Home Blog Page 5

সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর স্বরূপ

সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর স্বরূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবী সরস্বতীকে শাস্ত্রে নানা ভাবে ব্যাখ্যা ওব বর্ণনা করা হয়েছে। আজ দেবীর স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করবো জানবো তার সহজ ব্যাখ্যা।

 

সৃষ্টির আদি পর্বে ঈশ্বরের শক্তি পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয় এই পাঁচটি শক্তি হলো রাধা, পদ্মা, সাবিত্রী দূর্গা এবং সরস্বতী।দেবী সরস্বতী শ্রুতি শাস্ত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠা। তিনি শুক্লাবর্ণা, বীনা ধারিণী এবং চন্দ্রের

শোভা যুক্ত।দেবী কবিদের ইস্ট দেবী তাই তার নাম সরস্বতী।

 

শ্রীকৃষ্ণই প্রথম দেবী সরস্বতীর পুজো করেন। শ্রী কৃষ্ণর পরামর্শ মেনেই দেবী সরস্বতী নারায়ণ ভজনা শুরু করেন। দেবী ভাগবত মতে সরস্বতী ব্রম্হার স্ত্রী আবার ব্রহ্মবইবর্ত পুরান মতে দেবী সরস্বতী নারায়ণের স্ত্রী।দেবী সনাতন ধর্মের প্রধান দেবীদের মধ্য অন্যতম শ্রেষ্ঠা।

 

দেবী সরস্বতীর বাহন রাজ হংস কারন হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|

 

আবার রাজ হংস পরমব্রহ্ম পরমাত্মার প্রতীক স্বরূপ। পরম জ্ঞানের প্রতীক। তাই দেবী সরস্বতীর

বাহন রূপে রাজ হংস যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

 

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে দেবী সরস্বতী সংক্রান্ত বিশেষ শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি

সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আগামী ২৩ এ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো।সসেই উপলক্ষে শুরু করেছি এই ধারাবাহিক লেখা।
আজ আসুন জেনে নিই দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি এবং তাঁর সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

দেবী সরস্বতী মূলত পৌরাণিক দেবী।পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রম্ভা সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং
এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর।

জন্মের পর সরস্বতী এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায় সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন তাঁর জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|

তবে সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই দেবী এই বিশ্বে বিরাজ করছেন।সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী।পুরাকালে দেবী সরস্বতী নদীরূপে দেশকে উর্বরা করতেন। জলকে পবিত্র করতেন। বাগদেবী বোঝাতে সরস্বতী নদীর অধীস্টাত্রী দেবীকে বোঝানো হয়।

দেবী সরস্বতী শিল্প,সাহিত্য শিক্ষা এবং জ্ঞানের দেবী। দেবীর আশীর্বাদে যেকোনো সৃজনশীল কাজেই সাফল্য পাওয়া যায়।

অনেকেই মনে করেন সরস্বতী এবং লক্ষী অর্থাৎ বিদ্যা এবং অর্থ একসাথে থাকেনা। দুয়ের বিরোধ আছে। কিন্তু শাস্ত্র সম্মত ভাবে এই মত সমর্থন যোগ্য নয় কারন দুই দেবীই একে অন্যের পরিপূরক। বিদ্যা ছাড়া শ্রী লাভ বা লক্ষী লাভ
করা বাস্তব জগতে অসম্ভব।

আগামী পর্বে দেবী সরস্বতী সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সরস্বতী মাহাত্ম্য – বাংলার সরস্বতী মন্দির

সরস্বতী মাহাত্ম্য – বাংলার সরস্বতী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলায় কালী মন্দিরের সংখ্যা অসংখ্য যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি।

আর কয়েক দিন পরেই স্বরস্বতী পুজো আজ থেকে এই কয়দিন ধারাবাহিক ভাবে দেবী সরস্বতী আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় তাৎপর্য নিয়ে লিখবো। আজ বাংলার একটি সরস্বতী মন্দির দিয়ে শুরু করবো। অনেকের মতেই এটি বাংলার একমাত্র সরস্বতী মন্দির।

 

এই সরস্বতী মন্দির রয়েছে হাওড়ার পঞ্চানন তলায়। উমেশ চন্দ্র দাস লেনে। এই সরস্বতী মন্দিরে মা সরস্বতীর নিত্য পুজো হয় যা আর খুব একটা চোখে পড়েনা।

 

এই মন্দির স্থাপিত হয় আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে।স্থানীয় দাস পরিবার এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে।এই বংশের অন্যতম কৃতি সন্তান রণেশ চন্দ্র ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি একবার কর্মসূত্রে রাজস্থানে ছিলেন। ফেরার সময় জয়পুর থেকে তিনি মা সরস্বতীর চার ফুটের শ্বেত পাথরের একটি মূর্তি  এনেছিলেন। সেই মূর্তি আনার পর তার বাবা উমেশ চন্দ্র দাসের ইচ্ছেতে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরু হয় দেবী সরস্বতীর নিত্য পুজো।যা আজও চলছে।

 

এটি এলাকার অন্যতম বনেদি বাড়ি।যখন বঙ্কিমচন্দ্র ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন, তখন তিনি পঞ্চানন তলার বাড়িতে বেশ কয়েক বছর ছিলেন।বিধানচন্দ্র রায় এবং রবীন্দ্রনাথ সহ বাংলার বহু বিখ্যাত মনীষীরা এই বাড়িতে এসেছেন।

 

সে যুগে বনেদি বাঙালি পরিবারে দুর্গাপূজা বা কালী পুজোই হতো প্রধান উৎসব হিসেবে। তাই সরস্বতী পুজো শুরু করে এই দাস পরিবার চলে আসে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে।শুধু তাই নয় এই পরিবার মা সরস্বতীর বিশেষ কৃপা লাভ করে এবং একের পর এক উচ্চ শিক্ষত এবং কৃতি সন্তান জন্মায় এই বাড়িতে।কেউ ছিলেন বিখ্যাত ডাক্তার।আবার কেউ উকিল। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে দেবী সরস্বতীর বিশেষ কৃপা রয়েছে এখানে।

 

বৈশাখ মাসে প্রতিদিন তিন বেলা নিত্য সেবা করা হয় দেবীর।তাছাড়া স্বাভাবিক ভাবেই প্রতিবছর সরস্বতী পুজো হয় মহা সমারোহে।মন্দিরের দেওয়াল হাঁস ও বীণা দ্বারা সজ্জিত।

মন্দিরের রঙ মা স্বরস্বতীর প্রিয় রঙ হলুদ।

 

আবার ফিরে আসবো ধারাবাহিক সরস্বতী মাহাত্মা নিয়ে যথা সময়ে। থাকবে দেবী সরস্বতী সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মৌনী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা 

মৌনী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ মৌনী অমাবস্যা।পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসে মহা শিব রাত্রির আগের শেষ অমাবস্যাই হলো মৌনী অমাবস্যা ৷ অর্থাৎ মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যাই মৌনী অমাবস্যা।

 

আমাদের তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে এই মৌনী অমাবস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এই মৌনী অমাবস্যা তিথিতেই জন্মে ছিলেন মহান ঋষি মনু। বলা হয় ঋষি মনুর নাম থেকেই মৌনী অমাবস্যা নামকরন|শাস্ত্র মতে মৌনী অমাবস্যার এই বিশেষ দিনেই সূচনা হয়েছিল দ্বাপর যুগের।

 

সংস্কৃতে মৌন শব্দের অর্থ হলো মৌনী অবস্থা আমাদের অন্তর মুখী করে। ঈশ্বরের আরো কাছে নিয়ে যায়।এই উদ্দেশ্যে মৌনী অমাবস্যার এই তিথিতে সাধকেরা মৌনব্রত পালন করে থাকেন।

 

যুগ ধরে তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্রে মৌনী অমাবস্যা একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে|

জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দিন টির আলাদা তাৎপর্য আছে, এদিন সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে অবস্থান করে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চার।

 

আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে এই মৌনী অমাবস্যার পূণ্য তিথিতে মৌনব্রত পালন করলে জীবনের সব আকাঙ্খা, মোহ এবং ইন্দ্রিয়কে নিজের অধীনে রাখা যায় এমনকি এই তিথিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে একজন সাধক জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্তি লাভ করে মোক্ষ লাভ ও করতে পারেন|

 

বহু মানুষের বিশ্বাস এই তিথিতে স্বর্গের দেবতারা নেমে আসেন মর্তে এবং প্রয়াগরাজের গঙ্গা-যমুনা-স্বরস্বতীর মিলনস্থল ত্রিবেনীসঙ্গমে পূণ্য স্নান করেন|

 

নিজেদের কর্মফল থেকে মুক্তি লাভের আশায় ত্রিবেনী সহ দেশের বিভিন্ন নদী সঙ্গমে স্নান করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ|শাস্ত্র মতে মৌন ব্রত পালন করে, অমাবস্যায় যদি গঙ্গা স্নান করা যায় তাহলে মানব জীবনের বহু জন্মের পাপ ধুয়ে যায়|এদিন নৈঃশব্দ্য পালন করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং রোগমুক্তি ঘটে|শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য মৌনী অমাবস্যা আদৰ্শ তিথি।প্রতি বছরের ন্যায় আজও আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ পুজো এবং গ্রহ দোষ খন্ডনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে ।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের বাংলার এমন এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের কথা বলবো যার সাথে জড়িয়ে আছে মহারাজা নন্দ কুমারের নাম তাই অনেকেই এই কালীকে মহারাজা নন্দ কুমারের কালী বলে থাকেন।

 

তবে এই কালী মন্দিরের ইতিহাস আরো অনেক বেশি প্রাচীন।মগধরাজ জরাসন্ধ এবং রানী অহল্য বাই এর সাথে এই কালী মূর্তির সম্পর্ক রয়েছে।

 

তখন বর্তমানের বিহার ছিল ইতিহাসের মগধ ক্ষেত্র

কষ্টিপাথরে তৈরি পদ্মাসনা কালীমূর্তিকে মগধ রাজ জরাসন্ধ পুজো করতেন।তার নামেই তখন কালীর নাম হয় জরাসন্ধ কালী জরাসন্ধের মৃত্যুর পর সেই মূর্তি স্থান পায় পাতালে ।কেটে যায় বহু বছর। পরবর্তীতে রানি অহল্যাবাই কিছুদিন মগধে থাকাকালীন স্বপ্নাদেশে পাতালে দেবী মূর্তির সন্ধান পান।তার নির্দেশে একটি নিদ্দিষ্ট স্থানে শুরু হয় খনন। সেখান থেকে উদ্ধার হয় জরাসন্ধের এই প্রাচীন কালী মূর্তি।

 

দেবী মূর্তিটি কোষ্টি পাথরের তৈরী সাপের কুণ্ডলীর উপর পদ্মাসনে বসেন দেবী। মাথায় তার সহস্র নাগের ফনা। হাতে পায়ে সাপের নকশা।

 

মূর্তিটি যেহেতু মগধে মিলেছে এবং সেই সময়ে ওই স্থান কাশী রাজের অধীনে তাই রানি অহল্যা সেটি তৎকালীন কাশীরাজ চৈতসিংকে দান করেন। সেই সময়ে ব্রিটিশ শাসনধীন ভারতের বড়লাট অর্থাৎ তৎকালীন ইংরেজ শাসক ওয়ারেং হেস্টিংসের নজরে পড়ে মূর্তিটির উপরে তার মনে

ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে সেটি নিয়ে

যাওয়ার বাসনা জাগে। সেকথা জানতে পেরে কাশীরাজ চৈত সিং তখন মূর্তিটি বাঁচাতে

সেটিকে কাশীর দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গার পবিত্র জলে লুকিয়ে দেন।এক কথায় পাতাল থেকে খুঁজে আনা মূর্তির সলীল সমাধি ঘটে।

 

আবার কিছুকাল অতিক্রান্ত হয়। তখন মহারাজ নন্দকুমার বাংলার দেওয়ান।তিনি কাশীধামে যান। তীর্থ করতে এবং গঙ্গাবক্ষ থেকে কালী মূর্তি তুলে আনার স্বপ্নাদেশ পান।গঙ্গা থেকে আবার দেবী দেবী উদ্ধার হয় সেই মূর্তি তিনি নলহাটির এই আকালীপুরে এনে প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুজোর ব্যাবস্তা করেন।এককালের জরাসন্ধা কালী হয়ে যান বাংলার অকালী পুরের মহারাজা

নন্দ কুমারের কালী।

 

বর্তমানে এই আকালীপুরের মন্দিরে পুজো হয় দিনের বেলা। সমস্ত তান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ হয় । তবে সব কিছুই দিনের বেলা হয় কারন রাতে

মা নৈশলীলা করেন। তাই নিঝুম অন্ধকার থাকেন এবং পরিবেশ থাকে শান্ত এবং নিস্তব্ধ।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। কালী কথা নিয়ে। মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে ধরাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।বাকি আছে বহু এমন অলৌকিক ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে আলোচনা।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – খুকীমা কালী

কালী কথা – খুকীমা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ বঙ্গের বজ বজে আছে এক অদ্ভুত কালী মন্দির।এখানে দেবীকে খুকীমা নামে ডাকা হয়। আজকের পর্বে খুকীমা কালীর কথা লিখবো।

 

অদ্ভুত এই কালী মূর্তির ইতিহাস। শোনা যায় দয়াল ঠাকুর নামে এক মাতৃ সাধক এক সময়ে এই স্থানে সাধনা করতেন। পাশেই ছিলো শ্মশান এবং আদি গঙ্গা। এক রাতে এক ডাকাত দল এখানে আসে।

সাধক কে ডেকে নিয়ে যাওয়ার হয় তাদের সর্দারের কাছে।সর্দার তখন অসুস্থ্য এবং মরণাপন্ন।

চারদিকে ছড়িয়ে আছে লুঠের সামগ্রী। তার মধ্যে আছে এক খুদে বা ছোট্ট কালী মূর্তি।

 

অখণ্ড কষ্ঠীপাথরের তৈরি এই মূর্তি বড়ো কোনো পাথর থেকে কেটে বানানো। এমনকি দেবীর গলার নরমুণ্ডের মালাও খোদাই করে তৈরি। এ যে কোনো সাধারণ শিল্পীর হাতের কাজ হতে পারে না তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। তিনি অবহেলায় পড়ে থাকা সেই মূর্তির পুজোর ও ভোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন।তার আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হলো।

 

অলৌকিক ভাবে নির্দেশ পালন করতেই সেরে ওঠেন ডাকাত সর্দার।তারা বিদায় নেয় এবং কালী মূর্তি ওই স্থানেই স্থাপিত হয় এবং খুকিমা নামে আজও তিনি সেখানে স্বমহিমায় বিরাজিতা।

 

একটি জনশ্রুতি অনুসারে এই মূর্তির পুজো করতেন মাতৃ সাধক কমলাকান্ত। এবং বর্ধমান থেকে এই মূর্তি ডাকাতি করে সেই রাতে আনা হয়। এবং হয়তো দেবীর ইচ্ছাতেই এখানে আরেক মাতৃ সাধক সেই মূর্তির পুজোর দায়িত্ব পান।আজ তিঁনিই বজবজের খুকী মা রূপে বিরাজ করছেন।

 

যারা আসন্ন মৌনী অমাবস্যায় গ্রহ দোষের প্রতিকার চান নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন।

ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

কালী কথা – বৈষ্ণব কালী

কালী কথা – বৈষ্ণব কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত বৈষ্ণব অর্থাৎ বিষ্ণুর উপাসক এবং শাক্ত অর্থাৎ শক্তির উপাসক। সনাতন ধর্মে শাক্ত ও বৈষ্ণব দুটি ভিন্ন দর্শন এবং দুটি ভিন্ন ধারা।দুয়ের মধ্যে মত পার্থক্য এবং বিরোধ বহু প্রাচীন কিন্তু

বাংলায় হুগলির হরিপালের শ্রীপতিপুরে বিখ্যাত অধিকারী পরিবারের কাছে এই দুই প্রকার সাধনা অর্থাৎ বিষ্ণু  ও দেবী কালি দুয়ে মিলে এক হয়ে

গেছে। আজকের কালী কথা পর্বে।হরিপালের বিখ্যাত বৈষ্ণব কালীর পুজো নিয়ে লিখবো।

 

শাস্ত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে একবার শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা যখন লীলা করছিলেন সেই

খবর গিয়ে পৌছায় রাধিকার স্বামী আইহন ঘোষেরকাছে কিন্তুরাধিকার স্বামী আয়ন ঘোষ এসে

দেখেন রাধিকা কালি পুজো করছেণ,

প্রেমিকা কে অপমানের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কালির রূপ ধরেন, যা কৃষ্ণকালী ।নামে পরিচিত সেই রুপই হুগলীর এই শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় দেখা যায়।

 

এখানেদেবী কালির গলায় কন্ঠি মালা, বৈষ্ণব

তিলক আঁকা পুজোতে কোনরকম বলি নয়,

দেবী তৃপ্ত হন বাঁশির সুরে। আজ থেকে ৭০ বছর আগে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী

বটোকৃষ্ণ অধিকারীর তন্ত্রসাথনায় সিদ্ধ হয়েপ্রথম শুরু করেন এই পুজো। এখানে মা পরম বৈষ্ণবী।

 

সাধক বটকৃষ্ণ অধিকারী এই গ্রামেরই

এক দরিদ্র গোড়া বৈষ্ণব পরিবারে জন্ম

গ্রহণ করেন বৈষ্ণব সূলোভ আচরণ ছোট

থেকেই দেখা গিয়েছিলো অধিকারী

মশাইয়ের মধ্যে। বড়ো হয়ে সংসার ধর্ম করার পরেও তন্ত্রসাধনার দিকে আগ্রহছিল তার বেশি।একসময় তিনি শ্মশানে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন ও স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে এইখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই মাতৃ মন্দির। শুরু হয় পুজো।

 

স্বপ্নেই তিনি দেখে ছিলেন যে তার দেবী মূর্তি সাধারণ কালো বা নীল নয় দেবীর গাত্র বর্ণ সবুজ এবং শ্যাম ও শ্যামা এক সাথে বিরাজমান। তাই এই অদ্ভুত রুপই প্রতিষ্ঠিত হন দেবী

 

যদিও আজকের এখানেই শেষ করছি। তবে মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

 

শুভ মকর সংক্রান্তি

শুভ মকর সংক্রান্তি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ মকর সংক্রান্তি।শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের মকর রাশিতে গমন হয় এই তিথিতে।

 

বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়। সনাতন ধর্মে এই তিথিতে পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|

 

পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন।

 

এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। পীঠে পুলির সুঘ্রান ছড়িয়ে পরে বাতাসে।।তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন।আবার কৃষি প্রধান বাংলায় এই সময়ে নতুন ফসল বিশেষ করে ধান তোলা হয়।

 

শুরুতেই বলেছি সূর্য দেব এই দিন রাশি পরিবর্তন করেন। প্রবেশ করেন নিজের পুত্রের রাশি মকরে।

তাই মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রান্নাঘর ও রন্ধন দ্রব্যাদি পরিষ্কার করেন, যাতে সমস্ত রকম ‘অপরিশুদ্ধতা’ দূর হয়।

 

আপনাদের সবাইকে মকর সংক্রান্তির অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।ভালো থাকুন।

পড়তে থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – ভবানী পাঠকের কালী

কালী কথা – ভবানী পাঠকের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এই প্রাচীন একটি কালী মন্দির সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত।কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|

 

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|

 

আজও এক ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির।বঙ্কিম চন্দ্রের উপন্যাস অনুসারে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন। তিনি অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক|

 

শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|

 

প্রায় প্রতি অমাবস্যায় এখানে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় কার্ত্তিক অমাবস্যায়। মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।

 

আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|ফিরবো আগামী কালী কথা পর্বে। মৌনী

অমাবস্যা উপলক্ষে যারা জ্যোতিষ পরামর্শ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান তারা এখনো যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি 

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের মানস পুত্র। মা সারদা যেমন ছিলেন ঠাকুরের লীলা সঙ্গিনী তেমনই নরেন ছিলেন তার প্রধান শিষ্য এবং প্রচারক। তিনি ছিলেন ভারতের অন্তরাত্মার প্রকাশ। ভারতকে বুঝতে গেলে স্বামীমীজী কে বুঝতে হবে। তিনি যুব শক্তির প্রতীক।

তাই আজ তার জন্মদিন জাতীয় যুব দিবস

রূপেও পালিত হয়।

 

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ তার প্রিয় শিষ্য নরেনকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিঃস্ব হয়ে ছিলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে উঠেছিলেন সর্বজ্ঞানী এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। তার গোটা জীবন অলৌকিক ঘটনায় ভরা।

 

স্বামীজীর মধ্যে এক ধরণের প্রশান্তি ছিলো যারা তার সংস্পর্শে আসতেন তারা এক আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভব করতেন। একবার গুরুভাইদের সাথে হিমালয় ভ্রমণ কালে এক গৃহস্ত ভক্তের বাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। গৃহস্তের এক শিশুকে কাঁদতে দেখে স্বামীজি সারারাত তাকে কোলে নিয়ে জপ করে কাটিয়েছিলেন আশ্চর্য বিষয় সারা রাত শিশুটি আর কাঁদেনি।

 

এক দিনে কী ভাবে গোটা বই পড়া এবং মনে রাখা সম্ভব সম্ভব তা জানা সত্যি কঠিন কাজ, অলৌকিক শক্তি ছাড়া বোধ হয় সম্ভব নয়, আর এই অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বিবেকানন্দর

মেরঠে থাকাকালীন স্বামীজি লাইব্রেরি থেকে বই আনাতেন। স্বামী অভেদানন্দ বইগুলি নিয়ে আসতেন। আবার পরের দিনই বইগুলি পড়ে তা ফেরত দিয়ে দিতেন স্বামীজি। এক দিন লাইব্রেরিয়ানের মনে সন্দেহ হয়। একদিন স্বামীজি লাইব্রেরিতে আসতেই, সেই বই থেকে জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামীজি শুধু উত্তর দিলেন না, কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে প্রায় সবই বলে দিলেন। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ওই লাইব্রেরিয়ান।

এমনই ছিলো স্বামীজীর অদ্ভুত স্মৃতি শক্তি

 

একবার মঠের বারান্দায় সারা রাত স্বমীজীকে পায়চারি করতে দেখে তার এক গুরুভাই তাকে জিগেস করলেন কি হয়েছে। স্বামীজী বললেন কথাও বহু মানুষ বিপদে পড়েছে। কষ্ট পাচ্ছে।

পরদিন জানা যায় ভারত থেকে বহু দুরে সমুদ্রে একটি জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই রাতে এবং

বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

ফরাসী গায়িকা মাদাম এমা কাল্ভের সাথে শিকাগোয় ১৮৯৪ খ্রিঃ সাক্ষাৎ হয় স্বামী বিবেকানন্দর, মাদাম কাল্ভে তখন জীবনের প্রতি সম্পুর্ন বীতশ্রদ্ধ এবং আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়েছিলেন সেটাও স্বাভাবিক কারন তিনি তখন মেজাজী, একগুঁয়ে এবং পুরোমাত্রায় ভোগী মহিলা এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর জীবনে শান্তি ছিল না, ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার অন্তরে|তাকে দেখেই স্বামীজী বলে উঠলেন,বাছা, কী ঝোড়ো হাওয়াই না তুমি নিয়ে এলে। শান্ত হও।’ তারপর অতি শান্তস্বরে মাদামের জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা বলতে লাগলেন|যেন এক অলৌকিক ব্যাপার। ‘আপনি এত সব জানলেন কি করে?এই প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজী বললেন,আমি খোলা বইয়ের মতন তোমার ভেতরটা পড়তে পারি।শুধু তাই নয় স্বামীজীর কথায় তার অন্তরের সব ঝড় থেমে গেলো শান্ত হলেন তিনি,স্বামীজীর শিষ্য হয়ে সব ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথ আপন করে নিলেন।

 

এমন বহু নজীর আছে। স্বামীজির অগাধ জ্ঞান এবং বিশ্ব জোড়া খ্যাতি সত্ত্বেও তিনি তার গুরু ভাইদের কাছে যখন আসতেন। যখন লাটু মহারাজ বা রাখাল মহারাজ দের সাথে আনন্দে মেতে উঠতেন তখন তিনি হয়েযেতেন এক শিশুর মতোই সহজ সরল।

 

জন্মদিনে শ্রদ্ধা এবং প্রনাম জানাই এই মহান সন্ন্যাসীকে|ফিরে আসবো কালী কথা সংক্রান্ত ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে।

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।