অম্বুবাচি – তন্ত্র ক্ষেত্র কামাখ্যা

47

শুরু হলো অম্বুবাচী এসময়ে সব থেকে বেশি আলোচিত হয় কামাখ্যা মন্দির যা হিন্দুদের ৫১ সতীপীঠের একটি যা ভারতের তন্ত্র সাধনার মূল কেন্দ্র| নীল পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এই স্থান তাই অনেকের কাছেই যাদু নগরী বা মায়া নগরী|কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন কামাখ্যা হলো যাদুটোনা, তন্ত্রসাধনার পীঠস্থান এখানে নাকি ভূত,প্রেত, ডাকিনী,যোগিনী দের দেখা মেলা যায়। তাদের কাছে এখনো ভয়ংকর জায়গা কামরূপ কামাখ্যা|কামাখ্যা সম্পর্কে এক কালে ধারনা ছিলো ওখানে পৌঁছালে আর নাকি ফিরে আসা যায় না। বলা হয় জাদুটোনা, ও তন্ত্র-মন্ত্রের রহস্যঘেরা দেশ এটি৷ শুধু কামরূপ কামাখ্যা নয়, ওখানের আশেপাশে অরণ্যে আর নির্জন পথেও নাকি দেখা মেলে অলৌকিক খমতা সম্পন্ন জীবদের ।প্রাচীন কালে কামরূপ-কামাখ্যা নারী শাসিত পাহাড়ী ভূ-খন্ড ছিলো । সেখানকার নারীরা তন্ত্র সাধনায় বিশেষ করে বশীকরণ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে কামরূপ-কামাখ্যার মায়াবী সেই নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখে তাই বিদেশী শত্রুরাও কামরূপ রাজ্য আক্রমন করার সাহস পেতোনা সহজে|শুধু কামাখ্যা মন্দির বা ভুবনেশ্বরী নয় কামরূপ জেলার সর্বত্র তন্ত্রসাধনা যথেষ্ট ফলপ্রদ। আগে এই কামরূপ প্রদেশ চারভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন কামপীঠ, রত্নপীঠ, স্বর্ণপীঠ বা ভদ্রপীঠ ও সৌমার পীঠ। দেবী কামাখ্যা যেখানে বিরাজ করছেন সেই স্থান হল কামপীঠ।তন্ত্রসাধকদের মতে তন্ত্রসাধনার এর চেয়ে উপযুক্ত স্থান কমই আছে ভারতে|তিথি অনুসারে অম্বুবাচির সময় এই তন্ত্র সাধনা সব থেকে বেশি প্রভাবশালী তাই আজও অম্বুবাচি উপলক্ষে অসংখ্য ভক্ত ও তন্ত্র সাধক ভিড় জমান কামরূপ কামাখ্যায়|চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা|নতুন নতুন তথ্য পেতে ও আধ্যাত্মিক যেকোনো বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|