মন্দির রহস্য – কালভৈরব মন্দির

178

বেশ কিছু দিনের বিরতির পর আবার একটি নতুন মন্দির রহস্য নিয়ে আমি আপনাদের সামনে, আজ বলবো মধ্য প্রদেশের উজ্জ্বয়িনীতে অবস্থিত রহস্যময় কালভৈরব মন্দিরের কথা|

উজ্জয়িনীতে এসে এই মন্দির দর্শন না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে উজ্জয়িনী ভ্রমণ। মন্দিরনগরী উজ্জয়িনী আর এই নগরেই রয়েছে জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ কালভৈরব মন্দির|শতশত বছর ধরে আজও সারাদিন তীর্থযাত্রী আর ভক্তদের অবিরাম স্রোত বয়ে চলেছে ভৈরবমন্দির অভিমুখে।

মন্দিরের ছোট্ট একটি পূজাবেদিতে অধিষ্ঠিত দেবতা কালভৈরব তিনি কোনও মত্ত মাতালের মতো সুরা পান করেন আকন্ঠ। এ চোখে না দেখলে কানে শুনে বিশ্বাস করা মুশকিল|

আশ্চর্যজনক ভাবে যে কোনও মানুষের দেওয়া সুরা-উপচার প্রকাশ্য দিবালোকে, এমনকি রাত্রিকালেও, যে কোনও সময়ে পান করার ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা কালভৈরবের আছে|আর এখানেই লুকিয়ে আছে এই মন্দিরের রহস্য|

কালভৈরবকে যে কোনও সুরাই পরিবেশন করা চলে। দিশি বা স্কচ, যে কোনও সুরা হলেই হল। কোনওটাতেই কালভৈরবের আপত্তি নেই। মন্দিরের পূজারি একটি স্টেনলেস স্টিলের থালায় সুরা পরিবেশন করে কালভৈরবের উদ্দেশ্যে তন্ত্রের মন্ত্রোচ্চারণ ও তান্ত্রিক অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে প্রার্থনা করে থালাপূর্ণ সুরা দেবতার ঠোঁটের ফাঁকে সামান্য কাত করে ধরলে তা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায় চোখের সামনে। এইভাবে বোতলের পর বোতল সুরা দিলে তা নিঃশেষ হয়ে যেতে বেশি সময় লাগে না।তবে একমাত্র পূজারি ছাড়া এই মন্দিরের আর কেউই কালভৈরবকে সুরা পান করাতে সক্ষম হন না|

শোনা যায় সুরা কোনও গর্তের ভিতরে গড়িয়ে পড়ছে কিনা তা জানার সন্দেহ প্রকাশ করে ইংরেজ আমলে একবার গোটা মন্দিরটা জব্বর খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল। কিন্তু ভৈরবের সুরাপানের রহস্যের ছিটেফোঁটাও মীমাংসা হয়নি|রহস্য রহস্যই থেকে গেছে|

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি, দেখা হবে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন লেখালেখি আর চোখ রাখুন আমার প্রতিটি অনুষ্ঠানে, আর যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার চান তারা ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|