Home Blog Page 120

মন্দির রহস্য – ঝাড়গ্রামের সাবিত্রী মন্দিরের রহস্য

ঝাড়গ্রামের সাবিত্রী মন্দির আজকের মন্দির রহস্যর বিষয় যে মন্দির ঘিরে আছে নানা লোককথা।সাবিত্রী মন্দিরের দুর্গাপুজোপ্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন।অদ্ভুত একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় সেটা সংক্ষেপে আগে বলে নিই – আজ থেকে চারশো বছর আগে ঘন জঙ্গল ছিল ঝাড়গ্রামের এই সব এলাকা। রাজস্থান থেকে শিকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে রাজা মান সিং হঠাৎই এই অঞ্চলে এসে পড়েন। এবং ঘন জঙ্গলে হঠাৎই তিনি অপূর্ব সন্দরী এক রমণীকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তাঁর রূপে মুগ্ধ রাজা সাতপাঁচ না ভেবেই তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। রাজার কথা শুনে ওই রমণী শর্ত দেন, রাজা সামনে পথ দেখিয়ে তাঁকে নিয়ে যাবেন, আর পিছনে-পিছনে তিনি যাবেন, কোনও অবস্থাতেই রাজা যেন পিছনে ঘুরে না তাকান। তা হলেই বিপদ ঘটবে।শর্ত মেনেই রাজা রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। পেছনে হাঁটতে লাগলেন সেই রমণী|বেশ কিছু পথ চলার পরে রাজার মনে হল যে ওই রমণী কি তাঁকে ছলনা করছেন কারন পিছনে তো কোনো আওয়াজ নেই! ভাবতে ভাবতে হঠাৎই পিছন ফিরে তাকিয়ে ফেলেন রাজা। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। তিনি দেখেন, ওই রমণী ধীরে ধীরে প্রবেশ করছেন মাটির নীচে! দেখে রাজা ছুটে আসেন এবং রমণীর মাথার চুল ধরে তাঁকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হন। তবে তাঁর হাতের মুঠোয় রয়ে যায় রমণীর একগোছা চুল। রাজা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যান। এবং বোঝেন ইনি সামান্যা নারী নন|নিশ্চই তিনি কোনো দেবী|সেই রাতেই রাজা স্বপ্নাদেশ পান যেখানে দেবী সাবিত্রী ওই স্থানেই মন্দির গড়ে তাঁর পুজোর নির্দেশ দেন রাজাকে । মন্দির তৈরি করে পুজো শুরু হয়। আর প্রথম থেকেই মা সাবিত্রীর চুল পুজো হয়ে আসছে এখানে। মায়ের শুধু মুখের অংশটুকুই দেখা যায় এখানে। মা সাবিত্রীরই আরেক রূপ যেহেতু দেবী দুর্গা তাই দুর্গাপুজোর দিনগুলি এখানে ধুমধাম করে পুজো হয়। তবে এখানে দুর্গামূর্তি পুজোর প্রচলন নেই। পটেই পুজো হয়। অনেকেই এই পুজোকে তাই পটেশ্বরীর পুজো বলেন। এখানকার পুজোয় বলি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। দুর্গাপুজোর সন্ধিপূজাতেও বলি দেওয়া হয়। দশমীর দিন পাটাবিধা হয়। একটা কলাগাছকে রেখে তার মধ্যে তির ছুঁড়ে মারা হয়। অর্থাৎ, অশুভ শক্তি বিনাশ করে পুজোর সমাপ্তি। সাবিত্রী মন্দিরে সাবিত্রী দেবীর নিত্যপুজো হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ ওই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন এবং ভক্তিভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন। প্রতিদিন যজ্ঞ, হোম ও চণ্ডীপাঠ হয়। বাংলা সহ ঝাড়খন্ড ও ওড়িশাথেকে বহু মানুষ এই পুজা দেখতে আসেন।যথা সময়ে আবার ফিরবো আগামী পর্বে|আলোচনা করবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে |সঙ্গে থাকুন|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – মহারাজা নন্দকুমারের গুহ্যকালী মন্দির

বর্তমান কলকাতার ফ্যান্সি মার্কেট অঞ্চলে মহারাজা নন্দ কুমারের ফাঁসি হয় ১৭৭৫ সালের ৫ই অগস্ট। ফাঁসি থেকেই পরবর্তীতে ওই এলাকার নাম হয় ফ্যান্সি মার্কেট|তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি প্রকাশ্য ফাঁসির সাজায় দণ্ডিত হন। বর্তমান বীরভূমের নলহাটি থানার ভদ্রপুরে ব্রাহ্মণ পরিবারে ১৭০৫ সালে জন্ম মহারাজ নন্দকুমারের|১৭৬৪ সালে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ মহারাজ নন্দকুমারকে ‘মহারাজা’ উপাধি দিয়েছিলেন|আজ শুরুতেই এই ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম বললাম কারন আজ যে মন্দির নিয়ে লিখবো তা মহারাজা নন্দকুমারের কালী মন্দির নামেই প্রসিদ্ধ|বীরভূমের আকালিপুরে আছে এই গুহ্যকালিকা মন্দির। নলহাটি এলাকার গ্রাম এই আকালিপুর। যা মহারাজা নন্দকুমারের জন্মস্থান বলে পরিচিত| কথিত আছে এই গুহ্যকালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বয়ং মহারাজ নন্দকুমার। সর্পের ওপর আসীন, সর্পের আবরণে ভূষিতা, বরাভয়দায়িনী, দ্বিভুজা জগন্মাতা গুহ্যকালী।দেবীর মন্দিরটি উঁচু বেদির ওপর তৈরি, ইটের তৈরি আটকোণা, দক্ষিণমুখী। মন্দিরের গর্ভগৃহের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার পথ আছে। এর তিনটি প্রবেশদ্বার। তার মধ্যে মূল দ্বারটি রয়েছে দক্ষিণ দিকে। এছাড়াও আরও দুটি প্রবেশদ্বার আছে এই মন্দিরে। তার একটি পূর্ব, অন্যটি পশ্চিম দিকে। যা পাথরের তৈরি। কথিত আছে, এই মন্দির নির্মাণের সময় দেওয়াল ফেটে যায়। ভক্তদের দাবি, তার পর রাতে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেহেতু শ্মশানবাসিনী, তাই মন্দিরের দরকার নেই। এখনও দেবীর সেই নির্দেশের প্রমাণ হিসেবে, মন্দিরের উত্তর-পূর্ব দিকে দুটি ফাটল রয়েছে।অর্থাৎ সেই থেকে ঐভাবেই পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী|মন্দিরের দক্ষিণে “পঞ্চমুণ্ডী” নামে পরিচিত একটি সিদ্ধাসন রয়েছে।১১৭৮ বঙ্গাব্দের ১১ই মাঘ এই মন্দির তৈরি হয়েছিল রটন্তী কালীপুজোর দিন। তাই প্রতিবছর মাঘ মাসে রটন্তী কালীপুজোর দিন বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে দেবীর পুজো করা হয়। দেবীর মূর্তিটি কালো পাথরের। এমনিতে যাঁর নিত্যপুজো চলে। তবে, রটন্তী কালীপুজোর সময় আশপাশের তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে আসেন পুজো দিতে। রটন্তী কালী পুজোর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজোর ব্যবস্থা হয়|আবার ফিরবো আগামী পর্বে|আলোচনা করবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

আগমেস্বরী কালীমন্দিরের রহস্য

তন্ত্র সাধক কৃষ্ণানন্দআগম বাগীশের কথা আপনাদের আগে জানিয়েছি আজ মন্দির রহস্য পর্বে তার পারিবারিক পুজোর কথা লিখবো যা আগমেস্বরী কালী নামে প্রসিদ্ধ|কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে মাতৃ সাধক কথা দক্ষিণাকালী মাতৃমূর্তির রূপকার মাতৃ সাধক আগমবাগীশ সর্বপ্রথম দক্ষিণা কালী মায়ের এই পূজা শুরু করেছিলেন।পন্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ প্রথম আগমেশ্বরীর পূজা শুরু করেন। তিনি ছিলেন নবদ্বীপের বাসিন্দা। ধ্যানযোগে আরাধ্যা দেবীর রূপ দেখেছিলেন তিনি৷ স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিয়ে মা বলেছিলেন, “আগামীকাল প্রত্যুষে তুই সবার আগে যাকে দেখতে পাবি, সেই তোর আরাধ্যা।” পরেরদিন চোখ মেলে কৃষ্ণানন্দ দেখেন, কালো এক কন্যা একহাতে গোবর নিয়ে অন্য হাতে ঘুটে দিচ্ছে দেওয়ালে। কৃষ্ণানন্দকে দেখে উনি লজ্জায় জিভ কেটে ফেললেন। এই রূপকেই তিনি তাঁর আরাধ্যা করেন। এই বাংলায় সেই প্রথম দক্ষিণা কালীর মূর্তি তৈরি হয়।আগমবাগীশের নামানুসারে তাঁর পূজিত কালী পরে ‘আগমেশ্বরী’ নামে প্রতিষ্ঠিত হন।বর্তমানে যেসব দক্ষিণাকালী আমরা দেখি তারই আদি ও প্রাচীন প্রথম রূপ এই কৃষ্ণানন্দ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দেবীর মূর্তি।তার সেই বিখ্যাত কালী মূর্তি প্রতি কালীপুজোর তিথিতে সেজে ওঠে বিশেষ সাজে সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান থাকে এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হন পুজো মণ্ডপে।পরবর্তীকালে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের প্রপুত্র সার্বভৌম আগমবাগীশ শান্তিপুরে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ রচিত ‘বৃহৎ তন্ত্রসার’ গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে তান্ত্রিকের নির্দিষ্ট পূজা বিধি। সেই বিধি মেনেই হয় দেবীর পুজো|প্রতি বছর পুজোর আগের দিন থেকে প্রতিমার গায়ে খড়িমাটি করা হয় ও পুজোর দিন সকাল থেকে রঙের কাজ শুরু হয়৷ একদম শেষে হয় চক্ষুদান৷ পুজো শুরুর মুহূর্তে সোনা ও রুপোর অলংকারে সাজিয়ে তোলা হয় প্রতিমাকে তারপই শুরু হয় পুজো|ফিরবো আগামী পর্বে|আলোচনা করবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা অলৌকিক ও পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – যে মন্দিরে আছে গণেশের মাথা

সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্ম, তার বিবাহ ও শিরোচ্ছেদ নিয়ে আগে আলোচনা করেছি কিন্তু আজ বলবো তার জীবনের সব থেকে রহস্যময় দিক নিয়ে|তার মাথা ধর থেকে আলাদা হওয়ায় পরে কোথায় গেলো তা সত্যি এক রহস্য|আদি বিনায়ক মন্দিরে গণেশের যে আদি রূপ আছেসেই রূপে তার যে মাথা আমরা দেখতে পাই মাথা নাকি এই মর্তেরই এক মন্দিরে আছে|সে বিষয়ে লেখার আগে আসুন দেখে নিই এনিয়ে শাস্ত্রে কি বলা আছে|পার্বতীর ইচ্ছায় জন্ম হয়েছিল গণেশের। এরপর পার্বতী গনেশকে কৈলাসের দ্বার পাল হিসেবে নিযুক্ত করেন। গণেশ শিবকে কৈলাসে ঢুকতে বাধা দেন। একে অপরের পরিচয় না জেনেই যুদ্ধ শুরু হয়। আর শিব গণেশের মাথা কেটে দেন। এরপর পার্বতীকে শান্ত করতে তিনি হাতির মুন্ড গণেশের ধড়ে স্থাপন করেন‌।শিব পুরাণ পড়লে জানা যায় মস্তক ছিন্ন করার পরে তা অপ্সরাগণ নিয়েছিলেন কিন্তু তারপর তা কোথায় গেল তার শিব পুরাণে বলা নেই।আবার”ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের” ‘গণপতি খন্ডে’ উল্লেখ আছে গণেশের মুন্ড গোলকধাম এ চলে যায় শ্রী হরির কাছে। আর শ্রী হরির দেহের সঙ্গে সেই মস্তক মিশে যায়। গনপতি শ্রী হরির আরেক অংশ। তাই শ্রী হরির এই তেজ অর্থাৎ গণেশের কাটা মুন্ডু শ্রী হরির শরীরেই মিশে গেল।তারপর গণেশের শরীরে হাতির মুন্ড স্থাপন হলো। তবে লৌকিক মতে গণেশের কেটে যাওয়া মনুষ্য মুণ্ডটি কোথায় তা নিয়ে আছে একটি আলাদা ব্যাখ্যা আছে|প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভারতের উত্তরাখণ্ডের পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দিরে আছে গণেশের কেটে যাওয়া মুন্ড আর সেই মুন্ড স্বয়ং পাহারা দিচ্ছেন দেবাদিদেব মহাদেব।উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ভূবণেশ্বর গ্রাম‌। এই ভুবনেশ্বর মন্দিরের ভূগর্ভে একাধিক গুহা রয়েছে। আর এই একাধিক গুহা গুলি একটি জায়গায় গিয়ে মিলিত হয়েছে।জনশ্রুতি অনুযায়ী এই সকল গুহার মিলনস্থলে যে উঁচু পাথরের ঢিবিটি রয়েছে সেটি গণেশের মনুষ্য মুন্ড।বলা হয় এই মন্দিরে একজন মানুষ একবারই প্রবেশ করতে পারেন। তাই কোন মানুষ যদি এই মন্দিরের শ্রী গণেশের চ্ছেদ করা মুন্ড রাখার মূল স্থলে না গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তাকে আর ওই মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় না।আবার এমনটাও বলা হয় যে এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে পূণ্য অর্জন হয়। এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়‌। সরযু, রামগঙ্গা ও গুপ্তগঙ্গার মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে এই মন্দির। এই মন্দির প্রদক্ষিণ করলে পাপ ক্ষয় হয়। শুদ্ধ মনে ভক্তি সহকারে এই মন্দির দর্শন করলে গণেশের কৃপায় সকল বিঘ্ন কেটে যায় বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন|বাকি আছে অনেক রহস্যময় মন্দিরের কথাপরের পর্বে আবার এমনই কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কোচ বিহারে বানেশ্বর শিব মন্দির দর্শন

গত কাল কোচ বিহার রাজবাড়ি ও বিখ্যাত মদন মোহন মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলাম|কথা দিয়েছিলাম আজ বানেশ্বর মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতাও যথা সময়ে আপনাদের সাথে আবার ভাগ করে নেবো,আজ সকালেই শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে, উত্তরের ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শ উপেক্ষা করে হাজির হয়েছিলাম বানেশ্বর মহাদেবের মন্দিরে, অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো|জানলাম অনেক তথ্য, দেখলাম অনেক কিছু – কোচ বিহারের আদি শাসক বংশ, অর্থাৎ কোচ রাজারা ছিলো বেজায় ধার্মিক ও পরম শিব ভক্ত যদিও কৃষ্ণ তাদের আরাধ্য তবু অন্যান্য দেব দেবীদের মূর্তিও তৈরি করিয়েছিলেন সারা রাজ্য জুড়ে, তাদের আমলের মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম একটি মন্দির হল ‘বানেশ্বর শিব মন্দির’। বানেশ্বর রূপে ভগবান শিব এখানে পূজিত হয়ে আসছেন বহুদিন ধরে।যদিও মন্দির প্রতিষ্টার সঠিক দিন ক্ষণ পাওয়া যায়না তবে কোচবিহারের প্রবীণ মানুষেরা মনে করেন। কোচ রাজবংশের মহারাজা নরা নারায়ণ এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার পরবর্তীকালে কোচবিহার রাজ্যের মহারাজা প্রাণ নারায়ণ এটিকে সংস্কার করেছিলেন এবং নব রূপ দিয়েছিলেন|বানেশ্বর মন্দিরের প্রধান দালান থেকে ১০ ফুট নীচে, মন্দিররের গর্ভগৃহে রয়েছে আদি বানেশ্বর ‘শিব লিঙ্গ’ প্রধান মন্দিরের ডানদিকে সিমেন্টের তৈরি একটি নন্দী মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের উত্তর দিকে একটি চালাঘরে শিব ও অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি রয়েছে। অন্যান্য দিকে একটি কালী মূর্তি সহ আরও কিছু দেব দেবীর মূর্তিও রয়েছে।মন্দিরের সব থেকে বড় উৎসব শিব চতুর্দশীর সময় একটি সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে এই মন্দির এলাকায়।তাছাড়া প্রতিদিনই পুজো হয় এবং বহু দর্শণার্থী আসেন পুজো দিতে|প্রতিদিন সকাল ৮-টায় খুলে দেওয়া হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। এবং মন্দির বন্ধ করা হয় রাত ৮-টার সময়|দুপুরে মন্দিরে ভোগ আরতী করা হয়। এবং সন্ধ্যে বেলায় সন্ধ্যে আরতি করা হয় ৬-টার সময়।কথিত আছে এই বানেশ্বর মন্দিরে মানসিক রোগীদের নিয়ে এলে ও পুজো দিলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে যান|কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর|আর বাবা মহাদেবের কৃপায় সবই সম্ভব|তাই সেই উদ্দেশ্যেও আসেন অনেকেই|বানেশ্বর মন্দিরের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বড় জলাশয় যেখানে অনেকগুলি কৃষ্ণ বর্নের বিরল প্রজাতির কচ্ছপ আছে। এই কচ্ছপ গুলি স্থানীয়ভাবে ‘মোহন’ নামে পরিচিত। এখানে এদেরকে খুব পবিত্র মনে করা হয় এবং এদের পুজোও করা হয়। আগে পুকুরের ঘাটের কাছে গিয়ে মোহন বলে ডাক দিলে দেখা পাওয়া যেত এদের।যুগ যুগ ধরে এই প্রাণী গুলি রয়েছে এই পুকুরে|কবে এবং কোথাথেকে তারা এই পুকুরে এলো সেই প্রশ্নের উত্তর অজানা|তবে তারা কোচবিহারের বহু ইতিহাস ও বহু রাজনৈতিক এবং সামাজিক উত্থান পতনের নীরব সাক্ষী|বর্তমানে পুকুরটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে তবুওদূর থেকেও কচ্ছপ গুলি দেখতে পাওয়া যায় মাঝে মাঝে।তাদের দর্শন পাওয়া সৌভাগ্যর ব্যাপারবলে মনে করা হয়|সব দেখে ও শুনে আমি অভিভূত|আশা করি আপনাদের ও ভালো লাগলো এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা|আবার আসবো সুযোগ পেলে|সঙ্গে থাকুন|পরবর্তী যাত্রা যেখানেই হোক সে অভিজ্ঞতা নিয়েও লিখবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|জানান আপনাদের মতামত|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কোচবিহার ভ্রমণ ও মদনমোহন মন্দির দর্শন 

বর্তমানে রয়েছি কোচবিহারে, যদিও আগেও এসেছি উত্তর বঙ্গের এই ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে, তবে এবারেরআসা টা একটু আলাদা|শীতের আমেজ গায়ে মেখে, অদ্ভুত সব ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় স্থান গুলি ঘুরে দেখতে বেশ লাগছে… আরো ভালো লাগবে এই অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে পারলে, তাই অবসরে একটু লেখা লেখিতে মন দিলাম…..প্রথমে কোচ বিহারের ইতিহাসটা সংক্ষেপে বলে নিই তাহলে বাকিটা পড়তে আপনাদের আরো ভালো লাগবে -এককালে কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল এই কোচবিহার জেলা। বলা হয়, এই স্থানে কোচ বংশ প্রায় ৫০০ বছর শাসনকার্য চালায়। ১৫৩০ সালে কোচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ এই কোচবিহারে এসে শাসন শুরু করেন। তারপর তাঁর ছেলে নরনারায়ণ এই রাজ্যকে বহুদূর বিস্তৃতি দেন।কোচ রাজাদের নাম অনুসারেই এই স্থানের নাম হয় কোচ বিহার, ১৭৭২ সালে ভুটানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে কোচবিহার রাজ ধৈর্জেন্দ্র নারায়ণ ও ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়|যার ফলে কোচ বিহার ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায়|পরবর্তীতে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, অল্প কিছু ভৌগোলিক রাজনৈতিক জটিলতা অতিক্রম করে কোচ বিহার ভারত তথা বাংলার অন্তরভুক্ত হয়|কোচ বিহার বরাবরই ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রচিন নগরী, সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত ‘শাহজাহাননামা’ গ্রন্থে কোচবিহার নামটি উল্লেখ রয়েছে।প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় জয়পুরের বিখ্যাত মহারানী গায়েত্রী দেবী এই কোচ রাজবংশের কন্যা।যার জীবন হয়তো আপনারা আর কদিন পরে রুপোলি পর্দায় দেখতে পাবেন|যারা সত্যজিৎ রায়ের রয়াল বেঙ্গল রহস্য দেখেছেন তারা হয়তো কোচ রাজ্যের বা কোচ বিহারের ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য জানেন|কোচ বিহার বেড়াতে গেলে সবাই কোচবিহার রাজবাড়ি দেখতে যান, আমিও ব্যাতিক্রমী নই, চলুন এবার কোচবিহার রাজবাড়ি নিয়ে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক|কোচবিহার রাজবাড়ি ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ-এর রাজত্বকালে তৈরি হয়। ভিক্টর জুবিলী প্যালেস’ নামেও পরিচিত এই রাজবাড়ি|লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের আদলে এই রাজবাড়িটি নির্মিত|ভিতরে একটি ছোট্ট সুন্দর সুসজ্জিত উদ্যান রয়েছে এবং একটি পুকুর রয়েছে। যেখানে মাছ ছাড়াও কচ্ছপ দেখা যায়।রাজবাড়ি চত্বরে প্রবেশ করলে মনে হতে পারে আপনি টাইম মেশিনে চড়ে চলে গেছেন সুদূর অতীতের গৌরবময় এক সময়ে|প্রাসাদের মোট আয়তন ৫১,০০০ বর্গফুট। মূল কাঠামো ৩৯৫ ফুট লম্বা এবং ২৯৬ ফুট চওড়া। গোটা স্থাপত্য জুড়ে ইউরোপীয় রেনেসাঁস শৈলীর প্রভাব। প্রসাধন ঘর, শোয়ার ঘর, বসার ঘর, খাওয়ার ঘর, বিলিয়ার্ড ঘর, গ্রন্থাগার, তোষাখানা – এগুলোও দেখার মতো।না দেখলে কিন্তু আফসোস থেকে যাবে|কোচ বিহার রাজবাড়ি আর মদন মোহন মন্দির প্রায় সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে যা আজ গোটা বাংলার মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র বলা যায়|বিশেষ করে রাস পূর্ণিমার সময়ে|শোনা যায় যে কোচবিহারের দ্বিতীয় মহারাজা বিক্রমাদিত্য নর নারায়ণ অসমের বৈষ্ণব ধর্মগুরু শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নির্দেশানুসারে বংশীধারীর অষ্টধাতুর বিগ্রহ তৈরী করিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে মদন মোহন নামে জগৎ প্রসিদ্ধ হয়|মদন মোহন মন্দিরে রাজপরিবারের কূলদেবতার বিগ্রহ সহ অন্যান্য দেবদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মন্দিরের মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। একেক কক্ষে একেক দেবীর বিগ্রহ|রাজনৈতিক কারনে যখনই কোচ রাজারা নিজেদের রাজধানী স্থানান্তরিত করতেন, তখনই তাদের গৃহদেবতা শ্রী শ্রী মদনমোহন ঠাকুরেরও স্থান পরিবর্তন হত।তবে তবে বর্তমানে সেই রাজাও নেই রাজত্বও নেই, নেই সেই সাম্রাজ্যবাদের টানাপোড়েন, হানাহানি, তাই বহুকাল এই মদন মহন মন্দিরেই আছেন বংশীধারী|তার দর্শন দেহে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা দেয়|আজ আমি নিজে অনুভব করলাম|চেষ্টা করলাম আপনাদের সাথেও ভাগ করে নিতে|শেষ করার আগে কোচ বিহারের বিখ্যাত রাস মেলা সম্পর্কে দুচার কথা না বললেই নয়, বর্তমানে এই মেলা আর শুধুমাত্র ধর্মীয় গন্ডীতে আবদ্ধ নেই, বরঞ্চ সামাজিক মিলন উৎসবে পরিনত হয়েছে , মেলায় একদিকে যেমন নানারকমের মনোহারি দোকান আসে, তেমনই থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। মন্দির চত্বরে নানারকম ভক্তিমূলক গান, পাঠ, কীর্তন প্রভৃতির ব্যবস্থা থাকে।সারা রাজ্য থেকেই প্রায় আসেন দর্শণার্থীরা|রাসের সময় আসতে পারেন সুযোগ পেলে|আগামী কাল যাওয়ার ইচ্ছে আছে কোচবিহারের বিখ্যাত বানেশ্বর মন্দিরে|তার গল্প ও ইতিহাস যথা সময়ে আবার ভাগ করে নেবো সঙ্গে থাকবে আমার অভিজ্ঞতা|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|


                

মন্দির রহস্য – বড়ো কাছারি মন্দিরের রহস্য

আজ বাংলার এক বিখ্যাত ও একইসাথে রহস্যময় শৈব তীর্থ নিয়ে আলোচনা লিখবো যা বড়ো কাছারি শিব মন্দির নামেই জগৎ প্রসিদ্ধ| দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত বড়কাছারি|এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে| কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে|কাছাড়ি মানে যেখানে বিচার সভা বসে এবং কর্ম ফল অনুসারে শাস্তি বা পুরুস্কার ঘোষণা হয়| জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে হতো তাই তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান| প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বাবার মাথায় জল ঢালতে|ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|শোনা যায় এখানে করা কোনো প্রার্থনাই নাকি বিফলে যায় না| পরের পর্বে আবার এমনই কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – শিঙ্গাপুর শনি দেবের মন্দিরের রহস্য

আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে লিখবো একটি রহস্যময় গ্রাম নিয়ে যে গ্রামের দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সবার ঘরের দরজা খোলা থাকে। ‘খোলা থাকে’ বললেও কিঞ্চিত ভুল হবে, কেননা সেই গ্রামের ঘর-বাড়ির দরজাতে কপাটই নেই; মানে চাইলেও দরজা বন্ধ করার সুযোগ নেই।সেখানেই রহস্য এবং এই রহস্যর কেন্দ্র বিন্দুতে আছে গ্রহরাজ শনিদেব ও তার এক রহস্যময় মন্দির|গ্রামের নামকরনও হয়েছে গ্রহরাজ শনিদেব ও তার একটি মন্দির কে কেন্দ্র করে|শিঙ্গাপুর গ্রামের অবস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশে। জেলার নাম নাভাসা। মহারাষ্ট্রের সুপরিচিত শহর আহমেদ নগর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। জনশ্রুতি আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে গ্রামটিতে একবার প্রচন্ড বৃষ্টি ও বন্যা হয়। বন্যা শেষ হলে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানাশালা নদীর তীরে বিশালাকৃতির কালো রঙের একটি পাথর পাওয়া যায়|প্রথমে কেউ পাথর টির স্বরূপ বুঝতে পারেনি তারপর একদিন সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন একই সময় গ্রামের সবার স্বপ্নে দেখা দিলেন শনি দেব। সবাইকে তিনি জানালেন,এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়, এটি আমার প্রতিমূর্তি। যদি তোমরা আমার উপাসনা করো তাহলে আমি তোমাদের সবার মুক্তি ও নিরাপত্তা দান করবো|শনি দেবতা তার উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে দুটি শর্ত জুড়ে দেন। প্রথমত, এই গ্রামের কোনো এক জায়গায় আমার এ পবিত্র প্রতিমূর্তিটিকে সংরক্ষণ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামের কেউ তাদের ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করতে পারবে না। যদি কেউ ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করে তাহলে তিনি তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব তিনি নেবেন না। কেননা সবার নিরাপত্তা প্রদানের জন্য দেবতাকে যখন তখন সবার ঘরে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। তাছাড়া দরজার কপাট বন্ধ থাকলে দেবতার সুনজর থেকেও গৃহবাসী বঞ্চিত হবে|তারপর তৈরি হলো এক শনি মন্দির প্রতিষ্টিত হলেন শনিদেব|এখানে শনি মন্দিরের উপরে কোনো ছাদ নেই। খোলা আকাশের নিচেই বেদি নির্মাণ করে শনি দেবতার পবিত্র পাথরটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।গ্রহ রাজ শনিদেবের এই আদেশ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছেন এই গ্রামের মানুষ|তাই এই অদ্ভুত ব্যাতিক্রমী রীতি যা ভাবতেও অবাক লাগে|আবার ফিরবো আগামী পর্বে|অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে |জন্ম ছকে গ্রহরাজ পীড়িত বা অশুভ অবস্থায় থাকলে এবং খারাপ ফল দিলে চিন্তার কিছু নেই|জ্যোতিষ শাস্ত্রে তারও সমাধান আছে|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – বুলেট বাবার মন্দিরের রহস্য

আজ অবধি মন্দির মন্দির রহস্যতে আপনাদের শিব মন্দির, কালী মন্দির, গণেশ মন্দির, শনি মন্দির এবং বজরংবলীসহ সব প্রায় সব দেব দেবীর মন্দিরের কথা বলেছি|যে মন্দিরের কথা আজ লিখবো তা কোনো শাস্ত্রসম্মত দেবতারা মন্দির নয়|রাজস্থানের এই মন্দির যেখানে আরাধ্য দেবতা একটি বুলেট বাইক এবং মন্দিরটি বুলেট বাবার মন্দির নামে বিখ্যাত|বিখ্যাত এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে অলৌকিক এক গল্প। তিন দশক আগে ১৯৯৮ সালে ওম সিং রাঠৌর নামে এক তরুণের মৃত্যু হয় পথদুর্ঘটনায়। স্থানীয় গ্রামবাসীর ছেলে ছিলেন তিনি। বুলেট বাবা মন্দিরে পুজো হওয়া বাইকটি আসলে ওম সিং রাঠৌরের । ওই বাইকটি নিয়ে ফেরার পথে পালির কাছে দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। পরদিন পুলিশ তাঁর শবদেহ এবং বাইকটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবি, রাতে আচমকা উধাও হয়ে যায় বাইকটি। সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায় ওম সিং রাঠৌরের দুর্ঘটনার স্থানে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এরকম ঘটনা এক নয় একাধিকবার ঘটে। ট্যাঙ্ক থেকে তেল খালি করে, চেন দিয়ে বেঁধে রাখলেও উধাও হয়ে গিয়েছে বাইকটি।স্থানীয়দের দাবি, আপনাআপনি ইঞ্জিন স্টার্ট হয়ে চালু হয়ে যায় বাইকটি। তারপর থেকেই একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে যায় ওম বাবা নিজে ওই বাইকের মাধ্যমে বেঁচে আছেন। পথদুর্ঘটনায় আর যাতে কারও মৃত্যু না হয় তাই তিনি পাহারা দিতে বেরোন। এরপরই দুর্ঘটনাস্থলের গাছের নীচে প্রতিষ্ঠিত হয় বুলেট বাবার মন্দির।রাজস্থানের যোধপুর থেকে পালির দিকে ৫০ কিমি গেলেই দেখা মিলবে এই বুলেট বাবা মন্দিরের। যেখানে পূজিত হয় ৩৫০ সিসি রয়্যাল এনফিল্ডের এক বহুমূল্য বাইক। বুলেট বাবার মন্দির বা ওম বান্নার মন্দির বলে বিখ্যাত রাজস্থানের এই মন্দির। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পথদুর্ঘটনা থেকে বাঁচাবে এই বুলেট বাবা। তাই এপথে যাত্রার আগে স্থানীয় থেকে পর্যটক, সমস্ত গাড়ি চালকরাই এই মন্দিরে পুজো দেন।শুধু তাই নয় গ্রামবাসীদের দাবী বাইকের কাছে যেকোনও সমস্যার কথা জানালে তা সমাধানও হয়ে যায়|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|থাকবে অনেক অলৌকিক ঘটনা|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – গাদিয়া ঘাট মন্দিরের রহস্য

ভারতে এমন অনেক মন্দির রয়েছে, যেগুলি তাদের বিস্ময়কর এবং অলৌকিকতার জন্য বিখ্যাত।আজ মন্দির রহস্যতে আপনাদের এমন এক মন্দিরের কথা লিখবো যেখানে তেল দিয়ে নয়, জল দিয়ে প্রদীপ জ্বলে|প্রসিদ্ধ এই মন্দিরটি মধ্যপ্রদেশের কালিসিন্ধ নদীর তীরে অবস্থিত আগর মালওয়ার নলখেদা গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গাদিয়া গ্রামের কাছে ।মধ্যপ্রদেশের গাদিয়াঘাট ওয়ালি মাতার নামে বিখ্যাত এই মন্দিরটি বর্ষাকালে জলে তলিয়ে যায়। যার সেই কারনে বর্ষা কালে পূজা করা সম্ভব হয় না। বিখ্যাত এই মন্দিরের পুরোহিতরা জানান যে মন্দিরে প্রদিপ প্রথম থেকেই সর্বদা তেল দিয়ে জালানো হত, কিন্তু কয়েক বছর আগে, মা স্বপ্নে মন্দিরের এক পুরোহিতের কাছে হাজির হন এবং জল দিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে বলেন।এরপর সকালে পুরোহিত কালিসিন্ধ নদী থেকে জল নিয়ে প্রদিপে ভরে ঢেলে দেন। তার পর অগ্নি শিখা প্রদীপে রাখা তুলোর সলতের কাছে নিয়ে গেলে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে।এই দৃশ্য দেখে পুরোহিত নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রায় 2 মাস কাউকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তার পর তিনি ২মাস পর গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানালে প্রথমে কেউ তাকে বিশ্বাস করেনি। যখন গ্রাম বাসি তাকে বিশ্বাস করছিল না তখন তিনি নদী থেকে জল এনে প্রদীপে ঢেলে জ্বালিয়ে দিলে তা জ্বলে ওঠে।এরপর এই অলৌকিক ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে।কথিত আছে, সেই থেকে আজ পর্যন্ত কালিসিন্ধ নদীর জল থেকেই এই মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো হয়।শোনা যায় এখানে বাতিতে জল ঢাললে তা বিশেষ একটি তরলে পরিণত হয় এবং প্রদীপে রাখা শিখা জ্বলতে থাকে।বর্ষাকালে এই মন্দিরটি কালী সিন্ধু নদীর জলতে তলিয়ে যায় বর্ষাকালে জলর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এখানে পূজা করা সম্ভব হয় না।তাই, শারদীয়া নবরাত্রির প্রথম দিনের এখানে আবার শিখা জ্বালানো হয়, যা পরবর্তী বছরের বর্ষাকাল পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।অলৌকিকতায় ভরা এই মন্দিরটি দেখতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। কিন্তু বর্ষাকালে মন্দিরে যাওয়া সম্ভব হয় না।অদ্ভুত এই মন্দিরের খ্যাতি রয়েছে দেশে বিদেশে|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|আরো অনেক এমন অলৌকিক বিষয় নিয়ে কথা হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|