Home Blog Page 118

কালীকা পুরান – শিবের বিবাহ

সনাতন ধর্মে যে আঠেরোটি উপপুরান আছে তারমধ্যে অন্যতম কালীকা পুরান|এই পুরানে একাধিক শাস্ত্রীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে|যার মধ্যে বেশ কয়েকটি নিয়ে আগামী কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো|প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহা শিবরাত্রি পালিত হয়। কালীকা পুরান মতে এই তিথিতেই হয়েছিল শিব ও পার্বতীর বিবাহ|পাশাপাশি বিবাহের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে|শুরু করবো শিবের বিবাহ দিয়ে|পার্বতীর কাছ থেকে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে দেবতারা কন্দর্প নামক তাদের এক দূতকে শিবের কাছে পাঠান।শিব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ও তৃতীয় নেত্র দিয়ে কন্দর্পকে ভস্ম করে দেন। কিন্তু দীর্ঘ কাল কঠোর তপস্যা করে শিবকে মনে মনে নিজের স্বামীরূপে মেনে নিয়েছিলেন পার্বতী।পার্বতীর দীর্ঘশ্বাস ও মনের ব্যাথ্যায় সমস্ত স্থানে হাহাকার শুরু হয়েছিল। বড় বড় পর্বতের ভিতও নড়ে গিয়েছিল। তখন শিব নিজের ধ্যান থেকে উঠেছিলেন এবং পার্বতীকে বলেছিলেন যে তিনি যেন তাকে বিবাহের ইচ্ছা ত্যাগ করেন ও কোনও যুবরাজের সঙ্গে বিয়ে করে নেন কারণ শিবের সঙ্গে বসবাস করা সহজ নয়।কিন্তু হিমালয় কন্যা পার্বতী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি শিব ছাড়া কাউকে বিবাহ করবেন না। পার্বতীর ভালোবাসা দেখে মহাদেব তাঁকে বিবাহ করতে প্রস্তুত হন|কিন্তু তাদের বিবাহ সম্পন্ন হওয়াও বেশ নাটকীয় ছিলো|শিব যখন পার্বতীর সঙ্গে বিবাহ করতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে ডাকিনি, ভূত-প্রেত, পেত্নী ছিল। ডাকিনি ও পেত্নীরা শিবকে ভস্ম দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলেন ও নরমুন্ডের মালা পরিয়েছিলেন কণ্ঠে ছিলো বাসুকি নাগ|শিবের এই আশ্চর্যজনক বরযাত্রী পার্বতীর গৃহে পৌঁছালে সমস্ত গিরিরাজ ও মেনকা সহ সব দেবতা চমকে গেছিলো ও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। এই বিচিত্র রূপে শিবকে মেনে নিতে পারেননি পার্বতীর মা। তখন তিনি শিবের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিবাহ দিতে অসম্মত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি খারাপ দিকে এগোতে দেখে পার্বতী শিবকে বিবাহের জন্য নিয়মনীতি অনুযায়ী তৈরি হয়ে আসতে প্রার্থনা করেছিলেন। শিব তাঁর প্রার্থনা স্বীকার করেছিলেন। সমস্ত দেবী-দেবতাকে সুন্দর ভাবে বরবেশে সাজিয়ে দিয়েছিলেন। ঐশ্বরিক জল দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানো হয়, রেশমের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। শিবের এই দিব্য রূপ দেখে পার্বতীর পিতা মাতা সহ উপস্থিত সকলে বিবাহে রাজি হয়েছিল|স্বয়ং ব্রহ্মার উপস্থিতিতে ও পৌরোহিত্বে শিব পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী পর্বে কালীকা পুরান অনুসারে এমনই কোনো পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ কল্পতরু দিবস ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা

আজকের দিনে 1886 সালে কাশিপুর উদ্যান বাটিতে ঠাকুরের স্পর্শে তার উপস্থিত গৃহি ভক্তরা ঐশ্বরিক শক্তি অনুভব করেন নিজেদের মধ্যে এর পর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণও অকাতরে ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে লাগলেন।সেখানে উপস্থিত ভক্ত রামচন্দ্র দত্ত শ্রীরামকৃষ্ণের ওই দৈব্য রূপ ও অকাতর ‘দান’ দেখে, পুরাণের ‘কল্পতরু-বৃক্ষ’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।সেই থেকে চলে আসছে এই কল্পতরু দিবস পালনের রীতি|

আজ ইংরেজি নব বর্ষের সূচনাও বটে আশা করবো সবার সব স্বপ্ন পূরণ হোক এই বছরে,আর আগামী দিনে যেনো কোনো নতুন বিপদে আমাদের না পড়তে হয়, মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার কৃপায় দূর হোক সব বাঁধা বিপত্তি, সব দিয়ে সার্থক ও সুম্দর হোক নতুন বছরের সূচনা|নতুন বছরে ফিরে আসবো নতুন লেখা, নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে অবশ্যই থাকবে কিছু নতুন চমক যা নিয়ে যথা সময়ে বলবো|আমার সব শুভাকাঙ্খী ও সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা, জানাই হ্যাপি নিউ ইয়ার|সুস্থ্য থাকুন ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – চিতয়ান জাতীয় উদ্যান

নেপাল মানেই শুধু হিমালয়, মন্দির আর বৌদ্ধ স্তুপ নয়|নেপালের অন্যতম আকর্ষণ তার সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান যার পোশাকি নাম চিতয়ান বা চিতবন জাতীয় উদ্যান|আজ গেছিলাম এই সংরক্ষিত অরণ্যে জঙ্গল সাফারির উদ্দেশ্যে|খোলা মেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে এখানকার জীব বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়েছি|নেপালের তরাই অঞ্চলে রয়েছে এই ‘চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান’। আসলে উপনিবেসিকতার যুগে ভারতের ন্যায় নেপালের বন ও বন্যা প্রাণীও নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়|একটি ঘটনার কথা বলি এই প্রসঙ্গে, ১৯১১-য় নেপালের রাজার আমন্ত্রণে আসেন ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ ও পুত্র অষ্টম এডওয়ার্ড।আসল উদ্দেশ্য শিকার, শোনা যায় সেই সময় প্রায় ৪০টি বাঘ ও ১৮টি একশৃঙ্গ গণ্ডার বন্দুকের গুলির শিকার হয়।বহু বার এমন হয়েছে নেপাল ভুটান সহ কোচ রাজাদের ছিলো শিকারের শখ, সত্যজিৎ রায়ের রয়েল বেঙ্গল রহস্য আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, সেখানেও এরম শিকারের উল্লেখ পাওয়া যায়, যাই হোক ধীরে ধীরে বাঘের ও অন্য প্রাণী দের সংখ্যা সংখ্যা কমতে শুরু করে। তারপর স্বাধীনতার পর শিকার নিষিদ্ধ হয়।বন্যাপ্রাণ সংরক্ষণ ও পর্যটন কে উৎসাহ দিতে তৈরি হয় এই জাতীয় উদ্যান|১৯৮৪ সালে ইউনেসকো চিতওয়ানকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মর্যাদা দেয়। প্রায় ৯৩২ বর্গ কিলোমিটার অরণ্যের আয়তন এখানে যার মধ্যে সৌরাহার বাঘমারা অংশেই ঘুরতে পারেন পর্যটকরা বাকিটা জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত নয়|চিতবন রাষ্ট্রীয় অরণ্যে প্রায় ৭০০ প্রজাতির অধিক বন্যপ্রাণ ও গাছপালা দিয়ে সাজানো হয়েছে|রয়েছে প্রজাপতি, মথ এবং পোকার অসংখ্য প্রজাতি|দেখা যায় শঙ্খচূড় এবং শিলা পাইথন সহ সাপের অন্যান্য ১৭ প্রজাতি, রয়েছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ এবং গুই সাপ|এখানে প্রতি বছর ঘড়িয়ালের ডিম সংগ্রহ করা হয় নদী থেকে, ঘড়িয়াল সংরক্ষণ প্রকল্পে ছানাগুলোকে ৬-৯ বছরের বড় করা হয়। প্রতিবছর তরুণ ঘড়িয়ালগুলোকে নারায়ণী-রাপ্তি নদী প্রক্রিয়ার মধ্যে পুনর্বাসন করা হয়|বর্তমানে গন্ডার, বাঘ, ভাল্লুক হরিণ সহ অসংখ্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ ভূমি এই চিতয়ান জাতীয় উদ্যান|যা আপনি দেখতে পাবেন জিপে চড়ে|সঙ্গে একটি দূরবীন থাকলে বহু দূরে থাকা জীব বৈচিত্র আপনার চোখে ধরা দেবে যা আনন্দকে নিঃসন্দেহে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়|সব দেখে শুনে আমি এতটাই মুগ্ধ যে অরণ্য ছেড়ে ফেরার ইচ্ছে নেই বললেই চলে|তবু বেরোতে হবে সময় নির্ধারিত|আবার পরের গন্তব্য নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী

ভাবতেও অদ্ভুত লাগে যে মাটিতে, যে স্থানে ভগবানের অবতার গৌতম বুদ্ধ জন্মেছিলেন সেই পবিত্র স্থানে আমি এই এখন দাঁড়িয়ে আছি..হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন,নেপাল ভ্রমণ পর্বে আজ আমি জগৎ প্রসিদ্ধ লুম্বিনী তে আছি..বর্তমানে নেপালের দক্ষিন পশিমাঞ্চলের একটি ছোট্ট শহর লুম্বিনী যা প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে প্রায় পাঁচশো পঞ্চাশ খ্রিষ্ট পূর্বের নিদর্শন বহন করছে।স্থানটি বৌদ্ধ এবং হিন্দু দুই ধর্মের মানুষের কাছেই অতি পবিত্র|ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বও অপরিসীম|বৌদ্ধধর্মের একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের লুম্বিনিয়াজনপদে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়।বৌদ্ধ পুরাণ অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধের মা মায়াদেবী শাক্য রাজধানী কপিলাবস্তু থেকে তার পৈতৃক বাসগৃহে যাচ্ছিলেন তখন তিনি গর্ভবতী এবং পথেই লুম্বিনি বনে একটি শালগাছের নিচে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়।বুদ্ধের জন্মের আগে মায়াদেবী এখানে একটি দীঘিতে স্নান করেন।সেই দীঘিতে সিদ্ধার্থকেও জন্মের পর স্নান করানো হয়।এই জলাশয়টি পবিত্র পুষ্করিণী হিসেবে খ্যাত যার প্রতিটি জল বিন্দুতে রয়েছে বুদ্ধের স্পর্শ ।বর্তমানে লুম্বিনিতে রয়েছে এই পবিত্র পুষ্করিণী। রয়েছে মায়াদেবী মন্দির।এই মন্দিরের একটি স্থান চিহ্নিত করা রয়েছে।বলা হয়ে থাকে ঠিক এই স্থানেই গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল|সেই জলাশয় দর্শন করে আমি ধন্য|গৌতম বৌদ্ধের মাতা মায়া দেবী বাগানের একটি গাছের কাছে বৌদ্ধের জন্ম দিয়েছিলেন। সেখানে তার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। ছোট একটি পার্কের মাঝখানে রয়েছে সুন্দর এই মন্দিরটি|প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমায় লুম্বিনির অধিষ্ঠাত্রী মায়াদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী এই তীর্থে আসেন।হিন্দুপুরাণে মায়াদেবীকে রূপাদেবী বলা হয়ে থাকে।বৈশাখী পূর্ণিমা ছাড়াও প্রতিদিনই সকাল থেকে বৌদ্ধ পুণ্যার্থীরা লুম্বিনিতে আসেন এবং সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান দর্শন করেন।শুধু জন্মগ্রহণই নয় সিদ্ধার্থ বুদ্ধ হওয়ার পরও লুম্বিনিবনে এসেছিলেন।তিনি দেবদহতে যাওয়ার পথে লুম্বিনিবনে কিছুকাল বাস করে ছিলেন এবং এই স্থানেই তিনি বিখ্যাত দেবদহ সুত্ত বর্ণনা করেন।ইউনেস্কো লুম্বিনিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।কজ লুম্বিনী তে এসে বুদ্ধজন্মস্থান দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির,মঠ ও অশোকস্মারক স্তম্ভ দর্শন করলাম|মৌর্য সম্রাট অশোক এই তীর্থভূমি পরিদর্শনে এসেছিলেন এবং তার আগমনের স্মারক হিসেবে এখানে এই অশোক স্তম্ভ স্থাপন করা হয়।ষষ্ঠ শতকে বিখ্যাত চীনা সন্ন্যাসী ও পর্যটক ফা হিয়েন তার লেখায় এই অশোক স্তম্ভর কথা বর্ণনা করেছেন|নেপালের অন্যতমশাসক খাদগা সোমেশ্বর রানার উদ্যোগে নেপালী প্রত্নতত্ববিদরা এই অশোক স্তম্ভ আবিষ্কার করেন|সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান তীর্থ স্থান গুলির মধ্যে লুম্বিনি হলো অন্যতম। অন্য তিনটি হলো কুশিনগর,বুদ্ধগয়া এবং সারনাথ।প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমায় লুম্বিনির অধিষ্ঠাত্রী মায়াদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী এই তীর্থে আসেন।হিন্দুপুরাণে মায়াদেবীকে রূপাদেবী বলা হয়ে থাকে।ইতিহাস ও পুরান ও ধার্মিক গুরুত্ব ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর দিক দিয়েও লুম্বিনী কোনো অংশে কম নয়|নেপাল ভ্রমণ সম্পূর্ণ হতে পারেনা লুম্বিনী না দেখলে|আর সব অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আনন্দ আরো বেড়ে যায়|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|পড়তে|থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ: পোখরার কিছু দর্শনীয় স্থান

গতকালের মনোস্কামনা মন্দির দর্শন দৈহিক ভাবে কিছুটা ক্লান্তি এনেছিল কারন দুর্গম ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ পদে পদে শক্তির পরীক্ষা নেয়|তবে নেপালের সৌন্দর্য এতটাই মনোরম ও মায়াবী যে ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায় আবার নতুন গন্তব্য হাত ছানি দিয়ে ডাকে|আজকের গন্তব্য পোখরা, এই পোখরা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত এবং নেপালের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ শহর|ভারতে যেমন কাশ্মীরকে ভুস্বর্গ বলা হয় তেমনই “নেপালের ভূস্বর্গ” বলা হয় এই পোখরাকে|দেখার মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান রয়েছে পোখরায়….প্রথমে বলবো ডেভিস ফলসের কথা যা পোখারার অন্যতম আকর্ষন। ছোট একটি ঝর্ণার নাম ডেভিস ফলস। বহুকাল আগে এক দম্পতি ঝর্নায় নেমে স্নান করছিল। সেই সময়ে জলের তোড়ে ভেসে যান ওই মহিলা পর্যটক এবং কিছুদিন পর তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তিতে নেপাল সরকার মৃত ট্যুরিস্টের নামে ঝর্ণার নাম রাখে ডেভিস ফলস|পাহাড়ি এই ঝর্ণা বেশ সুন্দর এবং মনোরম|ডেভিস ফল উল্টো দিকেই রয়েছে মহেন্দ্র গুহাটি মৃত রাজা মহেন্দ্র বির বিক্রম শাহাদেবের নামে নামাঙ্কিত|নেপাল রাজ পরিবার বরাবরই পরম শিব ভক্ত এবং তাদের অনুপ্রেরণায় গুহার ভিতরে মহাদেবের মুর্তি স্থাপন করা হয়|গুহার অভ্যন্তরের প্রাকৃতিক নিস্তব্ধতা|অন্ধকার ও বাদুড়ের ডানা এবং জলপ্রবাহের শব্দ বেশ গা ছম ছমে পরিবেশ সৃষ্টি করে|পোখরা ভ্রমন অসম্পূর্ন থেকে যাবে বিন্ধ্যবাসিনী মন্দির না দেখলে পোখরা অঞ্চলে বসবাসকারী হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে এই মন্দিরটি দেবী দুর্গাকে উত্সর্গীকৃত, যিনি পোখারার নির্বাচিত অভিভাবিকা|বিন্ধ্যবাসিনী মন্দিরটি 1845 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভগবতী এখানে প্রতিদিন পূজিতা হয়ে আসছে।আজও পশু বলি হয় এবং সাধারণত শনিবার এবং মঙ্গলবার বেছে নেয়া হয় বলীর জন্য|পোখরা সম্পর্কে বলতে গেলে আরো একটি গুহার কথা বলতেই হয়|ডেভিস ফলস এর বিপরীতে রয়েছে গুপ্তেশ্বর গুহা ডেভিস ফলসের জল এই গুহার মধ্য দিয়ে যায়।এখানেই স্বেতি নদী ভূগর্ভ থেকে বের হয়েছে। গুহা মন্দিরটি 16 শতকের দিকে আবিষ্কৃত হয় । স্বয়ং শিব রয়েছেন এই গুহায়|প্রায় 3 কিমি দীর্ঘ এই গুহা পোখরার অন্যতম আকর্ষণ|পোখরা আরো একবার মুগ্ধ করলো তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র দিয়ে|দেখা যাক আর কি কি অপেক্ষা করে আছে পরবর্তী পর্বে|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – মনোস্কামনা মন্দির দর্শন

প্রথম দিনের নেপাল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিলো অনবদ্য তবে নেপাল মানেই তীর্থ যাত্রী বা পর্যটকদের স্বর্গ রাজ্য কারন এ দেশের কোনায় কোনায় লুকিয়ে আছে মন্দির ও বৌদ্ধ স্তুপ আর তাদের ঘিরে আছে অসংখ্য পৌরাণিক কাহিনী ও ইতিহাস|আজ গেছিলাম বিখ্যাত মনোস্কামনা মন্দিরে যাকে স্থানীয় ভাষায় অনেকেই মনকামনা মন্দির ও বলেন… সে এক দুর্গম রাস্তা…আগাগোড়া পাহাড়ি পথ দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে গাড়িতে,তারপর হেঁটে, প্রায় ৮০০ ধাপ সিঁড়ি অতিক্রম করে তবে পৌছালাম মূল মন্দির চত্বরে| মনোস্কামনা মন্দির নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ড‌ু থেকে পশ্চিমে ১৪০ কিলোমিটার দূরে উঁচু এক পাহাড়ের মাথায় অবস্থান করছে|১৭’শ শতাব্দীর পুরনো এই মন্দির পাহাড়ের গায়ে ১৩০২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ত্রিশুলী নদী এবং রয়েছে এক গভীর খাদ। মন্দিরের অধিষ্টাত্রী দেবী হলেন মনোকামনা দেবী।মনের অভীষ্ট কামনা পূর্ণ করেন তাই অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম মনোকামনা রাখা হয়েছে।সমগ্র নেপালবাসীর কাছে দেবী অত্যন্ত জনপ্রিয় ও জাগ্রত|কথিত আছে মনোকামনা দেবীর কাছে প্রার্থনা করলে মনের ইচ্ছে পূরণ হয় তাই শুধু নেপাল নয় দেশ বিদেশ থেকেও দর্শণার্থীরা ছুটে আসেন| মনোস্কামনা মূলত দেবী ভগবতী, দুর্গা এবং কালীর মিশ্র রূপ। দেবীর মন্দিরে যাওয়ার আগে দেবীর পুজোর জন্য নিয়ে যেতে হয় ফুল, ধূপ ও লাল কাপড় কারন মন্দিরে নির্দিষ্ট জায়গায় লাল কাপড় বেঁধে, প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর কাছে নিজেদের প্রার্থনা জানান ভক্তরা। মনোকামনা দেবী খাঁটি সরল মনে চাওয়া ভক্তের প্রার্থনা সব সময় পূরণ করেন বলে মনে করা হয়| হয়তো আপনাদের ২০১৫-র ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা মনে আছে যাতে নেপালের একাধিক ঐতিহাসিক পর্যটন স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছিলো তখন ভালোরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেবী মনোস্কামনা মন্দিরটি। পরবর্তীতে সেটি সংস্কার করে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা হয়| দেবীর মনোকামনা কে নিয়ে বহু গল্প বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে কেউ কেউ এই মন্দির কে অন্যতম শক্তিপীঠ বলে মনে করেন যদিও এই মতের স্বপক্ষে সঠিক তথ্যের কিঞ্চিৎ অভাব আছে|আবার নেপালের অন্যতম শাসক রাম শাহের রাণী স্বয়ং মনোকামনা দেবীর অবতার ছিলেন এমনটাও বিশ্বাস করেন বহু মানুষ|  সারা বছর ভিড় থাকলেও দশহরায় দেবীর বিশেষ পূজার জন্য প্রচুর ভক্তসমাগম ঘটে। তন্ত্র মতে দেবীর পুজো হয় এখানে প্রতি অষ্টমী তিথিতে বলিদানের রীতি আজও প্রচলিত আছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ|আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং সর্বোপরি দেবী মনোস্কামনার দর্শন|সব মিলিয়ে আজকের ভ্রমণ স্বার্থক|আগামী দিনে আবার নতুন গন্তব্য আবার নতুন অভিজ্ঞতা|সবই আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো যথা সময়ে|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – পশুপতি নাথ ও শয়ম্ভু বৌদ্ধ স্তুপ

আগেই জানিয়েছিলাম বর্তমানে নেপালে আছি, উদেশ্য ভ্রমণ…বছরের শেষ টা হিমালয়ের কোলে এই সুন্দর দেশেই কাটাবো আর যা কিছু দেখবো যা কিছু শুনবো, যা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবো সব ভাগ করে নেবো আপনাদের সাথে, যেমনটা বরাবরই করে থাকি….. আজ শুরু করবো নেপালের দুটি বিখ্যাত ধার্মিক পর্যটন স্থল দিয়ে…নেপাল বলতেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ” যত কান্ড কাটমান্ডু ” গোটা উপন্যাসটি নেপালের পটভূমিকায় লেখা, সেখানে বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে এই পশুপতি নাথ মন্দিরের কথা..কাঠমান্ডু শহরের খুব কাছে দিওপাটন শহরের বুকে,বাগমতি নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দির অবস্থিত। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে এই মন্দিরটির গুরত্ব অপরিসীম|শিবের আরেক নাম হল পশুপতিনাথ। সেই নামেই এই মন্দিরটির নাম পশুনাথ মন্দির।পশুপতি নাথ মন্দিরটি কবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না তবে ঐতিহাসিকদের মতে এই মন্দির চতুর্থ শতাব্দী থেকেই নেপালের এই জায়গায় মন্দিরটির অস্তিত্ব ছিল।মন্দিরকে কেন্দ্র করে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় – একবার শিব ও পার্বতী কাটমান্ডুর বাগমতী নতীর তীরে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন। নদী তীরবর্তী উপত্যকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুদ্ধ হয়ে হরিণের বেশ ধরে ওই এলাকায় ঘুড়ে বেড়াতে থাকেন দুজনে। কিন্তু দেবতারা পড়েছেন মহাফাঁপরে।শিব ছাড়া সৃষ্টি অচল প্রায়!অনেক কষ্টে শিবকে খুঁজে পেলেও দেবাদিদেব শিব এই স্থান থেকে যেতে নারাজ।বহু অনুরোধে পরে শিব ঠিক করেন, তিনি যখন হরিণ বেশে এখানে ঘুড়েছেন তখন পশুদের পালন কর্তা হিসাবে এখানে তিনি পরিচিত হবেন। তারপর থেকেই এখানে শিবকে পশুপতিনাথ হিসেবে পূজা করা হয়ে আসছে।অপূর্ব সুন্দর এই প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন রাজকীয় শিব মন্দির প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে মন চলে যায় সেই আদিম, প্রাকৃতিক পৌরাণিক কালে|যে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি হয় অন্তরে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না….এখানে বলে রাখি নেপালের রাজারাই ছিলেন বিশ্বের শেষ হিন্দু রাজা, তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অন্তরিক প্রচেষ্টায় বার বার নবরূপে সেজে উঠেছে পশুপতি নাথের মন্দির|হয়ে উঠেছে দেশ বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ|নেপাল হচ্ছে ভগবান বুদ্ধের জন্মদেশ তাই সারা দেশ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ স্তুপ যার মধ্যে অন্যতম শয়ম্ভু বৌদ্ধ মনেস্ট্রি বা বৌদ্ধ স্তুপ|আজই সৌভাগ্য হয়েছিলো এও বৌদ্ধ স্তুপটি দর্শন করার|অদ্ভুত অভিজ্ঞতা|কাট মান্ডু শহরের পশ্চিমে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই স্তুপের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক পরিমন্ডল চোখে না দেখলে বা অনুভব না করলে ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল|গুনে গুনে 365 টি পাথরের সিঁড়ি অতিক্রম করে এখানে পৌঁছাতে হয়|টবে পৌঁছানোর পর|সব ক্লান্তি সব পরিশ্রম এক নিমিশে উধাও হয়ে যায়|সবে শুরু হলো আমার স্বপরিবারে নেপাল যাত্রা|থাকবো কিছুদিন|সব ঘুরে দেখবো|এখনো অসংখ্য তীর্থ স্থান দেখা বাকি|সে সব ও আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো আগামী পর্বগুলিতে|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|আরো অনেক চমক অপেক্ষা করে আছে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বড়দিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

বড়ো দিন এলেই আমার স্বামীজী ও ঠাকুর রামকৃষ্ণর আদর্শর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় কারন সব ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্দ্ধে গিয়ে তারা প্রভু যীশুর আরাধনা করেছিলো এই বাংলার মাটিতে, স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ, প্রভু যীশুর উপস্থিত উপলব্ধি করছিলেন একবার, সেকথাও উল্লেখ আছে নানা গ্রন্থে…. আজকের দিন সেই পরম পিতার শ্রেষ্ট সন্তানের জন্মদিন হিসেবেই পালিত হয় গোটা বিশ্বে|সব গির্জায় চলে বিশেষ প্রার্থনা|প্রকৃত অর্থে এই ক্রিসমাস ডে প্রভু যীশুর জন্মদিন কিনা তা বিতর্কের বিষয়|বাইবেলে কিন্তু কোথাও প্রভু যীশুর জন্মের নিদ্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই|অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয় হয় এবং উৎসব পালন করা হয়|আবার অনেকের মতে ভৌগোলিক ভাবে উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে বড়দিন পালিত হয় বিশ্ব জুড়ে অর্থাৎ আক্ষরিক দিক দিয়ে এই দিন সত্যি বড়ো দিন|এই দিনকে খ্রিস্টমাস ও বলে আবার এক্স মাস ও বলে কারন ইংরেজি খ্রিস্টমাস শব্দটি “খ্রিস্টের মাস ” বোঝাতে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং মূলত গ্রিক ভাষা থেকে এই শব্দের জন্ম হয়েছে|যেহেতু প্রাচীন গ্রিক ভাষায় Χ অক্ষর টি Christ বা খ্রিষ্ট শব্দের প্রথম অক্ষর তাই তাই এই অক্ষরটি খ্রিষ্ট শব্দেরনামসংক্ষেপ|বড়দিন বলুন বা ক্রিস্টমাস কিংবা এক্সমাস দিনটি ওতি পবিত্র| আজ প্রভু যীশুর কাছে প্রার্থনা জানানোর দিন|আজ উৎসব করার দিন|আপনারাও প্রার্থনা করুন|উৎসব পালন করুন|আপাতত রয়েছি প্রতিবেশী দেশ নেপালে|উদ্দেশ্য ভ্রমণ|সেই ভ্রমণ কাহিনী নিয়েও লিখবো যথা সময়ে| আপাতত আমার ও আমার পরিবারের তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে,বড়দিনের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|শুভ বড়দিন।

মন্দির রহস্য – রাজমাতা মন্দিরের ইতিহাস

বাংলার কোচবিহার জেলার রাজ আমলে স্থাপিত একটি অন্যতম প্রাচীন মন্দির হল রাজমাতা মন্দির। এই মন্দিরটি কোচবিহার রাজমাতা দীঘির উত্তরে মদনমোহন বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।আজকের পর্বে লিখবো এই প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে|বর্তমান কোচবিহার জেলার এই অন্যতম প্রাচীন মন্দিরটি কবে স্থাপিত সেটা সঠিক জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুয়ায়ী ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দের অনেক আগে থেকেই এই মন্দিরটির অস্তিত্ব ছিল। যতদূর জানা যায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন মহারাজা নরেন্দ্র নারায়ণের জ্যেষ্ঠ রাণী মহারানী নিস্তারিণী দেবী। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই তিনি এটিকে নির্মাণ করেছিলেন।তিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্ত|প্রায় ১৬৫ বছরের পুরনো এই মন্দির সংরক্ষিত এবং পরিচালিত হয় কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড দ্বারা।বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মন্দিরের চারপাশ জঙ্গলে পরিপূর্ণ, নোনা ধরা দেওয়ালে শ্যাওলা, জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।‌তবুও এখানে নিত্যসেবা হয় ঠাকুরের। রোজ রোজ ভিড় লেগে থাকে দর্শনার্থীর।রাতে তো কথাই নেই বর্তমানে দিনের বেলাতেও মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলে বেশগা ছম ছমে অনুভূতি হয়|প্রাচীন এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এখানে পূজিত হয়ে আসছেন সত্যভামা রাধারমণ এবং দেবী তারা কালি।মন্দিরটি দক্ষিণ দিকে মুখ করে অবস্থান করছে। এই একতলা মন্দিরটির নির্মাণের মাঝখানে একটি গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া এই মন্দিরে রয়েছে মোট তিনটি কক্ষ। নিত্য পুজো হয় এখানে|আজও নিয়ম মেনে প্রতিদিন সোয়া এক কেজি চালের ভোগ দেয়া হয়| এখানে দোল পূর্নিমার দিন বড় পুজো করা হয়। এছাড়াও রটন্তি কালী পুজো এখানে প্রচলিত আছে এবং দিপান্বিতা কালী পুজোরসময় বিশেষ পুজো করা হয় রাতে।আগামী পর্ব থেকে শুরু করবো নতুন বছরের রাশি ফল তার পর আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য মন্দির রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – বর্ধমানের লালজি মন্দিরের রহস্য

বর্গী হামলার সময় মারাঠারা যখন বর্ধমান আক্রমণ করেন। তখন সেখানকার জমিদাররা চলে আসেন কালনাতে। এখানেই তারা নতুন করে প্রাসাদ ও বিভিন্ন মন্দির নির্মাণ করেন। তাদের তৈরি রাজবাড়ির অন্দরে রয়েছে বিখ্যাত লালজী মন্দির। যে মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে পুরনো দিনের বহু ইতিহাস।সেই মন্দির নিয়েই আজকের লিখবো আজকের পর্বে|শতাব্দী প্রাচীন লালজী মন্দির কালনায় বর্ধমান রাজাদের তৈরি মন্দিরগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির এবং এই মন্দির তৈরীর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর কাহিনী।প্রাচীনকালে সন্ন্যাসীরা পুণ্য অর্জনের জন্য কালনার ওপর দিয়ে নদীপথে পাড়ি দিত গঙ্গাসাগরে। তখন যাওয়ার পথে কিছু সন্ন্যাসীর দল কালনার এই গঙ্গার ঘাটে আস্তানা গড়ে। একদিন গঙ্গাস্নানে যাওয়ার পথে রাজমাতা ব্রজকিশােরী দেবী এমনি এক তাবু থেকে হঠাৎ এক বালকের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন। কৌতূহল বশত তাঁবুতে প্রবেশ করলে তিনি এক সন্ন্যাসীকে দেখতে পেলেন। বালকের প্রসঙ্গ সন্ন্যাসীকে জিজ্ঞেস করায়, তিনি জানালেন তার সঙ্গে রয়েছে শুধুমাত্র তার উপাস্য দেবতা কানাইয়ের মূর্তি। এই শুনে ব্রজকিশােরী দেবী সেই মূর্তি নিতে চাইলেন। কিন্তু রাজমাতার অনুরোধেও মূর্তি দিতে চাইলেন না সেই সন্নাসী। তখন রাজমাতা জানালেন তার মেয়ের সাথে কানাইয়ের বিয়ে দিতে ইচ্ছুক। সন্ন্যাসী এ কথায় রাজি হলে ব্রজকিশােরী দেবী তার আরাধ্যা রাধারাণীর বিগ্রহের সঙ্গে বিয়ে দিলেন সন্ন্যাসী লালজীর সেই কানাই বিগ্রহের । এরপর ব্রজকিশােরী দেবী বহু অর্থ ব্যায় করে বিগ্রহদুটিকে প্রতিষ্ঠা করেন এবং গড়ে তােলেন লালজী মন্দির।প্রসিদ্ধ এই মন্দিরের মােট ২৫ টি চূড়া বা রত্ন যা ৪টি ধাপে বিভক্ত হয়েছে। মন্দিরের প্রথম তলার ছাদের চারকোণে মােট ১২ টি চূড়া রয়েছে। তার উপরের ধাপে ৮ টি চূড়া ও তৃতীয় তলার ছাদে ৪ টি চূড়া এবং সবশেষে একদম উপরে ১ টি চূড়া রয়েছে। মন্দিরের ভিতরে প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে রয়েছে একটি কাঠের দরজা। এই দরজা দিয়েই গর্ভগৃহে প্রবেশের পরেই ডানদিকে রয়েছে সিঁড়ি, যার সাহায্যে মন্দিরের উপরে ওঠা যায়। লালজি মন্দিরের দেওয়ালের সর্বত্রই রয়েছে টেরাকোটার কাজ সমগ্র মন্দির পরিসরে রয়েছে অসাধারণ টেরাকোটার কারুকার্য|বারান্দার দেওয়ালে খোদাই করা রয়েছে লঙ্কাযুদ্ধ। এছাড়াও বারান্দার সামনের খিলানে রয়েছে স্বপরিবাসে দুর্গা, দক্ষিণা কালী, বালগােপাল, জগদ্ধাত্রী দেবী। রয়েছে অশ্বারােহী সৈন্য, উঠের পিঠে সামরিক বাহিনী, মল্লযুদ্ধ, শিকারযাত্রা।মন্দিরের বিগ্রহ রাধাকৃষ্ণের দুই পাশে রয়েছে বালগােপাল। আজও নিয়মিত এই মন্দিরে পুজো করা হয়। এখানকার প্রধান উৎসব জন্মাষ্টমী। এছাড়াও এখানে মহাসমারোহে রাসযাত্রাও পালিত হয়।ফিরবো পরের পর্বে|থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|