আপনারা জানেনা শিবের দুই ছেলে কার্তিক আর গণেশ কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না মহাদেবের কিন্তু আরও এক পুত্রসন্তান রয়েছে, তিনি আয়াপ্পা, দক্ষিণ ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়| বাবার মতোই তিনিও মহাগুণের অধিকারী|কার্তিক, গণেশের পরই শিবের পুত্রসন্তান হিসাবে মনে করা হয় আয়াপ্পাকে আজকের পুরান কথায় বলবো এই দেবতা আয়াপ্পার কথা|কথিত আছে, ভষ্মাসুরের হাত থেকে মহাদেবকে রক্ষা করতেই বিষ্ণু মোহিনীরূপ ধারণ করেন পরবর্তীতে এই মোহিনী অবতার ও শিবের মিলনের ফলে জন্মান আয়াপ্পা|ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে দেবর্ষি নারদ শিবকে বিষ্ণুর মোহিনী রূপ সম্পর্কে বলেন যার দ্বারা তিনি অসুরদের সাথে ছলনা করেছেন। শিব এই কথা অবিশ্বাস করেন। শিব এবং তার স্ত্রী পার্বতী বিষ্ণুলোকে গমন করেন। শিব বিষ্ণুকে পুনরায় তার মোহিনী রূপ গ্রহণ করতে বলেন, যাতে শিব নিজে বিষ্ণুর এই রূপান্তরকে দেখতে পারেন। বিষ্ণু হাসেন, এবং তিনি পুনরায় ধ্যান করে মনোমুগ্ধকর মোহিনীরূপ লাভ করেন।মোহিনী রূপ দেখে শিব মুগ্ধ হন ও মোহিনীকে জীবন সঙ্গিনী রূপে পেতে ইচ্ছে প্রকাশ করে বসেন এবং ভক্ত ও ভগবানের এই লীলায় এক শিশুর জন্ম হয়|পরে মোহিনী অদৃশ্য হয়ে যান, এবং শিব পার্বতীকে নিয়ে নিজ বাসভূম কৈলাসে ফিরে আসেন|এই শিশুই পরবর্তীতে দক্ষিণ ভারতে আয়াপ্পা হিসেবে পূজিতা হন|এই ঘটনার অনেক রকম ব্যাখ্যা দেয়া হয়। অনেকে একে “লীলা” হিসেবে দেখেন এবং বলেন যে পরবর্তীতে শক্তিশালী অসুরদের বধ করার নিমিত্তে এই প্রক্রিয়ায় আয়াপ্পার জন্ম দেয়া হয়|বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের সবরি মালা মন্দিরে বিরাজমান আয়াপ্পার কাছে মহিলাদের প্রবেশ অধিকার না থাকায় বিতর্কও হয়েছেন আইনি লড়াই ও হয়েছে তবে মহিলাদের লর্ড আয়াপ্পার তেজ থেকে রক্ষা করতে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো প্রাচীন কালে এর সাথে তাদের অশ্রদ্ধা ও অসম্মানের কোনো সম্পর্ক নেই|আবার পরের পর্বে এমনই কোনো পুরান কথা নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র
মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র হয়তো অনেকেই শুনেছেন এই মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র কি এবং কেনো এত শক্তিশালী তা জানতে হলে জানতে হবে এক পৌরাণিক ঘটনা|শিবের পরম ভক্ত ছিলেন শ্রীখণ্ড ঋষি। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান|সন্তানলাভের উদ্দেশ্য তিনি মহাদেবের আরাধনা শুরু করেন। শ্রীখণ্ডের প্রচণ্ড তপস্যায় খুশি হয়ে মহাদেব তাকে সন্তানসুখ দান করেন |কিন্তু এই আনন্দের সঙ্গে তাঁর জীবনে শোকও আসবে বলে জানান শিব। এরপর মার্কণ্ডেয় নামে শ্রীখণ্ডের একটি পুত্রসন্তান হয়। কিন্তু তাঁর ভাগ্য গণনা করে ঋষি দেখেন যে অসাধারণ প্রতিভাধর এই সন্তানের আয়ু মাত্র বারো বছর পর্যন্ত। মার্কণ্ডেয় ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। তাঁর মা ছেলের মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে এই ভেবে সব সময় শোকে কাতর হয়ে থাকতেন।শ্রীখণ্ড তাঁর স্ত্রীকে এই বলে স্বান্তনা দেন, যে ভগবান মার্কণ্ডেয়কে তাঁদের কোলে দিয়েছেন, তিনিই তাঁকে রক্ষা করবেন।মাকে খুশি করার জন্য মার্কণ্ডেয় ঠিক করলেন যে মহাদেবের কাছ থেকে তাঁকে দীর্ঘ জীবনের বর লাভ করতে হবে। শিবের আরাধনার জন্য মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র রচনা করলেন মার্কণ্ডেয় এবং শিব মন্দিরে বসে টানা এই মন্ত্র পাঠ করতে লাগলেন তিনি।বারো বছর সম্পূর্ণ হলে যমদূতেরা তাঁকে নিতে এল। মার্কণ্ডেয়কে মহাকালের আরাধনা করতে দেখে তারা তাঁর ধ্যান ভঙ্গ করার সাহস পায় না এবং যমরাজের কাছে ফিরে যায়। তখন যমরাজ নিজে মার্কণ্ডেয়কে নিতে আসেন। যম মার্কণ্ডেয় টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি শিবলিঙ্গকে জড়িয়ে ধরেন। তখন প্রচণ্ড আওয়াজ ও আলোর চ্ছটায় কেঁপে ওঠে মন্দির। শিবলিঙ্গ থেকে আত্মপ্রকাশ করেন স্বয়ং মহাদেব।যমের দিকে ত্রিশুল উঁচিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন যে তাঁর ধ্যানে মগ্ন ভক্তকে তিনি টেনে নিয়ে যাওয়ার সাহস কোথা থেকে পান? মার্কণ্ডেয়কে এরপর দীর্ঘ জীবনের আশীর্বাদ দেন শিব। তখন যম জানান যে এরপর থেকে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র যিনি জপ করবেন, তাঁকে অকালে মৃত্যু স্পর্শ করবে না।মহা মৃত্ত্যুঞ্জয় মন্ত্র তাই এতো শক্তিশালী ও প্রভাবশালী|চলবে পুরান কথা|আবার আগামী পর্বে এমন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরানকথা – অক্ষয় তৃতীয়া
আজ অক্ষয় তৃতীয়া মূলত তিনটি পৌরাণিক ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে আজকের পবিত্র তিথি|জানাবো সেই পৌরাণিক গুলি সম্পর্কে ও তাদের তাৎপর্য|প্রথমেই বলতে হয় ধন ও সম্পদের দেবতা কুবেরের কথা|কুবের হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য আবার সম্পর্কে তিনি রাবনের দূরসম্পর্কের ভাই|তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|অবশ্য কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|পুরাণ মতে, এক অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব এবং দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা কৈলাসের কাছে অলকায় কুবেরের প্রাসাদ তৈরি করে দেন যা অলোকাপুরী নামে খ্যাত|শুধু হিন্দু ধর্ম নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ধন সম্পদের দেবতা হিসেবে পূজিত হন কুবের|দ্বিতীয় যে কারনে অক্ষয় তৃতীয়া তাৎপর্যপূর্ণ তাহলো এই দিনই মহাভারত রচনা শুরু হয়ে ছিলো ব্যসদেব এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।মূলত এই কারনেই যে কোনও কাজ আরম্ভের জন্য এই দিনটিই প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|তৃতীয়ত বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে। এই কারণে দেশের কোনও কোনও জায়গায় দিনটি ‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|আপনাদের সবাইকে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|চলবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
পুরান কথা – শিব ও শঙ্কর
আজ সোমবার শাস্ত্র মতে শিবের বার |আচ্ছা শিব ও শঙ্কর কি একজন নাকি দুই ভিন্ন সত্ত্বা? আজকের পুরান কথার এই পর্বে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো|জানবো পুরানে এই সম্পর্কে কি বলা আছে|শিবপুরাণ এবং শৈবাগম শাস্ত্র এই দুই গ্রন্থে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে|এই বই দুইটি-তে বলা হয়েছে শিব নামটি-র সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিবলিঙ্গের কথা। অন্যদিকে শঙ্কর নামটি হল ভগবানরূপে কল্পিত শিব-এর মানবরূপী পরিচয়। যার ফলে শিব পূজোয় যখন কল্পিত আচার পালন হয় সেখানে শিবকল্প ও শঙ্করকল্পের মধ্যে আচার-বিধির তফাৎ আসে। শিব ও শঙ্কর এই দুটি সবচেয়ে বেশি করে হিন্দু সমাজে ঘোরাফেরা করে। বিশেষ করে যারা ধর্মীয় ভাবাবেগকে দর্শন করে ঈশ্বর কল্পনায় মূর্ত হন তাদের কাছে শিব ও শঙ্কর নাম দুটি নিয়ে প্রবল ধাঁধা রয়ে গিয়েছে|শৈবাগম শাস্ত্র বলছে, শিব একটি পরমসত্তা। তিনি মহাজাগতিক চৈতন্য বা পরাচৈতন্যের প্রতিভূ। শিবলিঙ্গের অবয়ব সে সত্তা-কে স্মরণ করে। অন্যদিকে শঙ্কর হল শিবের একটি মানবায়িত রূপ। সেইসঙ্গে তিনি সুক্ষ্মদেহ সম্পন্ন এক সত্তা। তিনি ধ্যানরূপেণ পূজিত হন।শঙ্করের মাথায় অর্ধচন্দ্র, কন্ঠে সর্পাহার এবং জটায় গঙ্গাকে ধারণ করেছেন। শঙ্করেরর মূর্তিকল্পে যে যে বিষয়গুলির উপরে নজর দিতে হয় সেগুলি হল অর্ধচন্দ্র, যা মাথার জটার মধ্যে থাকে। এর অর্থ হল জ্ঞানের প্রতীক। হাতে থাকে ডমরু। এর অর্থ হল অদ্বৈত। গলায় থাকে সাপের কুন্ডল। এর মানে এটি হল কুলকুন্ডলিনীর প্রতীক। ত্রিশূল কখনও ত্রিগুণ, কখনও ত্রিকাল, কখনও বা সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের যে তিন তত্ত্ব আছে তাকে ব্যাখ্যা করে। গঙ্গা বিশুদ্ধতার প্রতীক। যা বিশুদ্ধ জ্ঞানকে সংযোগ করে। তৃতীয় নয়ন মানে হল ত্রিকাল দর্শন।শিব লিঙ্গ অর্থাৎ শক্তির আধার বা অফুরন্ত শক্তির প্রতীক রূপে পূজিত হন|দুই পুরাণ গ্রন্থে এমন কাহিনিও রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে শিব ব্রক্ষ্মার মাধ্যমে সত্যযুগের সৃষ্টি করেছিলেন। এবং শঙ্কর-কে তিনি মানবরূপে নিয়ে এসেছিলেন কলিযুগে যাতে তিনি সৃষ্টি-কে সংহার করতে পারেন। সংক্ষেপে শিব হল দৈব্যভাবের প্রতীক। আর শঙ্কর মানে তার বিমূর্ত রূপকেই বোঝায়|চলবে পুরান কথা|আবার আগামী পর্বে এমন কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|
তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – রামেশ্বরম
তীর্থ যাত্রার অভিজ্ঞতা বিশেষ করে দক্ষিন ভারত ভ্রমণ পর্ব অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি আলাদা করে রামেশ্বরমের কথা না বলি|ভৌগোলিক ভাবে তামিলনাড়ুর উপকূলীয় শহর রামেশ্বরম যেখানে রয়েছে বহু পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন যার আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য অপরিসীম|কথিত আছে সীতা উদ্ধারের পরে লঙ্কা থেকে ফিরে রামেশ্বরমে শিবের আরাধনা করেন রামচন্দ্র। রাবণকে বধ করে তিনি যে ব্রহ্মহত্যা করেছিলেন,সেই পাপ ধুয়ে যায় এই স্থানে|

রামেশ্বরম এ রয়েছে রামানাথস্বামী মন্দির যেখানে রয়েছে দুটি শিব লিঙ্গ|একটি রামের অনুরোধে ভগবান হনুমানের কাছ থেকে হিমালয় থেকে আনা হয়েছিল, এবং অন্যটি সীতা দ্বারা বালি থেকে তৈরি হয়েছিল|রামেশ্বরমে রয়েছে রাম সেতু যাকে রামায়নের সময়ে ভগবান রামের নির্মিত সেতুর অবশিষ্টাংশ বলে মনে করে। এমনকি 1480 সালে একটি ঘূর্ণিঝড় দ্বারা এটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সেতুতে হাঁটা সম্ভব ছিল নাসার উপগ্রহ চিত্রেও ধরা পরে এই অদ্ভুত সেতু|শুধু আধ্যাত্বিক নিদর্শন নয় রয়েছে প্রকৃতির অদ্ভুত সৌন্দর্য যা আপনি প্রাণ ভরে উপভোগ করতে পারেন|ধনুশকোডির কাছে আরিচামুনাই পাখি অভয়ারণ্য যেখানে শীত কালে উড়ে আসে ঝাঁক ঝাঁক পরিযায়ী পাখি|সাক্কারাকোট্টাই পাখি অভয়ারণ্য, মূল ভূখণ্ডের রামেশ্বরম থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে যেখানে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি ও বন্য প্রাণের|রামেশ্বরমে রয়েছে ভারতের 11 তম রাষ্ট্রপতি, A.P.J. এর শৈশবের বাড়ি যা বর্তমানে একটি সংগ্রহ শালায় পরিণত হয়েছে|রামেশ্বরম এক অদ্ভুত অনুভূতি জাগিয়ে তোলে প্রতিটি পর্যটকের মনে|এখানে পুরান, ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, ইতিহাস ও প্রকৃতির অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটে যা বহুকাল মনে থেকে যায়|স্মরণীয় হয়ে আছে আমার রামেশ্বরম ভ্রমণ|আবার ফিরে আসবো অন্য তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গ্রহরাজ শনিদেব
আজ পুরান কথায় গ্রহরাজ শনিদেবকে কেন্দ্র করে ঘটা এক পৌরাণিক ঘটনার কথা বলবো যেখানে রয়েছেন লংকাঅধিপতি রাবন এবং রুদ্রঅবতার হুনুমান|রাবন পুত্র মেঘনাথ যখন জন্ম গ্রন্থন করেন তখন আকাশে শনিদেবের খুব প্রভাব চলছিল|রাবন চেয়েছিলেন মেঘনাথের জন্মের সময় সব গ্রহরা তার অনুকূলে থাকবেন|এমন ভাবে তারা অবস্থান করবেন যাতে মেঘনাথ হবেন অমর ওঅপরাজেয়|নিজের ক্ষমতার অপব্যাবহার করে রাবন সব গ্রহদের বন্দী করলেন এবং একটি নিদ্দিষ্ট ভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করলেন কিন্তু চতুর শনিদেব চক্রান্ত করলেন এবং নিজের পা ব্যবহার করে তার নিদ্দিষ্ট ভাবের সীমানা অতিক্রম করে অন্য রাশিতে নিজের সঞ্চার ঘটালেন|ফলে মেঘনাথের জন্ম কালে হিসেব উল্টো পাল্টা হয়ে গেলো এবং শনিগ্রহের এই প্রভাবে মেঘনাথর আর অমরত্ব পাওয়া হয়নি|এই ঘটনায় রাবন খুব রেগে যান এবং শনিদেব কে আঘাত করে বসলেন| রাবন ছিলেন অনেক বড় যোগী। যোগ বলে তিনি শনিদেবকে আটক করে রেখেছিলেন লঙ্কাতে|পরবর্তীতে হনুমানজী যখন রামজীর দেওয়া আংটি সীতা মাতাকে পৌঁছে দিতে লঙ্কা পৌছন তখন দেখেন শনিদেব আটক রয়েছেন। উনি সব কথা শোনেন এবং শনিদেবকে সেখানে থেকে মুক্ত করেন। কৃতজ্ঞতা বসত শনিদেব কথা দেন তিনি রামচন্দ্র ও হনুমানজীর ভক্তদের বিশেষ আশীর্বাদ অর্পন করবেন|তবে এর পরেও একাধিক বার শনিদেব ও হনুমান মুখোমুখি হয়েছেন|সে নিয়েও আছে রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী|সেই সব ঘটনা বলবো যথা সময়ে|চলতে থাকবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|যারা অনলাইন বা চেম্বারে জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান নির্দ্বিধায় উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরানকথা – শুক্রচার্য
আমাদের শাস্ত্রে এবং পুরানে যে শুধু দেব দেবী বা অসুরের উল্লেখ রয়েছে তা নয় তার পাশাপাশি বহু ঋষি মুনির জীবন বৃত্তান্ত আছে যাদের মধ্যে অন্যতম শুক্রচার্য|আজ পুরান কথায় শুক্রচার্যর জীবন ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো|শুক্রচার্য ছিলেন মহর্ষি ভৃগুর ও কাব্যর পুত্র এবং তিনি ছিলেন অসুরদের পুরোহিত। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে অবিরাম যুদ্ধ চলত এবং এই একটানা যুদ্ধে অসুরদের একটি বিশেষ সুবিধা এই ছিল যে তাদের সঙ্গে শুক্রাচার্য ছিলেন। তাঁর ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। এবং তাঁর কাছে সঞ্জীবনী শক্তি ছিল। সঞ্জীবনী মন্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধে মৃতদের তিনি পুনরুজ্জীবিত করতে পারতেন।প্রত্যেক দিনের শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে যতজন অসুর মারা যেতেন তারা আবার বেঁচে উঠতেন এবং পরদিন সকালে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতেন।কিন্তু কেনো শুক্রচার্জ অসুরদের পক্ষ নিলেন তার উত্তর রয়েছে পুরানে|একবার দেবতা ও অসুরদের যুদ্ধে অসুরদের আধিপত্য থাকায় দেবতারা বিষ্ণুদেবের কাছে সাহায্য চান। বিষ্ণুদেব অসুর বধে উদ্যত হলে দেখেন ভৃগুপত্নীর আশ্রয়ে অসুররা সুরক্ষিত। তখন বিষ্ণু কাব্য মাতাকে অনুরোধ করে অসুরদের ছেড়ে দিতে বললে কাব্য মাতা আশ্রয় গ্রহণকারীকে ঈশ্বরের রূপ ভেবে যেতে দেননি। কিন্তু বিষ্ণু কখনোই নারীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চান না শেষে উপায়ান্তর না পেয়ে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে কাব্য মাতার প্রাণ হরণ করে নেন পরে এই ঘটনা জেনে জেনে ঋষি ভৃগু নারায়ণকে অভিশাপ দেন এবং অসুরগুরু শুক্রাচার্য বিষ্ণুকে পরমশত্রু ভাবেন ও আজীবন অসুর দের পক্ষ নিয়ে দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান|আরো এমন পুরান কথা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – দেবী লক্ষীর বাহন
আজ বৃহস্পতিবার মানে দেবী লক্ষীর দিন|আমরা জানি দেবী লক্ষীর বাহন প্যাঁচা|কিন্তু কেনো তার বাহন প্যাঁচা তার অনেক গুলি কারন ও ব্যাখ্যা আছে|আজ সেই নিয়ে আলোচনা করবো|বলা হয় ধান বাঙালির কাছে লক্ষী কিন্তু এই ধান ইঁদুরে খেয়ে ফেলে ধানের গোলায় ইঁদুর ঢুকে নষ্ট করে খাদ্যশস্য তাই ধানের শত্রু ইঁদুর। আর ইঁদুরকে খায় পেঁচা অর্থাৎ ধানকে রক্ষা করে ইঁদুরের হাত থেকে। তাই লক্ষ্মী দেবীর বাহন এই রাত জাগা পাখি।তবে লক্ষ্মীদেবীর বাহন হিসেবে পন্ডিতদের যে মতটি সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য তা হলো যিনি লক্ষ্মী গুন অর্থাৎ সত্য প্রেম পবিত্রতা তপস্যা তিতিক্ষা পেতে চান তাকে পেচক ধর্ম পালন করতে হবে অর্থাৎ জাগতিক বস্তু থেকে একটু দূরে থেকে নির্জনে যোগৈশ্বর্য ও সাধন সম্পদ রক্ষা করতে হয় পেঁচা যদি দিনের বেলায় বের হয় অন্যান্য পাখিরা তাকে তাড়া করে অতি গোপনে পেচা বাস করে। সেরকমই পূর্ণতা লাভ না করা পর্যন্ত জাগতিক বিষয় ব্যক্তি দৈব সম্পদ নষ্ট করে।এসব কারনে পেচাকে লক্ষীর বাহন হিসেবে রেখে দিয়েছেন কারন পেঁচা নিঃশব্দে, অন্ধকারে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে এগিয়ে যায়|ঋগ্বেদে বলা হয়েছে, পেঁচা আসলে যমের দূত। যম অর্থ সংযম, যম মানে ধর্ম। ধনোপার্জনের ক্ষেত্রেও সংযমবুদ্ধি ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত রাখার প্রতীক পেঁচা। যমদূত পেচক তাঁর নিজের বৃত্তি ও প্রভুর ধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে মৃত্যুচিন্তা ও আত্মচিন্তা জাগ্রত করে মানুষের মনে তাই সে লক্ষীর বাহন হিসেবেও স্থান পেয়েছে|আবার কোজাগরীর রাতে মা লক্ষ্মী খোঁজ নেন কে জাগ্রত রয়েছে। জেগে থাকা ব্যক্তিকেই তিনি ধনের সন্ধান দেন। পেঁচা প্রতি রাতেই জেগে থাকে। দিনে ঘুমায় তাই প্যাঁচাকে দেবী নির্বাচন করেছেন তার বাহন রূপে|চলবে পুরান কথা|হবে আরো অনেক পুরান কথা|জানতে পারবেন বহু পৌরাণিক ঘটনা ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|সঙ্গে থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
তীর্থক্ষেত্রে পন্ডিতজি – মিনাক্ষী মন্দির
আমার দক্ষিণ ভারত ভ্রমণের আজকের গন্তব্য বিখ্যাত মিনাক্ষী মন্দির|বিশ্বের অন্যতম সুন্দর মন্দির মাদুরাইয়ের মিনাক্ষী মন্দির যা শিল্প ও আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত মেল বন্ধন|মিনাক্ষী মন্দিরের ইতিহাস বহু প্রাচীন|অনেকে মনে করেনঅনেকে মনে করেন, দেবরাজ ইন্দ্র শিবলিঙ্গ প্রাপ্তির পরই এই মন্দিরটি স্থাপিত হয়েছিল।সবার আগে জানা দরকার কে এই দেবী মিনাক্ষী|দক্ষিণ ভারতের রাজা মলয়দাজা এবং রানী কাঞ্চণমালি অনেকদিন ধরে সন্তানের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন। ঈশ্বর তাদের এই আকুল প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে সন্তান দান করেন। ঈশ্বরের কৃপায় যজ্ঞের আগুন থেকে এক পরম সুন্দরী কন্যা শিশুর জন্ম হয়। যার নাম রাখা হয় মীনাক্ষী।এই মীনাক্ষীর বিয়ে হয় দেবতা শিবের সঙ্গে। মিনাক্ষী মন্দিরের ইতিহাসের সাথে জড়িত আছে আরেক ঘটনা আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দক্ষিণ ভারতের মন্দির গুলি যখন আক্রমন করে সেসময় সে এই মন্দিরটি লুট করে এর মূল স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় । এরপর ১৬ সালের দিকে শাসক বিশ্বনাথ নায়াক এই মন্দিরটি আবার পুনঃসংস্কার করে ভক্তদের প্রার্থনার জন্য পুনরায় খুলে দেন।মিনাক্ষী মন্দিরটির স্থাপত্যকলার এক অনন্য নিদর্শন।

মোট ১৫ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরটি সূক্ষ্ম কারুকার্য ও চোখধাঁধানো ভাস্কর্য মুগ্ধ করে দেশে বিদেশের পর্যটক ও তীর্থ যাত্রীদের|শোনা যায় এককালে মাদুরাই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই মন্দিরের চূড়া দেখা যেত। এই মন্দিরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হল আস্থা শক্তি মন্ডপ। এই মন্ডপটি থিরুমালাই নায়াকারের স্ত্রীর নির্দেশে নির্মান করা হয়েছিল।

মন্দিরের প্রবেশ পথেই রয়েছে এই মণ্ডপ|মিনাক্ষী মন্দিরের গায়ে খোদাই করা আছে বহু দেব দেবী ও পৌরাণিক ঘটনা|যদিও এই মন্দির অতুলনীয় তবে কিছুটা মিল রয়েছে কৈলাশে অবস্থিত শিব মন্দিরের সাথে|মিনাক্ষী মন্দিরের বিশালত্ত্ব ও তার সৌন্দর্য ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা যায়না|উপলব্ধি করতে হয় এই মন্দিরের আধ্যাত্বিক পরিবেশ ও প্রাচীনত্ব|আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো এই অদ্ভুত ও অপার্থিব সৌন্দর্যকে কাছ থেকে দেখার|আপনারাও সময় সুযোগ হলে অবশ্যই দর্শন করুন তীর্থ ক্ষেত্রটি|আবার অন্য কোনো তীর্থস্থান ও তার সাথে জড়িত পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরানকথা – হনুমানের বিয়ে
আজ পুরান কথায় শাস্ত্র থেকে হনুমানজির জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|অনেকেই মনে করেন বজরংবলী ব্রহ্মচারী, অবিবাহিত| একথা আংশিক সত্য,পুরান অনুসারে হনুমান বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে|আবার তিনি ব্রহ্মচারী এবং সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীও বটে! কিকরে সম্ভব?সূর্যদেব ছিলেন হুনুমানের শিক্ষক, তিনি নয়টি ব্যাকরণ সূত্রের নবনিধীর শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নবম সূত্রটি কেবল মাত্র বিবাহিত দের জন্যে তাই বিবাহ করা বাধ্যতামূলক ছিলো|এই কারনে শিবের আশীর্বাদে শুভ্রলা নামে একটি কন্যা সৃষ্টি হয় এবং হনুমানের সাথে তার বিবাহ হয় ও বিবাহের পরের মুহূর্তেই শুভ্ৰলা অদৃশ্য হয়|এই ভাবে বিবাহিত হয়েও ব্রহ্মচারী রয়ে গেলেন হনুমান|অন্ধ্রপ্রদেশের একটি মন্দিরে হনুমান তার স্ত্রী শুভ্ৰলার সাথে একত্রে পূজিত হন|এবার আসি হনুমানের পুত্রের বিষয়ে, হ্যাঁ তার একটি পুত্র ছিলো যার জন্ম হয়ে ছিলো অদ্ভুত ভাবে, লঙ্কা অভিযানের সময়ে হনুমানের শরীরের এক ফোঁটা ঘাম পড়েছিলো সমুদ্রে এই ঘামের বিন্দু থেকে জন্মান হনুমান পুত্র মকরধজ|এমন আরো অনেক পৌরাণিক জানা অজানা তথ্য নিয়ে আমি আসবো আপনাদের সামনে আগামী দিনে|চলতে থাকবে পুরান কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|নমস্কার|