বাংলার কালী – যোগমায়া কালীর পুজো

23

বাংলার জেলায় জেলায় বিভিন্ন কালী মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে বহু ইতিহাস। সেইরকমই এক অলৌকিক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে ঝাড়গ্রামের যোগমায়া মন্দিরের সাথে রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।

 

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হাড়িরাম দাস নামে এক মাতৃ সাধক।শোনা যায় তিনি তন্ত্রসিদ্ধ হয়ে স্বপ্নাদেশে দেবীকে কন্যারূপে পেয়েছিলেন।

আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগের ঘটনা হাড়িরামের কন্যা মাত্র দেড় বছরে অসুস্থ হয়ে মারা যায় মেয়েকে হারিয়ে উন্মাদের মতো হয়ে যান হাড়িরাম। গ্রামের অদূরে শ্মশানের মাটি চাপা দিয়ে সমাহিত করেন মেয়েকে। কিন্তু সন্তানহারা বাবার মন সর্বক্ষণই মেয়ের জন্য কেঁদে উঠত। রাত হলেই শ্মশানে গিয়ে মাটি সরিয়ে মেয়ের দেহ বুকে চেপে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি। এই শ্মশানে এক গভীর রাতে দেবী যোগমায়ার দর্শন পেলেন হাড়িরাম। দেবী জানালেন, এভাবে রোজ মেয়ের দেহ দেখতে আসার দরকার নেই। তিনিই কন্যারূপে হাড়িরামের ঘরে আসবেন।

 

তারপর দেবীর আদেশে বাড়ির উঠোনে বেলগাছের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা শুরু করলেন তিনি। এক অমাবস্যায় সিদ্ধিলাভ হল।

তৈরী হলো মাটির একটি ছোট্ট মন্দির যোগমায়াকে প্রতিষ্ঠা করেন হাড়িরাম। নিজের কন্যা রূপে যোগ মায়া কে পেয়েছিলেন তিনি।

 

দ্রুত যোগমায়া দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। হাড়িরামের মৃত্যুর পর মন্দিরের পাশেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী মনোরমার মৃত্যু হলে তাঁকেও হাড়িরামের সমাধির পাশেই সমাধিস্থ করা হয়। পরবর্তীতে ভক্তদের দানে সেখানে তৈরি হয়েছে সমাধি মন্দির। মন্দিরে মায়ের বিগ্রহের পাশেই রয়েছে হাড়িরামের মূর্তিও। দেবীর পুরনো মাটির মূর্তি প্রতি বছর নবকলেবর ধারণ করে।আজও বংশ পরম্পরায় হাড়িরামের পরিবারের সদস্যরাই পুজো করেন।

 

কালীপুজোর রাতে এখানে প্রচুর ভক্ত আসেন। গভীর রাতে হয় পুজো।ভক্তিভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা জানালে মা ভক্তের কথা শোনেন।

সেই বিশ্বাসেই বহু মানুষ আসেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বাংলার কালী নিয়ে।

চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক আলোচনা।

পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।