বাংলার কালী – মা সিদ্ধেশ্বরী

268

প্রতিবছর এই সময় অর্থাৎ এই ফলহারিনী অমাবস্যার আগের সময়টা পেশাগত ব্যাস্ততা প্রায় তুঙ্গে থাকে কারন এই সময় তন্ত্র ও জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজের জন্যে শ্রেষ্ট সময়,জ্যোতিষ শাস্ত্রে তিথি নক্ষত্র সব সময় গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কোনো তিথীতর তুলনায় এই বিশেষ তিথি গুলিতে প্রতিকার গ্রহণ বা গ্রহ দোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী হয়|তাই বহু মানুষে যোগাযোগ করেন, তাছাড়া মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই অমাবস্যায় মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহদোষ খণ্ডনে অংশ নেন বহু মানুষে|সশরীরে না হলেও প্রযুক্তির ব্যাবহারে বহু দূর থেকেও অনেক মানুষ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন এবং উপকৃত হন|এবছর ও ব্যাতিক্রম নয়|তবু এই বাবস্ততার মধ্যেও আজ বাংলার কালী নিয়ে লিখবো, লিখবো কালনার বিখ্যাত সিদ্ধেশ্বরী মায়ের কথা|

প্রাচীন তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসাবে এই অঞ্চলের উল্লেখ আছে বহু প্রাচীন গ্রন্থে, আসল মন্দির এখানে কবে তৈরি হয়েছিলো ঠিক জানা যায়না, তবে আনুমানিক ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দে বর্ধমানের জমিদার চিত্রসেনের আমলে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়|মনে করা জৈনদেবী অম্বুয়া বা অম্বিকাই পরে সিদ্ধেশ্বরীতে রূপান্তরিত হয়েছেন এবং বর্তমানে এখানে সিদ্বেশ্বরী কালী রূপে পূজিতা হন, আবার অন্য একটি মত অনুসারে সিদ্ধেশ্বরী দেবীকে বিখ্যাত মাতৃ সাধক অম্বরীশের আরাধ্য দেবী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়|

এই মন্দিরে দেবী মূর্তি নির্মিত নিমকাঠ দিয়ে।
দেবী এখানে বামাকালী মূর্তিতে বিরাজমান, দেবী শবরুপী শিবের উপর ভয়ঙ্করী রূপে দণ্ডায়মান |
বহু প্রাচীন রীতি অনুসারে সারা বছর দেবীকে দর্শন করা গেলেও শুধুমাত্র কোজাগরী পূর্ণিমার পরের কৃষ্ণা পঞ্চমী থেকে কৃষ্ণা ত্রয়োদশী পর্যন্ত দেবী দিগম্বরী থাকেন বলে ওই সময়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে পুজো হয় তবে বাইরে থেকে|

মন্দিরের বাইরে রয়েছে একটি রহস্যময় বিরাট পুকুর যার নাম অম্বিকা পুকুর|শোনা যায় এক কালে পুকুরের জলের মধ্যে রাখা থাকত প্রচুর বাসনপত্র। গরিব মানুষ সেই বাসনপত্র বিয়ে বা অন্য কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করে, ফের জলের মধ্যে রেখে যেতেন। মন্দিরের নানা কাজে ওই পুকুরের জলই ব্যবহার করা হত। ওই পুকুরেই ছাগ স্নান করিয়ে মন্দিরে নিয়ে আসা হত বলির জন্য|

এক কালের তন্ত্র সাধনার জন্যে বিখ্যাত সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দির বর্তমানেও সমান প্রসিদ্ধ ও বহু মানুষের আস্থার স্থল|প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা এবং ফলহারিনী অমাবস্যা উপলক্ষে এখানে বিশেষ পুজো হয় ও দূর দূর থেকে মানুষ আসেন দেবীকে দর্শন করতে, তার আশীর্বাদ নিতে ও নিজের মনোস্কামনা জানাতে|

আজ এখানেই শেষ করছি, আপনাদের জানিয়ে রাখি যারা আসন্ন ফলহারিনী অমাবস্যার এই বিশেষ সময়ে শাস্ত্র মতে নিজের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কাটাতে আগ্রহী, যারা আমার উপর এবং মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের উপর আস্থা রাখতে ও বিশেষ পুজোয় অংশনিতে চান তারা উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে একবারে সরাসরি আমার সাথে কথা বলে নেবেন| ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|