কবি গুরুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি

297

আজ বাইশে শ্রাবন অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়ান দিবস|বাঙালিরা পৃথিবীরা যে প্রান্তেই থাকুক দুটি তারিখ তারা কখনোই ভুলতে পারেনা এক পঁচিশে বৈশাখ এবং তারপর এই বাইশে শ্রাবন|আজকের দিনটি তাকে স্মরণ করার দিন, তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার দিন আর এই কাজ টা সাধারনত করা হয় তার গানের মাধ্যমে|তার কবিতার মাধ্যমে এবং তার জীবন দর্শন ও কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনারা মাধ্যমে|

রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিশ্ববাসি তথা বাঙালি কে নতুন করে আর কি বলার আছে তা ভাবার বিষয়|উনি শুধু বিশ্ব কবি নন বিশ্ব গুরুও বটে | সারা পৃথিবীতে এমন প্রতিভা খুব কমই জন্মেছে | শিল্প,সাহিত্য,আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কার,দর্শন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার অবাধ ও সফল বিচরণ |নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন মানব কল্যানে| তার জীবন ও কার্যকলাপ এক রহস্য, যেন বিশাল সমুদ্র তিনি, যার খুব সামান্যই আমরা দেখতে পাই|তার জন্মদিন ও মৃত্যু দিন দুটোই বাঙালির তেরো পার্বন এর সাথে জুড়ে যাওয়া দুটি উৎসব হিসেবে আজ পালন হয় গোটা বিশ্বের দরবারে |

কিন্তু কিকরে এলো একটি মানুষের মধ্যে এতো প্রতিভা, এ এক বিস্ময় | শুধু তার কর্ম ক্ষেত্র নয় ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ নাথ ও এক গবেষণার বিষয়, অসংখ্য শোক ও অফুরন্ত প্রান শক্তি এই দুয়ের সংঘর্ষ চলেছে তার সারা জীবন ধরে |নানা ভাবে তার জীবন ও কাজ কে ব্যাখ্যা করা হয়| ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তাকে নিয়ে লিখেছি|তার প্রেত চৰ্চা নিয়ে|তার রসবোধ নিয়ে|আলোচনা করেছি তার আধ্যাত্মিক চেতনা নিয়ে এমনকি তার জন্মছক বিশ্লেষণ ও করেছি|তবু তাকে নিয়ে লেখা বলা যেনো শেষ হতে চায়না|তিনি এক বিরল এবং বিস্ময় প্রতিভা যার আদি অন্ত খুঁজে পাওয়া মুশকিল|

ব্যাক্তিগত ভাবে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন আত্মার অমর তার সৃষ্টি বা ধ্বংস নেই,তিনি সকল ধর্মীয় গোড়ামির উর্ধে ছিলেন আবার ধ্যান ও প্রার্থনা সংগীত কে গুরুত্ব দিতেন |তিনি নির্দ্বিধায় বলতে পারতেন –

“তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছো আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনা জলে
করি হে ছলনা ময়ী “

রবীন্দ্রনাথ নাথ কে নিয়ে, তার সৃষ্টি কে নিয়ে গবেষণা চলছে, চলবে |আগামী দিনে হয়তো তাকে নিয়ে আরো নতুন নতুন তথ্য সামনে আসবে হয়তো নতুন করে আবিষ্কৃত তার প্রতিভার অন্য কোনো দিক| আপাতত তার সৃষ্টিরা মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়ার এই প্রচেষ্টা চলতে থাকুক|প্রয়ান দিবসে গুরুদেবের চরনে রইলো প্রনাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি