কালী কথা – দেবী চিত্তেস্বরী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের কালী কথা পর্বে চিত্তেশ্বরী কালী বা চিতু ডাকাতের কালী কালী পুজো নিয়ে লিখবো।শহর কলকাতার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে একদম প্রথম সারি তে রয়েছে চিৎপুতের চিত্তেশ্বরী কালী মন্দির|
কেউ কেউ মনে করেন এই মন্দির নির্মান করেন ও দেবীকে এখানে প্রতিষ্ঠা করেন সেই সময়ের এই অঞ্চলের কুখ্যাত ডাকাত চিতে বা চিতু|তার নাম থেকেই নাকি এই অঞ্চলের নাম হয় চিৎপুর এবং দেবীর নাম চিত্তেশ্বরী।অনেকেই বিশ্বাস করেন ষোড়শ শতকে এই মন্দির বানিয়েছিলেন তৎকালীন ধনী জমিদার মনোহর ঘোষ যিনি একসময়ে আকবরের মনসাবদার টোডর মলের রাজ কর্মচারী ছিলেন।
ভক্তদের বিশ্বাস যে এই মন্দিরে দেবী সাক্ষাৎ
অবস্থান করছেন |এখানে মূল মন্দিরে দেবী সর্বমঙ্গলা ছাড়াও আছে তিনটি শিব মন্দির। লোকমুখে শোনা যায় এককালে এই এলাকা
ছিলো অত্যান্ত দুর্গম|ছিলো ভয়ঙ্কর বাঘ ও দুর্ধর্ষ ডাকাতের উৎপাত|ডাকাত দলের নেতা ছিলো চিতু ডাকাত।সত্যি মিথ্যে প্রমান করা মুশকিল তবে লোক মুখে শোনা যায় এক কালে ডাকাতরা নাকি এখানে নরবলি দিয়ে ডাকাতি করতে বেরোতো|ডাকাত দের আতঙ্কে জমিদার পরিবার এই স্থান ত্যাগ করে চলে যান এবং এলাকার অধিকার সম্পূর্ণ রূপে চলে যায় চিতু ডাকাত এবং তার দলের হাতে।
শোনা যায় একবার মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে গঙ্গার জলে ভেসে আসা নিম কাঠ সংগ্রহ করে তাই দিয়ে মা চণ্ডীর বিগ্রহ তৈরি করেন চিতু ডাকাত৷
মা চিত্তেশ্বরী দশভুজা দুর্গা রূপে পূজিতা হন এখানে আর মায়ের সামনে রয়েছে একটি বাঘ|শোনা যায় চিতে ডাকাতের মৃত্যুর পরে তৎকালীন জমিদার মনোহর ঘোষ ও নৃসিংহ ব্রহ্মচারী পুনরায় এই স্থানে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই মন্দিরে রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব গ্রহন করেন এবং আজীবন তারা নিষ্ঠা সহকারে পূজার দায়িত্ব পালন করেন।
সেই প্রথা আজও চলে আসছে।
দূর্গাপুজোর সময়ে এবং কালী পুজোর সময় বিশেষ পুজো হয়।আজও এখানে
নিমকাঠের বিগ্রহতেই দেবীর পুজো হয়।
বর্তমানে রায় চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের হাতেই পুজোর ভার রয়েছে।
আগামীকাল পর্বে কালী কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো। থাকবে অন্য এক প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
