Home Blog Page 151

ভাতৃদ্বিতীয়া ও পুরান

আজ সারা দেশ জুড়ে যে ভাই দুজ বা ভাতৃদ্বিতীয়া পালন হয় যাকে বাংলায় আমরা ভাইফোঁটা হিসেবে উদযাপন করি সেই উৎসবের সূচনা হয়েছিলো শ্রীকৃষ্ণর হাত ধরে, পুরান তাই বলছে|

পুরান অনুসারে ধনত্রয়োদশীর পরের দিন চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করলেন কৃষ্ণ। তার পর প্রাগজ্যোতিষপুর থেকে দ্বারকায় ফিরে এলেন এই দ্বিতীয়া তিথিতে। কৃষ্ণকে দেখে তার বোন সুভদ্রার উচ্ছ্বাস বাধা মানল না। তিনি বরাবরই কৃষ্ণের আদরের বোন। এই কয়েকদিন তিনি দাদাকে দেখতে পাননি। তার উপর আবার খবর পেয়েছেন সুভদ্রা, নরকাসুরের অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন কৃষ্ণ, সেই থেকেই তিনি ভাইয়ের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন, অতএব, দ্বারকা পৌঁছতেই কৃষ্ণকে তিনি বসালেন আসনে। তাঁর কপালে পরিয়ে দিলেন বিজয়তিলক। এবং, মুখমিষ্টি করালেন। সেই প্রথাই স্বীকৃত হল ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা নামে।

আজও চলে আসছে ভাইয়ের কল্যানে বোনদের এই বিশেষ উৎসব, আজ বাংলা প্রত্যেক বোনই তার ভাইয়ের কল্যানে তার কপালে তিলক পড়িয়ে দেন, মিষ্টি মুখ করান, এবং প্রার্থনা করেন যেনো তার ভাইয়ের থেকে দুরে থাকে সব বিপদ|প্রত্যেক বোন ও তার ভাইয়ের সম্পর্ক যেনো সুদৃঢ় হয় এই কামনাই করি, ভাতৃদ্বিতীয়ার অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ দীপাবলী

আজ দীপাবলী কারন ১৪ বছর বনবাসে কাটিয়ে আজ অযোধ্যা  ফিরেছিলেন রাম৷ তাই রামচন্দ্রের পথ আলোকিত করতে গোটা দেশ সেজে উঠেছিল আলোয়৷

আবার বাংলায় আজ কালী সাধনার দিন, কারন আজ দীপান্বিতা অমাবস্যা, মা কালী শাস্ত্রমতে শক্তির উপাসকদের দেবী। তার অপর নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। তন্ত্রশাস্ত্র মতে, তিনি দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত। তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান ১০ জন দেবীর মধ্যে প্রথম দেবী কালী। শাক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ মনে করেন।

দীপাবলী ও কালী পুজো দুই আসলে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় লাভের প্রতীক, রাম যেমন অশুভ শক্তির প্রতিনিধি রাবনকে হারিয়ে ছিলেন তেমনই দেবী কালী অসুর বধ করে সৃষ্টি রক্ষা করেছিলেন|

আজ এই অমাবস্যা তিথি তন্ত্র সাধনার দিন এই তন্ত্র ও মূলত ব্যবহার হয় অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করতে, এই অশুভ শক্তি বিশ্বব্যাপি হতে পারে, আমার আপনার জীবন কেন্দ্রিক হতে পারে, বাস্তু সম্পর্কিত ও  হতে পারে|

এবছর গুরুত্বপূর্ণ এই অমাবস্যা তিথিতে আমি উপস্থিত রয়েছি তারাপীঠে, সারাদিন চলবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ, দোষ খণ্ডন|সরাসরি সম্প্রচার দেখুন সোশ্যাল মিডিয়ায়|সঙ্গে থাকুন|দীপাবলীর অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

শুভ ধনতেরাস

নমস্কার আমি পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক, আজকের পর্বে আলোচনা করবো ধনতেরাস নিয়ে, জানবো এই উৎসবের সাথে জড়িত এক অদ্ভুত পৌরাণিক ঘটনা, এবং এই উৎসবের গুরুত্ব|প্রাচীন কালে ভারতবর্ষে এক রাজা ছিলেন, তার নাম ছিলো রাজা হিমা, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সে দিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়। পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। পরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালন শুরু হয়।দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উত্সব। এর আর এক নাম আছে— ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশী। ‘ধন’ শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষ্মীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস হয়। বলা হয়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান ও তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ দিন দামি ধাতু কেনেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এ দিন পূজিত হন|আজ সেই তিথি, আজ ধনতেরাস। মূলত অবাঙালিদের মধ্যে এর প্রচলন থাকলেও এখন বাঙালিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসব। এই উৎসবে মূলত সোনা কেনা হয়।ধনতেরাসের পরের দিন নরক চতুর্দশী বা ভূত চতুর্দশী।ভারতে ধনতেরাস উত্সব উদযাপিত হয় সোনা, রুপো বা বাসন কিনে। একে সৌভাগ্যের লক্ষণ বলা হয়। নতুন জামাকাপড়ও এ সময় কেনে মানুষ। এরপর করা হয় লক্ষ্মী পুজো। চারিদিকে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। পুজো হয় গণেশেরও।যেকোনো শুভ কাজের জন্যই এই তিথি ভালো|আপনারা যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নেয়ার কথা ভাবছেন চাইলে এই তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন|আগামী দীপাবলি উপলক্ষে তারাপীঠে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকবে|যেকোনো সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

কালী কথা – পর্ব আট

সামনেই দীপান্বিতা অমাবস্যা ওই বিশেষ তিথিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে,হবে হোম যজ্ঞ, পুজো, শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে গ্রহের প্রতিকার,বহু মানুষ উপস্থিত থাকবেন, সরাসরি সম্প্রচার ও হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়, তারই মাঝে সময় বের করে আজ কালী কথা নিয়ে আমি আবার উপস্থিত, কালী কথার আজকের পর্বে সংক্ষেপে বাংলার কালীপুজোর ইতিহাসকে আপনাদের সামনের আনার চেষ্টা করবো|প্রাচীন কালে বাংলায় কালী পুজো শুধু মাত্র ডাকাত ও শ্মশানবাসি তন্ত্র সাধকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো|বাংলায় নবদ্বীপের প্রথিতযশা তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে বাংলায় কালীমূর্তি ও কালীপূজার প্রবর্তক মনে করা হয়। তাঁর পূর্বে কালী উপাসকগণ তাম্রটাটে ইষ্টদেবীর যন্ত্র এঁকে বা খোদাই করে পূজা করতেন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় কালীপূজাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। বাংলার কালী পুজোর ইতিহাস অনুসারে চামুণ্ডা কালীর পূজা বাংলা ও বহির্বঙ্গে প্রাচীন উৎসব হলেও বর্তমান আকারে কালীপূজা আধুনিক কালের। ষোড়শ শতাব্দীতে নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ স্মার্ত পণ্ডিত তথা নব্যস্মৃতির স্রষ্টা রঘুনন্দন দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীপূজার বিধান দিলেও, কালীপূজার উল্লেখ করেননি। ১৭৬৮ সালে রচিত কাশীনাথের কালী সপর্যাসবিধি গ্রন্থে দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপূজার বিধান পাওয়া যায়। তবে খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে বাংলায় কালীপূজার প্রচলনের কিছু কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।ঊনবিংশ শতাব্দীতে কৃষ্ণচন্দ্রের পৌত্র ঈশানচন্দ্র ও বাংলার ধনী জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় কালীপূজা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।ধীরে ধীরে বনেদী বাড়ি গুলিতে দুর্গাপূজার পাশাপাশি কালী পুজোও আরম্ভ হয়|বর্তমানে কালীপূজা বাংলায় দুর্গাপূজার মতোই এক বিরাট উৎসব|শুধু উৎসব নয় এই তিথি তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তিথিএই তিথিকে ব্যবহার করে জীবনের সমস্যার সমাধান চাইলে অবশ্যই যোগাযোগ করুন আমার সাথে উল্লেখিত নাম্বারে বাকি টা আমি বলে দেবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা – সপ্তম পর্ব

তন্ত্রশাস্ত্রে কালী পুজো একটি অপরিহার্য বিষয়, তবে বিভিন্ন রূপে কালীকে পুজো করা হয়|কেউ আবার দশমহাবিদ্যা রূপ গুলির ও সাধনা করেন|তবে শাস্ত্রে আটটি ভিন্ন কালী রূপের উল্লেখ আছে এবং প্রতিটি রূপের আলাদা তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা আছে|

তন্ত্র পুরাণে দেবী কালীর একাধিক রূপভেদের উল্লেখ পাওয়া যায়। শাস্ত্র মতে, কালী আট প্রকার। দক্ষিণকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালিকা, শ্মশানকালিকা ও মহাকালী। আবার মহাকাল সংহিতার মতে, নয় প্রকার কালীর উল্লেখ পাওয়া যায়। দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, শ্মশানকালী, কালকালী, গুহ্যকালী, কামকলাকালী, ধণকালিকা, সিদ্ধিকালী, সিদ্ধিকালী, চণ্ডিকালিকা।

শক্তির দেবী হিসাবেই কালী পূজিত হন। সনাতন ধর্ম-মতে এর উল্লেখ মেলে। কালী-নাম মাহাত্ম্যে কাল-কে যদি আলাদা করে নেওয়া হয় তাহলে কাল-এর একাধিক অর্থ বের হয়। কাল মানে সময়, আবার কাল তথা কৃষ্ণবর্ণ। কাল-এর অর্থ-এ লুকিয়ে আছে সংহার- বা মৃত্যু ভাবনাতেও। কালীকে কাল অর্থাৎ সময়ের জন্মদাত্রী বলা যেতে পারে, আবার পালনকর্ত্রী এবং প্রলয়কারিণী নিয়ন্ত্রক বলা হয়।

দীপান্বিতা অমাবস্যা এই কালী সাধনার শ্রেষ্ঠ সময় এবং এই বছর এই দিনে তৈরি হচ্ছে এক মহা যোগ|আমি উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে|আপনারা যেকোনো সমস্যার তন্ত্রমতে সমাধানের জন্যে উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|

কালী কথা – ষষ্ঠ পর্ব

আজ কালী কথার এই পর্বে লিখবো কালী পুজোর বিশেষ করে তন্ত্র মতে পুজোর একটি অঙ্গ বলি নিয়ে, অনেকেই মনে করেন কালী পুজোর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, বলী প্রথা,এই চিন্তা ধারা ঠিক কি ভুল এই বিতর্কও বহু দিনের|সত্য যুগে বৈদিক আচার সম্পন্ন শুদ্ধ ব্রাহ্মনগণ যজ্ঞে বৃদ্ধ পশু আহুতি দিয়ে তত্ক্ষণাত্ মন্ত্রযোগে পশুর উন্নত নবজীবন দান করবার যথেষ্ঠ ক্ষমতা তাদের ছিল ।কিন্তু কলিযুগে বৈদিক আচারভ্রষ্ট ব্রাহ্মনদের সে ক্ষমতাই নেই । ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অবতার বুদ্ধদেব জগতে পশুবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন একটি সময়ে|শ্রীমদ্ভাগবত পঞ্চম, ষষ্ঠ ও একত্রিশ শ্লোকে বলা হয়েছে -“যারা পশুবলি দিয়ে ভৈরব বা ভদ্রাকালী প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করে , হিংসা কবলিত সেই পশু যমালয়ে রাক্ষস হয়ে ঘাতকের মতো সুতীক্ষ্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের বধ করে|বৈষ্ণব ঘরানায় পশু বলী বা রক্ত পাতের কোনো স্থান নেই কিন্তু তন্ত্রে আছে|আর কালী পুজো হয় তন্ত্র মতে|বেলুড় মঠে দূর্গা পূজার সূচনা কালে স্বামী বিবেকানন্দ চেয়ে ছিলেন পশু বলী দিতে কিন্তু মা সারদা বুঝিয়ে তাকে এই কাজ থেকে বিরত করেন অনেকেই মনে করেন আসলে বলী বা স্যাক্রিফাইস এর অর্থ হলো নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সড় রিপুর উপর জয় পাওয়া|বলীর সপক্ষে যারা তারা বলেন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার বলী এবং বলী প্রদত্ত পশু তার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মোক্ষ লাভ করে যা তার কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ এতে দুক্ষের কোনো কারন নেই|তবে বাংলার কালী পুজোয় বলীর ইতিহাস অতি প্রাচীন|এককালে ডাকাত রা নর বলী পয্যন্ত দিতো এবং বলী দিয়ে দেবীকে সন্তুষ্ট করে ডাকাতি করতে যেতো, রঘু ডাকাত, বিশে ডাকাত, চিতে ডাকাত এদের সবার পুজো তেই বলী হতো|বনেদী বাড়ির পুজো গুলোতেও বলী হতো|এখন অধিকাংশ জায়গায় থেকে বলী লুপ্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও কুমড়ো বা আখ বলী দিয়ে নিয়ম রক্ষা করা হয়|আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমি থাকছি তারাপীঠে, হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বহু মানুষের দোষ খণ্ডন|সরাসরি সম্প্রচার হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়|আপনিও চাইলে অংশগ্রহণ করতে পারেন, নিজের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কাটিয়ে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা

পর্ব পাঁচ

সনাতন ধর্মে শক্তির দেবী হিসাবেই কালী পূজিত হন। এই কালী শব্দের ও অনেক অর্থ,কাল-কে যদি আলাদা করে নেওয়া হয় তাহলে কাল-এর একাধিক অর্থ বের হয়। কাল মানে সময়, আবার কাল তথা কৃষ্ণবর্ণ। কাল-এর অর্থ-এ লুকিয়ে আছে সংহার- বা মৃত্যু ভাবনাতেও। কালীকে কাল অর্থাৎ সময়ের জন্মদাত্রী বলা যেতে পারে, আবার পালনকর্ত্রী এবং প্রলয়কারিণী নিয়ন্ত্রক বলা হয়। এবং সেই কারণেই দেবীর নাম কাল যুক্ত ঈ-কালী। সনাতন ধর্মে ঈ-কারের সৃষ্টি ও শব্দোচ্চারণ-কে উল্লেখ করা হয়েছে ঈশ্বরী বা সগুণ ও নিগুর্ণ ব্রহ্মকে উপলদ্ধি করার জন্য। আবার শ্রীশ্রী চণ্ডীতে উল্লেখ মেলে যে, ‘ইয়া দেবী সর্বভুতেষু চেতনেত্যাবিধীয়তে, নমস্তসৈ, নমস্তসৈ নমো নমোঃহ।’ এই কারণে অনেকেই কালী-কে ক্রোধাম্বিতা, রণরঙ্গিনী বা করালবদনা বলেও অভিহিত করে থাকেন।

কালী পুজোর সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তন্ত্র শাস্ত্রের, তন্ত্র সাধনায় তিনি অন্যতম আরাধ্যা দেবী এই শক্তি পূজায় যে পঞ্চমকার যথা- মদ্য-মাংস-মৎস্য-মুদ্রা-মৈথুন এর কথা পাই তার অর্থ লোকনাথ বসু তাঁর হিন্দুধর্ম মর্ম গ্রন্থে লিখেছেন, পঞ্চ ম কারের প্রথমটি অর্থাৎ মদ কেবল এক পানীয় নয়। তা আসলে ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে ক্ষরিত অমৃতধারা বা সাক্ষাৎ আনন্দ।

কালিকা উপনিষদও মদ্য বা কারণবারির এই অন্তর্নিহিত অর্থের দিকেই জোর দিয়েছে। তার নবম শ্লোকে বলা হয়েছে, পঞ্চমকারের বেদসম্মত আধ্যাত্মিক অর্থ বুঝে যিনি দেবীরর পূজা করবেন, তিনিই সতত ভজনশীল, তিনিই ভক্ত।

তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে কুলকুণ্ডলিনী জাগ্রত হলে খুলে যায়  মস্তিষ্কের উপরিতল বা ব্রহ্মরন্ধ্র। তখন যে আনন্দধারা প্রবহমান হয়, তাই আসলে মদ্য বা কারণ! আবার সাধকজীবন ও দশমহাবিদ্যা গ্রন্থে তারাপ্রণব ব্রহ্মচারীর মত, ‘মা মা’ বলতে বলতে যখন ভক্তি নেশার মতো থিতু হবে অন্তরে, তখন সেই মাদকতাকেই বলতে হবে মদ্য! তন্ত্রের আরো অনেক তত্ত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা নিয়ে আগামী দিনে আলোচনা করা যায়|

দীপান্বিতা অমাবস্যার তিথিগত গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষত গ্রহ দোষ খণ্ডন, তন্ত্রমতে নানা বিধ সমস্যার সমাধানের জন্যে এই তিথি শ্রেষ্ঠ|তাই যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষীরা, তান্ত্রিকরা  এই তিথিতে ছুটে আসেন তারাপীঠে, কামাখ্যায়|এবছর আমিও থাকছি তারাপীঠে|আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন নিজেদের জীবনের সমস্যা নিয়ে|শুধু একটি ফোন করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা

পর্ব চার

দেবী কালিকা বা কালীর সবচেয়ে জনপ্রিয় মূর্তিতে দেবীকে দিগম্বরী রূপে দেখা যায়। দেবীর এই মূর্তি অনেকের কাছে কৌতুহলের কারণ, অনেকের কাছেই কালী মূর্তি এক রহস্য, সেক্ষেত্রে এই দেবীরূপের প্রকৃত তাৎপর্য জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।আজ কালী কথার এই পর্বে দেবী মূর্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা করবো|

দেবীর কেশরাশি উন্মুক্ত, তাঁর এই মুক্ত কেশপাশ তাঁর বৈরাগ্যের প্রতীক। তিনি জ্ঞানের দ্বারা লৌকিক মায়ার বন্ধন ছেদন করেছেন। তাই তিনি চিরবৈরাগ্যময়ী।

কখনও দেবীকে গাঢ় নীল বর্ণেও কল্পনা করা হয়। তিনি গাঢ় নীল আকাশের মতোই অসীম। তাঁর নীল গাত্রবর্ণ সেই গগনসম অসীমতার ইঙ্গিতবাহী।

তার দিগম্বরী রূপের ও কারন আছে, তিনি বিশ্বব্যাপী শক্তির প্রতীক। তিনি অসীম। এই চিরশক্তিকে আবৃত করে এমন সাধ্য কোন বস্ত্রের রয়েছে! দেবী তাই দিগম্বরী।

দেবীর গলায় রয়েছে মোট ৫০টি মুণ্ডের মালা। এই মুণ্ডগুলি ৫০টি বর্ণ বা বীজমন্ত্রের প্রতীক। এই বীজমন্ত্রই সৃষ্টির উৎস।দেবী নিজে শব্দব্রহ্মরূপিনী।দেবীর কোমরের কাটা হাত গুলি কর্ম ও কর্ম ফলের ইঙ্গিত দেয়|

দেবী কালী কে নিয়ে এখনো অনেক কথা বলার আছে, দীপান্বিতা অমাবস্যা ও তন্ত্র শাস্ত্র নিয়েও লিখবো আগামী পর্ব গুলিতে|কিছু দিন পরেই দীপাবলিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠ মহাশ্মশানে, দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে হবে বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষের প্রতিকার,সরাসরি সম্প্রচার ও হবে যেমন হয়|নিজের সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন নির্দ্বিধায়|পোস্টে নাম্বার উল্লেখিত আছে ফোন করে সরাসরি কথা বলুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা

পর্ব তিন

দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমাদের ঘরে ঘরে পূজিতা হবেন দেবী কালী, এই দেবী কালীর পায়ের তলায় থাকেন দেবাদিদেব মহাদেবে|কিন্তু কেনো এই অবস্থান এবং কেনই বা এই রূপে দেবীকে আমরা পুজো করি সেই কোথায় বলবো কালী কথার এই পর্বে|

অসুরদের হারানোর পর প্রবল বিজয়নৃত্য শুরু করেন কালী। অসুরের ধরহীন মুণ্ড দিয়ে বানান কোমড়বন্ধ ও গলার মালা। কালীর উন্মাদ নাচে স্বর্গে তখন ত্রাহি-ত্রাহি রব। দেবতারা ফের ছুটলেন মহাদেবের কাছে। কারণ কালীর নৃত্যে সৃষ্টির লয় ধ্বংস হওয়ার পরিস্থিতি। ছুটলেন মহাদেব কালীর নাচ বন্ধ করতে। কিন্তু, মহাদেবের হাজারো কথাও শুনতে পেলেন না উন্মাদিনী কালী। উপায়ান্ত না দেখে মহাদেব এবার কালীর পা-এর তলায় নিজেকে ছুঁড়ে ফেলে দেন। পায়ের নিচে স্বামীকে পরে থাকতে দেখতে লজ্জিত হন কালী। লজ্জায় জিভ কাটেন তিনি। পৌরাণিক এই কাহিনি অবলম্বনে পূজিত হয়ে আসছেন কালী।

তাই কালীরূপ মানেই তাঁর নগ্ন-রূপ আর অসুরদের ধরহীন মুণ্ড-র কোমরবন্ধনী ও মালার সঙ্গে সঙ্গে পা-এর তলায় শিব।আবার একটু গভীরে গিয়ে ভাবলে মনে হবে শিব অর্থাৎ মহা কাল কে যিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ এ রাখতে সক্ষম তিনি কালী অর্থাৎ আদি শক্তি|কালী রূপের আরো অনেকগুলি দিক ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্ব গুলিতে পড়তে থাকুন|

জানিয়ে রাখি আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমি নিজে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে, অসংখ্য মানুষের গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে প্রতিকারের ব্যাবস্থা থাকবে|যারা যোগদান করতে আগ্রহী, কোনো সমস্যার সমাধানে আগ্রহী অবশ্যই যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালী কথা – পর্ব দুই

কালী কথার প্রথম পর্বে দেবী কালী সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কিছু শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে এনেছি, আজ দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করবো পুরান অনুসারে দেবী কালীর জন্ম বা সৃষ্টি তত্ব নিয়ে|

কালীর সৃষ্টি হয়ে ছিলো একটি বিশেষ উদ্দেস্যে |স্বর্গ তোলপাড় করে লন্ডভণ্ড করে দিচ্ছে অসুরের দল। দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের দখলের চেষ্টাও করছে তারা। দেবতাদের মধ্যে ত্রাহি-ত্রাহি রব। অসুরদের প্রধান রক্তবীজ-ৃএর ছিল ব্রহ্মার বর। যার জেরে রক্তবীজের শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত ভূতলে পতিত হলেই তা থেকে জন্ম নিচ্ছিল একাধিক অসুর।এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা দেবতারা|

এই বিপদ থেকে স্বর্গ-কে রক্ষা করতে এবং দেবতার মানসম্মান রক্ষার্থে অবতীর্ণ হন দেবীদুর্গা। সব অসুর দেবীদুর্গার হাতে নিহত হলেও ব্রাক্ষ্মার বরপ্রাপ্ত রক্তবীজ বারবার বেঁচে যায়।

অবশেষে ক্রোধাম্বিত দেবীদুর্গা তাঁর ভ্রু যুগলের মাঝ থেকে জন্ম দেন কালীকে। কালীর ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি আর নগ্নিকা রূপে নিহত হতে থাকে একের পর এক অসুর। রক্তবর্ণ লকলকে জিভ বের করে কালী গ্রাস করে নিতে থাকেন একের পর অসুর এবং তাদের রণবাহিনীকে। হাতি, ঘোরা সমতে অসুরের দলকে কালী গ্রাস করতে থাকেন। রক্তবীজকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তার শরীরের সমস্ত রক্ত পান করে নেন কালী। রক্তবীজের শরীর থেকে একফোঁটা রক্ত যাতে মাটিতে না পরে সেজন্য কালী তাকে শূন্যে তুলে নেন। রক্তবীজকে এক্কেবারে রক্তশূন্য করে দেহ ছুঁড়ে ফেলে দেন|শান্ত হল ব্রম্হান্ড |রক্ষা পেলো সৃষ্টি|

আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ ও তার মহাত্ম নিয়ে|এই পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি আগামী দীপান্বিতা অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন সম্পন্ন হবে|আগ্রহীরা আগাম যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|নমস্কার|