বাস্তবে রথ যাত্রা ঠিক একদিনের উৎসব নয়। আসলে রথ যাত্রার সূচনা হয় দেবস্নান পূর্ণিমায় প্রভু জগন্নাথের স্নানের মধ্যে দিয়ে আর শেষ হয়উল্টো রথ যাত্রার দিনে জগন্নাথদেব তার ভাই ও বোন কে নিয়ে মাসির বাড়ি থেকে নিজগৃহে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করেন।তবে মাসির বাড়ি থেকে ফিরেও পুরীর মূল মন্দিরে সাথে সাথে প্রবেশের অনুমতি মেলেনা স্বয়ং জগন্নাথ দেবের। মন্দিরে ঢুকতে গেলেই লক্ষ্মী দেবী সটান মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন কারণ তিন ভাইবোন মাসির বাড়ি থেকে আনন্দ করে এসেছেন অথচ তাঁকে নিয়ে যাননি। অভিমানী লক্ষ্মী দেবী এই কয়দিন একা একা শ্রীমন্দিরে ছিলেন। সেই থেকে তিন দিন এরকম ভাবেই বাইরে থাকে রথ সহ বিগ্রহ। এই তিন দিন পালিত হয় কিছু অনুষ্ঠান তারপর মহালক্ষীর মান ভঞ্জন হলে পুনরায় মন্দিরের রত্ন বেদিতে স্থান পান জগন্নাথ শুভদ্রা এবং বলরাম।সাধারণত উল্টো রথে যখন জগন্নাথ ফিরে আসেন এই যাত্রাকে বহুদা যাত্রা বলা হয়। এরপর আছে অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজয়। অধরপানায় জগন্নাথকে বিশেষ পানীয় পান করানো হয়। সেটাকে ঘিরেও উৎসব হয় । এর পরদিন নীলাদ্রি বিজয় উৎসব হয়। এক হিসেবে এই দিনেই রথযাত্রা শেষ হয়। উল্টো রথ উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথসহ সুভদ্রা-বলরাম ও সেজে ওঠেন নানা সোনারগয়নার সাজে।এই বেশ কে সোনা বেশ বলা হয়।মন্দিরে ফিরলে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যেনিবেদন করা হয় কয়েকশ হাড়ি রসগোল্লা নানা রকম মিষ্টান্ন সর্বশেষে নীলাদ্রিবিজয় উৎসবেরমাধ্যমে শেষ হয় এই সমস্ত রীতি -রেওয়াজ এবং তার পর জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম কে মন্দিরেরমূল রত্নবেদি-তে তোলা হয়। আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি। আপনাদের সবাইকে উল্টোরথ যাত্রার অনেক শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে ধারাবাহিক আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – জগন্নাথ ও বিমলা দেবী
চলছে রথ যাত্রা উৎসব। উল্টো রথ দিয়ে হবে এই শাস্ত্রীয় উৎসবের সমাপ্তি। এই সময় প্রভু জগন্নাথের নানা বিধ লীলা এবং শ্রী ক্ষেত্রের মহিমা বর্ণনা করার উত্তম সময়।এই পুরী ধাম শুধু জগন্নাথ ধাম নয়।দেবী বিমলা এই শ্রী খেত্রেই অধিষ্টান করেন।পীঠনির্ণয় তন্ত্রে আছে – “উৎকলে নাভিদেশশ্চ বিরিজাক্ষেত্রমুচ্চতে বিমলা মা মহাদেবী, জগন্নাথস্ত ভৈরব”অর্থাৎ তিনি শ্রীমন্দিরের কত্রী।প্রভু জগন্নাথ তাঁর ভৈরব হিসেবে অবস্থান করেন।আবার তিনিদেবী মহামায়ার অংশ এবং একান্ন টি সতীপীঠের অন্যতমা দেবী বিমলার মন্দির ।আজও জগন্নাথের ভোগ সবার আগে সমর্পন করা হয় তাঁকেই। দেবীর পুজো হয় তন্ত্রমতে। মনে করা হয় দেবী বিমলার দর্শন না করা অবধি জগন্নাথ দর্শন সম্পূর্ণ হয় না।পুরান মতে বিষ্ণু দর্শন হেতু মহাদেব একবার বৈকুণ্ঠে হাজির হন। সেই সময় বিষ্ণু আহারে বসেছেন। যা দেখে শিবের ইচ্ছা হয় নারায়ণের প্রসাদ গ্রহন করবেন তাই আহার শেষে নারায়ণের থালায় পড়ে থাকা সামান্য অংশ মুখে দেন তিনি। নারায়ণের ভাবে তিনি এতটাই আবিষ্ট ছিলেন যে সেই প্রসাদের কিছুটা তাঁর মুখে লেগে যায়। কৈলাসে ফিরে নারদকে দেখতে পান মহাদেব। বিষ্ণুভক্ত নারদ মহাদেবের মুখে লেগে থাকা প্রসাদ দেখেই বুঝতে পারেন এই প্রসাদ তাঁর উপাস্যের। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে প্রসাদ নিয়ে মুখে পোড়েন তিনি। দেবী পার্বতীও সেখানে উপস্থিত হন। প্রসাদ পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন কিন্তু শিব তো অপারগ কারন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ক্রোধান্নিতা পার্বতী হাজির হন নারায়ণের কাছে। সব শুনে নারায়ণ তাঁকে বলেন এবার থেকে পুরী ধামে তাঁর শক্তি রূপে অবস্থান করবেন দেবী।এবং নারায়ণের প্রসাদ সবার আগে তাঁকে অর্পন করা হবে। যে প্রথা আজও এতটুকু বদল হয়নি। দেবী বিমলাকে অর্পন করার পরই জগন্নাথের প্রসাদ হয়ে ওঠে মহাপ্রসাদ।সেই প্রসাদ পরবর্তীতে বিতরণ করা হয় ভক্তদের মধ্যে।শ্রীমন্দিরে চত্বরেই দেবী বিমলার মন্দির। আবার পুরাণমতে সতীর ডান পায়ের কড়ে আঙুল পড়েছিল এই খানে তাই এটি সতী পীঠ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে উল্টোরথ উপলক্ষে বিশেষ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – অম্বুবাচির প্রকৃত অর্থ
অম্বুবাচী নিয়ে বিগত সপ্তাহে বিভিন্ন আঙ্গিকে আলোচনা করেছি জানিয়েছি তার শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা এবং বিধিনিষেধ। আজ অম্বুবাচি পরবর্তী এই পবিত্র সময়ে জানাবো অম্বুবাচির প্রকৃত বা অন্তর নিহিত অর্থ।পুরানে পৃথিবীকে নানা রূপে দেখানো হয়েছে।শাস্ত্র মতে তিনি কশ্যপ প্রজাপতির কন্যা ভূদেবী। আবার রামায়ণে তিনি সীতার মা। অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে দ্বাপরযুগে কৃষ্ণের স্ত্রী সত্যভামা রূপে এই ভুদেবী জন্মেছিলেন।আবার বরাহ অবতারে এই বসুন্ধরাকেই অতল সাগর থেকে রক্ষা করেছিলেন স্বয়ং বিষ্ণু।আষাঢ় মাসে বর্ষার আগে অম্বুবাচীতেঋতুমতী হন তিনি। এই সময়ে কৃষকরা কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ধরিত্রী কে বিশ্রাম দেন|আবার অম্বুবাচীউপলক্ষে উড়িষ্যায় ভূদেবীর বিশেষ পূজা মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয় ও ব্যাপক জন সমাগম হয়|ভূদেবী কে উড়িষ্যায় স্বয়ং জগন্নাথ দেবের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং তার ঋতুমতী হওয়ার সময় কাল কে চারদিনের রজ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়|চারদিনের এই উৎসব কে চারটি আলাদা পর্যায় উদযাপন করা হয় প্রথম দিনকে বলা হয় পহিলি রজ। দ্বিতীয় দিন মিথুন সংক্রান্তি| তৃতীয় দিন ভূদহ বা বাসি রজ এবং চতুর্থ দিন বসুমতী স্নান। বাংলাও কোনো কালে পিছিয়ে ছিলোনা এই শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান পালনে অম্বুবাচী উপলক্ষে গ্রামবাংলার বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে ব্রত রাখেন|দেশ তথা বাংলার প্রায় সব গুলো শক্তি পীঠেই নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন হয় ও সেই উপলক্ষে বিশেষ উৎসব এবং কোথাও কোথাও মেলার আয়োজন করা হয়|অম্বুবাচি সর্বাধিক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয় আসামে|দেশের অন্যতম শক্তি পীঠ কামরূপ কামাখ্যায় অম্বুবাচী একটি মহোৎসবের রূপ নেয়।সনাতন ধর্মে চন্দ্র সূর্য বায়ু পর্বত বা গঙ্গা যেমন দেবতা বা দেবী রূপে পূজিত হন তেমনই প্রকৃতিএখানে দেবীর মর্যাদা পায়। যে প্রকৃতি আমাদের খাদ্য দেয় অক্সিজেন দেয় জল দেয় সেই প্রকৃতিকে মাতৃ শক্তি রূপে পুজো করা এবং তার জীবনের একটি বিশেষ পর্যায়কে সন্মান জানানোই অম্বুবাচির প্রকৃত উদ্দেশ্য।পরবর্তী পর্বে ফিরে আসবো দেবী মাহাত্মা নিয়ে। ধারাবাহিক ভাবে চলবে মন্দির রহস্য এবং দেবী মাহাত্মা নিয়ে আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – অম্বুবাচির আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা
চলতি বছরে অম্বুবাচী প্রবৃত্তিঃ অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন অর্থাৎ ৬ আষাঢ় এবং নিবৃত্তি হবে ২৬ জুন অর্থাৎ ১০ আষাঢ়। আধ্যাত্মিক ভাবে অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে প্রতিটি পর্বে আপনাদের জানাচ্ছি কি এই অম্বুবাচি এবং কিভাবে ও কেনো এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।
সহজ ব্যাখ্যায় সনাতন ধর্মে পৃথিবী কোনো জড় বস্তু নয় বসুন্ধরাকে কে আমরা এক দেবী বা মাতৃ রূপে দেখি ও পূজা করি তাই স্বাভাবিক ভাবেই এক নারী যেমন সন্তান ধারনের পূর্বে ঋতুমতী হয় ধরিত্রী ও তেমন ফসল উৎপাদনের পূর্বে রজঃস্বলা হয় ও পরবর্তীতে ফসল উৎপাদনের জন্য আরো বেশি উর্বর হয়ে ওঠে|জীবন চক্রের এই বিশেষ পর্যায়কেই অম্বুবাচি বলা হয়।
আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে অম্বুবাচী কালের সূচনা হয় হন|শুরুর দিনটি অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও ও শেষের দিনটি হলো অম্বুবাচী নিবৃত্তি|
অম্বুবাচি নিবৃত্তি কাল সব দিক দিয়ে অত্যন্ত শুভ।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে সঠিক পরামর্শ মেনে ও উপযুক্ত প্রতিকার নিয়ে বহু মানুষকে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে দেখেছি এবং এই সব সাফল্যের পেছনে
অবশ্যই থাকে কিছু বিশেষ তিথি ও গ্রহগত সংযোগ|অম্বুবাচী এমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় যে সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করলে জ্যোতিষের মাধ্যমে অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব।
আগামী ২৬ অম্বুবাচি নিবৃত্তি এবছর প্রথা মেনে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে বিশেষ পূজা ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের আয়োজন করা হয়েছে। বলতে বাঁধা নেই বিগত বছর গুলিতে এই তিথিতে
গ্রহ দোষ করিয়ে অসংখ্য মানুষ সাফল্য পেয়েছেন।
আমি থাকছি। চাইলে এখনই যোগাযোগ করতে পারেন।
ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – অম্বুবাচীর নিয়মাবলী ও বিধি নিষেধ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আসন্ন অম্বুবাচী উপলক্ষে আজকের পর্বে আলোচনা করবো অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা শাস্ত্রীয় নিয়ম কানুন ও তাৎপর্য, জানবো এ সংক্রান্ত নানা বিধি নিষেধ ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য|
অম্বুবাচীর আগের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী প্রবৃত্তি’। তিন দিনের পরের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী নিবৃত্তি’ যার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সূচনা হয়।
শাস্ত্র মতে অম্বুবাচীর প্রথম তিন দিন কৃষি কাজ ছাড়াও আরো অনেককিছুই করা নিষেধ, এই সময় কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের সূচনা করা হয়না যেমন বিবাহ,গৃহ প্রবেশ বা মঠ ও মন্দিরের স্বাভাবিক পূজাঅর্চনা ইত্যাদি|আসলে এই সময় ধরিত্রী যেহেতু ঋতুমতী হয় তাই লৌকিক আচার ও প্রথা গুলিকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয় এর পেছনে আছে বা বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং হাজার হাজার বছরের প্রাচীন পরম্পরা ও শাস্ত্রীয় বিধান|যদিওঅম্বুবাচি নিবৃত্তি উপলক্ষে চতুর্থ দিন
থেকে শুভ কাজে আর কোনো রকম বাধা থাকেনা|শুধু তাই নয় সেই সময় তন্ত্র ক্রিয়া, বিশেষ পুজো এবং গ্রহের প্রতিকার সবই বেশি দ্রুত এবং
ভালো ফল দেয়।
শাস্ত্র মতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কয়েকটি বিধি নিষেধ এই অম্বুবাচী চলাকালীন মেনে চলা শ্রেয় যেমন মাতৃ শক্তির বিভিন্ন রূপকে যারা পূজা করেন অর্থাৎ কালী, চন্ডি, দূর্গা জগদ্ধাত্রী ইত্যাদি তারা দেবীমূর্তি কে একটি লাল কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারেন |
এই সময়ে দেবী মূর্তিকে স্পর্শ করা বা মন্ত্রউচ্চারণ করা উচিৎ নয়|যারা দীক্ষিত তারা গুরু পূজা করতে পারেন, এছাড়া জপ চলতে পারে তাতে কোনো দোষ নেই|
গৃহী রা এই সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে গৃহের কল্যাণ হয় যেমন নতুন বৃক্ষ রোপন না করা বা দাম্পত্য জীবনে পবিত্রতা বজায় রাখা।
গ্রাম বাংলার বহু স্থানে নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন করা হয় এবং এই সময়ে বিধবা মহিলারা আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করেন না|যারা ব্রহ্মচর্য পালন করেন তাদের এই সময় আমিষ খাবার বর্জন করে মূলত ফল মুল খেয়ে থাকতে হয়|
শাস্ত্র মতে এই কটাদিন বেদ পাঠ করা যায়না এবং উপনয়ন অনুষ্ঠান করা যায়না|
অম্বুবাচি চলা কালীন শাস্ত্র সম্মত স্বাত্তিক জীবন যাপন করুন।গুরু মন্ত্র জপ করুন। তুলসী গাছের পরিচর্যা করুন এবং মা কামাখ্যাকে নিজের মনোস্কামনা জানান। আপনার মনোস্কামনা পূর্ণ হবে।
অম্বুবাচী নিবৃত্তির সময় তন্ত্র সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত সময়।এবছর এই তিথিতে আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডনের সকল ব্যবস্থা থাকবে|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন। অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনা
চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব-অম্বুবাচী ও মহা পীঠ কামরূপ কামাখ্যা
প্রতি বছর অম্বুবাচী উপলক্ষে আসামের কামাখ্যায় দেশের সর্ব বৃহৎ উৎসবটি আয়োজন করা হয় যা অম্বুবাচী মেলা নামে প্রসিদ্ধ|এই মেলা উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে বহু তীর্থ যাত্রী এসে জড়ো হন কামাখ্যায় আর আসেন অসংখ্য সন্ন্যাসী ও তন্ত্র সাধক|ব্যাপক জন সমাগম হয় এই মেলায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যায় প্রতি বছর|এই উৎসব ও মেলা পরিচালনার ভার থাকে ‘মা কামাখ্যা দেবালয়’ এর উপর|আজ জানবো শক্তি পীঠ কামাখ্যা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা প্রথা, কিংবদন্তি ও তার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা|কামরূপ হচ্ছে তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান। যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ। কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে।পুরান অনুসারে স্বয়ং কাম দেব এই সতী পীঠ আবিষ্কার করেন এবং দেবীর পুজো করে শাপমুক্ত হন এবং নিজের হারানো রূপ যৌবন ফিরে পান।তার নামে স্থানটির নাম হয় কামরুপ।মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান।তাই নব গ্রহের প্রতিকারের জন্য অনেকেই এই স্থান নির্বাচন করেন।শাস্ত্র মতে যেহেতু দেবী সতীর গৰ্ভ ও যোনি পতিত হয়েছিল এই স্থানে এই কারণে এই দেবীকে অনেকে উর্বরতার দেবী বা রক্ত ক্ষরণ কারী দেবীও বলে থাকেন তাই স্বাভাবিক ভাবেই অম্বুবাচী যা দেবীর ঋতু মতি হওয়ার উৎসব এই স্থানে সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে পালন হয়|বর্ষাকালে কামাখ্যা মন্দিরের মুল বেদী হতে নিরন্তর জলের প্রবাহ বইতে থাকে। অম্বুবাচির এই তিন দিনের জন্য এই জল ধারা লাল বর্ণের হয়।অম্বুবাচির সময়ে বিশেষ কিছু প্রথা পালন করা হয় এখানে অম্বুবাচীর দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন দেবীর মন্দির বন্ধ থাকে|এই সময় দেবীর দর্শন নিষিদ্ধ|এই সময়ে একটি লাল কাপড় দিয়েদেবীকে ঢেকে রাখা হয় ভক্তরা মন্দিরের বাইরে থেকে দেবীকে প্রনাম করেন ও নিজের মনোস্কামনা ব্যক্ত করেন|শোনা যায় নিয়ম অমান্য করে এই সময়ে মন্দিরে ঢুকলে দৃষ্টি শক্তি চলে যায়।অম্বুবাচীর চতুর্থ দিন থেকে দেবীর স্নান এর পর তার দর্শন ও স্বাভাবিক পূজা প্রক্রিয়া পুনরায় আরম্ভ হয়|এই পরম্পরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে|অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর দেবীর রক্ত বস্ত্র ভক্ত দের মধ্যে দান করা হয়, প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই রক্ত বস্ত্র লাভ করলে জীবনের অনেক সমস্যা দুর হয় ও বহু মনোস্কামনা পূর্ন হয়|সারা সপ্তাহ ধরে চলত থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনা এবং আগামী অম্বুবাচী নিবৃত্তি উপলক্ষে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠান হবে।অংশগ্রহণ করতে যোগাযোগ করুন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – অম্বুবাচির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
বিভিন্ন শাস্ত্রে আলাদা আলাদা ভাবে অম্বুবাচিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদিও আসল কথা একই।অম্বুবাচি প্রাক্কালে আসুন জেনে নিই অম্বুবাচি সম্পর্কে শাস্ত্রে কি বলছে এবং কেনই বা এই রীতি এতো তাৎপর্যপূর্ণ।সংস্কৃত শব্দ “অম্ব ” মানে জল আর “বাচি” মানে আরম্ভ বা সূচনা৷ প্রচন্ড গরমের পর আষাঢ়ের এই সময় পৃথিবী হয় সিক্ত ও বীজ ধারনের উপযোগী ৷বর্ষার জলে ভেজা এই সময় মনে করা হয় মা বসুমতী ঋতুমতী হয়েছেন ৷ তার জীবন চক্রের এই বিশেষ সময় কালকে অম্বুবাচি হিসেবে পালন করা হয়।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে রাশি চক্রের ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে সূর্য যখন আদ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করে সেইতিন দিন কুড়ি দন্ড সময়টাই “অম্বুবাচি ” ৷রজঃস্বলা নারী যেমন এই সময় অনেক কাজ করেন না তেমনই প্রকৃতির ক্ষেত্রে এই সময়ে বিশেষ কিছু রীতি নীতি পালন করা হয়।এই দিনগুলিতে চাষিরা কৃষিকাজ বন্ধ রাখেন ৷ সন্ন্যাসী , যোগী , বিধবা মহিলারা এই তিন দিন রান্না করা ও আমিষ খাবার খান না ৷শাস্ত্রে আছে -“ত্বমেব প্রকৃতিদেবী ত্বমেব পৃথিবী জলম্ ৷ত্বমেব জগতাং মাতা ত্বমেব চ জগন্ময়ী ৷’’অর্থাৎ পৃথিবী হলেন ধরিত্রী মাতা।সনাতন ধর্ম এবং সংস্কৃতিতে নারী ও ধরিত্রী এই দুইয়ের উর্বরতা এবং অনুর্বরতার স্বাভাবিক চক্রটি অত্যন্ত পবিত্র পর্যায় রূপে দেখা হয় এবং উৎসব রূপে পালিত হয় কামখ্যায়।এই প্রসঙ্গে শাস্ত্রে আছে“কামাখ্যে কামসম্পন্নে কামেশ্বরী হরপ্রিয়ে ৷ কামনাং দেহি মে নিত্যং কামেশ্বরী নমোহস্তুতে “!পুরান অনুসারে সতী বা পার্বতীকে দেহত্যাগ করার পর শিব তাকে নিয়ে প্রলয় নৃত্য শুরু করেছিল তাতে পৃথিবী অশান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন শিবকে শান্ত করার জন্য বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১ টি টুকরা করে। এবং সেইগুলি বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল। যার মধ্যে বিষ্ণুর চক্রে ছিন্ন সতীর যোনী পতিত হয় কামাখ্যায় পরবর্তীতে সৃষ্টি এবং উর্বরতা এবং সর্বোপরি নারী শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে কামাখ্যা। ধীরে ধীরে তাই অম্বুবাচি পালনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয় এই সতী পীঠ।শুধু অম্বুবাচির স্বরূপ কি তা নয় সেই সময় কি করণীয় কি করণীয় নয় সেই নিয়েও শাস্ত্রে ব্যাখ্যা আছে।বামকেশ্বর তন্ত্রের ৫৫ তম অধ্যায়ে আছে – ‘’আষাঢ়ে প্রথমে দেবী অম্বুবাচী দিনত্রয়ং ।সংগোপন গৃহে দেবিং স্থাপয়েদ্বস্ত্র বেষ্টনে ।।রাত্রৌ মহানিশা যোগে পঞ্চাচারেণ দেশিকঃ।পূজয়িত্বা বলিং দত্বা হোময়িত্বা বিহারয়েৎ।।‘’অর্থাৎ,- আষাঢ়ের প্রথমে অম্বুবাচী দিবসত্রয়ে দেবীকে গুপ্তভাবে বস্ত্রাদি দ্বারা বেষ্টন করিয়া রাখিবে । অম্বুবাচী নিবৃত্তি হইলে সাধক মহানিশাতে পঞ্চতত্ত্ব দ্বারা দেবীর পূজা করিয়া, বলিদানাদি, হোমাদি সম্পন্ন করিবে ।যারা অম্বুবাচি নিবৃত্তির পরে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন। অম্বুবাচি উপলক্ষে পরবর্তীপর্ব গুলিতে আরো অনেক অম্বুবাচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – রথ যাত্রার ইতিহাস
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ পবিত্র রথ যাত্রা আজকের এই বিশেষ
পর্বে পুরীর রথ যাত্রার ইতিহাস ও সেই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আপনাদের সামনে রাখবো।
ঠিক কখন পুরীর রথযাত্রা শুরু হয়েছিল তা নিদ্দিষ্ঠ করে বলা কঠিন। একাধিক প্রাচীন শাস্ত্রে এবং পুরানে রথ যাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।
‘মাদলা পঞ্জি’ নামে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রণীত এক পঞ্জিকায় উল্লেখ আছে, একদা জগন্নাথ মন্দির এবং গুন্ডিচা মন্দিরের মধ্যে মালিনী নামে একটি নদী ছিল যা বড় নাই অথবা বড় নদী নামেও খ্যাত।
সে সময়ের রাজা ৬টি রথ নির্মাণ করেন। সুদর্শন চক্রসহ জগন্নাথ এবং বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের জন্য তিনটি রথ নদী পর্যন্ত আনতে ব্যবহৃত হতো। তারপর বিগ্রহগণ নদীর অপর প্রান্তে আনা হলে, সেই স্থান থেকে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে গুন্ডিচা মন্দিরে আনতে তিনটি অতিরিক্ত রথ নিযুক্ত করা হতো। রাজা বীর নরসিংহের শাসনামলে নদীটি মাটি দ্বারা পূর্ণ করা হয় এবং তারপর থেকে গুন্ডিচা মন্দির পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শুধু তিনটি রথ প্রয়োজন হয়।ভগবান বাসুদেবের রথ গরুড় ধ্বজ সুভদ্রার রথ পদ্মধ্বজ বলরামের রথ তালধ্বজ নামে পরিচিত।
যে ‘রথ চকড়’ নামে প্রাচীন গ্রন্থ পুরীতে পাওয়া যায় তাতে লেখা আছে যে রাজা যযাতি অষ্টম শতাব্দীতে রথযাত্রা উদযাপন করেন।
আবার স্কন্দপুরাণ অনুসারে মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নের শাসনামলে রথযাত্রা উদযাপিত হয়, যখন তিনি জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা বিগ্রহ স্থাপন করেন।
এখানে এক জায়গায় নারদমুনি বললেন, “প্রিয় রাজা, ভগবানের ভ্রমণের জন্য সুন্দরভাবে সজ্জিত তিনটি রথ প্রস্তুত করতে হবে। এই রথ গুলো রত্ন, অলঙ্কার, পাটের শাড়ি, মালা এবং বিভিন্ন মূল্যবান রত্নদ্বারা আবৃত করতে হবে। স্কন্দ পুরাণে আরো বর্ণিত আছে যে, স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা নারদ মুনি কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে একই দিনে তিনটি রথ নির্মাণ করেন। তখন নারদ মুনি বৈদিক রীতি অনুসারে রথসমূহ স্থাপন করেন।শুরু হয় রথ যাত্রা।
পুরীতে অধিষ্টিত জগন্নাথ এই জগতের শাসন কর্তা
তার কাছে সবাই সব সময় পৌঁছাতে পারেন না তার কিছু বিশেষ কারন আছে আছে কিছু বিধি নিষেধ। কিন্তু ভগবান তার ভক্তদের প্রতি সদা স্নেহশীল এবং সেই জন্য তিনি নিজেই ভক্তদের সামনে আসেন বছরের এই বিশেষ দিনে। শুধু দর্শন নয় এই দিন তাকে স্পর্শ এমনকি আলিঙ্গন অবধি করা যায়। তার পথ পরিষ্কার করেন স্বয়ং পুরী নরেশ। ভক্ত আর ভগবানের মিলন উৎসব
এই রথ যাত্রা।এই দিন জাত ধর্ম বর্ণ সব ভক্তি এবং
শ্রদ্ধার কাছে পরাজিত হয়।
সবাইকে জানাই পবিত্র রথ যাত্রার অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – অম্বুবাচী কি এবং কেনো
পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক
চলতি বছরে অম্বুবাচী প্রবৃত্তিঃ অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন অর্থাৎ ৬ আষাঢ় এবং নিবৃত্তি হবে ২৬ জুন অর্থাৎ ১০ আষাঢ়। আধ্যাত্মিক ভাবে অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে কয়েকটি পর্বে আপনাদের জানাবো কি এই অম্বুবাচি এবং কিভাবে ও কেনো এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।
আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে অম্বুবাচী কালের সূচনা হয় হন|শুরুর দিনটি অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও ও শেষের দিনটি হলো অম্বুবাচী নিবৃত্তি|
সনাতন ধর্মে পৃথিবী কোনো জড় বস্তু নয় বসুন্ধরাকে কে আমরা এক দেবী বা মাতৃ রূপে দেখি ও পূজা করি তাই স্বাভাবিক ভাবেই এক নারী যেমন সন্তান ধারনের পূর্বে ঋতুমতী হয় ধরিত্রী ও তেমন ফসল উৎপাদনের পূর্বে রজঃস্বলা হয় ও পরবর্তীতে ফসল উৎপাদনের জন্য আরো বেশি উর্বর হয়ে ওঠে|জীবন চক্রের এই বিশেষ পর্যায়কেই অম্বুবাচি বলা হয়।
এই সময়ে কৃষকরা কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ধরিত্রী কে বিশ্রাম দেন|আবার অম্বুবাচী উপলক্ষে উড়িষ্যায় ভূদেবীর বিশেষ পূজা মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয় ও ব্যাপক জন সমাগম হয়|ভূদেবী কে উড়িষ্যায় স্বয়ং জগন্নাথ দেবের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং তার ঋতুমতী হওয়ার সময় কাল কে চারদিনের রজ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়|চারদিনের এই উৎসব কে চারটি আলাদা পর্যায় উদযাপন করা হয় প্রথম দিনকে বলা হয় পহিলি রজ। দ্বিতীয় দিন মিথুন সংক্রান্তি| তৃতীয় দিন ভূদহ বা বাসি রজ এবং চতুর্থ দিন বসুমতী স্নান। বাংলাও কোনো কালে পিছিয়ে ছিলোনা এই শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান পালনে অম্বুবাচী উপলক্ষে গ্রামবাংলার বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে ব্রত রাখেন|দেশ তথা বাংলার প্রায় সব গুলো শক্তি পীঠেই নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন হয় ও সেই উপলক্ষে বিশেষ উৎসব এবং কোথাও কোথাও মেলার আয়োজন করা হয়|অম্বুবাচি সর্বাধিক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয় আসামে|দেশের অন্যতম শক্তি পীঠ কামরূপ কামাখ্যায় অম্বুবাচী একটি মহোৎসবের রূপ নেয়|কামাখ্যার অম্বুবাচী পালন নিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য, কিংবদন্তি ও গল্প যার সাথে জড়িয়ে আছে সনাতন ধর্মের বহু গূঢ় তত্ত্ব|সে সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো আগামী পর্বগুলিতে।
অম্বুবাচিতে দেবী পুজো হয়না তবে অম্বুবাচী তন্ত্র সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। ফিরে অম্বুবাচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহু তথ্য ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – ডুমুরদহর ডাকাত কালী পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলায় মা কালীর সঙ্গে ডাকাতদের যোগ বেশ আত্মিক।যখন গৃহস্ত বাড়িতে কালী আরাধনা সেই ভাবে শুরু হয়নি সেই সময়ে রাতের অন্ধকারে ডাকাতদের গোপন আস্তানায় চলত মা কালীর আরাধনা। পুজো শেষে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে রওনা দিত ডাকাতেরা। সেই ডাকাতরা না থাকলেও তাদের সেই সব পুজো আজও হয়।
আজ লিখবো এমনই এক ডাকাত কালী পুজো নিয়ে।
বাংলার হুগলি জেলার প্রাচীন এক জনপদ ডুমুরদহ। গঙ্গাতীরবর্তী দ্বীপ বা দহ থেকেই এই নাম। এই ডুমুরদহে রয়েছে এক অতি প্রাচীন কালী মন্দির। যা লোকমুখে বুনো কালী নামে পরিচিত। পিরামিড আকৃতি চারচালাযুক্ত একতলা সাদামাটা মন্দিরটির স্থাপত্যে আজ আধুনিক ছাপ পড়েছে বহু বার সংস্কারের পরে নানা পরিবর্তন হয়েছে বটে তবে ইতিহাস ঘাঁটলেই জানা যায় এই মন্দির এবং প্রতিমা বহু প্রাচীন। এই মন্দিরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ডুমুরদহের বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ওরফে বিশে ডাকাতের নাম। ইতিহাস বলছে
সেই উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে যখন
বাংলার ডাকাত দলগুলিকে সামলাতে হিমশিম খেতেন স্বয়ং ইংরেজ শাসকরা। সেসময় এই বিশে ডাকাত ছিল ইংরেজদের ত্রাস।তার শাসন চলতো এই অঞ্চলে। সবাই তাকে ভয় এবং ভক্তি করতো।
সেই সময়ে লেখা কিছু বইয়ে পাওয়া যায় ডাকাত বিশ্বনাথবাবুর অধীনে ডাকাতরা নৌকাযোগে যশোহর পর্যন্ত ডাকাতি করতেন। জানা যায় এই বিশে ডাকাত এই মন্দিরে পুজো দিয়েই ডাকাতি করতে যেতেন। বাবু সম্মোধন এর কারন সেই সময়ে ডাকাতি করে বহু অর্থ রোজগার করে প্রায়
জমিদার বোনে গেছিলেন বিশে ডাকাতের ন্যায়।বহু ডাকাত।
সমাচার-দর্পনে প্রকাশিত একটি সংবাদে পাওয়া যায় যে একসময় এখানে নরবলিও হতো
যদিও বর্তমানে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়।
একটি অদ্ভুত রীতি ও নাকি পালন হয় যেখানে একটি ছাগলের কান কেটে বেলপাতায় করে অর্ঘ্য দেয়া হয় দেবীকে। এই প্রথা কতোটা মানবিক বা সমর্থন যোগ্য সেটা আলাদা বিষয়। সবটাই আস্থা এবং বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে।
ডুমুরদহের বুনো কালী মাতার মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি চারচালা ভৈরব মন্দির। মন্দিরটি বর্তমানে অবক্ষয়প্রাপ্ত তবে টেরাকোটার কাজ অপূর্ব।
আসন্ন আষাড় অমাবস্যা ও অম্বুবাচি উপলক্ষে
চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা।আগামী ১৭ ই জুন তারাপীঠে গ্রহ দোষ
খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।