শিব ভূমি – জল্পেশ শিব মন্দির

42

আজ নীল ষষ্টি উদযাপন তাই শুরু করবো নীল ষষ্ঠীর পৌরাণিক ব্যাখ্যা দিয়ে |এই নীল পুজো আসলে শিবেরই পুজো, নীল আর কেউ নয় স্বয়ং শিব|নীল বা নীলকণ্ঠ মহাদেব শিবের অপর নাম। চৈত্র মাসে সেই নীল বা শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান সংঘটিত হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর শিবজায়া সতী পুনরায় সুন্দরী কন্যারূপে নীলধ্বজ রাজার গৃহে আবির্ভূতা হন ৷ রাজা তাঁকে নিজ কন্যারূপে লালন-পালন করে শিবের সঙ্গে বিয়ে দেন ৷ বাসর ঘরে নীলাবতী শিবকে মোহিত করেন এবং পরে মক্ষিপারূপ ধরে ফুলের সঙ্গে জলে নিক্ষিপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৷ রাজা-রাণীও শোকে প্রাণবিসর্জন দেন ৷ নীলপূজা শিব ও নীলাবতীরই বিবাহ-অনুষ্ঠানের স্মারক ৷আজ উত্তর বঙ্গের বিখ্যাত এক শিব তীর্থর কথা উল্লেখ করবো|উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র হল জল্পেশ মন্দির।কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের বাবা বিশ্ব সিংহ ১৫২৪ সালে প্রথম এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।১৫৬৩ সালে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৬৬৩ সালে রাজা প্রাণ নারায়ণও একবার মন্দিরটি নতুন করে গড়ে তোলেন।জল্পেশ মন্দির প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন তত্ত্বর অস্তিত্বও রয়েছে|কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন|জল্পেশ নামে কোনো এক প্রতাপশালী রাজবংশী ক্ষত্রিয় রাজা অথবা সর্দারের নাম ছিল জল্পেশ। তাঁর নাম অনুসারে মন্দিরের নাম হয়েছে জল্পেশ। হয়ত তিনি কোনো দৈব শক্তির অধিকারী ছিলেন। তাই তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁকে দেবতায় উন্নীত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে এমন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন নর দেবতায় রূপান্তরিত হয়েছে এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে। জল্পেশ হয়ত কোনো শক্তিশালী গ্রামদেবতা ছিলেন। পরে কোচবিহারের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শিবের সঙ্গে একীভূত হয়ে উত্তরবঙ্গের প্রধান দেবতা বলে স্বীকৃত হয়েছেন ।তবে শাস্ত্র মতে ভ্রামরী শক্তিপিঠের ভৈরব হলেন জল্পেশ। শিব এখানে গর্তের মধ্যে রয়েছেন, তাই তিনি অনাদি নামেও পরিচিত।উত্তর বঙ্গ ভ্রমন অসম্পূর্ণ থেকে যায় বাবা জল্পেশ্বর এর দর্শন ছাড়া|বিশেষ করে শ্রাবন ও চৈত্র মাসের বহু দর্শণার্থী আসেন|বিশেষ পুজো হয় এবং সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয় থেকে দূর দুরন্তর মানুষ|আবার দেখা হবে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন শিব ভূমি|ফিরে আসবো অন্য কোনো শিবভূমি নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|