Home Blog Page 34

জয় জগন্নাথ – সুভদ্রার কথা

জয় জগন্নাথ – সুভদ্রার কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীতে প্রভু জগন্নাথ একা নন ভ্রাতা বলরাম এবং ভগ্নি সুভদ্রাও তার সাথে বিরাজ করছেন এবং প্রভু জগন্নাথের বিভিন্ন লীলাতে তারাও লীলা সঙ্গী।রথ যাত্রাতেও তিন জন নিজ নিজ রথে আরোহন করেন।তাই জগন্নাথদেবকে নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বলরাম এবং সুভদ্রা সম্পর্কেও আলাদা করে আলোচনা করতে হয়।আজকের পর্ব জগন্নাথদেবের ভগ্নি সুভদ্রা কে নিয়ে।

 

মহাভারতে এবং পুরাণে সুভদ্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বীরযোদ্ধা অভিমন্যুর জন্মদাত্রী মা তিনি। কৃষ্ণ ও বলরামের ছোট বোন সুভদ্রাকে বিয়ে করেছিলেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন। সুভদ্রা ও অর্জুনের পুত্র অভিমন্যু চক্রব্যুহ ভেদ করে সপ্তরথীর সঙ্গে একা বীরের মতো যুদ্ধ করে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।

 

আবার পুরাণ মতে সুভদ্রা হলেন যোগমায়া।

জন্মের পর কৃষ্ণকে কংসের কারাগার থেকে সরিয়ে ফেলতে গোকূলে যান বসুদেব। সেখানে যশোদার পাশ থেকে যোগমায়াকে নিয়ে এসে সেখানে কৃষ্ণকে শুইয়ে দেয়া হয় । যোগমায়াকে কংসের কারাগারে দেবকীর পাশে শুইয়ে দেন। কংস এসে যোগমায়াকে কৃষ্ণ মনে করে নিধন করতে উদ্যত হলে তাঁর হাত ছাড়িয়ে আকাশে মিলিয়ে যান তিনি। যাওয়ার আগে কংসকে বলে যান তার নিধনকারী গোকুলে বেড়ে উঠছে।

 

এই যোগমায়াই আসলে সুভদ্রা রূপে কৃষ্ণের ভগ্নি হয়ে ফিরে আসেন।বসুদেব ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিনীর সন্তান হয়ে জন্ম নেন এবং প্রভু জগন্নাথ এবং বলরামের সাথে শ্রী খেত্র পুরীতে

বিরাজ করছেন।

 

আবার যথা সময়ে প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত

আরো অনেক পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় তথ্য নিয়ে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।

ধন্যবাদ।

প্রভু জগন্নাথের সঙ্গে কোহিনূরের সম্পর্ক

প্রভু জগন্নাথের সঙ্গে কোহিনূরের সম্পর্ক

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগের একটি পর্বে প্রভু জগন্নাথের ঐশর্য প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কোহিনুরের উল্লেখ করে ছিলাম। জানিয়ে ছিলাম কোহিনুর হীরা প্রভু জগন্নাথের সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভুর অধীনে তা নেই। আজকের পর্বে বিস্তারিত ভাবে জানাবো কেনো এমনটা হলো।কি সেই ইতিহাস।

 

গোলকুণ্ডায় আবিষ্কার হওয়ার পর কোহিনুর বিভিন্ন শাসক দের হাত ধরে মুঘল দিল্লি, পারস্য এবং আফগানিস্তানে পৌঁছেছিল তারপর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শিখ সাম্রাজ্যের প্রথম শাসক মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনুর অধিকার করেন

 

মহারাজা রঞ্জিত সিং 1839 সালে তাঁর মৃত্যুর আগে হীরাটি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু মহারাজার অধীনে থেকেও পাঞ্জাবের তৎকালীন কিছু ক্ষমতাবান ব্যাক্তি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

আবার কিছু ইতিহাস বইয়ে মহারাজা রঞ্জিত সিং কর্তৃক পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কাছে কোহিনূর বন্ধক রাখার উল্লেখ রয়েছে।

 

মহারাজ রঞ্জিত সিংহ তার ইচ্ছে প্রকাশ করে কোহিনুরকে জগন্নাথ মন্দিরে দান করার জন্য একটি উইল ও লেখেন যাকে ভিত্তি করে আজও পুরীর মন্দির কতৃপক্ষ কোহিনুর তাদের বলে দাবী করে আসছেন এবং সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনি লড়াই লড়তেও তারা প্রস্তুত।

রুঞ্জিত সিংহ নিজেই মারা যান তার এই শেষ ইচ্ছে অপূর্ন রেখে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে তার নাবালক উত্তরাধিকার রাজা দিলীপ সিংহর হাত থেকে কোহিনুর এক প্রকার ছিনিয়ে নেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা।তবে খাতায় কলমে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইংল্যান্ডের রানী কোহিনুর উপহার হিসেবে পান।

 

শিখ সম্প্রদায়ের সাথে জগন্নাথ দেবের সম্পর্ক বেশ প্রাচীন যা গুরু নানকের সময়ে শুরু হয়।

শোনা যায় গুরু নানক একবার জগন্নাথ মন্দির দর্শন করতে এসেছিলেন এবং অন্য ধর্মের হওয়ায় তিনি প্রবেশেধিকার পাননি। পরে পুরীর সমুদ্র সৈকতে তারা যখন অভুক্ত অবস্থায় ছিলেন তখন প্রভু জগন্নাথ তাদের নিজের ভোগ পাঠিয়ে তাদের সেবা করেন। তারপরে গুরু গোবিন্দ সিংয়ের সময়েও শিখ ধর্মের মানুষরা জগন্নাথের বিশেষ কৃপার পাত্র ছিলেন। আজও সেই পরম্পরা চলছে। তাই মহারাজা রঞ্জিত সিং তার দখলে থাকা সবচেয়ে দামি রত্ন কোহিনূরকে পুরী জগন্নাথ মন্দিরে দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।এতে তার প্রভু জগন্নাথের প্রতি ভক্তি এবং আস্থা প্রকাশ পায়।

 

এমন বহু রহস্য এবং অজানা ইতিহাস আছে পুরীর মন্দিরকে কেন্দ্র করে। রথ যাত্রা উপলক্ষে আবার এক বিশেষ পর্ব নিয়ে আগামী পর্বে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথদেবের জ্বর এবং চিকিৎসা

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথদেবের জ্বর এবং চিকিৎসা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জগন্নাথ ধাম এবং প্রভু জগন্নাথের দৈনন্দিন জীবন যাপন নিয়ে রয়েছে হাজারো রহস্য। তার ভোগ, সাজসজ্জা,শয়ন এবং রথ যাত্রা সব কিছুতেই রয়েছে একাধিক রহস্য ঠিক স্নানের পর জ্বর আসা বিশ্রাম এবং অসুখের চিকিৎসা নিয়েও অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। আজকের পর্বে জানাবো স্নান যাত্রার পর কি কি ঘটে।

 

আগেই বলেছি প্রতি বছর জ্যেষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথ নিজের ভাই এবং বোনের সঙ্গে একশো আট টি কলসির জলে পবিত্র স্নান করেন।যে স্নান যাত্রা কিছুদিন আগেই অনুষ্ঠিত হলো। এই সময়ে স্নানের কারন গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহ থেকে সুরক্ষিত থাকা। তবে অত্যধিক স্নানের কারণে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অতিরিক্ত শীতলতার জন্য জ্বর আসে তাদের।

 

জগন্নাথ দেব বাল্য রূপে পুরীধামে বিরাজমান তাই এই সময়ে অসুস্থ্য বালকের ন্যায় তাদের সেবা করা হয় এবং সুস্থ্য করে তোলা হয়।

 

এই সময়ে একান্তবাসে থাকতে হয় তাঁদের।এই সময়ে পনেরো দিনের জন্য মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকজন বৈদ্য এই সময়ে ভগবানের চিকিৎসা করেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর রত্নজড়িত বস্ত্রের পরিবর্তে সুতির শ্বেত বস্ত্র পরিধান করেন তাঁরা। রত্ন এবং স্বর্ণ নির্মিত আভুষণও খুলে রাখা হয়।প্রতিদিনের ভোগের পরিবর্তে ভোজনে দেওয়া হয় ফল, ফলের রস, তরল পদার্থ। পঞ্চম দিন বড় ওড়িয়া মঠ থেকে ফুলেরি তেল আসে, যা দিয়ে হাল্কা মালিশ করা হয়। এর পর রক্তচন্দন ও কস্তুরির প্রলেপ লাগানো হয়। এ সময় তাঁকে হাল্কা খাবার, যেমন, দুধ, ফলের রস ও কয়েকটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ খাওয়ানো হয় রুগী পথ্য রূপে।

 

প্রভু আরেকটু সুস্থ্য হয়ে উঠলে দশম দিনে তাঁকে নীম, হলুদ, বহেড়া, লবঙ্গ ইত্যাদি জড়িবুটির জল দিয়ে নরম মোদক বানিয়ে খেতে দেওয়া হয়।

 

রথযাত্রার একদিন আগে, জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁদের মন্দিরের গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হয় এবং রাজ রাজকীয় সাজে সাজানো হয়। তারপর তাঁরা রথ যাত্রার জন্য বেড়িয়ে পড়েন।

 

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সংক্রমক ব্যাধির খেত্রে চোদ্দ দিনের একান্ত বাসের কথা বলে। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে প্রভু জগন্নাথের এই চোদ্দ দিনের একান্ত বাস এবং জ্বরের চিকিৎসা যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ।

 

জগন্নাথদেব সংক্রান্ত আরো অনেক এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথদেবের ভোগ 

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথদেবের ভোগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জগন্নাথদেব ভোজন রসিক সব পুরীধাম ভোগের জন্য বিখ্যাত।পুরীর মন্দিরে জগন্নাথের ভোগ নিবেদন নিয়ে আছে অনেক পৌরাণিক ঘটনা অনেক ইতিহাস এই মন্দিরে ভোগ রান্না থেকে ভোগ নিবেদন সবেতেই আছে অভিনবত্ত্ব। সেই সব নিয়েই আজকের পর্ব।

 

শাস্ত্রে আছে ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যলোকে এসে চার ধামে যাত্রা করেন। এই চার ধাম হল- বদ্রীনাথ ধাম,দ্বারিকা ধাম,পুরী ধাম এবং রামেশ্বরম। প্রথমে হিমালয়ের শিখরে অবস্থিত বদ্রীনাথ ধামে স্নান করেন,তারপর গুজরাটের দ্বারিকা ধামে গিয়ে বস্ত্র পরিধান করেন, ওড়িশার পুরী ধামে ভোজন করেন আর সবশেষে রামেশ্বরমে গিয়ে বিশ্রাম নেন।ভগবানের ভোজনের স্থান রূপে পুরীর ভোগের কিছু বিশেষত্ব থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।

 

পুরীতে জগন্নাথকে অর্পণ করা হয় ছাপান্ন ভোগ।

যশোদা মা বালক শ্রী কৃষ্ণকে ছাপান্ন ভোগ অর্পণ করেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণই কলি যুগে জগন্নাথ রূপে বিরাজমান তাই জগন্নাথদেবকেও ছাপান্ন ভোগ অর্পণ করা হয়।

 

সারাদিনের ভোগে থাকে নানা বৈচিত্র।জগন্নাথ খিচুড়ি খেতে ভালো বাসেন তাই তার জন্য বিশেষ খিচুড়ি তৈরী হয় এছাড়া জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় খই, চিঁড়ে, বাতাসা, মাখন, মিছরি, কলা, দই এবং নারকেল কোরা। এরপর দেওয়া হয় রাজা ভোগ। এই তালিকায় থাকে মিষ্টি চালের খিচুড়ি, ডাল, তরকারি, ভাজা এবং পিঠেপুলি। দুপুরের ভোগ মূলত অন্নভোগ। সেখানে থাকে ভাত, ডাল, শুক্তো, তরকারি ও পরমাণ্ণ। এছাড়াও থাকে ক্ষীর ও মালপোয়া। সন্ধেবেলায় দেওয়া হয় লেবু, দই দিয়ে মাখা পান্তাভাত। সঙ্গে খাজা, গজা এবং নানা ধরনের মিষ্টি। শয়নের আগে দেয়া হয় ডাবের জল। ছাপ্পান্ন ভোগের মধ্যে থাকে নানা রকম মিষ্টি। নানা রকম ভাত এবং পীঠে পুলী।

 

জগন্নাথ মন্দিরের একাংশেই হয়েছে বড় রান্নাঘর। সেখানে রয়েছে ৭৫২ টি উনুন, সেখানে এই ভোগ রান্নার কাজ করেন ৩০০-রও বেশি রাঁধুনি। এরাই বংশ পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে ভোগ রান্না করেন।

রান্নার প্রক্রিয়াও বেশ মজার। মন্দিরের রান্নাঘরে একটি পাত্রের উপর আর একটি পাত্র এমন করে মোট ৭টি পাত্র আগুনে বসানো হয় রান্নার জন্য। এই পদ্ধতিতে যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে তার রান্না সবার আগে হয়। তার নিচে তারপরে রান্না হয় তাছাড়া পুরী মন্দিরের প্রতিদিন সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু ওই একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ মানুষ সকলেরই পেট ভরে যায়।প্রসাদ কখনও কম পড়ে না বা নষ্ট হয় না।

পুরীর মন্দিরে ভোগ গ্রহণ অত্যান্ত সৌভাগ্যর বিষয় এতে প্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভ হয়।

 

চলতে স্নান যাত্রা রথযাত্রা উপলক্ষে

জগন্নাথদেব প্রসঙ্গে আলোচনা।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – প্রভু জগন্নাথের ঐশর্য্য

জয় জগন্নাথ – প্রভু জগন্নাথের ঐশর্য্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর জগন্নাথদেব শুধু পুরীর নয় সমগ্র জগতের নাথ। স্বাভাবিক ভাবেই প্রভু জগন্নাথের রয়েছে অগাধ সম্পত্তি। সেই তালিকায় রয়েছে বহু মূল্য হীরে, মূল্যবান অনেক রত্ন, সোনার এবং রুপোর নানা রকম অলংকার।শুধু জগন্নাথ নন বলরাম এবং সুভদ্রার ও রয়েছে নিজস্ব রত্ন ভান্ডার।

আজকের পর্বে প্রভু জগন্নাথের সেই বিপুল ধনভান্ডার নিয়ে লিখবো।

 

মন্দিরের অভ্যন্তরে কয়েকটি বিশেষ কক্ষে এই অতুল ঐশর্য রাখা আছে। সেখানে বাইরের কারুর প্রবেশের অধিকার নেই।বহুকাল এই রত্ন ভাণ্ডারের সমীক্ষা বা হিসেবে নিকেশ হয়নি। ভারত সরকার একবার উদ্যোগ নিয়ে রত্ন ভাণ্ডারের সমীক্ষা করান তাতে জগন্নাথের অতুল ঐশর্যর কিছুটা জন সমক্ষে বলে ধারণা।

 

বিশেষ বিশেষ সময়ে প্রভুর মাথায় ব্রহ্মজ্যোতি হীরা শোভা পায়।সেই হীরের জ্যোতি কি কেউ খালি চোখে সইতে পারেনা।এছাড়া বলরামের মাথার নীলা বা সুভদ্রার মাথার মানিক, সবই রত্নভান্ডারে গচ্ছিত আছে।বিশেষ বিশেষ সময়ে প্রভুকে সোনার গয়নায় সাজানোর জন্য তার রত্ন ভান্ডার থেকে গহনা বের করে আনা হয় তবে তারও একটা নিদ্দিষ্ট পক্রিয়া আছে।

 

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদুয়ারের ঠিক সামনে ইমার মঠ। সেখান থেকে একাধিক বার উদ্ধার হয়েছে গুপ্তধন।২০১১-তে ও ২০২১-এ, পরপর দু’বার এই মঠ থেকে পাওয়া যায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।উদ্ধার হয় অন্তত ৫০০ রূপোর বাট।

 

তবে প্রভু জগন্নাথের সব চেয়ে মূল্যবান এবং আলোচিত সম্পদ হলো জগৎ বিখ্যাত কোহিনুর হীরা যা খাতায় কলমে জগন্নাথ দেবের সম্পত্তি হলেও তা আজও জগন্নাথ দেবের অধিকারে আসেনি। কারন কোহিনুরের মালিক মহারাজা রঞ্জিত সিংহ জগন্নাথ দেব কে কোহিনুর অর্পণ করার কথা ঘোষণা করলেও কোহিনুর জগন্নাথ চরণে অর্পণ করার আগেই তার মৃত্যু হয় এবং কোহিনুর চলে যায় ব্রিটিশ সরকারের হাতে।

তবে সমগ্র জগৎ সংসারের সম্পূর্ণ ঐশর্যর অধিকারী প্রভু জগন্নাথ তাই তার জাগতিক সম্পত্তি কি আছে কি নেই সেটা বড়ো কথা নয়। ভক্তের ভক্তি এবং সেবাই তার কাছে সব চেয়ে দামী এবং কাঙ্খিত।

 

আসন্ন রথ যাত্রা উপলক্ষে চলতে থাকবে জগন্নাথদেব এবং পুরীর ধাম নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – প্রভু জগন্নাথের আশ্চর্য্য লীলা

জয় জগন্নাথ – প্রভু জগন্নাথের আশ্চর্য্য লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

স্নান যাত্রা পর্ব মিটে গেছে। প্রভু জগন্নাথ এখন বিশ্রামে আছেন। নিদ্দিষ্ট দিনে তিনি রাজকীয় রথে চেপে তার অগণিত ভক্ত দের সাথে মিলিত হবেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে আজ আরো একটি জগন্নাথ লীলা আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি।

 

একবার এক দরিদ্র জগন্নাথ ভক্ত তার মালিকের কাছে কাছে শ্রীজগন্নাথ ধাম যাত্রার জন্য ছুটি চাইলেন।তার মালিক ও ছিলেন জগন্নাথের ভক্ত।

তিনি কর্মচারীকে ছুটি দিতে রাজি হলেন এবং বললেন। আমি তো ব্যবসায়ী মানুষ, সব সময় ব্যাবসার কাজে ব্যস্ত থাকি তার কারনে জগন্নাথ দর্শনের সুযোগ হয় না। তুমি একশো টাকা আমার নামে প্রভু জগন্নাথদেবের চরণ সেবায় অর্পণ করো।কর্মচারী টাকা নিয়ে বিদায় হলো।

 

কিছুদিন পর সে পুরী পৌছালো এবং মন্দিরে যাওয়ার সময় সে রাস্তায় দেখলো অনেক সাধুসন্ত, ভক্তজন। সংকীর্তনে মত্ত।তারা ক্ষুদার্থ এবং ক্লান্ত কিন্তু খাদ্য বা জল নেই।সে মালিকের দেয়া একশো টাকা থেকে আটানব্বই টাকা খরচা করে ফেললো সেই বৈষ্ণবদের সেবায়।বাকি দুটাকা সে জগন্নাথ দর্শন করে প্রভুর সেবায় অর্পণ করলো।

 

সেই রাতে মালিককে জগন্নাথদেব স্বপ্নে দেখা দিলেন আর বললেন তোমার ৯৮ টাকা আমি পেয়েছি,এই বলে জগন্নাথদেব অন্তর্ধান হয়ে গেলেন। মালিক জেগে গেল আর ভাবতে লাগলো, আমার কাজের লোক খুব সৎ আর বিশ্বাসী। তাও সে দুটাকা কম দিলো কেনো।কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি মালিকের কাছে ফিরে আসলো।

মালিক স্বপ্নের কথা বললে সে সব ঘটনা খুলে বললো। জানালো ৯৮ টাকা দিয়ে সাধুসন্তদের সেবা করিয়েছে আর দুই টাকা জগন্নাথদেবের চরণে অর্পন করেছে।

 

মালিক সব বুঝে খুশি হয়ে বললো তুমি ধন্য তোমার জন্য আমি প্রভুকে ঘরে বসে দর্শন করতে পেরেছি।এও বুঝতে পেরেছি ভগবানের আসলে কোনো ধনের প্রয়োজন নেই।তিনি ওই ৯৮ টাকা স্বীকার করলেন কারণ, ওটা যে ভক্তের সেবাতে লেগেছে।কারণ ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের বাস।

 

আবার প্রভু জগন্নাথের অন্য এক লীলা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথ মন্দিরের বিধি নিষেধ

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথ মন্দিরের বিধি নিষেধ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীর মন্দির নিয়ে রহস্যর যেমন শেষ নেই তেমনই পুরীর মন্দিরে প্রবেশ নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু নিয়ম বা বিধি নিষেধ যা নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন এবং কৌতূহল। এই নিয়ম গুলির পেছনে থাকা শাস্ত্রীয় এবং ঐতিহাসিক কারন গুলি নিয়ে আজকের পর্বে লিখবো।

পুরীর মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে কেবলমাত্র হিন্দুদেরই এবং এই মন্দিরে বিদেশীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।এক অংশের ইতিহাসবিদের মতে, একাধিকবার অহিন্দু বৈদেশিক শত্রু পক্ষ এই মন্দিরে হামলা চালায় এবং মন্দির ধ্বংস করে জগন্নাথ বিগ্রহ ও প্রভু জগন্নাথের বিপুল ধন সম্পত্তি লুঠ করার পরিকল্পনা করে হয়তো সে কারণেই সেবায়েতরা

পুরী মন্দিরের অন্দরে শুধু মাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং ভারতীয় দের প্রবেশ অধিকার দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন ইন্দিরা গান্ধীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি একজন অ-হিন্দুকে বিয়ে করেছিলেন। এছাড়া রবীন্দ্র নাথ থাকুরও কোনোদিন পুরীর মন্দিরে প্রবেশ করেন নি কারন জন্ম সূত্রে তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের।থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহা শ্রীনিধর্ন প্রথম ওডিশা সফরে পৌঁছন। তিনি বাইরে থেকেই মন্দিরের দর্শন করেন। বিদেশি বলে তাঁকে প্রবেশাধিকারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদ ও পুরীর মন্দিরে প্রবেশ করেন নি কারন তার সাথে থাকা বিদেশি ভক্ত দের মন্দিরে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়।এমন কি একবার এলিজাবেথ জিগলারকে নামক এক জগন্নাথ ভক্তকে কয়েক কোটি টাকা দান দেয়ার পরেও মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কারণ তিনি ছিলেন খ্রীস্ট ধর্মের মানুষ এবং বিদেশি নাগরিক।এমন বহু বিখ্যাত ভক্ত জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করার অনুমতি পাননি।

এখানে প্রশ্ন ওঠে জগন্নাথ তো জগতের নাথ তবে তার দর্শন থেকে কেনো তার বিদেশি এবং অন্য ধর্মের মানুষ বঞ্চিত থাকবেন। এই সমস্যার সমাধান করতেই প্রভু জগন্নাথ প্রতি বছর রথ যাত্রায় মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন। সেদিন মুছে যায় সব ভেদাভেদ সব বিধি নিষেধ। রথে শুধু জগন্নাথ দর্শন নয় তার ভক্তরা তাকে স্পর্শ এবং আলিঙ্গন ও করতে পারে।

ফিরে আসবো জগন্নাথ সংক্রান্ত বিশেষ আলোচনা নিয়ে আবার আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা 

জয় জগন্নাথ – জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর মন্দিরে অবস্থিত জগন্নাথ বিগ্রহ সাক্ষাৎ জগতের নাথ। প্রতিনিয়ত তিনি নানা লীলার মাধ্যমে নিজের নিজের দিব্য উপস্থিতি প্রমান করে চলেছেন। তার এমনই এক লীলা আজকের এই স্নান যাত্রা। প্রতিবছর দেবস্নান পূর্ণিমায়

অনুষ্ঠিত হয়।জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা।

 

স্কন্দপুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন যখন দারু ব্রহ্ম মূর্তি স্থাপন করেছিলেন তখন তিনি এই স্নান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। এই দিনটিকে ভগবান জগন্নাথের আবির্ভাব তিথি বলে মনে

করা হয়।যেহেতু এই তিথিতে জগন্নাথ দেব স্নান করেন তাই এই এই পূর্ণিমা তিথি দেবস্নান পূর্ণিমা নামে পরিচিত।

 

জগন্নাথকে তাঁর আদি রূপ অর্থাৎ নীলমাধব রূপে পূজা করছিলেন বিশ্ববাসু নামে একজন সবর প্রধান। আজও জগন্নাথের অঙ্গ সেবক দের সাথে মিলে সেই জন জাতীর লোকেরা বংশ পরম্পরায় স্নান যাত্রার আয়োজন করেন।

 

প্রথা মেনে স্নান যাত্রার আগের দিন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মূর্তি আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভগৃহ থেকে স্নান-বেদীতে নিয়ে আসা হয়। পুরীর মন্দির চত্বরে এই বিশেষ প্যান্ডেলটিকে বলা হয় স্নান মন্ডপ।

 

স্নানের আগের দিন যখন দেবতাদের শোভাযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন পুরো প্রক্রিয়াটিকে পাহান্দি বা পাহান্ডি বিজয় বলা হয়। স্নানের দিন মঙ্গলা আরতির পরে তামা ও সোনার একশত ত্রিশটি পাত্রে সোনা কুয়া নামক বিশেষ কূপ থেকে জল আনতে একটি আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রায় যায়। তারপর সেই জল চন্দন, আগুরু, ফুল, সুগন্ধি এবং ভেষজ ঔষধি দিয়ে শুদ্ধ করা হয়।

ভরা পাত্রগুলি ভোগ মন্ডপ থেকে স্নান বেদী পর্যন্ত

নিয়ে আসার রীতিকে বলা হয় ‘জলধিবাসা’

তারপর একশো আট কলস জলে স্নান করানো হয় জগন্নাথকে

 

স্নান যাত্রার পরে, দেবতাদের পনের দিনের জন্য জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দূরে রাখা হয় এবং এই সমস্ত দিনগুলিতে মন্দিরের দৈনন্দিন অনুষ্ঠান স্থগিত থাকে। এই সময়ে মন্দিরের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ঘরে জগন্নাথ সুভদ্রা এবং বলরামকে রাখা হয়। এই সময়কে বলা হয় ‘অনাবাসর কাল’ অর্থাৎ উপাসনার অনুপযুক্ত সময়। কথিত আছে ভগবান জগন্নাথকে স্নান করানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং চৌদ্দ দিন তিনি নিভৃতে বিশ্রামে থাকেন। রথযাত্রা পর্যন্ত তাকে বিশেষ যত্নে রাখা হয় এবং রাজ বৈদ্যরা তার সেবা সুশ্রসা করেন।তাকে সুস্থ্য করে তোলেন।

 

সুস্থ্য হয়ে রাজ বেসে সুসজ্জিত রথে প্রভু পথে নামেন তার ভক্তদের দর্শন দিতে।শাস্ত্র মতে স্নান যাত্রা এবং রথ যাত্রা এই দুই তিথিতে সবাই তাকে দর্শন করতে পারেন এবং এই সময়ে তার দর্শন পেলে জন্ম জন্মান্তরের পাপ খণ্ডন হয় এবং পরম পুন্য লাভ হয়।যেহেতু সবাই পুরীর মন্দিরে সবাই প্রবেশ করতে পারেন না। কিছু বিধিনিষেধ আছে তাই অসংখ্য ভক্ত এই স্নান যাত্রা এবং পরবর্তীতে রথ যাত্রায় প্রভু জগন্নাথের দর্শন লাভের জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন।

 

চলতে থাকবে নানা পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আধ্যাত্মিক আলোচনা। যথা সময়ে আবার রথ যাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ প্রসঙ্গে বিশেষ আধ্যাত্মিক পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো।

সবাইকে জানাই স্নান যাত্রার শুভেচ্ছা।

পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – নীলমাধব রহস্য

জয় জগন্নাথ – নীলমাধব রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভগবান নীলমাধব হলেন ভগবান বিষ্ণুরই অন্যতম রূপ। পুরীতেই ইনি ভগবান জগন্নাথ হিসেবে পূজিত হচ্ছেন। ওড়িশা রাজ্যের প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, পুরীতে জগন্নাথদেবের পুজোর আগে থেকেই ভগবান বিষ্ণুর রূপ হিসেবে নীলমাধবের পুজো করা হত।আজকের পর্বে এই নীলমাধব রহস্য নিয়ে লিখবো।

 

বিষ্ণুসহস্র নামে উল্লেখ রয়েছে ভগবান বিষ্ণুর চব্বিশ টি প্রধাননামগুলির মধ্যে অন্যতম হল নীলমাধব।

 

জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়ার আগেই চারটি নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই নীলমাধবের পুজোর স্থান । শাস্ত্র মতে ভগবান বিষ্ণু প্রথমে নীলমাধবের আকারে কাঠের মূর্তি রূপে ওড়িশার কন্টিলোতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। অর্থাৎ পুরীর মন্দিরের আগে থেকেই কন্টিলোতে চলে আসছে পুজো।

 

পরবর্তীতে স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু ওড়িশার রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে একদিন স্বপ্নে দেখা দেন এবং জানান, ওড়িশার মহানদীর তীরে তিনি নীলমাধব রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। যেখানে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন সেখানে শবর জনগোষ্ঠীর প্রধান তাঁকে একটি বড় গাছের নিচে পুজো করছে। এই স্বপ্ন দেখার পরের দিনই ইন্দ্রদ্যুম্ন, তাঁর বিশ্বস্ত ব্রাহ্মণ পুরোহিত বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের মূর্তি খুঁজে বের পুরীতে আনার নির্দেশ দেন।

 

নীলমাধবের খোঁজে গিয়ে সবর জনজাতি গোষ্ঠীর প্রধান বিশ্ববসুর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। বিশ্ববসুর কাছে পুরীর রাজার সন্ধির প্রস্তাব দেন।এই সময় বিদ্যাপতি বিশ্ববসুর কন্যা ললিতার প্রেমে পড়েন এবং তাঁকে বিয়ে করেন। এরপর একদিন বিদ্যাপতিকে নীলমাধবের দর্শন করান বিশ্ববসু। পরবর্তীকালে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের কাছে ফিরে গিয়ে বিদ্যাপতি জানান যে, নীলমাধবকে তিনি খুঁজে পেয়েছেন। পরবর্তীকালে নিজের দলবল নিয়ে বনের মধ্যে গিয়ে পড়েন কিন্তু নীলমাধব তাকে দর্শন দেননি।

 

নিজ রাজ প্রাসাদে ফিরে ইন্দ্রদ্যুম্ন শুরু করেন কঠোর তপস্যা। অন্ন-জল কোনও কিছু গ্রহণ করেননি। সারাক্ষণ নীল মাধবের দেখা পাওয়ার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে ধ্যান করতে লাগলেন। অবশেষে বিষ্ণু প্রকট হন রাজার সামনে। তাঁকে জানান যে, পুরীর সমুদ্র সৈকতে তিনি দারু ব্রহ্মা রূপে আবির্ভূত হবেন রাজা পুরীতে বিশাল মন্দির নির্মাণ করে সেই দারু ব্রহ্ম দিয়ে তার মূর্তি নির্মাণ করে যেনো তাকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পুজো শুরু করেন।

 

পরবর্তী ইতিহাস হয়তো আমরা অনেকেই জানি। সে কথা আমি আগেও অনেক বার বলেছি। নীলমাধব আজও পুরী ধামে জগন্নাথ রূপে বিরাজমান।ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে জগন্নাথ সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জয় জগন্নাথ – পুরী ধামের রহস্য 

জয় জগন্নাথ – পুরী ধামের রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রায় প্রতিটি প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের সাথে কিছু না কিছু রহস্য জড়িত আছে তবে চার ধামের অন্যতম পুরীর মন্দির আগা গোড়াই রহস্যে মোড়া তারই কিছু আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।

 

মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে বড়ো রহস্য হল প্রসাদ। সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য রান্নার পদ্ধতিতেও বেশ রহস্য আছে, মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর। এই রহস্যর আজও কোনো সমাধান হয়নি।

 

আরো অনেক রহস্য আছে মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না। তবে মাত্র কিছুদিন আগে এক বিরাট পক্ষীকে মন্দিরের চূড়া প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেছে। অনেকে বলেন নিশ্চই কোনো পৌরাণিক পক্ষী জগন্নাথ দর্শনে এসেছিলেন।

 

মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না কিন্তু এই অদ্ভূত ঘটনাটি ঘটে থাকে|

বিশেষ বিশেষ জাগতিক ঘটনার আগে কখনো এই ধজাতে আগুন লাগা বা ধজা অর্ধনমিত হওয়ার মতো ব্যাতিক্রমী ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকেও অনেকে অলৌকিক বার্তা বলে মনে করেন।

 

মন্দিরের যেকোনো স্থান থেকে মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকালে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে।

 

মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|

 

এতো রহস্য এতো অলৌকিক বিষয় থেকে এটাই প্রমান হয় যে জগন্নাথদেবের লীলা বোঝা দায়|তার ইচ্ছায় সবই সম্ভব|সাধারণ বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে ভগবানের লীলার বিচার সম্ভব নয়|

 

আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে। স্নান যাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ প্রসঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে।

পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।