অজানা বিবেকানন্দ – স্বামীজির জন্মদিনে বিশেষ রচনা

201

আজ হিন্দু ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ট আইকন স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিন|আজকের দিনেই অর্থাৎ এই 12ই জানুয়ারি তে উত্তর কলকাতায় শিলমা স্ট্রিটে তার জন্ম|তার নরেন থেকে বিবেকানন্দ হয়ে ওঠার এই যাত্রা খুবই ঘটনা বহুল ও রোমাঞ্চকর এবং পরবর্তীতে স্বামীজীর বাল্য জীবন, তার আধ্যাত্মিক জীবন,বিদেশ যাত্রা, সন্ন্যাস জীবন, রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে ধীরে ধীরে তার মহা মানবে রূপান্তর এবং তার সারা জীবন ব্যাপী সমাজ সংস্কার নিয়ে অসংখ্য লেখা লেখি হয়েছে, গবেষণা হয়েছে, হয়েছে সিনেমা, থিয়েটার ও তথ্যচিত্র|তবে তার চরিত্রের কয়েকটি বিশেষ দিক আজ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো, আজ লিখবো স্বামী বিবেকানন্দর রসবোধ নিয়ে,জানবো তার রসনা প্রীতি ও জানাবো কয়েকটি ঘটনার কথা যা তার ক্রীড়া প্রেমী ও ক্রীড়াবিদ সত্ত্বাকেও প্রকাশ করে|ঠাকুর তার শিষ্য দের বলতেন ” সর্বদা রসে বসে থাকবে, কেঠ সন্ন্যাসী হবে না ” আর এই দিকটি সব থেকে বেশি প্রতিফলিত হয়েছিলো তার প্ৰিয় শিষ্য নরেনের জীবনে|স্বামীজীর রসবোধ ছিলো অতুলনীয়|আপনি কোন সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী? এই প্রশ্ন পরিব্রাজক বিবেকানন্দ কে বহুবার শুনতে হয়েছে আর প্রতিবারই তিনি হেসে উত্তর দিতেন, ” আমি কচুরি সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী ” আসলে কচুরি ছিলো বিবেকানন্দর অন্যতম প্ৰিয় খাদ্য|রসগোল্লা ইলিশ মাছ ছিলো খুব প্ৰিয়, এমনকি ছাত্র জীবনে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘পেটুক সংঘ’|শুধু খেতে নন স্বামীজী রান্না করতে ও খাওয়াতেও ভালো বাসতেন, নিজে হাতে রান্না করে গুরুভাইদের তিনি বহুবার কাটলেট ও পোলাও খাইয়েছেন,কচুরি ও বানাতেন দুর্দান্ত|স্বামী বিবেকানন্দ একদিন অধ্যাপক ম্যাকসমুলারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন। সারদানন্দ স্বামী। অধ্যাপক ম্যাকসমুলারের সঙ্গে তঁরা কী কথাবার্তা বলেছিলেন সে কথা কাউকে বলেননি ঠিকই, কিন্তু মজা করে বিবেকানন্দ ম্যাকস্‌মুলারদের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে ঘনিষ্ট মানুষদের সামনে উপস্থাপন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন|আমেরিকায় থাকার সময়ে এক বিদেশী বিবেকানন্দকে জিগ্যেস করলেন, আচ্ছা স্বামীজী, শুনেছি ভারতবর্ষে নাকি শিশু জন্মগ্রহণ করলেই তাকে গঙ্গার জলে ফেলে দেওয়া হয়?বিদেশীটির মুখে এইরকম অশিক্ষিত-প্রশ্ন শুনে স্বভাবতই স্বামী বিবেকানন্দের মাথাগরম হয়ে গেল। তবু তিনি রাগ সংবরণ করে ঠোঁটে কিঞ্চিৎ হাসি লাগিয়ে বললেন, আমি কিন্তু বেঁচে গিয়েছি।বিদেশী ভদ্র লোক থামলেন না। আবার প্রশ্ন করলেন বিবেকানন্দকে, স্বামীজী, আপনাদের দেশে কন্যা সন্তান জন্মালেই নাকি তাকে কুমীরের মুখে ছুঁড়ে দেওয়া হয়? এবার রাগের মাত্রা ছাড়িয়ে গেল| তবু বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ মুখে একগাল হাসি নিয়ে বিদেশীকে বললেন, আপনি ঠিকই শুনেছেন মশাই, সেই জন্যই তো আজকাল ভারতে পুরুষ রা সন্তান প্রসব করছে|তার এই রস বোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিতে সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে উঠেছিলেন|খেলতে ভালো বাসতেন স্বামীজী, কলকাতার ময়দানে ক্রিকেট খেলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সেকালে, আবার নিয়মিত মুগুর ভাজা ও ব্যায়াম করা তার রুটিন ছিল|ফুটবল ছিলো তার খুব প্ৰিয়, তিনি বলতেন ঘরে বসে গীতা পড়লে শুধু হবেনা মাঠে গিয়ে ফুটবল ও খেলতে হবে|বিবেকানন্দর আদর্শ ও বাণী যেমন আমরা মেনে চলবো তেমনই তার জীবন ও অভ্যাস থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে, ভাববার আছে|নেয়ার আছে অনেক কিছু|এই মহান সন্ন্যাসীর জন্মদিনে আমার শ্রদ্ধা জানাই, প্রনাম জানাই বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দকে|ভালো থাকুন|নমস্কার|