আজ দীপাবলী কারন ১৪ বছর বনবাসে কাটিয়ে আজ অযোধ্যা ফিরেছিলেন রাম৷ তাই রামচন্দ্রের পথ আলোকিত করতে গোটা দেশ সেজে উঠেছিল আলোয়৷আবার বাংলায় আজ কালী সাধনার দিন, কারন আজ দীপান্বিতা অমাবস্যা, মা কালী শাস্ত্রমতে শক্তির উপাসকদের দেবী। তার অপর নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। তন্ত্রশাস্ত্র মতে, তিনি দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত। তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান ১০ জন দেবীর মধ্যে প্রথম দেবী কালী। শাক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ মনে করেন।দীপাবলী ও কালী পুজো দুই আসলে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় লাভের প্রতীক, রাম যেমন অশুভ শক্তির প্রতিনিধি রাবনকে হারিয়ে ছিলেন তেমনই দেবী কালী অসুর বধ করে সৃষ্টি রক্ষা করেছিলেন|সেই শুভ শক্তিকেই আমরা আজ উদযাপন করি উৎসব হিসেবে|বিশেষ বিশেষ উৎসব গুলির সাথে আমাদর প্রত্যেকের জীবনেরই কিছু মধুর স্মৃতি জড়িত থাকে|দীপাবলী নিয়ে বলতে গেলেই আমার তেমনই মনে পড়ে নৈহাটির বিখ্যাত বড়মার কথা যেহেতু আমার বড়ো হয়ে নৈহাটী অঞ্চলেই তাই শৈশব থেকেই নৈহাটির বড়োমার পুজো দেখে আসছি এই বড়ো মাকে নিয়ে বিশেষ কৌতূহল ও তার প্রতি একটা আলাদা রকমের বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা রয়েছে আমার অন্তরে|আজকের দীপাবলী পর্বে নৈহাটির বড়মার কথা বলবো|শোনা যায় আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে এই বড়মার পুজোর প্রচলন করেছিলেন ভবেশ চক্রবর্তী নামে এক নিষ্ঠাবান মাতৃ সাধক,একবার তিনি নদিয়ার কৃষ্ণনগরে রাস উৎসবে গিয়ে সেই সময় বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট দেবী মূর্তি দর্শন করেছিলেন তারপরই ফিরে এসেছে তিনি নৈহাটিতে বড়মা কালী মূর্তি তৈরি করে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তার ইচ্ছায় ও প্রচেষ্টায় সূচনা হয়ে এই বড়মার পুজো|বড়মার পুজো শুধু নৈহাটি নয়, সারা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা তথা বাংলার বৃহত্তম কালী পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম|এখানে কালী মূর্তি ১৪ হাত লম্বা অর্থাৎ ২১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট হয়|প্রত্যেক বছর লক্ষ্মী পুজোর দিন কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়েই বড়মার পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয় এবং রীতি অনুসারে বড়মার পুজো শুরু হওয়ার পরই অন্যান্য বারোয়ারি কালী পুজোগুলি শুরু হয় এবং একইভাবে বড়মার বিসর্জনের পরই নৈহাটিতে অন্যান্য কালী প্রতিমার বিসর্জন হয়|কথিত আছে নৈহাটির বড়মার কাছে শ্রদ্ধা ভরে কিছু প্রার্থনা করলে সেই মনস্কামনা পূর্ণ করেন দেবী তাই প্রতি বছর কালী পুজো উপলক্ষে এখানে অসংখ্য মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|এছাড়াও দেশ বিদেশ থেকে বহু ভক্তরা আসেন বড়মার পুজো দেখতে|দীপাবলীর দিন মা হৃদয়েস্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দির থেকে পুজোর সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন সোশ্যাল মিডিয়ায়|আগামী দিনে আরো অনেক আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আবার আপনাদের সামনে ফিরে আসবো|প্রত্যেককে জানাই দীপাবলীর অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
ধনতেরাসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
বাঙালীদের কাছে দীপাবলি এক দিনের কালী পুজো হলেও শাস্ত্র মতে দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উত্সব যা পালিত হয় দেশের বহু জায়গায়| এর আর এক নাম আছে— ধনাত্রয়োদশী ‘ধন’ শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডার এর ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষ্মীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস উৎসব পালিত হয়|আগামী কাল সেই ধনতেরাস উৎসব|ধনতেরাস উৎসবের সাথে জড়িয়ে রয়েছে এক পৌরাণিক গল্প|পুরাকালে ভারত বর্ষে হিমার নামে এক রাজা ছিলেন|কথিত আছে, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সে দিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়। পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। পরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালিত হয়|ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ দিন দামি ধাতু কেনেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এ দিন পূজিত হন|ধনতেরাস উপলক্ষে যে কোনো শুভ কাজের সূচনা করা যায়|জ্যোতিষ প্রতিকার হিসেবে রত্ন ধারন হোক বা গৃহে দেব দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা কিংবা শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন|ধনতেরাস এই সব ক্ষেত্রেই শ্রেষ্ঠ সময়|ধনতেরসের দিন মা লক্ষ্মীর আরাধনা ছাড়াও, অনেকে কুবেরের পুজো করে থাকেন। এমন দিনে, কুবের পুজোর সময় লক্ষ্মীযন্ত্র স্থাপনা করলে বহু দারিদ্রতা কেটে যায় বলে মনে করেন অনেকে। আর এই দিন থেকে লক্ষ্মী যন্ত্র স্থাপনা করে রোজ তাকে পুজো করলে সংসারে অর্থাভাব হবে না বলে বলে মনে করা হয়|বাড়িতে শারীরিক অসুস্থতার সমস্যা দুর করতে কোনও দরিদ্রকে ধনতেরাসের দিন অন্ন দান করুন। ওই দিন ধান ও খাবার দান ভালো ফল দেয়|পাশাপাশি ধনতেরসের দিন সন্ধ্যে বেলা ১৩ টি প্রদীপ জেলে প্রদীপের সামনে ১৩ টি কড়ি রেখে মা লক্ষ্মী ও কুবেরে পুজো করলে, তা আশাতীত ফল দেয় আর্থিক উন্নতির ক্ষেত্রে। প্রদীপ নিভে যাওয়ার পর ওই কড়ি ঘরে যেখানে টাকা রাখা হয় সেখানে রেখে দিন|ধনতেরাসের দিন লক্ষ্মী দেবীর সামনে রুপো রেখে দিয়ে তাঁর আরাধনা করলে তিনি সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস করা হয়, বলা হয়, মা লক্ষ্মীকে ধনদেবী বলে যেহেতু পুজো করা হয়, তাই এমন দিনে, দেবীকে রুপো দিয়ে পুজো করা হলে, তা ভালো ফল দিতে পারে, এছাড়াও যদি ধনতেরাসের দিন কুবের যন্ত্র রাখা হয় বাড়িতে,তাহলে সেক্ষেত্রেও বাড়িতে দারিদ্রতা প্রবেশ করে না।আশা করি এই উপাচার গুলি পালন করে আপনার সৌভাগ্য লাভ হবে|মনে রাখবেন যেকোনো জ্যোতিষ প্রতিকার গ্রহণের ক্ষেত্রে ধনতেরাস এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের ক্ষেত্রে দীপান্বিতা অমাবস্যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি|আগামী চব্বিশে নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দির ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে একসাথে হবে বিশেষ হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|ধনতেরাস ও দীপাবলির আগাম শুভেচ্ছা জানাই |ফিরে আসবো পরের পর্বে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দীপান্বিতা অমাবস্যা তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র
সারা দেশের তান্ত্রিক জ্যোতিষী সহ অসংখ্য সাধারন মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন যে বিশেষ তিথি গুলির জন্য তার মধ্যে একটি দীপান্বিতা অমাবস্যা|অপেক্ষার কারন এই বিশেষ তিথিতে সাধনা করে একদিকে যেমন সিদ্ধি লাভ করেন সাধকরা তার পাশাপাশি বহু সাধারন মানুষ দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে নিজের জন্ম ছকে থাকা অশুভ গ্রহের প্রতিকার করিয়ে জীবনের নানা জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পান|কেনো এই তিথিতেই গ্রহ দোষ খণ্ডন এতো কার্যকরী তা জানতে হলে তন্ত্র সম্পর্কে জানতে হবে|শাস্ত্র মতে সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা । এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে । তন্ত্রের বিষয়টা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত । সাধারনভাবে বলা যায় তন্ত্র অসীম জ্ঞানের আধার এবং উৎস|তন্ত্র- ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু গভীর তার অন্তর্নিহিত অর্থ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ|তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতার অন্ধকারথেকে রক্ষা করে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটানো ও সুপ্ত অলৌকিক শক্তির বিকাশের মাধ্যমে জগতের কল্যাণ করা|তন্ত্রের প্রচলিত বহু রীতি নীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল বহু প্রাচীন|আছে কিছু ভুল ভ্রান্তি ও অপব্যাখ্যা|তবে এ কথা এক বাক্যে স্বীকার করতে হয় মাতৃ শক্তির আরাধনার যতগুলো পন্থা আছে তন্ত্র তার মধ্যে প্রধান|দীপান্বিতা অমাবস্যা এই তন্ত্র সাধনা বা শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকারের শ্রেষ্ট তিথি|মহালয়া অর্থাৎ পিতৃপক্ষের অবসান এবং মাতৃপক্ষের শুভারম্ভ। এই সময় বিদেহী আত্মারা জল গ্রহণের জন্য মর্ত্যে আসেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তাঁরা দীপাবলি পর্যন্ত মর্ত্যেই থাকেন।দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে ফের আত্মারা ফিরে যান স্বর্গলোকে। অন্ধকারে যাতে পিতৃপুরুষদের ফিরে যেতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই তাঁদের পথ আলোকিত করে রাখতেই ঘরে ঘরে জ্বালানো হয় প্রদীপ।তন্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে মন্ত্র শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এক্ষেত্রে বৈদিক মন্ত্র, স্তোত্র মন্ত্র এবং বীজ মন্ত্র তিনটি সঠিক ভাবে শাস্ত্র সম্মত পদ্ধতিতে ব্যবহিত হয়|সেক্ষেত্রে তিথি নক্ষত্র বড়ো ভূমিকা নেয় এবং দীপান্বিতা অমাবস্যা শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খন্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিথি বললেও হয়|বাংলায় কালী পুজোর প্রচলনে তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগিশ এর অবদান নিয়ে আগেই বলেছি তবে বাংলায়, কালীপুজো মূলত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমলে। উনিশ শতকে কৃষ্ণচন্দ্রেরই পৌত্র ঈশানচন্দ্র ও বাংলার গুটিকয়েক জমিদারের হাত ধরে কালীপুজোর জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়।দীপান্বিতা তারাপীঠে অমাবস্যা উপলক্ষ্যে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়|তার আগে ভোরে স্নানের পর দেবীর শিলাব্রহ্মময়ী মূর্তিকে রাজবেশে সাজিয়ে তোলা হয়। তারপর মঙ্গলারতি। এরপর দুপুরে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগের শেষে ভৈরবকে স্নান করানো হয় ৮০ কেজি দুধ দিয়ে। সন্ধেয় সন্ধ্যারতি। রাতে বিশেষ নিশিপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। তারাপীঠে তারা মায়ের আরাধনা হয় তন্ত্রমতে। কথিত আছে, একবার দেবীর মাতৃরূপ দর্শন চান বশিষ্ঠ মুনি ৷ দেবীও নিরাশ করেননি ৷ মাতৃরূপে দর্শন দেন দেবী। এখানেই তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেন তারামায়ের ভক্ত বামাক্ষ্যাপা ফলে এটি সিদ্ধ পীঠ হিসেবেও পরিচিত।আগামী চব্বিশ তারিখ দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে আমি থাকবো তারাপীঠে|গৃহ মন্দির এবং তারাপীঠে দুই স্থানেই শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার করে যেকোনো গ্রহগত সমস্যার নিশ্চিত ও স্থায়ী সমাধান পেতে যোগাযোগ করুন|আগামী দিনে ধনতেরাস ও কালী কথা নিয়ে পুনরায় ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী কালীর অদ্ভুত রূপসজ্জা
স্বয়ং মহাদেব যার পদতলে শুয়ে আছেন, যিনি কাল কে গ্রাস করেন, যিনি সকল শক্তির আধার আমরা সেই দেবীর কালীর আরাধনা করবো আর মাত্র কটা দিন পরেই|আগামী 24 অক্টোবর দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে সেই রাতেই হবে মহা যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে অশুভ গ্রহের প্রতিকার|দেবী কালীর আশীর্বাদে বহু মানুষ ফিরে পাবেন নতুন করে বাঁচার পথ|আজ কালী তত্ত্বে বলবো দেবী কালীর অদ্ভুত রূপসজ্জা নিয়ে জানবো তার রূপসজ্জার আসল ব্যাখ্যা|শাস্ত্রে বহু রূপের উল্লেখ থাকলেও দেবী কালী বা কালিকার প্রধানত দুটি রূপ যথা দক্ষিণা কালী ও বামাকালী। দক্ষিণা কালীর রূপ হচ্ছে দেবী শিবের ওপর বিপরীত ভঙ্গিতে উপবিষ্টা|অন্যদিকে বামাকালীর বাম পদ অর্থাৎ বাঁ পা থাকে সামনের দিকে প্রসারিতদেবী কালী কৃষ্ণ বর্নের| তারও ব্যাখ্যা আছে আসলে কালো রঙ অন্য সব রঙকেই শোষণ করে নিতে পারে আর তাই কালী কালো। সমাজ -সংসার-সন্তানের সমস্ত অজ্ঞানতা নিজের দেহে শোষণ করে কালী হয়েছেন কালী। তাই রামপ্রসাদ বলছেন, —“কালোরূপ অনেক আছে, এ বড়ো আশ্চর্য কালো—যারে হৃদমাঝারে রাখলে পরে হৃদপদ্ম করে আলো।”রূপসজ্জার অন্যতম অংশ হিসেবে মায়ের কন্ঠে মুণ্ডমালা থাকে|দেবীর গলায় ৫০টি পিশাচের কাটা মুণ্ডের মালা বা হার থাকে প্রকৃত অর্থে ৫০টি কাটা মুণ্ড ৫০টি সংস্কৃত বর্ণমালার প্রতীক, ১৪টি স্বরবর্ণ আর ৩৬টি ব্যঞ্জন বর্ণ। এখানে প্রতিটি বর্ণ মানে প্রতিটি বীজমন্ত্র। শব্দ ব্রহ্ম। তাই এখানে অক্ষর রূপ বীজমন্ত্রগুলি শক্তির উৎস। দেবী এখানে স্বয়ং শব্দব্রহ্মরূপিণী। কামধেনু তন্ত্রে দেবী স্বয়ং নিজের সম্পর্কে বলেছেন বলেছেন“ মম কণ্ঠে স্থিতং বীজং পঞ্চাশদ্ বর্ণমদ্ভুতম্ । ”সাধক রামপ্রসাদ তাই গেয়েছেন”যত শোন কর্ণপুটে সকল মায়ের মন্ত্র বটে ” আবার অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে মুন্ডমালা হল জ্ঞান শক্তির প্রতীক । দেবী ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেন তিনি চেতনা দান করেন । অন্ধকারে আবদ্ধ জীবকে আলোর পথ দেখান|তাই তার এরূপ সাজ|দেবী কালীর কটি দেশে নর হস্তের মেখলা রয়েছে যা আসলে কর্মশক্তির এবং কর্ম ফলের প্রতীক,এখানে কাটা হাত দিয়ে কর্ম বা কর্মফলকে বোঝানো হয়েছে। মানুষের মৃত্যুর পর জীবাত্মা দেবীর অঙ্গে অঙ্গীভূত হয়ে থাকে, তিনি আবার সমস্ত কর্মের ফলদাত্রী। পরবর্তী জন্মে তাদের কর্মফল অনুসারে আত্না বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন গর্ভে জন্মগ্রহণ করে থাকে।সবই দেবীর কৃপা|দেবীর বাহন শিয়াল বলা হলেও আসলে শেয়াল তার সহচর, শিয়াল দেবীকে বাহন করেনা, বা তার বাহন নয়|তন্ত্র শাস্ত্র মতে দেবীর বাহন স্বয়ং মহাদেব|তিনি দেবীকে বহন করে আছেন|দেবী কালী চাইলে সবই সম্ভব|সমস্যা যত বড়োই আসুক|আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যায় সঠিক ভাবে গ্রহের প্রতিকারের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব|বিশেষ করে যারা আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন, দাম্পত্য জীবনে অশান্তি আছে, শারীরিক সমস্যা আছে, কর্মে বাঁধা আসছে|তারা এই তিথিকে কাজে লাগান|আমি নিজে থাকছি তারাপীঠে|যোগাযোগ করুন|আগামী দিনে কালী তত্ব এবং আরো কালী কথা নিয়ে আপনাদের সামনে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী কালীর দিগম্বরী রূপ
দীপান্বিতা অমাবস্যা কেনো জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি আর কেনই বা এই তিথিতে যেকোনো তন্ত্র বা জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ এবং গ্রহের প্রতিকার এতো নিখুঁত ভাবে হয় তার একটি কারন হলো তিনি হচ্ছেন কালের স্ত্রীর লিঙ্গ|তাই তিনি কালী|যে কাল বা সময় আমাদের ভালো মন্দ সুখ দুঃখ সবকিছুকে নিয়ন্ত্রন করছে|তার পুজোর তিথিতে যেকোনো তন্ত্র ক্রিয়া অনেক বেশি কার্যকর হবে সেটাই স্বাভাবিক|আবার শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে যে কাল সর্বজীবকে গ্রাস করে, সেই কালকে আবার যিনি গ্রাস করেন তাঁকেও কালী বলা হয়।তিনি চাইলে আমাদের সব দুঃখ, হতাশা, ব্যার্থতা, সমস্যাকে গ্রাস করে আমাদের নব জীবন দান করতে পারেন|অসীম ক্ষমতার অধিকারিণী দেবী কালী দিগম্বরী কেনো কেনই বা তার মুক্তকেশ|আজ সেই কথাই বলবো|দেবী কালী দিগম্বরী । এর অর্থ তিনি কোন কিছুর বন্ধনে আবদ্ধ নন । তিনি দেশ কালের ওপরে । তিনি সকল জীবের মাতা । এক দিকে দেবী বিশ্বমধ্যে, আবার অন্য দিকে তিনি বিশ্বব্যাপী ও বিশ্বাতীত। যাঁর স্বরূপ এমন, তাঁকে কি কোনও বস্ত্র দিয়ে আবরিত করা সম্ভব! কার কী এমন সাধ্য আছে তাঁর ওই রকম বস্ত্র তৈরী করার? তাই তিনি ঋষি কল্পনায় দিগম্বরী|অন্য একটি ব্যাখ্যাও আছে যেখানে কিছু পণ্ডিত বসনকে কামনা বাসনার প্রতীক বলেছেন|তিনি এই সবার উর্ধে তাই তিনি দিগম্বরী|তন্ত্র সাধনা বলে কামনা বাসনা আদি ষড়রিপু বর্জন করতে হবে । তবেই দেবকৃপা পাওয়া যাবে । তাই সম্পূর্ণ রিক্ত হয়ে অহং ও অবিদ্যা কে ত্যাগ করেই মায়ের কাছে যেতে হবে ।মা মুক্ত স্বভাবা । তাই তিনি মুক্তকেশী । তাঁর মাথার ঘন কালো চুল বাঁধা অবস্থায় থাকে না। যোগশাস্ত্রে মুক্তকেশ বৈরাগ্যের প্রতীক। তিনি চিরবৈরাগ্যের প্রতীক। তিনি জ্ঞানের দ্বারা লৌকিক বা জাগতিক সকল বন্ধন ছিন্ন করতে পারেন। তাঁর জ্ঞান খড়গের দ্বারা অষ্টপাশ ছিন্ন হলেই নিস্কাম সাধক দেবীর কৃপা পান । তবেই মুক্তি ঘটে।সাধক রামপ্রসাদের ভাষায় “ মুক্ত কর মা মুক্তকেশীভবে যন্ত্রনা পাই দিবানিশি । ”দেবী কালীর সেই কেশ মৃত্যুর প্রতীক । চন্ডীতে আছে মহিষাসুরের হাতে পরাজিত দেবতারা যখন ত্রিদেবের কাছে গেলেন তখন ত্রিদেব ও সমস্ত দেবতাদের তেজ রাশি একত্রিত হয়ে ভগবতী মহামায়ার আবির্ভাব ঘটে । যমের তেজে দেবীর কেশরাশি গঠিত হয় ।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শনিগ্রহের ইষ্টদেবী কালীকা তাই যাদের জন্মছকে গ্রহরাজ শনি অশুভ অবস্থায় আছেন বা শনির সাড়েসাতি অশুভ ফল দিচ্ছে অথবা, বিষ যোগের মতো অশুভ যোগ আছে দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে তারা বিশেষ করে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন করান|নিশ্চিত ভাবে সব দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করবেন|আমি নিজে থাকছি তারাপীঠে|যোগাযোগ করুন|আগামী দিনে কালী তত্ব এবং আরো কালী কথা নিয়ে আপনাদের সামনে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী কালীর আটটি রূপ
জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের যে দীপান্বিতা অমাবস্যা কে কেন্দ্র করে এতো আয়োজন|যে অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খণ্ডন করে লক্ষ লক্ষ মানুষ নতুন জীবন লাভ করেন সেই অমাবস্যায় যিনি পূজিতা হন তিনি দেবী কালী|দেবী কালীর বিভিন্ন রূপ আছে আজ তার আটটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে লিখবো|তন্ত্রশাস্ত্র ও পুরানে পুরাণে দেবী কালীর একাধিক রূপভেদের উল্লেখ পাওয়া যায়। তোড়লতন্ত্র অনুসারে, কালী আট প্রকার। যথা: দক্ষিণকালিকা, সিদ্ধকালিকা, গুহ্যকালিকা, শ্রীকালিকা, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালিকা, শ্মশানকালিকা ও মহাকালী|প্রতিটি রূপের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে|দক্ষিণাকালীতাত্ত্বিকের তার নামের যে ব্যাখ্যা দেন তা নিম্নরূপ: দক্ষিণদিকের অধিপতি যম যে কালীর ভয়ে পলায়ন করেন, তার নাম দক্ষিণাকালী। তার পূজা করলে ত্রিবর্ণা তো বটেই সর্বোপরি সর্বশ্রেষ্ঠ ফলও দক্ষিণাস্বরূপ পাওয়া যায়। দক্ষিণাকালীর কালীর সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ মূর্তি। ইনি প্রচলিত ভাষায় শ্যামাকালী নামে বেশি জনপ্রিয়। দক্ষিণাকালী করালবদনা, ঘোরা, মুক্তকেশী, চতুর্ভূজা এবং মুণ্ডমালাবিভূষিতা। তার বামকরযুগলে সদ্যছিন্ন নরমুণ্ড ও খড়্গ; দক্ষিণকরযুগলে বর ও অভয় মুদ্রা। তার গাত্রবর্ণ মহামেঘের ন্যায়; তিনি দিগম্বরী।তিনি ত্রিনয়নী এবং মহাদেব শিবের বুকে দণ্ডায়মান। তার দক্ষিণপদ শিবের বক্ষে স্থাপিত। সিদ্ধকালী সিদ্ধকালী কালীর একটি অখ্যাত রূপ। গৃহস্থের বাড়িতে সিদ্ধকালীর পূজা হয় না; তিনি মূলত সিদ্ধ সাধকদের ধ্যান আরাধ্যা। কালীতন্ত্র-এ তাকে দ্বিভূজা রূপে কল্পনা করা হয়েছে। অন্যত্র তিনি ব্রহ্মরূপা ভুবনেশ্বরী। তার মূর্তিটি নিম্নরূপ: দক্ষিণহস্তে ধৃত খড়্গের আঘাতে চন্দ্রমণ্ডল থেকে নিঃসৃত অমৃত রসে প্লাবিত হয়ে বামহস্তে ধৃত একটি কপালপাত্রে সেই অমৃত ধারণ করে পরমানন্দে পানরতা। তিনি সালংকারা। তার বামপদ শিবের বুকে ও বামপদ শিবের উরুদ্বয়ের মধ্যস্থলে সংস্থাপিত।গুহ্যকালীগুহ্যকালী বা আকালীর রূপ গৃহস্থের নিকট অপ্রকাশ্য। তিনি সাধকদের আরাধ্য। তার রূপকল্প ভয়ংকর: গুহ্যকালীর গাত্রবর্ণ গাঢ় মেঘের ন্যায়; তিনি লোলজিহ্বা ও দ্বিভূজা; গলায় পঞ্চাশটি নরমুণ্ডের মালা; কটিতে ক্ষুদ্র কৃষ্ণবস্ত্র; স্কন্ধে নাগযজ্ঞোপবীত; মস্তকে জটা ও অর্ধচন্দ্র; কর্ণে শবদেহরূপী অলংকার; হাস্যযুক্তা, চতুর্দিকে নাগফণা দ্বারা বেষ্টিতা ও নাগাসনে উপবিষ্টা; বামকঙ্কণে তক্ষক সর্পরাজ ও দক্ষিণকঙ্কণে অনন্ত নাগরাজ; বামে বৎসরূপী শিব; তিনি নবরত্নভূষিতা; নারদাদিঋষিগণ শিবমোহিনী গুহ্যকালীর সেবা করেন; তিনি অট্টহাস্যকারিণী, মহাভীমা ও সাধকের অভিষ্ট ফলপ্রদায়িনী। গুহ্যকালী নিয়মিত শবমাংস ভক্ষণে অভ্যস্তা। মহাকালীতন্ত্রসার গ্রন্থমতে, মহাকালী পঞ্চবক্ত্রা ও পঞ্চদশনয়না। তবে শ্রীশ্রীচণ্ডী-তে তাকে আদ্যাশক্তি, দশবক্ত্রা, দশভূজা, দশপাদা ও ত্রিংশল্লোচনা রূপে কল্পনা করা হয়েছে। তার দশ হাতে রয়েছে যথাক্রমে খড়্গ,চক্র,গদা,ধনুক,বাণ,পরিঘ,শূল,ভূসুণ্ডি,নরমুণ্ড ও শঙ্খ। ইনিও ভৈরবী; তবে গুহ্যকালীর সঙ্গে এঁর পার্থক্য রয়েছে। ইনি সাধনপর্বে ভক্তকে উৎকট ভীতি প্রদর্শন করলেও অন্তে তাকে রূপ, সৌভাগ্য, কান্তি ও শ্রী প্রদান করেন।সৃষ্টির আদিতে যে সময় বিষ্ণু যোগনিদ্রায় আচ্ছন্ন। বিষ্ণুর নাভিকমলে ব্রহ্মা বিরাজিত। সেই সময় বিষ্ণুর কান থেকে মধু ও কৈটভ, দুই দৈত্যর সৃষ্টি হয়। কোনও কারণে তারা বহ্মাকে আক্রমণ করতে গেলে, ব্রহ্মা তখন মহাকালীর স্তব করেন। প্রথম ভক্তের ডাকে তখন স্নেহ ময়ী আদ্যাশক্তির মহাকালী রূপে আবির্ভাব।চামুণ্ডাকালী বা চামুণ্ডা: তন্ত্র জগতে ভক্ত ও সাধকদের কাছে কালীর এই রূপ প্রসিদ্ধ।দেবীভাগবত পুরাণ ও মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এর বর্ণনা অনুযায়ী, চামুণ্ডা চণ্ড ও মুণ্ড নামক দুই অসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার ভ্রুকুটি মাঝে ললাট থেকে উৎপন্ন হন। তার গাত্রবর্ণ নীল পদ্মের মত, হাতে অস্ত্র, দণ্ড ও চন্দ্রহাস। দুর্গাপুজোয় মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে আয়োজিত সন্ধিপুজোর সময় দেবী চামুণ্ডার পুজো হয়। পূজক অশুভ শত্রুবিনাশের জন্য শক্তি প্রার্থনা করে তার পূজা করেন। অগ্নিপুরাণ-এ আট প্রকার চামুণ্ডার কথা বলা হয়েছে, তার মন্ত্রও অনেক।শ্মশানকালী:এই শ্মশানকালী দেবীকে শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনে করা হয়। শ্মশানকালী দেবীর গায়ের রং কাজলের মতো কালো। তিনি সর্বদা বাস করেন। তাঁর চোখ দুটি রক্ত পিঙ্গল বর্ণের। চুলগুলি আলুলায়িত, দেহটি শুকনো ও ভয়ংকর। বাঁ-হাতে মদ ও মাংসে ভরা পানপাত্র, ডান হাতে নর মুণ্ড। শ্মশানকালীর আরেকটি রূপে তার বাঁ-পা শিবের বুকে স্থাপিত এবং ডান হাতে ধরা খড়্গ। এই রূপটিও ভয়ংকর রূপ। তন্ত্রসাধকেরা মনে করেন, শ্মশানে শ্মশানকালীর পুজো করলে শীঘ্র সিদ্ধ হওয়া যায়। রামকৃষ্ণ পরমহংসের স্ত্রী সারদা দেবী দক্ষিণেশ্বরে শ্মশানকালীর পুজো করেছিলেন। রামকৃষ্ণ পরমহংস বলেছিলেন, শ্মশানকালীর ছবিও গৃহস্থের বাড়িতে রাখা উচিত নয়।সিদ্ধকালী:সিদ্ধকালী কালীর একটি অখ্যাত রূপ। গৃহস্থের বাড়িতে সিদ্ধকালীর পুজো হয় না, তিনি মূলত সিদ্ধ সাধকদের ধ্যান আরাধ্যা। কালীতন্ত্র-এ তাকে দ্বিভূজা রূপে কল্পনা করা হয়েছে। অন্যত্র তিনি ব্রহ্মরূপা ভুবনেশ্বরী। তার মূর্তিটি নিম্নরূপ: দক্ষিণহস্তে ধৃত খড়্গের আঘাতে চন্দ্রমণ্ডল থেকে নিঃসৃত অমৃত রসে প্লাবিত হয়ে বামহস্তে ধৃত একটি কপালপাত্রে সেই অমৃত ধারণ করে পরমানন্দে পানরতা। তিনি সালংকারা। তার বামপদ শিবের বুকে ও বামপদ শিবের উরুদ্বয়ের মধ্যস্থলে সংস্থাপিত।ভদ্রকালীরভদ্রকালী নামের ভদ্র শব্দের অর্থ কল্যাণ এবং কাল শব্দের অর্থ শেষ সময়। যিনি মরণকালে জীবের মঙ্গলবিধান করেন, তিনিই ভদ্রকালী। ভদ্রকালী নামটি অবশ্য শাস্ত্রে দুর্গা ও সরস্বতী দেবীর অপর নাম রূপেও ব্যবহৃত হয়েছে। কালিকাপুরাণ মতে, ভদ্রকালীর গাত্রবর্ণ অতসীপুষ্পের ন্যায়, মাথায় জটাজুট, ললাটে অর্ধচন্দ্র ও গলদেশে কণ্ঠহার। তন্ত্রমতে অবশ্য তিনি মসীর ন্যায় কৃষ্ণবর্ণা, কোটরাক্ষী, সর্বদা ক্ষুধিতা, মুক্তকেশী; তিনি জগৎকে গ্রাস করছেন; তার হাতে জ্বলন্ত অগ্নিশিখা ও পাশযুগ্ম।আগামী 24 অক্টোবর দীপান্বিতা অমাবস্যা তথা দেবী কালীর পুজোর তিথি তারাপীঠ সহ আপনাদের হৃদয়েস্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যার বিশেষ পুজোপাঠ হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত|বিশেষ করে যাদের জন্ম ছকে বিষ যোগ, গ্রহণ দোষ, কাল সর্প দোষ , গুরু চণ্ডাল দোষ , পিতৃ দোষ, দারিদ্র যোগ ইত্যাদি ভয়াবহ দোষগুলি রয়েছেন তারা দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন করান|আগামী দিনে কালী তত্ব এবং আরো কালী কথা নিয়ে আপনাদের সামনে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ।
বাংলার কালী পুজোর অলৌকিক ইতিহাস
বাংলার কালী পুজোর আলাদা ইতিহাস আছেসেই ইতিহাস এর সাথে জড়িয়ে আছে বহু অলৌকিক ঘটনা|বাংলার কালী পুজো মানে শুধু দীপাবলী বা উৎসব পালন নয় তার পাশাপাশি মাতৃ সাধকদের কঠিন তন্ত্র সাধনা এবং জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে হোম যজ্ঞের মাধ্যমে অশুভ গ্রহের প্রতিকার|আজও তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই তিথিতে তাদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান পান এবং নব জীবন লাভ করেন|আমি নিজে এবছর থাকছি তারাপীঠে|বহু মানুষের কাজ নিয়ে যাচ্ছি|মায়ের ইচ্ছায় তাদের গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে সফল ভাবে|বাংলার ইতিহাস ষোড়শ শতাব্দীতে নবদ্বীপের পণ্ডিত ও নব্যস্মৃতির স্রষ্টা রঘুনন্দন দীপান্বিতা অমাবস্যায় লক্ষ্মীপুজো করার নির্দেশ দেন। এর পরে ১৮ শতকে প্রকাশিত এক পত্রিকায় প্রথম বার এই তিথিতে কালীপুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়।অনেকের মতে, নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশই বাংলায় কালীমূর্তি ও কালীপূজার প্রবর্তন করেন।এর আগেও কালীপুজোর প্রচলন ছিল বাংলায়। তবে হাতে গোনা কয়েকটি পুজোই করা হত। কালীর উপাসকরা তামার টাটে কালীর যন্ত্র এঁকে বা খোদাই করে মায়ের পুজো করতেন।সে সময়ে ডাকাতরা এবং তন্ত্র সাধকরাই সাধারণত দেবী কালীর পুজো করতেন|পুজোর সময়ে কৃষ্ণানন্দ একবার মহামায়াকে বললেন, ‘‘মা, তোমার যে রূপের পূজা আমি করব আমাকে সে রূপ দেখিয়ে দাও’’। তখন মা বললেন, ‘‘যে ভঙ্গীতে আমার এই বিগ্রহের পূজা তোমার দ্বারা প্রচলিত হবে, তা আমি মানবদেহের মাধ্যমেই দেখিয়ে দেব। এই রাত শেষে সর্ব প্রথম যে নারীকে যে রূপে যে ভঙ্গীতে দেখবে, ঐরকম মূর্তিতে আমার পূজার প্রচলন করবে। মায়ের নির্দেশমত পরদিন ভোরে কৃষ্ণানন্দ গঙ্গার দিকে কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর এক শ্যামাঙ্গিনী বালিকাকে দেখতে পান। ওই বালিকা তখন অপরূপ ভঙ্গীতে কুটিরের বারান্দার উপরে এবং বামপদ ভূতলে দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি একতাল গোময়যুক্ত ডান হাত এমনভাবে উচু করে ধরেছিলেন যা দেখে বরাভয় মুদ্রার মত মনে হয়েছিল। বাম হাত দিয়ে তিনি কুটিরের দেয়ালে মাটির প্রলেপ দিচ্ছিলেন। তিনি ক্ষুদ্র পরিসরে একটি শাড়ি পড়ে ছিলেন। তাই কৃষ্ণানন্দকে দেখে তিনি লজ্জায় জিভ কেটেছিলেন।তাঁর এরকম ভঙ্গী দেখে কৃষ্ণানন্দের মায়ের প্রত্যাদেশের কথা মনে পড়ে গেল। তারপরই তিনি মায়ের ঐরকম মূর্তি রচনা করে পূজার প্রচলন করলেন।কথিত আছে, কৃষ্ণানন্দ কোনো এক ধনী ব্যক্তির বাড়ি দুর্গাপূজা করতে গিয়েছিলেন, সেখানে দুর্গাপূজার শেষে ওই বাড়ির কর্তা নিজের অহংবোধের বশবর্তী হয়ে কৃষ্ণানন্দকে বলেন যে তিনি প্রতিমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেননি। কৃষ্ণানন্দ ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন যে তিনি যদি প্রাণপ্রতিষ্ঠা না করে থাকেন এক্ষুনি তার প্রমাণ দেবেন, তবে প্রমাণ হওয়ার পরে ওই গৃহের কেউ আর জীবিত থাকবেনা। কর্তা তাতেই রাজি হলেন,কৃষ্ণানন্দ একটি কুশি ছুঁড়ে দেন দেবী প্রতিমার ঊরুতে। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমার ঊরু ফেটে রক্তপাত হয়; এবং ওই গৃহের প্রত্যেকেও মুখে রক্ত উঠে তৎক্ষণাৎ মারা যান|এমন অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা রয়েছে এই মহান মাতৃ সাধকের জীবন জুড়ে|এই বাংলায়, কালীপুজো মূলত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমলে। উনিশ শতকে কৃষ্ণচন্দ্রেরই পৌত্র ঈশানচন্দ্র ও বাংলার গুটিকয়েক জমিদারের হাত ধরে কালীপুজোর জনপ্রিয়তা আকাশ ছোঁয়।বর্তমানে তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তিথি এই দীপান্বিতা অমাবস্যার রাত|আগামী 24 তারিখ এই বিশেষ তিথিতে হৃদয়েস্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে এক যোগে হবে হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার প্রদান|তারা পীঠে আমি নিজে উপস্থিত থাকবো|আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আবার একবছর পরে আসবে এই সুযোগ তাই আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে আপনাদের গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে পারেন|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বয়রা কালীমন্দিরের ইতিহাস
বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অদ্ভুত নিদর্শন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরের প্রাচীন বয়ড়া কালী মন্দির যাকে কেন্দ্র করে শোনা যায় বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা|আজ এই মন্দিরের কথা বলবো|বর্তমান ১০ নং জাতীয় সড়কের ধারে মা বয়রা কালীর মন্দির। শহরের বুকে বয়ে চলেছে শ্রীমতি নদী। হতে পারে বর্তমানে নদী হারিয়েছে তার যৌবন। তবে এককালে এই নদীতে পারাপার হতো বাণিজ্যের বড়ো বড়ো নৌকা। কাহিনীটি সেই সময়েরই। এই নদীপথ দিয়ে যাতায়াত করতেন যেসব বণিকরা তারাই নদীর ধারে এক বয়রা গাছের নীচে মা কালীর পূজো শুরু করেন। সেই থেকেই এখানে মা কালীর নাম বয়রা কালী। তারা প্রতিষ্ঠা করেন দেবীর বেদী।শোনা যায় জঙ্গলাকীর্ণ সেই জায়গা ধীরে ধীরে পরিণত হয় ডাকাতদের আস্তানায়। মায়ের পুজো শুরু করে তারাও। ইতিমধ্যে এলাকায় নিযুক্ত হয়েছেন নতুন দারোগা তিনি ভিন্ন ধর্মের মানুষ সালটা ১৯৩২। তবে নতুন দারোগার আবার অভিনয় চর্চায় বেশ ঝোঁক। মাঝে মাঝেই এলাকার মানুষজনদের নিয়ে নাটক-যাত্রাপালার আসর বসাতেন। উৎসাহ দিতেন মানুষজনকে যাতে এই চর্চা কখনো বন্ধ না করে। এই দারোগা মশাইয়ের স্বপ্নে একদিন হাজির হোন মা বয়রা কালী স্বয়ং! তিনি তাঁকে আদেশ দেন মন্দির প্রতিষ্ঠা করবার। দারোগা নিজে ভিন্ন ধর্মের হলে হবে কি, সব ধর্মের প্রতি তাঁর সমান শ্রদ্ধা।তিনি বেরিয়ে পড়েন মন্দির নির্মাণের অর্থ সংগ্রহ করতে। এলাকাবাসীর কাছে যতটুকু সম্ভব চাঁদা সংগ্রহ করেন এবং বাকি অর্থ তিনি জোগাড় করেন এক লবণ গাড়ির নিলাম থেকে। আয়োজন করলেন পুজোর সমস্ত সামগ্রীর। সেই কাঁচা মন্দির আজ পরিণত হয়েছে পাকা মন্দির বাড়িতে।মন্দিরে আজও মহাড়ম্বরে প্রতি দীপান্বিতা অমাবস্যায় পূজিতা হয়ে আসছেন মা। বিদেশ বিভূুঁই থেকেও হাজির হয় ভক্তগণ। পুজোর দিনে লক্ষাধিক ভিড় সামলাতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ১৯৯৮ সালে ভক্তদের চেষ্টায় এবং অর্থে গড়ে তোলা হয় মা বয়রার অষ্টধাতুর মূর্তি।পুজোর দিন মাকে সাজানো হয় সোনার গয়নায়। ভোগে থাকে তিন রকমের সব্জি এবং পাঁচ রকমের মাছ ভাজা। পূজোর দিন রাত্রিবেলায় নাকি মা বের হোন ভক্তদের মাঝে। অনেকেই নিঝুম রাস্তায় শুনেছেন মায়ের নূপুরের শব্দ। মায়ের পূজোয় অংশ নেন এলাকার অন্য ধর্মের লোকেরাও। সরকারি নিয়ম মেনে পুজোয় বন্ধ হয়েছে বলি প্রথা।মন্দিরের বর্তমান সেবাইতরা বলেন, “মা খুবই জাগ্রত ৷ তাই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন পুজো দিতে ৷ মানসিক করেন ৷ দীপাবলির রাতে আনুমানিক লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় ৷ প্রাচীন পদ্ধতিতে পুজো করা হয় ৷ বিশেষত্ব হল মা-কে পাঁচ রকমের মাছ ভাজা ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় ৷ আর কিছু জুটুক বা না জুটুক মাছ ভাজাটা দিতেই হবে ৷আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় হৃদয়েস্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে এক যোগে হবে হোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার প্রদান|তারা পীঠে আমি নিজে উপস্থিত থাকবো|আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আবার একবছর পরে আসবে এই সুযোগ তাই আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে এবং গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|বাড়িতে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পারেন সমস্ত অনুষ্ঠান|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পাইক গাছার কপিলেস্বরী কালী মন্দিররের ইতিহাস
বাংলার কালী মন্দির মানে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় বাংলাদেশেও আছে বেশ কিছু কালী মন্দির|আজকের পর্বে আপনাদের এমনই এক ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে বলবো তবে তার আগে এই কালী তত্ত্ব নিয়ে একটা কথা বলে রাখি|দক্ষযজ্ঞের প্রাক্কাল। এমন সময় পিতৃগৃহে যেতে বদ্ধপরিকর সতী, আর মহাদেব তাঁকে আটকাতে বদ্ধপরিকর। বাধ্য হয়েই আঙুল বাঁকাতে হল মহামায়াকে। “দশমহাবিদ্যা” অর্থাৎ নিজের প্রধান দশটি রূপ— কালী, তারা, ষোড়শী, ভৈরবী, ভুবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী এবং কমলার বেশে দশ দিক থেকে ঘিরে ধরে ভয় দেখালেন স্বামীকে। ব্যস! তাতেই বাজিমাত— মিলল অনুমতি।অর্থাৎ দশ মহাবিদ্যার অন্তর্গত বিশেষ একটি রূপ দেবী কালী|উৎপত্তি ভীতি সঞ্চার করার জন্য হলেও উদ্দেশ্য মহৎ|কপিলমুনি কালী বাড়ী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এক পবিত্র স্থান।পুন্যত্মা কপিল মুনি কোন এক সময় সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য কপোতাক্ষের পাড়ে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির স্থাপন করেন।কিন্ত কালের বিবর্তনের সাথে এটি বিলিন হয়েযায়।পরবর্তীতে রায়সাহেব বিনোদ বিহারী মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন বাংলার ১৩৩৬ সালে|বর্তমানে সেই মন্দিরেই হয় পুজো|শোনা যায় জাগ্রত মা এখানে কোন এক বারুণী মেলার সময় রায় সাহেবের মেয়ে পরিচয় দিয়ে এক সাখারুর নিকট থেকে সাখা পরেন|তিনি সাখারুকে বলেন আমার বাবার নিকট থেকে টাকা নেবেন।এদিকে বিনোদের তখন কোন কন্যাই ছিলনা।তিনি সাখারুর টাকা পরিশোধ করে দিয়ে চিন্তা করতে থাকেন কে হবে এই মেয়েটি।তিনি সন্ধ্যায় পুজা দিতে গিয়ে অবাক হয়ে দেখেন মায়ের হাতে নতুন সাখা। তিনি পুরহিতকে ডেকে জানতে চান মায়ের হাতে সাখা দিয়েছে কে? পুরহিত কোন উত্তর দিতে পারেনা। তখন তিনি আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন তার মেয়ে আর কেউনা সাক্ষাত মা কালী যিনি বালিকা রূপে তার নিজের কন্যা পরিচয়ে এসেছিলেন|আজও প্রতিটি বিশেষ তিথিতে এখানে বিশেষ পুজো হয় এবং বহু দুর থেকে দর্শণার্থীরা আসেন|আপনারা হয়তো জানেন শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি দীপান্বিতা অমাবস্যা আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দির ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে একসাথে হবেহোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী তত্ত্ব ও বিভিন্ন কালী মন্দির নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে |থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবভূমি হরিদ্বারের দক্ষিনা কালীমন্দিরের ইতিহাস
সাধারনত কালী বা বিশেষ করে দক্ষিনা কালীর প্রসঙ্গ এলে বাংলা বা দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের কথা মনে পড়ে তবে আজ আপনাদের এমন এক দক্ষিনা কালী মন্দিরের কথা বলবো যা অবস্থিত সুদূর হরিদ্বারে|তবে তার আগে কালীতত্ত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ন কিছু কথা|প্রায় শোনা যায় দূর্গা ও কালী একই|আসুন জেনে নিই শাস্ত্র কি বলছে, মহাদেব আড়ালেই তার পত্নীকে “কালী” সম্বোধন করতেন। এবারে সকলের সন্মুখেই ‘কালী’ ডাক শুনে চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করে ক্রোধিত হন দেবী। ফলস্বরূপ, মানস সরোবরের ধারে এক কঠোর তপস্যায় বসলেন। অতঃপর তপস্যান্তে মানস সরোবরের শীতল জলে স্নানের মাধ্যমে দেহের সকল কালিমা ত্যাগ করে উজ্জ্বল চাঁদের মতো বর্ণ ধারণ করলেন।পৌরাণিক এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে দুর্গা এবং কালী প্রকৃত পক্ষে এক এবং অভিন্ন পার্থক্যটা নিছক বর্ণে|উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত হরিদ্বার বাঙালির অতি পরিচিত জায়গা। মূলত মহাদেবের ধাম হিসেবে পরিচিত উত্তরাখণ্ড। তবে অন্যান্য দেবদেবীদেরও মন্দির আছে উত্তর ভারতের এই রাজ্যে।দেব ভূমি হরিদ্বারেই রয়েছে দক্ষিণ কালী মন্দির। দেশের অন্যতম সিদ্ধপীঠ এটি। মন্দিরের পুরোহিত বলেন এই ধরনের দক্ষিণ কালী মন্দির সারা ভারতে মাত্র দু’টি আছে। তার মধ্যে একটি হল দক্ষিণেশ্বর এবং দ্বিতীয়টি হরিদ্বারে। দক্ষিণেশ্বরের সঙ্গে হরিদ্বারের এই মন্দিরের ঘনিষ্ঠ যোগও আছে। রামকৃষ্ণদেবের এক শিষ্য এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায় যদিও তার নাম সেই ভাবে উল্লেখিত নয়|হরিদ্বারে চণ্ডীঘাটের কাছেই অবস্থিত দক্ষিণ কালী মন্দির। এখানে গঙ্গা বইছে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে। কিন্তু দেবী কালীর মূর্তি পূর্বদিকে মুখ করে আছে। মন্দিরে প্রবেশ করলে প্রথমে কালীমূর্তি চোখে পড়ে। এরপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলে চোখে পড়ে দশমহাবিদ্যার মূর্তিগুলি। গুহার মধ্যে অগ্নিকুণ্ডের সামনে রয়েছে এই মূর্তিগুলি। গুহায় প্রবেশ করলে অজান্তেই ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। আলো-আঁধারের পরিবেশে মন একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়|কালী ভক্তির গভীর সাগরে নিমজ্জিত হয় দেহ মন|সেবায়েতরা বলেন মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরিদ্বারের এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন আধ্যাত্মিক গুরু কামরাজ। তাঁর আহ্বানে গঙ্গার তীরবর্তী এই মন্দিরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অলহা ও মছলা নামে এক দম্পতি তারাই মন্দিরের দেখা শোনা ও পুজো করতেন ।স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্দিরে বাস করেন সাদা-কালো রঙের নাগ-নাগিন। তাছাড়া রহস্যময় এক ড্রাগন স্বরূপ প্রাণীও নাকি বাস করে এই মন্দিরে। তবে কেউ তাদের দেখতে পান না। জোড়া সাপ ও ড্রাগন কোনওদিন কারও ক্ষতিও করেনি আজ অবধি|হরিদ্বারের এই সিদ্ধপীঠে রোজ কয়েকশো ভক্ত পুজো দিতে যান। প্রতি শনিবার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। নবরাত্রিতেও বিশেষ পুজো হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করলে সব মনোকামনা পূর্ণ হয়। এছাড়া রোগ-যন্ত্রণা, অন্যান্য সমস্যাও দূর হয়। দেবীর উদ্দেশে অর্পণ করা হয় নারকেল, গোলাপ ফুল, কালোজাম, মিষ্টি পান। শনিবার মা কালীকে দেওয়া হয় খিচুড়ি।আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দির ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে একসাথে হবেহোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|দীপাবলী উপলক্ষে চলতে থাকবে এই কালী কথা ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|