Home Blog Page 159

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র – বজ্র

সনাতন ধর্মের দেবতাদের অনেক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা যায়, যেমন – আগ্নেয়াস্ত্র, ব্রহ্মাস্ত্র, গরুড়াস্ত্র, কৌমদকী, নারায়ণাস্ত্র, পশুপতাস্ত্র, শিবধনু, সুদর্শন চক্র, ত্রিশূল, বৈষ্ণবাস্ত্র, বরুণাস্ত্র ও বায়বাস্ত্র।যেকোনো যুদ্ধে, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি তে ইন্দ্র এর সাথে সদা থাকে তার বজ্র |এই জাতীয় অস্ত্র আর কোনো দেবতা কে ব্যবহার করতে দেখা যায়না, হয় তো তিনি দেবরাজ তাই |অসীম শক্তিশালী এই অস্ত্র বহু শত্রুর বিনাশ করে একাধিক বার সৃষ্টি রক্ষা করেছে এই বজ্র যা একবার অসুর তৃষিরা সুর এর সাথে যুদ্ধে ধ্বংস হয় |

আজ এই পর্বে দেবরাজ ইন্দ্রের অস্ত্র বজ্র নিয়ে আলোচনা করবো, অসুর দের মধ্যে এক ভয়ঙ্কর অসুর ছিলো বৃত্যা সুর যার সাথে ভীষণ যুদ্ধ হয়েছিলো দেবরাজ ইন্দ্রের|এই যুদ্ধের সাথে জড়িত বজ্র নির্মাণের ইতিবৃত্ত|

ত্রিশিরাকে বধ করলে তার পিতা ত্বষ্টা ত্রুদ্ধ হয়ে ইন্দ্রকে বিনষ্ট করার জন্য অগ্নিতে আহুতি দিয়ে বৃত্রাসুরকে উৎপন্ন করেন। বহুকাল যুদ্ধ করেও বিত্রাসুরকে পারাজিত করতে পারলেন না দেবতারা|অবশেষে ঋষিরা বৃত্রকে ইন্দ্রের সঙ্গে সন্ধি করার প্রস্তাব দিলে বৃত্র সব শুনে বললেন যে, তিনি তাতে রাজি আছেন। কিন্তু ঋষিদের কথা দিতে হবে যে, শুষ্ক বা আদ্র্র বস্তু দ্বারা, প্রস্তর কাষ্ঠ বা অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা, দিবসে বা রাত্রিতে ইন্দ্র অথবা অন্যদেবতারা ওঁকে বধ করতে পারবেন না। ঋষিরা তাতে রাজি হলে সন্ধি স্থাপিত হল।অর্থাৎ দেবতা দের সব অস্ত্র সস্ত্র বৃত্যাসুর কে বধ করার ক্ষমতা হারালো|

এদিকে ক্রমে বৃত্যাসুর যখন অত্যাচারি হয়ে উঠতে লাগলো এবং এক সময় তাকে বধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় রইলো না, কিন্তু অস্ত্র নেই | তখন ঋষিরা একটা উপায় বাতলালেন | কোনো ত্যাগী এবং তেজময় সন্যাসীর অস্থি থেকে অস্ত্র তৈরী করে বৃত্যাসুর কে বধ করতে হবে

ত্যাগের জন্য সদা প্রস্তুত সেই বৈদিক ঋষি হলেন দধীচি | ভগবত্‍ পুরাণ অনুযায়ী তিনি অথর্বন ঋষি ও চিতির পুত্র ছিলেন তিনি|দেবতারা দধীচীর কাছে তার অস্থি চাইলেন | এই অনুরোধ শুনে দধীচি নামক এই মহামুনি সাধক আত্মত্যাগ করতে রাজি হন। দধীচিকে হত্যা করা হয় এবং তার দেহের হাড় দিয়ে বৃত্তাসুরকে হত্যার জন্য ইন্দ্রের জন্য একটি বিশেষ বজ্র তৈরি করা হয়|তার পর ইন্দ্র ও বৃত্তাসুরের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ হলো |অবশেষে সেই বজ্র দিয়ে ইন্দ্র বৃত্যাসুর কে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং হত্যা করেন |

বজ্র মূলত অনন্ত শক্তি ও অসীম দৃঢ়তার প্রতীক যা দেবরাজ ইন্দ্রকে কঠোর হাতে স্বর্গ রাজ্য পরিচালনা করতে এবং দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন করতে সাহায্য করে|আগামী পর্বে আবার নতুন কোনো অস্ত্রের কথা লিখবো|পড়তে থাকুন আর যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রশ্ন বা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে আপাতত অনলাইনে ভাগ্যবিচার ও প্রতিকার প্রদানের সহজ ব্যবস্থা রয়েছে এবিষয়ে সরাসরি কথা বলতে পারেন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

মন্দির রহস্য – কলকাতায় বনবিবির মন্দির

বাংলায় পূজিত লৌকিক দেব দেবী দের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হলেন বন বিবি, তবে অনেকেই ভাবেন এই বনবিবি মূলত দক্ষিণ বঙ্গের সুন্দর বনের অধিষ্টাত্রী দেবী, মূলত দক্ষিণ রায়ের সাথেই তার নাম উচ্চারিত হয়ে আসছে যুগ যুগ থেকে, বিপদ সংকুল সুন্দরবনের মানুষ যেকোনো বিপদ থেকে বাঁচতে বনবিবির স্মরণ নেন|কিন্তু শুনলে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন এই খাস কলকাতা তেই রয়েছে এক বন বিবির মন্দির|কিন্তু কেনো|এই রহস্য নিয়েই লিখবো আজকের পর্বে|

লৌকিক কিংবদন্তী অনুসারে বনবিবি মক্কার এক সুফি ফকিরের কন্যা। ফকিরের দুই বউ। প্রথম বউয়ের দেওয়া শর্তে, ঘটনাক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজ দুই ছেলেমেয়েকে ফকির রেখে আসতে বাধ্য হন গহন বনে । পরে অবশ্য ছেলেটিকে ঘরে নিয়ে যান, ফকির কিন্তু একা মেয়ে বড় হয় জঙ্গলে এক হরিণী-মায়ের কাছে এবং ক্রমে তিনিই হয়ে ওঠেন বনবিবি|এই বনবিবি যথার্থ অর্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অদ্ভুত নিদর্শন যাকে হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ভক্তি করেন|

আসলে এক কালে দক্ষিণের সাগর-ছোঁয়া জল-জঙ্গল বিস্তৃত ছিল আদিগঙ্গার পাড় অবধি যা বয়ে যেতো দক্ষিণ কলকাতার গা ঘেঁষে|খাঁড়ি, বাদাবন আর মউলি-মেছুয়ার জঙ্গলে দাপানো ‘বড় মিঞা’ বা ‘দক্ষিণ রায়’-এর রাজত্ব গড়িয়েছিল এখানেও। সেই দক্ষিণ রায়ের তর্জন-গর্জন থেকে বাঁচাবেন কে, এক বনবিবি ছাড়া তাই এই অঞ্চলেও গড়ে উঠেছিল বনবিবির মন্দির|

বর্তমানে এইসব অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবর্তন হয়েছে, আধুনিক হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা|কিন্তু এখনো সেই প্রাচীন লৌকিক পরম্পরাকে ধরে রেখেছে এই সুপ্রাচীন বন বিবির মন্দির|

আপাতত এই পর্বে এইটুকুই|আগামী পর্বে লিখবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা|পড়তে থাকুন|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে চাইলে উল্লেখিত নাম্বারে একবার ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – ভূতবাবার মন্দির

আজ অনেক দিন পর একটি নতুন মন্দির রহস্য পর্ব নিয়ে আমি আবার আপনাদের সামনে, আজ লিখবো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় অবস্থিত ভূত বাবার মন্দির নিয়ে|

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আদিগঙ্গার তীরে কৃষ্ণমোহনপুরে ‘ভূতবাবা-র’ থানটি অবস্থিত। এই অঞ্চলের লোকেরা এই থানকে ছোটকাছারী বলে ডাকেন|এই ছোটো কাছারি বলার কারন বিখ্যাত বড়ো কাছারী মন্দিরের সাথে এই মন্দিরের একটি সম্পর্ক আছে|এই বড়ো কাছারি মন্দির নিয়ে আমি আগেই একটি লিখেছি|

জনশ্রুতি শোনা যায় যে অতীতে বিষ্ণুপুরের বড়কাছারী নিকট যেতে হলে অনেক রাস্তা হাঁটতে হত। পথ ছিলো বিপদ সংকুল ও দুর্গম সেই কারণে অতীতে কোন এক ভক্ত এই থানটি তৈরী করে দেন এবং ছোটকাছারী নাম দিয়ে পূজা শুরু হয়|

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত দেবতা ভূত বাবা আসলে একজন লৌকিক দেবতা, পুরান বেদ বা অন্য কোনো শাস্ত্রে এই দেবতার কোনো উল্লেখ নেই তবে স্থানীয় দের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রসিদ্ধ|অতীতে কোনো দেবতার মূর্তি ছিল না তবে
বতমানে ভূতবাবা-র যে মূর্তিটি রয়েছে সেটিতে তিনি সিংহাসনের উপর বামপদ ঝুলিয়ে বসে আছেন। দক্ষিণপদ বাম জানু উপর উপবিষ্ট। হাতে গলায় রুদ্রাক্ষ দেখা যায়। বিস্তৃত মোটা গোঁফ। দেবতার দুই হাত। এক হাতে গাঁজার কলকে। মাথায় চুল ও সৌম্যমুখ। ভূতবাবার ডানদিকে সহচর, বামদিকে নৃত্যরত আরেক সহচরী চোখে পড়ে|

মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে এক অতি প্রাচীন ও রহস্যময় শেওড়া গাছ, এককালে যখন এখানে কোন মূতি পুজো হত না। আদিতে এখানে একটি ‘শ্যাওড়া ‘ গাছকেই ভূতবাবার প্রতীক হিসাবে পূজিত হত|বহু মানুষ বিশ্বাস করেন এই শেওড়া গাছের গোড়ার মাটি ও শিকড়ের মধ্যে রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা|

ভূতবাবার বাত্‍সরিক পুজো হয় ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষে যেকোন শনিবার ধরে ।সেই দিন এখানে মেলা বসে।এছাড়া প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত পুজো হয়।বহু মানুষ আসেন এই মন্দিরের এবং তাদের মনোস্কামনা জানান ভূতবাবাকে|

এমন কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো পর্বে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা থাকলে উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে সরাসরি কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস

আজ ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস
বা International Yoga Day যা পালিত হচ্ছে।সারা বিশ্ব জুড়ে, ভারতের যোগের ইতিহাসে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন হলেও এই যোগ দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছেন মাত্র কয়েক বছর আগেই|

২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করে।

যোগ হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। এর মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করার কারণ হলো ‘‌এই তারিখটিতে উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন হিসেবেও পালন করা হয়। তাই এই বিশেষ দিনের তাৎপর্য রয়েছে।’‌

একাধিক প্রাচীন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে আজকের দিনে আদি যোগী তাঁর সবচেয়ে নিষ্ঠাবান সাত জন শিষ্যকে প্রথম দেখেন যাঁরা আলোকপাতের পথ প্রদর্শন না করা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এরপর পরবর্তী পূর্ণিমাতে আদি যোগী ওই শিষ্যদের যোগিক ক্রিয়া পদ্ধতি শেখাতে শুরু করেন। এটাই ছিলো প্রথাগত যোগ শিক্ষার সূচনা লগ্ন|

নিয়মিত যোগ অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন|আপনাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

অম্বুবাচী ও মহাপীঠ কামাখ্যা : দ্বিতীয় পর্ব

সামনেই অম্বুবাচী, ধরিত্রির ঋতুমতী হওয়ার এই সময় কে উৎসবের আকারে পালন করা হয় সারা দেশ জুড়ে তবে তবে যে মন্দিরে এই অম্বুবাচী এক অন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা পায় সেটি হলো পূর্ব ভারতের অন্যতম শক্তি পীঠ আসামের কামাখ্যা মন্দির|কামাখ্যায় কেনো অম্বুবাচী এতো গুরুত্ব সহকারে ও নিষ্ঠা সহ পালন হয় তার কিছু শাস্ত্রীয় কারন আছে|

নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির হচ্ছে ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। পুরান মতে দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল। এ কারণেই প্রতিবছর এখানে মহা সমারোহে অম্বুবাচী পালিত হয়|আজকের পর্বে কামাখ্যা মন্দিরের ইতিহাস ও ধর্মীয় তাৎপর্য সংক্ষেপে আপনাদের সামনের তুলে ধরবো

আগেই বলেছি শাস্ত্রে বর্ণিত ৪টি আদি শক্তি পিঠগুলির মধ্যে, কামাখ্য মন্দিরটি বিশেষ কারণ দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল এবং এইভাবে দেবী কামাখ্যাকে উর্বরতার দেবী বা “রক্তক্ষরণকারী দেবী” বলা হয়|মূল কামাখ্যা মন্দিরটি যে কতো প্রাচীন ও কবে কেমন নির্মাণ করেছিলেন তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল তবে হিউ এন সাং এর লেখাতেও এই মন্দিরের উল্লেখ আছে|

ইতিহাসের কুখ্যাত চরিত্র কালাপাহাড় থেকে শুরু করে একাধিক বার একাধিক বৈদেশিক শত্রুর হাতে এই মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোচ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বসিংহ এই ধ্বংসাবশেষ খুজে পান তিনি এই মন্দির সংস্কার করেন এবং তিনিই এই মন্দিরে পূজার পুনর্প্রবর্তন করেন|পরবর্তীতে আসামের রাজারা এই মন্দিরের দায়িত্বভার গ্রহন করেন|

কালিকা পুরাণের মতে, কামাখ্যা মন্দিরে
সতী শিবের সঙ্গে বিহার করেন,যোগিনী তন্ত্রে অবশ্য কামাখ্যাকে কালী বলা হয়েছে
তবে কালিকা পুরাণ অনুসারে, কামাখ্যায় পূজা করলেসকল ইচ্ছা পূর্ণ হয়। প্রাচীন কাল থেকে কামাখ্যার পূজা বামাচার ও দক্ষিণাচার উভয় মতেই হয়।সাধারণত ফুল দিয়েই পূজা দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে পশুবলি হয়। স্ত্রীপশু বলি সাধারণত নিষিদ্ধ |

নীলাচল পর্বতে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দিরে চারটি কক্ষ আছে মূল গর্ভগৃহ ও তার সাথে তিনটি আলাদা আলাদা মণ্ডপ|গর্ভগৃহটি আসলে ভূগর্ভস্থ একটি গুহা। মুল গর্ভ গৃহে কোনো মূর্তি নেই। শুধু যোনি-আকৃতিবিশিষ্ট প্রস্তর খণ্ড ও ভূগর্ভস্থ প্রস্রবনটি আছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে অম্বুবাচী মেলার সময় কামাখ্যা দেবীর ঋতুমতী হওয়ার ঘটনাকে উদযাপন করা হয়। এই সময়ে অলৌকিক ভাবে গুহার মধ্যে প্রবাহিত প্রস্রবণ রক্তবর্নে রূপান্তরিত হয়|এই সময়ে পুজো বন্ধ থাকে ও মন্দিরের দ্বার সর্বসাধারণের জন্যে রুদ্ধ থাকে|
ভক্তরা বাইরে থেকে প্রার্থনা করেন ও নিজের মনোস্কামনা জানান|

পূর্ব ভারতের তন্ত্র সাধনার প্রান কেন্দ্র বলাযায় কামাখ্যাকে তবে এবছর হয়তো সরকারী বিধিনিষেধ থাকার ফলে কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচী উপলক্ষে সেই জন সমাগম চোখে পড়বে না, দেশ বিদেশ থেকে তান্ত্রিক ও জ্যোতিষীদের যে জমায়েত হতো এই সময়ে মন্দির চত্বরে তা হয়তো থাকবেনা|তবে অন্তরে ভক্ত ও শ্রদ্ধা থাকলে মাকে ডাকার জন্যে কোনো প্রতিবন্ধকতাই বাঁধা হতে পারেনা|আর সকল নিয়ম ও উপাচার মেনে এবছর ও আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সব ব্যবস্থা থাকবে|আপনারা ঘরে বসেই নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারেন, জ্যোতিষ ও তন্ত্র শাস্ত্র মতে সমাধান করাতে পারেন|যুক্ত হতে পারেন এই আধ্যাত্মিক কর্ম কাণ্ডের সাথে|প্রয়োজন মনে করলে নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন ধন্যবাদ|

অম্বুবাচী ও মহা পীঠ কামরূপ কামাখ্যা

অম্বুবাচী ও পূর্ণিমা মিলিয়ে মিলিয়ে সময় টি আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দিক থেকে বেশ তাৎপর্য পূর্ন, দীর্ঘ তিরিশ বছরের পেশা দার জ্যোতিষ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি জীবনের যাবতীয় সমস্যা দুর করে জীবন কে সুন্দর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সঠিক জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এই সময়কাল বা বিশেষ গ্রহগত সংযোগ, এই সময়কে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়|তাই জ্যোতিষ শাস্ত্রে যাদের বিশ্বাস আছে, যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেবো নেবো করেও ঠিক নিয়ে উঠতে পারছেন না তারা আর দেরি করবেন না এগিয়ে আসুন, কাজে লাগান এই বিশেষ সময় কে নিজের বাড়িতে বসেই|

আজ জানবো শক্তি পীঠ কামাখ্যা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা প্রথা, কিংবদন্তি ও তার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা|এই বিশেষ স্থানটি অম্বুবাচী উৎসবের সাথে বিশেষ ভাবে সংযুক্ত তাই একটি গোটা পর্বজুড়ে এর তাৎপর্য জানা প্রয়োজন বলে মনে হয় নাহলে অনেক কথাই হয়তো না বলা থেকে যাবে|

আমার একান্ন পীঠ নিয়ে লেখা পর্ব গুলির মধ্যে একটি পর্বে কামাখ্যা নিয়ে বিশদে আলোচনা করেছিলাম|পুরান মতে দেবী সতীর গৰ্ভ ও যোনি পতিত হয়েছিল এই স্থানে এই কারণে এই দেবীকে অনেকে উর্বরতার দেবী বা রক্ত ক্ষরণ কারী দেবীও বলে থাকেন|তাই স্বাভাবিক ভাবেই অম্বুবাচী যা দেবীর ঋতু মতি হওয়ার উৎসব এই স্থানে সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে পালন হয়|অম্বুবাচীর দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন দেবীর মন্দির বন্ধ থাকে|এই সময় দেবীর দর্শন নিষিদ্ধ|এই সময়ে একটি লাল কাপড় দিয়ে দেবী কে ঢেকে রাখা হয়, ভক্তরা মন্দিরের বাইরে থেকে দেবীকে প্রনাম করেন ও নিজের মনোস্কামনা ব্যক্ত করেন|অম্বুবাচীর চতুর্থ দিন থেকে দেবীর স্নান এর পর তার দর্শন ও স্বাভাবিক পূজা প্রক্রিয়া পুনরায় আরম্ভ হয়|এই পরম্পরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে|অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর দেবীর রক্ত বস্ত্র ভক্ত দের মধ্যে দান করা হয়, প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই রক্ত বস্ত্র লাভ করলে জীবনের অনেক সমস্যা দুর হয় ও বহু মনোস্কামনা পূর্ন হয়|

প্রতি বছর অম্বুবাচী উপলক্ষে আসামের কামাখ্যায় দেশের সর্ব বৃহৎ উৎসবটি আয়োজন করা হয় যা অম্বুবাচী মেলা নামে প্রসিদ্ধ|এই মেলা উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে বহু তীর্থ যাত্রী এসে জড়ো হন কামাখ্যায় আর আসেন অসংখ্য সন্ন্যাসী ও তন্ত্র সাধক|ব্যাপক জন সমাগম হয় এই মেলায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যায় প্রতি বছর|এই উৎসব ও মেলা পরিচালনার ভার থাকে ‘মা কামাখ্যা দেবালয়’ এর উপর|

দুক্ষের বিষয় হয়তো ইতিহাসে এই প্রথমবার ধুমধাম করে পালন হবে না এই অম্বুবাচী মেলা কারন করোনা আতঙ্ক এখনো কাটেনি, তাই জারি রয়েছে কিছু নিদ্দিষ্ট বিধি নিষেধ|তবুও মা কামাখ্যার অগনিত ভক্ত দের কাছে এটা একটা বিশেষ সময়,অন্তরে তারা মাকে ডাকবে আর নিজেদের মনোস্কামনা জানবে|আমরা আশা রাখবো আগামী বছর আবার মহা সমারোহে, যাকজমকপূর্ন ভাবে পালিত হবে অম্বুবাচী উৎসব ও মেলা|

আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি খুব শিগ্রই ফিরে আসছি অন্য লেখা নিয়ে,দেখতে থাকুন আমার টিভির ও ইউটিউব এর অনুষ্ঠান আর যোগাযোগ করুন যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা ও পরামর্শর জন্য, সঠিক জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার আপনারা জীবন পাল্টে দিতে পারে|অম্বুবাচী উপলক্ষে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|বিশ্বাস রাখুন, ভালো থাকুন |ধন্যবাদ|

অম্বুবাচী – প্রথম পর্ব

আগামী সাতই আষাঢ় অর্থাৎ 22 এ জুন এবছর অম্বুবাচী|আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে অম্বুবাচী কালের সূচনা হয় হন|শুরুর দিনটি অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও ও শেষের দিনটি হলো অম্বুবাচী নিবৃত্তি|পৃথিবী আমাদের কাছে কোনো জড় বস্তু নয় আমরা আগাগোড়াই প্রথিবী কে এক দেবী বা মাতৃ রূপে দেখি ও পূজা করি তাই স্বাভাবিক ভাবেই এক নারী যেমন সন্তান ধারনের পূর্বে ঋতুমতী হয় ধরিত্রী ও তেমন ফসল উৎপাদনের পূর্বে রজঃস্বলা হয় ও পরবর্তীতে ফসল উৎপাদনের জন্য আরো বেশি উর্বর হয়ে ওঠে|এই সময়ে কৃষকরা কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ধরিত্রী কে বিশ্রাম দেন|ধরিত্রীর এই ঋতুমতী হওয়াকেই অম্বুবাচী হিসেবে পালন করা হয়|

আমাদের দেশে যেকোনো ধার্মীক ও আধ্যাত্মিক ঘটনাই উৎসবের আকার নেয়,এর প্রধান কারন মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা তার সাথে অবশই জড়িয়ে আছে বহু প্রাচীন কিছু রীতি নীতি ও পরম্পরা|অম্বুবাচীও তার ব্যতিক্রম নয়|সারা দেশে নানা স্থানে নানা ভেবে উৎসব ও উদ্দীপনার মাধ্যমে পালন করা হয় অম্বুবাচী, আজ এই ধারাবাহিক লেখনীর তৃতীয় পর্বে আলোচনা করবো সেই সব বর্ণময় উৎসব নিয়ে, জানবো কোথায় কিভাবে পালন হয় অম্বুবাচী|

অম্বুবাচী উপলক্ষে উড়িষ্যায় ভূদেবীর বিশেষ পূজা মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয় ও ব্যাপক জন সমাগম হয়|ভূদেবী কে উড়িষ্যায় স্বয়ং জগন্নাথ দেবের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয়|এই দেবীর ঋতুমতী হওয়ার সময় কাল কে চারদিনের রজ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়|চারদিনের এই উৎসব কে চারটি আলাদা পর্যায় উদযাপন করা হয় প্রথম দিনকে বলা হয় পহিলি রজ। দ্বিতীয় দিন মিথুন সংক্রান্তি| তৃতীয় দিন ভূদহ বা বাসি রজ এবং চতুর্থ দিন বসুমতী স্নান। প্রাচীন কাল থেকে এই চার দিনব্যাপী উত্সব উদযাপিত হয়ে আসছে উড়িষ্যায়|এনিয়ে মেতে ওঠেন রাজ্যবাসী|নারীর ঋতু চক্র কে প্রাকৃতিক নিয়ম হিসেবে মেনে নিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এই উৎসবের মাধ্যমে|

অম্বুবাচী উপলক্ষে গ্রামবাংলার বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে ব্রত রাখেন|দেশ তথা বাংলার প্রায় সব গুলো শক্তি পীঠেই নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন হয় ও সেই উপলক্ষে বিশেষ উৎসব এবং কোথাও কোথাও মেলার আয়োজন করা হয়|
এই প্রথা চলে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে|

অম্বুবাচী সব থেকে বৃহৎ ভাবে এবং জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে পালন করা হয় আসামে|দেশের অন্যতম শক্তি পীঠ কামরূপ কামাখ্যায় অম্বুবাচী একটি মহোৎসবের রূপ নেয়|কামাখ্যার অম্বুবাচী পালন নিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য, কিংবদন্তি ও গল্প যার সাথে জড়িয়ে আছে সনাতন ধর্মের বহু গূঢ় তত্ত্ব|
সে সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো তবে আজ নয়,পরের পর্বে|

অম্বুবাচিতে দেবী পুজো হয়না তবে অম্বুবাচী তন্ত্র সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত তিথি|এবছর এই তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের সকল ব্যবস্থা থাকবে|সঙ্গে থাকুন আর অবশই এই বিশেষ সময়ে সঠিক বিধি মেনে,সঠিক জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের মাধ্যমে নিজের জীবনের যাবতীয় বাধা বিপত্তিকে দূরে সরিয়ে জীবনে সফল হন,তার জন্য আমি আপনাদের সাথে, আপনাদের পাশে প্রয়োজন মনে করলেই ফোন করুন উপরে দেয়া নাম্বারে বাকিটা আমার ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের উপর ছেড়ে দিন আর আস্থা রাখুন ঈশ্বরে|ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন|ধন্যবাদ | 

জামাই ষষ্ঠীর শুভেচ্ছা

আজ জামাই ষষ্টি, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের এও এক অন্যতম পার্বন|আজকের দিন টায় জামাই রা তাদের শশুর বাড়িতে যান নতুন পোশাকে সেজে উপহার নিয়ে, আবার শশুর বাড়ির পক্ষ থেকেও জামাইকে আপ্যায়ন করা হয় উপহার দিয়ে|আরো উপাচার আছে যা এই দিন বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয়|তবে এতো গেলো উৎসবের বাহ্যিক দিক|আসলে এই জামাই ষষ্ঠীর একটি আধ্যাত্মিক দিক আছে, ধর্মীয় ব্যাখ্যা আছে|

জামাই ষষ্টি নিয়ে সুন্দর লোককাহিনী প্রচলিত আছে বহু প্রাচীন কাল থেকে, কথিত রয়েছে, একবার এক গৃহবধূ স্বামীর ঘরে নিজে মাছ চুরি করে খেয়ে দোষ দিয়েছিলেন বিড়ালের উপর। ফলে তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। তাঁর পাপের ফলেই এই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। তখন সেই মহিলা বনে গিয়ে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনা শুরু করেন৷ দেবী তুষ্ট হন৷ ফলে বনেই তিনি নিজের সন্তানকে ফিরে পান। এই জন্যই ষষ্ঠীদেবীর অপর নাম অরণ্যষষ্ঠী। এদিকে মাছ চুরি করে খাওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি ওই বধূর পিতৃগৃহে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এই অবস্থায় মেয়েকে দেখার জন্য ব্যাকুল মা-বাবা একবার ষষ্ঠীপুজোর দিন জামাইকে সাদরে নিমন্ত্রণ জানান। জামাইষষ্ঠী পুজোর দিনে সস্ত্রীক উপস্থিত হলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় বাড়িতে।ষষ্ঠীপুজো রূপান্তরিত হয় জামাইষষ্ঠীতে।

অর্থাৎ ষষ্ঠীদেবীর পার্বণ থেকে এই প্রথার উদ্ভব।
শাস্ত্রে বর্ণনা আছে, ষষ্ঠীদেবী দ্বিভুজা, দুনয়না, গৌরবর্ণা, দিব্যবসনা, সর্বসুলক্ষণা ও জগদ্ধাত্রী শুভপ্রদা। তিনি মাতৃত্বের প্রতীক। বিড়াল তাঁর বাহন। মূলত সন্তানের কল্যাণ ও সংসারের সুখ-শান্তি নিশ্চিত করাই এই পুজোর উদ্দেশ্য|

সঠিক ভাবে সূচনা কাল বলা মুশকিল তবে মনে করা হয় বৈদিক যুগ থেকেই জামাইষষ্ঠী পালন
হয়ে আসছে। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী তিথিতে প্রথম প্রহরে ষষ্ঠী পুজার আয়োজন করা হয়। ষষ্ঠীর প্রতিমা কিংবা আঁকা ছবিতে পুজা নিবেদন করা হয়। কেউ কেউ ঘট স্থাপন করেও এই পুজো করে থাকেন।

বাঙালি হিন্দুসমাজে এ উৎসবের সামাজিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশেষত যে পরিবারে সদ্য বিবাহিতা কন্যা রয়েছে সেই পরিবারে এই পার্বণটি ঘটা করে পালন করা হয়। পুজোর সময় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পৃথক মালসার মধ্যে নতুন বস্ত্র, ফলফলাদি, পান-সুপারি, ধান-দূর্বা ও তালের পাখা রাখা হয়। ভক্তরা উপোস রেখে মায়ের পূজা করেন। মালসা থেকে নতুন বস্ত্র পরিধান করে ফলফলাদি খেতে হয়।

আনন্দে কাটান জামাই ষষ্টি, অনেক শুভেচ্ছা 

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র – খড়গ

সামনেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি অম্বুবাচী, এই তিথিতে তন্ত্রে ও জ্যোতিষ জগতের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ পূর্ণতা পায়|যদিও শাস্ত্র মতে এই সময়ে একটি বিশেষ কারনে কয়েকটিদিন দেবীর পুজো বন্ধ থাকে কিন্তু কামাখ্যা তারাপীঠ সহ একাধিক স্থানে অসংখ্য তান্ত্রিক ও জ্যোতিষীরা সমবেত হন, বিশেষ যজ্ঞ ও পুজো পাঠের মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডন ও হয়|এবছর মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরেও বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা থাকবে|যাই হোক এবার আসি আজকের পর্বে|আজ লিখবো মা কালীর অস্ত্র খড়গ নিয়ে|

কাল-এর স্ত্রীলিঙ্গ কালী। কাল বলতে বোঝায় সময়। অর্থাৎ অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যতকে যিনি কলন করেন তিনি মহাকাল। আর সেই মহাকালের নিয়ন্ত্রক যিনি, তিনিই মহাকালী। এই কালী যে নরমুণ্ড মালা ধারন করেন তা আসলে মানুষের অহং ছিন্ন করার প্রতীক। তাঁর এক হাতে তাই অস্ত্র হিসেবে থাকে খড়গ এই খড়গ দিয়েই তিনি মানুষের যাবতীয় অহং কে সমাপ্ত করেন এবং প্রয়োজনে দুষ্টের দমন করেন|খড়গে আঁকা চোখ অনন্ত জ্ঞানের তথা প্রজ্ঞার প্রতীক।

শুধু কালী নয় রাবনের ও খড়গ ছিলো, সে নিয়ে একটি পৌরাণিক ঘটনাড় উল্লেখও করা যায় এই প্রসঙ্গে, সর্বক্ষণ শিবের সান্নিধ্য পাওয়ার লক্ষ্যে একবার রাবন কৈলাস পর্বতকে লংকায় প্রতিস্থাপনের জন্য নিজ তপোবলের দ্বারা দুই হস্তে তুলে নেন তখন মহাদেব তাঁর পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি কৈলাসে স্পর্শ করলে রাবণের দুইহাত কৈলাসে চাপা পড়ে যায়। রাবণ তখন প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকেন এবং শিবকে শান্ত করার নিমিত্তে একটি গীত রচনা করেন যা পরে “শিবতান্ডব স্ত্রোত্র” নাম পরিচিত হয়। শিবের ক্রোধ শান্ত হয় এবং মহাদেব রাবনকে চন্দ্রোহাস নামক একটি খড়গ উপহার দেন|

বাস্তু শাস্ত্র মতে দেবীর খড়গ যদি গৃহের প্রধান দরজাড় উপর রাখা যায় গ্রহের কল্যাণ হয় ও কোনো রকমের অশুভ শক্তি গৃহে প্রবেশ করতে পারেনা|আমাদের মহাকাব্য, পুরান, বেদ সহ একাধিক শাস্ত্রে অস্ত্র হিসেবে খড়গের উল্লেখ আছে, প্রাচীন সমরাস্ত্র হিসেবে খড়গ অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকরী|আজও যেখানে যেখানে যেখানে বলীপ্রথা প্রচলিত আছে সেখানে বলীর অস্ত্র হিসেবে খড়গই ব্যবহার হয়|দেবীকে তুষ্ট করতে তার আশীর্বাদ পেতে অনেক ভক্ত আজও দেবীর উদ্দেশ্যে মূলবান খড়গ দান করে থাকে|এক কথায় দেবী কালীর অত্যন্ত প্ৰিয় তারপর খড়গ|

আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো অস্ত্র নিয়ে লিখবো জানবো তার ব্যাখ্যা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা নানা পৌরাণিক কাহিনী|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ| 

দেবতাদের অস্ত্র শস্ত্র – ত্রিশূল

বিগত ফল হারিনীর কর্মব্যাস্ততা ও মন্দিরের কাজকর্ম শেষ করে আপাতত আবার লেখালেখিতে কিছুটা মননিবেশ করেছি, নিয়ে এসেছি একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারাবাহিক লেখনী দেবতাদের বিচিত্র সব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, প্রথম পর্ব ছিলো বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র নিয়ে আজ দ্বিতীয় পর্ব লিখবো ত্রিশূল নিয়ে|

ত্রিশূল বলতেই প্রথমে মনে ভেসে ওঠে দেবাদিদেব মহাদেবের নাম|পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু যিনি নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি স্বয়ং কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র, এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমায় বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যপত্নী সংজ্ঞাও কিছুটা স্বস্তি পান|

ত্রিশূল শুধু শিবের নয় দেবী দূর্গারও অস্ত্র কারন
মহিষাসুর বধের জন্য বিভিন্ন দেবতা যখন দেবীকে বিভিন্ন অস্ত্রদান করেন তখন ভগবান শিব তাকে এই ত্রিশূলটি দান করেছিলেন,দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল দিয়েই বধ করেন|আবার ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে|

ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় সনাতন ধর্মে ত্রিশূল সমৃৃদ্ধির প্রতীক আবার ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|

শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত|বৈদিক বাস্তু শাস্ত্রেও ত্রিশূল ব্যাবহার হয়|বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|

আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|জানাবেন কেমন লাগছে এই নতুন ধারাবাহিক লেখা|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজের জন্যে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|