বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পূজার : ছাতু বাবু লাটু বাবুর দূর্গা পুজো

275

আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি তারপর শুরু হয়ে যাবে দুর্গোৎসব, যে উৎসবের জন্য সারাটা বছর অপেক্ষা করে বসে থাকেন প্রতিটা বাঙালি|এবছর দূর্গা পুজোয় নিশ্চই কিছু স্বাস্থ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ থাকবে কিন্তু তবু পুজো কে ঘিরে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েনি|যদিও আজ কাল থিম পুজোর ভিড়ে দূর্গা পুজোর আসল অন্তর্নিহিত অর্থ বা শাস্ত্রীয় আচার অনেকটাই ম্লান তবুও ব্যতিক্রম আছে|আজও বাংলার বহু জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ি সহ একাধিক বনেদি বাড়িতে নিষ্ঠা সহকারে, শাস্ত্রীয় মতে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়|এই সব পুজোর রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং এক গৌরবময় ইতিহাস|আজ থেকে এক নতুন ধারাবাহিক লেখনী শুরু করছি যেখানে পর্বে পর্বে এই সব বনেদি বাড়ির পুজোর কথা লিখবো|আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে এই পর্ব গুলি|আজ প্রথম পর্বে কলকাতার ছাতু বাবু লাটু বাবুর বাড়ির পুজো|আজকের বিডন স্ট্রিটে রয়েছে একটি প্রাচীন ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা যার পোশাকি নাম রামদুলাল নিবাস|এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা রাম দুলাল দে ছিলেন|পুরোনো কলকাতার বাবু সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র|শোনা যায় তিনি ছিলেন বাংলার প্রথম লাখপতি|তিন ব্রিটিশ আমলে আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করে এই অগাধ সম্পত্তি করেছিলেন|তিনিই প্রথম এই বাড়িতে দূর্গা পূজা শুরু করেছিলেন|তার অবর্তমানে তার দুই পুত্র আশুতোষ দেব ওরফে ছাতুবাবু এবং প্রমথনাথ দেব ওরফে লাটুবাবুর সময়েই এই পুজো বিখ্যাত হয়|প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যায় করে ও ব্যাপক ধুম ধাম করে দূর্গা পুজো হতো এই বাড়িতে|দূর্গা পূজা উপলক্ষে প্রায় গোটা কলকাতার নিমন্ত্রণ থাকতো এই বাড়িতে|পুজোর সময় যাত্রা হত এমন কি বাঈ নাচের আসর ও বসতো|সেই পুরোনো জৌলুস আর নেই তবু নিষ্ঠা সহকারে সকল প্রথা মেনে দূর্গা পুজো হয়|রথের দিন কাঠামো পুজোর পর প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো|এখানে শুরুর দিন থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত গৃহদেবতা শালগ্রাম শিলার পুজো করা হয় এবং তৃতীয়াতে দেবীকে আসনে বসানো হয়|এই বাড়িতে শাক্ত শৈব এবং বৈষ্ণব তিনটি মতেই পুজো হয়|উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই বাড়ির পুজোয় দেবীর পাশে লক্ষ্মী সরস্বতী থাকেন না এবং পদ্মের উপর থাকেন মা দুর্গার দুই সখী জয়া আর বিজয়া|শোনা যায় এককালে এখানে পশু বলীও দেয়া হতো কিন্তু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলী প্রথা বন্ধ হয়ে যায় বহু কাল আগে|বলা হয় একবার বলি দেওয়ার সময় পাঁঠাটি ছুটে চলে আসে সামনে দাঁড়ানো রামদুলাল দের কাছে। সেই থেকে এই পুজোয় পাঁঠাবলি বন্ধ হয়ে তার বদলে এখন আঁখ, চালকুমড়ো, শসা বলি হয় পুজোর তিন দিন|এছাড়া এখানে কুমারী পুজোও হয় নিষ্ঠা সহকারে|আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে পরের পর্বে অন্য কোনো জমিদার বাড়ি বিক্রি রাজবাড়ির পূজার কথা নিয়ে ফিরে আসবো|কেমন লাগছে অবশ্যই জানাবেন আর যারা আসন্ন মহালয়া অমাবস্যা বা নবরাত্রির পবিত্র সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ এবং গ্রহ দোষ খণ্ডনের কথা ভাবছেন অবশ্যই যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|