নাগপঞ্চমীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

282
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ নাগ পঞ্চমী|মহাভারত থেকে জানা যায়, কুরু বংশীয় রাজা পরিক্ষিৎ তক্ষক নাগের আঘাতে মারা গেলে তাঁর পুত্র জন্মেজয় পৃথিবী সর্পশূন্য করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। তিনি এক সর্পযজ্ঞ শুরু করেন, যেখানে মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে কোটি কোটি সাপ যজ্ঞানলে পড়ে মারা যেতে থাকে। এই সময়ে জরৎকারু মুনির পুত্র আস্তিক এই নিষ্ঠুর যজ্ঞ বন্ধ করতে জন্মেজয়ের কাছে পৌঁছান এবং তাঁরই হস্তক্ষেপে জন্মেজয় এই ভয়ঙ্কর কর্ম থেকে নিরস্ত হন। লৌকিক বিশ্বাস মতে, জরৎকারুর স্ত্রী মা মনসা। যে দিনটিতে সর্পযজ্ঞ বন্ধ হয়, সেই দিনটি ছিল শ্রাবণের শুক্লপঞ্চমী। সেই থেকেই এই পূজার প্রচলন|আজ বাংলা তথা সারা দেশে পালন হচ্ছে নাগ পঞ্চমী| হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও তাৎপর্য পূর্ণ একটি প্রাণী হলো নাগ|শিবের কণ্ঠ থেকে বিষ্ণুর অনন্ত শয্যা, পুরান থেকে মহাকাব্য সব স্থানেই তাদের অবাধ বিচরন|এই নাগেদের শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে নাগ পঞ্চমী পালিত হয় পুরাণ মতে, নাগ লোক বা পাতাল থেকে সর্পকুল এদিন মর্তের মানুষকে আশীর্বাদ করেন| গ্রাম বাংলায় নাগ পঞ্চমী মূলত মনসা পুজো হিসেবে পালিত হয় যিনি একাধারে পৌরাণিক এবং লৌকিক দেবী|মা মনসা হিন্দুধর্মের লৌকিক সর্পদেবী। মধ্যযুগের লোককাহিনীবিষয়ক মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র। সর্পদেবী হিসেবে মনসার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অথর্ববেদে। পুরাণে তাঁকে ঋষি কাশ্যপ ও নাগ-জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে|আবার কিছু শাস্ত্রে তাকে শিবের কন্যা হিসেবেও দেখানো হয়েছে| হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী শিব, বিষ্ণু, কার্তিক, গনেশ সহ অসংখ্য দেব দেবীরা এই বিশেষ দিনে নাগেদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন ও নাগ কুল কে নিজেদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং যে সকল পূণ্যার্থীরা এই পূজা করে থাকে তাদের মনস্কামনা পূর্ণ হয় এই নাগ পঞ্চমীর পূজার মাধ্যমে৷ নাগ পঞ্চমীতে মোট বারোটি নাগের পূজা হয়ে৷ অনন্ত, বাসুকি, শেষ, পদ্ম, কামবালা, কারকটাকা, অশ্বতারা, ধৃতরাষ্ট্র, শঙ্খ, কালিয়া, তক্ষক ও পিংগালা নাগ বিশিষ্ট পূজা করে ভক্তগন তাদের মনস্কামনা পূর্ণলাভ করে থাকে এই তিথিতে৷ সাধারণত ঝর্ণার জল, দুধ, হলুদ, ফুল এবং সিঁদুরের দিয়ে এই পূজা সম্পন্ন হয়ে থাকে৷ বর্তমানে মহারাষ্ট্র,গুজরীটেও এই পূজার চল বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে৷ জ্যোতিষ শাস্ত্রেও নাগ পঞ্চমীর গুরুত্ব আছে, কথিত আছে এই দিনে নাগ দেবের পুজো করলে রাশিফলে রাহু ও কেতু সম্পর্কিত ত্রুটিগুলি দূর হয়। সাপের ভয় এবং সাপের কামড় থেকে মুক্তি পেতে এবং নাগ পঞ্চমীতে কালসার্প দোষ খণ্ডনের জন্যে বিশেষ পুজোও করা হয়। এই দিনে মা মণসার পুজো করে পরিবারের রক্ষা করার জন্য আরাধনা করা হয়। শাস্ত্র মতে পঞ্চমীর উপাসনা নিষ্ঠার সঙ্গে যারা পালন করেন নাগদেব গোপন তাঁর সম্পদ রক্ষা করেন। এই কারণে নাগপঞ্চমীর দিন পুজো করলে জীবনে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি লাভ করে। এই দিনে পুজো করলে মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। যে ব্যক্তির রাশিতে কালসর্প দোষ রয়েছে, তিনি এই দোষের কু প্রভাব এড়াতে নাগ পঞ্চমী উপবাস পালন করতে পারে| ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে নাগ পঞ্চমী পালন করুন|আপাতত আবার নিয়মিত কলকাতা ও কলকাতার বাইরে পেশাগত জ্যোতিষ চর্চা শুরু করেছি যারা কোনো সমস্যা নিয়ে সাক্ষাৎ করতে চান উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে কথা বলতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|