বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজা : শোভা বাজার রাজবাড়ির পুজো

250

বাংলার দুর্গাপূজার নিজস্ব এক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য আছে যা কয়েকশো বছরের পুরোনো|পলাশীর যুদ্ধ থেকে, স্বদেশী আন্দোলন, দেশ ভাগ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সবই এই ইতিহাসের অঙ্গ|দূর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে শাস্ত্র এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের পাশাপাশি এই ইতিহাসের ও এক আলাদা তাৎপর্য আছে|এই বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে লিখতে বসে সেই ইতিহাস সেই ঐতিহ্য কেই কিছুটা নতুন করে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|আপাতত কলকাতার বনেদি বা জমিদার বাড়ির পুজোর কথা লিখলেও আগামী দিনে জেলা গুলির ঐতিহ্য সম্পন্ন পুজোর কথাও লিখবো|জানবো অনেক গল্প অনেক ইতিহাস|আজকের পর্বে শোভাবাজার রাজ বাড়ির পুজো|

বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো ঐতিহাসিক পুজোর মধ্যে শোভাবাজার রাজবাড়ীর পুজো থাকবে একদম প্রথম শাড়িতে|সেকালে বলা হতো দেবী মর্তে থাকাকালীন তার মনোরঞ্জনের জন্য এই বাড়িতেই আসতেন|এমন ভাবনার পেছনে অনেক কারন আছে|তবে আগে এই বাড়ি ও তার ইতিহাস সংক্ষেপে জেনে নেয়া দরকার|যদিও এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিজয় হরি দেব তবে এই পরিবারের স্বর্ণযুগ বলা হয় রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সময় কে এবং তার আমলেই শুরু হয় এই দূর্গা পূজা|নব কৃষ্ণদেব ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন সাধারণ কর্মচারী যিনি নিজের দক্ষতায় ও পরিশ্রমে কোম্পানির মুন্সী হয়ে ছিলেন|পলাশীর যুদ্ধে তিনি নানা ভাবে ক্লাইভ কে সাহায্য করেন ও পুরুস্কার স্বরূপ প্রচুর অর্থ লাভ করেন|

মূলত পলাশীর যুদ্ধ জয় কে স্মরণীয় করে রাখতেই নবকৃষ্ণ দেবে দূর্গা পুজো শুরু করেছিলেন তাছাড়াও তার উদেশ্য ছিলো ক্লাইভ কে খুশি করে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা|এই উদ্দেশ্যে তিনি সফল হয়েছিলেন|তার দূর্গা পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ|আজও অনেক জায়গায় এই পুজো কে গোরা দের পুজো বা কোম্পানির পুজো বলা হয়|

উদেশ্য যাই থাকুক নিষ্ঠা সহকারে পুজো করতেন নবকৃষ্ণ দেব|প্রচুর অর্থ ব্যায় হতো এই পরিবারের দূর্গা পুজোয়|বসতো গান বাজনার আসর, নাচ, কবি গানের ও ব্যবস্থা থাকতো|দূর্গা পুজো উপলক্ষে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, ভোলা ময়রার মতো কবিয়ালরা এখানে এসেছেন কবির লড়াই করতে আবার গহরজান, মালকাজান, নুর বক্স প্রমুখ নামী নর্তকী এই বাড়িতে এসেছেন নাচ করতে|
সব মিলিয়ে এলাহী আয়োজন হতো শোভাবাজার রাজ বাড়ির দূর্গা পুজোয় আর এই কারণেই মনে করা হতো যে এটা মর্তে দেবী দুর্গার মনোরঞ্জনের স্থান|

পরবর্তীতে দুই শরিকের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় সম্পত্তি তবে প্রথা মেনে নিষ্ঠা সহকারে আজও শোভাবাজর রাজবাড়ি তে দূর্গা পূজা হয়|উল্টো রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় দেবীমূর্তি তৈরির কাজ|শোভাবাজার রাজবাড়ির মাতৃমূর্তির বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়া, এখানকার পুজোর উপাচারও বেশ চমকপ্রদ। সন্ধিপুজোতে কামানের গোলার শব্দে শুরু হত পুজো এবং শেষও হত একই ভাবে|মা দুর্গা এই বাড়িতে বৈষ্ণবী হিসেবে পূজিতা হন। তাই শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয় অন্নভোগ থাকে না। গোটা ফল, গোটা আনাজ, শুকনো চাল, কচুরি, খাজা, গজা, মতিচুর-সহ নানা ধরনের মিষ্টি দেবীকে উত্সর্গ করা হয়|বর্তমানে এখানে বলী প্রথা নেই|এবাড়ির পুজোয়|প্রতিমার সামনে একটা বড় হাড়িতে জল রাখা হয়। সেই জলে দেবীর পায়ের প্রতিবম্বের ছবি দেখে সবাই প্রণাম করে। একে দর্পণ বিসর্জন বলা হয়|তারপর প্রথা মেনে দশমীর দিনই হয় বিসর্জন|আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি থাকলেও সরকারি নিয়মে তা এখন বন্ধ|

আজকের পর্বে এইটুকুই|ফিরবো পরের পর্বে|উৎসব পালন করুন তবে স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ মেনে|আর যারা মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজোর সাথে যুক্ত হতে চান|যারা আসন্ন মহালয়া অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান অথবা জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকার চান উল্লেখিত নাম্বারে যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|