কালী কথা – গোকনার মা ভবানী

14

কালী কথা – গোকনার মা ভবানী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে অবস্থিত গোকনা কালী মন্দির এবং মা ভবানীর কথা লিখবো|

এখানে দেবী কালী কে মা ভবানী রূপে পুজো করা হয় এবং পুজো চলে আসছে আনুমানিক পাঁচশো বছর ধরে।আগে মাটির মন্দিরে মা ভবানী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কথিত আছে যে, ধান্যকুড়িয়ার জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইনের ছেলে মরণাপন্ন হলে স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি এই মন্দিরে আসেন ও ছেলের প্রান ভিক্ষা করেন, মায়ের আশীর্বাদে জমিদারের ছেলে পুনর্জীবন লাভ করেন। এর ফলে জমিদার মহেন্দ্রনাথ গাইন পাকা গাঁথুনির মন্দির নির্মাণ করে দেন|মায়ের কৃষ্ণ বর্ণের পাথরের মূর্তি চতুর্দোলায় করে আনানো হয় কাশি থেকে|

বহু পূর্বে এই অঞ্চলে ছিল ডাকাতের রাজত্ব। অরণ্যে ঢাকা এই অঞ্চলে দিনের বেলাতেও সূর্যের আলো নাকি ঠিক মতো প্রবেশ করতো না|
কথিত আছে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে মা ভবানী’র কাছে প্রার্থনা করত দস্যুরা|

মন্দিরের পেছনে রয়েছে একটি প্রাচীন পুকুর, শোনা যায় ডাকাতরা এই মন্দিরের পেছনের পুকুরে ডুব দিয়ে মা ভবানীর পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে যেত এক কালে|মূল মন্দিরে মা ভবানীর
সাথে শিলা খণ্ড রূপে পূজিত হন বৈদ্যনাথ, মানেশ্বর ও পঞ্চানন|অলৌকিক ভাবে এক গ্রামবাসীর চাষ জমিতে লাঙ্গলের ফলায় মাটি খুঁড়তেই পাওয়া যাওয়া এই তিনটি শিলাখণ্ড তারপর তাদের মন্দিরে এনে শাস্ত্র মতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়|

এই প্রাচীন কালী মন্দির অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জাগ্রত, বহু মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে এই মন্দিরের সাথে|দীপান্বিতা অমাবস্যার কালী পুজোয় বিরাট আকারে পুজোর আয়োজন হয় এখানে এছাড়া প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতেই বিশেষ পুজো হয়।

আগামী মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত একের পর এক এমন সব প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা লিখতে থাকবো পর্বে পর্বে|
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|