বাংলার কালী – ধন্যন্তরী কালীর পুজো

22

আজ আপনাদের দক্ষিন বঙ্গের জয়নগরে অবস্থিত অতি প্রাচীন ধন্যন্তরী কালীর কথা জানাবো । এই পুজোর সাথে জড়িত আছে

তান্ত্রিক ভৈরবানন্দ এবং স্থানীয় চক্রবর্তী পরিবারের নিষ্ঠাবান মাতৃ সাধক রাজন্যনাথ চক্রবর্তীর নাম।

 

ইতিহাস বলছে বারো ভুঁইঞার এক ভুঁইঞা ছিলেন রাজা প্রতাপাদিত্য। তাঁর সঙ্গে সম্রাট জাহাঙ্গিরের বিবাদ হয়। প্রতাপাদিত্যকে বন্দি করেছিলেন দিল্লির সম্রাট। বন্দি অবস্থাতেই মৃত্যু হয় রাজার। রাজা প্রতাপাদিত্যর সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো চক্রবর্তী পরিবারের তাই এই পরিবারের সদস্যদেরও তখন হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে বাদশার সেনা বাহিনী ধরা পরলে তাদের কড়া শাস্তি হবে প্রায় মৃত্যু দন্ড নিশ্চিত।এই পরিস্থিতিতে বংশকে রক্ষা করতে জলে জঙ্গলে ঘেরা দক্ষিণ বঙ্গের জয়নগর অঞ্চলে এসে বসবাস করতে শুরু করেন তারা।

 

একবার হঠাৎ করে কী ভাবে যেন তান্ত্রিক ভৈরবানন্দের সন্ধান পেয়ে গেলেন চক্রবর্তী বংশের অন্যতম প্রাণ পুরুষ রাজন্যনাথ চক্রবর্তী৷

তিনি শুনলেন গভীর জঙ্গলে সাধনা করছেন সাধক ভৈরবানন্দ। তিনি পৌঁছে গেলেন সেই গহন অরণ্যে ভৈরবানন্দ তখন সেখানে তপস্যারত দু’জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হল। সাধক ভৈরবানন্দ রাজন্যনাথ বললেন, ‘‘আমি স্বপ্নাদেশ পেয়েছি৷ জেনেছি, মা আদি গঙ্গায় রয়েছেন।’’ তারপরে, রাজনন্যনাথের চেষ্টায় সেই আদি গঙ্গা থেকে উদ্ধার হল মা কালীর কষ্টি পাথরের মূর্তি৷ সেই মূর্তি তুলে নিয়ে এসে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হল পর্ণকুটিরে।রাজন্যনাথের হাতে মা ধন্বন্তরির পুজোর দায়িত্ব দিয়ে অন্যত্র চলে যান ভৈরবানন্দ৷ তারপর ধীরে ধীরে গড়ে উঠলো মন্দির দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো মায়ের খ্যাতি আজও জয়নগরে দেবী পূজিত হচ্ছেন মা ধন্বন্তরি কালী রূপে৷

 

দেবী এখানে ধন্যন্তরী নামে কেনো পূজিতা হন তারও একটা কারন আছে।লৌকিক বিশ্বাস মতে এই মায়ের আশীর্বাদী ওষুধে সেরে যায় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ৷ ফলে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন মায়ের আশীর্বাদি প্রসাদ পেতে এখানে মা হয়ে ওঠেন ধন্বন্তরি কালী মা৷

 

আজও সেই চক্রবর্তী পরিবার পুজোর দায়িত্বে আছে যদিও এই পুজো এখন সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গের মানুষের পুজো। এখানে কালী পুজোয় নিষ্ঠাভরে তন্ত্র মতে মায়ের পুজো হয়। ঐতিহ্য মেনে দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে ছাগ বলি হয় এখানে। এছাড়া, মায়ের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে

বৈশাখ মাসেও বিশেষ পুজো হয়। বিশেষ

পুজোর সময়ে মাকে ষোড়শী, জগদ্ধাত্রী, মালিনী

সহ নানা রূপে সাজানো হয়।

 

ফিরে আসবো বাংলার অন্য একটি ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন কালী পুজোর ইতিহাস নিয়ে। থাকবে বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।