কালী কথা – জংলী কালী মন্দির
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
এক কালের বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী মুর্শিদাবাদের নশীপুরে রয়েছে পাঁচশো বছরের পুরোনো জংলী কালীর মন্দির। এ মন্দিরে দেবী নেই, দেবীর বিগ্রহও নেই।রয়েছে দেবীর পদ চিহ্ন তারই পূজো হয়।আজ কালী কথায় এই
প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস।
জনশ্রুতি আছে যে এক সময় নশিপুরের ওই এলাকা ছিল জঙ্গসে পরিপূর্ণ। আর সেই জঙ্গলেই ছিল কুখ্যাত সব ডাকাতদের ডেরা। যাদের ভয়ে কাঁপত গোটা এলাকা। তা সেই ডাকাতদল অন্যান্য ডাকাত দলের মতোই ডাকাতিতে বেরনোর আগে শরণ নিতেন সেই জঙ্গলি কালীর।
জঙ্গলে বিরাজমানা দেবী তাই সম্ভবত দেবী
জংলী কালী নামে প্রসিদ্ধা।
একদিন মায়ের পুজো শেষে ডাকাতির উদ্দেশে রওনা দেয় ডাকাতদল। তবে সেদিন শুন্য হাতে ফিরতে হয় এবং ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত ডাকাতদলের কিছু না-পাওয়ার রাগ গিয়ে পড়েছিল দেবী কালীর উপরে। ক্ষোভে দেবী মূর্তি ভাঙতে যায় তারা সেই সময় দেবী জাগ্রত হয়ে উঠে পাশের একটি কুয়োতে অদৃশ্য হয় সেই কুয়োর পাড়ে পড়ে থাকে দেবীর পায়ের ছাপ। সেই পদচিহ্ন যুগলই বর্তমানে দেবী রূপে পূজো করা হয়।
এখানে দেবীর থানের পাশেই রয়েছে বহুপ্রাচীন একটি নিমগাছ। স্থানীয় লোকেদের বিশ্বাস, ওই গাছটিতে দেবীর সহচরীরা থাকেন। কেউ কেউ বলেন, মাঝেমধ্যেই সেই গাছ থেকে বিভিন্ন রকম আওয়াজ ভেসে ওঠে। পরবর্তীকালে মন্দিরটি সংস্কার হলেও গাছটি কাটা হয়নি বরং আরো যত্ন নেয়া হয়েছে।কালীপুজোর দিন যত্ন করে সাজিয়ে তোলা হয় ওই নিমগাছের চারপাশ।
পাঁচশো বছর ধরে শুন্য দেবালয়ে দেবীর চরণ
চিহ্ন দেবী রূপে পূজো পাচ্ছে অসংখ্য ভক্তদের কাছে। এখানে এখনো কালীপুজোর সময় বহু ভক্তের ভিড় হয়। মুর্শিদাবাদ ছাড়াও অন্যান্য
জেলা থেকেও ভক্তেরা আসেন।
ফিরে আসবো কালী কথার আরো একটি পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। চলতে থাকবে
ধারাবাহিক কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
