কালী কথা – ভৈরবী কালী

16

কালী কথা – ভৈরবী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভৈরব হল একটি সংস্কৃত শব্দ। যার প্রকৃত অর্থ ভয়ঙ্কর। ভৈরব হল মহাদেবের একটি ভয়ঙ্কর রূপ। শিব পুরাণে শিবের এই রূপের বিষয়ে বর্ণণা করা হয়েছে।একসময়ে অহংকারী হয়ে ওঠা ব্রম্হাকে শাস্তি দিতে তার একটি শির চ্ছেদ করেন শিব

তার ফলে ব্রহ্ম হত্যার পাপ হয় এবং কাশীতে এসে সেই পাপ থেকে মুক্তি পান শিব। সেই সময় তিনি কাল ভৈরব রূপ ধরেছিলেন।

 

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তর বঙ্গের হিলী অঞ্চলে একসময় চলত শিবের ভৈরব রূপের পুজো । শিবের নাম অনুসারের ওই এলাকার নাম হয় ভৈরবতলা। পরে শিবের সঙ্গে পূজিতা হতে থাকেন দেবী কালীও প্রায় দুশো বছর ধরে এই জায়গায় ভৈরবী কালীর পুজো হয়ে আসছে।

আজকের কালী কথার কালী এই ভৈরব কালী।

 

এলাকায় শিবের উপাসনা থেকে ভৈরবী কালীপুজো শুরু হওয়া নিয়ে রয়েছে বিস্তর ইতিহাস। শোনা যায়, এই স্থানেই একসময় তন্ত্র সাধনা করতে এসেছিলেন দুর্গা চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। সেখানে তিনি একটি মন্দিরও গড়ে তোলেন।তার ছিলো অলৌকিক ক্ষমতা। তিনি তন্ত্র মতে সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করে ছিলেন।

তারপর থেকে ভৈরবী কালীপুজোর প্রচলন শুরু হয় সেখানে।বর্তমানে এই ভৈরব কালীর পুজো গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে খুবই জনপ্রিয়।

 

এই ভৈরব কালীর মন্দিরে আজও তন্ত্র মতে পূজিতা হয়ে আসছেন মা ভৈরবী কালী। পশু বলির প্রথাও রয়েছে। মন্দিরের দশা এখন ভগ্নপ্রায়। দুর্গা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তার পূর্বপুরুষরা পুজোর দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন ।

তবে বর্তমানে তাদের শিষ্য ও জনসাধারণ একত্রিত হয়ে পুজোর আয়োজন করেন।

 

সামান্য কিছুদিন পরেই মৌনী অমাবস্যা।

জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সেই উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।