় ভক্তের মনে যদি ভক্তি অটুট থাকে এবং আস্থা থাকে ভগবান তার মনোস্কামনা পূর্ণ করেন। তার জন্য তিনি নিজের রূপ বদলাতেও দ্বিধা করেননা।

 

সেই ঘটনার পর থেকেই স্নান যাত্রায় জগন্নাথের বেশ হয় হাতিবেশ বা গজ বেশ।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে জগন্নাথ প্রসঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা নিয়ে। থাকবে আরো একটি অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।