বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো – কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি

446

কলকাতার পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্য সম্পন্ন জমিদার বাড়ির পুজোর অভাব নেই|আজ এই পর্বে লিখবো বাংলার একটি ঐতিহাসিক ও অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ পরিবারের দূর্গাপূজা নিয়ে|আজ কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো|

এই বাংলায় দূর্গা পুজোর শুরু কবে হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিক দের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট|তবে প্রথম দূর্গা পুজো হয়েছিল কোনো রাজ পরিবারে এবং অনেক পরে বারোয়ারি পুজোর সূচনা হয়|সে ক্ষেত্রে একদম প্রথম পারিবারিক পুজোগুলির অন্যতম কৃষ্ণনগর রাজ বাড়ির পুজো|কৃষ্ণচন্দ্র মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরকে সাহায্য করেন প্রতাপাদিত্যকে হারাতে। তারপরে কৃষ্ণচন্দ্রকে কৃষ্ণনগরের রাজা করেন জাহাঙ্গীর|রাজত্ব লাভ করে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জাঁকজমক সহকারে দূর্গা পুজো শুরু করেন যা আজও চলে আসছে বংশ পরম্পরায় আগে এই পরিবারে অন্নপূর্ণার পুজো হতো|

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গা পরিচিত রাজরাজেশ্বরী হিসেবে|দেবীর এখানে যুদ্ধবেশ পরনে টকটকে লাল শাড়ি|গায়ে বর্ম ও হাতে অস্ত্র। যেহেতু বৈষ্ণব মতে পুজো হয় তাই দেবী ঘোটকাকৃতি সিংহের ওপর আসীন|একচালা প্রতিমার পিছনে থাকে অর্ধচন্দ্রাকৃতি ছটা ও তাতে আঁকা থাকে দশমহাবিদ্যা|

রীতি অনুসারে কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে মহালয়ার পর দিন থেকেই শুরু হয় পুজো এবং রাজরাজেশ্বরী পাটে আসীন হন বোধনের সময়ে। প্রাচীন প্রথা অনুসারে তাকে বেহারাদের কাঁধে চড়িয়ে আনা হয়|এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল সন্ধিপুজো ও দশমীর দিন সিদুর খেলা|আজও সন্ধিপুজোর সময়ে ধোয়ায় ঢেকে যায় দেবীর মুখ এবং প্রচলিত বিশ্বাস, সেই সময়ে মা আসেন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে, বিজয়া উপলক্ষেআশেপাশের বহু মহিলা রাজবাড়ির সিদুর খেলাতে অংশগ্রহণ করেন|পুজোতে পশু বলি বা দশমীতে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানো হয়তো আজ আর নেই তবুও আবেগ ও ভক্তি রয়েছে একই রকম|

আজ বিদায় নিলাম আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|যারা নবরাত্রি তে জ্যোতিষ প্রতিকার করাতে চানা যোগাযোগ করবেন |আগামী দীপাবলিতেও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে|যোগাযোগ করবেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|