পুরান কথা – মহা ভারতের অজানা কথা

36

মহাভারত কম বেশি আমরা সবাই পড়েছি হয়তো আজ মহাভারত কালের একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ করবো যারা কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ|পান্ডন ভাইদের সাথে শ্রী কৃষ্ণের ছিল অত্যান্ত স্নেহের ও আত্মিক সম্পর্ক একবার ভ্রমণে বেরিয়ে কথা প্রসঙ্গে পান্ডবেরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে জানতে চাইলেন: হে কৃষ্ণ! দ্বাপর যুগের অন্তে তো কলিযুগের সূচনা হবে। তবে সেই কলিযুগের মানুষের আচার আচরণ কেমন হবে” ?ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন পাঁচ ভাইকে জঙ্গলের ভেতরে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পথে কিছু দূর হেঁটে আবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে বললেন।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ মতো পান্ডবেরা জঙ্গলের কিছু দূর হেঁটে আবার ফিরে আসলেন।পান্ডবরা যখন ফিরে আসলো তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাঁচ ভাইকে জঙ্গলের ভেতরে কে কি দৃশ্য দেখলেন তা জানতে চাইলেন।যুধিষ্ঠির জানালেন তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত জিনিস দেখেছিলেন, একটা হাতির দুইটি শুঁড়।।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু মানুষ হবে ঠিক এই রকম দুমুখো।তারা এক মুখে দুই রকম কথা বলবে আবার তারা মুখে বলবে এক রকম আর তাদের আচার আচরণ হবে সম্পূর্ণ বিপরীত রকম।।ভীম বললেন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একটা গরু তার বাছুরকে আদর করে গা চেটে চেটে পরিস্কার করছে , কিন্তু এত বেশি জোরে চাটছে যে বাছুরটির গায়ের ছাল উঠে গিয়ে রক্ত ঝরছে।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন: “কলিযুগের মাতা-পিতা হবে ঠিক এইরকম। মাতা-পিতার অত্যধিক স্নেহ ও অতিরিক্ত আদর এবং অতিরিক্ত ভালোবাসায়, তাদের সন্তানেরা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পরনির্ভরশীল হয়ে পড়বে। ফলে তাদের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপন করতে অসুবিধা হবে।”অর্জুন বললেন তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, একটি নদীতে একটি পচাগলা মৃত ছাগল আর ওই ছাগলের উপর বসে আছে একটা শকুন। কিন্তু ওই শকুনের ডানায় লেখা আছে “মন্ত্র”।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু ভন্ড সাধকেরা হবে ঠিক এই রকমের। দেশ ও সমাজের বুকে যাদের ধার্মিক ও জ্ঞানী হিসেবে খ্যাতি থাকবে, তাদের প্রকৃত মানসিকতা হবে শকুনের ন্যায়।”নকুল দেখতে পেয়েছিলেন, এক বিশালাকার পাথরের খন্ড পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু কোন বিশালবৃক্ষে ঐ পাথর আটকাচ্ছে না। অবশেষে সামান্য একটা ঝোপের তলায় এসে আটকে যায়।তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, কলিযুগের মানুষেরা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাকবে ফলে তাদের পাপের পরিমাণ ওই পাথরের মতন ভারী হবে। বড়ো বড়ো জ্ঞানী লোক তাকে রক্ষা করতে পারবে না কিন্তু হঠাৎ কোনো সাধু সঙ্গে পড়ে হয়তো সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাবে।সহদেব দেখতে পেয়েছিলেন বনের মধ্যে একটা বিশাল গভীর কূয়া |কিন্তু অবাক হয়ে দেখলেন ওই কূয়ার শেষ প্রান্তে বিন্দুমাত্র জল নেই।তখন শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “কলিযুগের কিছু মানুষের ঘর বাড়ি হবে বিশাল আকৃতির ও তাতে ধনসম্পত্তি থাকবে ওই গভীর কূয়ার সমান তা সত্বেও ওই বাড়ি ও ধনসম্পত্তি নিয়ে ওই মনিবের মধ্যে থাকবে না বিন্দু মাত্র সুখ।”কলি যুগ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায় এই ঘটনা গুলি থেকে যদিও কল্কি পুরানে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও কল্কি দেবের আগমনের কথা উল্লেখ আছে সেই প্রসঙ্গেও আলোচনা করবো আগামী কোনো পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|