প্রভু জগন্নাথ এবং ভক্ত শালবেগ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরীর জগন্নাথ দেব জগতের নাথ। সারাবছর তার মন্দিরে প্রবেশে অনেক বিধি নিষেধ আছে। সনাতন ধর্মের বাইরের কেউ তার মন্দিরে প্রবেশের অধিকার পায়না। তবে রথ যাত্রার সময় প্রভু নিজে বেরিয়ে আসেন মন্দির থেকে এবং জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রভু তার ভক্তদের সাথে মিলিত হন।
তার অগণিত ভক্তদের মধ্যে একজন আছেন একটু ব্যতিক্রমী তার নাম শালবেগ আজ এই
বিশেষ ভক্ত নিয়ে লিখবো।
মুঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরের আমলে বাংলার গভর্নর ছিলেন জাহাঙ্গীর কুলি খান। এক হিন্দু ব্রাহ্মণ ঘরের মহিলাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। জগন্নাথের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন ওই মহিলা। তাদের সন্তান হলেন শালবেগ ধর্মে মুসলিম হলেও মায়ের প্রভাবে তিনি হয়ে উঠে ছিলেন জগন্নাথ দেবের পরম ভক্ত। কিন্তু পুরীর মন্দিরে অহিন্দুর প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় তিনি কখনও জগন্নাথ দেবকে দর্শন করতে পারেননি।
ভক্ত সালবেগ বহু ভজন রচনা করেন এবং সর্বদা
ভক্তি রসে ডুবে থাকতেন। শোনা যায় একবার খুব
অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং জগন্নাথের কৃপায়
পুনরায় সেরে ওঠেন।
মৃত্যুর আগে তিনি মন্দিরের কাছে একটি কুঁড়েঘর তৈরি করে সেখানেই জীবনের শেষ কটি দিন কাটিয়ে যান। প্রচলিত বিশ্বাস, শেষ শয্যায় ওই ভক্তের কান্না ঈশ্বরের হৃদয় স্পর্শ করে।তিনি শালবেগকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে তাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নিজে আসবেন তার সাথে দেখা করতে।
তারপর রথের দিন রথ সেই কুটিরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে আচমকা রথের চাকা থেমে যায় এবং বহু চেষ্টায় রথের চাকা নড়ানো যায়নি। তারপর থেকে প্রতিবছর রথ যাত্রার সময়ে সেই
নিদ্দিষ্ট স্থানে রথ থামানো হয়।
এখন ওই স্থান একটি মাজারে পরিণত হয়েছে এবং প্রতি বছর রথযাত্রার সময় ওই মাজারের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ভক্তকে দর্শন দিয়ে যান প্রভু জগন্নাথ মুঘল আমল থেকে আজও এই প্রথা
চলে আসছে।
পুরীর মন্দির থেকে প্রায় দুশো মিটার দূরে অবস্থিত শালবেগ মাজার।জগন্নাথ ভক্তদের কাছে
এটিও একটিও বর্তমানে একটি দর্শনীয় স্থান।
প্রভু জগন্নাথের আরো এক লীলা নিয়ে
ফিরে আসবো আবার আগামী পর্বে।
যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
