কালী কথা – শালকিয়ার ফলহারিণী কালী পুজো

56

উত্তর হাওড়ার সালকিয়া অঞ্চলের জমিদার ছিলো বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার এবং এই পরিবারের অন্যতম কৃতি সন্তান গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জমিদারির আমলে তেমন কোন পুজো হত না। পুজো বলতে জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো। বছরে ওই একবারই সাধারণ মানুষের জন্য জমিদার বাড়ির দ্বার উন্মুক্ত থাকত।তবে পরবর্তীতে শুরু হয় কালী পুজো বিশেষ করে ফলহারিণী অমাবস্যার পুজো|শোনা যায় একসময় হঠাৎ মহামারী দেখা দেয় চতুর্দিকে। বহু মানুষ এই মহামারীর প্রকোপে মারা যেতে থাকে। এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে বহু মানুষ অঞ্চল ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের জমিদার চিন্তায় পড়ে যান যে কিভাবে সেই প্রকোপ থেকে সবাইকে বাঁচাবেন। সেই সময় দেবী স্বপ্নাদেশ দেন যে তাঁকে ফলহারিণী রূপে পুজো করতে। সেই পুজো করলে তবেই সকল দুর্দশা দুর হবে। দেবী এও বলেন যে, তাঁর পুজোর জোগাড় নিজেই করবেন।তাই হয়পুজো শুরুর প্রথম দিকে অর্থাৎ যখন এই পূজা শুরু হয়েছিল তখন পুজোর ঠিক আগের দিন মন্দির সংলগ্ন পুকুর পুজো করে একটি কাগজে যা যা গয়না ও বাসনপত্র লাগবে লিখে পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হত। মা ফলহারিনী তার পূজার গয়না ও বাসনপত্র নিজেই সেই পুকুর থেকে তুলে দিতেন। আবার পূজার ঠিক পরের দিনই এলাকার বাসিন্দারা সেই গয়না ও বাসনপত্র পুকুর ঘাটে রেখে দিতেন, মা আবার নিজেই সেগুলি পুকুরে নামিয়ে নিতেন।পুজোর সঠিক বয়স জানা না গেলেও আনুমানিক ৩০০বছর ধরে চলে আসছে প্রাচীন এই পুজো। মহাসাড়ম্বরে এখনও এই ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয় এই মন্দিরে। বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই দিনে।এলাকার বাসিন্দারা যারা এই পুজোতে উপবাস থাকতেন, তারা নিজেরাই পুকুর থেকে কই মাছ ধরতেন মায়ের ভোগের জন্য।কারন কই মাছ ভাজা না দেওয়া হলে , মায়ের ভোগ সম্পূর্ণ হত না।মায়ের ভোগের চাল, শাক-সবজি ধোয়া থেকে শুরু করে রান্না করা সবটাই গঙ্গা জলে ছাড়া হয় না। পূর্বে এলাকার স্ত্রীলোকেরা গঙ্গা থেকে কলসি করে জল নিয়ে আসত মায়ের ভোগের জন্য।মায়ের পুজোতে পশু বলি নিষিদ্ধ। বলি দেওয়া হয় শুধুমাত্র ছাঁচিকুমড়ো এবং জমিদার বাড়ির খাঁড়া ছাড়া মায়ের পূজার বলি দেওয়া যাবে না, এটাই নিয়ম।যেহেতু মায়ের নাম ফলহারিনী কালী তাই, ফল ছাড়া পূজা দেওয়া চলে না। একটি মাত্র ফল হলেও তা মায়ের কাছে নিবেদন করতে হয়।সাধারণত আমরা অনান্য কালী পুজোতে দেখে থাকি যে, পূজা শেষে ভোরবেলা বিসর্জন ক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু মা ফলহারিনী কালীকে ভোরবেলা বিসর্জন দেওয়া হয় না। পরের দিন রাত্রি বেলা বিসর্জন দেওয়া হয়।চলতে থাকবে পুরান ও শক্তি আরাধনা নিয়ে নানা ধরনের বিশেষ এই পর্বগুলি পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|