কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো 

23

কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

কালী মূর্তি সাধারণত একটি থাকে। কিছু ক্ষেত্রে পঞ্চ কালী বা নব কালীর পুজোর কথা জানা যায় তবে আজ লিখবো দুই কালী বা জোড়া কালীর পুজো নিয়ে।

 

নদিয়ার ভীমপুরের ময়দানপুরের কালীবাড়িতে একই মন্দিরে পাশাপাশি পূজিতা হন রক্ষাকালী ও দক্ষিণকালী।তাঁরা দু’জনেই আবার বসে থাকেন শিবের ওপর।

 

বহু বছর আগে এক কালীর পুজোর আগের রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন স্থানীয় এক মহিলা। দেবী তাঁকে স্বপ্নে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির কাছেই মনসা গাছ রয়েছে। সেই গাছের মাটির তলায় তাঁরা আছেন। তাঁদের মাটি থেকে তুলে পুজো করতে হবে।

 

প্রথমে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেননি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁর জোরাজুরিতে শুরু হয় মাটি খোঁড়া। বেশ কিছুটা মাটি খোঁড়ার পর উদ্ধার হয় জোড়া কালীমূর্তি। এরপর যেখান থেকে কালীমূর্তি দুটি উদ্ধার হয়, সেই মনসা গাছের পাশেই তৈরি করা হয় দেবীর বেদী।শুরু হয় পুজো। আজ সেই পুজোই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোটা নদীয়া

জেলা জুড়ে।

 

বর্তমানে সেই মহিলার পরিবারের লোকজন বংশপরম্পরায় এই পুজো করে চলেছেন।পাশাপাশি অসংখ্য ভক্ত যুক্ত হয়েছে এই পুজোর সাথে।কালীপুজোর দিনগুলোয় এই মন্দির পরিসর যেন বিরাট এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুলসংখ্যক ভক্ত এখানে ভিড় করেন।

 

তাছাড়া বিশেষ তিথি তে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। এখানে দেবীকে এখানে নিত্য পুজো করা হয়। এই মন্দিরে দুই কালী প্রতিমার পাশে দেবী লক্ষ্মীর মূর্তিও রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীকেও এখানে নিত্য পুজো করা হয়।

 

আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করছি।

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। আসন্ন মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।