অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মের পবিত্র তিথি গুলির মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়া অন্যতম। অক্ষয় তৃতীয়ায় মূলত লক্ষী
এবং কুবেরের পুজোর মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ
করা হয়।তবে অক্ষয় তৃতীয়ার সাথে জড়িত আছে পুরান এবং শাস্ত্রীয় একাধিক বিষয়।অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে আসুন আজ জেনে নিই সেই সব পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
সনাতন ধর্মে ধন ও সম্পদের দেবতা হলেন রাবনের ভ্রাতা এবং মহাদেবের অন্যতম ভক্ত কুবেরদেব|আসলে কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে রথ ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|তবে কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|পুরাণ মতে আজকের এই অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিতেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব।তাই বিশ্বাস করা হয় আজ তার পুজো করলে এবং তার কাছে নিজের অভাব অভিযোগ জানালে তিনি কাউকে শুন্য হাতে ফেরান না।
আবার এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন ব্যসদেব। তিনি এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর সিদ্ধিদাতা গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|আজ যেকোনো শুভ কাজ শুরু হলে তা
সফল এবং স্বার্থক হয়।
অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রী কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে অক্ষয় পাত্র দান করেন যাতে তাদের কোনো অভাব না থাকে। আবার এই তিথিতেই গঙ্গার মর্তে আগমন হয়। অক্ষয় তৃতীয়াতেই সত্য যুগের অবসান হয়ে ত্রেতা যুগ শুরু হয়।
বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হয়েছিলো।
তাই দেশের বহু স্থানে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি
‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|
সবাইকে জানাই শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।
ফিরে আসবো পরের পর্ব নিয়ে।
ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা
চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
