শিব ভূমি – কলেশ্বর শিব মন্দির

234

আজ শুরু করবো এই চরক এবং গাজন উৎসব নিয়ে,চরক মূলত বাংলার লৌকিক উৎসব হলেও পুরানে এর উল্লেখ আছে , লিঙ্গ পুরানে স্পষ্ট বলা আছে চৈত্র মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা নাচ গানের প্রথাকে বলে চরক|আবার অন্য একটি তথ্য অনুসারে বানরাজ দ্বারকাধীশ কৃষ্ণর কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার আরাধ্য মহাদেবকে নিজ রক্ত নিবেদন করে তুষ্ট করেন অমরত্ব লাভের আশায় সেই সাধনাকে স্মরণ করা হয় চরক উৎসবের মাধ্যমে|লোকমুখে শোনা যায় যে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা প্রথম করেছিলেন এই পুজো এবং ক্রমে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সারা বাংলা জুড়ে|এককালে সাধু সন্ন্যাসীরা বিরাট শোভাযাত্রা বের করতো চরক উপলক্ষে, শরীরে তীক্ষ্ণ অস্ত্র বিঁধিয়ে দেয়া থেকে আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ, বঁটি ঝাঁপ অনেক রীতিই পালন হতো|গ্রামবাংলায় আজও চৈত্রের শুরু থেকেই ধ্বনিত হয় ‘বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে’। সমাজের প্রান্তিক স্তরের নারী-পুরুষের একাংশ সন্ন্যাস পালন করেন। কেউ কেউ আবার শিব-পার্বতী সেজে হাতে ‘ভিক্ষাপাত্র’ নিয়ে বের হন।কিছু অঞ্চলে চরকের মেলাও বসে যা চলে পয়লা বৈশাখ অবধি|এই চরক স্থান বিশেষে কোথাও নীল পুজো কোথাও গম্ভীরা কোথাও গাজন উৎসব|আজকের শিব ভূমি নিয়ে আলোচনায় এবার শুরু করাযাক শিবভূমি বীরভূমে বিক্ষিপ্ত ভাবে বহু ঐতিহাসিক শিবমন্দির রয়েছে যারা মধ্যে অন্যতম কলেশ্বর শিব মন্দির|নানা সময় নানা কিংবদন্তি, জনশ্রুতি, লোককথা প্রচলিত আছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, বহু মুনি ঋষির সাধনাক্ষেত্র ছিল কলেশ্বর ধাম। পর্বত নামে এক ঋষি এখানে দেবী পার্বতীর তপস্যায় রত ছিলেন। তাঁরই নামানুসারে গ্রামের নাম ছিল পার্বতীপুর। ঘন জঙ্গলাকীর্ণ ছিল তখনকার এই অঞ্চল। আবার লোকমুখে শোনা যায়, ধানঘড়া গ্রামের কলেশ ঘোষ পুজো করে শিবকে তুষ্ট করেন|তার নাম অনুসারেই নাম কলেশ্বর হয়েছে|মন্দিরটির ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানা যায়, সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে স্থানীয় ঢেকার স্বাধীনচেতা নরপতি রামজীবন রায় মন্দিরটি সংস্কার বিষয়ে মনোনিবেশ করেন। তিনি নিজে শিব শক্তির উপাসক ছিলেন আর স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরে মন্দিরটি মোহনীয় রূপে তৈরিতে ব্রতী হন। তখনই নির্মিত হয় নয়টি চূড়া বিশিষ্ট সুউচ্চ মন্দির।বর্তমান কলেশ্বর-কলেশনাথ মন্দিরের উচ্চতা একশো ফুটেরও বেশি। ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী তিথিতে শৈবতীর্থ কলেশ্বর ধামে শিবরাত্রি ব্রত উৎসব পালন করা হয়। আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|চরক ও গাজন উৎসবের আনন্দে নিন|শুভ নব বর্ষের আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|