শিব ভূমি – বাণেশ্বর শিবমন্দির

284

আজ শিব ভূমির শুরুতে শিবের অস্ত্র ত্রিশূল নিয়ে বলবো, পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু যিনি নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি স্বয়ং কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র, এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমায় বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যপত্নী সংজ্ঞাও কিছুটা স্বস্তি পান|আজকের শিব ভূমি বানেশ্বর শিব মন্দির|কোচবিহারের বিখ্যাত মন্দিরগুলির মধ্যে বাণেশ্বর শিবমন্দির অন্যতম। মন্দিরটির উত্তর দিকে অবস্থিত একটি চালামন্দির ত্রিরথ; সিংহাসনের শীর্ষে পদ্মের উপর শিবমূর্তির উপবিষ্ট বিগ্রহ ও এক অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি অধিষ্ঠিত। পিতলের মূর্তি উচ্চতায় ৬ ইঞ্চির মতো। অর্ধনারীশ্বরের অর্থাৎ শিবদুর্গার সম্মিলিত পৌরাণিক রূপ বাণেশ্বর বলেও আখ্যাত। মূর্তির ডান দিকে শিবের জটা আর বাম দিকে দুর্গার মাথায় অর্ধ পদ্মাকৃতি মুকুট দেখা যায়।মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে নানা মতবাদ চালু আছে। কেউ বলেন বাণরাজা কেউ বলেন রাজা জল্পেশ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে মহারাজা প্রাণনারায়ণই ইটের প্রাচীর ঘিরে মন্দিরটি সংস্কার করেছিলেন।কিংবদন্তি অনুসারে দৈত্যরাজ বাণাসুর বাহুবলে স্বর্গরাজ্য অধিকার করে দেবতাদের তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বাণাসুর ছিলেন শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত। দেবতাদের দুর্দশা দেখে শিব বাণাসুরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বর্গরাজ্য দেবতাদের ফিরিয়ে দিতে। বাণাসুর একটি শর্তে স্বর্গরাজ্য ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছিলেন। সেটি হল যদি তাঁর উপাস্য দেবতা এই স্থানে অধিষ্ঠান করেন। সেই সময় থেকেই বাণেশ্বর শিবের প্রতিষ্ঠা।বানেশ্বর মন্দিরটি উচ্চতায় ৪০ ফুট, গম্বুজাকৃতি, বাঁকানো কার্নিশ এবং মন্দিরটি পশ্চিমমুখী। মন্দিরের গর্ভগৃহটি মাটির সমতল থেকে ৭ ফুট নীচে সিঁড়ি বেয়ে নামতে হয়। মন্দিরের অভ্যন্তরে কালো পাথরের শিবলিঙ্গ এবং গৌরীপট্ট প্রতিষ্ঠিত। পাশেই আরেকটি মূর্তি রয়েছে দু’হাতে ত্রিশূল নিয়ে। দেবী চণ্ডীর পিতলের মূর্তি। পাশে রয়েছে পাথরের তৈরি একটি ছোটো বিষ্ণুপট্ট, তাতে লক্ষ্মী, সরস্বতী, গঙ্গা, যমুনা মূর্তি খোদিত।শিব চতুদর্শীতে এবং চৈত্র মাসে বাণেশ্বর মহাসমারোহে পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সপ্তাহব্যাপী মেলা চলে।চলবে শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|আপনাদের সবাইকে নীল ষষ্ঠীর আগাম শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|নমস্কার|