পুরান কথা – ভক্তের সাথে জগন্নাথের লীলা

41

শাস্ত্র মতে জগন্নাথ হলেন স্বয়ং ভগবান|তিনিই জগতের নাথ|তার মন্দির নিয়ে যেমন রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ তেমন তার নিজের বহু লীলা আলোচনায় উঠে আসে বার বার এমনই এক লীলার কথা আজ বলবো|অত্যন্ত দরিদ্র এক ব্যক্তি সদা ভগবানের চিন্তা, ভজন, কীর্তন, স্মরণ, সৎসঙ্গ করত। একদিন সেই ব্যক্তি তার মনিবের কাছে, শ্রীজগন্নাথ ধাম যাত্রার জন্য ছুটি চাই। শেঠজী ছুটি দিল আর সেই ব্যক্তিকে বলল, “ভাই আমি তো সংসারী মানুষ, সবসময়ই ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি তার কারণে কখনো তীর্থযাত্রার সুযোগ হয় না। তুমি তো যাচ্ছো এই ১০০ টাকা আমার নামে প্রভু জগন্নাথের চরণে সেবায় সমর্পিত করে দিও।” সেই ব্যক্তি টাকাটা নিয়ে জগন্নাথ দর্শনে যাত্রা শুরু করল।অনেকদিন পায়ে হেঁটে যাত্রা করে সে জগন্নাথ পুরী পৌঁছাল। মন্দিরে যাওয়ার সময় সে রাস্তায় দেখল অনেক সাধুসন্ত,ভক্তজন, বৈষ্ণবজন, হরিনাম সংকীর্তনে খুব আনন্দ করছিল। তাড়া সবাই ছিলো খুব ক্ষুধার্ত। সে এই ক্ষুধার্ত ভক্তদের দেখে চিন্তা করল, “শেঠজী আমাকে যে টাকা দিল তার থেকে ভক্তদের ভোজনের ব্যবস্থা করি।” সে ব্যক্তি ঐ ১০০ টাকা থেকে ভোজনের ব্যবস্থা করল। সবাইকে ৯৮ টাকা দিয়ে ভোজন করালেন। সকলে খুব তৃপ্ত হলেন। তার কাছে শুধু দুই টাকা আছে, সে ভাবল “এই দুইটাই আমি জগন্নাথের চরণে শেঠজীর নামে সমর্পণ করব। যখন আমি শেঠের কাছে পৌছাব। তখন আমি বলব শেঠজীকে আমি টাকা সমর্পন করেছি। শেঠজী তো জিজ্ঞাসা করবে না যে ১০০টাকা আমি জগন্নাথের চরণের সমর্থন করেছি কিনা। শেঠজী বলবে টাকা সমর্পণ করলে। আমি হ্যাঁ বললে ওটা তো মিথ্যা বলা হবে না এবং কাজও হয়ে যাবে।” ভক্ত সেই ব্যক্তি আকুল মনে জগন্নাথজীর দর্শন করল মন্দিরে প্রবেশ করল। শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন করে জগন্নাথজীর চরণে সেই দুটাকা দিয়ে বলল, এই দুইটাকা আমার শেঠজী দিয়েছে।আশ্চর্য জনক ভাবে সেই রাতে শেঠজী স্বপ্ন দেখল শ্রীজগন্নাথজীকে। জগন্নাথ তার স্বপ্নে এসে বলল শেঠজীকে, “তোমার ৯৮ টাকা আমি পেয়েছি। ” এই বলে শ্রী জগন্নাথজী অন্তর্ধান হয়ে গেলেন।কিছুদিন পর সেই ব্যক্তি তীর্থ করে ফিরে আসল| শেঠজী তখন তাকে জিজ্ঞাসা করল “আমার টাকা জগন্নাথজীকে সমর্পন করেছ তো?” ভক্ত বলল, ” হে শেঠজী টাকা আমি সমর্পণ করেছি।” শেঠজী বলল, “কিন্তু তুমি তো ৯৮ টাকা কেন দিলে, দুই টাকা কি কাজে খরচ করলে? ” তখন ভক্ত চিন্তা করলছিল শেঠজী কিভাবে জানল, ভক্ত তখন সকল কথা খুলে বলল শেঠজীকে। বলল,” সে ৯৮ টাকা দিয়ে ভক্ত সাধুসন্তদের সেবা করেছে ।আর দুই টাকা শুধু প্রভু জগন্নাথের চরণে সমর্পন করেছে ” শেঠজী সকল কথা শুনে বড় খুশি হল এবং তার চরণ স্পর্শ করে বললো ” তুমি ধন্য তোমার জন্য আমি শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শন ঘরে বসে পেলাম।”প্রভু জগন্নাথের এই লীলা থেকে বোঝা যায় ভগবান ঐ ৯৮ টাকা স্বীকার করল কারণ ওটা যে ভক্তের সেবাতে লেগেছে। কারণ, ভক্তের হৃদয়ে ভগবানের বাস। যে দুইটাকা চরনে দেয়া হলো ঐ টাকাটার কোন মূল্য নেই প্রভুর কাছে।রথ যাত্রা উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথে প্রসঙ্গে আরো আলোচনা থাকবে আগমনী পর্ব গুলিতে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|