Home Blog Page 34

বারুইপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো

বারুইপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

নবাবী আমলে বাংলার বারো ভুঁইয়া দের এক ভূঁইয়া ছিলেন বারুইপুরের রায়চৌধুরীরা যদিও তারা গোড়ার দিকে রায় ছিলেন পরবর্তীতে ব্রিটিশ দের দের সাথে সম্পর্ক এবং নিজেদের প্রভাব ও প্রতিপত্তির জোরে রায় চৌধুরী উপাধি লাভ করেন।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং বর্তমান দক্ষিণ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা ছিলো তাদের জমিদারির অংশ।

 

তাদের সেই জমিদারীর স্বর্ণ যুগ আজ আর হয়তো নেই তবে তাদের দুর্গাপূজা আজও আছে। বারুইপুর জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো নানা কারণে ঐতিহাসিক। এই পূজোর ইতিহাস নিয়ে এই পর্বে আলোচনা করবো।

 

প্রায় তিনশো বছর আগে রাজা রাজবল্লভ রায়চৌধুরী এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। এখনও তিন জন পুরোহিত রীতি মেনে এখানে পুজো করেন।প্রতিপদ থেকে শুরু হয়ে যায় পুজো।

সেই শুরুর দিন থেকে যা যা রীতি আছে সবই আজও নিষ্ঠার সাথে পালিত হয় এখানে।

 

বেশ কিছু বছর আগেও বারুইপুর আদি গঙ্গার জলে প্রতিমার বিসর্জনের সময় দুটি করে নীলকন্ঠ পাখি ওড়াতেন বারুইপুর রায়চৌধুরী বাড়ির কর্তারা। যদিও সরকারী কারণে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানোর মতো কিছু রীতিতে বর্তমানে অনিচ্ছা সত্ত্বেও লাগাম টানতে হয়েছে তবুও বাপ ঠাকুর্দার আমল থেকে চলে আসা ঐতিহ্য যতটা সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

 

যেহেতু পুজো হয় তন্ত্র মতে তাই সপ্তমী থেকে নবমী নিশি পর্যন্ত প্রতিদিন এখানে পশু হয় বলি হয়। অষ্টমীতে পরিবারের সবার একসাথে বসে ভোগ খাওয়ার নিয়ম আছে।অতীতে জমিদার বাড়িতে নৈবেদ্যর ডালা সাজিয়ে প্রজারা আসতেন এখন সেই পরম্পরা আর চোখে পড়েনা তবে জেলা থেকে বহু দর্শণার্থী আজও আসেন।

 

চারপাশের অসংখ্য বারোয়ারী পুজোর ভিড়, থিমের চমক থাকলেও আজও অমলিন বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো এবং তাদের গৌরব।আজও তাই রীতি মেনে

বারুইপুরে প্রতি বছরই রায়চৌধুরীদের প্রতিমা সবার আগে বিসর্জন হয়। তারপর অন্যান্য প্রতিমা বিসর্জিত হয়।

 

ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট থাকা কালীন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও একসময় কিছুদিন বারুইপুরের এই জমিদার বাড়িতে কাটিয়েছিলেন। এই বাড়িতে বসেই তিনি কপাল কুণ্ডলা এবং দূর্গেশনন্দিনীর মতো ঐতিহাসিক উপন্যাস

গুলি লিখেছেন। তার ব্যাবহিত টেবিল এবং

চেয়ার এখানে এখনও রাখা আছে।

 

প্রভু জগন্নাথেদেবের রথ যাত্রা এবং দূর্গা পুজো দুটোই এই পরিবারের বেশ জাঁকজমক করে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে যা গোটা জেলার মধ্যে বেশ জনপ্রিয় এবং সমাদৃত।

 

সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন সব ঐতিহাসিক দূর্গা পূজো নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে।ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পাথুরিয়াঘাটা জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

পাথুরিয়াঘাটা জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই ধারাবাহিক লেখনীরা শুরু দিকে বেশ কয়েকটি কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে লিখেছিলাম।তবে কিছু দূর্গাপুজো নিয়ে না লিখলে বনেদি বাড়ির পুজোর কথা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

কলকাতার পাথুরিয়াঘাটার রাজবাড়ির পুজো তার মধ্যে অন্যতম।

 

নবাবী আমলে বর্ধমান থেকে ব্যবসা সূত্রে কলকাতায় এসে পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে বাড়ি তৈরি করেন রামরাম ঘোষ। পলাশীর যুদ্ধের কয়েক বছর পরে তৈরি হয় পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটের বাড়িটি। পাথুরিয়াঘাটা ঘোষ বংশের প্রতিষ্ঠাতা রামরামের ছেলে রামলোচন ঘোষ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সাথেও ব্যবসা করেছেন পরে তিনি কোম্পানির দেওয়ান নিযুক্ত হন ।রামলোচনের তিন পুত্র শিবনারায়ণ, দেবনারায়ণ এবং আনন্দনারায়ণ।রামলোচনের মেজো ছেলে দেবনারায়ণের ছেলে খেলাৎচন্দ্র ঘোষ উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পুরনো বাড়ির পাশেই দুর্গাদালানসহ নতুন বাড়ি তৈরি করে উঠে যান এবং সেখানে দুর্গাপুজো শুরু করেন আজও সেই পুজো খেলাৎ ঘোষের পুজো নামে জনপ্রিয়।

 

এই বাড়ির দূর্গা পুজোতে আসতেন সস্ত্রীক ওয়ারেন হেস্টিংস পরবর্তীতে ঘোষ বাড়ির পুজোতে এসেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং গান্ধীজির মতো ব্যাক্তিত্বরা।খেলাৎ ঘোষের ছেলে রামনাথ ঘোষ যখন বাড়ির কর্তা তখন কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় পুজোর সময় এই বাড়িতে আসতেন।কালীপ্রসন্ন সিংহ মানে হুতোম প্যাঁচার লেখায় প্রায়ই উঠে আসত বাবু খেলাত চন্দ্র ঘোষের বৈভবের কথা। ঘোষ বাড়ির বিখ্যাত দুর্গাপুজোর কথা।

 

পুজো হয় শাস্ত্র মতে এবং বেশ নিষ্ঠার সাথে। এবাড়িতে আশ্বিনের কৃষ্ণপ্রতিপদে দেবীর বোধন শুরু হয়। তার আগে মধুসূদন ও রামকৃষ্ণ দেবের পুজো করা হয়।পুজোর প্রতিদিনই কুমারী পুজো হয়।সপ্তমীর দিন কলাবউ স্নান হয়।অষ্টমীর দিন হাজার একটা পদ্ম নিবেদন করা হয় দেবীকে।ঘোষ বাড়ির পুজোতে পশু বলি নিষিদ্ধ তার বদলে এখানে বলি দেওয়া হয় চিনির মঠ যা বিশেষ ভাবে কাশী থেকে বানিয়ে আনা হয়।শোনা যায় অতীতে সাতবার বন্দুক দেগে প্রতিমা ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হত কালের নিয়মে কিছু রীতি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে তবে আজও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা একই রকম আছে।

 

ফিরে আসবো অন্য কোনো ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে আগামী পর্বে। চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বেড়ে জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

বেড়ে জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আপাতত জেলার বিভিন্ন বিখ্যাত বনেদি বাড়ির পুজো গুলো নিয়ে লিখছি। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ বেড়ে জমিদার বাড়ির পুজো নিয়ে লিখবো।বর্ধমানের বেড়ে জমিদার বাড়ির দেড়শো বছরের পুরানো দুর্গাপুজো পুজোকে নিয়ে আছে অসংখ্য লোককথা এবং ঐতিহাসিক ঘটনা।

 

শোনা যায় এই বংশের দাপুটে জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসকে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে

তার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার কথা বলেন। আর সেই বছর থেকেই  বেড়ের জমিদার পরিবারে মা দুর্গার পুজো হচ্ছে মৃন্ময়ী মূর্তিতে। একচালার কাঠামোয় বসে থাকা দেবীর ডান পাশে বসে থাকেন দেবাদিদেব মহাদেব। শিব-পার্বতীর দুপাশে অধিষ্ঠাত্রী  লক্ষ্মী আর সরস্বতী । নিচে বসে কার্তিক আর গণেশ। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন, দাস পরিবারে হয় হরগৌরীর আরাধনা।স্বপ্নাদেশ পাওয়ার আগে পর্যন্ত ঘটে পুজো হতো।

স্বপ্নে দেবী দেখা দেয়ার পর থেকে তাঁর রূপ বদলায়।

 

পুজো শুরু হওয়ার পরেই জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসের জীবনে ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা।

তার কোনও পুত্র সন্তান ছিল না।সবাই একরকম সন্তান লাভের আশা ছেড়েই দিয়ে ছিলেন সেই সময়ে দেবীর সেই স্বপ্নাদেশের পর মহাসমারোহে হরগৌরী মূর্তি তৈরি করে পুজোর শুরু হওয়ার পরই ব্রজেন্দ্রলাল দাস পুত্রলাভ করেন। দেবীর স্বপ্নাদেশে পাওয়া বলে একমাত্র পুত্রের নাম হয় দুর্গাচরণ দাস।

 

বেড়ে রাজবাড়ীর পুজোতে আসতেন বর্ধমানের মহারাজা সহ বহু গণ্য মান্য ব্যক্তি। সেই যুগে এই রাজবাড়ির পুজো ছিলো গোটা জেলার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ পুজো।ঠাকুর দালানে নিয়ম

করে বসত যাত্রাপালা, গানের আসর। দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া দোতলার ঘর থেকে অন্দরমহলের মহিলারা পুজো দেখতেন।

 

যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছু পাল্টালেও আজও রীতি অনুসারে পঞ্চমীতে বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু পুজো। সন্ধি পুজোয় আগে পশু বলী হলেও বর্তমানে এখানে শুধু

মণ্ডা বলি হয় নিয়ম রক্ষায় ।

 

একটি অলৌকিক ঘটনার কথা না বললেই নয় শোনা যায় সেই শুরুর দিন থেকে আজও এখানে অষ্টমীর দিন সন্ধিক্ষণে দুর্গামণ্ডপের উপর একটি শঙ্খচিল উড়তে দেখা যায়। আবার দশমীর দিন যখন দেবীর বিসর্জন করা হয় পাশের একটি প্রাচীন জলাশয়ে তখনও আকাশে উড়তে দেখা যায় সেই শঙ্খচিলটি।যুক্তি দিয়ে এই ঘটনা ব্যাখ্যা করা যায়না তবে আস্থা অন্য বিষয়।

 

ফিরে আসবো বনেদি বাড়ির পূজোর পরের পর্ব নিয়ে। থাকবে এমন সব দূর্গা পূজোর ইতিহাস

এবং অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

একসময়ে উত্তর বঙ্গে দুর্গাপুজো বলতে কয়েকটি জমিদার বাড়ির পুজোকেই বোঝাতো। সেক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুরের বাহিন।জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো ছিলো অন্যতম পুজো।আজকের পর্বে এই বনেদি জমিদার বাড়ির পুজোর কথা জানাবো।

অবিভক্ত বাংলাদেশের দিনাজপুরের জমিদার ছিলেন রুদ্র প্রতাপ চৌধুরী।বাহিন নামক অঞ্চল থেকেই মূলত তার বিশাল জমিদারি পরিচালিত হতো।স্থানীয় ” নাগর ” নদীর ধার ঘেঁষে ছিল জমিদারের অট্টালিকা।জমিদার বাড়ির পাশেই বানানো হয়েছিলো সিংহবাহিনী মন্দির।সেখানেই প্রতিবছর দুর্গাপুজো হতো। আজও হয়।

আজও লোক মুখে শোনা যায় যে পূজোর সময়ে অতিথি দের অভ্যার্থনা জানাতে জমিদার বাড়ির সামনে বড় বাগানে বেশ কয়েকটি হাতি বাঁধা থাকত যা থেকে তাদের প্রতিপত্তি এবং বৈভব সহজেই অনুমান করা যায়।

বাহিনদের পারিবারিক দূর্গাপুজো ঠিক কত পুরনো তা সঠিকভাবে জানা যায় না। অনুমান করা হয় জমিদার বাড়ি নির্মাণ করার পরেই সেখানকার ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো শুরু হয়।এক সময়ে বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গোৎসবে বসত যাত্রাপালার আসর, থিয়েটার, সার্কাস ও বিশাল মেলা এবং পূজোর কদিন প্রজাদের জন্য সাতদিন ধরে ভুড়িভোজ আর আমোদপ্রমোদের আয়োজন হতো।

যুগের সাথে সাথে সব কিছুতেই বদল এসেছে আগে সিংহবাহিনী মন্দির চণ্ডীপাঠ ও দুর্গাপুজো করতেন জনা তিনেক পুরোহিত। তবে এখন আর সেসব আড়ম্বর নেই। জমিদারবাড়ির জৌলুসের সঙ্গে সেসব কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে।এখন বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গাপুজো তথাকথিত
পারিবারিক পুজো থেকে বারোয়ারী পূজোর রূপ নিয়েছে কারন সব এলাকা বাসি একত্রিত হয়ে এই শতাব্দী প্রাচীন দূর্গা পূজোর আয়োজন করেন।

তবে সেই সব জমিদারি রীতি নীতি না থাকলেও আজও এই দূর্গা পূজোর ক্ষেত্রে নিষ্ঠা এবং ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

চলতে থাকবে জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা।
আবার ফিরে আসবো এমনই একটি বনেদি
বাড়ির দূর্গা পুজোর কথা নিয়ে।
আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রীরামপুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

শ্রীরামপুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

হুগলী জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রীরামপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। আজকের পর্বে এই পূজোর ইতিহাস নিয়ে লিখবো।

 

স্থানীয়দের কাছে এই বাড়ি গোস্বামী বাড়ি নামে পরিচিত।ইতিহাস বেশ পুরোনো এবং সমৃদ্ধ।বাংলার মসনদে যখন নবাব আলিবর্দি খান তখন এই জমিদারীর পত্তন হয়।রাজা রামগোবিন্দ গোস্বামী শ্রীরামপুর গোস্বামী পরিবারের আদিপুরুষ। তাঁর নাতি হরিনারায়ণ গোস্বামীর আমলে সূচনা হয় দুর্গাপুজোর। জানা যায়, ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয় শ্রীরামপুর রাজবাড়িতে।

 

জমিদার বাড়িতে বসতবাড়ির অনুকরণে নির্মিত প্রাসাদ সংলগ্ন ঠাকুরদালানে শুরু হয় দুর্গাপুজো। এখানে একচালার মধ্যে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে মা দুর্গার সাথে থাকেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী ঠাকুর। প্রতিমা সজ্জিত হয় ডাকের সাজে।

 

জানা যায় এই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোয় আসর জমিয়ে গিয়েছেন অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি এবং ভোলা ময়রা যাদের কবিগান ছিলো সে যুগে বিখ্যাত যা নিয়ে পরবর্তীতে সিনেমাও হয়েছে।এই বাড়িতে এসেছেন গান্ধীজি, বিধান রায় এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মনীষীগণ।

 

শুরু থেকেই এই রাজবাড়িতে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। রথের দিন কাঠামো পুজো হয়। তারপর একচালার প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়ে যায়। মায়ের ডাকের সাজ আজও বর্ধমানের পূর্বস্থলী থেকে নিয়ে আসা হয়। অষ্টমীর সন্ধিপুজোয় এখনও পুরনো আমলের পিতলের ১৩৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। দশমীর দিন বাড়ির মহিলারা ঠাকুর দালানের বাইরে মাছ ও পান খেয়ে মাকে বরণ করার পর শুরু হয় প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি। শ্রীরামপুর রাজবাড়ি ঘাটেই করা হয় প্রতিমা বিসর্জন।

 

বনেদি বাড়ির পূজোর পরের পর্ব নিয়ে

ফিরে আসবো যথা সময়ে। থাকবে অন্য একটি দূর্গাপূজো নিয়ে অনেক এমন তথ্য থাকবে এমন অনেক ইতিহাস। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাঁকুড়ার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

বাঁকুড়ার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার প্রাচীন রাজবাড়ী বা জমিদার বাড়িরপুজো মণ্ডপ গুলি বা বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে ধারাবাহিক লিখছি । আজকের পর্বের বিষয়

বাঁকুড়ার প্রসিদ্ধ রায় চৌধুরী বাড়ির পুজো।

 

গ্রামের নাম দামোদরবাটি জমিদার দামোদর নারায়ণ চৌধুরী এর নাম অনুসারেই গ্রামের নামকরণ হয়।কথিত আছে চৌধুরী পরিবারের আদি পুরুষ তৈলক্যনাথ গুহ বাংলাদেশের যশোরের জমিদার ছিলেন। বর্গিদের হাত থেকে বাঁচতে যশোর ছেড়ে হাজির হয়েছিলেন মল্লগড় বিষ্ণুপুরে। বিষ্ণুপুরের মল্লরাজারা আশ্রয় দিয়েছিল ওই জমিদারকে। পরবর্তীকালে রায় চৌধুরী উপাধি দেন মল্ল রাজারা। মল্লরাজাদের সৌজন্যে আর্থিক ভাবে চৌধুরী জমিদাররা সমৃদ্ধি লাভ করে।দামোদরবাটিতে নতুন করে তৈরি হয় প্রাসাদ।

শুরু হয় দুর্গাপুজো।বাঁকুড়ার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় এই পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীন।

 

সেকালে জমিদাররা বড়ো দীঘি বা পুকুর খনন করতো জলের সমস্যা দূর করতে।একবার পুকুর ক্ষণনের সময় ঘটেএক অলৌকিক ঘটনা।

শোনা যায় গ্রামের বড়পুকুর খননের সময় নিম কাঠের দুর্গার দ্বিভুজা মাতৃ মূর্তি উদ্ধার করেন চৌধুরী পরিবারের এক বংশধর। মনে করা হয় এই ঘটনাকে দেবীর আদেশ হিসেবেই দেখে ছিলেন চৌধুরী পরিবার।তারপর থেকেই চৌধুরী পরিবারে ঘটা করে শুরু হয় দুর্গাপুজা।

 

দূর্গা পূজোর সময়ে আজও জমিদার বাড়ির দুর্গা দালানে বেজে ওঠে নহবতের সুর মুর্ছনা। এখানের প্রতিমা একটু অন্যধরনের। এখানে নিমকাঠের দেবী দুর্গা দ্বিভুজা। উপরে মহাদেব। দেবীর পাশে কার্তিক, গনেশ, লক্ষী স্বরসতী। মল্লরাজাদের মৃন্ময়ীর কাঠামো অনুরুপ চৌধুরী জমিদার বাড়ির দুর্গা। বৈষ্ণব মতে পুজো হয়।প্রাচীন তালাপাতার চন্ডী পাঠ করা হয় জমিদার বাড়ির দুর্গাদালানে।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার এক সম্মিলিত রূপ এই বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো বনেদি বাড়ির দূর্গাপুজো নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

সাবর্ন রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো

সাবর্ন রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

তিলোত্তমা কলকাতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায় একটি পরিবারের কথা না বললে। সেই পরিবার হলো সাবর্ন চৌধুরী পরিবার। একাধিক ইতিহাসকার মনে করেন এই কলকাতার দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন এই বংশের আদি পুরুষ লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়।আজকের পর্বে এই বাড়ির দূর্গাপুজো নিয়ে আলোচনা করবো।

 

মোঘল আমলে সাবর্ণ গোত্রীয় জমিদার লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় সেনাপতি মানসিংহের কাছ থেকে পেলেন আটখানি পরগণার জমিদারি সত্ত্ব। তারপর তার আর্থিক উন্নতি ও সামাজিক প্রতিপত্তি বাড়লো ধূমকেতুর গতিতে।

 

আগে হালিশহরের বাড়িতে পুজো হতো পরবর্তীতে জমিদার লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার বরিশায় এক প্রকান্ড প্রাসাদ বানালেন। সেখানে তৈরী হলো চণ্ডীমণ্ডপ। সেই সুবিশাল চন্ডী মণ্ডপে শুরু করলেন দেবীদুর্গার আরাধনা।

 

প্রায় চারশো বছর ধরে চলে আসছে সাবর্ন রায় চৌধুরীদের দুর্গাপূজা।তবে কালের নিয়মে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পরিবারের সদস্যর পরবর্তীতে ছড়িয়ে পরেন বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। আলাদা আলাদা করে তারা দূর্গা পুজো শুরু করেন।

 

বর্তমানে কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় সাবর্ণদের আটটি বাড়িতে আটটি দুর্গাপুজো হয়। যার মধ্যে বড়িশায় ছয়টি বাড়ির পাশাপাশি একটি বিরাটির বাড়ি ও একটি নিমতার বাড়িতে

পুজো হয়।

 

আটটি বাড়িতে দেবীর গায়ের রঙ হয় স্বর্ণবর্ণা। আজও এই বাড়ির পুজোয় বিভিন্ন প্রাচীন গয়না দিয়ে সাজানো হয় দেবীকে এবং জন্মাষ্টমীতে কাঠামোপুজো হয় এবং কৃষ্ণানবমীতিথিতে বোধন হয়।বিদ্যাপতি রচিত ‘দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনী’ মতেই পুজো হয় আটটি বাড়িতে।

 

এই পরিবারের ইতিহাস থেকে জানা যায় সুদূর অতীতে পশুবলিপ্রথা থাকলেও বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ রয়েছে।বাকি বাড়ি গুলিতে বাড়িতে আমিষভোগ হলেও নিমতার বাড়িতে নিরামিষভোগ হয়।

 

আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|

ফিরবো আগামী পর্বে|বনেদি বাড়ির দূর্গা পূজোর আগামী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

চাঁচল রাজবাড়ির দূর্গা পুজো 

চাঁচল রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শুধু কলকাতা বা দক্ষিণ বঙ্গের পুজো নয় উত্তর বঙ্গেও এমন অনেক বনেদি বাড়ির পুজো আছে যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।আজ আলোচনা করবো মালদার চাঁচল রাজ বাড়ির পুজো নিয়ে।

সতেরো শতকের শেষভাগ। সেই সময় উত্তর মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকার রাজা ছিলেন রামচন্দ্র রায়চৌধুরি। প্রজাদরদী এবং ধর্মপ্রাণ রাজা ছিলেন তিনি। শোনা যায় একবার রাজা দেবী চণ্ডীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে মহানন্দার ঘাটে স্নান করতে যান। সেই সময় তাঁর হাতে অলৌকিক ভাবে চতুর্ভুজা অষ্টধাতুনির্মিত মূর্তি উঠে আসে। দেবী চণ্ডীর অষ্টধাতুর মূর্তি মহানন্দার ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে রাজবাড়িতে এনে তিনি

প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেদিন থেকেই রাজবাড়িতে শুরু হয় দেবীর নিত্যপুজো।

সেই সময় থেকেই প্রতিবছর চাঁচল রাজবাড়িতে বেশ ধুমধাম করে দুর্গাপুজো শুরু হয়। পরবর্তীকালে পুজোর জন্য পাকা মন্দির নির্মাণের করেন রাজা । মন্দির তৈরির পর রাজা রামচন্দ্র দুর্গাপুজোর জন্য সেই সময় বেশ প্রায় সাত হাজার টাকাও বছরে বরাদ্দ করেন।শুরু হয় ধুমাধাম করে দূর্গা পুজো।

সেই রাজা নেই সেই রাজ্যপাটও নেই। চাঁচল রাজবাড়িতে এখন স্থাপিত হয়েছে কলেজ, মহকুমা প্রশাসনিক ভবন, আদালত-সহ একাধিক সরকারি দপ্তর। তবে রাজবাড়ির একাংশে থাকা ঠাকুরবাড়ি এখনও আগের মতোই রয়ে গিয়েছে।পুজোও হয়।

দূর্গা পূজা উপলক্ষে বাড়ির সদস্যরা একত্রিত হয়।

সেই জৌলুস হয়তো নেই। তবে নিষ্ঠা সহকারে আজও দেবী এখানে পূজিতা হন। নিয়ম করে প্রতিটি শাস্ত্রীয় রীতি নীতি আজও পালিত হয়।

আজও প্রাচীন প্রথা মেনে সপ্তমী তিথিতে রাজবাড়ি থেকে দুর্গাদালানে নিয়ে আসা হয় অষ্টধাতুর চতুর্ভুজা মা চণ্ডীকে। দশমীতে তিনি ফের রাজবাড়িতে ফিরে যান। এখানে সতের দিন

ধরে উৎসব পালিত হয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে

চাঁচল রাজ বাড়ির এই পুজো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অদ্ভুত নিদর্শন। এখানে বিসর্জনের সময় মহানন্দার নদীর ধরে বৈরগাছি

নামক এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ লণ্ঠন নিয়ে মাকে পথ দেখান।এই রীতি শুরুর দিন

থেকে আজও প্রচলিত আছে।

আসন্ন দূর্গা পুজো উপলক্ষে চলতে থাকবে এই সব ঐতিহাসিক রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ির পুজো গুলি নিয়ে আলোচনা। ফিরে আসবো

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দূর্গা পুজো

শেওড়াফুলি রাজবাড়ির দূর্গা পুজো
পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পুজো গুলির কথা বলতে হলে শুধু কলকাতার বনেদি পুজো গুলোর কথা বললে হয়না। জেলার পুজো গুলির কথাও বলতে হয়। এমনই এক পুজো শেওড়াফুলি রাজবাড়ির ঐতিহাসিক পুজো। আজকের পর্বে এই পুজোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও একটি অলৌকিক ঘটনার কথা বলবো।
শোনা যায় বর্ধমানের নারায়ণপুরে রাজত্ব করতেন এই বংশের আদি পুরুষরা। মোঘল আমলে স্বয়ং সম্রাট আকবর নাকি তাদের জমি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নদী ভাঙন গ্রাস করেছিল জমিদারি। ভিটে মাটি হারিয়ে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে শেওড়াফুলি এসে বসবাস করতে শুরু করেন তৎকালীন জমিদার।
বর্ধমানে যখন এই জমিদার বংশের গৌরব ময় সময় চলছে তখন গ্রামে পুকুর খনন করার সময় স্বপ্নাদেশ পান জমিদার মশাই । স্বপ্নাদেশ অনুসারে মাটির তলা থেকে পান দেবী দশভূজার অষ্টধাতুর মূর্তি।
পরবর্তীতে শেওড়াফুলির বাড়িতে এসে গৃহ মন্দিরে দেবী দশভূজার মূর্তিকে দেবী সর্বমঙ্গলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় তিনশো বছর ধরে সেই প্রতিষ্ঠিত মূর্তিতেই চলে আসছে পুজো । নিত্যপূজা হয় কিন্তু শরতের আকাল বোধন ও বসন্তকালের বাসন্তী পুজো এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।
অর্থাৎ দূর্গা রূপেই তারা তাদের আরাধ্যা দেবীর আহ্বান করেন।
আজও অমলিন আছে এই পুজোর গৌরব। বজায় আছে সব সেকালের রীতি নীতি এবং উপাচার যেমনটা বেশিভাগ রাজ বাড়ি বা জমিদার বাড়িতেই চলছে।
বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের বনেদি বাড়িগুলির আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের জানাবো। আগামী পর্ব গুলিতে পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো

কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গা পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
এক কালে যখন দূর্গা পুজো মূলত রাজ বাড়ি গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো তখন জাঁকজমকে মাঝে মাঝেই কলকাতার পুজো গুলোকে টেক্কা দিতো কিছু জেলার পুজো।এমনই এক ঐতিহাসিক পুজো পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর রাজবাড়ির পূজো যা নিয়ে আজকের পর্ব।
আগে এই পরিবারের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে রাখা প্রয়োজন।কাশীপুর রাজপরিবার আসলে পঞ্চকোট রাজবংশের শেষ একটা রাজপরিবার। কয়েকশ বছর আগে পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে এই রাজবংশ বসবাস করত। সেখান থেকে বর্গিরাজাদের আক্রমণের পর কাশীপুরের যিনি মহারাজা ছিলেন উনি রঘুনাথপুর পালিয়ে আসেন সপরিবারে; এবং তারপর থেকে এখানেই অর্থাৎ পুরুলিয়ার কাশিপুরে পুরোপুরি ভাবে অবস্থান করেন। তারপর ধীরে ধীরে উনি ওনার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন ও কাশীপুরের এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন ও সপরিবারে বসবাস শুরু করেন। দুর্গাপূজার প্রচলন করেন যা আজও অব্যাহত।
এই কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গাপূজোর কিছু বিশেষত্ব আছে।এখানে দেবী পূজো তথা প্রতিটি শাস্ত্রীয় উপাচার পালিত হয় ঘড়ির কাঁটা ধরে।
এক মুহূর্তের হের ফের হয়না।যেহেতু বৈষ্ণব মতে হয়ে থাকে পূজোর যাবতীয় আয়োজন থেকে প্রাণী হত্যা সম্পূর্ণ বাদ তার বদলে পূজো কদিন মায়ের অন্নভোগ দেওয়া হয়।
এই কাশী পুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনাও কিংবদন্তী রূপে প্রচলিত আছে।পূজোর অষ্টমী তিথিতে নিশিপূজোর সময় সিঁদুরের থালার মধ্যে মায়ের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। সেই সময়টাতে ঠাকুর দালান ভারী পর্দা দিয়ে আচ্ছাদন করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। শুধু সেই সময়টুকু গোপনীয়তা বজায় রাখতে এমন টা করা হয়।
এক সময়ে পারিবারিক পুজো হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে এই জেলার অসংখ্য মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। পুজো কদিন রাজবাড়ির সদর দরজা থেকে ঠাকুর দালান বা প্রাঙ্গন সর্বত্র থাকে মানুষজনের অবাধ আনাগোনা।
আসন্ন দূর্গা পুজো উপলক্ষে সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন সব ঐতিহাসিক দূর্গা পূজো নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন ধন্যবাদ।