মন্দির রহস্য – গাদিয়া ঘাট মন্দিরের রহস্য

57

ভারতে এমন অনেক মন্দির রয়েছে, যেগুলি তাদের বিস্ময়কর এবং অলৌকিকতার জন্য বিখ্যাত।আজ মন্দির রহস্যতে আপনাদের এমন এক মন্দিরের কথা লিখবো যেখানে তেল দিয়ে নয়, জল দিয়ে প্রদীপ জ্বলে|প্রসিদ্ধ এই মন্দিরটি মধ্যপ্রদেশের কালিসিন্ধ নদীর তীরে অবস্থিত আগর মালওয়ার নলখেদা গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গাদিয়া গ্রামের কাছে ।মধ্যপ্রদেশের গাদিয়াঘাট ওয়ালি মাতার নামে বিখ্যাত এই মন্দিরটি বর্ষাকালে জলে তলিয়ে যায়। যার সেই কারনে বর্ষা কালে পূজা করা সম্ভব হয় না। বিখ্যাত এই মন্দিরের পুরোহিতরা জানান যে মন্দিরে প্রদিপ প্রথম থেকেই সর্বদা তেল দিয়ে জালানো হত, কিন্তু কয়েক বছর আগে, মা স্বপ্নে মন্দিরের এক পুরোহিতের কাছে হাজির হন এবং জল দিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে বলেন।এরপর সকালে পুরোহিত কালিসিন্ধ নদী থেকে জল নিয়ে প্রদিপে ভরে ঢেলে দেন। তার পর অগ্নি শিখা প্রদীপে রাখা তুলোর সলতের কাছে নিয়ে গেলে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে।এই দৃশ্য দেখে পুরোহিত নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রায় 2 মাস কাউকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তার পর তিনি ২মাস পর গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানালে প্রথমে কেউ তাকে বিশ্বাস করেনি। যখন গ্রাম বাসি তাকে বিশ্বাস করছিল না তখন তিনি নদী থেকে জল এনে প্রদীপে ঢেলে জ্বালিয়ে দিলে তা জ্বলে ওঠে।এরপর এই অলৌকিক ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে।কথিত আছে, সেই থেকে আজ পর্যন্ত কালিসিন্ধ নদীর জল থেকেই এই মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো হয়।শোনা যায় এখানে বাতিতে জল ঢাললে তা বিশেষ একটি তরলে পরিণত হয় এবং প্রদীপে রাখা শিখা জ্বলতে থাকে।বর্ষাকালে এই মন্দিরটি কালী সিন্ধু নদীর জলতে তলিয়ে যায় বর্ষাকালে জলর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এখানে পূজা করা সম্ভব হয় না।তাই, শারদীয়া নবরাত্রির প্রথম দিনের এখানে আবার শিখা জ্বালানো হয়, যা পরবর্তী বছরের বর্ষাকাল পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।অলৌকিকতায় ভরা এই মন্দিরটি দেখতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। কিন্তু বর্ষাকালে মন্দিরে যাওয়া সম্ভব হয় না।অদ্ভুত এই মন্দিরের খ্যাতি রয়েছে দেশে বিদেশে|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|আরো অনেক এমন অলৌকিক বিষয় নিয়ে কথা হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|