Home Blog Page 119

মন্দির রহস্য – লেপক্ষী মন্দিরের রহস্য

আসন্ন বকুল অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দিরে বিশেষ পূজা ও হোম যজ্ঞর মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডনের তোড়জোড় চলছে |আর এসবের মাঝে আজ মন্দির রহস্যর একটি নতুন পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনে|আজকের পর্বে বীরভদ্র মন্দির লেপক্ষী মন্দিরের রহস্য |দক্ষিণ ভারতের এই মন্দির নিয়ে রয়েছে যেমন কিছু রহস্য তেমনই এক পৌরাণিক ঘটনার ও উল্লেখ পাওয়াযায়|রামায়ন অনুসারে রাবণের সীতাহরণের সময় বাঁধা দিতে গিয়ে প্রাণ যায় জটায়ুর|আকাশপথে সেই লড়াইয়ে রাবণের তলোয়ারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে সে এসে পড়েছিল ভূপষ্ঠের এক মন্দিরে|সেই মন্দির হলো এই বীরভদ্র মন্দির|এই মন্দিরের আরেকটি নাম লেপাক্ষী মন্দির কারন মৃত্যুর আগে রামচন্দ্রের সঙ্গে যখন জটায়ুর দেখা হয়, তখন রাম তাকে বলেছিলেন ‘লে পক্ষী’। যার অর্থ পাখি, উঠে দাঁড়াও। সেই থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের এই মন্দিরের নাম হয় লেপাক্ষী মন্দির|রামায়ণে বর্ণিত এই লেপাক্ষী মন্দির তৈরি হয় ১৫৩৮ সালে। বিজয়নগর রাজের পারিষদ দুই ভাই বীরান্না ও বীরুপান্না মন্দিরটি তৈরি করেন। তখন এর নাম রাখা হয়েছিল বীরভদ্র মন্দির।আবার পুরাণ মতে, এই মন্দির তৈরি অগস্ত্য মুনির হাতে।বিখ্যাত এই মন্দিরটিতে রয়েছে গণেশ, বীরভদ্র, শিব, ভদ্রকালী, বিষ্ণু ও লক্ষ্মীর মূর্তি ও একটি বিশালআকার নন্দী মূর্তি|এই মূর্তিটি ২৭ ফিট দীর্ঘ ও ১৫ ফিট উঁচু। বিশালাকার এই মূর্তি ভারতের সবচেয়ে বড় নন্দী মূর্তির তকমা পেয়েছে।এই মন্দির বিজয়নগর শৈলীর জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপত্যের একটি নিখুঁত উদাহরণ যাতে আছে ৭০ টি ঝোলানো স্তম্ভ|আর স্তম্ভই হলো এই মন্দিরের সব থেকে বড়ো রহস্য|ষোড়শ শতাব্দীর এই মন্দিরে প্রায় ৭০টি পাথরের থাম রয়েছে। তবে, তাজ্জব করা বিষয়, একটি থামও মাটির|উপরে দাঁড়িয়ে নেই থাম বা স্তম্ভ গুলি রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়|আজ পর্যন্ত কোনও স্থপতি বা ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় আসেনি, কীভাবে কোনও কিছুর উপর ভর না দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী দাঁড়িয়ে রয়েছে থামগুলি|সত্যি অবাক করা রহস্য|এই রহস্য নিয়ে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে| শোনো যায় করেন যে একবার একজন ব্রিটিশ স্থপতি এই পিলারের কোন অংশ ভাঙ্গার চেষ্টা করে এর অলৌকিকতা বোঝার জন্য কিন্তু তিনি সফল হননি |আজ এখানেই থামছি আবার পরের পর্বে ফিরবো একটি নতুন মন্দির রহস্য নিয়ে|যারা গ্রহের প্রতিকার চাইছেন আমাগী 22 ডিসেম্বর বকুল অমাবস্যা উপলক্ষে গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য -তেলেঙ্গানার নৃসিংহ মন্দিরের রহস্য

প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে অনেকগুলি পর্বে আগে লিখেছি আজ একটি এমন মন্দির নিয়ে লিখবো যা তারিখের হিসেবে প্রাচীন নয় তবে একটি পৌরাণিক ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত|মন্দিরটি হলো তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রিতে অবস্থিত শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দির যে মন্দিরে শুধু প্রবেশদ্বারেই আছে ১২৫ কেজি সোনা|ঐতিহাসিক মন্দিরটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল 2016 সালে|তারপর বিস্তৃত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যজ্ঞাদির পর, মন্দিরটি ফের খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য।আগে এখানে একটি প্রাচীন গুহা মন্দির ছিলো|শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দিরটি, ইয়াদাদ্রি মন্দির নামেই বেশি পরিচিত। এটি তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার ছোট শহর ইয়াদাগিরিগুত্তার একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। এই মন্দিরে নরসিংহ অবতারে পূজিত হন ভগবান বিষ্ণু। স্কন্দপুরাণ অনুসারে, মহর্ষি নারদ এখানে নরসিংহ রূপে ভগবান বিষ্ণুর তপস্যা করেছিলেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান তাঁর সামনে নিজেকে পাঁচটি রূপে প্রকাশ করেন – জ্বালা নরসিংহ, গণ্ডবেরান্দ নরসিংহ, যোগানন্দ নরসিংহ, উগ্র নরসিংহ এবং লক্ষ্মী নরসিংহ|পাহাড়ের চূড়ায় লক্ষ্মী-নরসিংহদেব মন্দিরের প্রধান গুহায় নরসিংহের পাঁচ রূপই পাথরে খোদাই করা রয়েছে। নব রূপে মন্দিরের দরজা খোলার আগে, করা হয় ‘মহা সুদর্শন যজ্ঞ’। এর জন্য একশ একরের একটি যজ্ঞ বাটিকা এবং মোট ১০৪৮টি যজ্ঞকুণ্ডল তৈরি করা হয়েছিল। হাজার হাজার পুরোহিত ও তাঁদের সহকারীরা এই আচারে অংশ নেন। পুনর্নির্মাণে খরচ হয়েছে আনুমানিক ১৮০০ কোটি টাকা। বিশাল এই মন্দিরের একটি অন্যতম বিশেষত্ব হল এর পুনর্নির্মাণ কাজে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। মন্দিরের পুনর্নির্মাণে ২.৫ লক্ষ টন গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়েছে। এই গ্রানাইট পাথর অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম থেকে আনা হয়েছে।মন্দিরের প্রবেশদ্বারগুলি তৈরি করা হয়েছে পিতল দিয়ে। তার উপর সোনা দিয়ে কারুকার্য করা হয়েছে। মন্দিরের গোপুরম অর্থাৎ প্রধান প্রবেশদ্বারটিতেই ১২৫ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। সুদৃশ্য এই নৃসিংহ মন্দির বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ যা দেখতে আসেন দেশ বিদেশের মানুষ|পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – ভূতওয়ালা মন্দিররের রহস্য

শুধুমাত্র একটা রাত। তার মধ্যেই নাকি তৈরি হয়ে গিয়েছিল একটা আস্ত শিব মন্দির! আর সেই মন্দিরটি নাকি তৈরি করেছিল অতৃপ্ত আত্মারা! অবাক করা এমনই অলৌকিক গল্প জুড়ে রয়েছে মেরঠের হাপুরের সিমভাওয়ালির দাতিয়ালা গ্রামের একটি বিশেষ শিব মন্দিরের সঙ্গে।রহস্যময় এই শিব মন্দির নিয়েই আজকের পর্বে লিখবো|গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, প্রাচীন এই মন্দির তৈরি করেছিল ভূতেরা। তাই এর নাম ‘ভূতোওয়ালা মন্দির’। লাল রঙে তৈরি মন্দিরটিতে ইটের সঙ্গে ইট জুড়ে তৈরি। শোনা যায় এই শিব মন্দিরটি প্রায় হাজার বছরের পুরনো৷ শুধুমাত্র চূড়ার কিছু অংশ বাদে এত বছরে প্রাচীন এই মন্দিরের কোনও ক্ষতিই হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের কেবল ওই অং‌শটি নাকি ‘ভূতেরা’ তৈরি করেনি। পরে মানুষই মন্দিরের চূড়া তৈরি করেছিল। আর সেই কারণেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে মন্দিরের উপরিভাগ।মন্দিরের পুরোহিতের মতে, এক রাতে এই মন্দির তৈরি করেছিল অতৃপ্ত আত্মারা৷ কিন্তু সম্পূর্ণ মন্দিরটি রাতের মধ্যে তৈরি হয়ে গেলেও মন্দিরটির চূড়াটি তৈরি হওয়ার আগেই সূর্যোদয় হওয়ায় ‘তেনারা’ নাকি পালিয়ে গিয়েছিলেন! পরে ১৯৮০ সালে গ্রামবাসীরা মন্দিরের চূড়া তৈরি করেন।স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে অতৃপ্ত আত্মাদের তৈরি এই মন্দিরটি কি কোনও ক্ষতি করে গ্রামের বাসিন্দাদের?এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রামবাসীরা জানান, একেবারেই নয়৷ বরং এই মন্দিরটিই নাকি সমস্ত সমস্যা থেকে রক্ষা করে! খরা, বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে এটি৷ তবে, যাই হোক না কেন মেরাঠের এই ভূতুড়ে মন্দির দেখতে উৎসুক দর্শকদের ভিড় উপচে পরে৷পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – দন্তুরা দেবীর মূর্তির রহস্য

সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কেতুগ্রামের অট্টহাস। পুরাণে বলা হয়, সতীর অধর অর্থাৎ ঠোঁটের নিম্নাংশ এই জায়গায় পড়েছিল। দেবী এখানে অধরেশ্বরী নামে পূজিতা হন। অট্টহাস মন্দিরের কথা আপনাদের আগে বলেছি এই মন্দিরেই ছিলো একটি প্রাচীন শিলামূর্তি যাকে দন্তুরা দেবীর মূর্তি বলা হয়|সেই মূর্তির রহস্য নিয়ে লিখবো আজ|বর্তমানে দন্তুরা চামুণ্ডার সেই মূর্তির প্রতিরূপরয়েছে মন্দিরে,আসল মূর্তিটি প্রায় ১০০ বছর আগে অট্টহাস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেটি সংরক্ষিত রয়েছে অন্য স্থানে|দন্তুরা দেবীর মূর্তি বড়োই অদ্ভুত ও বিচিত্র|দেবীর কঙ্কালসার চেহারা। ফুটে উঠেছে বুকের পাঁজর। কান দুটি শরীরের তুলনায় বেশ বড়। বিস্ফারিত গোলাকার চোখ। আঁচড়ানো চুল পিঠের উপর পড়েছে। মুখগহ্বর থেকে বেরিয়ে রয়েছে কুকুরের মতো দুটি তীক্ষ্ণ দাঁত। মুখে হিংস্রতার ছাপ। বাম হাত মাটিতে ভর দিয়ে আর ডান হাত হাঁটুতে রেখে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে আছেন দেবী। পাথরের উপর খোদাই করা হয়েছে এই সোওয়া এক ফুটের দন্তুরা চামুণ্ডার মূর্তি। শোনা যায় ওই মূর্তির চোখের ওপর কেউ বেশিক্ষণ চোখ রাখতে পারতেন না। এই কারণে কেতুগ্রামের অট্টহাসে আজও প্রকাশ্যে আনা হয় না দেবীর আসল রূপ। অন্তরালেই থাকেন অট্টহাসের দেবী দন্তুরা চামুণ্ডা। অট্টহাসে দেবীর মূল মূর্তিটি দেবীর অষ্টচামুণ্ডা রূপের অন্যতম দন্তুরা চামুণ্ডা। এই মূর্তি ভারতবর্ষে সচরাচর দেখা যায় না। যার বয়স প্রায় সাড়ে তিনহাজার বছরেরও বেশি। ১৯১৫–১৬ সাল নাগাদ ঐতিহাসিক ও গবেষকদের উদ্যোগেদন্তুরা চামুণ্ডার মূর্তিটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সংগ্রহশালায়। সেই থেকে সংগ্রহশালায় রয়েছে অট্টহাসের দন্তুরা চামুণ্ডা। তারপর থেকে দন্তুরা চামুণ্ডার একটি আলোকচিত্র সংগ্রহ করে মন্দিরে পুজো করা হচ্ছে। নির্জন জঙ্গলের মাঝে নিশুতি রাতে অট্টহাসের চামুণ্ডা পুজোয় রোমাঞ্চ উপভোগ করতে অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমান। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও রাতের বেলায় এড়িয়ে চলেন অট্টহাস মন্দির।কারন শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে মিশে আছে এক ধরনের ভীতি ও অনুগত্য যার কেন্দ্রে আছে দন্তুরা দেবীর রহস্যময় মূর্তি|যথা সময়ে ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|থাকবে এরকম বহু রহস্যময় ও অলৌকিক ঘটনারর উল্লেখ|পড়তে থাকুন|আগামী 22 ডিসেম্বর বকুল অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুনপোস্টে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তত্তা পানি শিব মন্দিরের রহস্য

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সুন্দর পার্বত্য উপত্যকায় অনন্য এবং বিস্ময়কর এক শিবমন্দির রয়েছে যা আপনাকে অবাক করে তুলতো পারে।আজ মন্দির রহস্য পর্বে সেই শিব মন্দিরের কথাই আপনাদের জন্য লিখবো |পার্বতী নদীর তীরে রয়েছে এই অলৌকিক ও সুন্দর শিব মন্দির। যে মন্দিরের ভিতরে রয়েছে উষ্ণ প্রসবন।পার্বত্য অঞ্চলে উষ্ণ জল মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক এই শিবমন্দিরের পাশেই রয়েছে গুরু নানকের পবিত্র গুরুদ্বার। দুটি ভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অদ্ভুত সহাবস্থান ও মনোরম প্রাকৃতিক রূপ তার সাথে আধ্যাত্মিক অনুভূতি এই সব মিলিয়ে মুগ্ধ হন দেশ বিদেশ থেকে আসা পর্যটক ও ভক্তরা।একদিকে এই নদীর তাপমাত্রা বরফের মতো ঠান্ডা অন্যদিকে সূর্যের তেজ তার মাঝে ভুগর্ভ থেকে উঠে আসা জলের উষ্ণতা সব মিলিয়ে বেশ রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হয় এখানে । ভক্তরাও এই গরম জলে স্নান করেন। বলা হয়ে থাকে যে, এই জল থেকে যদি চা তৈরি করা হয়, তবে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক চিনি যোগ করলেও চা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মিষ্টি হয়। পর্যটকদের জন্য গরম জলেতে সিদ্ধ করে চালও বিক্রি করা হয় এবং অনেকে আবার স্নানের জন্য জল নেন।দেশ বিদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। এখানকার উষ্ণ গন্ধকযুক্ত জলে স্নান করলে অনেক রোগের নিরাময় হয় বলেও বিশ্বাস তারমধ্যে বাত ও যেকোনো হাড়ের অসুখও সেরে যায় বলে দর্শণার্থীরা মনে করেন|পার্বতী উপত্যকার পার্বতী নদীর তীরে হিমাচল প্রদেশের এই কুল্লু শহরে অবস্থিত মণিকর্ণ নামক এই স্থান হিন্দু এবং শিখদের জন্য একটি বিখ্যাত তীর্থস্থান। এটি বিশ্বাস করা হয় যে মহাদিদেবাএবং দেবী পার্বতী এই স্থানে ১১ হাজার বছর ধরে একসঙ্গে তপস্যা করেছেন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, পার্বতীর কর্ণ বলিদানের কারণে এই স্থানটির নামকরণ হয়েছে মনি কর্ণ আবার স্থানটিকে উষ্ণ প্রশ্রবনের জন্য তত্তাপানিও বলা হয়। তত্তপানি মানে গরম জল, এর অর্থ এখানে গরম জলের উৎস আছে|বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। আস্থা ও ভক্তিই শেষ কথা|যথা সময়ে ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|থাকবে আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা ও রহস্যময় মন্দিরের কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – এই মন্দিরে আছে কার্তিকের অস্থি

আজ আপনাদের উত্তরাখন্ডের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত কার্তিক স্বামী মন্দিরের কথা জানাবো|পুরাণ অনুসারে, যে পর্বতের উপর কার্তিক স্বামী টেম্পল তৈরি করা হয়েছে সেই পর্বতের আগে নাম ছিল ক্রোঞ্চ পর্বত। ক্রোঞ্চ পর্বতেই রয়েছে কার্তিকদেবের অস্থি!পুরাণ অনুসারে, মহাদেব এবং দেবী পার্বতীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্তিকদেব।দক্ষিণভারতে কার্তিকদেবকে স্কন্দ এবং মুরুগান নামে পুজো করা হয়।দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত এই মন্দিরের সঠিক বয়স বা নির্মাণের ইতিহাস জানা যায়না।বর্তমানে উত্তরাখন্ড সরকার এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে আছে|জিম করবেট এর বইয়ে আপনারা হয়তো রূদ্র প্রয়াগের কথা পড়েছেন সেই রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে এই মন্দির। পর্বতের এই চূড়ায় পৌঁছতে হলে কনকচৌরি থেকে ভক্তদের ৩ কিলোমিটার ট্রেক করে আসতে হবে। ট্রেক-এর পথ সহজ নয়, তবে নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক এবং মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ|কথিত আছে, জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্তিক নাকি কনিষ্ঠপুত্র গণেশ— কে বেশি তার বাবা-মা’কে ভালোবাসেন তা পরীক্ষা করার জন্য একবার পিতা মহাদেব এবং মাতা পার্বতী ছোট্ট একটি পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তাঁরা সন্তানদের জানিয়েছিলেন, যে পুত্র আগে ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করে আগে তাঁদের কাছে পৌঁছতে পারবে, সেই পুত্রই তাঁদের বেশি ভালোবাসে বলে প্রমাণিত হবে। শোনা মাত্রা কার্তিকদেব তাঁর ময়ূরের পিঠে চড়ে ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণে বেরিয়ে পড়েন। অন্যদিকে গণেশদেব তাঁর পিতা মাতাকে প্রদক্ষিণ করে জোড় হস্তে বলেন, তাঁর কাছে পিতা-মাতাই ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ! একথা শুনে পিতা মহাদেব ও মাতা পার্বতী অত্যন্ত প্রসন্ন হন।পুরান কথায় আগেও হয়তো আপনাদের এই পৌরাণিক ঘটনা বলেছি আজ তার পরের ঘটনা বলবো যার সম্পর্ক রয়েছে এই মন্দিরের সাথে|কিছু সময়ের মধ্যে কার্তিকদেবও ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করে এসে ফিরে আসেন ও দেখেন পিতা-মাতার ক্রোড় অধিকার করে বসে আছেন গণেশ। এরপর গণেশদেবের বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে ও পিতা মাতার সিদ্ধান্ত জেনে তিনি পিতা মহাদেব ও মাতা পার্বতীর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁর মনে হয়, পিতা-মাতা কনিষ্ঠ পুত্রের প্রতি বেশিই স্নেহশীল। তিনি রাগের তেজ শান্ত করতে ক্রোঞ্চ পর্বতের চূড়ায় বসে কঠোর তপস্যা শুরু করেন দেহের মাংস ও হাড় পরিত্যাগ করেন ও পিতামাতার প্রতি তাঁর ভক্তির পরিচয় দেন। ওই তেজদীপ্ত স্থানেই পরবর্তীকালে তৈরি হয় মন্দির।তার অস্থি সেই থেকে সংরক্ষিত আছে এই পর্বতে এমনটাই প্রচলিত বিশ্বাস|অনেকেই বর্তমানে এই দুর্গম পাবর্ত্য অঞ্চলে ঘুরতে যান । পর্বতের চূড়ায় পৌঁছে কার্তিক স্বামীমন্দিরে ভক্তি ভরে মাথা ঠেকিয়েও আসেন।পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – উনকোটি মন্দিরের রহস্য

আজকের মন্দির রহস্য পর্বে এমন এক মন্দিরের কথা লিখবো যেখানে ১০০ বা ২০০ টি নয়, ৯৯ লাখের বেশি প্রতিমা আছে।এক জায়গায় এতগুলি মূর্তি থাকা কোনও রহস্যের চেয়ে কম নয়|আজ চলুন সেই রহস্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করি এই পর্বে|ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে উনাকোটি নামে একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯টি মূর্তি আছে|অদ্ভুত অবস্থায় থাকা এই মূর্তি গুলি কে তৈরি করেছিল বা কখন তৈরি হয়েছিল এবং সেগুলি তৈরির পিছনের রহস্য কি সেই সম্পর্কে স্পষ্ট করে আজও কিছুই জানা যায়নি। এই রহস্য আরো গভীর হয় কারণ এই মূর্তিগুলি এক কোটিতে মাত্র একটি কম অর্থাৎ ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯টি!আসলে এই মূর্তির কারণেই এই স্থানটির নাম উনকোটি। যার অর্থ কোটিতে এক কম। এই জায়গাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে রহস্য ময় জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বহু বছর ধরে এই জায়গাটির কথা কেউ জানতো না। যদিও এখনও খুব কম মানুষই এর সম্পর্কে জানেন। এইসব হিন্দু দেব দেবীদের মূর্তিগুলি পাথরে খোদাই করা হয়েছে।ত্রিপুরার উনকোটি সংলগ্ন এলাকা একটি পাহাড়ি অঞ্চল যার দূর দূরান্তে ঘন বন এবং জলাভূমিতে পূর্ণ। কিভাবে বনের মাঝে লাখ লাখ মূর্তি তৈরি হলো, যা রহস্যের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই এলাকায় আগে কেউ বসবাস করত না, তাহলে কে বা কারা এই মূর্তি তৈরি করল তাও যথেষ্ট রহস্য জনক বিষয়।পৌরাণিক একটি ঘটনা প্রচলিত রয়েছে উনকোটি প্রসঙ্গে যেখানে বলা হচ্ছে ভগবান শিবসহ এক কোটি দেবদেবী।কোথাও যাচ্ছিলেন। রাত হওয়ায় অন্যান্য দেবদেবীরা শিবকে উনাকোটিতে থামতে এবং বিশ্রাম নিতে বলেন। ভগবান শিব রাজি হলে তিনি বলেছিলেন সূর্যোদয়ের আগে সবাইকে এই স্থান ত্যাগ করতে হবে।কিন্তু সূর্যোদয়ের সময় শুধুমাত্র শিব জেগে উঠতে পেরেছিলেন, বাকি সব দেবতায় ঘুমিয়ে ছিলেন। এটা দেখে ভগবান শিব রেগে যান এবং তিনি সবাইকে অভিশাপ দিয়ে পাথর বানিয়ে দেন। এই কারণে এখানে ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টি অর্থাৎ এক কোটির একটি কম মূর্তি রয়েছে।পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা মূর্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জটাধারী শিব এবং ৩০ ফুট উঁচু কালভৈরবের মূর্তি। এছাড়া গণেশ, দুর্গা, বিষ্ণু, রাম, রাবণ, হনুমান এবং শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি। ঊনকোটির একটি প্রধান দ্রষ্টব্য হল গণেশকুন্ড। কুন্ড সংলগ্ন পাথরের দেওয়ালে দক্ষ হাতে খোদাই করা আছে তিনটি গণেশ মূর্তি। এদের ডান পাশে রয়েছে চতুর্ভুজ বিষ্ণু মূর্তি। শিবরাত্রি, মকর সংক্রন্তি এবং অশোকাষ্টমী মেলা উনকোটির বিখ্যাত উৎসব এবং এই সময়গুলিতেবহু মানুষের ভিড় হয় এখানে|যথা সময়ে ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|থাকবে আরো অনেক কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – যে মন্দির থেকে আনা যায়না প্রসাদ

রহস্যময় ঘটনা শুনতে পাওয়া যায়।বালাজি মন্দিরে পুজো তো হয় কিন্তু দেবতার কোনো প্রসাদ মেলে না। কেন জানলে চমকে যাবেন।এমনকি একবার এই মাহেন্দিপুরে মন্দির থেকে বেরনোর পর পিছনে ফিরে তাকানো মানা। অদ্ভুত এই সব রহস্যর কথাই লিখবো আজকের পর্বে|রাজস্থানের দাউসা জেলার কাছে দুটি পাহাড়ের মাঝে এই বালাজি মন্দির অবস্থিত । আকারেও খুব একটা বড় নয় এই মন্দিরটি। নেই খুব জাকজমকও। মাহেন্দিপুর বালাজি মন্দির ভূত প্রেত ও অপদেবতা দের জন্য বিখ্যাত এই মন্দিরে ভূত বা অপদেবতা তাড়ানোর কাজ করেন পুরোহিতেরা। নিজের উপর থেকে অপদেবতার ছায়া কাটাতে এখানে বহু লোকের আগমন ঘটে। এই মন্দিরে প্রেতরাজ এবং ভৈরব বাবাজির একটি মূর্তি রয়েছে। প্রতিদিন দুপুর আড়াইটায় প্রেতরাজ সরকারের দরবারে একটি কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মানুষের উপরের অশুভ ছায়া সরিয়ে দেওয়া হয়। এখানে আসার পর অপদেবতার হাত থেকে মুক্তি পেতে দেওয়ালে মাথা ঠুকতে হয়, নয়তো চেন দিয়ে নিজেকে বেঁধে রাখতে হয়। কারণ স্থানীয় মানুষেরা এমনটা বিশ্বাস করেন যে নিজের দেহের উপর অত্যাচার চালালে তবেই শরীরে উপর ভর করেছেন যেসমস্ত উপদেবতা তারা দূরে পালায়।বিজ্ঞান বা যুক্তির উর্দ্ধে মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা আর সেই আস্থার জায়গা থেকেই মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে যুগ যুগ থেকে এখানে ছুটে আসছেন|শোনা যায় অসংখ্য মানুষ উপকৃতও হয়েছেন আজ অবধি|ভৌতিক এই মাহেন্দিপুর বালাজী মন্দিরের প্রসাদ কাউকে খেতে বা নিয়ে যাওয়ার জন্য দেওয়া যায় না। এমনকি আপনি আপনার বাড়ির জন্যেও প্রসাদ নিয়ে যেতে পারবেন না। এমনকি আপনি এখনকার কোনো জিনিসই বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন না। কেনোনা বলা হয় এখানকার জিনিস বাড়িতে নিয়ে গেলে নেমে আসবে অশুভ অপদেবতার ছায়া।বিশেষ একটি কারনে এই মন্দির থেকে চলে আসার সময়ে পিছনে ফিরে তাকানো হয় না।তার কারণ এই মন্দির যে আর বাকি মন্দিরের মতো নয়। এখানে ভগবান উপস্থিত থাকলেও এই মন্দির তো আদতে ভূত তাড়ানোর মন্দির। যেখানে বিনা কারণে প্রবেশ মানা আবার পিছনে ফিরে তাকালে ফের সেই অপদেবতারা পিছু নেয়ার বা পুনরায় শরীরে বাসা বাঁধার সুযোগ পেয়ে যায়।ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|থাকবে অনেক অলৌকিক ঘটনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – বাড়তে থাকা নন্দী মূর্তির রহস্য

আজ মন্দির রহস্যতে আপনাদের এমন এক অলৌকিক পাথরের নন্দী মূর্তির কথা লিখবো যেটি প্রতিদিনই একটু একটু করে বড় হচ্ছে।অন্ধ্রপ্রদেশের যগন্তী উমা মহেশ্বরা মন্দিরে রয়েছে এই অদ্ভুত নন্দী মূর্তি যা নাকি প্রত্যেক বছর একটু একটু করে আয়তনে বেড়ে ওঠে!স্থানীয়দের মতে, বছর পঞ্চাশ আগে নন্দীর যে আয়তন ছিল, বর্তমানে তার চেয়ে অনেকটাই বড়। তাদের বিশ্বাস, কোনো এক দৈবিক ক্ষমতাতেই বাড়তে থাকে নন্দী। আর সেই কারনেই একে জাগ্রত বলে পূজা করে থাকেন দর্শনার্থীরা।বিশেষ এই নন্দী মূর্তির জন্যই অন্ধপ্রদেশের অন্তর্গত কুর্নুল জেলায় অবস্থিত শিবের এই মন্দিরটির মাহাত্ম মুখে মুখেই চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখানে ভিড় জমান প্রাচীন এই মন্দিরের সৌন্দর্য এবং সেই ঐশ্বরিক ক্ষমতা সম্পন্ন নন্দীর দর্শন করতে।ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গবেষকেরা নন্দীর মূর্তিটি পরীক্ষা করেছিল। এটা প্রমাণ করতে যে বিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবের সত্যিই কোনো সামঞ্জস্য রয়েছে কি না! গবেষণার পর তারা জানায় যে বিশেষ যে পাথরটি খোদাই করে নন্দীর মূর্তিটি তৈরি হয়েছে, সেই পাথর বিশেষ পরিস্থিতিতে আকার ও আয়তনে বাড়ে। গবেষণা করে দেখা গেছে, গত বিশ বছরে মূর্তিটি সত্যিই আকারে এক ইঞ্চি বৃদ্ধি পেয়েছে।নন্দী বেড়ে ওঠে বলে মূর্তিটির সঙ্গে লাগোয়া একটি পাথরের স্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীদের পূজা দেয়ার সময় নন্দীর চারিদিকে প্রদক্ষীণ করতেও সুবিধা হয়। স্থানীয় ঋষির মুনি দের মতে এই কলি যুগেই নাকি মূর্তিটি জীবন্ত হয়ে উঠবে।বিখ্যাত এই মন্দিরের আরো একটি অবাক করা বিষয় হলো এ চত্বরে কোনো কাক দেখা যায় না। কথিত আছে, ঋষি অগস্ত একবার প্রায়শ্চিত্ত করছিলেন। সেই সময় কাকের দল তাকে বিরক্ত করেছিল। তখন ঋষি অভিশাপ দিয়েছিলেন, মন্দির চত্বরে আর কখনো কাকেরা প্রবেশ করতে পারবে না।সেই থেকে এই মন্দিরে কাকের প্রবেশ নিষেধ|মন্দিরের ভেতরে পুকুরে সারা বছরই জল থাকে। মনে করা হয়, নন্দীর মুখ থেকেই নাকি এই জল নির্গত হয় এবং সারাবছর ধারাবাহিকভাবে তা বয়ে চলেছে। এই মন্দিরের এক প্রান্তেই রয়েছে অগস্ত গুহা। স্থানীয়দের মতে, এখানেই নাকি শিবের আরাধনায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন অগস্ত ঋষি।তবে নন্দীর বেড়ে ওঠাই সবচেয়ে বেশি অবাক করে দর্শনার্থীদের কাছে|সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের আনাচে-কানাচে অনেক মন্দির রয়েছে। এর মধ্যে ভারতবর্ষেই মন্দিরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যেখানে আজো এমন অলৌকিক ঘটনা ঘটে থাকে| যা ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়ে|ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধ্যনবাদ|

মন্দির রহস্য – উল্টো হনুমান মন্দিরের রহস্য

সারা দেশে অসংখ্য হনুমান মন্দির আছে যারা মধ্যে একাধিক রহস্যময় মন্দির নিয়ে আগেই আপনাদের জন্য লিখেছি তবে অদ্ভুত মন্দির রয়েছে মধ্য প্রদেশে। যেখানে পবন পুত্র হনুমানের উল্টানো মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। কথায় আছে উল্টানো অবস্থায় থাকা হনুমাণজী কখনও তাঁর ভক্তদেরত খালি হাতে ফেরান না। আর সেই কারনে এই মন্দিরে হনুমানজির উল্টো মূর্তি দর্শন করতে ভক্তরা ছুটে আসেন।চমৎকারী উল্টে হনুমানজীর প্রতিমাটি রয়েছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সানওয়ার গ্রাম|কিন্তু কেন এই মন্দিরে হনুমানজীর উল্টানো রয়েছে তা নিয়ে নানা জনশ্রুতি রয়েছে।শোনা যায় রাম এবং রাবনের যুদ্ধের সময় রাবন তাঁর রূপ বদলে ফেলে ভগবান রামের সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়েন সবার নজর এড়িয়ে অহিরাবনের রূপ ধরে এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি। রাতে যখন রাম-লক্ষন শুয়ে ছিল সেই সময়ে একেবারে ঘাড়ধরে তাঁদের দুজনকে পাতাল লোকে নিয়ে যায় ছদ্দবেশি রাবণ।আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা বানর সেনা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ভগবান রাম এবং তাঁর ভাই লক্ষ্মণকে উদ্ধার করতে পাতাল লোকে পৌঁছে যান হনুমানজি।অহিরাবনকে বধ করে হনুমান সেখানে ছদ্মবেশে থাকা অহিরাবনকে বধ করে হনুমান। আর রাম-লক্ষ্মণকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। কথায় আছে যেখানে এই মন্দির রয়েছে সেখান থেকেই নাকি হনুমানজি পাতাল লোকে প্রবেশ করেছিল। আর পাতাললোকে প্রবেশ করার সময়ে হনুমাণজির মাথা নীচের থেকে ছিল। আর সেই কারনে এই মন্দিরে হনুমানজির এমন উল্টানো মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।প্রত্যেক মঙ্গলবার উল্টো হনুমানজীর মন্দিরে গিয়ে হনুমানজীর দর্শন করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট নাকি জীবন থেকে চলে যায়।শুধু তাই নয়, হনূমানজী সর্বদা তাঁর ভক্তদের সমস্ত মনোকামনা পূর্ণ করেন|বলা হয় উলটা হনুমানজীর প্রতিমাতে যদি মন থেকে ছোলা দেওয়া হলে নাকি সম্পূর্ণ মনস্কামনা পূর্ণ হয়ে যায়|যথা সময়ে আবার ফিরবো আগামী পর্বে|আলোচনা করবো অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন |ধন্যবাদ|