নেপালের লুম্বিনী তে শুদ্ধধোন ও মায়াদেবীর সন্তান হিসেবে জন্মে ছিলেন সিদ্ধার্থ |যৌবনে রাজকুমারী যশোধরা দেবীর সাথে বিবাহ হয় সিদ্ধার্থর এক পুত্র ও হয়, নাম রাহুল |কিন্তু তিনি তো সংসার করতে আসেননি তিনি বুদ্ধ, তিনি আবির্ভুত হয়েছিলেন মানুষ কে সংসারের যাবতীয় দুক্ষ, কষ্ট ও মায়া থেকে মুক্তি দিয়ে মহানির্বানের পথ দেখাতে |একবার রাজকুমার সিদ্ধার্থ প্রাসাদ থেকে ভ্রমণে বেরোলে, প্রথমে দেখলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ তারপর একজন অসুস্থ মানুষ শেষে একজন মৃত মানুষ ও এই সবের পর এক সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। এই দিন জীবনের এক চরম সত্য উপলব্ধি করলেন সিদ্ধার্থ, ভোগের রাস্তা ত্যাগ করে বেড়িয়ে পড়লেন ত্যাগের পথে, মুক্তির পথে এবং কঠোর সাধনার পর অবশেষে সিদ্ধি লাভ অর্থাৎ তার বুদ্ধ হয়ে ওঠা এবং বিশ্ববাসীকে মুক্তির পথ দেখানো যে পথে আজ হাটছে কোটি কোটি মানুষ |আজ দিনটি অতি পবিত্র, আজ বুদ্ধ পূর্ণিমা, ভগবান বুদ্ধ এই বিশেষ দিনটিতে জন্ম গ্রহন করেছিলেন সেই থেকে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় “বুদ্ধ পূর্ণিমা ” আজ এই উৎসব শুধু বৌদ্ধ দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই সারা বিশ্বের শান্তি প্ৰিয় ও আধ্যাত্মিক চেতনা সম্পন্ন মানুষের কাছে একটি বিশেষ দিন |আজ গোটা পৃথিবী যে রক্তাক্ত ও হিংস্র সময়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আরো দিন দিন আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন ভগবান বুদ্ধ ও জীবন দর্শন, কিন্তু কি সেই মহান জীবন দর্শন আর কি বা ভগবান বুদ্ধের স্বরূপ? এসব জানার ও অনুভব করার জন্য আজকের দিনটি শ্রেষ্ঠ দিন|বৈষ্ণব মতে বুদ্ধ আবার ভগবানের নবম অবতার মনে করা হয় বেদ অমান্য কারীদের ভিন্ন পথ প্রদর্শন করতে ও প্রানী হত্যা বন্ধ করতে তিনি আবির্ভূত হয়ে ছিলেন |যদিও এই মতবাদ নিয়ে কিছু ভিন্ন মতও আছে |সে বিতর্ক আজ থাক|শুধু জন্ম নয় আজকের এই বিশেষ তিথিতে সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে ছিলেন গৌতম বুদ্ধ,আজও সারা পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বিশেষ ভাবে পালন করে এই দিনটা |বৌদ্ধ মঠ গুলিতে সন্ন্যাসীরা প্রদীপ জ্বালিয়ে সমবেত ভাবে বিশেষ প্রার্থনা করেন |এই বিশেষ তিথি বৈশাখী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত|বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি “এই মন্ত্র আজ আর শুধু একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, আজ এই শ্লোক বিশ্ব বাসির মুক্তির স্লোগানে পরিণত হয়েছে, এবং তা হয়েছে বুদ্ধের ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক চেতনা কে সামনে রেখে|আমার সব পাঠক ও অনুরাগীদের জানাই বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – মা মনসা
আজ পুরান কথায় জানবো মা মনসার আবির্ভাব ও তার পুজোর প্রচলন নিয়ে পৌরাণিক ব্যাখ্যা|দেবী মনসা একদিকে যেমন লৌকিক দেবী অন্যদিকে পুরানে এমনকি মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে|সনাতন ধর্মে মা মনসা হিন্দুধর্মের লৌকিক সর্পদেবী। মধ্যযুগের লোককাহিনী বিষয়ক মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র। সর্পদেবী হিসেবে মনসার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অথর্ববেদে। পুরাণে তাঁকে ঋষি কাশ্যপ ও নাগ-জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দী নাগাদ মনসা প্রজনন ও বিবাহের দেবী হিসেবে চিহ্নিত হন এবং শিবের আত্মীয় হিসেবে শৈব দেবমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত হন। কিংবদন্তি অনুযায়ী, শিব বিষপান করলে মনসা তাঁকে রক্ষা করেন সেই থেকে তিনি বিষহরি নামে পরিচিতা হন।মনসার জন্মকাহিনি প্রথম উল্লিখিত হয়েছে পুরাণ গ্রন্থেই মঙ্গলকাব্যে তাঁকে শিবের কন্যা বলা হলেও, অন্য একটি পুরাণ অনুসারে তিনি ঋষি কশ্যপের কন্যা।পুরা কালে সর্প ও সরীসৃপগণ পৃথিবীতে কলহ শুরু করলে কশ্যপ তাঁর মন থেকে মনসার জন্ম দেন। ব্রহ্মা তাঁকে সর্প ও সরীসৃপদের দেবী করে দেন। মনসা মন্ত্রবলে বিশ্বের উপর নিজ কর্তৃত্ব স্থাপন করেন। এরপর মনসা শিবের সঙ্গে সন্ধিস্থাপন করেন। শিব তাঁকে কৃষ্ণ-আরাধনার উপদেশ দেন। মনসা কৃষ্ণের আরাধনা করলে কৃষ্ণ তুষ্ট হয়ে তাঁকে সিদ্ধি প্রদান করেন এবং প্রথামতে তাঁর পূজা করে মর্ত্যলোকে তাঁর দেবীত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।মহাভারতে মনসার বিবাহের উল্লেখ রয়েছে। ঋষি জগৎকারু এক প্রচণ্ড তপস্যায় রত ছিলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে বিবাহ করবেন না। একদা তিনি দেখতে পান যে একদল লোককে গাছে উলটো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এঁরা ছিলেন তাঁরই পূর্বপুরুষ। তাঁদের সন্তানেরা তাঁদের শ্রাদ্ধাদি সম্পূর্ণ না করায় তাঁদের এই দুঃখজনক অবস্থা হয়েছিল। তাঁরা জগৎকারুকে বিবাহ করার উপদেশ দিয়ে বলেন যে তাঁর পুত্রই শ্রাদ্ধাদি সম্পূর্ণ করে তাঁদের দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে পারবে। বাসুকী জগৎকারুর সঙ্গে নিজ ভগিনী মনসার বিবাহ দেন। আস্তিক নামে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হয়। আস্তিক তাঁর পূর্বপুরুষদের মুক্তি দেন। রাজা জনমেজয় সর্পজাতির বিনাশার্থে সর্পনিধন যজ্ঞ শুরু করলে আস্তিকই নাগদের রক্ষা করেন।মনসাবিজয় কাব্য থেকে জানা যায়, বাসুকীর মা একটি ছোটো মেয়ের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। শিবের শিবের ক্রিপায় এই মূর্তি থেকেই মনসার জন্ম হয় এবং পরবর্তীতে বাসুকী তাঁকে নিজ ভগিনীরূপে গ্রহণ করেন। বাসুকী তার কাছে গচ্ছিত বিষের ভান্ডার মনসাকে দেন যা পরবর্তীতে মনসার শক্তির উৎস হয়ে ওঠে|অর্থাৎ মনসার উৎপত্তি মূলত পুরানে বর্ণিত এবং তার জনপ্রিয়তা ও পুজোর প্রচার তাকে বাংলার লৌকিক দেবী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে|প্রনাম জানাই মা মনসা কে|আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো পুরান কথার কোনো নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গ্রহরাজ শনিদেবের ক্রোধ
আমাদের পুরান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ রাজ শনিকে একটি ভয়ানক গ্রহ বা রাগী দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে|শনিদেব বদরাগী, তিনি নিষ্ঠুর! কিন্তু কেনো?কি তার রাগের কারন? সত্যি কি তিনি এতটা ভয়ের? এতটা হানিকারক!এই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে আমাদের শাস্ত্রে|বিভিন্ন হিন্দু পুরাণে শনির কাহিনি সম্পর্কে ভিন্ন মতবাদ রয়েছে।হাজার বদনাম সত্ত্বেও মৎস্য পুরাণ কিন্তু শনিদেবকে লোকহিতকর গ্রহের তালিকাতেই ফেলেছে। মৎস্য পুরাণে বলা হচ্ছে, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার মেয়ে সঞ্জনার সঙ্গে বিয়ে হয় সূর্যদেবের। কিন্তু সূর্যের প্রচণ্ড তাপে প্রায় ঝলসে যান সঞ্জনা। তখন তাঁর নতুন নাম হয় সন্ধ্যা। নিজের এমন দূরবস্থায় স্বামীর প্রতি সমস্ত ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেন তিনি। সূর্যের থেকে দূরে পালাতে চান তিনি। কিন্তু কী ভাবে? তখন সন্ধ্যা নিজেরই একটি প্রতিকৃতি সৃষ্টি করেন| তাঁর নাম দেন ছায়া। ছায়াকে স্বামীর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে সন্ধ্যা পিতার ঘরে ফিরে যান। এ ভাবে যে তাঁর স্ত্রী বদল হয়ে গেল তা খেয়ালই করেন না সূর্যদেব।এই সূরদেব ও ছায়ার সন্তান হিসেবে জন্ম নেন শনি। মেয়ে তাঁর কাছে, এদিকে সূর্যের সন্তান-জন্মের খবর পেয়ে বিশ্বকর্মা ধন্দে পড়ে যান। সন্ধ্যার কাছে ছুটে গিয়ে সব জানতে চান। সব শুনে বিশ্বকর্মা সন্ধ্যাকে সেই মুহূর্তেই পতিগৃহে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। ক্ষুব্ধ সন্ধ্যা ফিরে গিয়ে ছায়াকে নিঃশেষ করে নিজে ফের সূর্যের স্ত্রীর ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এ ঘটনাও সূর্যের নজর এড়িয়ে যায়|শনির জীবনের দুক্ষ দুর্দশার সূত্রপাত এখান থেকেই, এর পর শনির প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করতে শুরু করেন সন্ধ্যা। শনিকে সূর্যের থেকে দূরে সরাতে অনবরত স্বামীর কান ভাঙাতে থাকেন সন্ধ্যা। এভাবে মায়ের স্নেহ এবং বাবার ভালোবাসা না পেয়ে ক্রুদ্ধ, বিরক্ত, অলস হয়ে উঠতে থাকেন শনি। কোনও কিছুই তাঁর ভালো লাগে না।কিছুকাল পরে, সূর্যের ঔরসে সন্ধ্যার গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের জন্ম হয়। ছেলের নাম রাখা হয় যম ও মেয়ের নাম যমুনা। ক্রমে ছেলে-মেয়েরা বড় হলে তাঁদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সূর্য। যমকে দেওয়া হয় ধর্মরাজের দায়িত্ব। পৃথিবীর বুকে ধর্মরক্ষার দায়িত্ব তাঁর। যমুনা পবিত্র নদীর রূপ নিয়ে সব পাপ-তাপ ধুয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পান।ওদিকে সন্ধ্যার ক্রমাগত কান ভাঙানোর ফলে বড় ছেলে হওয়া সত্ত্বেও শনিকে কোনও দায়িত্বই দেন না সূর্য। এ ভাবে বঞ্চিত, অসহায় শনি ভাই-বোনের থেকে দূরে সরে গিয়ে আরও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। একদিন শোক ও রাগে পাগল হয়ে সন্ধ্যাকে লাথি মারেন তিনি। সেই রাগে শনিকে খোঁড়া হয়ে যাওয়ার অভিশাপ দেন সন্ধ্যা। মা-কে লাথি মারার জন্য শনির ওপর সূর্য ক্রুদ্ধ হলেও বেশি অবাক হন সন্ধ্যার ভূমিকায়। একজন মা কী করে তাঁর সন্তানকে এমন অভিশাপ দিতে পারেন! সন্ধ্যার কাছে সব কথা জানতে চান তিনি। সূর্যের জেরায় ভেঙে পড়ে অবশেষে তাঁকে সব জানাতে বাধ্য হন সন্ধ্যা।অবশেষে শনির ওপর এতদিন এত অন্যায় হয়েছে বুঝতে পেরে নিজের ভুল স্বীকার করেন সূর্য। শনিকে সৌরমণ্ডলে স্থান দেন তিনি। কর্মফলের দেবতা হিসেবে শনিকে উন্নীত করা হয়। এ জন্যই কেউ কোনও অপকর্ম করলে শনির নজর এড়ায় না এবং শনির হাতে তার শাস্তি নিশ্চিত।অর্থাৎ তার এই ক্রোধ ও নিষ্ঠুরতা দিয়ে তাকে বিচার করলে হবেনা|তিনি কর্ম ফল প্রদান করেন|তিনি ভালোর জন্যে ভালো আবার খারাপের জন্যে খারাপ|চলতে থাকবে পুরান কথা|আরো এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন আগামী দিনে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গরুড় পুরান ও নরক
পুরান গুলির মধ্যে গরুড় পুরান নামে একটি পুরান আছে|এই গরুড় পুরান আঠেরো টি মহা পুরানের অন্যতম |অনেক রহস্য অনেক অনেক গল্প ছড়িয়ে আছে গরুড় পুরানে|পাপ পুন্য কি, নরক কেমন বা কোন পাপের কি শাস্তি, এই সব প্রশ্নের উত্তর অতি সুন্দর ভাবে দেয়া হয়েছে গরুড় পুরানে| শুধু নরক বর্ণনা নয় প্রতিটি পাপের স্বাস্তি ও উল্লেখ করা আছে গরুড় পুরানে |যা এই পুরান কে এক অন্য মাত্রা দান করেছে |গরুড় পুরানে বর্ণিত বিভিন্ন পাপের স্বাস্তি গুলি কিছুটা এইরূপ -শুকরমুখম— যারা অন্যের উপরে অত্যাচার করে, বিশেষত যে সব রাজা প্রজাপীড়ন করেন। তাঁদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে এই নরক। এখানেও শাস্তি প্রহার।বেদম প্রহার করে যমদূতরা।তমিশ্রম— অন্যের সম্পদ যদি কেউ আত্মসাৎ করেন, তাঁর জন্য রয়েছে এই নরক। যমদূত রা যমলোকে তাঁকে হাত বেঁধে ক্রমাগত প্রহার করবে । তাদের রক্তপাত হতে থাকবে এবং তারা জ্ঞান হারানো পর্যন্ত এই প্রহার চলবে।আদি অনন্ত কাল চলতে পারে এই প্রহার |রৌরব— অন্যের সম্পদে বিলাসিতা, করা বা ভোগ ইত্যাদির জন্য রয়েছে এই শাস্তি। সাপে পরিপূর্ণ এই নরকে তাদের নিক্ষেপ করা হবে।কুম্ভীপাক— জ্বলন্ত কুণ্ডে বসানো মহাকুম্ভে ফুটন্ত তেলে পাপী দের সেদ্ধ করা হবে, যারা নিজের আনন্দের জন্য পশুহত্যা করে।মহারৌরব— এখানেও সাপ। এবং সমান যন্ত্রনা দায়ক । যারা উত্তরাধিকারী রাখে না, তাদের জন্য নির্ধারিত এই নরক।বিষধর সাপের হাতে তুলে দেয়া হবে এই পাপী দের অন্ধকুপ— সৎ ব্যক্তকে যাঁরা পীড়ন করে এবং নিজের সামর্থ্য থাকতেও যারা কাউকে সাহায্য করে না, তাদেরই এখানে নিয়ে এসে এক কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। সেখানে সিংহ, বাঘ, ঈগল থেকে শুরু করে বিষধর সাপ, বিছে ইত্যাদি তাদের নিরন্তর কামড়াতে থাকে।খুবলে খুবলে খায় ও যন্ত্রনা দেয় পাপী কে |তপ্তমূর্তি— সোনা-রুপো চুরি করলে নরকের এই বিভাগে নিয়ে আসা হয়। লেলিহান আগুনে তাদের নিক্ষেপ করা হয়। শাল্মলী— অসৎ ও ব্যাভিচারী স্ত্রী-পুরুষকে পাঠানো হয় এখানে। জ্বলন্ত থামকে আলিঙ্গন করতে বলা হয়। না করলে যমদূতরা জ্বলনত কাঠ দিয়ে পেটায়। মারতে থাকে যতদিন না শাস্তি সম্পূর্ণ হয় |বজ্রকন্টকশালী— পশুকামিতার শাস্তি বিধান হয় এই নরকে। তীক্ষ্ণ হীরক-খচিত লৌহমানবকে আলিঙ্গন করতে বলা হয়। অত্যন্ত যন্ত্রনা দায়ক এই শাস্তি |পুয়োদকম— অবৈধ যৌনতা এবং স্ত্রী দের ঠকানোর শাস্তি | রক্ত ও বিষাক্ত দ্রব্যে পূর্ন জলাধারে তাদের নিক্ষেপ করা হয়।কালসূত্র— এই নরকও দারুণ উত্তপ্ত। গুরুজনদের ভক্তি না-করলে, অসম্মান করলে এখানে নিক্ষেপ করা হবে।শুধু শাস্তি নয় প্রতিটি বিভাগ, যমদূত দের বর্ণনা ও জমরাজের ভূমিকা অতি সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে চিত্রিত হয়েছে গরুড় পুরানে|চলতে থাকবে পুরানকথা|আবার ফিরে আসবো পুরান কথার নতুন পর্ব নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরানকথা- মৎস পুরান ও বাস্তু দেবের জন্ম
জ্যোতিষ শাস্ত্রর ন্যায় বাস্তু শাস্ত্র ও অত্যন্ত ও জনপ্রিয় ও কার্যকরী একটি শাস্ত্র যা আমাদের জীবন কে নানা দিক থেকে সরাসরি প্রভাবিত করে,বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র যেমন জন্ম নিয়েছে বেদের একটি অংশ থেকে তেমনই বাস্তু শাস্ত্রের জন্ম হয়েছে একটি বিশেষ পুরান থেকে এবং এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি রোমাঞ্চকর পৌরাণিক ঘটনা|মৎস অবতার বিষ্ণুর প্রথম অবতার আর সেই অবতার নিয়েই মৎস পুরান তাই নানা দিক থেকে এই পুরান টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ |মৎস্য পুরাণ অনুযায়ী, প্রথম মহাপ্রলয়ের সময় জীবকুলকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু মৎস অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আজ থেকে বহু যুগ আগে দক্ষিণ ভারতে এই পুরান জ্যোতিষ এর অন্যতম শাখা বাস্তু শাস্ত্রের সূচনা করে কারন বাস্তুদেবতার উৎপত্তি এই পুরানেই লিপিবদ্ধ হয়েছে|বাস্তু দেবতার পূজার্চনার ব্যাপারে একটি মজার ঘটনার উল্লেখ মেলে মৎস্য পুরানে ।মৎস পুরানে উল্লেক্ষিত পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী অনেকদিন আগে অন্ধক নামে এক অসুরের সাথে দেবাদিদেব মহাদেবের অনেক বছর ধরে যুদ্ধ হয় এবং অবশেষে মহাদেব শিব অসুরকে বধ করেন । দেবতা শিব যখন অসুরকে বধ করেন তখন তার শরীর নির্গত ঘাম থেকে এক মহাত্মার জন্ম হয় । যিনি অন্ধকাসুর এবং তার যোদ্ধা গণের সমস্ত রক্ত পান করেন । কিন্তু তবুও সেই মহাত্মার খুদা শান্ত না হওয়াতে, তিনি দেবাদিদেব মহাদেবের তপস্যা করেন । ভোলা মহেশ্বর তপস্যাতে তুষ্ট হয়ে বর প্রদান করেন আর সেই বর পেয়ে মহাত্মা ভূলোকে এসে সমস্ত প্রাণীদের খেতে শুরু করেন ।মহাত্মার এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে দেবতা, দানব, রাক্ষস এবং সমস্ত প্রাণী আতঙ্কিত হয়ে পরম পিতা ব্রহ্মাকে স্মরণ করেন । ব্রহ্মদেব তখন মহাত্মাকে পেট পেতে উপুড় হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ব্রহ্ম দেবের পরামর্শ মেনে মহাত্মা তাই করেন । ব্রহ্মদেবের পরামর্শ অনুযায়ী ৮১ জন দেবতা মহাত্মার পেটের ভেতর বিভিন্ন অংশে গিয়ে বসলেন ।ব্রহ্মা মহাত্মার প্রার্থনায় অবিভূত হয়ে তাকে বর দিলেন যে – নতুন বাস ভবনের নির্মাণের আগে যদি কেউ তোমাকে বাস্তুদেবতা বলে মেনে পুজো করে এবং অন্নদান করে তাহলে তুমি তাকে সুখ সমৃদ্ধি দিয়ে ভরিয়ে তুলবে কিন্তু যদি কেউ তোমার পুজো না করে নতুন ঘরে বসবাস শুরু করে তবে তুমি তাকে ভক্ষণ করতে পারবে, এমনকি তাকে লাঞ্ছনাও দিতে পারবে ।আজও এই নীতি মেনেই ভারতবর্ষে বাস্তু পূজা হয় ও বাস্তু দেব কে সন্তুষ্ট করা হয় |চলবে পুরান কথা|পুরানের এমন আরো অনেক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – গনেশের বিবাহ
আজ পুরান কথার এই পর্বে গনেশের বিবাহ নিয়ে বলবো|বাংলার দুর্গোৎসবের সময়ে কলা বউ স্নান করানোর রীতি আছে|অনেকে মনে করেন এই কলা বউ গণেশের স্ত্রী|পুরান কিন্তু অন্য কথা বলছে|শিব পুরাণ অনুসারে প্রজাপতি ব্রহ্মার দুই কন্যা সিদ্ধি ও বুদ্ধির সঙ্গে বিয়ে হয় গণেশের। দুই স্ত্রীর সঙ্গেই গণেশের একজন করে সন্তানের জন্ম হয়। সিদ্ধির গর্ভে জন্মান ক্ষেম। আর বুদ্ধির সন্তানের নাম লাভ। তবে গণেশের দুই স্ত্রীর নাম নিয়ে কিন্তু মতভেদ রয়েছে। কোথাও গণেশের দুই বউয়ের নাম তুষ্টি ও পুষ্টি আবার কোনো শাস্ত্রে ঋদ্ধি ও বুদ্ধি। গনেশের জন্ম ও তার অদ্ভুত রূপ নিয়ে যেমন অনেক পৌরাণিক ঘটনা আছে তেমন তার বিবাহ নিয়েও পুরানে একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় বিবাহ স্থির করার আগে মহেশ্বর কার্তিক ও গণেশ কে বললেন–তোমরা দুজনেই আমাদের কাছে সমান। আমরা ঠিক করেছি যে আগে পৃথিবী পরিক্রমা করে আসবে, তার আগে বিয়ে হবে।কার্তিক তার বাহন ময়ুরে চড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে বেরিয়ে পড়লেন|বেগতিক দেখে বুদ্ধিমান গণেশ এক অদ্ভুত কান্ড করে ফেললেন|তিনি তার পিতা মাতা কেই সাত বার প্রদক্ষিণ করলেন ভক্তি সহকারে ও বললেন পুত্রের প্রধান তীর্থ পিতা-মাতার পাদপদ্ম। তেমনি স্বামীই পত্নীর পরম তীর্থক্ষেত্র। এখন আমি আপনাদের প্রদক্ষিণ করলাম। এতো পৃথিবী পরিক্রমা হল আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে বেদবাক্যকে মিথ্যা বলতে হয়।যথারীতি এই উত্তরে প্রসন্ন হয়ে শিব ও পার্বতী তাদের প্ৰিয় পুত্র গনেশের বিবাহ আগে স্থির করেন ও যথা সময়ে গণেশের বিবাহ সম্পন্ন হয়|সিদ্ধিদাতা গণেশকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একাধিক পৌরাণিক ঘটনা |আবার আগামী দিনে নতুন পুরান কথানিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – পঞ্চকেদার সৃষ্টি
পুরান কথার আজকের পর্বে আলোচনা করবো পঞ্চকেদার নিয়ে|শিব ক্ষেত্র বলতেই প্রথমেই কাশি বা অমরনাথ বা কৈলাস মানস সরোবরে নাম মনে হলেও শৈব্য দের কাছে পাঁচটি শিব মন্দিরের আলাদা মাহাত্ম্য আছে|এই পাঁচটি শিবমন্দিরকে একত্রে পঞ্চ কেদার ও বলে|এগুলি হলো যথাক্রমে কেদার নাথ, তুঙ্গনাথ যা উত্তরাখণ্ড এর রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিব মন্দির, মদমহেশ্বর,রুদ্রনাথ যা পাঁচটি কেদারের মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম রুদ্রনাথ। কল্পেশ্বর ,কল্পগঙ্গা নদীর তীরে কল্পেশ্বর মন্দির।এই পাঁচটি মন্দির বা পঞ্চকেদার কিভাবে সৃষ্টির হোলো তা নিয়ে মহাভারতে একটি সুন্দর ঘটনার উল্লেখ আছে|কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কৌরবদের হত্যা করলেন পঞ্চ পাণ্ডব এবং স্বজন হত্যা ও ব্রাহ্মণ হত্যার মত গুরুতর পাপের ভাগী হলেন। যুদ্ধ শেষে শোকে দুক্ষে মর্মাহত পাঁচ ভাই বেড়িয়ে পড়লেন দেবাদিদেব মহাদেব-এর খোঁজে। উদ্দেশ্য তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে কিছুটা হলেও মনের শান্তি ফিরে পাওয়া।প্রথমেই তাঁরা গেলেন শিবধাম কাশীতে যেখানে রয়েছে অসংখ্য শিব মন্দির|কাশীতে শিবের দেখা না পেয়ে বিমর্ষ পঞ্চপাণ্ডব গেলেন গাড়োয়াল হিমালয়ে। সেখানে গুপ্তকাশীর কাছাকাছি তাঁরা দেখলেন প্রকাণ্ড এক ষাঁড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পঞ্চপাণ্ডবদের অন্যতম ভীম দর্শনমাত্র চিনে ফেললেন যে এই ষাঁড়ের ছদ্মবেশে লুকিয়ে আছেন স্বয়ং মহাদেব|ওদিকে পাণ্ডবদের দেখেই শিব পালানোর চেষ্টা করলেন। ছুটে গিয়ে ভীম ষাঁড়টিকে জড়িয়ে ধরলেন। শিব তৎক্ষণাৎ অদৃশ্য হয়ে গেলেন মাটীর নীচে এবং ওই আত্মগোপনরত অবস্থায় ছদ্মবেশে বিভিন্ন জায়গায় শিব পঞ্চপাণ্ডবদের দর্শন দেন। কেদারনাথে ষাঁড়ের কুঁজ আবির্ভুত হয়। তুঙ্গনাথে বাহুদ্বয়, রুদ্রনাথ-এ মস্তক, নাভি ও পেট আবির্ভূত হয় মদমহেশ্বর-এ, চুল ও জটা কল্পেশর-এ। এভাবেই খণ্ডিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এই সকল জায়গায়। এরপর পাণ্ডব ভাইয়েরা এই পাঁচ জায়গাতেই শিবের মন্দির স্থাপন করলেন, যা বর্তমানে একত্রে পঞ্চ কেদার নামে হিন্দুদের পবিত্রতম তীর্থস্থান ও জগৎ প্রসিদ্ধ|চলবে পুরান কথা|আগামী পর্বে এমনই কোনো রোমাঞ্চকর পৌরাণিক ঘটনার সহজ ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
জন্মদিনে কবিগুরুকে প্রণাম ও শ্রদ্ধার্ঘ্য
অগ্রজ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধাজানিয়ে একাধিক কবিতা লিখেছেন বাংলাকাব্য জগতের আরেক মহারথী জীবনানন্দ দাশ যার মধ্যে ঊষা’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে এই কবিতাটি আমার খুব প্ৰিয় -‘মানুষের মনে দীপ্তি আছেতাই রোজ নক্ষত্র ও সূর্য মধুর—এ রকম কথা যেন শোনা যেতো কোনো একদিন,আজ সেই বক্তা ঢের দূরচলে গেছে মনে হয় তবু;আমাদের আজকের ইতিহাস হিমেনিমজ্জিত হয়ে আছে বলেওরা ভাবে নীল হয়ে গিয়েছে অন্তিমেসৃষ্টির প্রথম নাদ—শিব ও সৌন্দর্য;তবুও মূল্য ফিরে আসেনতুন সময়তীরে সার্বভৌম সত্যের মতনমানুষের চেতনায় আশায় প্রয়াসে।’আজ পঁচিশে বৈশাখে কবিগুরুর চরনে আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধার্ঘ্য রইলো|
পুরান কথা – হনুমানজি ও সিঁদুর
আমরা বিশ্বাস করি ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দিয়ে পুজো দিলে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর ভক্তের মনস্কামনা পূর্ণ করেন এবং প্রতি মঙ্গলবার হনুমানজি-কে সিঁদুর দিয়ে পুজো দিলে গৃহস্থের মঙ্গল হয় এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে।এই উপাচারের সাথে জড়িত আছে এক পৌরাণিক ঘটনা রামভক্ত হনুমান-কে সিঁদুর দান করার পিছনে একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে।পুরানে উল্লেখ আছে একদিন দেবী সীতাকে সিঁদুর পড়তে দেখে হনুমান সীতাকে জিজ্ঞেস করেন যে তিনি কেন সিঁদুর পড়ছেন, উত্তরে সীতা হনুমানকে জানিয়েছিলেন,ঈশ্বর রামের দীর্ঘায়ুর জন্যই সিথিতে সিঁদুর পড়েন তিনি।হনুমান তখন ভাবেন যদি সিঁদুরই তাঁর প্রভু রামের দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি হয় তাহলে তিনিও সিঁদুর পড়বেন।তাই সীতার কথা শুনেই নিজের পুরো শরীরেই সিঁদুর মেখে নেন হনুমান।এখান থেকেই সূত্রপাত হয় তার সিঁদুর প্রীতির |গুরুর প্রতি শিষ্যের এমন ভালোবাসা ও ভক্তির কথা জানতে পেরে শ্রীরামচন্দ্র হনুমানকে আশীর্বাদ করেন যে, সবাই তাকে সিঁদুর দিয়ে পুজো করবে। আর সেই থেকে আজও ভগবান হনুমানকে সিঁদুর দান করে পুজো করা হয়।এরপর থেকেই হনুমান ভক্তরা মনে করেন, বীর হনুমানকে সিঁদুর দান করলে তিনি সেই সিঁদুর নিজের গায়ে মাখেন এবং ভক্তের সমস্ত ইচ্ছে পূরণ করে দেন।আপনারাও নিজ মনোস্কামনা জানিয়ে তার উদ্দেশ্যে সিঁদুর অর্পণ করতে পারেন|ভালো ফল পাবেন|এমন আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনার ব্যাখ্যা পেতে পড়তে থাকুন পুরানকথা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান কথা – প্রভু জগন্নাথ
চলছে জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা আর কদিন পরেই স্নান যাত্রা আর তারপর বহু প্রতিক্ষিত রথ যাত্রা,রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দেবেন জগতের জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা, গত বৃহস্পতিবার অত্যন্ত পবিত্র তিথিতে আমার গৃহ মন্দিরে শাস্ত্র মতে প্রতিষ্ঠিত হলেন জগন্নাথদেব|

আজ পুরান কথায় জানাবো জগন্নাথদেব সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও তার ব্যাখ্যা|চন্দন যাত্রা চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে শুরু হয়ে ২১ দিন পর্যন্ত চলে। ভগবান শ্রীজগন্নাথদেব এই দিনে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে চন্দনযাত্রা মহোৎসবটি পালন করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন।

ভগবানের অঙ্গলেপন এক ধরণের ভক্তিমূলক কর্ম এবং চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে, তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এবং উৎসব-মূর্তি বা বিগ্রহগণকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করা হয়ে থাকেদেবস্নানা পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের স্নানের উৎসব স্নানযাত্রা কারন এই দিন জগন্নাথদেবের জন্মতিথি। স্নানযাত্রা আমাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের খুবই পবিত্র উৎসব এবং এই স্নানযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে গর্ভগৃহ থেকে স্নানবেদীতে আনা হয় এবং এই সময়ে ভক্তদের দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়|যদিও এবছর মহামারীর কারনে অনেক নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ সেই ভাবে হবে না|এই স্নান যাত্রার ইতিহাস অতি প্রাচীন, স্কন্দপুরাণ মতে পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই অনুষ্ঠান প্রচলন করেন এই বিশেষ তিথিতে|স্নানযাত্রার দিন কূপের জল মন্ত্র দ্বারা শুদ্ধ করে ১০৮ কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়। স্নানপর্বের পর বিগ্রহ সাজানো হয় গজবেশে। অনেকেই মনে করেন এই উৎসব কালে জগন্নাথ দর্শন করলে সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়| স্নানযাত্রার পর শুরু হয় অনসর। এই অনসরকালে জগন্নাথদেব অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন,তিনি গৃহবন্দি হন,রথযাত্রা পর্যন্ত বিশ্রাম নেন,এই সময়ে জগৎ রক্ষাকারী এই দেবতাকে কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হয়।আর রথযাত্রার দিন আত্মপ্রকাশ করেন। রাজবেশে সামনে আসেন জগতের নাথ|হিন্দু ধর্মের অন্যান্য দেবতাদের মূর্তি বা প্রতিমার সঙ্গে জগন্নাথের বিগ্রহের কিছু পার্থক্য রয়েছে।

দেবতাদের বিগ্রহ সাধারণত আমরা সোনা, রুপো, তামা কিংবা বিভিন্নরকম ধাতু এমনকি মাটি দিয়েও তৈরি হয়। কিন্তু জগন্নাথের বিগ্রহ তৈরি হয় নিম কাঠ দিয়ে। বিগ্রহের আকারও বিচিত্র। চৌকো মাথা, বড় বড় চোখ এবং অসম্পূর্ণ হাত। জগন্নাথের এই অসম্পূর্ণ হাতের পিছনে চলতি অনেক গল্প রয়েছে। রয়েছে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা এবং তাৎপর্য|প্রভু জগন্নাথের মূর্তিতে চোখের পাতা নেই|এর একটা কারন তিনি জগতের নাথ এবং তিনি সদা জাগ্রত|একটি মুহূর্তের জন্যও তিনি দেখা বন্ধ করেননা|তিনি পরম দয়ালু তাই প্রতি মুহূর্তে তার ভক্তদের উপর তার কৃপা দৃষ্টি নিক্ষেপিত হয়|

“যে গাছের কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি তৈরী হতে পারে, তার এগারোটা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। “”যেমন গাছের গায়ে হাতির শুঁড় ও চোখের আকৃতি স্পষ্ট থাকতে হবে, গাছের সাথে সাপ জড়িয়ে থাকবে, উঁইয়ের ঢিপি থাকবে ইত্যাদি।”প্রায় দুমাস ধরে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে ওই গাছ খুঁজে বার করে তারপরে মহাযজ্ঞ এবং আরো অনুষ্ঠান করে শুরু হয় মূর্তি নির্মাণ|চলবে পুরান কথা|দেখা হবে পরের পর্বে|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|