Home Blog Page 120

পুরান কথা – শিবের জন্ম

জগতে শিব সদাশিব রূপে অবস্থান করেন। কখনও কখনও শিবকে বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষকও বলা হয়।আবার তিনি দেবাদিদেব অর্থাৎ দেবতাদের আরাধ্য দেবতা|তিনি তম গুনের অধিকারী তাই সংহার কর্তা|লৌকিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি আপাদমস্তক সংসারী আবার তিনিই আদি অঘোরী|বৈচিত্রপূর্ণ এই একাধিক গুণাবলীর অধিকারী শিবের জন্মের উল্লেখ আছে শাস্ত্রে আছে তার পিতৃ পরিচয়|আদি শিব লিঙ্গ প্রকট হয়েছিলো আদি অন্ত হীন রূপে তবে জন্মসূত্রে শিবের পিতা হলেন ব্রহ্মা। ব্রহ্মার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁর প্রথম মানস পুত্র চতুষ্কুমারগণ প্রজা সৃষ্টিতে লিপ্ত হতে অস্বীকার করলে ব্রহ্মারঅন্তরে দুর্বিসহ ক্রোধ উৎপন্ন হয়েছিল। যা তিনি সংবরণ করার চেষ্টা করলেও তা তাঁর ভ্রূর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং নীললোহিত বর্ণের একটি শিশু উৎপন্ন হয়েছিল। জন্মের পরেই শিশু ক্রন্দন বা রোদন করতে শুরু করে। ব্রহ্মা তখন বলেছিলেন “হে সুরশ্রেষ্ট। যেহেতু তুমি উৎকন্ঠিত হয়ে রোদন বা ক্রন্দন করেছ তাই প্রজাসমূহ তোমাকে ‘রুদ্র’ নামে অভিহিত করবে।” এই হোলো সংক্ষেপে শিবের জন্ম বৃত্তান্ত ও তার রূদ্র নামের ব্যাখ্যা|শিবের নিত্যধাম-মহেশধাম জড়জগৎ ও বৈকুণ্ঠ লোকের মধ্যবর্তী। এ প্রসঙ্গে ব্রহ্মসংহিতাতে বলা হয়েছে “গোলোকনাম্নি নিজ ধান্মি তলে চ তস্য দেবী-মহেশ-হরি ধামসু তেষু তেষু” এখানে দেবীধাম অর্থে জড় জগৎ এবং হরিনাম অর্থে বৈকুন্ঠ লোক এবং মহেশ ধাম তার মধ্যবর্তী। সেই সদাশিবই জড় জগতে রুদ্র রূপে নিজেকে প্রকাশ করেন|পুরানের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ জানা অজানা বিষয় নিয়ে চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দক্ষিন ভারতে পন্ডিতজি – মহাবলীপুরম

দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ অবশ্যই মহাবলীপুরম|মহাবলীপুরমে দেখার জায়গা তো অনেক আছে কারণ এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এখানের মূল আকর্ষণ সপ্তরথ মন্দির ও সমুদ্রতীরের শিব মন্দির। 

মহাবলীপুরমের আরেকটি আকর্ষণ হলো একটি অদ্ভুত হেলানো পাথর। এই পাথর খুবই বিপজ্জনক ভাবে একটি বিন্দুতে আটকে রয়েছে। স্বয়ং সুনামিও এটিকে নড়াতে পারেনি। হয়তো এর পেছনে আছে কোনো জ্যামিতিক খেলা যা আজও রহস্য|

সে সব নিয়ে বলবো তবে আগে বলে রাখি কেনো এই মন্দির গুলি এতো গুরুত্বপূর্ণ|আসলে শুধু ধর্মীয় কারন নয় এগুলি ভারতের হাজার বছরের শিল্প কলা ও ভাস্কর্যকে বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে|শ্রেষ্ঠ শিল্প কর্ম গুলি মন্দিরের গায়েই ফুটিয়ে তলা হতো সেকালে|এগুলি আমায় বরাবর টানে|

এখানকার মন্দির গুলি সাতের দশকের স্থাপত্য যা পল্লব রাজাদের সময়কাল। পাথর কেটে রথের আকারে বানানো মন্দিরের গায়ে মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা খোদাই করা আছে। সপ্তরথ যথাক্রমে নকুল,সহদেব, ভীম, অর্জুন, দ্রৌপদী, ধর্মরাজ ও গণেশ নামে নামাঙ্কিত। 

আলাদা করে বলা যায় সৈকত সংলগ্ন শিব মন্দিরের কথা|শিব মন্দিরের ভেতরটাও খুব সুন্দর ও সেখান থেকে সমুদ্রর দৃশ্যও অসাধারণ। এই মন্দিরও পাথর কেটে বানানো।

সমুদ্রসৈকতের সাতটি মন্দিরের জন্য মহাবলিপুরমকে বলা হত ‘সাত প্যাগোডার দেশ’। ছ’টি সমুদ্রগর্ভে। অক্ষত রয়েছে মাত্র একটি|

অপুর ওই সব শিল্প নিদর্শন দেখে সমুদ্রের তীর ধরে হেঁটে গেলে এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়ে|মনে হয়ে কত কত ইতিহাস কত ঘটনার সাক্ষী এই সমুদ্র|আর মনে হয়ে সেই সব অখ্যাত শিল্পীদের কথা যারা নাম যশ খ্যাতি কিছুই হয়তো পায়নি তবে তাদের সৃষ্টি গুলো রয়ে গেছে যা পৃথিবীর সব আধুনিক শিল্পীর ঈর্ষার কারন হতে পারে|

আবার লিখবো,এখনো অনেক পথ বাকি অনেক অভিজ্ঞতা ও ভাগ করে নেয়ার আছে |ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – দেবী কালী

পুরান মতে আদ্যা শক্তি মা মহামায়া যখন দেবতা বনাম অসুর দের যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তিনি দেবতাদের বরাভয় প্রদান করেন এবং অসুর নিধনে তার রুদ্র রূপ ধারণ করেন। দেবতারা তখন এক প্রকার খুশি হন। কিন্তু অসুরেরা সম্মিলিত ভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। আর অসুরদের এরকম সম্মিলিত লড়াইয়ে মাতা মহামায়া অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং তার তৃতীয় নেত্র থেকে জন্ম নেয় এক অত্যন্ত রুদ্রমূর্তি এবং এই ভয়ঙ্কর রুদ্রমূর্তি হলো মা কালিকা বা মা কালী কেন মা চতুর্ভুজা তার ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আছে আজ পুরান কথায় সেই বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা করবো|শ্রীশ্রী কালী চতুর্ভুজা। সকাম ও নিষ্কাম, সাধক সাধারণত এই দুই প্রকার। সকাম সাধন সংসারে সাফল্য চান আর নিষ্কাম সাধক চান মুক্তি। মায়ের দক্ষিণ হাতে সকাম সাধককে অভয় ও বর দিচ্ছেন আর বাম হাতে খড়গ দ্বারা নিষ্কাম সাধককে মোহপাশ ছিন্ন করতে বলছেন। কালো কেশ আকর্ষণ করে মা তমোগুণকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলছেন। যেহেতু রক্ত রাজসিক গুণের প্রতীক তাই মা মস্তিষ্ক থেকে অসারিত রুধির ধারা শোষিত করে সত্ত্বগুণে উন্নীত হতে শিক্ষা দিচ্ছেন।এবারে বলি কি করে এই কালী মূর্তি পুজোর প্রচলন হলো বঙ্গ সমাজে|কথিত আছে, রামপ্রসাদ সেনের গুরু কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ স্বপ্নে আদেশ পান কালীর প্রসন্ন ভাবমূর্তি রচনা করার। স্বপ্নে দেবী তাকে জানান পরবর্তী ভোরে যে নারীকে তিনি সর্বপ্রথম দেখবেন তার রূপ অনুযায়ী কালীর এক প্রসন্ন প্রতিমূর্তি তৈরী করতে। পরবর্তী ভোরে যে নারীকে প্রথম সে দেখেন তিনি কৃষ্ণবর্ণা, তার ডান পা সামনে, উন্মুক্ত কালো কেশ এবং বাম হাত উত্তোলনের দ্বারা দেয়ালে গোবর স্থাপন করছেন। আকস্মিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশকে সামনে দেখে সেই মহিলা খুব লজ্জা পেলেন এবং তার জিহ্বা বার করে দাঁত দিয়ে চাপলেন। সেই নারীর রূপ অনুসরণ করে আগমবাগীশ মহাশয় কালীর মূর্তিতত্ত্ব অনুযায়ী দক্ষিণা কালীর মূর্তি রচনা করেছিলেন। এর আগে কালী যন্ত্রে কালীপূজা হতো।চলবে পুরান কথা|থাকবে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরানকথা – ব্রহ্মার পুজো

পুরান মতে জগৎ সংসারের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা কিন্তু এখানে প্রশ্ন ওঠে ব্রহ্মার সৃষ্টি তবে কিভাবে হলো আসলে প্রাণ ও জগতের সৃজনের জন্য ব্রহ্মার সৃষ্টি হয়েছে বিষ্ণুর ইচ্ছায়|বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি বা জন্ম। একদিন ব্রহ্মা অহংকার বশতঃ মনে করলেন ‘আমিই সবকিছু করেছি। আমিই সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা। আমিই ব্রহ্মান্ডের মালিক।’তারপর কিভাবে তার ভুল ভাঙলো সেই নিয়েও পুরানে ব্যাখ্যা আছে|শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত আছে দ্বারকাতে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীব্রহ্মাকে আহ্বান করলেন। ব্রহ্মা এসে পৌছালে কৃষ্ণের দ্বারপালগণ জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কোন ব্রহ্মা।’ ব্রহ্মা তখন বিস্মিত হয়ে বললেন, চতুর্মুখ ব্রহ্মা। তারপর সভাকক্ষে প্রবেশ করে দেখলেন বহু বহু ব্রহ্মান্ড থেকে আগত অসংখ্য ব্রহ্মা সেখানে নতজানু হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে প্রণতি নিবেদন করছেন। ব্রহ্মার অহংকার চলে যায়|বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার পূজা পৃথিবীতে সেভাবে প্রচলন নেই বললেই চলে।তাই ব্রহ্মার মন্দিরের সংখ্যাও খুবই সীমিত।কিন্তু এইসব মন্দিরের মধ্যে একটি হল রাজস্থানের পুষ্কর হ্রদের পাশেই অবস্থিত।কিন্তু প্রজাপতি ব্রহ্মার এই মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনও পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ | পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী বলা হয় যে দেবী সরস্বতী দ্বারা অভিশপ্ত এই মন্দিরে কোনো বিবাহিত পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ।বলা হয় যে এখানে পৌরাণিক কালে পুষ্কর জলাশয়ের তীরে যজ্ঞ করছিলেন আয়োজন করেছিলেন প্রজাপতি ব্রহ্মা।এই যজ্ঞ সময় ব্রহ্মাদেবের অর্ধাঙ্গিনী দেবী সরস্বতী সময় মতো উপস্থিত না হতে পারায় ব্রহ্মা দেবী গায়ত্রীকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহন করে যজ্ঞে বসে যজ্ঞ সম্পূর্ণ করেন। এটি দেখে দেবী সরস্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে যান এবং তখন দেবী সরস্বতী শাপ দেন যে মন্দিরে কোনো বিবাহিত পুরুষ প্রবেশ করলে, তার বিবাহিত জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।আর এই থেকেই এই মন্দিরে পুরুষ প্রবেশ নিষিদ্ধ|চলতে থাকবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – দেবী লক্ষী

সনাতন ধর্মে ভগবান একজনই তিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ|তবে দেব দেবী আছেন অসংখ্য|তাদের নিয়ে পুরানে নানা ঘটনা ও ব্যাখ্যা আছে সেই সব জানা অজানা পৌরাণিক ঘটনার নিয়ে হবে পুরান কথা|আজ শুরু করবো দেবী লক্ষীকে দিয়ে|আপনারা অনেকেই গৃহে শ্রী যন্ত্র ব্যাবহার করেন আসলে লক্ষ্মী দেবীর আর এক নাম শ্রী|পরাশর-সংহিতায় যে তিনটি শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম শ্রী|আবার শ্রী শব্দের অর্থ সৌন্দর্য। অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে যার দ্বারা সকলে আশ্রিত হয় তিনিই শ্রী|আবার শ্রী অর্থে ধন ও হয়|তাই যথার্থ অর্থে দেবী লক্ষী ধন, সম্পদ, শান্তি ও সৌন্দর্যর দেবী|দেবী লক্ষীর উৎপত্তি নিয়েও পুরানে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ আছে, বিষ্ণু পুরাণ ও ভাগবত অনুসারে লক্ষ্মী দেবীর উৎপত্তি হয়েছে সমুদ্র থেকে| দুর্বাসা মুনির শাপে স্বর্গ একদা শ্রীহীন বা লক্ষ্মী-ছাড়া হয়ে যায়। তখন বিষ্ণুর পরামর্শে স্বর্গের ঐশ্বর্য ফিরে পাবার জন্য দেবগণ অসুরদের সাথে নিয়ে সমুদ্র-মন্থন শুরু করেন সমুদ্র-মন্থনের ফলে উঠে আসলেন দেবী লক্ষ্মী এবং আবির্ভাবের পর লক্ষ্মী দেবীর স্থান হয় বিষ্ণুর বক্ষে|লক্ষী ও বিষ্ণুর বিবাহ নিয়ে পুরানে উল্লেখ আছে যে একবার দেবী লক্ষী বিষ্ণুকে পতি রূপে পাওয়ার জন্য সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করে বহুকাল কঠোর তপস্যায় নিমগ্ন হলেন এবং লক্ষ্মীর তপস্যায় তুষ্ট হয়ে একদিন বিষ্ণু নিজে লক্ষ্মীর সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর ইচ্ছায় বিশ্বরূপ দেখালেন তারপর বিষ্ণু ও লক্ষী দেবীর বিবাহ সম্পন্ন হলো|বীরভূমে রয়েছে এক প্রাচীন লক্ষী মন্দির এবার সেই মন্দির নিয়ে এক অলৌকিক ঘটনার কথা আপনাদের বলি|প্রায় পাঁচশো বছর আগে বীরভূমে এই গ্রামে আসেন পূর্ববঙ্গের এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী কামদেব ব্রহ্মচারী। এই গ্রামের একটি নিমগাছের তলায় সাধনস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিনে পর এক গ্রামবাসী দীঘির ধারে জমিতে চাষ করছিলেন সে হটাৎ দেখতে পায়,দীঘির জলে একটি পদ্মফুল ভেসে যাচ্ছে।পদ্মফুল তুলতে নেমে পড়েন দীঘিতে ফুটে থাকা পদ্মফুল দেখতে পেলেও নাগাল পান না কিছুতেই।সেই রাতে মা লক্ষ্মীর স্বপ্নাদেশ পান ওই গ্রামবাসী, ওই দীঘির জলেই নিরাকার রূপে দেবী লক্ষী অবস্থান করছেন। পর দিনই দীঘিতে নিম কাঠ ভাসতে দেখেন তুমি । সেই কাঠ তুলে এনে দেবীর নির্দেশ মতো গ্রামের নিম গাছতলায় আসন পাতা কামদেব ব্রহ্মচারীর কাছে নিয়ে যান এবং সাধক ওই নিম কাঠ থেকে লক্ষ্মীমূর্তি গড়ে তোলেন। সেই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় গ্রামেই।আজও ওই মূর্তি পূজিত হয় এখানে|চলতে থাকবে পুরান কথা|আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|

তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – কন্যা কুমারী

কখনো পেশাগত কারনে কখনো আবার নিছক বেড়ানোর আনন্দ উপভোগ করতে ঘুরে বেড়িয়েছি দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে|শুধু তীর্থ যাত্রা নয়, বৈচিত্র পূর্ণ আমাদের দেশের মানুষ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি সবই আমায় মুগ্ধ করেছে বার বার|নানা রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে|সেই সব উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেবো এক এক করে|আজ শুরু করবো দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ দিয়ে, শুরুতেই কন্যাকুমারী প্রথমেই বলি কন্যাকুমারী থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত অনবদ্য।এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার অদ্ভুত বৈচিত্র লক্ষ করা যায়|সমুদ্রের তীরে দেবী কুমারী আম্মান মন্দির। আজও পার্বতী এখানে কুমারীরূপে শিবের প্রতীক্ষারত। কাছেই লঞ্চঘাট। বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালে যাওয়ার জন্য লঞ্চ ছাড়ছে। সাগরের মাঝে পাথুরে টিলার ওপর অজন্তা ও ইলোরার গুহামন্দিরের আদলে তৈরি রক টেম্পলটি।ভৌগোলিক ভাবে ভারতবর্ষের ম্যাপের একেবারে শেষবিন্দুতে তিনসাগরের মিলনক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিমাখা শহর কন্যাকুমারী ভারতের একেবারে দক্ষিণে পুণ্যতীর্থ কন্যাকুমারী এর অবস্থান। আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের ত্রিবেণী সঙ্গম হয়েছে এখানে।চারপাশে সমুদ্র আর উত্তাল জল রাশি আপনাকে নিয়ে যাবে এক অপার্থিব কল্পনার স্বর্গ রাজ্যে|বিবেকানন্দর সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এই স্থানের|বিদেশ পাড়ি দেয়ার আগে এই স্থানে ধ্যান মগ্ন হয়েছিলেন স্বামীজী|আজও এখানে ব্রোঞ্জের অবয়বে দাঁড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দ।অন্যদিকে আরও এক বিশাল পাথরখণ্ডের ওপর ১৩৩ ফুটের মূর্তি তামিল কবি তিরুভাল্লুভারের। কুমারী মন্দিরের কাছে গান্ধী মেমোরিয়ালও একটি দর্শনীয় স্থান। গান্ধীজির চিতাভস্ম এখানে রাখা হয়েছিল।তিনটি কারণে কন্যাকুমারী বিশেষ এবং ব্যাতিক্রম প্রথম এটি ভারতের শেষ বিন্দু বা মূল ভূখণ্ডের শেষ প্রান্ত। দ্বিতীয় এখানে বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর আর ভারত মহাসাগরের মহামিলনে নীল জলরাশির এক রুদ্ধশ্বাস রোমাঞ্চ থাকে সব সময়। তৃতীয় এখানে আছে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম চিন্তাবিদ এবং গুরু স্বামী বিবেকানন্দের নামাঙ্কিত ‘বিবেকানন্দ রক’। ভারতের বৈচিত্র ও বিশালত্ত্ব অনুভব করতে হলে আসতেই হবে এখানে|আবার পরের পর্বে দক্ষিণ ভারতের অন্য কোনো তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে ফিরে আসবো|ভাগ করে নেবো আমার অভিজ্ঞতা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ঘাট শিলায় পন্ডিতজি

পেশাগত কারনে এই মুহূর্তে ঘটশিলার পথে, যেতে যেতে এই আদিম অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার ইচ্ছে হলো তাই কলম ধরলাম,

চারিদিকে উঁচু নীচু পাহাড়ের টিলা,নদী, জঙ্গলে ঘেরা এই শান্ত পরিবেশ ঘিরেই ঘাটশিলার প্রকৃতি।
ঘাটশিলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। কথিত আছে এই নদীর বালুতটে নাকি সোনা পাওয়া যায় এখনও তাই এই নদীকে সুবর্ণরেখা নদী বলা হয়।

ঘাটশিলা মহান বাঙালি ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের জন্যও বিখ্যাত, তাঁর অন্যতম প্রধান উপন্যাস “পথের পাঁচালী” অনুপ্রাণিত হয়েছিলো এই মনোরম প্রকৃতির দ্বারা যে গল্প নিয়ে পরবর্তীতে সিনেমা বানিয়েছেন সত্যজিৎ রায়।প্রকৃতিপ্রেমী লেখক এখানে একটি বাড়িও করেছিলেন, নাম দিয়েছিয়েন “গৌরী কুঞ্জ”, তাঁর স্ত্রী’র নাম অনুসারে এই বাড়ির নামকরণ করা হয়।

ঘাটশিলার একটি পৌরাণিক সংযোগ ও রয়েছে, এখানে রয়েছে পঞ্চপান্ডব পাহাড় যা মহাভারতের পাণ্ডবের পাঁচ ভাইয়ের প্রাকৃতিক সৃষ্টি বলে ধরা হয়|পাহাড়ের কথা উঠলে এখানকার ফুলডুংরী পাহাড়ের কথা এসেই পরে, এই পাহাড়ের চূড়া থেকে ঘাটশিলা শহরের একটি দুর্দান্ত দৃশ্য দেখতে পারবেন|

ঘাটশিলায় একটি অতি প্রাচীন ও জনপ্রিয় মন্দির ও রয়েছে, ধলভূম রাজা জগন্নাথ গালুদিহে “রঙ্কিনী মন্দির” নির্মাণ করেছিলেন যা ঘটশিলার দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম|

আপনার মধ্যে যদি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে একবার অবশ্যই আসতে হবে ঝাড়খন্ডের এই পাহাড়ি এলাকায়|পাহাড়, নদী, অরণ্যে, টিলা, মন্দির, প্রাকৃতিক ঝর্না সব মিলিয়ে এই ঘাটশিলা আপনাকে নিয়ে যাবে এক আদিম নৈসর্গিক প্রকৃতির মাঝে যেখান থেকে হয়তো আর কৃত্তিম ও যান্ত্রিক শহরে ফিরে আসতে মন চাইবেনা|

আপাতত এই প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে এগিয়ে যাওয়ার পালা নিদ্দিষ্ট গন্তব্যে|আবার লিখবো যথা সময়ে, অন্য কোনো পর্যায়ে অন্য কোনো স্থান নিয়ে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

জয় হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

আজ হনুমান জয়ন্তী, আজ তার জন্মতিথিতে তার জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা হয়তো অনেকেরই অজানা|অনেকেই মনে করেন বজরংবলী ব্রহ্মচারী, অবিবাহিত| একথা আংশিক সত্য,পুরান অনুসারে হনুমান বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে|আবার তিনি ব্রহ্মচারী এবং সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীও বটে! কিকরে সম্ভব?সূর্যদেব ছিলেন হুনুমানের শিক্ষক, তিনি নয়টি ব্যাকরণ সূত্রের নবনিধীর শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নবম সূত্রটি কেবল মাত্র বিবাহিত দের জন্যে তাই বিবাহ করা বাধ্যতামূলক ছিলো|এই কারনে শিবের আশীর্বাদে শুভ্রলা নামে একটি কন্যা সৃষ্টি হয় এবং হনুমানের সাথে তার বিবাহ হয় ও বিবাহের পরের মুহূর্তেই শুভ্ৰলা অদৃশ্য হয়|এই ভাবে বিবাহিত হয়েও ব্রহ্মচারী রয়ে গেলেন হনুমান|অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে হনুমান তার স্ত্রী শুভ্ৰলার সাথে একত্রে পূজিত হন|এবার আসি হনুমানের পুত্রের বিষয়ে, হ্যাঁ তার একটি পুত্র ছিলো যার জন্ম হয়ে ছিলো অদ্ভুত ভাবে, লঙ্কা অভিযানের সময়ে হনুমানের শরীরের এক ফোঁটা ঘাম পড়েছিলো সমুদ্রে এই ঘামের বিন্দু থেকে জন্মান হনুমান পুত্র মকরধজ|আজ হনুমান জয়ন্তীতে এইটুকুই|সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|সুস্থ থাকুন|জয় হনুমান|ধন্যবাদ|

শুভ নববর্ষ

আজ আমাদের মানে বাঙালিদের বড়ো আনন্দের দিন, আজ নতুন বাংলা বছরের সূচনা,আমরা ঢুকে পড়ছি একটি নতুন বছর 1429 সালে|প্রথমেই আপনাদের জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা|

বাংলায় আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়|
এককালে এই দিনটায় হতো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেন
আবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে|

ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে|

পয়লা বৈশাখ থেকে বাংলা বছর গণনা শুরু হয় আকবরের আমল থেকে, সেদিক দিয়ে আলাদা করে বাংলা নব বর্ষ বা পয়লা বৈশাখ পালনের কারন কিছুটা অর্থনৈতিক|জমিদাররা এই দিন থেকে রাজস্ব দানের নতুন খাতা শুরু করতেন|
মুঘল আমলের প্রথম দিকে ইসলামিক রীতি অনুসারে হিজরি সন অনুযায়ী চলত শাসন। কিন্তু সমস্যা হত খাজনা আদায়ে। কারণ চাঁদের ওপর এই সন নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সঙ্গে মিলত না। খাজনা আদায়ের বিষয়টিকে আরও মসৃণ  করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন সম্রাট আকবর। তাঁর নির্দেশেই জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেউল্লাহ সিরাজি বাংলা সন গণনা শুরু করেন। প্রথমে একে বলা হত ফসলি সন। পরে বঙ্গাব্দ শব্দটি প্রবর্তিত হয়।  সেই সময়ে চৈত্র মাসের শেষের দিন খাজনা আদায়ের শেষ দিন বলে ধরা হত।আর তারপর দিন উৎসব হিসেবে নব বর্ষের সূচনা বা পয়লা বৈশাখ পালন করা হতো|এই রীতি অনুসরণ করেছিলেন মুর্শিদকুলি খা যা বাঙালির ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রে এখনো চলছে, আজও এই দিনে নতুন হাল খাতা চালু হয়|

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্রেও পয়লা বৈশাখের গুরুত্ব রয়েছে সাধারণত চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তি বা মহাবিষুবসংক্রান্তির দিন পালিত হয় চড়কপূজা অর্থাৎ শিবের উপাসনা। এইদিনেই সূর্য মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে প্রবেশ করে, গ্রহের এই সঞ্চার মানুষের জীবনকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে|সে নিয়ে পরে কখনো বিস্তারিত আলোচনা করবো|

এখন বাঙ্গালীর প্রধান উৎসব গুলোর অন্যতম এই পয়লা বৈশাখ তবে এখন আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই পয়লা বৈশাখ পালন, এই বিশ্বায়নের যুগে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে বাঙালি আর পয়লাবৈশাখ ও পালিত হচ্ছে গোটা বিশ্ব জুড়ে, আজ বাঙালির শ্রেষ্ট উৎসব গুলোর মধ্যে অন্যতম এই বর্ষবরণ উৎসব|গাজনের মেলা, চরক উৎসব এই নববর্ষ উদযাপনকে অন্য মাত্র দেয়|

সব গ্লানি ও ব্যার্থতা ভুলে নতুন বছর নতুন করে শুরু করুন|আপনাদের সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব ভূমি – কলেশ্বর শিব মন্দির

আজ শুরু করবো এই চরক এবং গাজন উৎসব নিয়ে,চরক মূলত বাংলার লৌকিক উৎসব হলেও পুরানে এর উল্লেখ আছে , লিঙ্গ পুরানে স্পষ্ট বলা আছে চৈত্র মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা নাচ গানের প্রথাকে বলে চরক|আবার অন্য একটি তথ্য অনুসারে বানরাজ দ্বারকাধীশ কৃষ্ণর কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তার আরাধ্য মহাদেবকে নিজ রক্ত নিবেদন করে তুষ্ট করেন অমরত্ব লাভের আশায় সেই সাধনাকে স্মরণ করা হয় চরক উৎসবের মাধ্যমে|লোকমুখে শোনা যায় যে ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা প্রথম করেছিলেন এই পুজো এবং ক্রমে তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সারা বাংলা জুড়ে|এককালে সাধু সন্ন্যাসীরা বিরাট শোভাযাত্রা বের করতো চরক উপলক্ষে, শরীরে তীক্ষ্ণ অস্ত্র বিঁধিয়ে দেয়া থেকে আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ, বঁটি ঝাঁপ অনেক রীতিই পালন হতো|গ্রামবাংলায় আজও চৈত্রের শুরু থেকেই ধ্বনিত হয় ‘বাবা তারকনাথের চরণে সেবা লাগে’। সমাজের প্রান্তিক স্তরের নারী-পুরুষের একাংশ সন্ন্যাস পালন করেন। কেউ কেউ আবার শিব-পার্বতী সেজে হাতে ‘ভিক্ষাপাত্র’ নিয়ে বের হন।কিছু অঞ্চলে চরকের মেলাও বসে যা চলে পয়লা বৈশাখ অবধি|এই চরক স্থান বিশেষে কোথাও নীল পুজো কোথাও গম্ভীরা কোথাও গাজন উৎসব|আজকের শিব ভূমি নিয়ে আলোচনায় এবার শুরু করাযাক শিবভূমি বীরভূমে বিক্ষিপ্ত ভাবে বহু ঐতিহাসিক শিবমন্দির রয়েছে যারা মধ্যে অন্যতম কলেশ্বর শিব মন্দির|নানা সময় নানা কিংবদন্তি, জনশ্রুতি, লোককথা প্রচলিত আছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, বহু মুনি ঋষির সাধনাক্ষেত্র ছিল কলেশ্বর ধাম। পর্বত নামে এক ঋষি এখানে দেবী পার্বতীর তপস্যায় রত ছিলেন। তাঁরই নামানুসারে গ্রামের নাম ছিল পার্বতীপুর। ঘন জঙ্গলাকীর্ণ ছিল তখনকার এই অঞ্চল। আবার লোকমুখে শোনা যায়, ধানঘড়া গ্রামের কলেশ ঘোষ পুজো করে শিবকে তুষ্ট করেন|তার নাম অনুসারেই নাম কলেশ্বর হয়েছে|মন্দিরটির ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানা যায়, সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে স্থানীয় ঢেকার স্বাধীনচেতা নরপতি রামজীবন রায় মন্দিরটি সংস্কার বিষয়ে মনোনিবেশ করেন। তিনি নিজে শিব শক্তির উপাসক ছিলেন আর স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরে মন্দিরটি মোহনীয় রূপে তৈরিতে ব্রতী হন। তখনই নির্মিত হয় নয়টি চূড়া বিশিষ্ট সুউচ্চ মন্দির।বর্তমান কলেশ্বর-কলেশনাথ মন্দিরের উচ্চতা একশো ফুটেরও বেশি। ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী তিথিতে শৈবতীর্থ কলেশ্বর ধামে শিবরাত্রি ব্রত উৎসব পালন করা হয়। আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|চরক ও গাজন উৎসবের আনন্দে নিন|শুভ নব বর্ষের আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|