পুরান রহস্য – কপিল মুনীর অভিশাপ

217

আর কিছুদিন পরেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় মিলন উৎসব গঙ্গা সাগর মেলা অনুষ্ঠিত হবে|প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির পুন্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থী ভিড় জমান এই মেলায়|এই স্থান ঘিরে রয়েছে এক পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ যার প্রধান চরিত্র কপিল মুনী|গঙ্গা সাগর ও কপিল মুনীর আশ্রম প্রায় সমার্থক! কিন্তু কে এই কপিল মুনী? আর কিভাবেই বা তার অভিশাপের ফলে মর্তে আগমন ঘটলো মা গঙ্গার?আসুন জেনে নিই|সূর্য বংশীয় রাজা সগর অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। নিজের আসন বিপন্ন হবে তাই ভীত হয়ে দেবরাজ কপিল মুনির অজান্তেই যজ্ঞের ঘোড়া চুরি করে বেঁধে রাখেন তাঁর আশ্রমে।এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত|রাজার আদেশে তার ষাট হাজার সন্তান যজ্ঞর নিরুদ্দেশ ঘোড়া খুঁজতে এসে উপস্থিত হন কপিল মুনির আশ্রমে। না বুঝেই তাঁরা মুনিকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন এবং চোর ও চক্রান্তকারী অপবাদ দেয়।অসীম ক্ষমতাধর কপিলমুনি রেগে গিয়ে তাঁদের অভিশাপ দেন এবং তাঁরা ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরে মুক্তির পথ বলে দেন, গঙ্গা জলের স্পর্শই একমাত্র প্রতিকার|বহুকাল অতিক্রান্ত হয়, ওই রাজবংশের উত্তরপুরুষ ভাগীরথ, মহাদেবকে তুষ্ট করে পতিত পাবনী গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্তে নিয়ে আসেন। গঙ্গার ধারার ভষ্মিভূত সেই সন্তানরা পুনর্জীবন লাভ করে সশরীরে স্বর্গে ফিরে যান। এই স্থানেই মা গঙ্গা মিশে যান সাগরে আর এই কারণেই হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে এটি একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র।কিন্তু কি কপিল মুনির পরিচয় এবং তার গুরুত্ব কেনই বা এতো বেশি?কপিল মুনি একজন বৈদিক ঋষি ছিলেন এবং তাঁকে সংখ্যা দর্শনের অন্যতম প্রবর্তক বলে মনে করা হয়। ভগবত গীতায় কপিল মুনির উল্লেখ রয়েছে|আবার কিছই শাস্ত্র অনুসারে অনুসারে তিনি ব্রহ্মার পৌত্র মনুর বংশধর। আবার অনেকে বলেন কপিল মুনি হলেন বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদের পুত্র|এবছর গঙ্গা সাগর মেলা হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয় তবে মকর সংক্রান্তির ঠিক আগে কপিল মুনি ও এই পবিত্র তীর্থস্থানকে আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম নিজের মতো করে|আপাতত অনলাইন ও চেম্বারে আমাকে পাবেন প্রায় প্রতিদিন যেকোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে |ভালো থাকুন|নমস্কার|